পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দিকে নিচ্ছে ইসরায়েল:এরদোয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ০৯:৫৬:৩২
পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যয়ের দিকে নিচ্ছে ইসরায়েল:এরদোয়ান
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল এমন এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যারা নিজেদের অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং ক্রমান্বয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এরদোয়ান বলেন, গাজা থেকে শুরু হওয়া এই হামলা একে একে ইয়েমেন, লেবানন এবং সবশেষে ইরানে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কেবল নিরাপত্তা বা আত্মরক্ষার কোনো কারণ নেই, বরং এর পেছনে গভীর ও ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে যা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের এক ঐতিহাসিক ভাঙন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল গত ১৭ দিন ধরে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ ইবাদতকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে।

এরদোয়ান মনে করেন, তথাকথিত ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’র উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নানা পৌরাণিক আখ্যানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে তা মোটেও কাকতালীয় নয়, বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত। এই রাষ্ট্রীয় উন্মাদনা ও বর্বরতাকে বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই ব্যাপক প্রাণহানির প্রতিশোধ নিতে তেহরান ইতিমধ্যে ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্কের এই কড়া বার্তার মাঝেই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। এরদোয়ান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


ইরানের মারণাস্ত্র ক্লাস্টার মিসাইলে বিধ্বস্ত তেলআবিব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ০৯:২৯:৫৫
ইরানের মারণাস্ত্র ক্লাস্টার মিসাইলে বিধ্বস্ত তেলআবিব
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের রামাত গান এলাকায় দুই বৃদ্ধের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোড়ার পর যখন সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল, ঠিক তখনই তারা নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা বোমা শেল্টারে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগেই একটি মিসাইল সরাসরি সেখানে আঘাত হানে এবং এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে যে, নিহত ওই দুজনের বয়স ছিল ৭০ বছরের কাছাকাছি এবং তাদের মরদেহগুলো ভবনের সিঁড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান এই নতুন দফার হামলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক 'ক্লাস্টার মিসাইল' ব্যবহার করেছে। এই বিশেষ ধরনের প্রতিটি মিসাইলের ভেতরে প্রায় ২০টি করে ছোট বোমা থাকে, যা মিসাইলটি নিচে নেমে আসার সময় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

একেকটি ছোট বোমার ওজন প্রায় আড়াই কেজি হওয়ায় এগুলো যেখানেই আঘাত হানছে, সেখানেই ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে জনবহুল এলাকাগুলোতে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও অনেক গুণ বেড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


প্রতিশোধের লড়াই আরও বেগবান হবে: শহীদ নেতার রক্তে নতুন শপথ ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ০৯:০০:২৮
প্রতিশোধের লড়াই আরও বেগবান হবে: শহীদ নেতার রক্তে নতুন শপথ ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তারা এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর ও দাঁতভাঙা প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, শহীদ কমান্ডারের পবিত্র রক্তের বদলা নিতে বাসিজ বাহিনী একচুলও পিছু হটবে না।

বিবৃতিতে বাসিজ প্রধানের মৃত্যুকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে আইআরজিসি। তারা জানায়, এই মহান আত্মত্যাগ ইরানি জাতি এবং বাসিজ যোদ্ধাদের প্রতিরোধের সংকল্পকে আরও দ্বিগুণ শক্তিশালী করবে। গত ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা গোলামরেজা সোলেইমানি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং আর্তমানবতার সেবায় বিশেষ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর এই প্রস্থানকে ইরানি সামরিক কাঠামোর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে, ‘আমেরিকান-জিয়নবাদী শত্রু’ বাহিনীর এই বর্বরোচিত হামলা প্রমাণ করে যে চলমান যুদ্ধে বাসিজ বাহিনী কতটা শক্তিশালী ও আতঙ্কের অবস্থানে রয়েছে। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, খুনি সন্ত্রাসীরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। শহীদ নেতাদের প্রদর্শিত পথেই আগামী দিনে প্রতিরোধের লড়াই আরও বেগবান করা হবে এবং শত্রুপক্ষকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাম্পের নৌজোট ডাক, কিন্তু সাড়া নেই কেন বিশ্বশক্তির?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:৫১:০৮
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাম্পের নৌজোট ডাক, কিন্তু সাড়া নেই কেন বিশ্বশক্তির?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন একটি নতুন ভূরাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে, যার নাম হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে একটি আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিশ্লেষণটি আল জাজিরা-এর একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

কেন হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালী হলো পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী একমাত্র সমুদ্রপথ। এর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩৯ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। এর ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাব: আন্তর্জাতিক নৌজোট

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে নিয়ে একটি নৌজোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান, যাতে এই নৌপথ নিরাপদ রাখা যায়।

তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে এখনও তারা ড্রোন, মাইন বা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই নৌপথে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

ইরানের অবস্থান

ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, অন্য দেশগুলোর জন্য পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্রণালীকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

কেন নৌজোট গঠন কঠিন

বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌজোট গঠনের পথে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

প্রথমত, বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় একটি বড় সমস্যা। ভিন্ন ভিন্ন কৌশল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক নীতি একত্রে পরিচালনা করা সহজ নয়।

দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরু নৌপথ, ঘন জাহাজ চলাচল এবং উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান এটিকে সামরিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে।

তৃতীয়ত, ইরান অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করছে। মাইন, ড্রোন এবং ছোট আকারের হামলার মাধ্যমে বড় শক্তিগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।

চতুর্থত, যুদ্ধজাহাজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত কোনো দেশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছে, চীন সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, জাপান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, আর ফ্রান্স সরাসরি অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়াও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। দক্ষিণ কোরিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বিকল্প পথ: সরাসরি সমঝোতা

কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি নিচ্ছে। ভারত ও তুরস্কের কিছু জাহাজ ইতোমধ্যে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। আরও কয়েকটি দেশ আলোচনার চেষ্টা করছে।

সবকিছু বিবেচনায় দেখা যায়, হরমুজ প্রণালী এখন শুধু একটি নৌপথ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নৌজোট বাস্তবায়ন করা কঠিন, কারণ এতে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি জড়িত।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা বহন করছে।


আলি লারিজানি কি বেঁচে আছেন? হত্যার দাবির মাঝেই এক্স-এ হাতে লেখা চিরকুট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:৪০:১৮
আলি লারিজানি কি বেঁচে আছেন? হত্যার দাবির মাঝেই এক্স-এ হাতে লেখা চিরকুট
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি করা হলেও, রহস্যজনকভাবে তাঁর নিজস্ব 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তাঁর হাতে লেখা একটি নতুন চিরকুট প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো লারিজানির এই হাতে লেখা বার্তাটি প্রচার করে, যা তাঁর মৃত্যুর দাবিকে ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

চিরকুটটি মূলত শ্রীলঙ্কার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে লেখা। তাঁদের জানাজা উপলক্ষে শোকবার্তায় লারিজানি লিখেছেন, “এই শাহাদাত বহু বছর সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোর মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।” মঙ্গলবার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর এই বার্তা প্রকাশকে অনেকেই কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, এর কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছিলেন যে, বিমান হামলায় লারিজানি ও বাসিজ মিলিশিয়া প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন।

আলি লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং বর্তমান সংঘাতের মূল কৌশল নির্ধারক হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করায় এবং এর মাঝেই লারিজানির ‘হ্যান্ড রাইটিং’ নোট প্রকাশ পাওয়ায় ইসরায়েলি দাবির সত্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি ইরানের কোনো পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক চাল, নাকি লারিজানি আসলেই জীবিত আছেন—সেই রহস্য এখন চরমে।

/আশিক


আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা, তবুও অব্যাহত পাল্টাঘাত: ইরান কি এখন ক্ষয়যুদ্ধের কৌশলে এগোচ্ছে?

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:২৫:২০
আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা, তবুও অব্যাহত পাল্টাঘাত: ইরান কি এখন ক্ষয়যুদ্ধের কৌশলে এগোচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে, এমন মূল্যায়ন সামনে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে। তবে একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, ইরান এখনো এমন সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব। এই বিশ্লেষণটি মূলত আল জাজিরা-এর একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের আলোকে উপস্থাপিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, চলমান অভিযানের ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দেশটির নৌবাহিনীও যুদ্ধক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের আকাশসীমায় প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদন অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কমেছে হামলার তীব্রতা, কিন্তু থামেনি সংঘাত

সংঘাতের সূচনালগ্নে ইরান যে মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, তা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অথচ সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকটিতে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। শুরুতে ব্যাপক পরিসরের হামলার পর বর্তমানে আক্রমণের সংখ্যা কমে এক অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নব্বই শতাংশ এবং ড্রোন হামলা আশি শতাংশেরও বেশি কমে এসেছে।

তবুও এই হ্রাসমান প্রবণতা যুদ্ধের অবসান নির্দেশ করে না। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে এখনো সতর্কতা জারি রয়েছে। আবুধাবিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একজনের প্রাণহানির ঘটনাও এই সংঘাতের অব্যাহত ঝুঁকিরই ইঙ্গিত দেয়।

আংশিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও বড় ভাণ্ডার

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যমান। বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা যায়, যুদ্ধের পূর্বে ইরানের হাতে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। যৌথ অভিযানের ফলে এই ভাণ্ডার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম কৌশল ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ইরানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উৎক্ষেপণযন্ত্র অকার্যকর করা হয়েছে। তবে ইরানের বিস্তৃত ভূখণ্ড, গোপন স্থাপনা এবং পূর্বপ্রস্তুত সুরক্ষিত ঘাঁটির কারণে এই সক্ষমতাকে পুরোপুরি নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

কৌশলগত পরিবর্তন: ক্ষয়যুদ্ধের পথে অগ্রসরতা

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় আকারের সমন্বিত হামলার পরিবর্তে এখন ছোট আকারের ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে তোলার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

এই ধরনের আক্রমণকে অনেক বিশেষজ্ঞ ক্ষয়সৃষ্টিকারী হামলা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর লক্ষ্য কেবল সামরিক ক্ষতি নয়; বরং প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক স্থিতি দুর্বল করা, সতর্কতা ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বল্পব্যয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার

ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছে এবং চলমান অবস্থায় স্থান পরিবর্তনযোগ্য উৎক্ষেপণযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। ফলে এগুলো শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ড্রোন ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ড্রোন তুলনামূলক ধীরগতির হলেও একাধিক ড্রোন একসঙ্গে নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই কৌশল আংশিকভাবে সফল হচ্ছে।

জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ

এই সংঘাতের প্রভাব সামরিক ক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত করতে পারে, তবে তা প্রতিপক্ষের ওপর সরাসরি সামরিক আঘাতের চেয়েও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

সার্বিক পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়নি। বরং সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, যেখানে সরাসরি সামরিক শক্তির পাশাপাশি সময়, অর্থনীতি এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপই হয়ে উঠছে প্রধান নিয়ামক। এই বাস্তবতায় যুদ্ধ ক্রমশ এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে, যার ফলাফল নির্ধারিত হবে পক্ষগুলোর স্থায়িত্ব, কৌশলগত ধৈর্য এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর।


আল-আকসা মসজিদের নিচে গোপন বাঙ্কারে নেতানিয়াহু!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:২০:২০
আল-আকসা মসজিদের নিচে গোপন বাঙ্কারে নেতানিয়াহু!
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইরানি সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেল আবিব দাবি করছে তিনি জীবিত আছেন। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি বলে প্রমাণ হওয়ায় এই রহস্য নতুন মোড় নিয়েছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মিসরের সাবেক রাষ্ট্রদূত আতিফ সালেম। মিসরীয় সংবাদমাধ্যম 'সাদা এল-বালাদ'-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু যদি জীবিতও থাকেন, তবে তিনি জেরুজালেমের কোনো অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন। সালেমের অনুমান অনুযায়ী, এই বাঙ্কারটি সম্ভবত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের নিচে অবস্থিত। চরম নিরাপত্তা সংকটের সময় ইসরায়েলি নেতৃত্বের এ ধরনের গোপন স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৩ সালেও নেতানিয়াহু ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছিলেন।

সালেম আরও পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ইসরায়েলের ভেতর সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ এবং ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপর শাস্তিমূলক বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত তথ্য আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় ইসরায়েলি শহরগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তথ্যশূন্যতার এই সুযোগে ছড়িয়ে পড়া পরস্পরবিরোধী খবরগুলো এখন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এজিপ্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট।


ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ফেরাল তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয় শুরু?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:১৩:০৫
ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ফেরাল তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয় শুরু?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। তেহরানের ওপর ক্রমাগত মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা একটি 'যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব' সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক অধিবেশনে মোজতবা খামেনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) তাদের নতুন নেতার প্রতি ‘আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো আদেশ পালনে সদা প্রস্তুত।

অন্যদিকে, যুদ্ধের ময়দান থেকে আসছে একের পর এক গুমোট খবর। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, তাদের বিমান হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার খবরেও লারিজানি নিহতের দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত তাদের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেনি। নেতার মৃত্যু না কি নতুন কৌশলী অবস্থান—ইরানের এই নীরবতা পুরো অঞ্চলে এক রহস্যময় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি! চাঞ্চল্যকর দাবি কাৎজের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৭:২৫:২৯
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি! চাঞ্চল্যকর দাবি কাৎজের
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি অনুযায়ী, অন্তত একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের অত্যন্ত কাছে আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) চালানো এই আকস্মিক ও বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর আকাশে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে। বিশেষ করে আল-কুদস (জেরুজালেম) এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনেক জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার আগেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ইসরায়েলি কিছু সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া এই ঝাঁক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বা প্রাণহানির তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন চরম উদ্বেগ কাজ করছে।

/আশিক


ইরানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ লারিজানি কি আর নেই? ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৬:২৫:০১
ইরানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ লারিজানি কি আর নেই? ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বাস্তববাদী নেতা আলি লারিজানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। সোমবার (১৭ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল বর্তমানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের একে একে নির্মূল করা হচ্ছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার লক্ষে শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আলি লারিজানির মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

কে ছিলেন এই আলি লারিজানি?

আলি লারিজানি ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক অভিজাত ও শক্তিশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পরিবারকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই তাঁর পরিবার ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাধর।

লারিজানির একাডেমিক জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পাশ্চাত্য দর্শনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমান যুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণে প্রধান কুশলী হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর মতো নেতার নিহতের খবরটি সত্যি হলে তা ইরানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা হতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: