মোজতবা খামেনি কি বেঁচে আছেন? ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৯:০৫:৩২
মোজতবা খামেনি কি বেঁচে আছেন? ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ
ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান চুক্তির জন্য মুখিয়ে থাকলেও তিনি নিজে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নন। তাঁর মতে, ইরান যে ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছে তা যথেষ্ট ‘জোরালো’ নয় এবং আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠিন শর্ত প্রয়োজন। তবে চুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর ঠিক কী কী দাবি রয়েছে, তা নিয়ে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

সাক্ষাৎকারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প বলেন, “তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। কেউ তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারছে না। তিনি যদি বেঁচে থাকেন, তবে তাঁর উচিত হবে দ্রুত আত্মসমর্পণ করা।” যদিও খামেনির মৃত্যুর খবরটি আপাতত ‘গুজব’ হিসেবেই দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্বের বিষয়ে ট্রাম্প কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও জানিয়েছেন, তাঁর নজরে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাঁরা ইরানের ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত নেতা হতে পারেন।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি চাই বিশ্বের জন্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকুক। আমি তেল চাই।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সংকট মেটামাত্রই পুনরায় বহাল করা হবে। অন্যদিকে, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সহায়তার প্রস্তাবকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, “জেলেনস্কি হলেন শেষ ব্যক্তি, যাঁর কাছ থেকে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন।”

তথ্যসূত্র: সিএনএন


ইরান যুদ্ধের খবর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক: গণমাধ্যমকে সতর্কবার্তা, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:২৬:০৯
ইরান যুদ্ধের খবর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক: গণমাধ্যমকে সতর্কবার্তা, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও নতুন রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন-এর চেয়ারম্যান ব্রেনডান কার।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে সংশোধন না আনে, তাহলে লাইসেন্স নবায়নের সময় তারা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

ব্রেনডান কার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যমগুলো আইন অনুযায়ী জনস্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব বহন করে। তাই ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে কিছু সংবাদমাধ্যম ইরানি হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা সঠিক নয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন মেরিন ও নৌসেনা সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-এর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।

এই সামরিক ইউনিটের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় দুই হাজার পাঁচশ মার্কিন মেরিন সেনা থাকবে। পাশাপাশি এই বাহিনীর সঙ্গে অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান এবং এমভি-২২বি ওস্প্রে পরিবহন বিমানও যুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া জাপানে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। সাধারণত এই ধরনের সামরিক মোতায়েন সম্পন্ন হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আশিক/২০২৬/২৩৪৩


সৌদিতে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ মার্কিন বিমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:২৩:৫১
সৌদিতে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ মার্কিন বিমান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক হামলায় সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মার্কিন বিমান বাহিনীর কয়েকটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতির মুখে পড়ে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেগুলো মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে একই সংঘাতের মধ্যে আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম ইরাকে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্যই প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আরেকটি সামরিক বিমানের সঙ্গে আকাশে সংঘর্ষের ফলে কেসি-১৩৫ বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের হামলা বা মিত্র বাহিনীর ভুল আঘাতের কারণে ঘটেনি।

ওয়াশিংটনে পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে গভীরভাবে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানবিরোধী মার্কিন অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে কুয়েত ও সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত ড্রোন হামলায় আরও সাতজন সেনা প্রাণ হারান।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বহুমুখী সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক দাবি করেছে যে, তারাই কেসি-১৩৫ বিমানটি ভূপাতিত করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলো প্রথম তৈরি হয় ১৯৫০-এর দশকে এবং এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর আকাশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘ সময় আকাশে সক্রিয় রাখতে এই ধরনের রিফুয়েলিং বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: এনডিটিভি


ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ও সেনা সরাতে হবে তবেই থামবে যুদ্ধ: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:১১:৫৮
ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ও সেনা সরাতে হবে তবেই থামবে যুদ্ধ: ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চালানো হামলার জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামবে না।

শনিবার ইরানি গণমাধ্যম এসএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির নীতি-নির্ধারণী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রভাবশালী সদস্য মোহসেন রেজায়ি এ বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ভূখণ্ডে হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে যুদ্ধ বন্ধের দায়ও প্রথমে ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।

রেজায়ির ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা মৌখিক আশ্বাসে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, সংঘাতের উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনিও আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। খামেনির মতে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং বাইরের শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপকে আরও সহজ করে তুলছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য বিদেশি সেনা উপস্থিতি কমানো জরুরি। ইরানি নেতাদের মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব সহযোগিতা ও নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

অন্যদিকে, চলমান এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আল মায়াদিন


ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:১০:০০
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দ্রুত পুনরায় সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আশিক/২০২৬/২৩৪৩


মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশপাশ খালি করার পরামর্শ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:০৭:২৯
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশপাশ খালি করার পরামর্শ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক কড়া সতর্কবার্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল থেকে তাদের শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যেসব কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আমেরিকান বিনিয়োগ বা অংশীদারত্ব রয়েছে, সেসব স্থাপনার আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সংঘাতের ফলে যেন সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে কারণেই আগাম এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটার পরই তেহরান এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি, এসব হামলার মধ্যে কয়েকটি অসামরিক কারখানায় চালানো হয়েছে এবং এতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

এই হামলাগুলোর জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের জ্বালানি খাত বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আইআরজিসির সাম্প্রতিক এই সতর্কবার্তা বিশ্লেষকদের মধ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, ইরান এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বরং আমেরিকান বিনিয়োগ রয়েছে এমন বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনাও হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন


মার্কিন সামরিক বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিবে না সুইজারল্যান্ড

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৪:৫৬:১৭
মার্কিন সামরিক বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিবে না সুইজারল্যান্ড

ইউরোপের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের কিছু আকাশপথ ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও সরকারি বিমানের মোট পাঁচটি উড্ডয়ন অনুরোধ পর্যালোচনা করে এর মধ্যে দুটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তিনটি অনুমোদন দিয়েছে।

সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দেশটির কঠোর নিরপেক্ষতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়েছে। সুইস সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সামরিক উদ্দেশ্যে যুক্ত কোনো উড্ডয়ন তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা বিষয়ক আইন অনুযায়ী সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে সামরিক সহায়তা প্রদান বা যুদ্ধসংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করা থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক। তাই সংঘাতের সঙ্গে সামরিকভাবে সংশ্লিষ্ট উড্ডয়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তবে মানবিক বা চিকিৎসা সহায়তা সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন আহত ব্যক্তিদের পরিবহন বা সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কহীন আকাশপথ ব্যবহারের আবেদন এলে তা অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সুইস সরকার।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের কিছু দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনার সময় সুইজারল্যান্ডের এই অবস্থান তাদের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার নীতির ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে।


‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৪:৫০:১৯
‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এই অভিযানকে তাদের ‘৫০তম বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ও ফুজাইরা ঘাঁটি, বাহরাইনের জুফায়ার ঘাঁটি ও মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের আলী সালেম ঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে যে হামলার সময় তারা এই অঞ্চলে স্থাপিত কিছু প্রাথমিক সতর্কতা প্রদানকারী রাডার ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাদের মতে, এই রাডারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছিল এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

তবে এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা সামরিক প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই হামলার দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

-রাফসান


অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ভয়াবহ তণ্ডব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:৩৩:২৯
অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ভয়াবহ তণ্ডব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র নৌ শাখা। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ৪৯তম পর্যায় হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিমান ও হেলিকপ্টার ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসির তথ্যমতে, হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাহাফরা বিমান ঘাঁটি, যেখানে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, কন্ট্রোল টাওয়ার এবং বিমান বিধ্বংসী হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটির আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী রাডার এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কেও আঘাত হানা হয়েছে। কুয়েতের আল-উদেইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে হামলার ফলে সেখানকার সামরিক সরঞ্জামের ডিপো এবং হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই অভিযানের সাফল্যের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এই হামলার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথা ঘোষণা করেছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, শত্রু রাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না; অন্যথায় সেগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: ডব্লিএএনএ


ইসরায়েলকে ১ সপ্তাহের সময়সীমা দিল যুক্তরাষ্ট্র: বন্ধ হচ্ছে কি ইরান যুদ্ধ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:১৮:৫৩
ইসরায়েলকে ১ সপ্তাহের সময়সীমা দিল যুক্তরাষ্ট্র: বন্ধ হচ্ছে কি ইরান যুদ্ধ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলকে বড় ধরনের আল্টিমেটাম দিল বাইডেন প্রশাসন। একটি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত বন্ধ করতে তেল আবিবকে মাত্র এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন মনে করছে অদূর ভবিষ্যতে তেহরানের শাসন ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ, তেমন কিছু ঘটাতে হলে হয় সরাসরি স্থলপথে সামরিক অভিযান চালাতে হবে, নয়তো দেশজুড়ে বিশাল গণঅভ্যুত্থান প্রয়োজন—যার কোনো লক্ষণই বর্তমানে ইরানে দেখা যাচ্ছে না।

সূত্রমতে, যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযানে ‘বিশাল সাফল্য’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র মূলত তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে। এর আগে বিখ্যাত সাময়িকী ‘পলিটিকো’ জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত শুরু করার আগে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে খুব একটা গভীরভাবে ভাবেনি। এর চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে; যুক্তরাষ্ট্রে তেলের উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুই সপ্তাহে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬০ সেন্ট বেড়ে গেছে।

মূল্যস্ফীতির এই ধাক্কা ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ’ স্লোগানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাজারের অস্থিরতা কমাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার কৌশলগত মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের নানা আশ্বাস সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা এখনো আশ্বস্ত হতে পারছেন না, যা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

পাঠকের মতামত: