দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১০:২৫:২৭
দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত! কী হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কারের পথে বড় ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণের পর এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকেও একীভূত করার প্রস্তাব সরকারের কাছে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের মতে, দেশের অর্থনীতির তুলনায় বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারকে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে, যেখানে বাস্তবে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট।

গভর্নর মনে করেন, ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনা গেলে তদারকি ও সুশাসন নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ব্যাংক থাকার ফলে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হচ্ছে এবং অনিয়মের সুযোগ বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, আর্থিক অনিয়ম, পরিবারকেন্দ্রিক আধিপত্য এবং দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে এই খাত প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবারকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। গভর্নরের মতে, ব্যাংক পরিচালনায় ব্যক্তিগত স্বার্থনির্ভর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং এটি পুরো ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তোলে।

সুশাসনের অভাবেই ব্যাংকিং খাতের এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করে তিনি জরুরি ভিত্তিতে সর্বস্তরে সংস্কারের ওপর জোর দেন। খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে জানান, সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি আবারও ফিরে আসতে পারে।

এ সময় গভর্নর জানান, ব্যাংকিং খাতকে সুরক্ষিত রাখতে একটি ‘ব্যাংক রেজল্যুশন ফান্ড’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় শুধু ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ক্যাশলেস সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে গভর্নর বলেন, নগদ লেনদেনই রাজস্ব ফাঁকির সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তাঁর মতে, ক্যাশবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। এজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বর্তমান গভর্নর প্রায় ধসে পড়া ব্যাংকিং খাতকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত সংকটচিত্র এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্পষ্ট।

আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরীফ মোশাররফ হোসেন বলেন, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতকে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

-রফিক


বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৩২:৩২
বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

একদিনে দুই দফা দাম বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সমন্বিত হওয়া এই রেকর্ড দামেই আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে। বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

স্বর্ণের নতুন বাজারদর বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান উল্লেখ্য যে, গতকাল মঙ্গলবার মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। সকালে প্রথম দফায় ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং বিকেলে দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে একদিনেই স্বর্ণের দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ৮ বার কমেছে। গত ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল, যেখানে ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।

রুপার দামও ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দামের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। মঙ্গলবার বাজুসের ঘোষণায় রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।


স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন কাণ্ড! ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ল দাম

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৭:১৫:১৪
স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন কাণ্ড! ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ল দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে একবার দাম বাড়ানোর পর মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বিকেলে দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বিকেল ৪টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

এক দিনেই দুই দফায় বড় উল্লম্ফন আজ সকালে এক দফা দাম বাড়ানোর পর বিকেলের এই সিদ্ধান্ত স্বর্ণের বাজারে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই জরুরি সমন্বয় করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় যখন প্রথম দফায় দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখন ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। বিকেলের বৃদ্ধির ফলে তা এখন ২ লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়ে গেল।

স্বর্ণের নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা (বিকাল ৪টা থেকে কার্যকর) বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ১৮৪ টাকা।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৪ টাকা।

রুপার দামেও পরিবর্তন স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হলেও আজ রুপার দাম কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা করা হয়েছে।

সমন্বয়ের পরিসংখ্যান চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মোট ২৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ৮ বার কমেছে। অন্যদিকে রুপার দাম এ বছর ১৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। একদিনে দুই দফায় এমন বড় অংকের দাম বৃদ্ধিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা নজিরবিহীন ও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন।


বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: জানুয়ারিতে রেকর্ড আয়

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:০৮:১৯
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: জানুয়ারিতে রেকর্ড আয়
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনীতির নানা অস্থিরতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রপ্তানি আয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে গত মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক সংকেত। মূলত তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করেই এই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।

রপ্তানি আয়ের মাসিক ও বার্ষিক চিত্র সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের মাস ডিসেম্বরে (২০২৫) এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৬৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে মোট রপ্তানি হয়েছে ২৮ হাজার ৪১০ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কম। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তৈরি পোশাক খাতের জয়জয়কার দেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বরাবরের মতোই শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৯৮০ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খাতে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের অব্যাহত চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যান্য খাতের পারফরম্যান্স তৈরি পোশাক ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে আশাব্যঞ্জক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বার্ষিক ও মাসিক উভয় ভিত্তিতেই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছের মতো প্রধান খাতগুলোতে কিছুটা মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে।

শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্যসমূহ রপ্তানি গন্তব্যের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে এই বাজারে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এছাড়া স্পেন, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক ও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

রপ্তানি খাতের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:৩২:৪৮
স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একদিনের ব্যবধানে তিন দফা দাম কমানোর পর আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে নতুন মূল্যে বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই ধাতু। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ পড়বে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

টানা তিন দফায় বড় দরপতন আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়। সকালে এক দফায় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানোর পর বিকেলে পুনরায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। এর ফলে একদিনেই সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১২ হাজার টাকারও বেশি কমেছে।

স্বর্ণের নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, আজ থেকে কার্যকর হওয়া বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৩ টাকা।

অতিরিক্ত চার্জ ও ভ্যাট সংক্রান্ত নির্দেশনা বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও কারুকার্যের ওপর ভিত্তি করে মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে।

সমন্বয়ের পরিসংখ্যান চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বৃদ্ধি পেলেও ৮ বার দাম কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার কমানোর ঘটনা ঘটে। একদিনে এমন নজিরবিহীন মূল্যহ্রাসকে জুয়েলারি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:১১:০০
রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

রিজার্ভের বর্তমান চিত্র ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ রিজার্ভের হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস (মোট) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ২৪৫ দশমিক ৫০ মিলিয়ন বা ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

আইএমএফ বা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের স্থিতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ীও রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে। এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন বা ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত ১৫ জানুয়ারি বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এই পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে এই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব পাওয়া যায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি এবং রেমিট্যান্সে ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ায় রিজার্ভের এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের আমদানি সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতেও সুবিধা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তথ্য বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২০:৪৭:২৪
নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ হিসেবে নতুন ডিজাইনের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শাখা অফিস থেকে এই নতুন নোট সংগ্রহ করা যাবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত এই নোটটি বর্তমান মুদ্রণ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাজারে আসছে।

নতুন নোটের বৈশিষ্ট্য ও নিরাপত্তা চিহ্ণ নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার। গোলাপী রঙের প্রাধান্য থাকা এই নোটের সম্মুখভাগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং মাঝখানে জলছাপ হিসেবে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। নোটটির বিশেষত্ব হলো এর পেছনভাগ, যেখানে ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক হিসেবে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র মুদ্রিত হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোটে বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে

২ মিলিমিটার চওড়া রঙ পরিবর্তনশীল সুতা ব্যবহার করা হয়েছে, যা নাড়াচাড়া করলে লাল থেকে সবুজ রঙে পরিবর্তিত হবে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি এবং ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘১০’ সংখ্যাটি স্পষ্ট দেখা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোগ্রাম, সি-থ্রু ইমেজ এবং মাইক্রোপ্রিন্টের মতো উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এতে বিদ্যমান।

পুরানো নোটের বৈধতা ও সংগ্রহ বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে এলেও বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রা আগের মতোই লেনদেনের জন্য বৈধ থাকবে। এছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য মিরপুরের টাকা জাদুঘর থেকে বিনিময় অযোগ্য ‘নমুনা নোট’ (Specimen Note) সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ১০ টাকার নোট অবমুক্ত করা হচ্ছে।


স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:৩৬:২২
স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম
ছবি : সংগৃহীত

স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে একদিনের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নতুন করে ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানোর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই সারা দেশে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আজকের এই দফায় দাম কমার আগে সকালেও একবার বড় ব্যবধানে দাম কমিয়েছিল সংগঠনটি। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা এবং ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন দফায় স্বর্ণের দাম কমার এই ঘটনাকে দেশের জুয়েলারি ইতিহাসে বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা (আগের দাম ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা)।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গহনা কেনার সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মোট ২২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ৮ বার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একদিনের মধ্যে এমন বড় অঙ্কের দরপতন সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:৪৩:১৮
একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সংশোধনের ঘোষণা এসেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দর কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দামে একদিনে বড় ধাক্কা এসেছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।

এ বিষয়ে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

একই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ফলে নতুন দর দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণেও এসেছে উল্লেখযোগ্য ছাড়। এ শ্রেণির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও গত রোববার রাতে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার ফলে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকায়। একই সময় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা।

রাতের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও দাম কমানোর নতুন ঘোষণা আসে। ফলে সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত পুরোনো দামে বিক্রির পর পরবর্তী এক মিনিটেই কার্যকর হয় আরও কম দরের নতুন তালিকা।

স্বর্ণের দামে বড় এই পতন এলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখে ৭ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বহাল রয়েছে।

-রফিক


আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:০৮:১১
আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজতর করতে এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুবিধার্থে প্রতিদিনের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হারে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে।

আজকের বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর একক মুদ্রা ইউরো বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকা ৯৫ পয়সায় এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ১৬৭ টাকা ৪৩ পয়সায়।

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা, কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৫২ পয়সা এবং ওমানি রিয়াল ৩১৯ টাকা ৯২ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের দাম বর্তমানে ৩৯৯ টাকা ৮৬ পয়সা।

অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৫ টাকা ১৬ পয়সা, কানাডিয়ান ডলার ৮৯ টাকা ৮৪ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬ টাকা ১৪ পয়সা।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩১ টাকা ২৪ পয়সা, চীনা ইউয়ান রেনমিনবি ১৭ টাকা ৫৭ পয়সা এবং জাপানি ইয়েন ৭৯ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের ১ রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপি ২ টাকা ৫২ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে মনে রাখা জরুরি যে, স্থান ও ব্যাংকভেদে এই বিনিময় হার কিছুটা কমবেশি হতে পারে এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা যুক্ত হতে পারে।

পাঠকের মতামত: