ইনসাফ কায়েম হলে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না: জামায়াত আমির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি ও নড়াইলে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের একগুচ্ছ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।
পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে, ইনসাফ কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না। তিনি আবরার, আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিগত শাসনামলে পাচার হওয়া প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে ব্যয়ের অঙ্গীকারও করেন তিনি। জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের ভোট ডাকাতি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সহ্য করা হবে না এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ‘আজাদির বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক সভায় তিনি হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাটের মতো বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে সেতুর মাধ্যমে উন্নয়নের মূলধারায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। জুলাই বিপ্লবের পর একটি বড় দলের নেতাকর্মীদের ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ‘দখলবাজির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে তা ভেবে দেখা উচিত। ঝালকাঠির জনসভায় তিনি পেশিশক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করেন এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নড়াইলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাজনীতিকে ব্যবসার পণ্য বানানোর সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে উচ্ছ্বাস
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর আজ ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সজ্জিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসভাস্থলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে উপস্থিত হবেন তারেক রহমান। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের সর্বশেষ সফর ছিল ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় তিনি একটি শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফরকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, এই জনসভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বার্তা দেবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনসভায় জনসমুদ্র সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ ২৩ বছর পর তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর শুধু একটি নির্বাচনী জনসভা নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রফিক
জান্নাতের বাস স্টেশন কোথায় জানতে ইচ্ছে করে: সালাহউদ্দিন
কক্সবাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র হওয়া উচিত যেখানে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবার একটিই পরিচয় থাকবে—বাংলাদেশি। হিন্দু–মুসলমান, বৌদ্ধ–খ্রিষ্টান নির্বিশেষে নাগরিক ঐক্যই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিতে বিএনপি কখনো বিশ্বাস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এটিই দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও রাষ্ট্রচিন্তার মূল দর্শন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল–এর পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–কে লক্ষ্য করে বলেন, নির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী কর্মসূচির পরিবর্তে তারা ভোটের বিনিময়ে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে। জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়ার প্রবণতাকে তিনি বিভ্রান্তিকর ও অনৈতিক আখ্যা দেন। তার ভাষায়, ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিলে সেই জান্নাতের ঠিকানা কোথায়, সেটি জনগণের সামনে স্পষ্ট করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলেও জামায়াত নতুন করে ইতিহাস ব্যাখ্যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা দেশের মানুষের অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য।
কক্সবাজারের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই জেলা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিশেষ করে লবণ চাষিরা চরম বৈষম্যের শিকার। যেখানে শহরে এক কেজি লবণ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে উৎপাদকরা ১০ টাকাও পান না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে লবণসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে এবং নির্বাচিত হলে কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ ধানের শীষে ভোট দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে অংশগ্রহণের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
-রফিক
মামলাবাজদের ছাড় নয়, দুর্নীতিতে আপস নেই: শফিকুর রহমান
নিজেদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যারা ব্যর্থ, তারা কখনোই রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য হতে পারে না এমন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মামলা–বাণিজ্যকারীদের প্রতি জামায়াত কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখাবে না এবং দুর্নীতির প্রশ্নে আপসের সুযোগও নেই।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দেন। এদিন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, পটুয়াখালীর বাউফল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ মোট ছয়টি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির।
সকাল ১১টার দিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে প্রথম জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যে নেতৃত্ব নিজের সংগঠনকে সামাল দিতে পারে না, তার পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা আর কোনোভাবেই বাংলাদেশকে বিভক্তির রাজনীতিতে ঠেলে দিতে দেব না।” তাঁর বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এরপর বেলা ১২টায় পটুয়াখালীর বাউফলে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, “মামলাবাজদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো বোঝাপড়া নেই। দুর্নীতি আমরা করব না, কাউকেও করতে দেব না। আল্লাহ যদি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
দিনের বাকি সময়ে তিনি ঝালকাঠি, পিরোজপুর, নড়াইল, বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে ধারাবাহিকভাবে জনসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় তিনি দলীয় শৃঙ্খলা, নৈতিক রাজনীতি, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কঠোর জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
জনসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক কৌতূহল ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা তুলে ধরে।
-রফিক
বিএনপির ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও বড় পরিকল্পনা
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে সংরক্ষণ ও আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটি বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্বাভাবিক পরিণতি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও–এ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার–২০২৬–এ এসব অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে দলটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে পুনরায় সামনে আনে।
ইশতেহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে, ১৯৭৫ সালের সিপাহী–জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, যা জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধা ইস্যু
ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নকে একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং তাদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। তাই শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আগ্রহী ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও যোগ্য মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণ
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য প্রতিশ্রুতি
ইশতেহারে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দলটি জানিয়েছে, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের মামলার দ্রুত বিচার, সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কল্যাণের দায়িত্ব নেবে।
যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ইশতেহার স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, বরং জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনৈতিক ঘোষণা।
-রফিক
পাঁচ অধ্যায়ে বিএনপির ইশতেহার, ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিএনপির বড় ৯ অঙ্গীকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রদর্শন ও নীতিগত রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। পাঁচটি সুসংগঠিত অধ্যায়ে বিভক্ত এই নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক ন্যায্যতা, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এবং ধর্ম–সংস্কৃতি–নৈতিকতার সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপির ভাষায়, এটি কেবল ভোটের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং জনগণের সঙ্গে একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, অধিকার ও ন্যায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার।
প্রথম অধ্যায়: রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্র পুনর্গঠন
ইশতেহারের সূচনাতেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক তাৎপর্যকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য জোরদার, দলনিরপেক্ষ প্রশাসন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: বৈষম্যহীন সমাজ ও মানবিক উন্নয়ন
এই অধ্যায়ে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেছে। দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, নারী ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শ্রমিক ও প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতির কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন
ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়টি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়ে বিস্তৃত। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ সংকট মোকাবিলা এবং স্বচ্ছ কর ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।শিল্প ও সেবা খাতের আধুনিকায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার, পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন
এই অধ্যায়ে উন্নয়নের ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হাওর–বাঁওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন সংকট নিরসন এবং নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।পর্যটন খাতকে কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন উৎস হিসেবে বিকাশের পরিকল্পনাও এখানে অন্তর্ভুক্ত।
পঞ্চম অধ্যায়: ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৈতিক পুনর্জাগরণ
শেষ অধ্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সামাজিক নৈতিকতার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিএনপি বলছে, বহুত্ববাদী সমাজে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিএনপির ৯টি মূল প্রতিশ্রুতি: মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব
ইশতেহারে ঘোষিত নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি সরাসরি জনগণের জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত-
ফ্যামিলি কার্ড চালু করে নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য।
কৃষক কার্ড–এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় বাজারজাতকরণ।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও জেলা–মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ।
আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা; প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার ও মিড-ডে মিল।
যুব কর্মসংস্থান: দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ।
ক্রীড়া অবকাঠামো: জেলা–উপজেলা পর্যায়ে বিস্তার।
পরিবেশ সুরক্ষা: ১০ হাজার কিমি নদী–খাল পুনঃখনন ও ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।
ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ।
ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু ও ই-কমার্স হাব।
বিএনপির মতে, এই ইশতেহার ‘ভয় নয় অধিকার, বৈষম্য নয় ন্যায্যতা, লুটপাট নয় উৎপাদন’ এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার স্পষ্ট অঙ্গীকার। দলটি বিশ্বাস করে, জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতির মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
-রফিক
জাকসুর সাবেক ভিপি যোগ দিলেন বিএনপিতে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)–এর সাবেক ভিপি আবদুর রশিদ জিতু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এ যোগ দিয়েছেন। তার এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী–এর উপস্থিতিতে জিতু বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
দলে যোগদান শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আবদুর রশিদ জিতু বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় তিনি একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন। তার ভাষায়, “একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আজ থেকে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাকসুর সাবেক ভিপি হিসেবে জিতুর এই পদক্ষেপ বিএনপির ছাত্র ও যুবভিত্তিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তার পরিচিতি ও সংগঠনিক অভিজ্ঞতা দলটির জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী দিনে দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে জিতুকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
-রফিক
আওয়ামী লীগ ছাড়া গোপালগঞ্জে ভোটের নতুন হিসাব
বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের দৃশ্য এক কথায় ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিং শোনা গেলেও সড়কের দুই পাশে ব্যানার ও ফেস্টুনের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো নয়। অতীতে নির্বাচন এলেই পোস্টারে ঢেকে যেত শহর ও গ্রাম। এবার আচরণবিধির কড়াকড়িতে সেই চিত্র প্রায় অনুপস্থিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার বড় পরিবর্তনের কারণে গোপালগঞ্জের ভোটের মাঠও এবার ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
আওয়ামী লীগবিহীন গোপালগঞ্জে নতুন সমীকরণ
একসময় যে গোপালগঞ্জকে নিরঙ্কুশভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো, সেখানে এবার দলটি নির্বাচনের বাইরে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভোটের হিসাব কীভাবে দাঁড়াচ্ছে, তা বুঝতে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে অন্তত ৪০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিবেদক। মতামতগুলোতে স্পষ্ট বিভাজন। কেউ বলছেন তিন আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকতে পারে, অন্য দুইটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেশি। কেউ আবার মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা কেন্দ্রে না গেলে পুরো হিসাবই বদলে যেতে পারে। অনেকেই প্রকাশ্যে কোন প্রতীকে ভোট দেবেন তা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
ভয়, অনিশ্চয়তা ও ভোটার উপস্থিতির প্রশ্ন
স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর সমাবেশ ঘিরে সহিংসতা ও মামলার পর অনেকেই গ্রেপ্তার বা এলাকাছাড়া হয়েছেন। এসব ঘটনার স্মৃতি ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে নতুন করে মামলা ও হয়রানির শিকার হতে পারেন। ফলে নিরিবিলি থাকাই নিরাপদ মনে করছেন একাংশ ভোটার।
ভোটারদের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন
তবে একই সঙ্গে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা অনেক ভোটার এবার সুযোগ দেখছেন। তরুণদের মধ্যে এই আগ্রহ বেশি। গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পাশে এক চায়ের দোকানে লুডু খেলতে থাকা কয়েকজন তরুণের একজন বললেন, বহু বছর ভোটার হলেও কখনো ভোট দিতে পারেননি, কারণ ফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকত। এবার অন্তত নিজের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘দল নয়, মানুষ’ বনাম দলীয় স্মৃতি
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কাজীর বাজারে চায়ের আড্ডায় এক মধ্যবয়সী ভোটার বললেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করলেও স্থানীয় এমপিকে কখনো এলাকায় দেখেননি। এবার বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সরাসরি ভোট চাইছেন, সেটাই বড় পরিবর্তন। আবার ষাটোর্ধ্ব এক ভোটার স্পষ্ট করে বলেন, এবার স্থানীয় মানুষ ছাড়া কাউকে ভোট দেবেন না।
অন্যদিকে, হরিদাসপুর ফেরিঘাট এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধা নেতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়া জরুরি। তার যুক্তি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জয়ী হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।
তিন আসনের আলাদা আলাদা বাস্তবতা
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী আংশিক)এই আসনে অতীতে আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকলেও বিএনপি দুইবার জয় পেয়েছিল। এবার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তিন আসনের মধ্যে সবচেয়ে খোলা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।
গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানী আংশিক)এ আসনটি দীর্ঘদিন শেখ ফজলুল করিম সেলিম–এর একক আধিপত্যে ছিল। এবার ১৩ জন প্রার্থী মাঠে। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি। এত প্রার্থী আগে কখনো দেখেননি বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়া)এই আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি, যেখানে একাধিকবার শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়েছেন। এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার আশঙ্কার কথা উঠে আসায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে। সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে।
গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন মনে করেন, ভোটার উপস্থিতি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তার ধারণা, তিন আসনের একটিতে দলীয় প্রতীকে জয় আসতে পারে, বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেশি।
রাজনৈতিক গুরুত্ব কোথায়
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে গোপালগঞ্জের এবারের নির্বাচন শুধু ফলাফলের জন্য নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে ভোটের শেষ চিত্র। এই নতুন সমীকরণ ভবিষ্যতে গোপালগঞ্জের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: জাগো নিউজ
আজ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের কাছে নীতি, প্রতিশ্রুতি ও অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরতেই এই ইশতেহার ঘোষণা করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর Hotel Sonargaon–এর বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলটির রাজনৈতিক ঐতিহ্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। তার ভাষায়, দেশের মানুষের কাছে ‘ধানের শীষ’ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়; এটি আবেগ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। সেই আবেগকে ধারণ করেই জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
-রফিক
জামায়াত বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা মুনাফেক দল: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নৈতিকতার প্রশ্নে স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও আলিম মাদরাসা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা এ দেশের উন্নতি করতে পারবে না।
নির্বাচনী জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? পারি না ভাই। এটা হচ্ছে নৈতিকতার প্রশ্ন। আমি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি, কিন্তু যারা এই দেশটাকেই বিশ্বাস করে না, তারা দেশের উন্নতি করবে কেমন করে?" তিনি আরও যোগ করেন যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত পাকিস্তান আন্দোলনেরও বিরোধী ছিল এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। তিনি বলেন, "পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু করল, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করল এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করল, সেই সময় জামায়াত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়েছিল।" তিনি তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিনের উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াতকে একটি ‘মুনাফেক দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে তারা মুখে এক বলে আর কাজে অন্য কিছু করে।
মির্জা ফখরুল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার বড় সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভোটারদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে কৃষকদের সারের সংকট দূর করা হবে। সভায় তিনি বিএনপিকে একটি জাতীয়তাবাদী ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী দল হিসেবে তুলে ধরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তাঁর এই কড়া অবস্থান জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
পাঠকের মতামত:
- ইনসাফ কায়েম হলে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না: জামায়াত আমির
- যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?
- বাংলাদেশ–পাকিস্তান জোট প্রশ্নে সতর্ক ভারতের সংসদ
- ঢাকার আবহাওয়া আজ কেমন? জানাল আবহাওয়া অফিস
- শীত কাটেনি, চার জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত
- শনিবারের নামাজের সময়: কখন কোন ওয়াক্ত
- আজ টিভিতে কোন খেলা কখন দেখবেন, দেখে নিন সূচি
- স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, ভরি মিলবে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকাতে
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব বাজার ও এলাকা, জেনে নিন
- ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে উচ্ছ্বাস
- আজ শুরু টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই তিন ম্যাচ
- টিকিট ছাড়াই বিশ্বকাপ উদ্বোধন, দর্শকদের জন্য বড় চমক
- জান্নাতের বাস স্টেশন কোথায় জানতে ইচ্ছে করে: সালাহউদ্দিন
- শিল্পকারখানার ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের
- মামলাবাজদের ছাড় নয়, দুর্নীতিতে আপস নেই: শফিকুর রহমান
- বিএনপির ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও বড় পরিকল্পনা
- পাঁচ অধ্যায়ে বিএনপির ইশতেহার, ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিএনপির বড় ৯ অঙ্গীকার
- হজের ভিসা নিয়ে বড় ঘোষণা সৌদি কর্তৃপক্ষের
- সাপ্তাহিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষণে ইতিবাচক ইঙ্গিত
- নির্বাচন ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের টানা চার দিনের ছুটি
- বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, ভূরাজনীতি নাকি চাহিদাই কারণ?
- জাকসুর সাবেক ভিপি যোগ দিলেন বিএনপিতে
- সুর ও সাধনার মানুষ বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই
- বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার নতুন বিনিময় হার
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশে কর্মসূচি
- আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন
- আওয়ামী লীগ ছাড়া গোপালগঞ্জে ভোটের নতুন হিসাব
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন
- আজ ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যস্ত দিন, এক নজরে সূচি
- ফের রেকর্ড, দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় মূল্যবৃদ্ধি
- ভোটকেন্দ্র জানুন অ্যাপে, মিলবে প্রার্থী ও ফলাফলের তথ্য
- আজ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
- ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়, নেপথ্যে কী
- শীত নিয়ে বদলাচ্ছে পূর্বাভাস, জেনে নিন বিস্তারিত
- শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপিসহ নানা দলের কর্মসূচি, জেনে নিন বিস্তারিত
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে
- ভোটের পরেই বিদায়! মেয়াদের ধোঁয়াশা কাটিয়ে সময় জানাল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
- জামায়াত বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা মুনাফেক দল: মির্জা ফখরুল
- মহাকাশ থেকে আসা ৪৪ মিনিটের সেই ছন্দ: নতুন কোনো গ্রহ না কি এলিয়েন সংকেত?
- নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?
- নির্বাচনের মুখে সাইবার যুদ্ধ! মুফতি আমির হামজার ফেসবুক পেজ গায়েব
- জামায়াতকে ইসলামী দল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: চরমোনাইর পীর
- ইউনূসকে বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা: মির্জা আব্বাস
- অচল বন্দর, সচল ষড়যন্ত্র? পণ্যবাহী জাহাজের কবরে পরিণত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর
- সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় টহলের অনুমতি: ইতিহাসে এই প্রথম
- আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে যারা থাকেনি, আজ তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র: রিজভী
- কুমিল্লা-৩ আসনের কায়কোবাদের বড় জয়: জামায়াত প্রার্থীর রিট খারিজ
- পবিত্র রমজানে নতুন অফিস সময় নির্ধারণ
- সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে? আইনি ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল
- ঐক্যের ডাক দিয়ে কুমিল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- আবেগ নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জামায়াতের নারী শ্রমনীতি কেন আত্মঘাতী
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম
- ১ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলতে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট অদম্য বাংলাদেশ
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার








