কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৫৬:৫৭
কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশ দিন ইসলামে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এই সময়কে বলা হয় নাজাতের দশক, অর্থাৎ জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভের বিশেষ সময়। এই দশক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমরা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন লাইলাতুল কদর বা পবিত্র শবে কদরের সন্ধানের জন্য, যা ইসলামে বছরের শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় রাত হিসেবে পরিচিত।

লাইলাতুল কদর কী

আরবি শব্দ “লাইলাতুল কদর” দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে “লাইলাতুল” অর্থ রাত এবং “কদর” অর্থ মর্যাদা, সম্মান বা মহাসম্মান। ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রাত অত্যন্ত সম্মানিত ও বরকতময় একটি রজনী, যখন মহান আল্লাহ মানবজাতির ভাগ্য, রিজিক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করেন।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাত শুধু একটি পবিত্র রাতই নয়; বরং এটি এমন একটি সময় যখন আসমান থেকে আল্লাহর বিশেষ রহমত, ক্ষমা এবং বরকত নাজিল হয়। এজন্য মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব

পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-কদরে ইরশাদ করেন:

“নিশ্চয়ই আমি এটি নাজিল করেছি কদরের রাতে। আর তুমি কীভাবে জানবে কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত।”

এই আয়াতের আলোকে ইসলামী পণ্ডিতরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াবের অধিকারী। অর্থাৎ প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব অর্জনের সুযোগ এই এক রাতেই পাওয়া যায়।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত

লাইলাতুল কদর ইসলামে অত্যন্ত মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত, যার গুরুত্ব পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। সূরা আল-কদরে উল্লেখ রয়েছে, লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত প্রায় ১০০০ মাস বা প্রায় ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব এনে দিতে পারে। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত আত্মিক উন্নতি, পাপমুক্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিরল সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।

এই পবিত্র রাতের আরেকটি বিশেষ মর্যাদা হলো এই রাতেই মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেন। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআনকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয় লাইলাতুল কদরের রাতে, যা মানবজাতির জন্য আল্লাহর হেদায়েতের এক অনন্য নিদর্শন। ফলে এই রাত শুধু ইবাদতের রাতই নয়, বরং ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ঘটনা বহন করে।

ইসলামী শিক্ষায় আরও বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদরের রাতে আন্তরিক ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে ইবাদত করলে মানুষের অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এ কারণে মুসলমানরা এই রাতকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবার বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে এই রাতে মানুষের আগামী এক বছরের জন্য রিজিক, আয়ু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহর নির্দেশে নির্ধারিত হয় বলে ইসলামী ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া লাইলাতুল কদরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এই রাতে হযরত জিবরাঈল (আ.)-সহ অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাদের আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি, রহমত ও বরকতের আবহ সৃষ্টি হয়, যা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এসব কারণেই লাইলাতুল কদর মুসলমানদের কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাত হিসেবে বিবেচিত।

কুরআন নাজিলের ঐতিহাসিক রাত

লাইলাতুল কদরের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এই রাতে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআনকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয় এবং পরে ধীরে ধীরে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল করা হয়।

এ কারণে এই রাতকে ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত

ইসলামী ব্যাখ্যায় বলা হয়, লাইলাতুল কদরের রাতে মানুষের আগামী এক বছরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে মানুষের রিজিক, জীবন-মৃত্যু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত হয়।

এই প্রসঙ্গে কুরআনের সূরা দুখানে বলা হয়েছে যে, বরকতময় এই রাতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয় আল্লাহর নির্দেশে।

কখন হয় লাইলাতুল কদর

কুরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে সংঘটিত হয়। তবে সহিহ হাদিসে এসেছে, রমজান মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে এই রাত অবস্থিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,“তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনে কদরের রাত তালাশ করো।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, “রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খুঁজে নাও।” (বুখারি)।

এ কারণে ইসলামী আলেমরা বলেন, ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতগুলোর মধ্যে লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনা বেশি। যদিও অধিকাংশ আলেমের মতে ২৭ রমজানের রাতে এই রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রাসুল (সা.)-এর আমল

হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগ দিতেন। তিনি নিজে ইতিকাফ করতেন এবং পরিবারকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।

এই সময় মুসলমানরা মসজিদে ইতিকাফ পালন করে বেশি বেশি ইবাদত করার চেষ্টা করেন, যাতে লাইলাতুল কদরের বরকত লাভ করা যায়।

লাইলাতুল কদরের রাতে করণীয়

ইসলামী শিক্ষায় এই রাতে বিশেষ কিছু আমলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

নফল নামাজ আদায় করা

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা

জিকির, তাসবিহ ও তাহলিল পাঠ করা

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা

নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে পড়ার জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।”

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর হলো ক্ষমা লাভের একটি বিশেষ সুযোগ। এই রাতে আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ মানুষের অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

খাঁটি তওবার কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

১. পূর্বের গুনাহ থেকে ফিরে আসা

২. ভুলের জন্য আন্তরিক অনুতাপ করা

৩. ভবিষ্যতে সেই পাপ আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা

৪. অন্যের অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া

কেন এই রাত এত গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামী দৃষ্টিতে লাইলাতুল কদর শুধু একটি রাত নয়; এটি একটি আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের সুযোগ। এই রাতে মানুষ তার অতীত ভুল থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে আল্লাহর পথে জীবন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

ইসলামী পণ্ডিতরা বলেন, এই রাতের প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে।

মুসলমানদের বিশ্বাস, বছরে মাত্র একবার আসা এই রাতের বরকত লাভ করতে হলে রমজানের শেষ দশকে আন্তরিকভাবে ইবাদত করা প্রয়োজন।

মহান আল্লাহ যেন সবাইকে লাইলাতুল কদরের বরকত লাভ করার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন। আমিন।


প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১১:২৩:২০
প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে এমন অনেক আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করতে সময় খুব বেশি লাগে না, কিন্তু সওয়াব ও ফজিলতের দিক থেকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ তাঁর উম্মতকে এমন কিছু দৈনন্দিন আমল শিখিয়েছেন, যেগুলো নিয়মিত পালন করলে আল্লাহর রহমত, নিরাপত্তা, ক্ষমা এবং আখিরাতে সফলতার আশা করা যায়। আলেমদের মতে, এসব আমল শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের অংশ নয়; বরং একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনকে আল্লাহর স্মরণে পরিচালিত করার একটি সুন্দর পদ্ধতি।

দিনের শুরুতে ফজরের সালাত আদায়কে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ৬৫৭)। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই হাদিসের অর্থ হলো, ফজরের সালাত একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর বিশেষ হেফাজত ও অনুগ্রহের কারণ হতে পারে। তাই সম্ভব হলে জামাআতে ফজরের নামাজ আদায় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা। একটি সহিহ হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।" (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নাসাঈ: ১০০; শাইখ আল-আলবানী রহ. হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)। অল্প সময়ের এই আমল একজন মুসলিমের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ বহন করে।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারকে ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম দোয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সহিহ বুখারির বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সকালে এই দোয়া পড়ে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, অথবা রাতে পড়ে সকালে মৃত্যুবরণ করে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)। তাই প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু..." দোয়াটি পাঠ করার কথাও হাদিসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, আল্লাহর ইচ্ছায় তাকে আকস্মিক বিপদ-আপদ ক্ষতি করতে পারবে না (সুনান আবু দাউদ: ৫০৮৮; সুনান তিরমিযী: ৩৩৮৮)। ইসলামী স্কলারদের মতে, এটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাঁর হেফাজত কামনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিকির।

ভ্রমণে বের হওয়ার সময় বা প্রিয়জনকে বিদায় দেওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলতেন, "আস্তাওদি'উল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতীমা আমালিকা" অর্থাৎ, "আমি তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার জীবনের শেষ আমলগুলো আল্লাহর জিম্মায় সোপর্দ করছি।" (সুনান আবু দাউদ: ২৬০০; সুনান তিরমিযী: ৩৪৪৩)। এই দোয়া শুধু ভ্রমণকারীর জন্য নয়, বরং নিজের ও পরিবারের জন্যও আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনার একটি সুন্দর মাধ্যম।


২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১২:০৯:৩৬
২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজ পালনের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি পৃথক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) নতুন প্যাকেজগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম খরচের ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’ গ্রহণ করতে হজযাত্রীদের ব্যয় হবে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই প্যাকেজেই হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন, মিনা-আরাফার সেবা এবং সৌদি আরবে অবস্থানকাল বিবেচনায় পৃথক সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সামর্থ্য অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পান আগ্রহীরা।

হজ প্যাকেজ-১: হারাম শরীফের কাছাকাছি আবাসনের সুবিধা

সরকারি প্যাকেজগুলোর মধ্যে তুলনামূলক উন্নত সুবিধাসম্পন্ন হজ প্যাকেজ-১-এ মক্কায় মসজিদুল হারামের বহিঃচত্বর থেকে ১,০০০ থেকে ১,৪০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মদিনায় হজযাত্রীরা মারকাজিয়া এলাকায় অবস্থানের সুযোগ পাবেন, যা মসজিদে নববীর নিকটবর্তী এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া মিনায় এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। মিনা ও আরাফার কার্যক্রমে ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং অনুমোদিত মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্যাকেজে সাধারণত সৌদি আরবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন অবস্থান করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড কিংবা স্বল্পমেয়াদি (শর্ট) প্যাকেজ নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

হজ প্যাকেজ-২: কম খরচে সরকারি হজের সুযোগ

অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী এই প্যাকেজে মক্কায় হোটেল থাকবে মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। মদিনায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে মারকাজিয়া এলাকার বাইরে, তবে মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে।

এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য মিনায় জোন-৫-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। মিনা ও আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার পরিবেশনের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সরকার জানিয়েছে, যদি কোনো হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হয়, তাহলে সৌদি আরবের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী হজযাত্রীদের জন্য সালাওয়াত বাস-এর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে যাতায়াতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।

প্যাকেজ নির্বাচন করবেন কীভাবে?

হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব হজযাত্রী হারাম শরীফের কাছাকাছি আবাসন, অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থান এবং উন্নত সেবা চান, তারা হজ প্যাকেজ-১ বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে ব্যয় কম রাখতে আগ্রহীরা হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) নির্বাচন করলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা নিশ্চিতভাবেই পাবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে হজ নিবন্ধন, কিস্তি পরিশোধ, ভিসা, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সূচি পৃথকভাবে প্রকাশ করা হবে।

-রাফসান


মঙ্গলবারের নামাজের সময়সূচি, ফজর থেকে এশা পর্যন্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ০৯:৪৮:৪৮
মঙ্গলবারের নামাজের সময়সূচি, ফজর থেকে এশা পর্যন্ত
ছবি : সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, আর হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় জোহরের নামাজ আদায়ের সময় দুপুর ১২টা ০৮ মিনিট। আসরের নামাজ বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে, মাগরিবের নামাজ সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে এবং এশার নামাজ রাত ৮টা ১৪ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

পরবর্তী দিনের অর্থাৎ বুধবার (২২ জুলাই)-এর ফজরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৩টা ৫৯ মিনিটে। এছাড়া আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই প্রতিদিনের সময়সূচি জেনে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া ধর্মীয় অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানীয় মসজিদের অনুসৃত সময় গণনা পদ্ধতি কিংবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্যালেন্ডারের কারণে সময়সূচিতে এক থেকে দুই মিনিটের সামান্য পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষিত সময়কেও অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১০:০৯:২৯
আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ ঢাকায় জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৯ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিট, মাগরিবের নামাজ সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট এবং এশার নামাজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে আদায় করা হবে।

পরবর্তী দিনের অর্থাৎ মঙ্গলবার (২১ জুলাই)-এর ফজরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৩টা ৫৬ মিনিটে। এছাড়া আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ২২ মিনিটে।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময় জেনে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থান, মসজিদের অনুসৃত হিসাবপদ্ধতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্যালেন্ডারের কারণে সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই নিজ এলাকার মসজিদের ঘোষিত সময়সূচিও অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

-রাফসান


আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:২৬:৩৭
আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন
ছবি : সংগৃহীত

মুসলিমদের দৈনন্দিন ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তাই প্রতিটি ওয়াক্তের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা প্রয়োজন। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা।

আজ ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৩০ মহররম ১৪৪৮ হিজরি। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নতুন দিনের ইবাদত ও দৈনন্দিন আমল যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে। এরপর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে।

আগামী দিনের সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৮ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই নামাজ আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণ, কর্মব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে বাইরে অবস্থানকারীদেরও সময় জেনে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময় কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:০৯:২৮
আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ২৯ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিদিনের ওয়াক্ত অনুযায়ী সময় জেনে ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া মুসল্লিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও সঠিক সময় সম্পর্কে ধারণা থাকলে নামাজ আদায় সহজ হয় এবং ধর্মীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে। দিনের শেষ ভাগে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে।

পরবর্তী দিনের প্রস্তুতির জন্যও সময় জানা জরুরি। বুধবার (১৫ জুলাই) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার নির্ভুল সময় জানতে স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা অথবা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।


৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২০:৩২:৩৭
৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ ও প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবারই সবচেয়ে বেশি লণ্ডভণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক সাধারণ মানুষ। আকস্মিক বন্যার পানির তীব্র তোড়ে যখন একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সারাজীবনের ঘরবাড়ি, শেষ সহায়-সম্বল ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিমিষেই ভেসে যায়, তখন তাদের জন্য একটি নিরাপদ স্থায়ী আশ্রয়ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ও মানবিক প্রয়োজন।

মাঠপর্যায়ের এমন চরম ও রূঢ় বাস্তবতায় উপদ্রুত বানভাসি মানুষের পাশে আবারও অনন্য মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’। বন্যাকবলিত এলাকায় তাৎক্ষণিক জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি এবার বন্যায় সম্পূর্ণ ঘরহারা ও গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নতুন পাকা ঘর নির্মাণের এক বিশাল ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলমান বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নেওয়া ৩০০টি চরম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুই কক্ষবিশিষ্ট আধুনিক ও মজবুত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন পাকা ঘর’ নির্মাণের এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। ঘর নির্মাণের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত লাখো মানুষের জন্য জরুরি শুকনো ও ভারী ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমও সমানতালে অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক পোস্টে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি ও নতুন এই পুনর্বাসন প্রজেক্টের বিস্তারিত তথ্য দেশবাসীকে জানান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেই পোস্টে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বন্যাপরবর্তী টেকসই পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপের আওতায় ঘরহারা ও অতিদরিদ্র ৩০০টি পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই কক্ষের উন্নত ও টেকসই ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হবে। এর পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে তাদের বিশেষ ফান্ডে তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা এবং জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের পরিধিও জ্যামিতিক হারে আরও সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টে চলমান ত্রাণের ডেটা উল্লেখ করে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রামের সবচেয়ে উপদ্রুত অঞ্চল বাঁশখালীর চরম ক্ষতিগ্রস্ত চারটি দুর্গম ইউনিয়নের দুই হাজার বন্যাদুর্গত পরিবারের দ্বারে দ্বারে আস-সুন্নাহর ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জরুরি উন্নত মানের খাদ্যসামগ্রী সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার্তদের তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য রাজধানী ঢাকায় ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরও চার হাজার বিশেষ খাদ্যসামগ্রীর (প্যাকেজ) বস্তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই বিশাল ত্রাণের বহর আজ রাতেই বিশেষ ট্রাকে করে সরাসরি চট্টগ্রামে পাঠানো হবে এবং পরদিন সোমবার সকাল থেকেই জেলার মোট আটটি বন্যাকবলিত উপজেলার প্রান্তিক ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের এই জাতীয় দুর্যোগের মুহূর্তে দেশ ও বিদেশের সমস্ত বিত্তবান, সামর্থ্যবান ও মানবিক হৃদয়ের মানুষদের প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই মহৎ পুনর্বাসন কার্যক্রমে সাধ্যানুযায়ী আর্থিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিগত বছরগুলোতে এবং চলমান বন্যার একদম শুরু থেকেই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় লাখ লাখ মানুষের মাঝে ভারী ও শুকনো খাদ্য, নিরাপদ বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ নানাবিধ জরুরি তাৎক্ষণিক সহায়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দিয়ে সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। তবে এবার কেবল সাময়িক খাদ্য সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে গৃহহারা ও নিঃস্ব মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ তৈরি করে দিতে নতুন ঘর নির্মাণের এই মেগা ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রমের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের পর মাঠে চাল-ডাল বা ত্রাণ বিতরণ সাময়িকভাবে ক্ষুধার তীব্র সংকট লাঘব করলেও, একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পাকা ঘর একটি বিপর্যস্ত পরিবারকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার চরম মানসিক শক্তি ও সাহস জোগায়। তাই বন্যায় পুরোপুরি ঘরহারা ৩০০টি পরিবারের জন্য আধুনিক ঘর নির্মাণের এই দূরদর্শী উদ্যোগ শুধু প্রথাগত মানবিক সহায়তাই নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ পুনর্বাসনের একটি অনন্য ও টেকসই দৃষ্টান্ত।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে দেশের আপামর বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসেন, তবে বন্যার তোড়ে ভেসে যাওয়া আরও হাজারো অসহায় পরিবার নতুন স্থায়ী আশ্রয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং একটি স্বাভাবিক সুন্দর জীবনে ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করবে।

/আশিক


আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১০:০৬:০৬
আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ রোববার (১২ জুলাই ২০২৬)। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি তারিখ ২৬ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকার প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে। আর এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ১৮ মিনিটে।

পরদিন অর্থাৎ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে সকাল ৩টা ৫৬ মিনিটে। তাই যারা তাহাজ্জুদ, সেহরি বা ফজরের জামাতের প্রস্তুতি নেন, তারা আগেভাগেই সময় জেনে রাখতে পারেন।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজ নির্ধারিত ওয়াক্তে আদায় করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই প্রতিদিনের সময়সূচি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং যথাসময়ে সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা


৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৫৮:৪৩
৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬। বাংলা তারিখ ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ২২ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় এবং বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য সময়ের পার্থক্যও জানানো হয়েছে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এরপর জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে। বিকেলে আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ৪৩ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ১৯ মিনিটে।

এদিকে আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৫২ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিভাগীয় শহরগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজের ওয়াক্ত যথাসময়ে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই প্রতিদিন হালনাগাদ সময়সূচি অনুসরণ করলে ওয়াক্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে না এবং নির্ধারিত সময়েই ইবাদত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পাঠকের মতামত: