ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা আরাঘচির, আলোচনায় যা ছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৯:৪৮
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা আরাঘচির, আলোচনায় যা ছিল
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে পুরো অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়েছে, আরাঘচি আলোচনার সময় বলেন যে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির প্রধান কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ। তার মতে, এই আগ্রাসী কার্যক্রমই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। আরাঘচি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয় যা বর্তমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত বা বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তেহরান তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী কেবলমাত্র সেইসব সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যেগুলোকে তারা আগ্রাসী পক্ষের অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে।

আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, এসব হামলাকে আঞ্চলিক অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক অভিযান মূলত আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

আলোচনায় লেবাননের পরিস্থিতিও উঠে আসে। আরাঘচি বলেন, লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, লেবাননের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৪:২৬
তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আহ্বান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা ইতিমধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে সাহায্য ও সমন্বয় করবে।” তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংবিধান অনুযায়ী জাপানের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। অন্যদিকে, চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ট্রাম্পের অনুরোধে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে নীরবতা পালন করছে। ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়াও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ফ্রান্স চাইছে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে একটি নিরাপত্তা জোট গঠন করতে, আর যুক্তরাজ্য মিত্রদের সাথে বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এদিকে রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি আরব জানিয়েছে তারা ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে ইরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেন যুদ্ধ ভুলে না যায়: জেলেনস্কি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪১:৪৪
যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেন যুদ্ধ ভুলে না যায়: জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি ওয়াশিংটনের মনোযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, কিয়েভ চায় না যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে চায় না। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ব্যস্ত থাকলেও ইউক্রেন আশা করছে ওয়াশিংটন রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রশ্নে তাদের পাশে থাকবে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সহায়তা করার ক্ষেত্রেও আগ্রহী। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে কিয়েভ ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেশটি ড্রোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেছে। সেই প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অংশীদারদের কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখবে না। তার মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আল জাজিরা


ওমরাহ যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সৌদির যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মিলবে হার্টের দ্রুত চিকিৎসা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৩১:০৯
ওমরাহ যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সৌদির যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মিলবে হার্টের দ্রুত চিকিৎসা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মক্কায় আগত ওমরাহ যাত্রী ও মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এলাকায় হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের তাৎক্ষণিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দিতে চালু করা হয়েছে ‘সেফ হার্ট জোন’। মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের এই বিশেষ উদ্যোগটি সরাসরি পরিচালনা করছে কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটি। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্র্যান্ড মসজিদের মতো জনবহুল এলাকায় হৃদ্‌রোগজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া। বিশেষ করে পবিত্র রমজান ও আসন্ন হজ মৌসুমে যখন লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে, তখন রোগীদের দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই জোনের আওতায় ১০টি কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে এবং ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর একটি দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রকল্পটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করে ‘ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি’ সেবা প্রদান করা। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO)-এর মতো উন্নত জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি, হার্টের স্টেন্ট এবং বিশেষায়িত ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখা হয়েছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর স্বাস্থ্যখাত রূপান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, যা পবিত্র নগরীতে আগত দর্শনার্থীদের জন্য এক নিশ্ছিদ্র স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে।

/আশিক


ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৩০:৫৪
ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী সকালে ইসরায়েলের কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনার বিরুদ্ধে সমন্বিত ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট “লাহাভ ৪৩৩”-এর সদরদপ্তর এবং গিলাত অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিরক্ষা উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র। এই দুই স্থাপনাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলাকে “শক্তিশালী ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ফলাফল, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা হামলার সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা


সৌদি ও আমিরাতে ইরানি মিসাইল হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:২১:৪১
সৌদি ও আমিরাতে ইরানি মিসাইল হামলা
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে উপসাগরীয় এই দুই দেশ জানিয়েছে, হামলার অধিকাংশ অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার রাতে ইরানের নিক্ষেপ করা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৪টি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত আল-খার্জ এলাকায় প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির আকাশে নিক্ষিপ্ত ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশেও বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এই অঞ্চলে সৌদি আরবের প্রধান তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো অবস্থিত।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি হামলার মুখোমুখি হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাতে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, দুবাইয়ের মারিনা ও আল-সুফৌহ অঞ্চলের আকাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত কাজ করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি নতুন কৌশল হতে পারে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের আকাশসীমায় মোট ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১,৬০০টি ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব হামলার ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

-রফিক


ইরানি হামলায় কি তবে সফল? নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:২০:০৫
ইরানি হামলায় কি তবে সফল? নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ১৬তম দিনে এসে দেশের প্রধান নির্বাহীর জনসমক্ষে না আসা বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ না নেওয়াকে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে রোববার (১৫ মার্চ) ইসরায়েলে বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এসব স্পর্শকাতর বৈঠক নেতানিয়াহু নিজেই পরিচালনা করে থাকেন। তবে রোববারের বৈঠকে তার আসনটি খালি ছিল। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়া নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে। তার পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গুরুতর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর থেকেই এই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোব অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের উচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যত ‘নিখোঁজ’। প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গুরুত্বপূর্ণ এই নিরাপত্তা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন। যুদ্ধের এই সন্ধিক্ষণে, যখন প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসেব করে নিতে হয়, তখন নেতার অনুপস্থিতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত এই অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো ভিডিও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো সরাসরি উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো কোনো গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন অথবা কোনো ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। কয়েকদিন আগে তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ দাবি করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর গোপন আস্তানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত নিহত অথবা অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পর্দার অন্তরাল থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন।

নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হয়েছে গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায় নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। তবে নেটিজেনদের একটি অংশ দাবি করেছেন, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল এবং অঙ্গভঙ্গি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে, যা ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করার ইঙ্গিত দেয়। এমনকি এক পর্যায়ে তার হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন। যদিও ফ্যাক্ট-চেকাররা একে ‘ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল’ বা লেন্সের কারসাজি বলে দাবি করেছেন, তবুও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘকালীন নীরবতা এই জল্পনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে নেতানিয়াহুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নিশিছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত ইসরায়েল সফর আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ায় গুঞ্জনটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এদিকে, রোববার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ওয়েবসাইটে এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যদি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে তারা তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান থামাবে না। আইআরজিসি জানায়, “আমরা এই শিশুহত্যাকারী অপরাধীকে পূর্ণ শক্তিতে ধাওয়া অব্যাহত রাখব।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও।

/আশিক


মিসাইল সংকটে ইসরায়েল! ইরানের হামলার মুখে ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিরোধী শক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:১৪:৩৩
মিসাইল সংকটে ইসরায়েল! ইরানের হামলার মুখে ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিরোধী শক্তি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী মিসাইলের (Intercepting Missiles) তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফর (Semafor) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। মূলত ২০২৫ সালের সেই ১২ দিনের যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ মিসাইল ব্যবহার করায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত আগে থেকেই আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা কয়েক মাস ধরেই এই ঘাটতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতে সংকট না থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন অস্ত্র ভাণ্ডারেও টান পড়তে পারে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইসরায়েলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Arrow and David's Sling) খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার বোমা’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার শুরু করায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেই অনেক বেশি প্রতিরোধী মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে। ফলে ইসরায়েলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৫০টির বেশি দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ড্রোন প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা নিয়ে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের জনপ্রিয় ‘আয়রন ডোম’ মূলত স্বল্পপাল্লার রকেট প্রতিহত করলেও ইরানের ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে দূরপাল্লার প্রতিরোধী মিসাইলই একমাত্র ভরসা, যার ঘাটতি এখন তেল আবিবকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

/আশিক


মোজতবা খামেনি কি আহত? মার্কিন দাবির মুখে বড় তথ্য দিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৩:০২:৪৬
মোজতবা খামেনি কি আহত? মার্কিন দাবির মুখে বড় তথ্য দিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে সরাসরি মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তাঁর শারীরিকভাবে ‘কোনো সমস্যা নেই’।

আগের দিন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন যে, মোজতবা খামেনি সম্ভবত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর অঙ্গহানি ঘটেছে। এই দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে আরাগচি বলেন, “নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকালই (শুক্রবার) তাঁর কঠোর বার্তা দিয়েছেন এবং তিনি পূর্ণ শক্তিতে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।”

উল্লেখ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম বার্তায় মোজতবা খামেনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত শত্রুদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে। এমনকি তিনি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখারও জোরালো আভাস দিয়েছেন। খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তবে তেহরান তাদের বিরুদ্ধে আরও নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে।

সূত্র: আলজাজিরা


বিপাকে ট্রাম্প: ইরানকে রুখতে ৫ পরাশক্তিকে ডাকলেও পাশে দাঁড়াচ্ছে না কেউ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১১:৫৫:৩৭
বিপাকে ট্রাম্প: ইরানকে রুখতে ৫ পরাশক্তিকে ডাকলেও পাশে দাঁড়াচ্ছে না কেউ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। আজ রোববার (১৫ মার্চ) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ টানা ১৬তম দিনে পদার্পণ করল। এর মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য কমাতে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে এখন পর্যন্ত মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালিতে সামরিক শক্তি মোতায়েনের অনুরোধ জানান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেবে না।

ট্রাম্পের এই আহ্বানের বিপরীতে যুক্তরাজ্য সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি না দিয়ে জানিয়েছে, তারা মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের পক্ষ থেকে সংঘাতের দ্রুত অবসান চাওয়া হলেও ট্রাম্পের অনুরোধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফ্রান্স সরকারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই মুহূর্তে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না। এদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও বিষয়টিতে নীরবতা পালন করছে, যদিও জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির আসন্ন ওয়াশিংটন সফরে এটি আলোচনার মূল এজেন্ডা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: