সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৭:০৮:২৫
সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা
সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান যে, এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন। এছাড়া নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (যার মধ্যে স্থলভাগে থাকবেন ১ হাজার ২৫০ জন), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র‍্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াকে দুই পর্বে ভাগ করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে বর্তমানে যারা মোতায়েন রয়েছেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং দ্বিতীয় পর্বে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক বিশেষ মোতায়েন কার্যকর থাকবে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হবে এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।

এছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হবে যেখানে প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করে এই সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচন এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি চালানো হবে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি এবং বিজিবি ১০০টি ড্রোন পরিচালনা করবে। এছাড়া পুলিশ, নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‍্যাব এবং আনসার বাহিনীর কাছেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ড্রোন থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন বাহিনী তাদের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। তবে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬'। এই অ্যাপের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম পর্যন্ত সবাই যুক্ত থাকবেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকারে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে যা আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।

সারাদেশে এবারের জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১টি, যার মধ্যে ৮,৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬,৫৪৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে থাকছে ১৭,৪৩৩টি কেন্দ্র। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন দুষ্কৃতকারীদের দমনে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব চার দিন সারাদেশে নিবিড় টহল পরিচালনার পাশাপাশি চেক পয়েন্ট বা তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাভিত্তিক বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে একটি নিবিড় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

সবশেষে, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের সর্বশেষ ফলাফল তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে মোট ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা এবং বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং দুষ্কৃতকারীদের দমনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি না থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো প্রকার অপতৎপরতা বা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ; জারি হলো ১২ দফার নতুন গাইডলাইন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৯:২০:২২
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ; জারি হলো ১২ দফার নতুন গাইডলাইন
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ১২টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা এই নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের জন্য ১২টি বিশেষ করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো

১. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

৩. অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।

৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।

৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

৭. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

৮. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন: লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।

৯. যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।

১০. সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে।

১১. জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে।

১২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

/আশিক


জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান: এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৮:৫৫:৩৬
জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান: এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ বছর ২০ জন স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিম্নবর্ণিত ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা—

১. বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদান

২. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, মুক্তিযুদ্ধ

৩. মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ

অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৫. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চিকিৎসাবিদ্যা

৬.ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সাহিত্য

৭. এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), সংস্কৃতি

৮. বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতি

৯. জোবেরা রহমান (লিনু), ক্রীড়া

১০. পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), পল্লী উন্নয়ন

১১. ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা

১২. এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সমাজসেবা/ জনসেবা

১৩. মো. সাইদুল হক, সমাজসেবা/ জনসেবা

১৪. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সমাজসেবা/ জনসেবা

১৫. মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা

১৬. কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), জনপ্রশাসন

১৭. মোহাম্মদ আবদুল বাকী, পি এইচ ডি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ

১৮. অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ

১৯. অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ

২০. আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু), পরিবেশ সংরক্ষণ

/আশিক


ঈদযাত্রায় বিশেষ স্বস্তি: ছুটির ক্যালেন্ডারে নতুন পরিবর্তন আনল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১২:৩৭:৩৩
ঈদযাত্রায় বিশেষ স্বস্তি: ছুটির ক্যালেন্ডারে নতুন পরিবর্তন আনল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে নির্বাহী অদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাহী আদেশে আগামী ১৮ মার্চও ছুটি থাকবে। এর ফলে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি থাকবে।

সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৮ মার্চও ছুটি থাকবে।

/আশিক


কৃষি খাতে ডিজিটাল বিপ্লব: দেশের ৯টি উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১২:২৬:২৬
কৃষি খাতে ডিজিটাল বিপ্লব: দেশের ৯টি উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’
ছবি : সংগৃহীত

দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলায় প্রাথমিককভাবে চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলার নির্বাচিত নয়টি ব্লকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে।

নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো— টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ।

তিনি আরও জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

/আশিক


স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বিপ্লব: এক কার্ডেই মিলবে নাগরিকের সব চিকিৎসাতথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১০:৩৪:৪৯
স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বিপ্লব: এক কার্ডেই মিলবে নাগরিকের সব চিকিৎসাতথ্য
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞ মহলের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এই কার্ড চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি উল্লেখ করে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন।

ই-হেলথ কার্ড মূলত একটি ডিজিটাল ডাটাবেস হিসেবে কাজ করবে। এর আওতায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্ড থাকবে, যেখানে তাদের যাবতীয় মেডিকেল রেকর্ড বা চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কোনো রোগী দেশের যেকোনো প্রান্তে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার পূর্বের শারীরিক অবস্থা ও রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে একটি জেলাকে 'পাইলট প্রকল্প' হিসেবে বেছে নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত একটি সমন্বিত ‘রেফারেল নেটওয়ার্ক’ তৈরি করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের অনুপাত হবে ৮০:২০। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান শূন্য পদগুলোতে দ্রুত চিকিৎসক ও কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ করে দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। সরকার আশা করছে, এই ই-হেলথ কার্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

/আশিক


যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরলেন ১৮৯ বাংলাদেশি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১০:১০:১৮
যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরলেন ১৮৯ বাংলাদেশি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকেপড়া ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াতে এবং মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম-আবুধাবী-ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকা পড়েন তারা।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিবার-স্বজনদের অনেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের এই ফ্লাইটের কথা জানতে পেরে গভীর রাতেই বিমানবন্দরে চলে আসেন। এখানেই সারেন সেহরি।

বিমান অবতরণের খবরে সবাই সন্তুষ্ট। প্রিয়জনকে নিরাপদে ফেরত পাচ্ছেন, এটাই তাদের বড় স্বস্তি।

/আশিক


জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে হাইকোর্টের রুল: রাজনীতির মাঠে নয়া উত্তাপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৯:৪০:৪৭
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে হাইকোর্টের রুল: রাজনীতির মাঠে নয়া উত্তাপ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে 'জুলাই সনদ' ও সংবিধান সংস্কারের আইনি বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারির পর এক নতুন মেরুকরণ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, সদস্যদের শপথ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতের এই হস্তক্ষেপ আগামী দিনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যেকার আদর্শিক ও কৌশলগত বিরোধ এই ইস্যুতে প্রকট হয়ে উঠেছে।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে দেশজুড়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বড় একটি অংশ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি এই শপথ প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে জটিল রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের জোটের শরীক এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।

বিএনপির এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। তারা মনে করছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এটি একটি অন্তরায়। জামায়াত ও এনসিপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিলেও বড় দল হিসেবে বিএনপির অনীহা পুরো সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রমকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এখন বড় প্রশ্ন হলো—প্রধান রাজনৈতিক দলটির অংশগ্রহণ ছাড়া এই সংস্কার পরিষদ কি আদৌ গঠন করা সম্ভব হবে, নাকি এটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে বিষয়টি আদালতের কাঠগড়ায় ওঠায় রাজনীতির মাঠ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ময়দানে নানা ধরনের বক্তব্য আসতে পারে, তবে যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে, তাই আদালত থেকে কী ধরনের নির্দেশনা আসে তা সংসদকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে আইন প্রণয়নের সময় আদালতের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং এই ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপি জোটের রাজনৈতিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি। যদি আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক মতভেদ আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে সংবিধান সংস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় এবং দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ।

/আশিক


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চিফ হুইপ ও হুইপদের শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:৪১:৫০
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চিফ হুইপ ও হুইপদের শ্রদ্ধা
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চিফ হুইপসহ হুইপদের শ্রদ্ধা। ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও হুইপরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমাধি প্রাঙ্গণে জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চিফ হুইপ ও হুইপরা দেশের এই দুই শীর্ষ নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তারা মরহুম নেতাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

এ সময় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। নবনিযুক্ত সংসদীয় এই নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

/আশিক


স্বাস্থ্য সেবায় বিপ্লব আনতে ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:৩২:৫৫
স্বাস্থ্য সেবায় বিপ্লব আনতে ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (সংগৃহীত ছবি)

সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও আধুনিক করতে সারা দেশে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে স্বাস্থ্য খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়ে জানান, ই-হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আগের চেয়ে আরও বেশি গতিশীল ও সক্রিয় হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে থাকা পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এই ভবনগুলোকে সংস্কার করে দ্রুত সেগুলোতে ক্লিনিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। উদাহরণ হিসেবে জানানো হয়, শুধুমাত্র এলজিইডি-র অধীনেই ১৭০টি এমন পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। এসব ভবনকে জনকল্যাণে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও এবারের সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্ম হয়, যাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই বিশাল জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকরী ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: