মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা, বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চাই ইউক্রেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:০৪:২৮
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা, বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চাই ইউক্রেন
ছবি: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে ইউক্রেন তার বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এই সহায়তার বিনিময়ে কিয়েভ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য ইউক্রেন তিনটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এসব দল স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখাচ্ছে কীভাবে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে ইউক্রেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “আমরা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছি না। আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেই।”

এর আগে জেলেনস্কি ঘোষণা করেছিলেন যে ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হতে পারে। তবে ইউক্রেন এই সহায়তার বিনিময়ে কী পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য এই মুহূর্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আর্থিক সমর্থন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইউক্রেনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে রাশিয়া ব্যাপকভাবে ইরানি নির্মিত শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। ফলে এসব ড্রোন ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কম খরচের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি এবং বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করে এসব ড্রোন প্রতিহত করার কৌশল তৈরি করেছে কিয়েভ।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে তাদের ইউক্রেনের সহায়তা প্রয়োজন নেই।

জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের ড্রোন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। তার ভাষায়, তিনি প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে। জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যেতে পারে, যা কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ইউক্রেন চায় না যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি উপেক্ষা করুক।

এদিকে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন সরকার নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কথাও ভাবছে। জেলেনস্কি বলেন, বিদেশি সরকার বা কোম্পানিগুলো যাতে সরাসরি ইউক্রেনীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরঞ্জাম কিনতে না পারে, সে জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা প্রয়োজন।

তার মতে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে সব ধরনের চুক্তি প্রথমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত হওয়া উচিত, এরপরই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান: জারি হলো নতুন আদেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ২১:১২:৩৬
ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান: জারি হলো নতুন আদেশ
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের পণ্য ইরানে পরিবহনের ঐতিহাসিক অনুমতি প্রদান করেছে। সম্প্রতি ‘ট্রানজিট অব গুডস অর্ডার ২০২৬’ জারির মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ২০০৮ সালের পাকিস্তান-ইরান সড়কপথ চুক্তির আলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি জারি করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ট্রানজিট হাব হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

এই আদেশের আওতায় তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আসা ইরানগামী পণ্য পাকিস্তানের নির্দিষ্ট করিডোর ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের জন্য সরকার প্রধান রুট হিসেবে গোয়াদার ও করাচি সমুদ্রবন্দর এবং সীমান্ত এলাকা তাফতানকে নির্ধারণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘ট্রানজিট’ বলতে কেবল সেই পণ্যগুলোকে বোঝানো হবে যা পাকিস্তানের বাইরে থেকে আসবে এবং অন্য কোনো দেশে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া কাস্টমস নিয়ম মেনে পণ্য এক কনটেইনার থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের জন্য ‘ক্রস-স্টাফিং’ সুবিধাও রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালানের জন্য আর্থিক গ্যারান্টি প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে পাকিস্তান সরকার। পুরো প্রক্রিয়াটি ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির ভূমিকা আরও জোরালো হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

/আশিক


যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি! বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৮:২৮:১৩
যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি! বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই এবার ইয়েমেনের ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের শূরা কাউন্সিলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বোরুজেরদি গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তেহরান এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের হাতে থাকা সব তাস এখনো খেলা হয়নি।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব হরমুজ প্রণালির চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এবং ইয়েমেনি যোদ্ধারা এই প্রণালি অবরোধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় ধাক্কা দেওয়ার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এমন এক সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই পাল্টাপাল্টি শক্ত অবস্থান দাবি করছে।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রণালিতে বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ অবরোধ তৈরির সক্ষমতা এবং ইচ্ছা—দুটিই ইরানের রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।

মূলত ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালে পৌঁছাতে এই বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করতে হয়। ইয়েমেন এবং আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরু সমুদ্রপথটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি অবিচ্ছেদ্য সংযোগস্থল। ফলে এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

সূত্র : বিবিসি


অর্থনৈতিক যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্প: ইরান কি পারবে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৮:০৬:১৮
অর্থনৈতিক যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্প: ইরান কি পারবে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানের পথে এখন আর পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বরং মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অর্থ’। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধংদেহী নীতি এবং তেহরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার চরম অনিচ্ছাই বর্তমানে আলোচনার টেবিলে এক বড় অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে নারাজ, যা যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতাকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ট্রাম্প দীর্ঘ এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং ওবামা আমলে ইরানকে দেওয়া নগদ অর্থের কড়া সমালোচক হওয়ায় তিনি নিজে এখন কোনো বড় ছাড় দিতে পারছেন না। কারণ ইরান যদি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, তবে তা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ইমেজ সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি দম্ভ করে বলেছেন যে, কোনো গুলি না ছুড়েই ইরানের মুদ্রার পতন ঘটানো তাদের জন্য এক বিশাল বিজয়।

অন্যদিকে, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে ভয়াবহ অর্থসংকটে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়লেও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে তেহরানের জন্য বড় অংকের নগদ অর্থ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষক অ্যালান আইয়ারের মতে, পারমাণবিক বিষয়টি এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে; আসল বিষয় হলো ইরান আলোচনার টেবিল থেকে কী পাবে। তেহরান বর্তমানে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞার অবসান চাইছে। একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল বা মাশুল আদায়ের বিষয়টি আলোচনায় এলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানকে ‘দ্বাররক্ষক’ হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।

পরিশেষে, ট্রাম্প যদি ইরানকে কোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দেন, তবে তাকে দেশের ভেতরে এবং মিত্র ইসরাইলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। ইসরাইল কোনোভাবেই ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষপাতি নয়। বিশেষজ্ঞ ট্রিতা পার্সির মতে, এটি হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের জন্য সবথেকে বড় লড়াই—যেখানে একদিকে থাকবে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান। শেষ পর্যন্ত অর্থ ও রাজনীতির এই মারপ্যাঁচে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।


আলোচনার সময় শেষ! ইরানকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১৭:৪৩:৪৭
আলোচনার সময় শেষ! ইরানকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া বার্তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ঘোষণা করেছেন, ‘আর কোনো ভদ্রতা নয়!’ এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ধৈর্য এখন ফুরিয়ে আসছে।

ট্রাম্পের এই বার্তায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাদের আলোচনার সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি তেহরানকে একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনা বর্তমানে অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরান নতি স্বীকার করে আলোচনার জন্য নতুন পথ খুঁজছে, অন্যদিকে তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের দেওয়া অনেক বক্তব্যই মিথ্যা বলে নাকচ করে দিচ্ছে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’ বার্তাটি কেবল একটি রাজনৈতিক হুমকি নাকি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর কোনো সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস, তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা এড়িয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের ইরান কৌশলকে আবারও সবার নজরে নিয়ে এসেছে। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র: গালফ নিউজ।


যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে? ইরানি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্যে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১২:২০:০৫
যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে? ইরানি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্যে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং নতুন প্রস্তাবের গুঞ্জন থাকলেও মাঠের চিত্র যে এখনও উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট করে দিলেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সামরিক বাহিনী যে এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নিচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিশ্রুতিতে যে তাদের ভরসা নেই—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়ার এই বক্তব্যে সেটিই ফুটে উঠেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও সেটিকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে মানতে নারাজ তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে মনে হয় না যুদ্ধ শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রতিরোধের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইরান।

মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরানের সামরিক কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও শিথিল করা হয়নি। বরং যুদ্ধকালীন সময়ের মতোই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে সেনাবাহিনী। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিরতির মধ্যেও সৈন্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জারি রাখা হয়েছে এবং সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের পরিকল্পনা করছেন, তখন ইরানি সেনাবাহিনীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আকরামিনিয়ার বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, তেহরান কেবল আলোচনার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সামরিক শক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনমনীয় শর্ত এবং ইরানের এই শক্ত অবস্থান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

/আশিক


হামলা নয়, অবরোধ! ইরানকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের ‘দীর্ঘমেয়াদী’ মাস্টারপ্ল্যান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১১:৩৯:৪৩
হামলা নয়, অবরোধ! ইরানকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের ‘দীর্ঘমেয়াদী’ মাস্টারপ্ল্যান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে বাগে আনতে এবার সরাসরি যুদ্ধের বদলে ‘লং গেম’ বা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হাঁটছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলার পরিবর্তে কঠোর নৌ-অবরোধ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছেন। এই কৌশলের মাধ্যমে তেহরানের তেল রপ্তানি ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার চূড়ান্ত ছক কষেছে হোয়াইট হাউস।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনা নিরসনে সরাসরি সামরিক অভিযানের পরিবর্তে ‘নৌ-অবরোধ’ বজায় রাখার এক কঠিন কৌশল গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দীর্ঘস্থায়ী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো—ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মতে, সামরিক অভিযানের চেয়ে এই অবরোধ অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী। ট্রাম্প এখনো তাঁর পূর্বের কঠিন শর্তগুলো থেকে এক চুলও সরতে নারাজ। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবিতে তিনি অটল। হোয়াইট হাউস মনে করছে, কোনো বড় ধরনের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আমেরিকার এই কঠিন শর্তের বিপরীতে একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগে তাঁদের আরও আলোচনার প্রয়োজন। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করে চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নন; বরং পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আরোপই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

ট্রাম্পের এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যেহেতু হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা আরও বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন সামরিক শক্তির বদলে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার চূড়ান্ত কৌশল গ্রহণ করেছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় সংকটে রিপাবলিকান পার্টি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৯ ১০:২৪:৪৮
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় সংকটে রিপাবলিকান পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ধস, আকাশচুম্বী গ্যাসের দাম এবং রেকর্ড সংখ্যক রিপাবলিকান নেতার কংগ্রেস ত্যাগের ঘটনা দলটির জন্য বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—হাউস এবং সিনেট—রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এমন সময়ে রিপাবলিকান পার্টির জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে একাধিক জনমত জরিপ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রিপাবলিকান পার্টি এখন একটি ‘অশুভ’ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। একদিকে ডেমোক্র্যাটরা বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে রিপাবলিকান শিবির থেকে রেকর্ড সংখ্যক নেতা ও কর্মী দল ছাড়ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪.১৮ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ ডলার বেশি। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়।

সিএনএন-এসএসআরএস এবং অন্যান্য জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জন-অনুমোদনের হার (Approval Rating) ৪০-৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। সবথেকে বড় ধাক্কাটি এসেছে রিপাবলিকানদের মূল শক্তির জায়গা ‘পুরুষ ভোটারদের’ কাছ থেকে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে পুরুষ ভোটাররা ট্রাম্পের বড় সমর্থক ছিলেন, তাঁরা এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ৪৫ বছরের কম বয়সী তরুণ পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ২০ পয়েন্টের মতো কমে গেছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের কারণ হতে পারে।

দলের সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচ বাস্তবতাকে স্বীকার করে সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচন এখনই হলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে হেরে যেত। তিনি মনে করেন, পেট্রোলের দাম না কমলে এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধ না হলে নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান কৌশলবিদরা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে এই পরিবেশকে ‘কুৎসিত’ ও ‘হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করছেন।

/আশিক


নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান! যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের নয়া ছক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:৪৯:০৮
নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান! যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে তেহরানের নয়া ছক
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের দাবি, তেহরান যুদ্ধের রাশ টানতে খুব শীঘ্রই একটি 'সংশোধিত প্রস্তাব' দিতে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে এই সমঝোতা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা আশা করছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব জমা দেবে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আগের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পর তেহরান এই নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

সূত্রমতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়া সফর শেষ করে আজই তেহরান পৌঁছানোর কথা। সেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করবেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান ও নিরাপত্তা কঠোরভাবে গোপন রাখায় যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের আগের প্রস্তাব—যেখানে আগে যুদ্ধবিরতি এবং পরে পারমাণবিক আলোচনা করার কথা বলা হয়েছিল—তা তিনি কোনোভাবেই গ্রহণ করবেন না। এদিকে মঙ্গলবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ‘পতনের মুখে’ রয়েছে এবং নেতৃত্ব সংকট সামাল দিতেই তারা এখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ খুঁজছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের কোনো ছাড় দেওয়ার ঘোষণা থাকতে পারে। পাকিস্তান আশা করছে, এই সংশোধিত প্রস্তাবই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসন হবে নাকি তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে।

/আশিক


রাডার এড়িয়ে গোপন যাত্রা! ২ মাস পর এলএনজি নিয়ে হরমুজ পার হলো বিশাল জাহাজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:২৯:২৯
রাডার এড়িয়ে গোপন যাত্রা! ২ মাস পর এলএনজি নিয়ে হরমুজ পার হলো বিশাল জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার মাঝে দীর্ঘ দুই মাস পর এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটল। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা যুদ্ধাবস্থার কারণে অবরুদ্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবশেষে পাড়ি দিল এলএনজি (LNG) বোঝাই একটি বিশাল ট্যাংকার। জাহাজ ট্র্যাকিং কোম্পানি ‘কিপলার’-এর তথ্যমতে, গত মার্চ মাস থেকে এই রুট প্রায় বন্ধ থাকলেও আমিরাতি ট্যাংকার ‘মুবারক’-এর এই সফল যাত্রা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল জলপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ দুই মাসের স্থবিরতা ভেঙে অবশেষে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বোঝাই ট্যাংকার সফলভাবে যাতায়াত করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং কোম্পানি ‘কিপলার’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি (AFP) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘অ্যাডনক’ কোম্পানি পরিচালিত ‘মুবারক’ নামের এই ট্যাংকারটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।

২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস আইল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করার পর নিরাপত্তার খাতিরে জাহাজটি দীর্ঘ এক মাস তার ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ (AIS) বা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। অর্থাৎ, রাডারের নজরদারি এড়িয়ে এক প্রকার ‘গোপনেই’ উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে এই বিশাল ট্যাংকার। দীর্ঘ বিরতির পর গত সোমবার ভারতীয় উপকূলে পৌঁছানোর পর পুনরায় জাহাজটির সিগন্যাল পাওয়া গেছে।

কিপলারের বিশ্লেষক চার্লস কোস্ট্রাউস জানান, সম্ভবত ১৮ ও ১৯ এপ্রিলের দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগে গত মার্চ থেকে এই রুটে কেবল ‘সোহার’ নামের একটি খালি জাহাজ যাতায়াত করেছিল। তবে এলএনজি বোঝাই কোনো জাহাজের এই যাতায়াত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ১ মার্চ থেকে পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ৭০টিরও বেশি তেলের জাহাজ ছেড়েছে, তবে সেগুলোর অধিকাংশই ছিল ইরানের নিজস্ব বন্দর থেকে। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাতি জাহাজের এই সফল যাত্রা নৌপথটির নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের একটি ক্ষীণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: