ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৫৪:৩০
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
সোমবার ইসরায়েলের ইয়েহুদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং দু’জন আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১৯১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেককে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাকি আহতদের অনেকেই বিস্ফোরণের আঘাত, ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া কিংবা আতঙ্কে আহত হয়েছেন।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের শহর ইহুদ এলাকায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন বলে জানা গেছে। হামলার ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।

গত প্রায় দশ দিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমান হামলা এবং সামরিক পাল্টা অভিযানের কারণে উভয় পক্ষেই উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়ছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র:আল-জাজিরা


"মিত্রদের" জন্য হরমুজে ফি মওকুফ, মধ্যপ্রাচ্যে আরো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: কী বার্তা দিচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৪ ১৬:৫২:৩৬
"মিত্রদের" জন্য হরমুজে ফি মওকুফ, মধ্যপ্রাচ্যে আরো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: কী বার্তা দিচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবারও এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা একই সুতোয় গাঁথা হয়ে পড়েছে। একদিকে ইরান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি পদক্ষেপ শুধু আলাদা কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নতুন কৌশলগত শক্তিপরীক্ষার বহিঃপ্রকাশ।

সম্প্রতি মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে “বন্ধুপ্রতিম” রাষ্ট্রগুলোর জন্য ট্রানজিট ফি মওকুফ করা হয়েছে। বিশেষভাবে রাশিয়া-এর নাম উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তেহরান এখন কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশল দিয়েও তার মিত্রজোটকে শক্তিশালী করতে চাইছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের প্রথম ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাবু নিশ্চিত করেন যে, ইরান প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফি আদায় শুরু করেছে এবং সেই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানের “সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা” হিসেবে দেখছেন। কারণ হরমুজ প্রণালি শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়; এটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই রুটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কিংবা অর্থনৈতিক শর্ত আরোপের সক্ষমতা দেখিয়ে ইরান আসলে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

তবে এই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তার পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দ্রুত দৃশ্যমান হয়েছে। US Central Command নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS George H.W. Bush ভারত মহাসাগর পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনটিতে। এর আগে USS Gerald R. Ford লোহিত সাগরে এবং USS Abraham Lincoln আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থান করছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম নৌ সামরিক সমাবেশ। সেন্টকম এই অবস্থানকে “মাল্টি-ক্যারিয়ার স্ট্রাইক পোস্টার” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার অর্থ যেকোনো সামরিক পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সমন্বিত হামলা চালানোর প্রস্তুতি। বাস্তবে এটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নয়; বরং ইরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে, হরমুজ প্রণালি বা আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে কোনো ধরনের একক নিয়ন্ত্রণ বা অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ওয়াশিংটন সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।

এখনকার পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের কৌশলগত বার্তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরান বলতে চাইছে, “আমরা এই সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করি এবং আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।” বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, “বিশ্ব বাণিজ্য ও আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সামরিক শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত।” অর্থাৎ, একপক্ষ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ভাষা ব্যবহার করছে, অন্যপক্ষ সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে চাইছে।

এই উত্তেজনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সরাসরি এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে চাপে ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি নতুন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামান্য ভুল হিসাব, ভুল সংকেত কিংবা সীমিত সামরিক উসকানিও বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অর্থনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন মূলত একই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে: মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে কে—সমুদ্রপথের ভৌগোলিক মালিক, নাকি বৈশ্বিক সামরিক শক্তির অধিপতি?


হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৪ ১১:৫৫:৫১
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে পেন্টাগন একাধিক হামলার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বর্তমানে এমন কয়েকটি পরিকল্পনা মূল্যায়ন করছে, যার আওতায় হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই খবর সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো তৈরি করতে ইরানের আরও সময় প্রয়োজন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য হতে পারে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান এবং মাইন পাতা সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এই সামরিক সম্পদগুলোই ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট ও মূল্য অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কেউ মাইন পাতার চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের “গুলি করে হত্যা করবে”। এই মন্তব্যকে অনেকেই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইআরজিসির দ্রুতগতির হামলাকারী নৌকাগুলো এখনো বড় ধরনের মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাধারণত এসব নৌযানে ভারী মেশিনগান স্থাপন করা থাকে এবং এগুলো দ্রুতগতিতে হামলা বা মাইন স্থাপনে ব্যবহার করা যায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না যে ইরান বাস্তবে হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে কি না। তা সত্ত্বেও পেন্টাগন সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা আরও একটি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। সেই পরিকল্পনায় এমন ইরানি সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা রয়েছে, যাদেরকে ওয়াশিংটন স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বাধা হিসেবে মনে করছে।

একইসঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ, উৎক্ষেপণ ঘাঁটি এবং অবশিষ্ট সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং দেশটি কার্যকরভাবে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সাড়া দিতে পারছে না।

ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান নিজেরাই বুঝতে পারছে না তাদের নেতা কে। তারা সত্যিই জানে না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং তথাকথিত মধ্যপন্থীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে।

সূত্র- সিএনএন


ইরান যুদ্ধে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৪ ১০:৪৪:০৬
ইরান যুদ্ধে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এখন এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ডে থাকা অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি অংশ সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে অন্যান্য কৌশলগত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নির্ভুল হামলা পরিচালনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক মোট ব্যয় প্রকাশ না করলেও দুটি স্বতন্ত্র গবেষণা সংস্থা হিসাব দিয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। সেই হিসাবে সংঘাতের মোট ব্যয় ইতোমধ্যে ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের ব্যয় শুধু সামরিক বাজেটেই চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উত্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত একসঙ্গে সামাল দিতে গিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এই অস্ত্রগুলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


যুদ্ধ কি অনিবার্য? মাইন স্থাপনকারী জাহাজের ওপর সরাসরি হামলার ডাক ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৯:৫৫:২৮
যুদ্ধ কি অনিবার্য? মাইন স্থাপনকারী জাহাজের ওপর সরাসরি হামলার ডাক ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি ‘গুলি করে ধ্বংস করার’ চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান বা অন্য যেকোনো দেশের জাহাজ যদি মাইন স্থাপন করতে আসে, তবে সেই জাহাজকে তাৎক্ষণিকভাবে ডুবিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প এই মারমুখী ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন যেন হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাততে আসা যেকোনো জাহাজ—তা আকারে যতই ছোট হোক না কেন—দেখামাত্রই গুলি করে ধ্বংস করা হয়। এই নির্দেশ কার্যকর করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে কোনো ধরনের দ্বিধা বা কালক্ষেপণ করতে হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও বাড়িয়ে দিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘শুটিং অর্ডার’ বা গুলি করার নির্দেশ আন্তর্জাতিক নৌ-রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করবে। এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। সেই পরিস্থিতির মাঝেই ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট: ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ আখ্যা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৭:৫১:৫৫
ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট: ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ আখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর বিতর্কিত অভিবাসন নীতি এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ট্রাম্প নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, যেখানে ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

‘স্যাভেজ নেশন’ নামক ওই পডকাস্টে মাইকেল স্যাভেজ দাবি করেন, ভারত ও চীন থেকে আসা গর্ভবতী নারীরা কেবল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুদের মাধ্যমে তারা তাদের পুরো পরিবারকে ‘ভারত ও চীনের মতো জাহান্নাম’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন।

স্যাভেজ আরও দাবি করেন যে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাই-টেক কোম্পানিগুলোতে ভারতীয় ও চীনাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের চাকরির সুযোগ ‘শূন্য’ হয়ে পড়েছে। তিনি এই অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলে আখ্যা দেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবিধানকে ‘পুরোনো’ বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প এই পডকাস্টটি শেয়ার করার একদিন আগেই সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তাঁর এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবে বিশ্বের প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশে (যেমন: কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা) জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। ট্রাম্পের এমন ভুল তথ্য এবং উস্কানিমূলক পোস্ট ভারত ও চীনের মতো মিত্র এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টরপন্থী ভোটারদের নিজের দিকে টানতেই ট্রাম্প পুনরায় কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। তবে সরাসরি ভারত ও চীনের নাগরিকদের আক্রমণ করে এমন পোস্ট শেয়ার করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা বইছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র- এনডিটিভি


জ্বালানি নয়, এবার লক্ষ্যবস্তু ইন্টারনেট কেবল! ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১২:০৮:৪২
জ্বালানি নয়, এবার লক্ষ্যবস্তু ইন্টারনেট কেবল! ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল এবং ক্লাউড অবকাঠামো এখন ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সম্প্রতি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সরাসরি একটি ‘গোপন হুমকি’ হিসেবে দেখছেন। বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের হাতে এখন এই অঞ্চলের ডিজিটাল লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কেবল জ্বালানি বা তেল পরিবহনের পথ নয়, এটি বৈশ্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগের অন্যতম প্রধান করিডর। এই জলপথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রধান ইন্টারনেট সংযোগগুলো পরিচালিত হয়। তাসনিম নিউজের দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য পুরোপুরি সমুদ্রের তলদেশের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মানচিত্র প্রকাশ করার মূল উদ্দেশ্য হলো আরব দেশগুলো ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের একটি কৌশলগত বার্তা দেওয়া। এতে সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে স্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনের ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর কোনো হামলা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মুহূর্তেই পঙ্গু করে দিতে পারে।

ইতোমধ্যেই ডিজিটাল পরিকাঠামোর ওপর হামলার কিছু খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত আমাজন ওয়েব সার্ভিসের (AWS) স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনা বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামরিক শক্তি বা সমুদ্রপথের পাশাপাশি এখন ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ এই সংঘাতের নতুন ও ভয়ংকর হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

/আশিক


বড় সংঘাতের দোরগোড়ায় বিশ্ব? ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:৫৭:৪৭
বড় সংঘাতের দোরগোড়ায় বিশ্ব? ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাময়িক শান্তির বাতাস কি তবে ফুরিয়ে আসছে? ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’ (KAN)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে এই সময়সীমার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

ইস্তাম্বুল থেকে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনো অনির্দিষ্টকালের আলোচনায় রাজি নন। তিনি দ্রুত একটি চূড়ান্ত বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চান। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী রোববারের মধ্যে বড় ধরনের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

বর্তমান এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যেই তীব্র ‘বিভ্রান্তি’ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ট্রাম্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁরা আগে থেকে কিছু জানতে পারছেন না; বরং গণমাধ্যম বা ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখেই তাঁদের তথ্য নিতে হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে শর্ত ছিল তেহরানকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ পেশ করতে হবে। বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, এই বিরতি ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। এখন ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মেজাজ ও সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপ চললেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চললেও আস্থার সংকট প্রকট।

বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের মধ্যে যদি ইরান ট্রাম্পের মনমতো কোনো প্রস্তাব না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বা বিমান হামলা শুরু হয়ে যেতে পারে। এখন পুরো বিশ্বের নজর রোববারের সেই অন্তিম সময়সীমার দিকে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


রেকর্ড নেই কোথায় আছে মাইন! ইরানের চালে চরম সংকটে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:৪৭:৫৫
রেকর্ড নেই কোথায় আছে মাইন! ইরানের চালে চরম সংকটে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। মার্কিন বার্তাসংস্থা 'এপি'-র বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক গোপন বৈঠকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এই আশঙ্কার কথা জানান। বৈঠকে আইনপ্রণেতারা ইরান যুদ্ধের ব্যয়, রণকৌশল এবং লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুর দিকে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, যদিও এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে এক ডজনেরও বেশি মাইন ছড়ানো আছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আইআরজিসি এসব মাইন ঠিক কোথায় কোথায় পেতেছে, তার কোনো সঠিক রেকর্ড রাখেনি। ফলে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও এখন মাইন শনাক্ত ও অপসারণ করা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘ সময় প্রণালিটি কার্যত অচল থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেল সরবরাহে চরম অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

/আশিক


ভারত মহাসাগরে মার্কিন হানা! তেলসহ ইরানের ৩টি জাহাজ জব্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:২৬:৪৯
ভারত মহাসাগরে মার্কিন হানা! তেলসহ ইরানের ৩টি জাহাজ জব্দ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে ভারত মহাসাগরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পতাকাবাহী তিনটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে।

জব্দকৃত ৩টি জাহাজের বিস্তারিত

১. ডিপ সি (Deep Sea): এটি ইরানের একটি সুপারট্যাংকার। জব্দ করার সময় এটি আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। গত সপ্তাহে এটিকে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

২. সেভিন (Sevin): এই জাহাজটির ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল হলেও জব্দের সময় এতে ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল ছিল। এক মাস আগে এটিকে মালয়েশিয়ার জলসীমায় দেখা গেছে।

৩. দোরেনা (Dorena): এটি একটি বিশাল সুপারট্যাংকার যা ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে সম্পূর্ণ লোডেড অবস্থায় ছিল। তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় এটিকে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজের পাহাড়ায় জব্দ করা হয়।

অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরে অবরোধ জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেন্টকোম-এর বিবৃতি অনুযায়ী, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে জোরপূর্বক বন্দরে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

বর্তমানে জব্দকৃত 'দোরেনা' জাহাজটি ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় রয়েছে। অন্যদিকে, এর পাল্টা জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: