মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা, বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চাই ইউক্রেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:০৪:২৮
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা, বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চাই ইউক্রেন
ছবি: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে ইউক্রেন তার বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এই সহায়তার বিনিময়ে কিয়েভ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য ইউক্রেন তিনটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এসব দল স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখাচ্ছে কীভাবে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে ইউক্রেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “আমরা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছি না। আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেই।”

এর আগে জেলেনস্কি ঘোষণা করেছিলেন যে ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হতে পারে। তবে ইউক্রেন এই সহায়তার বিনিময়ে কী পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য এই মুহূর্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আর্থিক সমর্থন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইউক্রেনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে রাশিয়া ব্যাপকভাবে ইরানি নির্মিত শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। ফলে এসব ড্রোন ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কম খরচের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি এবং বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করে এসব ড্রোন প্রতিহত করার কৌশল তৈরি করেছে কিয়েভ।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে তাদের ইউক্রেনের সহায়তা প্রয়োজন নেই।

জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের ড্রোন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। তার ভাষায়, তিনি প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে। জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যেতে পারে, যা কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ইউক্রেন চায় না যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি উপেক্ষা করুক।

এদিকে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন সরকার নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কথাও ভাবছে। জেলেনস্কি বলেন, বিদেশি সরকার বা কোম্পানিগুলো যাতে সরাসরি ইউক্রেনীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরঞ্জাম কিনতে না পারে, সে জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা প্রয়োজন।

তার মতে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে সব ধরনের চুক্তি প্রথমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত হওয়া উচিত, এরপরই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।

সূত্র: আল জাজিরা


মার্কিন-ইরান চুক্তির মাঝেই লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা ইসরায়েলের!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৯:৪০:৪০
মার্কিন-ইরান চুক্তির মাঝেই লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা ইসরায়েলের!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাত ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ও নতুন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খবরে যখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ ও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক সব চাপ ও চুক্তি উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবানন থেকে কোনোভাবেই সেনা না সরানোর একরোখা ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের সীমান্তবর্তী ওই স্পর্শকাতর এলাকায় সামরিক অভিযান ও সেনা উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির কট্টরপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

সোমবার (১৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কাৎজ স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করার স্বার্থেই দক্ষিণ লেবাননে ইহুদি সেনাদের স্থায়ী মোতায়েন বজায় থাকবে। তাঁর দাবি, সীমান্ত এলাকায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যেকোনো ধরনের বৈরী তৎপরতা ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ বজায় রাখা ছাড়া তেল আবিবের সামনে কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননের চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর সরাসরি কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক হামলা চালায়, তবে তেহরানকে তার জন্য অত্যন্ত কঠোর ও চড়া জবাব দেওয়া হবে।

অথচ এই উত্তেজনার ঠিক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটাতে একটি সফল কাঠামোগত শান্তি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই ঐতিহাসিক সমঝোতার মূল শর্তগুলোর আওতায় ইরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত বেশ কিছু কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক তেলের রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই শান্তি উদ্যোগের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে লেবানন সীমান্তে চলমান যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনার বিষয়টিও টেবিলে গুরুত্বের সাথে আলোচনায় এসেছে। তবে ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বৈশ্বিক এই চুক্তির খবর সামনে এলেও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সমর্থন বা সম্মতি জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই স্পর্শকাতর চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করে কৌশলগত নীরবতা বজায় রাখলেও তাঁর উগ্র ডানপন্থী কোয়ালিশন বা জোট সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ইতিমধ্যে এই শান্তি চুক্তি নিয়ে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ তুলেছেন। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, বিদেশি কোনো পরাশক্তির করা সমঝোতা বা চুক্তি ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয় এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসরায়েল কেবল নিজস্ব সিদ্ধান্তই নেবে।

সমান্তরালভাবে দেশের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও এই মার্কিন-ইরান চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে এটিকে সরাসরি ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী এক চরম ‘কূটনৈতিক বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রখ্যাত বিরোধীদলীয় রাজনীতিক গাদি আইজেনকট বর্তমান সরকারের এমন একমুখী নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তি চুক্তির মতো দেশের এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা রূপরেখা দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরাশক্তি তুরস্ক, ইরাক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক জরুরি ফোনালাপ ও আলোচনা পরিচালনা করেছেন। এসব আলোচনায় তিনি লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলের অবৈধ সামরিক অভিযান ও আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে মুসলিম বিশ্বকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ পরবর্তী এই বৈশ্বিক শান্তি সমঝোতা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে কার্যকর করতে হলে তেল আবিবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরও সমান আন্তর্জাতিক দায়িত্ব রয়েছে।

তবে সকল আন্তর্জাতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে—লেবানন, সিরিয়া ও গাজা সীমান্তসংলগ্ন যেসব এলাকাকে ইসরায়েল নিজের ‘নিরাপত্তা বলয়’ (Security Buffer Zone) হিসেবে বিবেচনা করে আসছে, সেখানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এই সশস্ত্র উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত এলাকাগুলোতে সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সকল সামরিক অবকাঠামো ও সুড়ঙ্গ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের মাটিতে যেকোনো ধরনের রকেট বা ড্রোন হামলার ঝুঁকি একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই হলো তেল আবিবের এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধনীতির মূল লক্ষ্য।

মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির এই যুগান্তকারী খবরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও নেতানিয়াহু প্রশাসন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেস নোট জারি করেনি যে, এই নতুন বৈশ্বিক সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কী ধরনের অবস্থান বা সমঝোতায় যাবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর মেরে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:২০:০৮
নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর মেরে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু যদি নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন কোনোভাবে বানচাল বা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন, তবে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে ‘লাঠি ও পাথর’ হাতে নিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে টেনেহিঁচড়ে অপসারণ করতে হবে। রোববারে (১৪ জুন) ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই সরকারপ্রধান এই বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।

বিগত ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ রাজনীতিক এহুদ বারাক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে খুব সহজেই আগামী নির্বাচনকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত করতে পারেন। আর তিনি যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেন, তবে ইসরাইলের সাধারণ জনগণের সামনে লাঠি-পাথর হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা ছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।

এহুদ বারাক তাঁর সাক্ষাৎকারে জোরালো দাবি করেন, লেবাননে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার একটি কৃত্রিম উছিলা তৈরি করে নেতানিয়াহু মূলত এই আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে চিরতরে রুদ্ধ করতে চান, যার ফলে হিজবুল্লাহ ও ইরান ইসরাইলের বুকে পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পাবে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, নেতানিয়াহু আসলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি অন্তহীন ও চিরস্থায়ী যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে চান; কারণ তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন যে দেশে চলমান যুদ্ধ শেষ হলেই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে ঝুলে থাকা একাধিক দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া পুনরায় গতি পাবে এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে।

ঠিক যেভাবে তিনি এর আগে হামাসের সাথে অতি প্রয়োজনীয় বন্দি বিনিময় চুক্তিটি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে দিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে তিনি লেবাননের সাথে চলমান আঞ্চলিক শান্তি অগ্রগতির পথও পুরোপুরি রুদ্ধ করে রেখেছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন মেয়াদে ইসরাইলের ক্ষমতায় আছেন, যাকে দেশটির সামগ্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থী ও চরমপন্থী সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক রূপরেখা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ইসরাইলে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ আদালতে ঘুষ, জালিয়াতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন। এর পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধের অকাট্য অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে।

উক্ত সাক্ষাৎকারে এহুদ বারাক কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন। এক শব্দে এই চুক্তিকে ‘খারাপ’ এবং দুই শব্দে ‘খুব খারাপ’ বলে অভিহিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত অহংকার, ভুল কূটনীতি ও দূরদর্শিতার চরম অভাবের কারণেই আজ ইসরাইল রাষ্ট্রকে এই আন্তর্জাতিক মূল্য চকাতে হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার যে লক্ষ্য নিয়ে ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করতে চেয়েছিল, তার একটি লক্ষ্যও তেল আবিব অর্জন করতে পারেনি বলে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেন।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের এমন উসকানিমূলক মন্তব্য গণমাধ্যমে সামনে আসার পরপরই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মিত্র ও ডানপন্থী শিবিরের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে এহুদ বারাকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্টে বিসমুথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারাককে প্রথমে একজন যোগ্য মানসিক ডাক্তারের কাছে পাঠানো উচিত; আর তিনি যদি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রমাণিত হন, তবে দেশের আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহী ও ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা দরকার।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:১১:৩৭
জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক বা হোস্ট হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দীর্ঘ তিন মাসব্যাপী চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের এই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে (পার্লামেন্ট) দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিদীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ ও বৈরিতার অবসান ঘটাতে অবশেষে তিন পক্ষের নিবিড় আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে আরও উল্লেখ করেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই বিশ্ব ঐতিহাসিক চুক্তির মূল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে পুরো আন্তর্জাতিক আয়োজনটির মূল ব্যবস্থাপক ও আয়োজক হিসেবে থাকবে পাকিস্তান। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর এমন নীতিগত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে এক নতুন আশার আলো ও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এর আগে একই দিন ভোররাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক জরুরি পোস্টে দাবি করেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পোস্টের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এই বিশ্ব শান্তি আলোচনার মূল প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিজেও দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চূড়ান্ত সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির কথা আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের চরম বৈরি ও উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কে নিমজ্জিত থাকা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি যদি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে এক অভাবনীয় ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে যা বলছে চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১২:০২:০৯
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে যা বলছে চীন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উদীয়মান যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনায় ফিরে আসার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে।

সোমবার (১৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন ধারাবাহিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই সমঝোতা বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে চুক্তিকে স্বাগত জানালেও চীন এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং একাধিক প্রযুক্তিগত, কৌশলগত ও রাজনৈতিক বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী ৬০ দিন ধরে বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকট সমাধানের সূচনা হিসেবে দেখা হলেও একে এখনই স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বেইজিং এই সমঝোতাকে সম্ভাবনাময় সূচনা হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনছে না। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার যে পরিকল্পনা চীনের রয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন বহু বছর ধরেই বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, নতুন বাণিজ্য করিডোর এবং বহুমুখী জ্বালানি উৎস তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশটি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বেইজিংয়ের বাস্তববাদী কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন। একদিকে তারা শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিজেদের কৌশলগত অবস্থানও ধরে রাখছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় প্রায় ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা কমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

-রফিক


প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে অর্থ ছাড় নয়: যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১১:৪১:৩৭
প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে অর্থ ছাড় নয়: যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উদীয়মান শান্তি সমঝোতা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তেহরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত কোনো জব্দ সম্পদ, আর্থিক সুবিধা কিংবা অর্থনৈতিক প্রণোদনা ছাড় দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে ‘কাজের বিনিময়ে সুবিধা’ বা অ্যাকশন ফর অ্যাকশন নীতির ওপর। অর্থাৎ, ইরান চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করলে তবেই ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তার আগে কোনো ধরনের আর্থিক ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এবার এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিটি সুবিধা নির্ভর করবে যাচাইযোগ্য অগ্রগতির ওপর। শুধু প্রতিশ্রুতি বা মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতাকে ভবিষ্যতের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো নতুন আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার পথ তৈরি করা।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব উভয় পক্ষের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তার মতে, সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে নতুন কূটনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠলে পারমাণবিক ইস্যুতেও অগ্রগতি সম্ভব হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।

এর আগে রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধের অবসান, অবরোধ শিথিল এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

এর কিছুক্ষণ আগেই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই পক্ষ ভোরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

-রাফসান


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৪৮:৪৪
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহনকারী এই সমঝোতার কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত ঘোষণা সম্প্রচার করা হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) রাতে দেওয়া একাধিক বিবৃতিতে জানানো হয়, কয়েক মাসের নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ। সবাইকে অভিনন্দন। আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।’

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিট আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগত সম্মতিতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কয়েকটি কারিগরি ও প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে চুক্তির আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটি শান্তির এক নতুন অধ্যায়। হয়তো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগবে, কিন্তু আজ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে জানান, সমঝোতা স্মারকের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই সংঘাতের পেছনের ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।

চুক্তি ঘোষণার দিনই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে ইসরাইল। দেশটির বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এই হামলার কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি অবস্থানে এসে এমন হামলা হওয়া উচিত হয়নি। এখন সব পক্ষের সংযম প্রদর্শন করা জরুরি।’

তবে এই বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ৩৬ জন, ইসরাইলে ২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বদলাবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৪৪:৪৩
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। যদিও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্ত নিশ্চিত করেননি।

সোমবার (১৫ জুন) ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত করেন।

এরপর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দেবে যে, ভবিষ্যতে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করার বিষয়টিও চুক্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতায় আরও বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে ইরান থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের তত্ত্বাবধানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় চালু করা হবে।

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে অংশ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বহু বছর ধরে বহাল থাকা ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সমঝোতার আওতায় রয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান আবারও প্রতিশ্রুতি দেবে যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে না এবং ইরানের ওপর অতিরিক্ত কোনো নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করবে না।

তবে মেহর নিউজ জানিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থের একটি বড় অংশ মুক্ত করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।

এদিকে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তিকে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে সেটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্ত করে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ আবারও আগের ধারায় ফিরে আসবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।

পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে নিজের অন্যতম বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার আগের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

তার ভাষায়, এই সমঝোতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কই বদলাবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই ঘোষণায় স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসরাইলি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি


ইরান চুক্তিতে বিলম্ব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প; নিশানায় নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৭:৩৮:১০
ইরান চুক্তিতে বিলম্ব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প; নিশানায় নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন কয়েক ঘণ্টার জন্য পিছিয়ে গেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্প গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে হামলা চালানো পুরো কূটনৈতিক অগ্রগতিকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের সামরিক পদক্ষেপের কারণে পুরো প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয়েছে। তবে তিনি এখনো আশাবাদী যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এমন হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাননি। তিনি এটিকে অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। এমনকি তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বৈরুতে নতুন করে আঘাত হানে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পরই ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনা এখন একইসঙ্গে চলমান থাকায় যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ পুরো প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যুতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখন বড় নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

এদিকে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবানন সংকটকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু পারমাণবিক বা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নয়, বরং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও আলোচনার অংশ হতে হবে।

ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, লেবাননে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো একতরফা সমঝোতায় তারা আগ্রহী নয়। তাদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সূত্র: বাসস


ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৪৮:১৮
ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি
ছবি : এপি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর জের ধরে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। পূর্ববর্তী সব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইসরায়েল এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতে হামলার পর আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তাঁর সংশ্লিষ্ট সব ফিল্ড কমান্ডারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। সামরিক বাহিনীর বর্তমান গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান যেকোনো মুহূর্তে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইডিএফ সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থা বজায় রেখেছে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের দিকে যেকোনো ধরনের বহিরাগত গোলাবর্ষণ বা হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনার পর আইডিএফ-এর হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশব্যাপী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের জনসমাগম সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর অঞ্চলের জন্য পূর্বের কঠোর নির্দেশিকাই বহাল রাখা হয়েছে; যা অনুযায়ী সেখানে খোলা জায়গায় সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরের ভেতরে ৪০০ জনের বেশি মানুষ একত্রে সমবেত হতে পারবেন না। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও আপাতত দেশের সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই হওয়ার জোর গুঞ্জন ও জোরালো সম্ভাবনার মাঝেই বৈরুতের শহরতলিতে এই বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। রবিবারের এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসরায়েল যখন বৈরুতের শহরতলিতে একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল, তখন ইরান তার দেওয়া পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরাসরি ইসরায়েলের মাটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই সময় ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিসহ বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল।

এদিকে বৈরুতে রবিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে লেবাননের কোনো অংশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো উচিত হবে না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প লেখেন, বৈরুতের ওপর রোববারের এই হামলাটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত ছিল না; বিশেষ করে এমন একটি অত্যন্ত বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির একেবারেই দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। তবে এদিন সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি চূড়ান্তভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, যেকোনো ধরনের বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অবশ্যই আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার আছে। কিন্তু হিজবুল্লাহর যে হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইসরায়েল বৈরুতে এই বড় ধরনের বিমান হামলা চালাল, হিজবুল্লাহর সেই পূর্ববর্তী হামলাটি ছিল অত্যন্ত ছোট ও অর্থহীন; যাতে কেউ আহত বা নিহতও হয়নি। তাই এমন একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করা ইসরায়েলের কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরায়েল প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বাড়াবাড়ি ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: