সেনাবাহিনী থেকে কোস্ট গার্ড: শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কড়া বার্তা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান যে, এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন। এছাড়া নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (যার মধ্যে স্থলভাগে থাকবেন ১ হাজার ২৫০ জন), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াকে দুই পর্বে ভাগ করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে বর্তমানে যারা মোতায়েন রয়েছেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং দ্বিতীয় পর্বে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক বিশেষ মোতায়েন কার্যকর থাকবে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে পরিচালিত হবে এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে।
এছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হবে যেখানে প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করে এই সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচন এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি চালানো হবে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি এবং বিজিবি ১০০টি ড্রোন পরিচালনা করবে। এছাড়া পুলিশ, নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, র্যাব এবং আনসার বাহিনীর কাছেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ড্রোন থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন বাহিনী তাদের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। তবে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬'। এই অ্যাপের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম পর্যন্ত সবাই যুক্ত থাকবেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকারে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে যা আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।
সারাদেশে এবারের জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১টি, যার মধ্যে ৮,৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬,৫৪৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে থাকছে ১৭,৪৩৩টি কেন্দ্র। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন দুষ্কৃতকারীদের দমনে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব চার দিন সারাদেশে নিবিড় টহল পরিচালনার পাশাপাশি চেক পয়েন্ট বা তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাভিত্তিক বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে একটি নিবিড় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সবশেষে, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানের সর্বশেষ ফলাফল তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে মোট ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা এবং বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ সর্বমোট ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং দুষ্কৃতকারীদের দমনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি না থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো প্রকার অপতৎপরতা বা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে যে অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পেয়ে জনগণের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভুল নীতিমালার অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এর ওপর সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট, যা পুরোপুরি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন মোট ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাত তীব্র সংকটে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যে কারণে তিনটি খাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে গ্যাস বণ্টন করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির পেছনে বড় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন স্থগিত থাকাকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মহেশখালীর মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার আরও একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংসদে জানান তিনি। চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও ভারত থেকে দিনে মাত্র ৯০০ মেগাওয়াট এবং সান্ধ্যকালীন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত ঘটেছিল বলে সংসদে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য নিয়োজিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটিতে গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। সেটি মেরামত করতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় ব্যয় হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় বিপর্যয় নেমে আসে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে সেই জটিলতার প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে পায়রা ও মাতারবাড়ির বন্ধ ইউনিটগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ করে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে সরকার রুফটপ সোলার বা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নীতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে আগামী গ্রীষ্মে নাগরিকদের এমন চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে না। জ্বালানি খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগ স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা এবং খাতটি ঘিরে থাকা যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করতে মন্ত্রণালয় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
/আশিক
জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সার্বিক সরবরাহ বৃদ্ধির জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান।
সংসদে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের মহেশখালী সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও আবাসিক জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত এই ভাসমান টার্মিনালগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
/আশিক
আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট গড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম।
দুদক মুখপাত্র জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটিতে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২০০ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি এবং সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের বিনিময়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের তালিকায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা পদায়ন, বদলি ও বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তৎকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ১৮৮ কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে তাঁর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পেয়েছে কমিশন। এর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করেছে দুদক।
উল্লেখ্য, এর আগেও আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করেছিল সংস্থাটি। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধান শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
/আশিক
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাত্র তিন সপ্তাহ পার হতেই এর ভবিষ্যৎ বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির চেয়েও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নতুন কোন কোন দেশ এই সামরিক বলয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি ঘটলে এই জোটের ভৌগোলিক পরিসর পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
সম্ভাব্য সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং মিসর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে ইরানের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। পার্লামেন্টের গণমাধ্যম শাখা থেকে তেহরানের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলা হলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এই সামরিক জোটের প্রথম সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘটার সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা এই চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। ঢাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জোটটিতে আরও একটি বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব বাড়বে।
তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ আলী জাফরের মতে, অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার পক্ষে এখনই এমন বড় সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দিল্লির অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কারণ চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা শর্ত অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো সংঘাতে ঢাকার জড়িয়ে পড়ার যৌক্তিক কারণ না থাকলেও ইরান বা অন্য দেশগুলো যুক্ত হলে ঢাকা তাদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এই জোটের জন্য যেমন বিরাট তাৎপর্য বহন করে, তেমনি এতে গভীর কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে। জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন তিন দেশই ইরানের আগ্রাসী সামরিক নীতি ও ইসরায়েলের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক। তেহরানের ইনস্টিটিউট ফর বিআরআই স্টাডিজের গবেষক আলি হোসেইনির মতে, মক্কা চুক্তির মূল কাঠামোটি মূলত ইরানের সামরিক প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি প্রয়াস।
ফলে এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে ইরানের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, বরং বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা জিইয়ে রাখাই তেহরানের জন্য লাভজনক। গবেষক আলী জাফর মনে করেন, ইরান যুক্ত হলে জোটটি বৃহৎ রূপ পেলেও বর্তমান সদস্যরা তেহরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইবে না। ফলে জোট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রতিপক্ষ ও পরস্পরবিরোধী স্বার্থের জটিলতাও তৈরি হবে।
মিসরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জোটের প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক অফির উইন্টারের মতে, চুক্তিটি কাদের লক্ষ্য করে গঠিত এবং এতে কী ধরনের সামরিক দায় তৈরি হবে, তা স্পষ্ট না থাকায় কায়রো দ্বিধায় রয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মিসর সাংঘর্ষিক কোনো সামরিক চুক্তিতে জড়াতে পারে না। একইসঙ্গে গ্রিস, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তারা কোনো একক সামরিক জোটে ঢুকে ভারসাম্য নষ্ট করতে চায় না।
এদিকে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্ব, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতার কারণে এমন কোনো অক্ষ তৈরি হওয়াকে ইসরায়েল তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কৌশলের বিপরীত বলে মনে করছে। বিপরীতে, এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ এমন একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, যারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম।
বিশ্বশক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই নিজ নিজ স্বার্থের জায়গা থেকে এই জোটকে মূল্যায়ন করছে। বেইজিং এটিকে বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৭ আগস্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন চাইছে আঞ্চলিক অংশীদাররা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নিক, তবে অস্ত্র বিক্রি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই দিকটিও তারা সতর্কভাবে নিশ্চিত করছে।
(মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মার্কিন গণমাধ্যম দ্য মিডিয়া লাইন। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে।)
ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কর পরিশোধের নিয়মে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার বা বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর কোনো ধরনের টার্নওভার কর দিতে হবে না। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই আয়ের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক আপত্তি ও দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে এনবিআর।
টার্নওভার কর মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা বা পেশাগত সেবার মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারিত হয়, এতে ব্যবসা লাভজনক হোক কিংবা লোকসানে থাকুক। অতীতে এই করের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। মূলত কোম্পানিগুলো যেন ভুয়া লোকসান দেখিয়ে নিয়মিত কর ফাঁকি দিতে না পারে, সেই প্রবণতা আটকাতেই এই ন্যূনতম করের নিয়ম চালু করেছিল কর প্রশাসন। তবে ব্যবসা মহলে এটি বেশ সমালোচিত ছিল। ব্যবসায়ীদের মতে, সত্যিকার অর্থে ক্ষতির মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লাভ-লোকসান নির্বিশেষে কর দিতে বাধ্য করায় এটি করের ন্যায্যতার পরিপন্থী হয়ে উঠেছিল।
সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পাবে। তবে বিক্রির পরিমাণ ২ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৪ কোটি টাকার মধ্যে হলে অতিরিক্ত আয়ের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা আধা শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, বার্ষিক টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্বের মতোই ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে।
এই কর সমন্বয়ের কারণে মূলত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এর আগে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে আরোপিত ১ শতাংশ কর প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। পাশাপাশি একই দাবি তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছিল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তাদের যুক্তি ছিল, স্বল্প মুনাফার ব্যবসাগুলো এই নিয়মের কারণে মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝায় পড়ছিল এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছিল।
এদিকে আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা মোতাবেক কিছু নির্দিষ্ট খাতের জন্য আলাদা টার্নওভার করহার বহাল থাকছে। এর মধ্যে সিগারেট, বিড়ি ও তামাকপণ্য প্রস্তুতকারকদের ৩ শতাংশ, মিষ্টি ও কার্বোনেটেড বেভারেজ প্রস্তুতকারকদের আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের দেড় শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তবে নতুন শিল্পোদ্যোগের সুরক্ষায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম তিন বছর ১ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে কর দেওয়ার পূর্ববর্তী বিশেষ সুবিধাটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
/আশিক
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা আজ থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের অতিরিক্ত লাভ হিসেবে গণ্য হবে।
‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুসারে, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সিস্টেম স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত) প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর স্থাপিত প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে না। বিতরণ সংস্থাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিডে আসা বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হবে; কোনো অবস্থাতেই নগদ লেনদেন করা যাবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব যন্ত্রপাতিকে বিএসটিআই এবং স্রেডা (SREDA)-এর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যার সেবা পাওয়া যাবে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ কার্যালয়গুলো থেকেও।
/আশিক
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
তরুণ ও নতুন আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এবং সংসদ সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করবে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শামা ওবায়েদ জানান, আইপিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিনিধিদলটি ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও নারী এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। নতুন সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে আইপিইউ অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি আইনপ্রণেতাদের নীতি প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেনেভায় আইপিইউ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী ক্ষমতায়ন, এসডিজি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে আইপিইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকা।
আগামী মাসে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন বলে প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, সরকারি সফরে এসে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন ছাড়াও শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোকচিত্র ও দলিলপত্র প্রত্যক্ষ করেন।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং কখনোই বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগ ও ইতিবাচক উদ্যোগের কথা তিনি বিশেষভাবে মনে রাখবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন।
সূত্র: বাসস
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংকট পুরোপুরি নিরসনে অর্থমন্ত্রী দুই বছর সময়ের কথা উল্লেখ করলেও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এত দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সরবরাহজনিত সাময়িক জটিলতা কাটলেই অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে অর্থমন্ত্রী মূলত পুরো খাতের স্বনির্ভরতা ও স্থায়ী সমাধানের সময়সীমা নির্দেশ করেছিলেন। দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরোদমে চালু হতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এর পাশাপাশি বাপেক্সের মাধ্যমে প্রায় ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখনন এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় পাইপলাইনে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চলতি সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু এবং আগামী বছর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এলএনজি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব দেশের ওপর পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মানুষ বিদ্যুতের স্বাভাবিক সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
- জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
- নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
- রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
- ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা








