তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৪:৩১:৪২
তিস্তা মহাপরিকল্পনা চলমান, তিন লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত আছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলসেতু পয়েন্ট এবং নিজপাড়া গাজীরহাট সংলগ্ন তিস্তা ১০ নম্বর ঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি বহুমাত্রিক ও কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল উদ্যোগ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার ধাপে ধাপে একটি কার্যকর কাঠামো দাঁড় করাতে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলার জনগণের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত প্রস্তাব চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন চীনা সরকার তাদের নিজস্ব বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা সফল করতে একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে—নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আঁকাবাঁকা তিস্তা নদীর প্রবাহকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই তিনটি কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত চীনের রাষ্ট্রদূত মি ইয়াও হোয়েন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে চীন সরকার এই সহযোগিতা প্রকল্পে কাজ করছে। প্রকল্পটি যাতে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চীনা প্রকৌশলীরা কারিগরি বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনগণের সমর্থন, অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব পক্ষের সম্মিলিত সমর্থন পেলে চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম এবং কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার।

-শরিফুল


সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১২:০২:৩৭
সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পার্শ্ববর্তী দ্রুত নগরায়ণশীল এলাকা সাভার ও আশুলিয়াকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে সরকার। সাভার পৌরসভা ও আশুলিয়ার একাধিক এলাকাকে একীভূত করে সাভার সিটি করপোরেশন গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জ উপজেলাকে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত করা অথবা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু

প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা। গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সরকারি সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাভার পৌরসভা এবং এর আওতাধীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত হবে এবং নতুন সিটি করপোরেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো এলাকার নাগরিক সেবা পরিচালিত হবে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাক্ষিক প্রতিবেদনের আলোকে সরকার এ বিষয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রতিবেদনে সাভার ও আশুলিয়ার নগর বাস্তবতার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়, যেখানে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পৌর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিপুল জনসংখ্যার চাপে সাভার কার্যত একটি বৃহৎ নগর এলাকায় পরিণত হলেও পৌরসভা হিসেবে এর সক্ষমতা নাগরিক চাহিদার তুলনায় সম্পূর্ণ অপ্রতুল।

বিশেষ করে আশুলিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিপুল গার্মেন্ট শিল্প, শ্রমিক বসতি ও আবাসিক এলাকা ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ, যানজট ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য নিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার মতো প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই।

এর ফলে যানজট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, ড্রেনেজ সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে আশুলিয়ার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কেরানীগঞ্জকে ঘিরেও পরিকল্পনা

অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যার চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলছে কেরানীগঞ্জ উপজেলায়। দ্রুত নগরায়ণের পথে এগোলেও সেখানে এখনো সিটি করপোরেশন বা উন্নত পৌর ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে সড়ক, ড্রেনেজ, স্বাস্থ্যসেবা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় কেরানীগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি রাজধানীর পাশে একটি আধুনিক ও সুপরিকল্পিত উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের পর মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জ এলাকার মানুষ এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা ও প্রশাসনিক মর্যাদা পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

-রফিক


আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:১৭:২৩
আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে টানা নয়দিনের এই ম্যারাথন শুনানি সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। এসময় তিনি তাঁর কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জোরালো দাবি করেন। সিইসি স্পষ্ট করে জানান যে, আপিল শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে যেসব রায় দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো ধরণের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তাঁর এবং তাঁর পুরো টিমের পক্ষ থেকে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রতিটি মামলা পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে সব দলের ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, সিইসির বক্তব্যে তা বারবার ফুটে উঠেছে।

শুনানি পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সিইসি একটি বড় ধরণের নীতিগত ছাড়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিকে কমিশন অনেকটা শিথিল বা ছেড়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করা। নাসির উদ্দিন বলেন যে, অনেকেই হয়তো এই শিথিলতার সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু কমিশন চেয়েছে সব ধরণের বাধা সরিয়ে প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী লড়াইয়ে আসতে পারেন। তিনি মনে করেন, বড় একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি সার্থক নির্বাচন আয়োজন করা কমিশনের পক্ষে দুঃসাধ্য। শুনানির সময় প্রার্থীদের আইনজীবীদের এবং ওলামায়ে কেরামদের উপস্থাপিত যুক্তি-তর্ককে তিনি ‘বাহাস’-এর সঙ্গে তুলনা করে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সকলকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।

একই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার বিষয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি প্রকাশ করেন যে, বেশ কিছু ঋণখেলাপি প্রার্থীকে কমিশন থেকে ছাড় দিতে হয়েছে, তবে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সময় কমিশনের সদস্যরা ‘মনে বেশ কষ্ট’ পেয়েছেন। সানাউল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, নৈতিকভাবে অনেক কিছু প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলেও বিদ্যমান আইন যেহেতু ওইসব প্রার্থীদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি বা বিশেষ কোনো ফাঁক দিয়ে তাদের অনুমোদন দিয়েছে, তাই কেবল আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, আইনের সীমারেখার বাইরে গিয়ে কাউকে বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের নেই বিধায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে নমনীয় হতে হয়েছে। নয়দিনের এই দীর্ঘ শুনানি প্রক্রিয়া শেষে কমিশন এখন নির্বাচনী ময়দানে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা এবং প্রতীক বরাদ্দের মতো পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে মনোনিবেশ করছে।


ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:০১:৪৩
ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে এক নতুন ও অভাবনীয় সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একটি বড় ধরণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দেবে না। মূলত রাজনৈতিক সৌজন্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রটি বদলে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির তথা চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। যেহেতু দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তাই তাঁর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মুফতি ফয়জুল করীমের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজন অনুভব করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই সম্মান ও সৌজন্যের অংশ হিসেবেই জামায়াত ফয়জুল করীমের আসন থেকে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ডা. তাহের আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে একটি বৃহত্তর নির্বাচনী ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সেই ঐক্যে থাকতে পারেনি, তবুও তাদের সেই শুভ উদ্যোগের প্রতি জামায়াতের শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তারা ইসলামী আন্দোলনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছে।

এই রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ কেবল একতরফা নয়, বরং দুই দলের মধ্যেই একটি অলিখিত সমঝোতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় দুটি দলের এই পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাঠে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যকার একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও দল দুটি একই জোটে থেকে নির্বাচন করছে না, তবুও একে অপরের শীর্ষ নেতাদের জয়ী হতে সহায়তা করার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বড় ধরণের কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের এমন ঘোষণা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করা হচ্ছে।


‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের প্রচারণার পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২০:২৫:৫১
‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের প্রচারণার পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় গণভোটে দেশের ছাত্রসমাজ তথা শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দানে উদ্বুদ্ধ করতে এক ব্যাপকভিত্তিক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রচারণার পরিধি বিস্তৃত হবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এবং মাদ্রাসা পর্যায় পর্যন্ত। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ সভায় এই রণকৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় মূলত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং একটি বিশেষ প্রচারণার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে এই প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বহুমুখী মাধ্যম ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ’ শিরোনামে বিশেষ লিফলেট এবং পুস্তিকা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন ডকুমেন্টারি, ভিডিও ক্লিপ এবং সচেতনতামূলক গান রিলিজ করা হবে। একই সঙ্গে দৃশ্যমান প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে আকর্ষণীয় ব্যানার, ফেস্টুন এবং স্টিকার সাঁটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোট প্রদানের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

ইউজিসিতে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ড. আলী রীয়াজ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই গণভোটের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এবারের গণভোট হবে তারই সার্থক প্রতিফলন। তাঁর মতে, একটি মানবিক ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায়ের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু ও গঠনমূলক প্রচারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সকল অংশীজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই প্রচারণা সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।


চীনের সম্মতি পেলেই শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৪:৫১:১১
চীনের সম্মতি পেলেই শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওই সফরে তিনি নীলফামারীতে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানান।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বর্তমানে চীনা সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে। যাচাই-বাছাই শেষে চীনের চূড়ান্ত সম্মতি মিললেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানিবণ্টন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের একক দায়িত্ব নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, “সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে, তবে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।”

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সড়কপথে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি গণভোট ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

-শরিফুল


জুলাই সনদ লেখা হয়েছে রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে, কালি দিয়ে নয়: আলী রীয়াজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ১৮:২৩:০১
জুলাই সনদ লেখা হয়েছে রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে, কালি দিয়ে নয়: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সংগৃহীত ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে রচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কেবল কালো কালির কোনো সাধারণ দলিল নয়, বরং এটি শহীদদের রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে লেখা একটি ঐতিহাসিক পথরেখা বলে মন্তব্য করেছেন গণভোট নিয়ে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে জনগণের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটের প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদের আবেগীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ, যা আপনাদের কাছে কালো অক্ষরের ছাপায় পৌঁছেছে; সেটা আসলে রক্তবিন্দু দিয়ে লেখা হয়েছে, প্রাণ দিয়ে লেখা হয়েছে। আমি যখনই এই সনদটি খুলি, আমি শহীদ হওয়া সন্তানদের মায়ের আর্তনাদ শুনতে পাই, ভাইদের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সনদটি হুট করে তৈরি হয়নি; বরং এটি বিগত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার-পরিজনের হাহাকার এবং রাজপথে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দেওয়া প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ত্যাগের ফসল এই জুলাই সনদ।

আসন্ন গণভোটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদে যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা দেখানো হয়েছে, তার বিষয়ে জনগণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি একটি নৈতিক প্রশ্ন যা জনগণের বিবেকের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, “প্রশ্নটা সামনে রেখে নিজেকে এবং মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন—রক্তে লেখা এই সনদ যে পথরেখা দেখাচ্ছে, আমি তার সঙ্গে আছি কি নাই? এটাই হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’-এর বিষয়। আমি বিশ্বাস করি দেশের সব জনগণ এর সঙ্গে আছে এবং আমরা সবাই আসলে এই নতুন বাংলাদেশের পথরেখার সাথেই আছি।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এবং ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, দেশের ভবিষ্যতের চাবি এখন জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সকলের। সরকারের এই বিশেষ সহকারী আশা প্রকাশ করেন যে, গণভোটের এই প্রচেষ্টায় তারা সফল হবেন এবং একটি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে সক্ষম হবেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন তারা সাধারণ মানুষের কাছে এই সনদের গুরুত্ব ও সারমর্ম সঠিকভাবে পৌঁছে দেন এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় ঢাকার বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং ওলামা-মাশায়েখগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এই গণভোটকে গণতন্ত্রের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং জুলাই জাতীয় সনদের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


পে-স্কেল চূড়ান্তে শেষ ধাপে কমিশন, আসছে বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১২:৪১:০৩
পে-স্কেল চূড়ান্তে শেষ ধাপে কমিশন, আসছে বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত 
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রণীত নবম জাতীয় পে-স্কেল–এ বেতন গ্রেডের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেলে আগের মতোই ২০টি বেতন গ্রেড বহাল থাকবে। গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তন না করে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে কমিশন। পে-কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বাস্তবসম্মত বেতন সমন্বয়ই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

সভা সূত্র আরও জানায়, পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকে বেতন কাঠামোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচ্য সূচির মধ্যে ছিল পেনশন ব্যবস্থা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা। তবে সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ নিয়ে।

বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন বেতনের বিষয়ে এখনও সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় অন্যান্য সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন চূড়ান্ত না হলে সর্বোচ্চ বেতন, ভাতা কাঠামো ও অনুপাত নির্ধারণ সম্ভব নয় বলে সভায় মত দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশনের পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জানানো হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে সর্বনিম্ন বেতন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ ধরে সুপারিশ দেওয়ার বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এই অনুপাত নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে পুরো বেতন কাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই। সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ করাই এই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। কমিশনের কার্যকাল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খণ্ডকালীন সদস্যের পদত্যাগ

এদিকে, একই দিনে জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান জানান, গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মাননীয় অর্থ উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশনা এবং বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি সাবকমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সাবকমিটি নির্ধারিত কার্যপরিধির আওতায় ৩৩টি বাস্তবায়নযোগ্য ও ন্যায়সংগত প্রস্তাবনা তৈরি করে এবং সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এসব প্রস্তাবনার বড় একটি অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাকে কর্মদক্ষতা ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সাবকমিটির প্রতিবেদনটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলাদা করে উপস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এই অবস্থান থেকেই নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

সূত্র: ডেইলি ক্যাম্পাস


ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারীদের দুই দফা টানা ছুটি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১১:৩৭:০৩
ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারীদের দুই দফা টানা ছুটি
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছে স্বস্তির খবর। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাসের প্রথমার্ধেই মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় টানা তিন দিন করে ছুটি ভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কর্মজীবীদের জন্য বাড়তি অবকাশের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রথম দফার দীর্ঘ ছুটির সুযোগটি আসছে পবিত্র শবেবরাতকে কেন্দ্র করে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) শবেবরাত পালিত হতে পারে। তবে এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সাপেক্ষ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে যদি ৪ ফেব্রুয়ারি শবেবরাত পালিত হয়, তাহলে পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি)। ফলে মাসের শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা তিন দিনের অবকাশ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এই প্রথম দফার ছুটি শেষ হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পরই দ্বিতীয় দফায় আবারও দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।

নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষিত থাকায় এর পরের দুই দিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করে সরকারি চাকরিজীবীরা আবারও টানা তিন দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

একই মাসে দুই দফায় এমন দীর্ঘ ছুটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই এই সময়টিকে পারিবারিক সময় কাটানো, ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।

-রফিক


জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৭:০৮:০৬
জুলাইয়ের প্রতিরোধকারীদের ঢাল হচ্ছে সরকার: অনুমোদন পেল বিশেষ আইন
অন্তর্বর্তী সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব ধরণের আইনি জটিলতা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি আইন’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হওয়া রাজনৈতিক প্রতিরোধের ঘটনায় যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে সরকার সেই মামলাগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা গ্রহণ করা হবে না এবং যারা রাজপথে জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন, তাদের কোনোভাবেই হয়রানি করার সুযোগ রাখা হবে না। এই দায়মুক্তি আইন মূলত সেই সব বিপ্লবীদের জন্য একটি আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করবে যারা জাতীয় সংকটের সময় বুক পেতে দিয়েছিলেন।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান যে, সরকার কেবল নতুন আইন প্রণয়ন করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে যে দেশের কোথাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়েছে কি না। যদি এ ধরণের কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়, তবে সরকার সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল করার উদ্যোগ নেবে। আসিফ নজরুলের মতে, যারা দেশের জন্য একটি বড় পরিবর্তন এনেছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। ফরেন সার্ভিস একাডেমির এই ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ছাত্র-জনতার মাঝে বড় ধরণের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট বা চেতনা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

পাঠকের মতামত: