বিপিএল মাতাতে ঢাকায় উইলিয়ামসন

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১১:৪৭:৪৯
বিপিএল মাতাতে ঢাকায় উইলিয়ামসন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরের শেষ ভাগে নতুন এক উন্মাদনা যোগ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং অভিজ্ঞ কিউই ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন এবার বিপিএলের মাঠ মাতাতে ঢাকায় পা রেখেছেন। চলতি আসরে তিনি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে মাঠ কাঁপাবেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সকালেই কিউই এই ব্যাটিং মাস্টার রাজধানীতে এসে পৌঁছান, যা রাজশাহীর ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উইলিয়ামসনের বিপিএলে আসা নিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় বেশ কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-২০ লিগ শেষ করেই তিনি বিপিএলে যোগ দেবেন—এমন আলোচনা আগে থেকেই ছিল। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর চুক্তি ও আলোচনা আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সকালেই তিনি দলে যোগ দিতে ঢাকায় নামেন। উইলিয়ামসনের মতো একজন ধ্রুপদী ব্যাটারের অন্তর্ভুক্তি রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপকে যে বহুগুণ শক্তিশালী করবে, তা বলাই বাহুল্য।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত গত মঙ্গলবারই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, উইলিয়ামসন বুধবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। বিশ্বের বিভিন্ন বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে এই কিউই তারকার। বিপিএলে এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে। তাঁর সংযোজন রাজশাহীর স্কোয়াডে এক অনন্য ভারসাম্য এনে দেবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মাঝের ওভারে ইনিংস গড়া এবং বড় চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলার ক্ষমতায় তিনি অনন্য।

মজার বিষয় হলো, রাজশাহীর স্কোয়াডে আগে থেকেই রয়েছেন উইলিয়ামসনের জাতীয় দলের সতীর্থ এবং অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। নিশাম আগেই এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সুযোগ থাকলে উইলিয়ামসনকে বাংলাদেশে আনার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত নিশামের সেই ইচ্ছা ও ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রচেষ্টা বাস্তব রূপ নিল। কিউই এই দুই তারকার উপস্থিতি ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য উইলিয়ামসনের আগমনটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দলটি সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। আজ বুধবার বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী। এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেবে। যেখানে আগে থেকেই ফাইনাল নিশ্চিত করে বসে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এর আগে প্রথম কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১৩৩ রানের পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেটে হারতে হয়েছিল রাজশাহীকে।

এমন এক জীবন-মরণ লড়াইয়ের দিনে উইলিয়ামসনের মতো বিশ্বমানের ব্যাটার একাদশে থাকা রাজশাহীর জন্য বড় আশীর্বাদ। নক-আউট পর্বের বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা কিউই এই সাবেক অধিনায়কের চেয়ে ভালো আর কে জানেন? এখন দেখার বিষয় হলো, সিলেটের বিপক্ষে এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রাজশাহীর জার্সিতে উইলিয়ামসন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং দলকে ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেন কি না।


বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি: নতুন মোড় ক্রিকেটের দ্বন্দ্বে

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১১:৩৮:১৫
বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি: নতুন মোড় ক্রিকেটের দ্বন্দ্বে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে চলমান এই অচলাবস্থার মধ্যে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি চিঠি। বুধবার (২১ জানুয়ারি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র এক দিন আগে আইসিসিকে পাঠানো এক চিঠিতে পিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার যে অবস্থান বাংলাদেশ নিয়েছে, তার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পিসিবি এই চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও প্রেরণ করেছে।

পিসিবির এই আকস্মিক সমর্থন সত্ত্বেও আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি তাদের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নয়। আইসিসি আগেই বিসিবিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বা সেখানে খেলতে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শুরু থেকেই সূচি পরিবর্তনের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে।

মূলত বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই সংকট নিরসনে গত সপ্তাহান্তে ঢাকায় আইসিসি ও বিসিবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাতে পারবে না। অন্যদিকে, আইসিসি জানিয়েছে যে তারা সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায়। ২১ জানুয়ারি বুধবার ছিল এই অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি নির্ধারিত চূড়ান্ত সময়সীমা।

এই নজিরবিহীন ক্রিকেটীয় সংকটের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ঘটনাপ্রবাহ। অচলাবস্থার সূত্রপাত হয় যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো কারণ জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতিই এর মূল কারণ। এরপরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, জাতীয় ক্রিকেট দল ভারতে গিয়ে কোনো ম্যাচ খেলবে না।

পাকিস্তানের এই দেরিতে যুক্ত হওয়া এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। যাচাই না হওয়া কিছু সংবাদে বলা হয়েছে, পাকিস্তান হয়তো বাংলাদেশে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে। এমনকি বাংলাদেশের এই ইস্যুর ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান নিজেও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না, তা নিয়েও তারা পুনঃচিন্তা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে পিসিবি এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক ভাগ্য এখন ২১ জানুয়ারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে।


পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ২০:৩৮:১৬
পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান
ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ দল আদৌ এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, কিংবা অংশ নিলে তাদের ম্যাচগুলো কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। এমনকি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় পুরো পরিস্থিতি একটি গভীর অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের বক্তব্যেও সেই অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের কাছে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রাইডার্স তথা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যু নিয়ে অগণিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিজেও পুরোপুরি অন্ধকারের মধ্যে রয়েছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অধিনায়কের সাথে কোনো ধরণের আলোচনা বা যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান। এ সংক্রান্ত সরাসরি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল এক শব্দে বলেন, ‘নো।’ বিসিবির সাথে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা হওয়া উচিত ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন কিছুটা দায়সারাভাবে বলেন, “আমি জানি না। কিন্তু হয়নি আমার সাথে।” অধিনায়কের এই মন্তব্য থেকে বিসিবির সাথে দলের সমন্বয়ের অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কা। আইপিএল চলাকালীন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দেওয়া হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়। এই ঘটনার পর বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয় যে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় তারা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী নয়। এর পরিবর্তে তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। গত ১৫ দিন ধরে এই ভেন্যু স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চললেও আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে লিটন দাসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাননি এবং সরাসরি বলেন, “নো কমেন্টস।”

বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের অনিশ্চয়তা দলের মানসিক প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লিটন দাস এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে চান। তিনি জানান, ২৩ জানুয়ারি বিপিএল শেষ হওয়ার পর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে মাঝে যে ১৪ দিন সময় থাকবে, সেই সময়েই তিনি বিশ্বকাপের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। লিটন বর্তমান এই পরিস্থিতিকে মোটেও ‘আদর্শ’ মনে করেন না, তবে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “লাইফে অনেক কিছুই আইডিয়াল না, কিন্তু সার্টেন টাইমে চলে আসলে তা গ্রহণ করতে হয়। বিপিএলও আইডিয়াল ছিল না, তবুও খেলতে হয়েছে।”

গত প্রায় দেড় বছর ধরে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পালন করা লিটন দাস একটি নির্দিষ্ট ১৫ জনের দলকে বিশ্বকাপের জন্য তিল তিল করে প্রস্তুত করেছেন। অথচ এখন সেই দলটিই জানে না তাদের গন্তব্য কোথায়। এ নিয়ে ক্ষোভ ও খারাপ লাগার বিষয়ে লিটন বলেন, বিপিএল চলায় খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যেই আছেন, তবে গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যু জানা থাকলে তা অনেক বেশি সহায়ক হতো। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আপনারা তো ইতিমধ্যে জানেন কোন ১৫ জন যাবে। তো সেই ১৫ জনও এখনো জানে না যে আমরা কোন দেশে যাবো বা কাদের বিপক্ষে খেলবো। আমার জায়গা থেকে আমি যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে, সবাইও তাই। আমার মনে হয় পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে এই মুহূর্তে।”


লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ০৯:৫৭:৫৪
লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের লিগ পর্বের উত্তেজনা দুই দিন আগে শেষ হওয়ার পর, এক দিনের সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে নকআউট বা সুপার ফোরের খেলা। ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য বিপিএলের এই পর্বটি সবসময়ই বাড়তি রোমাঞ্চ নিয়ে আসে, কারণ লিগ পর্বে কে কেমন করেছে তা ছাপিয়ে এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় মাঠের তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স। আজ মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে ক্রিকেট প্রেমীদের বড় একটি অংশের নজর থাকবে এলিমিনেটর ম্যাচের দিকে। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্স। এই ম্যাচের গুরুত্ব আকাশচুম্বী হওয়ার প্রধান কারণ হলো, আজ যে দল হারবে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হবে। ফলে দুই দলের সামনেই আজ ‘ডু অর ডাই’ বা মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রংপুর রাইডার্স এবারের আসরে কাগজে-কলমে অন্যতম সেরা দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তারা দূরদর্শী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার অংশ হিসেবে নকআউট পর্বের জন্য আলাদাভাবে কোনো নতুন বিদেশি খেলোয়াড় না এনে লিগের শুরু থেকেই একঝাঁক তারকা বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। কোচ মিকি আর্থারের অধীনে রংপুর রাইডার্স একটি স্থিতিশীল একাদশ গড়ে তুলেছে এবং দলের নেতৃত্বে রয়েছেন লিটন কুমার দাস। লিগের শেষ দুই ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। রংপুরের ব্যাটিং অর্ডারে ডেভিড মালান এবং তাওহীদ হৃদয়ের ওপেনিং জুটি দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। গতকাল বিশ্রামে থাকা রংপুরের ক্রিকেটাররা আজ শারীরিক ও মানসিকভাবে চনমনে হয়েই মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সিলেট টাইটান্স নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের বিদেশি শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। তারা শেষ মুহূর্তে ক্রিস ওকস এবং স্যাম বিলিংসের মতো বিশ্বমানের তারকা ক্রিকেটারদের স্কোয়াডে যুক্ত করেছে। যদিও মিরপুরের স্লো ও টার্নিং কন্ডিশনে বিদেশের মাঠ থেকে সরাসরি এসে মানিয়ে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবুও বড় তারকাদের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরির পাশাপাশি গেম প্ল্যান পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়। সিলেটের কোচ সোহেল ইসলাম মূলত অভিজ্ঞ বিদেশি তারকাদের ওপর ভরসা করেই নকআউটের বৈতরণী পার হতে চাইছেন। মাঠের লড়াইয়ে তারকাদের স্কিল আর দেশি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার মিশেলে সিলেট আজ রংপুরের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রংপুরের ভক্তরা যেখানে নিজেদের দলের বিদায় দেখতে চাইবেন না, সেখানে সিলেটের মানুষের চাওয়া থাকবে তাদের প্রিয় দল যেন জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

দিনের অন্য ম্যাচে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং চট্টগ্রাম রয়্যালস। লিগ পর্বে সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে টেবিলের শীর্ষে থাকা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আজ ফাইনালে ওঠার প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইবে না। বিপরীতে, চট্টগ্রাম রয়্যালস দেশি ক্রিকেটারদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা একটি দারুণ দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। লিগ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে, তবে হেরে গেলেও তাদের সামনে আরও একটি সুযোগ থাকবে ফাইনালে ওঠার। সব মিলিয়ে আজ মিরপুরের স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলের এক জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রিকেট অনুরাগী দর্শকরা। নকআউট পর্বের এই রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কারা বিপিএল ২০২৬-এর শিরোপার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।


বিশ্বকাপে কি তবে থাকছে না বাংলাদেশ? আইসিসির ‘আল্টিমেটাম’ ঘিরে তোলপাড়

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ০৯:৫১:০১
বিশ্বকাপে কি তবে থাকছে না বাংলাদেশ? আইসিসির ‘আল্টিমেটাম’ ঘিরে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন এক চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে পৌঁছেছে। নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের মাটিতে দল না পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের অবস্থানে অনড় থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, শেষ মুহূর্তে এসে টুর্নামেন্টের ভেন্যু বা গ্রুপ বিন্যাসে কোনো ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি বিসিবিকে একটি চূড়ান্ত সময়সীমা বা ‘আল্টিমেটাম’ বেঁধে দিয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানালে আইসিসি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঝুলে রয়েছে যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

ক্রিকইনফোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিসিবির যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বিসিবির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভারতের পরিবর্তে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি লজিস্টিক জটিলতা এড়াতে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করার একটি অভিনব প্রস্তাবও তুলে ধরেছিল বিসিবি। তবে আইসিসি এই প্রস্তাবগুলো সরাসরি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের সার্বিক পরিকল্পনা ও সম্প্রচার সত্ত্বের খাতিরে সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্ধারিত ‘সি’ গ্রুপেই বাংলাদেশকে খেলতে হবে এবং ২১ জানুয়ারির মধ্যে যদি বাংলাদেশ তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করে, তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে সংস্থাটি।

এই সংকটের মূলে রয়েছে আইপিএল সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ঘটনা, যা পরবর্তীতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে মোড় নেয়। কলকাতা নাইট রাইডার্স বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর জেরে বাংলাদেশ সরকার দেশের অভ্যন্তরে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাঠে নামার কথা রয়েছে। এরপর ইংল্যান্ড, ইতালি এবং মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা টাইগারদের। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২১ জানুয়ারির সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে লাল-সবুজের পতাকাবাহী দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ।


বিপিএলে সিলেটের বড় চমক: প্লে-অফের আগে আরও শক্তিশালী টাইটান্স বাহিনী

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৯:৩৬:৫১
বিপিএলে সিলেটের বড় চমক: প্লে-অফের আগে আরও শক্তিশালী টাইটান্স বাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করার পরপরই শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে বড় ধরণের তোড়জোড় শুরু করেছে সিলেট টাইটান্স। প্লে-অফের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে দলের শক্তি বহুগুণ বাড়াতে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট তারকাদের অন্তর্ভুক্ত করার যে পরিকল্পনা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে তারা এবার সরাসরি চুক্তিতে ভিড়িয়েছে একের পর এক ইংলিশ তারকাকে।

ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার ক্রিস ওকস শনিবারই রাজধানী ঢাকায় পা রেখেছেন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি থাকলেও বিন্দুমাত্র বিশ্রামের সুযোগ না নিয়ে তিনি রবিবার বিকেলেই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে অনুশীলনে নেমে পড়েন। নেটে দীর্ঘক্ষণ বোলিং অনুশীলন করে নিজেকে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই তারকা পেসার, যার অভিজ্ঞতা এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেটের বোলিং লাইনআপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছে দলটির ম্যানেজমেন্ট।

ক্রিস ওকসের পর সিলেট শিবিরে যোগ দিচ্ছেন আরও এক ব্রিটিশ পাওয়ারহাউজ স্যাম বিলিংস। উইকেটকিপার এবং বিস্ফোরক ব্যাটার হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত বিলিংসকে দলে নেওয়ার বিষয়টি রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী। ওকসের মতোই বিলিংসকেও কোনো ড্রাফট নয় বরং সরাসরি চুক্তির আওতায় দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবং দলীয় সূত্র অনুযায়ী সোমবারই তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আগে থেকেই সিলেট শিবিরে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মঈন আলী এবং ইথান ব্রুকস থাকায় ওকস ও বিলিংসের আগমনে দলটি এখন কার্যত ইংলিশ ক্রিকেটারদের একটি শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে ক্রিকেট পাড়ায় একটি গুঞ্জন তীব্রতর হচ্ছে যে ইংল্যান্ডের মারকুটে ওপেনার ফিল সল্টকেও দলে ভেড়ানোর জন্য তাঁর সাথে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিলেট টাইটান্স। যদি এই চুক্তিটিও সম্পন্ন হয়, তবে প্লে-অফের আগে সিলেট টাইটান্স বিপিএলের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী এক বিদেশি কোটা নিয়ে মাঠে নামবে, যা প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য বড় ধরণের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


মোড় নিল বিশ্বকাপ বিতর্ক: বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের নতুন সমীকরণ

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৮:৩৭:২২
মোড় নিল বিশ্বকাপ বিতর্ক: বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের নতুন সমীকরণ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন এক মোড় নিতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে অনড় অবস্থান নিয়েছে, তাতে এবার যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে পাকিস্তানও এই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে আসন্ন এই মেগা ইভেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপে ভারত সফর এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহায়তা পেতে ঢাকা পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। পাকিস্তান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের যদি সম্মানজনক সমাধান না হয়, তবে তারাও টুর্নামেন্টে থাকা বা না থাকার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারে। এই সংহতি আইসিসির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

এই সংকট নিরসনে আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বিকেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনাও অনলাইনে যুক্ত হন। উল্লেখ্য, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গৌরব সাক্সেনা সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। দীর্ঘ আলোচনার পরও বিসিবি তাদের আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে।

বৈঠক শেষে বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইসিসির প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য পুনরায় আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিসিবি যুক্তি দিয়েছে যে, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি সমর্থক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এই নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আইসিসিকে স্পষ্টভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে লজিস্টিক পরিবর্তনের চাপ কমাতে একটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবটি হলো, বাংলাদেশকে অন্য একটি গ্রুপে স্থানান্তর করা (যেমন আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ)। যদি বাংলাদেশকে এমন একটি গ্রুপে নেওয়া হয় যার ম্যাচগুলো ইতোমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত রয়েছে, তবে টুর্নামেন্টের মূল কাঠামোতে খুব বেশি পরিবর্তন না এনেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সহজতর করার উপায় হিসেবে অন্য গ্রুপে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে আইসিসি তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

বিসিবির এই কঠোর অবস্থান এবং তাতে পাকিস্তানের প্রচ্ছন্ন সমর্থন আইসিসিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভারতের মতো বড় বাজারের বাইরে ম্যাচ আয়োজন করা যেমন লজিস্টিক্যালি কঠিন, তেমনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দলগুলোকে ছাড়া বিশ্বকাপের জৌলুস ও বাণিজ্যিক সাফল্য রক্ষা করাও আইসিসির জন্য দুঃসাধ্য। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি কি বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের বা ভেন্যু স্থানান্তরের এই অভিনব প্রস্তাব গ্রহণ করে কি না, নাকি টুর্নামেন্ট ঘিরে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়।


বিশ্বকাপ জট খুলতে আইসিসিকে এবার নতুন এক ফর্মুলা দিল বাংলাদেশ

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:১৪:৪২
বিশ্বকাপ জট খুলতে আইসিসিকে এবার নতুন এক ফর্মুলা দিল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে বিসিবির অনাগ্রহ এবং এর বিকল্প সমাধান হিসেবে গ্রুপ পরিবর্তনের যে নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, সেটিই ছিল এই দীর্ঘ আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৈঠকে আইসিসির পক্ষে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির দুর্নীতি দমন বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। তবে ভিসা জটিলতার কারণে আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার (ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশন্স) গৌরব সাক্সেনা নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। ফলে তিনি দুবাই থেকে ভার্চুয়ালি এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যুক্ত হন। বিসিবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আইসিসি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের অবস্থানের স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন এবং ভারতের মাটিতে না খেলে কীভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তার একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেন।

বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের গ্রুপ বিন্যাসে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশকে বর্তমান অবস্থান থেকে ‘বি’ গ্রুপে স্থানান্তর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে বর্তমানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ে। এই গ্রুপের সবকটি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবির যুক্তি হলো, যদি বাংলাদেশকে এই গ্রুপে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে ভারতের মাটিতে না গিয়েই শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো খেলা সম্ভব হবে। বোর্ড মনে করছে, টুর্নামেন্টের কাঠামোতে ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তন এনে সমাধান পাওয়ার এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শনিবার রাতে বিসিবির পক্ষ থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনাটি অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ এবং পেশাদার পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বিসিবি পুনরায় আইসিসিকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দল, বাংলাদেশি সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে অগ্রাধিকার। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে, সেটিও আইসিসি প্রতিনিধিদের বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

এই অনড় অবস্থানের নেপথ্যে কাজ করছে সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উগ্রবাদীদের চাপের মুখে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেট ভক্ত ও সরকারের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বিসিবি রাজি নয়। তবে বৈশ্বিক এই আসর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার না করে আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক ও নিরাপদ সমাধান চাইছে বিসিবি।

বৈঠকে বিসিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ, পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বৈঠক শেষে আইসিসির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো না হলেও বিসিবি জানিয়েছে, উভয় পক্ষই এই বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আইসিসি তাদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর এই প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুতই একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা সিদ্ধান্ত পাঠাবে।

সূত্র: আনন্দবাজার


গ্রুপ বদল না ভেন্যু পরিবর্তন? বিশ্বকাপ সংকট কাটাতে বিসিবির নতুন প্রস্তাব

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২০:৫০:০৬
গ্রুপ বদল না ভেন্যু পরিবর্তন? বিশ্বকাপ সংকট কাটাতে বিসিবির নতুন প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে বিসিবির অনড় অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এত দিন অনলাইনে আলোচনা চললেও, সংকট মোকাবিলায় আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সশরীরে ঢাকা সফরে এসেছেন। বিকেলের এই বৈঠকে বিসিবির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সাথে বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে লজিস্টিক ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা প্রত্যাশিত সময়ে বাংলাদেশের ভিসা না পাওয়ায় বৈঠকে সরাসরি যোগ দিতে পারেননি; পরিবর্তে তিনি দুবাই থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সংলাপে যুক্ত হন।

রাতে বিসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়েছে। বোর্ড তাদের পূর্বের অবস্থানে অটল থেকে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে প্রস্তাব দিয়েছে যেন বাংলাদেশের সব কটি ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হয়। এই দাবির স্বপক্ষে বিসিবি বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ও গভীর উদ্বেগের বিষয়টিও আইসিসি প্রতিনিধিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে। বিশেষ করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও বাংলাদেশি ক্রীড়াপ্রেমী সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজনদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আইসিসিকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

আলোচনার একপর্যায়ে টুর্নামেন্টের মূল কাঠামোতে ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তন এনে কীভাবে এই সংকটের সমাধান করা যায়, তা নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাবনাও উঠে এসেছে। বিসিবি জানিয়েছে, বৈশ্বিক এই আসরে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে বর্তমান গ্রুপ থেকে সরিয়ে ভিন্ন কোনো গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এতে করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়ানো এবং লজিস্টিক জটিলতা কমানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে বিসিবি। বৈঠকে বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াৎ হোসেন ও ফারুক আহমেদ, পরিচালক এবং ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বোর্ডের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র থেকে জানা গেছে, আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবির প্রতিটি যুক্তি ও প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শুনলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইসিসি সভাপতি জয় শাহর সঙ্গে আগে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। জয় শাহর সাথে পরামর্শের পরেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইসিসি তাদের চূড়ান্ত অবস্থান বিসিবিকে অবহিত করবে বলে প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দিনশেষে বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইতিবাচক একটি সুর পাওয়া গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে আইসিসির সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেছে।


ফাহাদের বোলিং তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভারত; যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভ সূচনা

ক্রিকেট ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৮:৪৯:২৪
ফাহাদের বোলিং তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভারত; যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভ সূচনা
ছবি- আইসিসি

জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে আজ থেকে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই বল হাতে এক বিধ্বংসী সূচনা করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পেসার আল ফাহাদের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে ভারতকে মাত্র ২৩৮ রানেই অলআউট করে দিয়েছে জুনিয়র টাইগাররা। কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আল ফাহাদ একাই শিকার করেছেন ৫টি উইকেট, যা ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

আজ শনিবার সকালে বুলাওয়ের আকাশ মেঘলা থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে টস হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে টস অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ অধিনায়ক আগে বোলিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। বিশেষ করে পেসার আল ফাহাদ ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন। ওই ওভারের পরপর দুই বলে তিনি ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে (৬) এবং নতুন ব্যাটসম্যান ভেদান্ত ত্রিবেদীকে (০) সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ হয়নি, তবে ভারতের টপ অর্ডার ততক্ষণে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এরপর ভিহান মালহোত্রাকে ৭ রানে বিদায় করেন আজিজুল হাকিম তামিম, যার ফলে মাত্র ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ভারত।

চতুর্থ উইকেটে ভারতকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন বৈভব সূর্যবংশী এবং অভিজ্ঞান কুন্ডু। এই দুই ব্যাটসম্যানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভারত বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়। তারা দুজন মিলে ৬২ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তবে এই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটিটি ভাঙেন ইকবাল হোসেন ইমন। ৭২ রান করা সূর্যবংশীকে ফিরিয়ে দিয়ে ইমন বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন। সূর্যবংশী ইমনের বলে আল ফাহাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন। এই সময় আবারও বৃষ্টির কারণে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা এক ওভার কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বৃষ্টির পর খেলা পুনরায় শুরু হলে বাংলাদেশ দল আবারও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের একপ্রান্ত আগলে রাখা অভিজ্ঞান কুন্ডু একাধিকবার জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত আল ফাহাদের গতির কাছে পরাস্ত হন। ৮০ রান করা কুন্ডুকে আউট করে ফাহাদ ভারতের বড় স্কোরের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন। ইনিংসের শেষ দিকে দীপেশ দেভেন্দ্রানকে আউট করার মাধ্যমে আল ফাহাদ নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন। আল ফাহাদের এই বিধ্বংসী তোপে নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই ২৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। যুব বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৩৯ রান। পুরো ইনিংস জুড়ে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও আল ফাহাদের ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স এখন জয়ের পথে বাংলাদেশকে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে।

পাঠকের মতামত: