বিশেষ প্রতিবেদন

জামায়াতে ইসলামী: অতীতের ছায়া ছাপিয়ে কি নতুন শুরু সম্ভব?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৬ ২১:১১:০৮
জামায়াতে ইসলামী: অতীতের ছায়া ছাপিয়ে কি নতুন শুরু সম্ভব?

লাহোর প্রস্তাব, পাকিস্তান আন্দোলন, ভারত ভাগ, তারপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত উপমহাদেশের মুসলিম রাজনীতির এক জটিল অধ্যায়ের নাম জামায়াতে ইসলামী। দলটি কখনো পাকিস্তান রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধী, কখনো সেই পাকিস্তানেরই শরিক, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত। স্বাধীন বাংলাদেশের ভেতরেও নিষেধাজ্ঞা, পুনরুত্থান, জোট রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার, সাম্প্রতিক নিষিদ্ধ ঘোষণা, সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ নেই। আজকের আলোচনায় তাই গোড়া থেকে বর্তমান পর্যন্ত জামায়াতের রাজনৈতিক চিন্তা, কৌশল, অর্জন, ব্যর্থতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান।

লাহোর প্রস্তাব, রাষ্ট্রধারণার জন্ম এবং পাকিস্তান আন্দোলনের ভূমিকা

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে রাষ্ট্র গঠনের একটি প্রস্তাব পেশ করলেন। তার সেই প্রস্তাবকে হিন্দু বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত পত্রপত্রিকাগুলো প্রচার করতে লাগল পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে কোথাও পাকিস্তান নামটির উল্লেখ ছিল না। এমনকি মুসলিম লীগের মুখপাত্রদেরও এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না।

হিন্দু মহলের ধারাবাহিক প্রচারণার ফলেই মুসলিম নেতৃবৃন্দের মাঝে রাষ্ট্রধারণার স্পষ্ট বোধ তৈরি হতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪১ সালের ১৫ই এপ্রিল মাদ্রাজ অধিবেশনে তথাকথিত পাকিস্তান প্রস্তাবকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের শাসনতন্ত্রে মূল নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে জোরালো হতে থাকে পাকিস্তান আন্দোলন। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনও প্রবল হয়ে উঠছিল। ইতিহাসের এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে মুসলিম রাজনীতির আরেকটি নতুন ধারার উদ্ভব ঘটে, যেখান থেকে পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী আত্মপ্রকাশ করে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, মুসলিম লীগ এবং মতাদর্শিক বিভক্তি

যখন পাকিস্তান আন্দোলন জোরালো হচ্ছিল, সেই সময় উপমহাদেশে মুসলিমদের বড় দুটো রাজনৈতিক শিবির ছিল মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। পাকিস্তান প্রশ্নে এই দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট মতানৈক্য দেখা দেয়। মুসলিম লীগ ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে, আর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ছিল ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে।

জমিয়তের চিন্তা ছিল, ইতিপূর্বেই ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের বিস্তৃত ইতিহাস রয়েছে, ভবিষ্যতের অখণ্ড ভারতেও মুসলিমরাই শাসন ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে। তাদের কাছে ভূখণ্ড অখণ্ড রাখা এবং তার ভেতরেই মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ছিল বেশি যৌক্তিক। কিন্তু মুসলিম লীগের চোখে রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল ভিন্ন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ভিত্তিতে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে মুসলিম নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের পথ খুঁজছিল।

তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুখপত্র ছিল ‘আল জমিয়ত’ পত্রিকা, যেই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী। জমিয়তের সাথে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে তিনি ধীরে ধীরে সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে সরে যান এবং পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠা লাভ করে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের জন্ম ও পাকিস্তানবিরোধী অবস্থান

১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ৭৫ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ঘোষণার পর মওদুদী জামাতের আমির হিসেবে মনোনীত হন। সেখান থেকেই শুরু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আদর্শিক যাত্রা।

সে সময় থেকেই তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করতে থাকেন। তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে দাবি করেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করা মুসলিম লীগ, জিন্না, এরা কেউই খাঁটি মুসলিম নন। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও পক্ষে ছিল না। প্রশ্ন জাগে, তাহলে জামাত তথা মওদুদীর উদ্দেশ্য কী ছিল?

মওদুদী সম্পর্কে একটি বিষয় আগে জানা দরকার। যৌবনে ভারতের মার্ক্সবাদী নেতা আব্দুস সাত্তার খায়রীর বিশেষ অনুরাগী ছিলেন তিনি, আবার ছিলেন সিদ্ধহস্ত লেখক। মুসলিম সমাজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে মাসিক ‘তরজমানুল কোরআন’ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি নিজের মতবাদ প্রচার শুরু করেন। এই পত্রিকার ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় মওদুদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লেখেন, পাকিস্তান নামক কোন রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা আহাম্মুকের বেহেশত এবং মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র হবে।

এই ধরনের লেখালেখি ও প্রচারণার ফলে মুসলিম লীগ সমর্থকরা জামাতকে ব্রিটিশ ও কংগ্রেসের দালাল বলে মনে করতে শুরু করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, এবং পরিহাসের বিষয় হচ্ছে সেই পাকিস্তানেরই মাটিতে গিয়ে ঠাঁই নিতে হয় পাকিস্তানবিরোধী জামায়াতে ইসলামী হিন্দের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীকে।

পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী: গ্রেপ্তার, দাঙ্গা ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর জামায়াতে ইসলামী হিন্দ ও জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় সংগঠনটি। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির হন মওলানা মওদুদী, আর জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমির হন আবুল লাইস ইসলাহী নাদভী।

পাকিস্তানে গিয়ে মওদুদী ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। এই কারণে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরে পাকিস্তানি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তান শাখা খোলে। এরই মধ্যে জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতায় সংগঠনটির শক্তি ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ১৯৫০ সালে মওদুদীকে মুক্তি দেওয়া হয়।

১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করে আইন পাশ করার দাবিতে আবারো আন্দোলন শুরু করে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। মওদুদী পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং পাকিস্তান সরকারকে আহমদীয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সে সময় জামায়াতের কিছু সমর্থক লাহোরে আহমদীদের উপর হামলা চালায়, এর জের ধরে শুরু হয় দাঙ্গা। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে দাঙ্গা দমে গেলেও, এই সহিংসতায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ভারত–পাকিস্তান বিভাজনের পর কোনও একক দাঙ্গায় এত মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা এটি প্রথম।

ঘটনার পর মওলানা মওদুদীকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে। বিচারে তাকে দাঙ্গার মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম দেশের মধ্যস্থতায় তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। ১৯৫৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শাখা ‘ছাত্র সংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এখন ইসলামী ছাত্রশিবির নামে পরিচিত।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ: স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিরোধিতা ও নিষেধাজ্ঞা

জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্পর্ক এক জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী জামাত ১৯৭১ এ এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধী শক্তিতে পরিণত হয়। অনেকের বিশ্লেষণে ধরা হয়, পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতার যে ঐতিহাসিক ভুল তারা মনে করেছিল, তার কাফফারা দিতেই একাত্তরে জামায়াত শুধু বাংলাদেশের বিরোধিতাই করেনি, বরং স্বাধীনতা আন্দোলন রুখে দিতে শান্তি কমিটি গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয় সমর্থন দিয়েছে।

জামায়াতের প্রেসক্রিপশন অনুসারেই তাদের ছাত্র উইং ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়েই রাজাকার, আল বদর ও আলশামস বাহিনী গঠিত হয়। এমনকি স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জামায়াত নানা কার্যক্রম পরিচালিত করে, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে গোলাম আজম লন্ডনে গিয়ে পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি গঠন করেন।

কিন্তু পাকিস্তানের বিরোধিতার মতো বাংলাদেশের বিরোধিতাও শেষ পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত হয়। যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় যখন সুনিশ্চিত, তখন জামায়াত নেতারা পালিয়ে যান সেই পাকিস্তানেই, যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা তারা একসময় করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জামাতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের বিরোধিতা ও গণহত্যায় সহায়তার জন্য ১৯৭৩ সালে যে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, তার অন্যতম ছিলেন গোলাম আজম। তবু প্রহসনের মতো কিছুদিন পরই গোলাম আজমকেও মওদুদীর মতো সেই রাষ্ট্রেই ফিরতে হয়, যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিনি এবং তার দল কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতের পুনরুত্থান, জোটরাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধের বিচার

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার। রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করেন, যা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করেছিল। এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে জামাত সমমনোভাবাপন্ন ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে ১৯৭৬ সালের ২৪ আগস্ট ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগ (আইডিএল) নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করে। আইডিএলের ছায়ায় জামাতের নেতা–কর্মীরা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র নীতি ইসলামী দলগুলোর জন্য, বিশেষ করে জামায়াতের জন্য, সাপে বর হয়ে আসে। ফলস্বরূপ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে ছয়টি আসন জিতে নেয়, যা জামাতের শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির উত্থান ঘটে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জামায়াতও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন লাভ করে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যোগ দিয়ে ১৭টি আসন ও দুটো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পায়। যদিও ১৯৯৬ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে যথাক্রমে মাত্র ৩টি ও ২টি আসন পায় তথাপিবাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত এক বড় ফ্যাক্টরে পরিণত হয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে, কিছুদিন পর থেকেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বিচার কতটা প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্য নিয়ে আর কতটা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্যই ওঠে। কারণ সেই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জামায়াতকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার আওয়ামী লীগের নীলনকশা অনেকটা বাস্তবায়িত হয়ে যায় বলে বিশ্লেষণ রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ সরাসরি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে দলটিকে নানা উপায়ে ব্যবহার করারও চেষ্টা করেছে বলে এক ধরনের মত প্রচলিত আছে। তবু আসল সত্য এই যে, এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াত কোনোভাবে টিকে আছে, এটাকেই অনেকে তাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে তুলে ধরেন। রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তাদের কমই হয়েছে, প্রশ্ন থাকে কেন?

বাংলাদেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও জামায়াতের সীমাবদ্ধতা

উপমহাদেশের ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী অন্যতম প্রাচীন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। তথাপি রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে দলটির আহামরি কোনও অর্জন নেই। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতের মতন সুসংগঠিত ইসলামী দল কেন একবারের জন্যও এককভাবে ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারেনি, কিংবা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যেতে পারেনি, তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।

প্রথমত, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ভক্তিপ্রবণ হলেও বিশ্বাসের দিক থেকে তুলনামূলক উদার। এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতার পাশাপাশি সুফি ঐতিহ্য মানুষের ধর্মীয় আবেগকে নরম ও আধ্যাত্মিক রেখেছে। ধর্মের র‍্যাডিকাল ব্যাখ্যা কখনোই এই অঞ্চলের মানুষের মূল চরিত্র গড়ে দিতে পারেনি। যার ফলে জামায়াত কিংবা জামায়াতের মত রেডিক্যাল মতাদর্শের দল কখনোই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।

দ্বিতীয়ত, জামায়াতসহ অনেক ইসলামী দল সেই অর্থে ‘গণমানুষের অংশ’ হয়ে উঠতে পারেনি। এজন্য আমরা দেখি ১৯৪৭ কিংবা ১৯৭১ সালের মতো জনজাগরণের সময়ও গণআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তারা অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের অবস্থান তাদের প্রতি বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর আস্থা গড়ে ওঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃতীয়ত, ইসলামপন্থীদের মধ্যে শতধা বিভক্তিও এই ব্যর্থতার বড় কারণ। সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের মনে ইসলাম ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব আছে, কিন্তু বাস্তবে ইসলামপন্থী রাজনীতি নানা দল এবং উপদলে বিভক্ত। এতে জামায়াতের সম্ভাব্য ভোটব্যাংক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে গেছে।

দেওবন্দী, সুফি, ওয়াহাবি: আকিদাগত দ্বন্দ্ব এবং জামায়াতের অবস্থান

বাংলাদেশ মূলত সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। সুন্নিদের মধ্যে দেওবন্দী, সুফিবাদী ধারা এবং ওয়াহাবি মতাদর্শ একটি ডমিনেন্ট উপগোষ্ঠী হিসেবে বিদ্যমান। জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় আকিদা মধ্যপ্রাচ্যের ওয়াহাবিজম দ্বারা অনেকটাই প্রভাবিত, আর রাজনৈতিক দিক থেকে জামায়াত ইসলাম মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মতাদর্শধারী। তাদের এই মতাদর্শিক কাঠামোর সাথে প্রচলিত সুন্নি ও দেওবন্দী ধারার দ্বন্দ্ব সুস্পষ্ট। অনেক সময় একদল অন্যদলকে কাফের বা ভণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।

এছাড়াও সুফিদের মাধ্যমে ইসলাম আসা এই ভূখণ্ডে সুফিজম বা মিস্টিসিজমের প্রভাবও লক্ষণীয়। যাদেরকে জামাত অনেকটা প্রকাশ্যেই ‘বেদাতি’ হিসেবে গণ্য করে। ফলে ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি সহানুভূতিশীল জনগোষ্ঠীও নানাভাবে দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এই মতবিরোধের ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে। জমিয়ত তথা দেওবন্দী সিলসিলার আলেমগণ, বিশেষ করে হুসাইন আহমদ মাদানীর সাথে সায়েদ আবুল আলা মওদুদীর মতানৈক্য এবং সেখান থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়েই জামায়াতে ইসলামীর জন্ম। মওদুদীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, মুসলমানদের জাতীয়তা বা পরিচয় দেশ বা স্থানের সাথে নয়, বরং বিশ্বাসের সাথে যুক্ত। অপরদিকে ওলামায়ে দেওবন্দের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, জাতীয়তা দেশ এবং ভূখণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত।

তারা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, কওমে আদ এবং কওমে সামুদের মত কওমগুলোর পরিচয়ও স্থান এবং দেশের সাথে জড়িত, আল্লাহ পবিত্র কোরআনেও তাদেরকে কওম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওলামায়ে দেওবন্দের সাথে জামায়াতের আরেকটি মৌলিক মতবিরোধ ছিল সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে সব সাহাবী ঈমান, আমল, আদর্শ – সব ক্ষেত্রে সত্যের মাপকাঠি, কিন্তু মওদুদী তার ‘মিয়ারে হক’ বইতে সাহাবায়ে কেরামকে সেই অর্থে হকের একমাত্র মাপকাঠি নন বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

তার ‘খেলাফত ও মলিকিয়াত’ এবং ‘রাসায়েল মাসায়েল’ বইয়ে উটের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আমিরে মুয়াবিয়া সহ কিছু সাহাবীর প্রসঙ্গে তাঁর কিছু সমালোচনামূলক মন্তব্যকে দেওবন্দী আলেমরা সাহাবাবিরোধী মনোভাব হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, যারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনায় লিপ্ত থাকে, তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ভেতর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে না। এই আকিদাগত মতপার্থক্য থেকে রাজনৈতিক মতবিরোধ আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। হোসাইন আহমদ মাদানীর নেতৃত্বে তৎকালীন ওলামায়ে দেওবন্দ মওদুদীকে ‘গোমরাহ’ বলে ফতোয়া দেন বলে প্রচলিত। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কওমী আলেম ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ – দুই ধারার মধ্যেও এই দ্বন্দ্ব এখনো কমবেশি বিদ্যমান।

জামায়াত কি ইসলামী দল, নাকি রাজনৈতিক ব্র্যান্ড?

এই প্রশ্নটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আছে: জামায়াতে ইসলামী কি আসলেই ইসলামী দল, নাকি ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিনয় করছে? অনেক বিশ্লেষকের মতে, ধর্মের কথা বলা হলেও মূলত ভারতের কমিউনিজমবিরোধী শক্তি হিসেবেই একটি সংগঠনের জন্ম হয়েছিল, ব্রিটিশ শাসকরাও তখন তাদের কিছুটা আনুকূল্য দিয়েছিল বলে ধারণা প্রচলিত।

মওলানা মওদুদীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামকে বাংলাদেশের অনেক ইসলামপন্থী দল ইসলামী দল হিসেবে গ্রহণ করে না। অনেক কওমী ঘরানার ও পীরপন্থী দলগুলো জামাতকে ‘গোমরাহ’ মনে করে। অন্যদিকে জামাতের ভেতরের অনুরাগীরা নিজেদেরকে একটি আদর্শ ইসলামী আন্দোলনের বাহক হিসেবে দেখেন।

নিষেধাজ্ঞা, টিকে থাকা এবং সাম্প্রতিক পুনর্নিষেধাজ্ঞা

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত অন্তত চার দফায় জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ ও ১৯৬৪ সালে, আর বাংলাদেশে ১৯৭২ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে মোট দুইবার নিষিদ্ধ হয় দলটি। তারপরও সংগঠনটি আন্ডারগ্রাউন্ড বা বিকল্প প্ল্যাটফর্মে থেকে সাংগঠনিক উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

জামাত দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, নিষেধাজ্ঞা, দমন–পীড়ন সত্ত্বেও টিকে থাকা – এটাই তাদের রাজনৈতিক সফলতা। সমালোচকদের মতে, এটি টিকে থাকা হলেও গণআকাঙ্ক্ষার মূলধারায় প্রবেশ করতে না পারার এক দীর্ঘ ব্যর্থতার ইতিহাসও বটে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট: ইসলামী ঐক্যের কথা, জেনারেশন জেড এবং ‘হিন্দু শাখা’ বিতর্ক

বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের মধ্যে জামাতের সাথে মতাদর্শিক বিবাদ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার কিছু প্রচেষ্টা চোখে পড়ছে। কিছুদিন আগে ইসলামী দলগুলোর কিছু নেতা–কর্মীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখান থেকে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তথা চরমোনাই পীরও এক পর্যায়ে জামাতের সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত করেছেন, যদিও ইতিহাস বলে, ইসলামপন্থী দলগুলো ইতিপূর্বেও একাধিকবার ঐক্যের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা জেনারেশন জেড বা জেনজি প্রজন্মের বড় অংশের মধ্যে জামায়াতকে নিয়ে বিরূপ বা অন্তত মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যুদ্ধাপরাধের ইস্যু, ৭১-এর ভূমিকা, নারী ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে জামাতের ভাবমূর্তি – সব মিলিয়ে তরুণদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়নি।

তারপরও এখন পর্যন্ত জামাতের নেতৃস্থানীয়রা তুলনামূলক ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। জামাত যদি তাদের ঐতিহাসিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে – এমন সম্ভাবনার কথাও অনেকে বলছেন। তবে জামাত শক্তিশালী হলেই দেশে সরাসরি শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠিত হবে – এমন ধারণা করারও সুযোগ নেই। কারণ ইতিপূর্বে বিএনপির সঙ্গে দুটো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ১৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে সরকারে থেকেও ইসলামের প্রশ্নে তারা কার্যত উল্লেখযোগ্য কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনেনি।

২৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডি টপিক হিসেবে দেখা যায়, রংপুরে জামাতের ‘হিন্দু শাখা’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। জামাত দেশি–বিদেশি পরিমণ্ডলে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে তারা কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠন নয়, বরং ‘মডারেট ইসলাম’-এর ধারক। ঐতিহাসিক এসব দিক পর্যালোচনা করলে অনেকে মনে করছেন, জামাতকে ইসলামী দলের চেয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

ইতিহাসের ভার, বর্তমানের হিসাব, ভবিষ্যতের প্রশ্ন

উপমহাদেশের এক বিরল রাজনৈতিক অর্গানাইজেশন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী একই সঙ্গে পাকিস্তানবিরোধী, পাকিস্তানের শরিক, স্বাধীনতা–বিরোধী এবং আবারও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নিতে চাওয়া এক সংগঠন। লাহোর প্রস্তাব থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ – এই দীর্ঘ পথচলায় তাদের আদর্শ, অবস্থান, কৌশল বহুবার বদলেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনগণের ঐতিহাসিক চরিত্র, ইসলামপন্থীদের ভেতরের বিভক্তি, আকিদাগত দ্বন্দ্ব, এবং যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন – সব কিছু মিলিয়ে জামাত কখনোই এই দেশে মূলধারার সর্বজনগ্রাহ্য শক্তি হতে পারেনি। তবু তারা টিকে আছে, এবং আবারও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রশ্ন রয়ে যায়, আগামী দিনে কি জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অতীতের ছায়া থেকে সত্যিই বেরিয়ে আসতে পারবে? নাকি ইতিহাসের ভারই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্ভাবনাকে বারবার থামিয়ে দেবে? এই উত্তর সময়ই দেবে।

-সালেহিন


ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২২:১১:২৩
ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ভোট না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর কাছে এই নির্বাচন অর্থহীন ও প্রহসনের। তাঁর মতে, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আগে থেকেই সবার জানা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে তাঁর দৃষ্টিতে এটি নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়ন প্রক্রিয়া।

রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তোলেন, একজন অরাজনৈতিক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হলো না কেন। তিনি বলেন, দেশে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার সঙ্গে জাতির আত্মত্যাগ ও অনেক প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা গেল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছিল বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে কথা বললেও এখন দলের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি এই ভোটকে প্রহসন হিসেবে দেখছেন এবং সে কারণে ভোট দেননি বলে জানান।

রুমিন ফারহানা ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া অন্য পাঁচ সংসদ সদস্য হলেন বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

/আশিক


নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২১:৩৭:২৯
নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের
ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।

বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত অলংকারিক। তবে রাষ্ট্রপতিকে দলীয় রাজনীতির গণ্ডির বাইরে থাকার বিষয়টিও সংবিধানে নির্ধারিত রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে আসার জন্য তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও সব মানুষের আস্থার প্রতীক। তাই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির আরও বলেন, রাজনীতিতে সততা বর্তমানে বিরল হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সততার ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। পাশাপাশি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সুষ্ঠু রাজনীতির বিকাশে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ও প্রচেষ্টা সর্বজনবিদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, এমন একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যে প্রত্যাশা ও আশাবাদ নিয়ে মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, তা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন।

শেষে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।

/আশিক


স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২০:৩০:০১
স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি
ছবি : সংগৃহীত

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার পর আবারও মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপু মনিকে বহনকারী পুলিশের প্রিজনভ্যান মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে পৌঁছায়। পরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে মেয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান দীপু মনি। প্যারোলে মুক্তির পর তিনি স্বামীর শেষ বিদায়কার্যে অংশ নেন।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীপু মনিকে গ্রেফতার করে। এরপর তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর দীপু মনির মেয়ের পক্ষ থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে চার দিনের প্যারোলের আবেদন করা হয়। তবে প্রশাসন ১২ ঘণ্টার জন্য তার প্যারোল মঞ্জুর করে। সেই সময় শেষ হওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

/আশিক


মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৯:১৯:২৮
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিবের পদটি শূন্য হয়।

বিএনপি সরকার গঠন করার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী আহমেদের পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে এবং ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিও লাভ করেন।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন রিজভী। সে সময় তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সংগঠনটিতে যোগ দেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট তাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। এবার তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

/আশিক


জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:৩১:০৯
জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর
ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, তাই তারা ফ্যাসিস্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর দাবি, জামায়াত-শিবির সেই সুযোগ পায়নি বলেই তারা ফ্যাসিস্ট হতে পারেনি। তবে সুযোগ পেলে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান প্রতিমন্ত্রী নুর। সেখানে তিনি আহত কর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, ফ্যাসিবাদের সময় যারা নির্যাতিত ও মজলুম ছিল, তারা সবাই একসঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। ছয় মাস না যেতেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিষোদগার শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচির নামে জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবির তাদের শক্তি দেখাতে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, জামায়াতের এক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে।

নুরুল হক বলেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মহাদিসকে কুপিয়ে তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সংগঠনটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মজলুম থাকলেও গত ছয় মাসে সারাদেশে তাদের কর্মকাণ্ডে একটি জালেম সংগঠনে পরিণত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন নুরুল হক নুর।

জামায়াত-শিবিরকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য এবং জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:১৩:২৭
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির।

পোস্টের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

/আশিক


ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:৩৩:১৫
ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পক্ষ থেকে কোনো স্বার্থ ছাড়া বন্ধুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, তবে আমন্ত্রণের পেছনে কোনো স্বার্থ থাকলে দেশ সে পথে এগোবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী জানান, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গেই সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলায় বিশ্বাসী। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও সমমর্যাদা, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং তুলে ধরতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

/আশিক


তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৪:২৮
তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, দেশেই সব উৎসর্গ: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থের বাইরে এক পাও যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই; তিনি দেশের জন্য জীবন ও মন উৎসর্গ করেছেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দল ও সরকারের সার্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যরা।

একই কর্মসূচিতে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমানউল্লাহ আমান ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মতো সহজ-সরল জীবনযাপন করেন এবং অতীতের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি মইনুল রোডের বাসভবনে তিনি যে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, তা দেশবাসীর জানা রয়েছে।

/আশিক


সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৪৬:৩১
সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব: বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন ইতিবাচক সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তাঁদের পক্ষে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ও গণমাধ্যম ব্ল্যাকআউটের মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও মফস্সল, মাল্টিমিডিয়া ও নাগরিক সাংবাদিকরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের কাজ করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারে নিজের সাত মাসের দায়িত্বকালের সীমাবদ্ধতা ও হতাশা স্বীকার করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সময়েই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনসহ গঠিত বিভিন্ন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি।

গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দল, মালিকপক্ষ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাবমুক্ত রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের প্রভাববলয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক।

/আশিক

পাঠকের মতামত: