গোয়ায় রানার্সআপ বাংলাদেশ: দীর্ঘ ৬ বছর পর আবারও সাফের মুকুট ভারতের ঘরে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২১:৪১:১৭
গোয়ায় রানার্সআপ বাংলাদেশ: দীর্ঘ ৬ বছর পর আবারও সাফের মুকুট ভারতের ঘরে
ছবি : সংগৃহীত

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে ট্রফির হ্যাটট্রিক করার যে স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ, তা শেষ পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেল। গোয়ার মাটিতে স্বাগতিক ভারতের অদম্য ফুটবলের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের।

আজ শনিবার (৬ জুন) গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের এই মহা-ফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ঋতুপর্ণা চাকমার দুর্দান্ত গোলে বাংলাদেশ সমতায় ফিরলেও, বিরতির পর রক্ষণভাগের ভুলে আরও দুই গোল হজম করে শিরোপা হাতছাড়া করে লাল-সবুজের মেয়েরা। এই হারের ফলে ২০১৬ সালের সাফের ফাইনালের পর আবারও ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের কাছেই শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের, ওদিকে দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল ভারত।

ঐতিহাসিক এই ফাইনালে মাঠে নামার আগে শুরুতেই বড় চমক দেখান কোচ পিটার বাটলার। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে ইনফর্ম সুরভী আকন্দ প্রীতি ও উমহেলা মারমাকে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে নিয়ে শুরুর একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। ম্যাচের ১২ মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, তবে ঋতুপর্ণা চাকমার চমৎকার ক্রস থেকে বক্সে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তহুরা খাতুন। এর ঠিক দুই মিনিট পর আবারও গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পান তহুরা, তবে বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে তহুরার আরও একটি শট অল্পের জন্য গোলপোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। উল্টো এর পরের মিনিটেই (৪২ মিনিটে) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে স্বাগতিক ভারতকে এগিয়ে নেন তারকা স্ট্রাইকার পেয়ারিজাদা। বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের এক জোরালো শটে বল জালে জড়ান ভারতের এই ১০ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার।

তবে বিরতির ঠিক আগে এবং ম্যাচের শেষভাগে ভারতের রক্ষণভাগের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ঋতুপর্ণা চাকমার এক জাদুকরী শটে গোল করে ১-১ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলে মারিয়া মান্ডারা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠের দর্শকদের করতালিতে উজ্জীবিত ভারত একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে প্রতিপক্ষের উইঙ্গার মালাভিকাকে ডি-বক্সে আটকাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার। মালাভিকার বাড়ানো পাস থেকে বক্সের মাথায় বল পেয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের লিন্দা কম। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে ভারত। আর গ্রুপ পর্বের পর ফাইনালেও ভারতের গতি ও কৌশলের কাছে হেরে ট্রফি অক্ষুণ্ন রাখার মিশন ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের।

/আশিক


একবার চার্জে ৬ ঘণ্টা চলবে বিশ্বকাপের বল, থাকছে হাইবারনেশন মোড

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২০:২০:২০
একবার চার্জে ৬ ঘণ্টা চলবে বিশ্বকাপের বল, থাকছে হাইবারনেশন মোড
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে কেবল দলসংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই নয়, বরং নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণেও ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ এবং যুগান্তকারী স্থান করে নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই বৈশ্বিক আসর।

এবারের বিশ্বকাপের জন্য বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা’ হবে সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত একটি উচ্চপ্রযুক্তির স্মার্ট বল। ম্যাচ পরিচালনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও দ্রুততর করতে এই বলটি রেফারিদের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। বলটির ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্ত করা হয়েছে ৫০০ হার্টজ (Hz) গতির একটি অত্যন্ত উন্নত মোশন সেন্সর। এই শক্তিশালী সেন্সরটি মাঠে বলের প্রতিটি স্পর্শ, নিখুঁত গতিপথ এবং সামান্যতম নড়াচড়াও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার শনাক্ত করে সরাসরি ভিএআর সিস্টেমে ডেটা পাঠাবে। এর ফলে অফসাইড, গোললাইন প্রযুক্তি এবং পেনাল্টি বা হ্যান্ডবলের মতো চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো রেফারিরা মুহূর্তের মধ্যে কোনো ভুল ছাড়াই নিতে পারবেন।

অ্যাডিডাস তাদের এই বলের ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বলের ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে প্রতিটি ম্যাচের আগে একটি বিশেষ চার্জিং স্টেশনে বলগুলোকে চার্জ করা হবে। একবার পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন হলে বলটি টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা সক্রিয়ভাবে মাঠে ডেটা পাঠাতে পারবে। ম্যাচের বাইরে বা বলটি মাঠের বাইরে চলে গেলে এর সেন্সরটি ব্যাটারি বাঁচাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হাইবারনেশন মোডে’ (নিষ্ক্রিয় অবস্থা) চলে যায়, যার ফলে এর ব্যাটারির কার্যকারিতা কয়েক দিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা’ বলটির বাহ্যিক নকশাতেও তিন আয়োজক দেশের সংস্কৃতির চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে তৈরি আকর্ষণীয় এই বলটিতে কানাডার ঐতিহ্যবাহী ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর জাতীয় প্রতীক ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা চিহ্নের প্রতীকী ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে। মূলত তিন দেশের এই মেলবন্ধন ও ‘তিন তরঙ্গ’ বা ‘থ্রি ওয়েভস’ ধারণা থেকেই বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’।

বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মাঝে এই বলটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে অ্যাডিডাস এই বলটিকে মোট চারটি ভিন্ন সংস্করণে বাজারে ছাড়ছে—প্রো (Pro), কম্পিটিশন (Competition), লীগ (League) এবং ক্লাব (Club)। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘প্রো’ সংস্করণটিই বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা ব্যবহার করবেন, যাতে আসল সেন্সর প্রযুক্তি এবং ‘ফিফা কোয়ালিটি প্রো’ সার্টিফিকেশন রয়েছে।

বিশ্ববাজারে সংস্করণভেদে বলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ থেকে ১৭০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। যেখানে আসল প্রযুক্তি সংবলিত প্রো সংস্করণের মূল্য পড়বে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার এবং সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের খেলার জন্য তৈরি লীগ ও ক্লাব সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ২৫ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে।

/আশিক


সাফের মুকুট ধরে রাখার লড়াই: মেগা ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৮:০৮:৪৪
সাফের মুকুট ধরে রাখার লড়াই: মেগা ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আজ হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এই মেগা ফাইনাল আজ কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়; বরং দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবলীয় মর্যাদা, আঞ্চলিক আধিপত্য, পুরোনো প্রতিশোধ এবং নতুন ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত লড়াই।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে এক বিরল ও মহাকাব্যিক কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের শিরোপাজয়ী লাল-সবুজের মেয়েরা আজ জিততে পারলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন তথা ট্রফির হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করবে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে স্বাগতিক ভারতের একমাত্র লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

একসময় যে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কেবল অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখত, ধারাবাহিক উন্নতি আর ইস্পাতকঠিন আত্মবিশ্বাসের জোরে সেই মঞ্চেই আজ নিজেদের আঞ্চলিক পরাশক্তিতে রূপান্তর করেছে তারা। বাংলাদেশের এই উত্থানের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন ভারতের শিলিগুড়িতে প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে উঠেছিল দলটি। সেবার ভারতের কাছে হারলেও সাবিনা খাতুন ও সিরাত জাহানরা নিজেদের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ এবং ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ট্রফি জিতে ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী ভিত গড়ে তোলে বাংলাদেশের মেয়েরা, যার চূড়ান্ত ফল আসে ২০২২ সালে প্রথম সিনিয়র সাফ জয় এবং ২০২৪ সালে তার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে।

তবে ট্রফি ধরে রাখার এই মিশন মারিয়া মান্ডাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। কারণ চলতি আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই ভারতের কাছেই ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। অবশ্য সেই মানসিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়ে সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে লাল-সবুজের দল। অপরদিকে, ভারত সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে তাদের ফাইনাল টিকিট নিশ্চিত করে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের পর এই প্রথম সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সেবারের ফাইনালে ভারত ৩-১ গোলে জিতলেও গত কয়েক বছরে ভারতকে একাধিকবার হারিয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই ফাইনালটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার জন্যও। ২০১৬ সালের সেই রানার্সআপ দলের সদস্য মারিয়ার কাঁধেই এখন দলের নেতৃত্বের ভার। ফলে মাঝমাঠের এই মূল ভরসার সামনে আজ পুরোনো হারের প্রতিশোধ নেওয়ার যেমন সুযোগ, তেমনি রয়েছে অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। এখন দেখার বিষয়, ভারতের দুর্গ ভেঙে বাংলাদেশ কি পারবে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের মুকুট নিজেদের করে নিতে, নাকি স্বাগতিকদের গর্জনেই ট্রফি থেকে যাবে ভারতের ঘরে।

/আশিক


৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১২:৩০:১৮
৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে
ছবি : সংগৃহীত

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা এবার ২০২৬ আসরেও নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে মাঠে নামছে। তবে ফুটবলের মহাযজ্ঞে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয় করা কতটা কঠিন, তা ইতিহাসই বলে দেয়। আজ থেকে দীর্ঘ ৬৪ বছর আগে ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে শেষবারের মতো এই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল।

এবার ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে থাকা আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার পথ এবং শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা কেমন, তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করেছে বিখ্যাত ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘অপটা’। তাদের সুপারকম্পিউটারের ১০ হাজার সিমুলেশন বা গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এবার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা অন্তত ১৮ শতাংশ।

এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজ তিন দল—আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। এই গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বে তথা শেষ ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা আকাশচুম্বী। অপটা সুপারকম্পিউটার বলছে, ৯৬.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের বাধা পার করবে। পুরো টুর্নামেন্টে কেবল স্পেনের গ্রুপ পার করার সম্ভাবনা (৯৮.৬%) আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি।

গ্রুপ পর্ব পার হতে পারলে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৩ জুলাই মিয়ামি গার্ডেন্সে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ল্যাটিন পরাশক্তি উরুগুয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ৯ ম্যাচের ৮টিতেই উরুগুয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো গোল করতে পারেনি, যার মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে তারা। ফলে এই বাধা টপকে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে ৬৩.২ শতাংশ এগিয়ে রাখছে অপটা।

উরুগুয়ে বধের পর শেষ ১৬-তে আলবিসেলেস্তেদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে তুরস্ক। দুই দলের পূর্বে মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইতিহাস না থাকলেও শক্তির বিচারে এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনা পার করে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যার সম্ভাবনা ৪৫.৭ শতাংশ। তবে আসল রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

এটি হলে ফুটবল বিশ্ব প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মহাকাব্যিক ‘মেসি বনাম রোনালদো’ দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পাবে। এর আগে ২০১১ সালের এক প্রীতি ম্যাচে রোনালদো গোল করলেও ৮৯ মিনিটে মেসির পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৩০.৬ শতাংশ।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসেবে ১৬.৫ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্প্যানিশরাই এবার ট্রফি জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে; এর আগে আর্জেন্টিনা যে পাঁচটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে, তার প্রতিটিতেই জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

এবারও স্পেনের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ১৮.৩ শতাংশ। আর সব বাধা পেরিয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারে এমবাপের ফ্রান্স।

এটি হলে ফুটবল বিশ্ব ২০২২ কাতার ফাইনালের রোমাঞ্চকর পুনরাবৃত্তি দেখবে। অপটা ট্রফি জয়ের দৌড়ে ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রাখলেও (১২.৮%) আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাও ১০.৪ শতাংশ। যদি এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জেতে, তবে লিওনেল মেসি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি টানা দুইবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনন্য কীর্তি গড়বেন।

/আশিক


শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১২:২০:৫৩
শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) এক মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ’-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্র আবহের মাঝেই ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বর্তমানে তুরস্কের আনতালিয়ায় একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্পে অবস্থান করছে ইরান ফুটবল দল। সেখান থেকেই আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুটবলারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, ফিটনেস ট্রেইনার এবং কয়েকজন প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীর ভিসাও অনুমোদিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে কারও আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দূতাবাস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই দলটি যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হতে পারবে বলে জানা গেছে।

ভিসা অনুমোদনের পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই প্রতিনিধিদলের ওপর বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ইসলামিক রেভলশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তিকে এই বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “খেলোয়াড় বা প্রকৃত ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলাধুলার বাইরে আইআরজিসির ছদ্মবেশী কাউকে মার্কিন ভূখণ্ডে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসেও আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের কানাডার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করায় এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। চলতি বছরের শুরুতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ফিফা শুরু থেকেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিল। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরান তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়েটলে মিশরের মুখোমুখি হবে দলটি।

/আশিক


ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২০:৩৪:০৫
ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এবার অত্যন্ত গৌরবময়ভাবে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের জমকালো ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের জন্য এলো আরও একটি দুর্দান্ত সুখবর। আসন্ন বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মিউজিক অ্যালবামে (সাউন্ডট্র্যাক) এবার জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সঞ্জয়।

অবিস্মরণীয় এই অর্জনের পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদের সাথে অনুভূতি শেয়ার করেছেন শিল্পী সঞ্জয়। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “অনেক দিন ধরে আমি ঠিক এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে বড় হতে হতে দিনের পর দিন পার করেছি কেবল নতুন গান তৈরিতে। সবসময় মনে মনে স্বপ্ন দেখতাম, এমন কিছু গান বানানোর যা একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ও বিশ্বখ্যাত সাউন্ডট্র্যাকে জায়গা করে নেবে।”

নিজের এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে অত্যন্ত গর্বের সাথে উৎসর্গ করে সঞ্জয় আরও বলেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, আমি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামের একজন তালিকাভুক্ত অফিশিয়াল শিল্পী। আমাদের নিখুঁতভাবে তৈরি করা একটি গান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবের অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাক হতে যাচ্ছে, এটা ভাবতেই অন্যরকম এক অনুভূতি হচ্ছে। এটি আমার সংগীত ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।” নিজের এই বৈশ্বিক জয়কে কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে তিনি লেখেন, “এটি কেবল আমার একার জয় নয়। এটি চার দেয়ালের বদ্ধ ঘরে বসে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখার সাহস বুনে চলা সেই সমস্ত সাধারণ শিশুর জয়।”

ফিফা বিশ্বকাপের এই বিশেষ অফিশিয়াল অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সঞ্জয়ের গানটির শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘সির সির’। বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো এই বিশেষ গানটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ডিজে-র সঙ্গে যৌথভাবে পারফর্ম করছেন বলিউডের তুমুল জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি এবং প্রখ্যাত ফরাসি সংগীতশিল্পী ভেজেড্রিম। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি উন্মোচনের পর এই গানটি ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:৪৯:০৫
আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তিনবারের রানার্সআপ পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বড়সড় চমক দেখিয়েছে আফ্রো-আরব দেশ আলজেরিয়া। ডাচদের ঘরের মাঠ রটারডামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন হার নিশ্চিতভাবেই ডাচ শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ এবারের আসরে তাদের অন্যতম ফেভারিট মনে করা হচ্ছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে। তবে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ প্রথমার্ধ থেকেই ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। ডাচদের সব আক্রমণ প্রতিহত করে সময় বাড়ার সাথে সাথে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে আলজেরিয়া। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় শেষ মুহূর্তে, ৮৬তম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আনিস হজ মুসা ডি-বক্সের ভেতরে কাট-ইন করে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে জড়ান। ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করা এই চোখধাঁধানো গোলটিই শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়াকে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেয়।

এই জয়টি বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জে'-তে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্যও একটি আগাম সতর্কবার্তা। একই গ্রুপে আলজেরিয়ার পাশাপাশি রয়েছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ডাচদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার এমন লড়াকু পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরও চড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে।

/আশিক


মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:৩৫:১৫
মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে জোর কদমে নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার (৩ জুন) সেলেসাওদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক অনুশীলন সেশন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ এই অনুশীলন পর্বটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্যালারিতে উপস্থিত থাকা প্রায় ২০০ দর্শক, যাদের মধ্যে প্রবাসী ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় মার্কিন ফুটবলপ্রেমীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর সঙ্গে স্বাগতিক দেশের স্থানীয় জনগণের সংযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই মূলত এই উন্মুক্ত বা ওপেন প্র্যাকটিস সেশনের আয়োজন করা হয়। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ফিফার সেই মহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সাধারণ দর্শকদের জন্য এই অনুশীলনের দরজা উন্মুক্ত রেখেছিল।

এদিকে, আসন্ন মিশরের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচটিকে সামনে রেখে সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের মূল একাদশে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচের ব্যস্ততার কারণে যারা আগের ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারেননি, সেই দুই তারকা ডিফেন্ডার মার্কুইনহস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহেসকে আবারও দলের শুরুর একাদশে (স্টার্টিং ইলেভেন) দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি লেফট-ব্যাক পজিশনেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে; যেখানে অভিজ্ঞ অ্যালেক্স সান্দ্রোর পরিবর্তে ডগলাস সান্তোসকে পরখ করে দেখতে পারেন কোচ আনচেলত্তি।

ডিফেন্স লাইনের পাশাপাশি ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। সদ্য সমাপ্ত পানামার বিপক্ষের ম্যাচে দুর্দান্ত ও কার্যকরী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করার সুবাদে লুকাস পাকেতা এবং ইগর থিয়াগো এখন মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। এই দুই তারকাকে যদি শুরুর একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে দলের সাইডবেঞ্চে গিয়ে বসতে হতে পারে ম্যাথিউস কুনহা এবং লুইস হেনরিককে।

অবশ্য খেলোয়াড় পরিবর্তনের এই সমীকরণ সামনে এলেও দলের মূল ফরমেশন ও কৌশলগত দিক থেকে বড় কোনো রদবদল করছেন না ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড কোচ। কার্লো আনচেলত্তি তাঁর আক্রমণাত্মক ৪-২-৪ ফরমেশনেই পূর্ণ আস্থা রাখছেন। এই নির্দিষ্ট ছকে ডান প্রান্তে খেলতে যাওয়া পাকেতা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝমাঠে ঢুকে খেলার বাড়তি স্বাধীনতা পাবেন, যার ফলে রাইট-উইং বা ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপ করে আক্রমণে আরও বেশি ধার বাড়াতে পারবেন ডিফেন্ডার ওয়েসলে। বিশ্বকাপের মূল আসরে মাঠে নামার আগে সেলেসাও শিবিরের এই নিবিড় প্রস্তুতি এবং রণকৌশলের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকদের মাঝে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোচনা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২১:৫৫:৫০
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট ম্যাচগুলো বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার সঙ্গে বর্তমান সরকারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন) এবারের বিশ্বকাপের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করার দায়িত্ব পাবে। এর ফলে বৈশ্বিক ফুটবলের এই মেগা আসর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা নিয়ে দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মনে যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশেই দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নির্ভরযোগ্য দুটি পৃথক সূত্র গণমাধ্যমকে এই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর নিশ্চিত করেছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম প্রকাশ করে গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই বিশেষ উদ্যোগের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, জনগণের করের টাকা বা রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোনো অর্থ (পাবলিক মানি) ব্যয় না করে দেশের সাধারণ দর্শকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ করে দিতে সব পক্ষের সাথে নিবিড় আলোচনা চালানো হচ্ছে এবং এই আলোচনার ফলাফল এখন পর্যন্ত বেশ সন্তোষজনক।

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সম্প্রচারস্বত্ব কোনো ধরনের বড় আর্থিক লেনদেন ছাড়া বা বিনামূল্যে পাওয়ার কৌশলগত লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কয়েক দফা ফলপ্রসূ বৈঠক ও যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষ এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শীর্ষ কর্তারা সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনার বর্তমান যে ইতিবাচক মোড়, তাতে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবার অত্যন্ত সহজ উপায়েই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন। ফিফার সবুজ সংকেত ও আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রচারস্বত্ব নিজেদের নামে গ্রহণ করবে।

রাষ্ট্রীয় এই চ্যানেলটি স্বত্ব পাওয়ার পর দেশের যেসব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিশ্বকাপ সরাসরি দেখাতে আগ্রহী হবে, তারা নিয়ম মেনে বিটিভি থেকে ফিড বা ডাউনলিংক স্বত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই ফুটবল সম্প্রচার সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে আসতে পারে।

/আশিক


নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৯:৫০:২০
নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার শেষ মুহূর্তের জাদুকরি গোলে নেপালকে পরাস্ত করে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে নেপালি মেয়েদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। এর আগের দুটি আসরেও এই নেপালকে পরাজিত করেই শিরোপা ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা, যার ফলে এবার দলটির সামনে রয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের এক অনন্য সুবর্ণ সুযোগ।

ম্যাচের দ্বিতীয়রীতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি ফুটবলার শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় জয়সূচক গোলটি পায় বাংলাদেশ। মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলমুখে নিখুঁত পাস বাড়ান শামসুন্নাহার, যেখানে নেপালের একজন ডিফেন্ডার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে সাগরিকো কোনো ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে দেন।

এই গোলের সুবাদে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের বাকি সময়টুকু এই লিড ধরে রেখে ফাইনালে যাওয়ার আনন্দ উল্লাসে মাতে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। এর আগে ম্যাচের ২৩ মিনিটেই গোল হজম করে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে দেশের অন্যতম সেরা তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ কর্নার কিক থেকে সমতায় ফেরে দল। ডানপ্রান্ত থেকে নেওয়া ঋতুপর্ণার সেই জোরালো শট নেপালি গোলরক্ষক হাত দিয়ে স্পর্শ করলেও বলের গতি থামাতে পারেননি, ফলে বল সরাসরি জালে জড়ায়।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে দিপা শাহীর কর্নার কিক বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে ফাঁকায় থাকা গিতা রানা সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠিয়ে নেপালকে প্রথম লিড এনে দিয়েছিলেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রীতি রানীর একটি শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ, যার ফলে ১-১ সমতা নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দলের আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ পিটার বাটলার ম্যাচের ৪০ মিনিটেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন; সুরভী আকন্দ প্রীতির বদলে শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে মাঠে নামান। ম্যাচের শেষভাগে আনিকাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় সাগরিকাকে, আর কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েই দলকে ফাইনালে তোলেন এই স্ট্রাইকার।

ম্যাচের দ্বিতীয়োর্ধেও বেশ কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে নেপালের রেখা পাউদেল শট নিলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। আবার ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সাগরিকার একটি নিশ্চিত গোলের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

ভুটানের রেফারি নির্ধারিত ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়কে টেনে প্রায় ১৩ মিনিট পর্যন্ত খেলা পরিচালনা করলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে খেলেছেন মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: