এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৪:৫৭:২৯
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করেছে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত এই রুটিন অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে এবং চলবে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত। এতে কয়েক লাখ পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতির একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত হলো।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড–এর ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। বোর্ড সূত্র জানায়, সাধারণ এসএসসির পাশাপাশি দাখিল ও ভোকেশনাল ধারার পরীক্ষাও একই সময়সূচির আওতায় অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সিলেবাস সম্পন্ন হওয়ার সময়, রমজান ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়, আবহাওয়া এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় নির্ধারণে যেন শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ না পড়ে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

পরীক্ষাকে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ দফা বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনা পরীক্ষার আগে, চলাকালীন ও ফল প্রকাশ–পরবর্তী প্রতিটি ধাপকে কাঠামোবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ীই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এবং সময় ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।

এ বছরও পরীক্ষার কাঠামোতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশ বহাল থাকছে। প্রথমে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, এরপর কোনো বিরতি ছাড়াই সৃজনশীল পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। বোর্ড জানিয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণ ও সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা একসঙ্গে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রবেশপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে বোর্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে প্রবেশপত্র বিতরণে জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানকেই নিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তরপত্র পূরণের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে নির্ধারিত বৃত্ত ভরাট করতে হবে। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না এবং ভুলভাবে পূরণ করা ওএমআর ফরম পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শিক্ষা বোর্ড আরও জানিয়েছে, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক—এই তিন অংশেই আলাদাভাবে পাস করতে হবে। কোনো একটি অংশে অকৃতকার্য হলে পুরো বিষয়ে অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া, নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। এ বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বোর্ডে পাঠাবে। এতে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। আবেদন প্রক্রিয়া, ফি ও সময়সূচি পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়সূচি ও নির্দেশনাগুলো সময়মতো প্রকাশ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন সুপরিকল্পিতভাবে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে পারবে। একই সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে।

-শরিফুল


ছুটি বাড়ল মাদ্রাসায়, কমল স্কুলে: ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে বড় পরিবর্তন

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ২১:৩৩:৪৬
ছুটি বাড়ল মাদ্রাসায়, কমল স্কুলে: ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ছুটির সংখ্যা এবং পরীক্ষার সময়সূচি সংক্রান্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর দেশের সরকারি আলিয়া এবং বেসরকারি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়াই মোট ৭০ দিন ছুটি থাকবে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে মাদ্রাসাগুলোতে সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া ৫৯ দিন ছুটি ছিল, সেই হিসাবে নতুন বছরে মাদ্রাসায় ছুটির সংখ্যা বেড়েছে ১১ দিন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ গত সোমবার এই ছুটির তালিকার অনুমোদন প্রদান করেছে।

প্রকাশিত এই ছুটির তালিকায় ছুটির পাশাপাশি এবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শুরু হবে ২৫ জুন থেকে এবং তা চলবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। অন্যদিকে, দাখিল স্তরের নির্বাচনি পরীক্ষা বা টেস্ট পরীক্ষা ১১ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা এবং আলিম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষা ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বছরে মাদ্রাসাগুলোতে সবচেয়ে বড় ছুটির তালিকা থাকছে পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জুমআতুল বিদা, লাইলাতুল কদর, ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। এই টানা ৩০ দিনের ছুটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

ছুটির তালিকায় বিশেষ কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মও যুক্ত করেছে অধিদপ্তর। এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দিনের ছুটি থাকবে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে, যা ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধানের হাতে ৩ দিনের সংরক্ষিত ছুটি রাখা হয়েছে, তবে এই ছুটি ভোগ করার আগে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করতে হবে। এছাড়া হাওর অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোর জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে (মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু) শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা চাইলে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থেকে ১০ দিন সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট সময়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন।

শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অধিদপ্তর থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন বা সংবর্ধনা উপলক্ষে মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া যাবে না এবং শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না। এমনকি সংবর্ধিত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানোও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাতীয় দিবসগুলো যেমন—২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর এবং বাংলা নববর্ষ ও ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করতে বলা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র থাকলে বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাস চালু রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে শনিবার বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে সিলেবাস শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, এ বছর মাধ্যমিক স্কুলে ছুটি কমে ৫৬ দিন হলেও কলেজে এক দিন বেড়ে ৭২ দিন করা হয়েছে।


২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৬:৫৫:৫২
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

রুটিন দেখুন এখানে -


এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে জরুরি আপডেট

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১২:০১:৪৯
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে জরুরি আপডেট
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সীমা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত ফি সোনালী সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিশোধ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার–এর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

বোর্ডের ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময়সীমা ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের শেষ তারিখ একদিন বাড়িয়ে ২৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচিও প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রকাশিত পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার বিস্তারিত রুটিন জানানো হয়।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হবে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত।

লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৭ জুন থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়ে ছুটি পড়ার কারণেই ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি তুলনামূলকভাবে পরে নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ এপ্রিল। সে হিসাবে এবছর পরীক্ষা প্রায় ১১ দিন পিছিয়ে শুরু হচ্ছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার এই সময়সূচি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কিছুটা বাড়তি সময় দেবে।

-শরিফুল


শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা: প্রকাশিত হলো পূর্ণাঙ্গ সূচি

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৮:৪৮:২৯
শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা: প্রকাশিত হলো পূর্ণাঙ্গ সূচি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করা হয়। সাধারণত প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থাকলেও, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এপ্রিল মাসে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তত্ত্বীয় বা লিখিত পরীক্ষাগুলো শেষ হবে ২০ মে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে এবং প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে জুন মাসে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৭ জুন থেকে শুরু করে ১৪ জুনের মধ্যে সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার বেশ কিছু কঠোর ও বিশেষ নির্দেশাবলি জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে জানানো হয়েছে যে, প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং এরপর সৃজনশীল বা রচনামূলক (CQ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ধরণের পরীক্ষার মাঝখানে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্রগুলো নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে সংগ্রহ করতে পারবে। তবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা অন্তত সাত দিন আগে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করেন। প্রবেশপত্র বিতরণ নিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানই এর দায়ভার বহন করবেন।

উত্তরপত্র পূরণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিষয় কোড যথাযথভাবে লিখে নির্ধারিত বৃত্তগুলো ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। এছাড়া পরীক্ষার ফলাফলে সফল হতে হলে একজন পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল, বহুনির্বাচনি এবং ব্যবহারিক—এই তিনটি অংশেই পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী কেবল তার নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে; ভিন্ন কোনো বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষার মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী চাইলে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবে, যার বিস্তারিত প্রক্রিয়া যথাসময়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।


৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৪:৫৯:০৪
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ক্যাডার সার্ভিসে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে পঞ্চাশতম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) সারাদেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি কর্ম কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হবে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন কেন্দ্রে একই সময়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কমিশন জানিয়েছে, পরীক্ষার কেন্দ্র, হল, আসন বিন্যাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা যথাসময়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট এবং আবেদন কার্যক্রম পরিচালনাকারী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত এসব তথ্য অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সূচির তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার দিন নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা এবং কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইটে পঞ্চাশতম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ৪ ডিসেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এবারের বিসিএসে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেছেন বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রণীত সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য ৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে ৩০ জুলাই ২০২৬। এরপর ১০ আগস্ট ২০২৬ থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। সব ধাপ শেষে ২৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পঞ্চাশতম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন।

কমিশন সূত্র জানায়, নির্ধারিত এই সময়সূচি অনুযায়ী সব ধাপ সম্পন্ন করা গেলে বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে। এতে ক্যাডার সার্ভিসে শূন্য পদ পূরণে গতি আসবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-শরিফুল


৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২০:৪১:২৯
৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ করে পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময়সীমা এবং আসন বিন্যাসের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরিনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পিএসসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের পর আর কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। হলের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের এই সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এবারের ৫০তম বিসিএস পরীক্ষায় আসন বিন্যাস ও হাজিরা তালিকায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হাজিরা তালিকায় পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোড় ও বিজোড় ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করা হবে।

পাশাপাশি প্রতিটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর কক্ষভিত্তিক দৈবচয়ন (র‍্যান্ডম) পদ্ধতিতে সাজিয়ে হাজিরা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পিএসসি জানায়, এই বিশেষ পদ্ধতির কারণে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসন ও কক্ষ চিহ্নিত করতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

আসন খুঁজে পেতে সম্ভাব্য বিলম্বের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিএসসি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের পর হলের গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এরপর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজন এবং হলের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের এই পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।


জুলাই বিপ্লব ইস্যুতে ইবিতে আবারও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৫:৪৫:৪৬
জুলাই বিপ্লব ইস্যুতে ইবিতে আবারও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লববিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ধরন পুনর্মূল্যায়ন এবং শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত রিভিউ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই কমিটি আগের অভিযোগগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নতুন অভিযোগও গ্রহণ করতে পারবে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যাতে অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্টতার মাত্রা এবং সম্ভাব্য শাস্তির সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পুনর্গঠিত পাঁচ সদস্যের রিভিউ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আওরঙ্গজীব মো. আব্দুর রাহমানকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ মার্চ জুলাই বিপ্লববিরোধী ভূমিকা থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ১৯ জন শিক্ষক এবং ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সভায় ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং তাদের একাডেমিক সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে শাস্তির মাত্রা চূড়ান্ত করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভেজ আজহারুল হককে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির অধিকাংশ সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পুনর্গঠিত এই রিভিউ কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দেবে। এর মাধ্যমে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পর্যালোচনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


টানা ২৬ দিন বন্ধ থাকবে কলেজ! ২০২৬ সালের বড় ছুটির তালিকা জানুন

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ০৯:৪৬:৩৩
টানা ২৬ দিন বন্ধ থাকবে কলেজ! ২০২৬ সালের বড় ছুটির তালিকা জানুন
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরে কলেজগুলোতে সর্বমোট ৭২ দিন ছুটি থাকবে। উল্লেখ্য যে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই ছুটির সংখ্যা ছিল ৭১ দিন, যা এ বছর এক দিন বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এই তালিকা প্রকাশ করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাঁদের বার্ষিক পড়াশোনা ও ভ্রমণের পরিকল্পনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে পারবেন।

এবারের ছুটির তালিকায় সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতি রাখা হয়েছে পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত টানা ২৬ দিন কলেজগুলো বন্ধ থাকবে। এই দীর্ঘ ছুটির ফলে শিক্ষার্থীরা পবিত্র রমজানের ইবাদত এবং ঈদের আনন্দ পরিবারের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে উদযাপন করতে পারবেন। এছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে এক দিনের সাধারণ ছুটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যেও শিক্ষার্থীরা বড় ছুটি পেতে যাচ্ছেন, যেখানে আগামী ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত টানা ১০ দিন কলেজ বন্ধ থাকবে।

বছরের শেষার্ধেও বেশ কয়েকটি বড় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিন ছুটি থাকবে। শিক্ষাবর্ষের একেবারে শেষে বছরের সমাপ্তি ঘটবে শীতকালীন অবকাশের মাধ্যমে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিন থাকবে শীতকালীন ছুটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে ৩ দিনের সংরক্ষিত ছুটি রাখা হয়েছে, যা তাঁরা স্থানীয় প্রয়োজন বা বিশেষ কোনো কারণে ব্যবহার করতে পারবেন।


প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল কবে, যা বলছে অধিদপ্তর 

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৭:৩০:৫১
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল কবে, যা বলছে অধিদপ্তর 
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রিলিমিনারি বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এখন দেশজুড়ে ১০ লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থীর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ফলাফল প্রকাশের দিকে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) সারা দেশে একযোগে এই বিশাল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রার্থী ও পদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় সরকারি চাকরির পরীক্ষা হিসেবে স্বীকৃত। পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরদিন অর্থাৎ আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করাই এখন অধিদপ্তরের মূল লক্ষ্য।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা এস এম মাহবুব আজ দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন যে তারা সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করে থাকেন। সেই নিয়ম বজায় রেখে চলতি জানুয়ারি মাসেই ফলাফল প্রকাশের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আজ বেলা ৩টা থেকে উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণত এই কারিগরি দিকগুলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট দেখভাল করে থাকে। যদিও বর্তমানে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা চলমান থাকায় কাজের চাপে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও পূর্বনির্ধারিত ১৫ দিনের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এর আগে ২০২৪ সালেও তিন ধাপে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সফল অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও কারিগরি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত ফলাফল প্রস্তুতির কাজ চলছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে এখন অনেক কম সময় লাগে, তাই বুয়েটের ব্যস্ততা সত্ত্বেও প্রার্থীরা মাসের শেষ নাগাদ নিজেদের ফলাফল পেয়ে যাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর কথা মাথায় রেখে ফলাফল প্রকাশের সার্ভার ও অনলাইন পোর্টালগুলোকেও শক্তিশালী রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মতামত: