খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ২০:০০:০৭
খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের খাল পুনখনন কার্যক্রমে যান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে অধিক শ্রমনির্ভর পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে খাল খনন প্রকল্পে মেশিনের ব্যবহার কমিয়ে বেশি জনবল যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল পুনখনন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও কর্মসংস্থানমুখী করার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে অনেক খাল দখল, ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়। এসব সমস্যার সমাধানে খাল পুনখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় প্রস্তাব করা হয় যে, খাল খনন প্রকল্পগুলোতে অতিরিক্ত যান্ত্রিক নির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো যেতে পারে। এতে একদিকে খাল পুনখনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় বলেন, খাল খনন শুধু পানি ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প নয়; এটি দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে প্রকল্পের সুফল আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।

সভায় আরও আলোচনা হয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল ও জলপথ পুনরুদ্ধার করা গেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনেও এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় খাল ও জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব খালের অনেকগুলোই ভরাট বা দখল হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে খাল পুনখনন কার্যক্রম এখন দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খাল পুনখনন কার্যক্রমে শ্রমনির্ভর পদ্ধতির সম্ভাব্য সুবিধা, ব্যয় কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

-রফিক


ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৪:০৬:১১
ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহে নির্ধারিত সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি চালু থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, এই সীমাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে এবং ভাড়া নৈরাজ্যের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের জেলা থেকে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। তার মতে, শুধু ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকেই প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর বাইরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের সংখ্যা বিবেচনা করলে মোট ভ্রমণকারীর সংখ্যা তিন থেকে চার কোটি মানুষেরও বেশি হতে পারে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গণপরিবহন অবকাঠামো বর্তমানে দেশে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে ব্যাপক যাত্রাচাপ তৈরি হবে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ, এবং হিউম্যান হলারে প্রায় ৮০ লাখ ট্রিপ পরিচালিত হতে পারে।

এছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রেও যাতায়াতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগঠনটির হিসাবে কার ও মাইক্রোবাসে প্রায় ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসে প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ, এবং ঢাকার সিটি বাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ হতে পারে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলেও প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ ট্রিপে যাত্রী পরিবহন হতে পারে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিটি পরিবহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে সিলিং পদ্ধতি চালু থাকলে অনেক পরিবহন তাদের নির্ধারিত ট্রিপ পরিচালনা করতে পারবে না।

তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকলে কিছু অসাধু পরিবহন মালিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বে এবং পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঈদকে ঘিরে সড়কপথে যানজট এমনিতেই বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে পরিবহনগুলোকে যদি বারবার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য থামতে হয়, তাহলে যাত্রার সময় আরও দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের দিন পর্যন্ত পরিবহন খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

-রাফসান


ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৪৬:০৫
ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী সময়ে ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে রোববার (৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে সরকার ঘোষিত এই বিশেষ ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি পরিষেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বেশ কিছু খাতকে এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা খাতগুলো এই ছুটির অন্তর্ভুক্ত হবে না। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সমুদ্র ও স্থলবন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ডাক ও যোগাযোগ সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।

এছাড়া টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও ছুটির আওতামুক্ত থাকবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন থাকে। সরকার মনে করছে, এই সেবাগুলো বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতকেও এই বিশেষ ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম নিয়েও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে সুপ্রিম কোর্ট।

বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের বিধান অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণত দেশে সরকারি ছুটির বিষয়টি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা-১৯৫৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত এই ছুটি মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য। তবে অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব নীতিমালা এবং শ্রম আইনের আলোকে এই ধরনের ছুটি অনুসরণ করে থাকে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঈদের আগে টানা ছুটির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা সহজে করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

-রাফসান


আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৩৮:০৩
আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাস্টমস হাউসগুলোর কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সময়ও নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম চলমান থাকবে, তবে ঈদের দিন শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।

সোমবার জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস হাউস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সচল রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও সীমিত আকারে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনবিআর মনে করছে, ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটির কারণে যদি কাস্টমস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তাহলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস, শিপমেন্ট এবং সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা দেশের প্রধান কাস্টমস হাউসগুলোর কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, বেনাপোল কাস্টম হাউস, আইসিডি কমলাপুর, মোংলা কাস্টম হাউস এবং পানগাঁও কাস্টম হাউস।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকেও একই ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (পশ্চিম), ঢাকা (পূর্ব), ঢাকা (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট, রংপুর ও কুমিল্লা কমিশনারেট উল্লেখযোগ্য।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত বন্দর ও কাস্টমস হাউসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ ছুটির সময় এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকলে পণ্য খালাসে বিলম্ব হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। এনবিআরের এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

-রাফসান


বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১২:৫০:০২
বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরকার তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেসব পরিকল্পনা জনগণের ভাগ্য বদলে দেবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, তবে সরকার তার লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই বিশেষ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হয়েছে এক আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ‘দারিদ্র্য সূচক’ বা প্রক্সি মিনস টেস্ট করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, শিক্ষার হার, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের অবস্থা এমনকি রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে ডাবল ডিপিং বা দ্বৈত ভাতা গ্রহণ রোধ এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই পদ্ধতির ফলে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোই রাষ্ট্রের এই সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সারাদেশে বিস্তৃত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১১:৪৪:০২
নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপকারভোগীরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাদের নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ বুঝে নিতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচিটি দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিবিড়ভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। বিশেষ করে ‘ডাবল ডিপিং’ বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণ রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে অর্থ লোপাট বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই সরাসরি সুফল পাবেন। কড়াইল বস্তির মতো জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

/আশিক


৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:১৫:০৮
৩৭ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বিশেষ ভাতা: উদ্বোধন আজ সকালে
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রান্তিক ও দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীস্থ কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা সরাসরি উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে দ্বৈত ভাতা গ্রহণকারী ও সরকারি চাকরিজীবীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত কার্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ৬৬ শতাংশেরও বেশি সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত হন অথবা নারী প্রধান নিজে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হন, তবে তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। সরকার ভবিষ্যতে এই নগদ সহায়তার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য প্রদানের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয়করণ বা পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে দেশের অর্থনীতির সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছানো যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নারীপ্রধান পরিবারকে এই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

/আশিক


জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:০৩:৫০
জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ এই আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে পাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল বাংলাদেশে আসবে এবং মঙ্গলবারের মধ্যেই তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে এবং আকস্মিক কোনো সংকট এড়াতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর আগে গত রবিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে এক বৈঠকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ব্যবহার করে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ভারতের কাছে পেশ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ২১:৫৪:২৮
দেশের প্রধান সব তেল ডিপোর সুরক্ষায় নামছে সেনাবাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরিভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। মূলত ডিলারদের আকস্মিক অতিরিক্ত চাহিদা এবং ডিপোগুলোতে তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রশমনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনাগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনা ছাড়াও খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব স্থাপনা রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা 'কেপিআই' (Key Point Installation) ভুক্ত হওয়ায় এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

প্রেরিত বার্তায় জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে যেন আতঙ্ক না ছড়ায় এবং জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ শৃঙ্খল যেন কোনো অসাধু চক্রের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

/আশিক


টাকা না কি খাদ্যপণ্য? ফ্যামিলি কার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৭:২৯:১১
টাকা না কি খাদ্যপণ্য? ফ্যামিলি কার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশের প্রথম 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই যুগান্তকারী প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' (PMT) পদ্ধতিতে সম্পন্ন করায় এখানে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি স্মার্ট কার্ডে আধুনিক কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী।

পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, পরবর্তীতে নগদ টাকার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত কোনো নারী যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে নতুন কার্ডের অন্তর্ভুক্তিতে সেই পুরনো সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বিদ্যমান ভাতা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী, পেনশনভোগী বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। এই পাইলট প্রকল্পের জন্য জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ (২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা) সরাসরি সাধারণ মানুষের নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে এবং বাকি অংশ তথ্য সংগ্রহ ও সিস্টেম উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: