ঈদে কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:৫৩:০২
ঈদে কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে দেশের সব কারাগারে আটক বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। ঈদের আনন্দ যেন বন্দিদের কাছেও পৌঁছে যায় এবং কারাগারের ভেতরেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়, সে লক্ষ্যেই প্রতিবছরের মতো এবারও উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কারা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের দিন বন্দিদের সকাল, দুপুর ও রাত—এই তিন সময়ে বিশেষ খাবার দেওয়া হবে। সকালে পরিবেশন করা হবে পায়েস অথবা সেমাইয়ের সঙ্গে মুড়ি, যা ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের অংশ হিসেবে বিবেচিত। দুপুরের খাবারের মেন্যুতে থাকবে সাদা ভাতের সঙ্গে গরুর মাংস, তবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য আলাদাভাবে খাসির মাংস পরিবেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দুপুরের খাবারের তালিকায় আরও থাকবে মুরগির রোস্ট, আলুর দম এবং রুই মাছ। পাশাপাশি বন্দিদের জন্য পান ও সুপারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা ঈদের দিনে অতিরিক্ত আপ্যায়নের অংশ হিসেবে দেওয়া হবে। কারা অধিদপ্তর বলছে, বন্দিদের জন্য এই বিশেষ খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্যের মান বজায় রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, ঈদের আনন্দ যাতে কারাগারের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর মাঝেও কিছুটা হলেও পৌঁছায়, সে চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বন্দিদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর একটি অংশ হিসেবেই প্রতি বছর ঈদের দিনে এমন আয়োজন করা হয়।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে এই বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। এতে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করার পাশাপাশি তাদের মানসিক অবস্থার উন্নতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


দায়িত্বের এক মাসেই একাধিক সিদ্ধান্তে আলোচনায় তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:৪৬:৫৭
দায়িত্বের এক মাসেই একাধিক সিদ্ধান্তে আলোচনায় তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেই সরকারের নেতৃত্বে আসেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সরকারের প্রথম দিককার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানি চালু করা। গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের সেবকদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ফলে দেশের হাজার হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের সেবকরাও প্রথমবারের মতো সরকারি সহায়তার আওতায় আসেন। সরকার এটিকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যেও সরকার বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সরকারের আরেকটি আলোচিত কর্মসূচি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ঘোষণার পর অনেকের মতে এটি সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

কৃষি খাতকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে আটটি জেলার নয়টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে দলটির কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেন। রাজধানীতে জনভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের শীর্ষ আলেম, ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যারা জাকাত ব্যবস্থাপনার আধুনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করবে। সরকার মনে করছে, কার্যকর জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে এই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি প্রশাসনে সরলতা ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে।

এদিকে পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই মহিমান্বিত রাত মানবজাতির জন্য রহমত, ক্ষমা ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতির জন্য দোয়া করেন।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আজ দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করবেন এবং ভার্চুয়ালি দেশের ৫৩টি জেলার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা করবেন। সফরকালে তিনি দিনাজপুর শহরে পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়স্বজনদের কবর জিয়ারত করবেন এবং স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সৈয়দপুরসহ আশপাশের এলাকায় তাকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।

-রফিক


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরছে! আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে যুগান্তকারী ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:১৩:৪৫
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরছে! আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে যুগান্তকারী ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনর্বহাল করে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানে এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হবে। তবে এই ব্যবস্থাটি কার্যকর হবে আগামী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এক সময় এই ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও আদালতের এই রায়ের ফলে তা আবার সাংবিধানিক বৈধতা ফিরে পেল। রায়ে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থাটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও এর প্রায়োগিক কার্যকারিতার জন্য সংবিধানের কিছু জায়গায় সংশোধন আনতে হবে অথবা পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চলমান মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদি ওই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়, তবে আলাদা করে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

আইনজীবীদের মতে, পুরনো ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করার কথা। তবে সাম্প্রতিক ‘জুলাই সনদে’ বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রপতিকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে জুলাই সনদ অনুসরণ করতে হলে এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত বছরের ২০ নভেম্বর সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণার প্রায় চার মাস পর ৭৪ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি গত ১২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় দেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আইনি জটিলতার বিষয়ে রিভিউ আবেদনকারীদের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী পুরোপুরি কার্যকর করতে অন্তত তিনটি বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রথমত, ১২৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে কারণ বর্তমান বিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন করার কথা বলা আছে, যা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয়ত, ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের লাভজনক পদ গ্রহণে বাধা আছে, যা পরিবর্তন না করলে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা হতে পারবেন না। তৃতীয়ত, প্রধান উপদেষ্টাদের শপথের যে ফরমটি পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাতিল করা হয়েছিল, সেটিও আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত কঠোর ভাষায় বলেছেন যে, ২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেওয়া রায়টি ছিল অনুমাননির্ভর এবং ত্রুটিপূর্ণ। সেই রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছিল। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলো ছিল দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক করুণ পরিণতি। জনগণের সার্বভৌমত্ব কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ধারণা নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনাস্থা থেকে জন্ম নেওয়া একটি জাতীয় ঐকমত্যের ফসল।

পরিশেষে, আইনজীবী শিশির মনির এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন যে, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র সুরক্ষার পথ পুনরায় উন্মুক্ত হলো। যদিও জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে এবং গণভোটে তা অনুমোদিত হয়েছে, কিন্তু ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনর্বহালের পর এখন কোন পদ্ধতিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে, তার জন্য সংসদীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

/আশিক


ঈদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৯:৩০:২৯
ঈদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা এবার টানা সাত দিনের ছুটিতে যাচ্ছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) ঈদের আগে সরকারি অফিসগুলোর শেষ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। একই সময় অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও আজ থেকেই ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিন সব সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকবে। এর আগে ঈদের সম্ভাব্য সময় বিবেচনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল।

পরবর্তীতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অতিরিক্ত একটি ছুটি যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়, যা ঈদ উপলক্ষে ছুটির সময়কে আরও দীর্ঘ করেছে।

এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। সেই ছুটির সঙ্গে ১৮ মার্চের অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবং পরবর্তী ঈদের নির্ধারিত ছুটি মিলিয়ে এবার সরকারি কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৭ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, কার্যপ্রণালি বিধিমালা ১৯৯৬ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে এই অতিরিক্ত ছুটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ছুটির সময় দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অধিকাংশ বেসরকারি অফিসও বন্ধ থাকবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক কার্যক্রম এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।

একইভাবে ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, নগর পরিচ্ছন্নতা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সেবা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অফিস ও কর্মীরাও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহনও ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সরকারি অফিসও প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা রাখা হবে।

-রফিক


সাড়ে তিন লাখ মানুষের ভাগ্য বদলাবে একটি খাল: দিনাজপুরে মেগা উদ্বোধন আজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৯:১৭:১৪
সাড়ে তিন লাখ মানুষের ভাগ্য বদলাবে একটি খাল: দিনাজপুরে মেগা উদ্বোধন আজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দেশব্যাপী ৫৩টি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামক স্থানে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের খনন কাজ শুরুর মাধ্যমে এই মেগা প্রকল্পের সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এবং সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এরপর দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে গিয়ে তাঁর নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন এবং স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খনন করা ভরাট হওয়া খালগুলো সংস্কার করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতেই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।

গত শুক্রবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, কেবল সাহাপাড়ার ১২ কিলোমিটার খাল খননের ফলেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির যৌথ সমন্বয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে। খালের পাড় রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা ও বর্ষায় বন্যার প্রকোপ কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


অতিরিক্ত দাম নিলেই কঠোর শাস্তি! জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ২১:৫২:৫২
অতিরিক্ত দাম নিলেই কঠোর শাস্তি! জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রোববার (১৫ মার্চ) জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় তিনি মোট ৯টি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ দেশের সকল জেলা প্রশাসক যুক্ত ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিদিন ডিপোর প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুত যাচাই করে রিপোর্ট প্রদান করা হয় এবং ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির বরাদ্দ সঠিক সময়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া পেট্রোল পাম্প ডিলার থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহক পর্যন্ত জ্বালানি বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির আওতায় আনতে বলা হয়েছে। যদি কোনো পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকে, তবে তার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং ডিপোর হিসাবের সাথে তা যাচাই করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারি বা পাচার সহ্য করা হবে না। তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ সংগঠিত হলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন। জেলা পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি সভায় পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক: মুখোমুখি ডা. শফিকুর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৮:৫২:৩৯
সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক: মুখোমুখি ডা. শফিকুর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন নিয়ে আজ রোববার (১৫ মার্চ) সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধানে এই পরিষদের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতির পক্ষে এর অধিবেশন ডাকা সম্ভব নয়।

সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আসেনি, বরং ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য ইতিমধ্যে পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তাই তারা সংসদ সদস্য ও পরিষদের সদস্য হিসেবে একযোগে দায়িত্ব পালনের আইনি সুযোগ চান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে চলে। তিনি জুলাই সনদকে আইন বা অধ্যাদেশ না বলে একে একটি ‘মাঝামাঝি’ অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানে সংস্কার পরিষদের উল্লেখ না থাকায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না। তবে তিনি বিষয়টিকে কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা এবং বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনার সম্ভাবনার কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

/আশিক


সংসদে দেখে দেখে পড়া নিষেধ! সাঈদী ও অলি উল্লাহকে স্পিকারের কড়া হুশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:০৫:১৮
সংসদে দেখে দেখে পড়া নিষেধ! সাঈদী ও অলি উল্লাহকে স্পিকারের কড়া হুশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আজ রোববার (১৫ মার্চ) সংসদীয় রেওয়াজ ও বক্তব্য প্রদানের নিয়ম নিয়ে এক কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় সংসদে দেখে দেখে বা লিখিত বক্তব্য পাঠ করা অনুমোদিত নয়। সংসদ সদস্যদের না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রয়োজনে নোট রাখা যেতে পারে এবং মাঝে মাঝে তাতে চোখ বোলানো যেতে পারে, কিন্তু পুরো বক্তব্য বিরতিহীনভাবে পড়ে শোনানো সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির পরিপন্থী।

আজ সকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদী এবং ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ সম্পূর্ণ বক্তব্যটি কাগজ দেখে পাঠ করেন। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না। আপনি নোট রাখবেন, কিন্তু হাউসের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেবেন। এটাই সংসদের রেওয়াজ যা সবার মান্য করা উচিত। এমনকি কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে হলে আগে স্পিকারের পূর্বানুমতি নিতে হয়।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে মাসুদ বিন সাঈদী তাঁর পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আদর্শকে সমুন্নত রেখে দেশে ইনসাফ কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সাঈদী বলেন, “তথাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া আমার সম্মানিত পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ইসলামী আন্দোলনের অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্তস্নাত ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দেশের দুর্নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশে ইনসাফ কায়েম করতে হলে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপির যোগ না দেওয়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে মাসুদ সাঈদী বলেন, “বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসী কি না বা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না, তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি তারা গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্কার পরিষদে অংশ নেবে।” একই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ‘জুলাই আবেগ’ সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই আবেগ ঠিকই, কিন্তু এটি একটি কঠোর বাস্তবতাও। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব অধ্যাদেশই আইন, তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দায়িত্বশীল হয়নি।”

/আশিক


সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই: সংবিধান সংশোধনী নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১২:০৩:২৪
সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই: সংবিধান সংশোধনী নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংবিধান ও সংস্কার ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১৫ মার্চ) অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান সংসদ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই আহ্বান করা হয়েছে এবং এখানে 'সংস্কার পরিষদ' নামে কোনো কিছুর আইনগত ভিত্তি নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী যদি কোনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে আগে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে।

গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন আজকের দিন পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববারের কার্যসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব, জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আজ বিশেষ করে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

উল্লেখ্য, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রলম্বিত হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হলেও আজ বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে, যা সংসদীয় তদারকির ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ঈদের ছুটির আগে সরগরম সংসদ; বেলা ১১টা থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১১:৩৮:১১
ঈদের ছুটির আগে সরগরম সংসদ; বেলা ১১টা থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে শুরু হয়েছে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। আজকের কার্যসূচির মূল আকর্ষণে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত কার্যসূচি অনুযায়ী, আজ বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সমাজকল্যাণ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও বিধি–৭১ অনুযায়ী জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। সংসদের এই প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আজকেও চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ বিশেষ প্রয়োজনে সকাল ১১টা থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এ ছাড়াও সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ সংসদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: