রয়টার্সকে তারেক রহমান

নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:০৫:০৬
নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনৈতিক কৌশল ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি মনে করেন, বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে সরকার গঠন করলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াত যদি নির্বাচনে হেরে বিরোধী দলে বসে, তবে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পুরনো সমীকরণ আর কার্যকর নয় বলে তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

তারেক রহমান নির্বাচনে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতে, দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হতে পারে। উল্লেখ্য, বিএনপি ২৯২টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকিগুলোতে জোট শরিকরা লড়ছে। জনমত জরিপগুলোতে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী ও তরুণদের দল এনসিপি-র সমন্বয়ে গঠিত জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জকেও তিনি হিসেবে রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির কথা বলেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট বলয় বা দেশের দিকে ঝুঁকবে না। বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।” বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং দলটির শীর্ষ নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।


পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ লীগমুক্ত করতে হবে: সাদিক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৫২:২৬
পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ লীগমুক্ত করতে হবে: সাদিক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ‘লীগমুক্ত’ করার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী মাজার মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে পুলিশের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনো প্রশাসনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে বারবার সংসদ সদস্য পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শোষণমুক্ত দেশ ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে আবু সাদিক কায়েম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হওয়া মানেই প্রকৃত আজাদী বা স্বাধীনতা।" এছাড়া তিনি বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষে সমর্থন চেয়ে বলেন, রাহাদ নির্বাচিত হলে তিনি শাসক নন, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইউনুস শেখের সঞ্চালনায় সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


বেকার ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড: সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ৫১ দফা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১০:০২:২০
বেকার ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড: সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ৫১ দফা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ছয় দিন আগে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও ৫১ দফা সংবলিত এই ইশতেহার পেশ করেন। তিনি একে কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইশতেহারের শুরুতেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানতম হলো—সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন যে, দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল করা সম্ভব নয়।

বিএনপির ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের (দুই মেয়াদ) বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এছাড়া উপরাষ্ট্রপতি পদ ও জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিও ইশতেহারে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ, বিচার বিভাগ পৃথক্করণ এবং এর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও সততাকেই একমাত্র মাপকাঠি ধরার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনীতিকীকরণের ঊর্ধ্বে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলেছে। স্কুল, কলেজ ও লাইব্রেরিতে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা এবং কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত এক বছর মেয়াদি ‘বেকার ভাতা’ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য থাকবে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২০ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুলেট ট্রেন সংযোগ এবং নদী ও সমুদ্র বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে।

তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক মর্যাদা বজায় রেখে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ ৩৮টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই প্রথম তারেক রহমান দলের নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করলেন।


আজ ৩ জেলায় জামায়াত আমিরের জনসভা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:৩৪:২০
আজ ৩ জেলায় জামায়াত আমিরের জনসভা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সিলেট বিভাগের ৩টি জেলায় নির্বাচনী সফরে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জামায়াত আমির।

সিলেট মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের এই নির্বাচনী জনসভাটি বিকেল ৩টায় শুরু হবে এবং সাড়ে ৪টার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সমাবেশ থেকে ডা. শফিকুর রহমান সিলেট জেলার ৬টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৪টি আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

সিলেটের মূল জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে জামায়াত আমির আজ দিনের শুরুতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সুনামগঞ্জ জেলার জনসভাটি বাতিল করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডা. শফিকুর রহমানের এই সফরকে সিলেটে দলটির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের মাঝে ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও জোটের প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


জয়ের দৌড়ে বিএনপি ফেভারিট জানাল দ্য ইকোনমিস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:২০:০৭
জয়ের দৌড়ে বিএনপি ফেভারিট জানাল দ্য ইকোনমিস্ট
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের এক বিশেষ বিশ্লেষণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সম্ভাব্য বিজয়ী বা ‘ফেভারিট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত ‘দ্য নিউ বাংলাদেশ ইজ অনলি হাফ বিল্ট’ (The New Bangladesh is only half-built) শীর্ষক নিবন্ধে সাময়িকীটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি নির্মোহ চিত্র তুলে ধরেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই প্রভাবশালী গণমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে যে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে একটি প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি ও অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি জয়ের পথে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মূলত দুটি প্রতিষ্ঠিত দলের মধ্যেই মূল লড়াই হবে, যাদের উভয় দলই বিগত সরকারের আমলে চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ইকোনমিস্ট জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দলটিকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় ও মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী দল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, অনেক পর্যবেক্ষক নির্বাচনের আগে সহিংসতার আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে ইকোনমিস্ট সতর্ক করে বলেছে, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সামনে বিশাল পাহাড়সম কাজ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করলেও, দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য অনেক সংস্কার প্রয়োজন। এ বছরই বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ (LDC) থেকে উত্তরণ ঘটাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ দুই-ই তৈরি করবে।

ইকোনমিস্টের মতে, বাংলাদেশের জিডিপি’র তুলনায় সরকারি রাজস্ব বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশ, যা এশিয়াজুড়ে গড়ে ২০ শতাংশ। তাই রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা (লাল ফিতার দৌরাত্ম্য) দূর করা নতুন সরকারের জন্য প্রধান কাজ হবে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও নিবন্ধে গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঢাকাকে ‘হিন্দু বিরোধী’ হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা বাংলাদেশিদের ক্ষুব্ধ করে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে গণমাধ্যমটি। পরিশেষে বলা হয়েছে, নির্বাচন কেবল একটি মাইলফলকের সূচনা মাত্র; ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রকৃত কঠিন কাজ কেবল শুরু হতে যাচ্ছে।


ইনসাফ কায়েম হলে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:১৩:৪৭
ইনসাফ কায়েম হলে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি ও নড়াইলে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের একগুচ্ছ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।

পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে, ইনসাফ কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না। তিনি আবরার, আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিগত শাসনামলে পাচার হওয়া প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে ব্যয়ের অঙ্গীকারও করেন তিনি। জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের ভোট ডাকাতি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সহ্য করা হবে না এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ‘আজাদির বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক সভায় তিনি হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাটের মতো বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে সেতুর মাধ্যমে উন্নয়নের মূলধারায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। জুলাই বিপ্লবের পর একটি বড় দলের নেতাকর্মীদের ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ‘দখলবাজির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে তা ভেবে দেখা উচিত। ঝালকাঠির জনসভায় তিনি পেশিশক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করেন এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নড়াইলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাজনীতিকে ব্যবসার পণ্য বানানোর সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে উচ্ছ্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৮:২৭:১৫
২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে উচ্ছ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর আজ ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সজ্জিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসভাস্থলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে উপস্থিত হবেন তারেক রহমান। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের সর্বশেষ সফর ছিল ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় তিনি একটি শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফরকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, এই জনসভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বার্তা দেবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনসভায় জনসমুদ্র সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করা হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ ২৩ বছর পর তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর শুধু একটি নির্বাচনী জনসভা নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


জান্নাতের বাস স্টেশন কোথায় জানতে ইচ্ছে করে: সালাহউদ্দিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৯:৫৫:৪০
জান্নাতের বাস স্টেশন কোথায় জানতে ইচ্ছে করে: সালাহউদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র হওয়া উচিত যেখানে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবার একটিই পরিচয় থাকবে—বাংলাদেশি। হিন্দু–মুসলমান, বৌদ্ধ–খ্রিষ্টান নির্বিশেষে নাগরিক ঐক্যই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিতে বিএনপি কখনো বিশ্বাস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এটিই দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও রাষ্ট্রচিন্তার মূল দর্শন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল–এর পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–কে লক্ষ্য করে বলেন, নির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী কর্মসূচির পরিবর্তে তারা ভোটের বিনিময়ে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে। জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়ার প্রবণতাকে তিনি বিভ্রান্তিকর ও অনৈতিক আখ্যা দেন। তার ভাষায়, ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিলে সেই জান্নাতের ঠিকানা কোথায়, সেটি জনগণের সামনে স্পষ্ট করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলেও জামায়াত নতুন করে ইতিহাস ব্যাখ্যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা দেশের মানুষের অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য।

কক্সবাজারের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই জেলা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিশেষ করে লবণ চাষিরা চরম বৈষম্যের শিকার। যেখানে শহরে এক কেজি লবণ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে উৎপাদকরা ১০ টাকাও পান না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে লবণসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে এবং নির্বাচিত হলে কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ ধানের শীষে ভোট দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে অংশগ্রহণের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

-রফিক


মামলাবাজদের ছাড় নয়, দুর্নীতিতে আপস নেই: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৮:১২:৪৫
মামলাবাজদের ছাড় নয়, দুর্নীতিতে আপস নেই: শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

নিজেদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যারা ব্যর্থ, তারা কখনোই রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য হতে পারে না এমন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মামলা–বাণিজ্যকারীদের প্রতি জামায়াত কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখাবে না এবং দুর্নীতির প্রশ্নে আপসের সুযোগও নেই।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দেন। এদিন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, পটুয়াখালীর বাউফল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ মোট ছয়টি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির।

সকাল ১১টার দিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে প্রথম জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যে নেতৃত্ব নিজের সংগঠনকে সামাল দিতে পারে না, তার পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা আর কোনোভাবেই বাংলাদেশকে বিভক্তির রাজনীতিতে ঠেলে দিতে দেব না।” তাঁর বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

এরপর বেলা ১২টায় পটুয়াখালীর বাউফলে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, “মামলাবাজদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বোঝাপড়া নেই। দুর্নীতি আমরা করব না, কাউকেও করতে দেব না। আল্লাহ যদি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

দিনের বাকি সময়ে তিনি ঝালকাঠি, পিরোজপুর, নড়াইল, বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে ধারাবাহিকভাবে জনসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় তিনি দলীয় শৃঙ্খলা, নৈতিক রাজনীতি, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কঠোর জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জনসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক কৌতূহল ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা তুলে ধরে।

-রফিক


বিএনপির ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও বড় পরিকল্পনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৮:০৪:৪৬
বিএনপির ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও বড় পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে সংরক্ষণ ও আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটি বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্বাভাবিক পরিণতি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও–এ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার–২০২৬–এ এসব অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে দলটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে পুনরায় সামনে আনে।

ইশতেহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে, ১৯৭৫ সালের সিপাহী–জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, যা জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধা ইস্যু

ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নকে একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং তাদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপির অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। তাই শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া আগ্রহী ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও যোগ্য মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য প্রতিশ্রুতি

ইশতেহারে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

দলটি জানিয়েছে, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের মামলার দ্রুত বিচার, সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কল্যাণের দায়িত্ব নেবে।

যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ইশতেহার স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, বরং জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনৈতিক ঘোষণা।

-রফিক

পাঠকের মতামত: