উচ্চ সুদের চাপে বিনিয়োগহীন বেসরকারি খাত, স্থবিরতা কাটছে না 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১০:১১:০৯
উচ্চ সুদের চাপে বিনিয়োগহীন বেসরকারি খাত, স্থবিরতা কাটছে না 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি ক্রমেই শ্লথ হয়ে পড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা ছয় মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে আটকে আছে। একদিকে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, অন্যদিকে আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান বা 'স্প্রেড' অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিনিয়োগ স্থবিরতার চিত্র ও বিশেষজ্ঞ মত সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে নতুন বিনিয়োগ না হলে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের চাহিদা বাড়ে না। বর্তমান ঋণ প্রবৃদ্ধি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণমূলক বিনিয়োগ বর্তমানে খুবই সীমিত।

এই স্থবিরতার আরও একটি বড় সূচক হলো মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির দায় নিষ্পত্তি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে এই আমদানির দায় নিষ্পত্তি ১৬ শতাংশের বেশি কমেছে। ব্যাংকারদের মতে, উচ্চ সুদহার, চাহিদার দুর্বলতা এবং নীতিগত ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এমনকি বড় শিল্পগ্রুপগুলোর অনেক কারখানা বন্ধ বা আংশিক সক্ষমতায় চলায় নতুন করে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তাও কমে গেছে।

অস্বাভাবিক স্প্রেড ও ঋণের উচ্চ ব্যয় বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থার সুযোগে ব্যাংকগুলো আমানত ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান বা স্প্রেড অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ব্যাংকগুলো গড়ে ৬.৪০ শতাংশ সুদে আমানত নিলেও ঋণ বিতরণ করেছে ১২.১৪ শতাংশ সুদে। এতে গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫.৭৪ শতাংশ, যা কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই ব্যবধান অত্যন্ত চড়া। যেখানে ভারতে স্প্রেড ৩ শতাংশের মধ্যে এবং ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকে, সেখানে বাংলাদেশের এই উচ্চ স্প্রেড দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সভায় এই স্প্রেড বেড়ে যাওয়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এটি সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের সংকট ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি বর্তমানে দেশে ঋণের সুদহার ১৪ শতাংশের উপরে পৌঁছেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই), যারা সাধারণত ১০-১১ শতাংশ মুনাফা করেন, তাদের জন্য এই উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যারা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করেছিলেন, তাদের এখন ১৪-১৫ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হচ্ছে। এর ফলে অনেকের পক্ষেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং তারা খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বিনিয়োগ কমে যাওয়াই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিনিয়োগ কমলে কর্মসংস্থান কমে এবং বেকারত্ব বাড়ে।” তিনি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে আনার ওপর জোর দেন।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও নীতিনির্ধারণী প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহজনিত কাঠামোগত সমস্যার কারণে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সুদের হার বাড়ানোর নীতি বিনিয়োগকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। নতুন সরকারের জন্য বিনিয়োগের এই স্থবিরতা কাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে কৃষি, এসএমই, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব সুদহার নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি


এসএমই তহবিল শিল্পে না গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফায় বিদেশ সফর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:০৯:১৮
এসএমই তহবিল শিল্পে না গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফায় বিদেশ সফর
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পুনরর্থায়ন প্রকল্প নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, শিল্প খাতে অর্থায়ন না করে প্রকল্পের অব্যবহৃত তহবিল সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ দিয়ে কর্মকর্তাদের সুইজারল্যান্ড সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন দেন বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রকল্পটির নাম ‘সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ বা এসএমইডিপি-২। এটি বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত একটি পুনরর্থায়ন কর্মসূচি। লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এসএমই খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল অব্যবহৃত থাকায় তা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে শিল্প খাতে বিতরণ না করে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। এই বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জিত হয়। প্রায় ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রাখা হয়। ওই হিসাবে জমা থাকা অর্থ থেকে বিনিয়োগ কমিটি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং ভিজিট অন এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক বিদেশ সফরের প্রস্তাব দেয়।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে অর্থ বিভাগে সরকারি আদেশ জারির জন্য চিঠি পাঠানো হয়। তবে সুইস দূতাবাসে ভিসার শিডিউল না পাওয়া এবং জিও ইস্যুতে বিলম্বের কারণে সফরটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে জানা গেছে।

সমালোচকদের মতে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্প খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণ। সেই অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করে পরে মুনাফার অংশ বিদেশ সফরে ব্যয় করা প্রকল্পের নীতিগত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি। বিশেষ করে ডলার সংকট ও সরকারি ব্যয়ে সংযমের প্রেক্ষাপটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশ সফর সংক্রান্ত কড়াকড়ি নির্দেশনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক হতে পারে।

অন্যদিকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিনিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত ইনভেস্টমেন্ট পলিসি অনুসারেই নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, অব্যবহৃত তহবিল সুদ ও বিনিময় হার কমে যাওয়ায় মূলধন ক্ষয়ের ঝুঁকিতে ছিল। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের পরামর্শে ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা হয় এবং মুনাফা অর্জিত হয়। সেই মুনাফা থেকেই সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে কোনো অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় জড়িত নয়।

বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

-রাফসান


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:৪১:০৬
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। সোমবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন দর সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত সারাদেশে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের প্রভাবও স্থানীয় দামে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গয়নার নকশা, কারিগরি মান ও ওজনভেদে মজুরি বাড়তে বা কমতে পারে।

স্বর্ণের বিপরীতে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি ভোক্তা ও গয়না ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিয়ে মৌসুম ও উৎসবের আগে দামের এই ঊর্ধ্বগতি ক্রেতাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ হিসেবেও স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশে অনেকেই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন।

-রাফসান


খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৩৪:৪৯
খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে সচিবালয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই সুখবর জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে, এলপিজির বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে কিছু খুচরা বিক্রেতা বা রিটেলার বাড়তি দাম নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভোক্তা পর্যায়ে এই ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং বা নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে এলপিজির দাম দ্রুতই সরকার নির্ধারিত পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আমদানিকারকরা তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরলে সরকার সেগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বাজারে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

যদিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব স্টোরেজ সক্ষমতা কিছুটা কম, তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আমদানিকারকদের দাবিগুলো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিচার করা হবে, তবে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় কোনোভাবেই এলপিজির দাম বাড়ানো হবে না। সরবরাহ চেইন ঠিক রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের মার্কেট অ্যাবিউজ বা কারসাজি রুখতে মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


কথায় নয়, কাজেই দক্ষতা প্রমাণ করতে চাই: নতুন গভর্নর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১২:৫২:৪১
কথায় নয়, কাজেই দক্ষতা প্রমাণ করতে চাই: নতুন গভর্নর
বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে বর্তমানে তাঁর মূল লক্ষ্য হবে কাজ করা, অহেতুক কথা বলে সময় নষ্ট করা নয়। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বেলা ১১টার দিকে তিনি প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপস্থিত ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের সময় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নতুন গভর্নর বলেন যে তিনি কথায় নয়, বরং কাজের মধ্য দিয়েই নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে যেহেতু তিনি মাত্রই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাই আগে কাজ শুরু করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের আগে মোস্তাকুর রহমান সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এর আগে গত বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

একই প্রজ্ঞাপনে বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং মোস্তাকুর রহমান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। উল্লেখ্য যে, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে বিরোধী দল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন গভর্নর সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে তাঁর প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

/আশিক


আজকের মুদ্রার বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রায় কত টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:৪২:৫৪
আজকের মুদ্রার বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রায় কত টাকা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখতে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার মান পরিবর্তিত হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা ইউএস ডলারের বিনিময় হার ১২১ টাকা ৬৬ পয়সা এবং ইউরোপীয় ইউরোর দাম ১৪৩ টাকা ৮৯ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ১৩ পয়সা এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৬ টাকা ৭৪ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

জাপানি ইয়েনের মান বর্তমানে ৭৮ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলারের বিনিময় হার ৮৯ টাকা ২৭ পয়সা।

সুইডিশ ক্রোনা ১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬ টাকা ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের প্রেক্ষিতে চীনা ইউয়ান রেনমিনবি আজ ১৭ টাকা ৭৮ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপি ১ টাকা ৩৪ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপি ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসেবে লেনদেনের হার পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনারের মান আজ ৩৯৮ টাকা ৩৯ পয়সা যা বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩১ টাকা ৩৯ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

এছাড়া সিঙ্গাপুর ডলারের হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯৬ টাকা ৬৭ পয়সা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ ভেদে এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ধরন অনুযায়ী এই হার কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে এই বিনিময় হার আপডেট করে থাকে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার বা ব্যাংকের মাধ্যমে হালনাগাদ হার যাচাই করে নেওয়া শ্রেয়।

(সূত্র : গুগল)


সোনার বাজারে উত্তাপ: এক ধাক্কায় বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ০৯:৫৫:১৮
সোনার বাজারে উত্তাপ: এক ধাক্কায় বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর রয়েছে। এর আগে গত সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় এবং ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বাজারে আজ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় কেনা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বর্ণের এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা থাকতে পারে। এদিকে স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হলেও রুপার দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকাতেই স্থির রয়েছে।

/আশিক


আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হলো আহসান এইচ মনসুরকে

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৬:০৬:০৭
আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হলো আহসান এইচ মনসুরকে
মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে থেকে বুধবার দুপুরে বের হয়ে যান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করেছে এবং তিনি তাতে প্রাথমিক সম্মতি প্রদান করেছেন।

এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সম্ভাব্য নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন বলে জানা গেছে। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর পৌনে দুইটার দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্দরমহলে আজ দুপুর থেকেই এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। দুপুর ২টার দিকে ড. আহসান এইচ মনসুরকে তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি এবং তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণও করা হয়নি; তবে গণমাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার খবর দেখে তিনি নিজ উদ্যোগে বাসায় চলে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আহসান এইচ মনসুরকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ তাঁর অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। এমনকি তাঁকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ ও বদলি করায় আজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনরত কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হয়, তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে তারা পূর্ণাঙ্গ কলম-বিরতিতে যাবেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেইন অফ কমান্ড পুনরুদ্ধারে নতুন গভর্নর নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার।

/আশিক


বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর হলেন যিনি

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৪:২৭:৫৮
বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর হলেন যিনি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার। বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমান-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ বা নিয়োগের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রানীতি প্রণয়ন, ব্যাংকিং খাত তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। ফলে গভর্নর পদে পরিবর্তন অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। নতুন গভর্নরের নেতৃত্বে মুদ্রানীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো কৌশলগত পরিবর্তন আসে কিনা, তা এখন বাজার ও বিনিয়োগ মহলের নজরে থাকবে।

নীতিনির্ধারক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন আর্থিক খাতে নতুন বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সংস্কার কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোস্তাকুর রহমানের প্রথম অগ্রাধিকার কী হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত ও কার্যকর নীতি পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

-রফিক


জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১১:৫৩:৫৬
জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এর একটি বড় চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বর্তমানে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কোটি মানুষের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে এবং তাদের লেনদেনের সুবিধার্থে মুদ্রার সঠিক বিনিময় হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রার যে বিনিময় হার তুলে ধরেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে দেশের মুদ্রা বাজারে ইউএস ডলার কেনার দাম ১২২ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিক্রির দামও ১২২ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ আজকের বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা হিসেবে কার্যকর রয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে কেনার দাম ধরা হয়েছে ১৪৩ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে এর দাম ১৪৩ টাকা ৯৯ পয়সা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার দিকে তাকালে দেখা যায় যে ব্রিটিশ পাউন্ড আজ ১৬৪ টাকা ৯৪ পয়সায় কেনা যাচ্ছে এবং বিক্রির হার ১৬৪ টাকা ৯৯ পয়সা।

জাপানি ইয়েন কেনা ও বেচা উভয় ক্ষেত্রেই ০ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার আজ ৮৬ টাকা ২৮ পয়সা থেকে ৮৬ টাকা ৩৫ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছে।

সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয়ের হার ৯৬ টাকা ৫০ পয়সা এবং বিক্রির হার ৯৬ টাকা ৫৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কানাডিয়ান ডলার কেনার দাম ৮৯ টাকা ২৬ পয়সা এবং বিক্রির দাম ৮৯ টাকা ২৭ পয়সা হিসেবে লেনদেন হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির ক্ষেত্রে বিনিময় হার ১ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১ টাকা ৩৫ পয়সার মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সৌদি রিয়ালের ক্রয় মূল্য আজ ৩২ টাকা ৫৮ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে যে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো সময় এই মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সঠিক হিসাবের জন্য সর্বশেষ আপডেট রাখা প্রয়োজন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: