পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:০৩:২৯
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ক্লুলেস ও রোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত মূল ঘাতক সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এই রায় দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

এর আগে, সকাল থেকেই এই রায় দেখাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কড়া পুলিশি পাহারার পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে মূল কারাফটক থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।

পরবর্তীতে এজলাসে তোলার আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। আদালত কক্ষে বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতেই এই রায় পড়ে শোনান।

নথির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করে। এরপরের দিন ২ জুন মাত্র এক দিনেই মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন (৭ জুন) ধার্য করেছিলেন আদালত।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে বালতিতে লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ঘটনার দিনই পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেলকে এবং ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল। আজ আদালতের এই সর্বোচ্চ সাজার রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্ষুব্ধ দেশবাসী অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বিচার পেল।

/আশিক


শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১১:৩৯:০০
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

জনমনে ক্ষোভের পারদ এতটাই তুঙ্গে যে, ক্ষুব্ধ জনতার কেউ কেউ আসামিকে চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া কিংবা আদালত প্রাঙ্গণের বটগাছে ঝুলিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানান। এমন পৈশাচিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়, সে জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

এর আগে, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মূল হত্যাকারী সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। গত ১ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে (৪ জুন) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। ২ জুন মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে।

মামলার এজাহারের লোমহর্ষক বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার। এর কিছুক্ষণ পর রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে সোহেল রানার দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে শয়নকক্ষে প্রবেশ করতেই মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতর বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

পরবর্তীতে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং ওই দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পালিয়ে যাওয়া মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির বীভৎস মরদেহের ছবি দেখে স্তম্ভিত পুরো দেশবাসী আজ এই আদালতের দিকে চাতকের মতো তাকিয়ে আছে।

/আশিক


রেকর্ড ১৭ দিনে বিচার শেষ: রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১০:২১:০৪
রেকর্ড ১৭ দিনে বিচার শেষ: রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ রবিবার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলা এই মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সকালের দিকেই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়েছে। মাত্র ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মতো সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এই রায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ পুরো দেশবাসী।

আইনি নথির সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। ঘটনার দিনই পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে এবং অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও হেফাজতে নেয়।

পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিএনএ, ফরেনসিক আলামত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত সংগ্রহ করে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। যেখানে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

ট্রাইব্যুনালে গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং মাত্র একদিনের ব্যবধানে (২ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দাবি করেন, ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক সব তথ্যপ্রমাণ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে, তাই তারা দুই আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড আশা করছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ মামলায় ডিএনএ রিপোর্টের অনুপস্থিতি ও সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার অযুহাত দেখিয়ে খালাস প্রার্থনা করলেও, বিকল্প হিসেবে সোহেল রানার যাবজ্জীবন এবং স্বপ্নার সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা দাবি করেন।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে একটি স্পর্শকাতর মামলার পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়াকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। রায় ঘোষণার আগের দিন গতকাল শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা আকুতি জানিয়ে বলেন, তিনি কেবল তার কন্যাসন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারই চান না, বরং এমন একটি কঠোর বিচারব্যবস্থা দেখতে চান যা ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মমতার শিকার হতে দেবে না।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩২

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৭:০৯:৫৮
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩২
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হাম এবং এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৩২জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আজ শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত তিন শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকার এবং একজন সিলেট অঞ্চলের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের উপসর্গে ৫২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ জন শিশু। সব মিলিয়ে গত আড়াই মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৭৭ হাজার ৭৯১ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শারীরিক জটিলতা বেশি থাকায় ৬৩,১৩৪ জন শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৫৮,৯৬৪ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

এ ছাড়া সরকারি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৯,৬২০ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে শিশুদের সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

/আশিক


বিদ্যুতের দাম বাড়লেও রেহাই পাচ্ছেন ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: ডা. জাহেদ উর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১১:৫৭:৪৮
বিদ্যুতের দাম বাড়লেও রেহাই পাচ্ছেন ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: ডা. জাহেদ উর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির গ্যাঁড়াকল থেকে দেশের একটি বড় অংশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বড় ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট (লাইফলাইন গ্রাহক) পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো দাম কার্যকর হবে না। আজ শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিশেষ ছাড়ের কথা জানান।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রান্তিক নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরা সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ থেকে রক্ষা পাবেন। তিনি আরও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম সামগ্রিকভাবে বাড়ানো হলেও সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না, বরং তাদের জন্য আগের পুরনো রেটই বহাল থাকবে।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বিগত রাজনৈতিক আমলের কড়া সমালোচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, বিগত সরকারের আমলের লাগামহীন দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ নানা আর্থিক অপরাধের বিশাল খেসারত ও বোঝা বর্তমান সরকারকে কাঁধে নিয়ে চলতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, "সরকার বর্তমানে কেবল দুর্নীতির এই দুষ্টচক্র থেকে দেশকে বের করে আনতেই লড়ছে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছে।" তিনি আরও যোগ করেন, আগের সরকারগুলো সবসময় নিজেদের আখের গোছাতে আমদানি-নির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যদি তারা সময়মতো দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করত, তবে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেশের মানুষকে এই তীব্র সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

/আশিক


বিশ্বমঞ্চে বীরের সম্মান: ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে দাগ হ্যামারশোল্ড পদক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১০:২০:৪৭
বিশ্বমঞ্চে বীরের সম্মান: ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে দাগ হ্যামারশোল্ড পদক
ছবি : সংগৃহীত

সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (UNISFA) দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’-এ ভূষিত করেছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত এই বীরদের পদক জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত দায়িত্বনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর এই মরণোত্তর পদক দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের এই ছয় বীর সন্তান হলেন—করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানে জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন হামলায় তাঁরা নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিশ্বশান্তি রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সাথে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

চলতি বছর বাংলাদেশের ছয়জনসহ বিশ্বের মোট ৩৩টি সদস্য দেশের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহতদের স্মরণে খোলা শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত এই পদকটি শান্তিরক্ষা মিশনের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত।

/আশিক


বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২১:৪৬:২৫
বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বড় অঙ্কের যৌথ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের কাছে এসব কারখানার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে শিগগিরই একটি মেগা ‘রোড শো’র আয়োজন করা হবে। এই রোড শো সফল করতে চলতি জুন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বর্তমানে বন্ধ থাকা এবং বছরের পর বছর লোকসানে চলা অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান বাস্তব অবস্থা, আইনি ও পরিকাঠামোগত সমস্যা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিশদ কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।

তিনি আরও জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় সচল করতে এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ না বাড়িয়ে এসব কারখানায় বেসরকারি খাত এবং দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান, বন্ধ কারখানা সচল এবং অলাভজনকগুলোকে লাভজনক মডেলে রূপান্তর করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২০:১৭:৩৫
তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার
ছবি : সংগৃহীত

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের সাধারণ গ্রাহকদের ওপর থেকে বাড়তি খরচের চাপ কমাতে অবশেষে আবাসিক খাতের এক অংশের বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর যৌথ আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই নতুন ও স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

বিইআরসি-র নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ২৬ পয়সা পুনর্বহাল বা অপরিবর্তিত নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত মূল্যহার চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে গত বুধবার ঘোষিত সরকারের নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল। এতে প্রান্তিক মানুষের ব্যবহৃত বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফলাইন সুবিধাভোগী গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ তথা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সমিতিগুলোতেই রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

তবে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম প্রত্যাহার করা হলেও অন্যান্য খাতে বুধবারের ঘোষিত বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি বহাল থাকছে। নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শতাংশের হিসাবে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ খুচরা বিদ্যুতের গড় দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা বা ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহক বাদে অন্য সব শ্রেণির বাণিজ্যিক ও উচ্চ ইউনিটের আবাসিক বিদ্যুতের দাম গত বুধবারের ঘোষণা অনুযায়ী কার্যকর থাকবে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:৪৪:০৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের আলোকপাত করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দূরদর্শিতার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর এই সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের এক ক্রান্তিকালে তিনি চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। সমসাময়িক ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বহিঃশক্তির আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে বাংলাদেশ যেন নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, দেশের মানুষ এখন ঠিক তেমনই একটি সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমাজের বিদ্যমান সব পক্ষকে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে চমৎকার সুসম্পর্ক গড়ে তুলে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন তিনিই।

মূল আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার আগে আমন্ত্রিত অতিথিরা পিআইবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক অবদানভিত্তিক ঐতিহাসিক সংবাদপত্র প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন। এই বিশেষ প্রদর্শনীতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ সংবলিত সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদন, বিরল আলোকচিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:৩৩:৩৪
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সচিবালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর ‘রেড টেলিফোন’ (লাল টেলিফোন) সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত চোর এবং চোরাই মাল কেনা ভাঙারি ব্যবসায়ীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ৮ কেজি ২০০ গ্রাম কপার ক্যাবল বা তামার তার। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসি এবং ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মূল অভিযুক্ত চোর রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং চোরাই তারের ক্রেতা তথা ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেছেন যে, গত ২২ মে গভীর রাতে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইন থেকে তিনি এই তার চুরি করেছিলেন।

পরবর্তীতে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত একটি ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এই মূল্যবান কপার ক্যাবল রেজাকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হলের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রেজাকুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সেই বিচ্ছিন্ন হওয়া লাল টেলিফোনের তার উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা আজ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। সংশ্লিষ্ট চোর রঞ্জন চন্দ্রের দেওয়া তথ্যে ভাঙারির দোকান থেকে ৮ কেজি তার উদ্ধারসহ দোকানের মালিক রেজাকুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, গত ১ জুন সচিবালয়ের কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান যে, পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো বিকল হয়ে আছে।

ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থানে কপার ক্যাবলগুলো কাটা এবং কিছু জায়গায় সম্পূর্ণ গায়েব ছিল। এই চুরির ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়, বরং সরকারের অতি সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘রেড টেলিফোন’ সংযোগগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যা রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: