ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ডাকসু প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলের এই বৈঠকে তারেক রহমান দেশের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিশেষ পরামর্শ দেন। বৈঠক শেষে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমকে জানান যে, তারেক রহমান বিএনপি, জামায়াতসহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী দল এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈঠকের শুরুতে ডাকসু প্রতিনিধি দলটি সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আলোচনায় তারেক রহমান জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই সময়ে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। ভিপি সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশ এবং বিপ্লবের প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিপ্লবের সুফল ঘরে তোলার পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে দিল্লির তাঁবেদার ও পতিত ফ্যাসিস্টরা পুনরায় ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাবে।
সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে আরও জানান যে, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে ‘বাংলাদেশপন্থি’ রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। বিগত ১৬ বছর ধরে তরুণ প্রজন্ম যে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তা ফিরিয়ে দিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ছাত্র সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার শপথ নেওয়া হয় এই বৈঠক থেকে। ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগকে কোনোভাবেই হাতছাড়া না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডাকসু নেতারা।
সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার রাজনীতিতে এখন এক অভাবনীয় দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে একই পরিবারের দুই সদস্য—বাবা ও ছেলে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পৃথক দল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে তাঁদের দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—সম্পদের বিচারে বাবার চেয়ে ছেলে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বিত্তবান।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী আব্দুল হান্নান মাসউদ নিজেকে ‘ডিজিল্যান্ড গ্লোবাল’ নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকার পাশাপাশি ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা। পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এই বাবার সম্পদের তালিকায় নগদ টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্সের পাশাপাশি ১৬৮ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমি রয়েছে।
সম্পদের এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আব্দুল হান্নান মাসউদ জানান, ছাত্র অবস্থায় টিউশনি এবং নিজস্ব ব্যবসা থেকে তিনি এই অর্থ উপার্জন করেছেন। এছাড়া গত এক বছরে বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া প্রচুর ‘গিফট’ তাঁর সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, হলফনামায় তিনি কোনো তথ্য লুকাননি এবং তাঁর আয়ের বিবরণ সম্পূর্ণ সত্য। অন্যদিকে তাঁর বাবা বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বলেন, তিনি তাঁর অর্জিত সম্পত্তির সঠিক বিবরণ দাখিল করেছেন এবং এর বাইরে কোনো কথা বলতে রাজি নন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এই পিতা-পুত্র। আব্দুল হান্নান মাসউদ ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এনসিপির ব্যানারে এবং তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আলোচিত ছাত্রনেতা মাসউদের রাজনৈতিক উত্থান এবং বাবার সঙ্গে তাঁর এই লড়াই হাতিয়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সাধারণ মানুষ এখন ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত অফিসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কনকাপৈত ইউনিয়ন জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সাথে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ডা. তাহের তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে বলেন—বাংলাদেশের মানুষ এখন মূলত দুটি স্পষ্ট পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, আর অন্যদিকে দেশের আপামর জনতা যারা ইসলামী জোটের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন এবং একটি চাঁদাবাজমুক্ত ও সুশাসিত বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে জনগণ আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোকেই বেছে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
চৌদ্দগ্রামের কনকাপৈত ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধায়ক ভিপি সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. তাহের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থেই উৎসবমুখর করে তুলতে হলে দলমত নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের সুমহান বার্তা এবং দেশ গড়ার পরিকল্পনা পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মন জয় করার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।
উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কনকাপৈত ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাসান মজুমদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মজুমদার এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি পেয়ার আহমেদ প্রমুখ। সভায় স্থানীয় সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন করার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘গোপন বৈঠক’ হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করেন। তিনি জানান, অসুস্থতা পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎকে কিছু গণমাধ্যম ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে দেশীয় কিছু সংবাদমাধ্যম এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তিনি জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অসুস্থ হয়ে যখন বাসায় ফেরেন, তখন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের মতো ভারতের দুজন প্রতিনিধিও তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। সৌজন্যবোধের খাতিরে তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তবে এটি কোনো রাজনৈতিক বা গোপন বৈঠক ছিল না।
জামায়াত আমিরের তথ্যমতে, অন্যান্য কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি যেমন প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল, তিনি ভারতীয় প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও তেমনটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই দুই কূটনীতিক বিষয়টি প্রচার না করার জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান তাঁদের জানিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলে তা অবশ্যই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে, কারণ এখানে গোপনীয়তার কোনো স্থান নেই।
গণমাধ্যমে এই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, প্রকৃত ঘটনা না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকা উচিত। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যে, জামায়াতে ইসলামী সকল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
পারিবারিক শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং মায়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, জীবনের প্রথম শিক্ষক ও তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময়।
মায়ের অনুপস্থিতির শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে দেশবাসীর অভূতপূর্ব সমর্থন তাঁকে সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি লেখেন—অগণিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল তাঁর মা ছিলেন না; তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা। এই কঠিন সময়ে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শ্রদ্ধা তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিদেশি কূটনীতিকদের সরাসরি উপস্থিতির জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং অকালপ্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষের এই বিপুল ভালোবাসায় তাঁর মনে হচ্ছে—পুরো বাংলাদেশই এখন তাঁর পরিবার। নিকটজন হারানোর হাহাকার ছাপিয়ে মানুষের এই বিশ্বাস তাঁকে নতুন করে শক্তি দিচ্ছে। সারাজীবন দেশ ও মানুষের কল্যাণে মায়ের যে নিরলস প্রচেষ্টা ছিল, সেই উত্তরাধিকার বহন করার গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।
পোস্টের শেষ দিকে তারেক রহমান একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও মানবিক বার্তা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন—যেখানে মায়ের পথচলা থেমে গেছে, সেখান থেকেই তিনি সেই অসমাপ্ত পথযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রেরণা দিয়েছে, সেই মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার শপথ নেন তিনি। মায়ের ত্যাগ ও উদারতাকে পাথেয় করে ঐক্যবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় যথাযথ শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রিয় মায়ের অন্তিম যাত্রায় সংশ্লিষ্টদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণেই সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে বিশেষভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, বরং শোকময় পরিবেশেও এক অনন্য মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র্যাব এবং এপিবিএন সদস্যদের ধৈর্য ও সততার প্রশংসা করেন তিনি, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে লাখ লাখ মানুষ নিরাপদে জানাজায় অংশ নিতে পেরেছে। গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের সতর্কতার কারণে দিনটি নির্বিঘ্ন ছিল বলে তিনি জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে সরকারের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সমর্থন তাঁদের পরিবারের জন্য অমূল্য ছিল। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, দেশের সীমানার বাইরেও বেগম জিয়ার প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জানাজা ও দাফনের খবর বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মীদের প্রতিও তিনি অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পোস্টের শেষে তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে।” গভীর শোকের এই মুহূর্তে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাহিনীর দেখানো এই সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তাঁর হৃদয় স্পর্শ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর এই বার্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সংহতি ও শৃঙ্খলার এক ইতিবাচক ছবি ফুটে উঠেছে।
আয়ের দৌড়ে শীর্ষ নেতাদের পেছনে ফেললেন নুর, হলফনামায় নতুন চমক
বাংলাদেশের রাজনীতির উদীয়মান মুখ এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বার্ষিক আয়ের হিসাবে দেশের অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে লড়াই করতে যাওয়া নুরের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁর বর্তমান বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। এই আয়ের অঙ্ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের ঘোষিত আয়ের চেয়েও অনেক বেশি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নুরের আয়ের প্রধান উৎস হলো ব্যবসা, যেখান থেকে তিনি বছরে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা আয় করেন। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে তাঁর ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা আয় আসে। বিপরীতে তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং ডা. শফিকুর রহমানের আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে বার্ষিক আয়ে এগিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের হিসাবে নুর অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন। নুরের মোট সম্পদ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা দেখানো হলেও তারেক রহমানের সম্পদ রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার কাছাকাছি।
নুরুল হক নুরের সম্পদের খতিয়ানে উল্লেখ রয়েছে, তাঁর কাছে নগদ ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা এবং ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা জমা আছে। পৈতৃক সূত্রে তিনি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকার আমানত লাভ করেছেন। এছাড়া পটুয়াখালীতে তাঁর নামে ৮২ ডেসিমেল এবং তাঁর স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে ৩ একর কৃষিজমি রয়েছে। পেশায় শিক্ষিকা মারিয়া আক্তারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা। নুরের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে ৬টি মামলা চলমান রয়েছে এবং এর আগে তিনি ৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
জোটগত সমঝোতার কারণে নুরের নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি, যার ফলে নুরের জয়ের পথ অনেকটা সুগম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেখানে সাবেক বিএনপি নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র হিসেবে এবং নুরেরই দলের শহিদুল ইসলাম ফাহিম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় লড়াই হবে ত্রিমুখী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের আগে নুরের এমন উচ্চ আয়ের তথ্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের সম্পদের পাহাড়? হলফনামায় মিলল বড় তথ্য
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২৯ ডিসেম্বর (সোমবার) তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দাখিল করা হয়েছে, তাতে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুলের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫ একর কৃষি জমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে তাঁর মালিকানায় রয়েছে ৫ কাঠা জমি, যার আনুমানিক মূল্য ৮৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। ভবন ও আবাসিক সম্পদের তালিকায় রয়েছে ঢাকায় ১৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (মূল্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা) এবং ৪ শতাংশ জমি। তাঁর স্ত্রীর নামেও ঠাকুরগাঁওয়ে অকৃষি জমি এবং পৈতৃক বাড়ি রয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকার উপরে।
অস্থাবর সম্পদের বর্ণনায় দেখা যায়, মির্জা ফখরুলের হাতে নগদ ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩০ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এছাড়া তাঁর ২টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১০ ভরি সোনা এবং ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষি, ব্যবসা (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার), ইজাব গ্রুপের পরামর্শক সম্মানী এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের সম্মানী ভাতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামার অন্যতম আলোচিত অংশ হলো তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০টি মামলা হয়েছিল। তবে এর বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং বর্তমানে আদালতের নির্দেশে স্থগিত, প্রত্যাহার বা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার কোনোটিই তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নয় বলে তিনি হলফনামায় অঙ্গীকার করেছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে হাসিনা মুক্তি পাবেন না: নজরুল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজার আগে সমবেত লাখো মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “দেশনেত্রীকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনও মুক্তি পাবেন না।” বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজার আগে তিনি বেগম জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং কারাজীবনে তাঁর ওপর হওয়া অমানবিক আচরণের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশবাসী সাক্ষী—খালেদা জিয়া হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু নির্জন কারাগারে উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে তিনি চরম অসুস্থ হয়ে বের হয়েছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বাড়ি থেকে উৎখাত করেছিলেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা কেবল প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য দেশনেত্রীকে তাঁর শহীদ স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা খালেদা জিয়াকে গৃহহীন করেছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং অনেকে রান্না করা খাবার পর্যন্ত খেতে পারেনি। অন্যদিকে, খালেদা জিয়া সব অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে আজ কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত।
বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কথা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান জানান, তিনি খুব পরিপাটি থাকতে পছন্দ করতেন এবং ফুলের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে তাঁর অনিবার্য যোগদানের ইতিহাস বর্ণনা করেন তিনি। তাঁর ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছরই তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে ৯ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়াকে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ আপসে বাধ্য করতে পারেনি। তিনি সবসময় বলতেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই।’ তাঁর এই অটল দেশপ্রেম এবং অনমনীয়তার কারণেই তিনি আজ ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রইলেন। জানাজায় উপস্থিত লাখো মানুষ এই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হাত তুলে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
কেন তিনি ‘আপসহীন’? খালেদা জিয়ার জীবনের অজানা অধ্যায়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়াকে আলাদা করে চেনা যায় তাঁর অটল সিদ্ধান্তের দৃঢ়তায়। ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর যখন বিএনপি এক টালমাটাল পরিস্থিতির মুখোমুখি, তখন এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে ১৯৮৪ সালে দলের হাল ধরেন তিনি। তবে তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের আসল পরীক্ষা শুরু হয় স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের আমলে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে যেখানে অন্য দলগুলো অংশ নিয়েছিল, সেখানে খালেদা জিয়া একচুলও নতি স্বীকার করেননি। তাঁর সেই আপসহীন অবস্থানই ১৯৯১ সালে তাঁকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসায়।
খালেদা জিয়ার জীবনে ‘আপসহীন’ অভিধাটি কেবল একটি তকমা নয়, বরং এটি তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যখন দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা কার্যকর করার চেষ্টা চলছিল, তখন খালেদা জিয়াকে দেশ ছাড়ার জন্য ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিদেশে তাঁর কোনো জায়গা নেই। এই অনমনীয় মনোভাবের কারণেই তৎকালীন সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও রাজনৈতিক নিপীড়ন সহ্য করলেও তিনি কখনো ক্ষমতার লোভে আদর্শ বিসর্জন দেননি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাঁর ওপর পাহাড়সম চাপ ছিল। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হওয়ার আগে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলে বিরোধীরা রটিয়েছিল যে তিনি আর ফিরবেন না। কিন্তু সব রটনা ভুল প্রমাণ করে তিনি দেশে ফেরেন এবং আইনি লড়াই ও কারাবরণ বেছে নেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার অধীনে অংশ না নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, সরকারের বৈধতা দেওয়ার চেয়ে গণতান্ত্রিক দাবিতে অনড় থাকা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁর ‘খালেদা’ বইয়ে যথার্থই লিখেছেন যে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দলীয়ভাবে অনেক চড়া মূল্য দিতে হলেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পূর্ণ মুক্তি পেলেও তাঁর এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম প্রমাণ করে—সব আপস রাজনৈতিক লাভ আনে না, আর সব অনমনীয়তাও পরাজয় নয়। তাঁর জীবন ও রাজনীতি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল এক অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হয়ে থাকবে।
পাঠকের মতামত:
- ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান
- ৪৬তম বিসিএসের ভাইভার চূড়ান্ত তারিখ প্রকাশ
- আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে এলে সব দায়িত্ব নেব: জামায়াত নেতা
- নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
- সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
- ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
- রণক্ষেত্র আগারগাঁও, বিটিআরসি কার্যালয় লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট
- নতুন বছরে যেসব মাসে টানা ৪ থেকে ১০ দিন ছুটির সুযোগ জানুন
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- একীভূত ব্যাংকে কত টাকা তুলবেন, জানুন নিয়ম
- সঞ্চয়পত্রে মুনাফা আরও কমলো, জানুন নতুন হার
- প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির পূর্ণ তালিকা
- ওরিয়ন ফার্মা ও ইনফিউশনের নতুন ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে
- বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে জেনে নিন আগেই
- পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক এনএভি প্রকাশ
- রেকর্ড ডেটের আগে দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিধিনিষেধ
- নতুন বছরের প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে শক্ত উত্থান
- ০১ জানুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর
- ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি
- ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
- শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস
- শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই
- শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
- পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
- শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- এর চেয়েও বহুগুণ বিকট আওয়াজ তোমাকে দিশেহারা করার অপেক্ষায়: আজহারী
- আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- নতুন বছরে কমল জ্বালানি তেলের দাম: আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- উৎসবহীন ২০২৬-এর পথচলা: হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর শোকের চাদরে ঢাকা দেশ
- নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মধ্যরাতে পটকার বিকট শব্দে কাঁপল ঢাকা
- নতুন বছরের শুরুতেই শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
- সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
- আয়ের দৌড়ে শীর্ষ নেতাদের পেছনে ফেললেন নুর, হলফনামায় নতুন চমক
- কেন ১ জানুয়ারি নতুন বছর? জানুন এর পেছনের রোমাঞ্চকর ইতিহাস
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান ও নেপালের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ
- হাড়কাঁপানো শীতের ইতিহাস, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কবে কত ছিল?
- ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু তবে কি ধেয়ে আসছে পরবর্তী তুষারযুগ?
- শীতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সেরা ৫ টিপস
- বছর শেষে স্বর্ণের দামে বড় ধস, কাল থেকে কার্যকর নতুন রেট
- ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের সম্পদের পাহাড়? হলফনামায় মিলল বড় তথ্য
- টাঙ্গাইলে খোলস পাল্টে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের তিন নেতা
- খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে হাসিনা মুক্তি পাবেন না: নজরুল
- কবে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যাবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার গায়িবানা জানাজা
- আজ ঢাবির ভর্তি যুদ্ধ: আছে এমআইএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খবর
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন মূল্য
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- আজ থেকে শুরু বিপিএলের দ্বাদশ আসর, জানুন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদেছেন তারেক রহমান
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ








