বিশেষ প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী: অতীতের ছায়া ছাপিয়ে কি নতুন শুরু সম্ভব?

লাহোর প্রস্তাব, পাকিস্তান আন্দোলন, ভারত ভাগ, তারপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত উপমহাদেশের মুসলিম রাজনীতির এক জটিল অধ্যায়ের নাম জামায়াতে ইসলামী। দলটি কখনো পাকিস্তান রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধী, কখনো সেই পাকিস্তানেরই শরিক, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত। স্বাধীন বাংলাদেশের ভেতরেও নিষেধাজ্ঞা, পুনরুত্থান, জোট রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার, সাম্প্রতিক নিষিদ্ধ ঘোষণা, সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ নেই। আজকের আলোচনায় তাই গোড়া থেকে বর্তমান পর্যন্ত জামায়াতের রাজনৈতিক চিন্তা, কৌশল, অর্জন, ব্যর্থতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান।
লাহোর প্রস্তাব, রাষ্ট্রধারণার জন্ম এবং পাকিস্তান আন্দোলনের ভূমিকা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে রাষ্ট্র গঠনের একটি প্রস্তাব পেশ করলেন। তার সেই প্রস্তাবকে হিন্দু বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত পত্রপত্রিকাগুলো প্রচার করতে লাগল পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে কোথাও পাকিস্তান নামটির উল্লেখ ছিল না। এমনকি মুসলিম লীগের মুখপাত্রদেরও এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না।
হিন্দু মহলের ধারাবাহিক প্রচারণার ফলেই মুসলিম নেতৃবৃন্দের মাঝে রাষ্ট্রধারণার স্পষ্ট বোধ তৈরি হতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪১ সালের ১৫ই এপ্রিল মাদ্রাজ অধিবেশনে তথাকথিত পাকিস্তান প্রস্তাবকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের শাসনতন্ত্রে মূল নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে জোরালো হতে থাকে পাকিস্তান আন্দোলন। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনও প্রবল হয়ে উঠছিল। ইতিহাসের এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে মুসলিম রাজনীতির আরেকটি নতুন ধারার উদ্ভব ঘটে, যেখান থেকে পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী আত্মপ্রকাশ করে।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, মুসলিম লীগ এবং মতাদর্শিক বিভক্তি
যখন পাকিস্তান আন্দোলন জোরালো হচ্ছিল, সেই সময় উপমহাদেশে মুসলিমদের বড় দুটো রাজনৈতিক শিবির ছিল মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। পাকিস্তান প্রশ্নে এই দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট মতানৈক্য দেখা দেয়। মুসলিম লীগ ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে, আর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ছিল ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে।
জমিয়তের চিন্তা ছিল, ইতিপূর্বেই ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের বিস্তৃত ইতিহাস রয়েছে, ভবিষ্যতের অখণ্ড ভারতেও মুসলিমরাই শাসন ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে। তাদের কাছে ভূখণ্ড অখণ্ড রাখা এবং তার ভেতরেই মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ছিল বেশি যৌক্তিক। কিন্তু মুসলিম লীগের চোখে রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল ভিন্ন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ভিত্তিতে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে মুসলিম নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের পথ খুঁজছিল।
তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুখপত্র ছিল ‘আল জমিয়ত’ পত্রিকা, যেই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী। জমিয়তের সাথে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে তিনি ধীরে ধীরে সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে সরে যান এবং পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠা লাভ করে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ।
জামায়াতে ইসলামী হিন্দের জন্ম ও পাকিস্তানবিরোধী অবস্থান
১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ৭৫ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ঘোষণার পর মওদুদী জামাতের আমির হিসেবে মনোনীত হন। সেখান থেকেই শুরু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আদর্শিক যাত্রা।
সে সময় থেকেই তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করতে থাকেন। তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে দাবি করেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করা মুসলিম লীগ, জিন্না, এরা কেউই খাঁটি মুসলিম নন। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও পক্ষে ছিল না। প্রশ্ন জাগে, তাহলে জামাত তথা মওদুদীর উদ্দেশ্য কী ছিল?
মওদুদী সম্পর্কে একটি বিষয় আগে জানা দরকার। যৌবনে ভারতের মার্ক্সবাদী নেতা আব্দুস সাত্তার খায়রীর বিশেষ অনুরাগী ছিলেন তিনি, আবার ছিলেন সিদ্ধহস্ত লেখক। মুসলিম সমাজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে মাসিক ‘তরজমানুল কোরআন’ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি নিজের মতবাদ প্রচার শুরু করেন। এই পত্রিকার ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় মওদুদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লেখেন, পাকিস্তান নামক কোন রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা আহাম্মুকের বেহেশত এবং মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র হবে।
এই ধরনের লেখালেখি ও প্রচারণার ফলে মুসলিম লীগ সমর্থকরা জামাতকে ব্রিটিশ ও কংগ্রেসের দালাল বলে মনে করতে শুরু করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, এবং পরিহাসের বিষয় হচ্ছে সেই পাকিস্তানেরই মাটিতে গিয়ে ঠাঁই নিতে হয় পাকিস্তানবিরোধী জামায়াতে ইসলামী হিন্দের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীকে।
পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী: গ্রেপ্তার, দাঙ্গা ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর জামায়াতে ইসলামী হিন্দ ও জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় সংগঠনটি। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির হন মওলানা মওদুদী, আর জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমির হন আবুল লাইস ইসলাহী নাদভী।
পাকিস্তানে গিয়ে মওদুদী ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। এই কারণে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরে পাকিস্তানি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তান শাখা খোলে। এরই মধ্যে জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতায় সংগঠনটির শক্তি ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ১৯৫০ সালে মওদুদীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করে আইন পাশ করার দাবিতে আবারো আন্দোলন শুরু করে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। মওদুদী পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং পাকিস্তান সরকারকে আহমদীয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সে সময় জামায়াতের কিছু সমর্থক লাহোরে আহমদীদের উপর হামলা চালায়, এর জের ধরে শুরু হয় দাঙ্গা। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে দাঙ্গা দমে গেলেও, এই সহিংসতায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ভারত–পাকিস্তান বিভাজনের পর কোনও একক দাঙ্গায় এত মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা এটি প্রথম।
ঘটনার পর মওলানা মওদুদীকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে। বিচারে তাকে দাঙ্গার মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম দেশের মধ্যস্থতায় তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। ১৯৫৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শাখা ‘ছাত্র সংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এখন ইসলামী ছাত্রশিবির নামে পরিচিত।
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ: স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিরোধিতা ও নিষেধাজ্ঞা
জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্পর্ক এক জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী জামাত ১৯৭১ এ এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধী শক্তিতে পরিণত হয়। অনেকের বিশ্লেষণে ধরা হয়, পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতার যে ঐতিহাসিক ভুল তারা মনে করেছিল, তার কাফফারা দিতেই একাত্তরে জামায়াত শুধু বাংলাদেশের বিরোধিতাই করেনি, বরং স্বাধীনতা আন্দোলন রুখে দিতে শান্তি কমিটি গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয় সমর্থন দিয়েছে।
জামায়াতের প্রেসক্রিপশন অনুসারেই তাদের ছাত্র উইং ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়েই রাজাকার, আল বদর ও আলশামস বাহিনী গঠিত হয়। এমনকি স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জামায়াত নানা কার্যক্রম পরিচালিত করে, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে গোলাম আজম লন্ডনে গিয়ে পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি গঠন করেন।
কিন্তু পাকিস্তানের বিরোধিতার মতো বাংলাদেশের বিরোধিতাও শেষ পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত হয়। যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় যখন সুনিশ্চিত, তখন জামায়াত নেতারা পালিয়ে যান সেই পাকিস্তানেই, যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা তারা একসময় করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জামাতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের বিরোধিতা ও গণহত্যায় সহায়তার জন্য ১৯৭৩ সালে যে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, তার অন্যতম ছিলেন গোলাম আজম। তবু প্রহসনের মতো কিছুদিন পরই গোলাম আজমকেও মওদুদীর মতো সেই রাষ্ট্রেই ফিরতে হয়, যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিনি এবং তার দল কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতের পুনরুত্থান, জোটরাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধের বিচার
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার। রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করেন, যা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করেছিল। এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে জামাত সমমনোভাবাপন্ন ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে ১৯৭৬ সালের ২৪ আগস্ট ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগ (আইডিএল) নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করে। আইডিএলের ছায়ায় জামাতের নেতা–কর্মীরা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।
জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র নীতি ইসলামী দলগুলোর জন্য, বিশেষ করে জামায়াতের জন্য, সাপে বর হয়ে আসে। ফলস্বরূপ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে ছয়টি আসন জিতে নেয়, যা জামাতের শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির উত্থান ঘটে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জামায়াতও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন লাভ করে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যোগ দিয়ে ১৭টি আসন ও দুটো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পায়। যদিও ১৯৯৬ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে যথাক্রমে মাত্র ৩টি ও ২টি আসন পায় তথাপিবাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত এক বড় ফ্যাক্টরে পরিণত হয়।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে, কিছুদিন পর থেকেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বিচার কতটা প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্য নিয়ে আর কতটা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্যই ওঠে। কারণ সেই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জামায়াতকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার আওয়ামী লীগের নীলনকশা অনেকটা বাস্তবায়িত হয়ে যায় বলে বিশ্লেষণ রয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ সরাসরি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে দলটিকে নানা উপায়ে ব্যবহার করারও চেষ্টা করেছে বলে এক ধরনের মত প্রচলিত আছে। তবু আসল সত্য এই যে, এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াত কোনোভাবে টিকে আছে, এটাকেই অনেকে তাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে তুলে ধরেন। রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তাদের কমই হয়েছে, প্রশ্ন থাকে কেন?
বাংলাদেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও জামায়াতের সীমাবদ্ধতা
উপমহাদেশের ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী অন্যতম প্রাচীন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। তথাপি রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে দলটির আহামরি কোনও অর্জন নেই। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতের মতন সুসংগঠিত ইসলামী দল কেন একবারের জন্যও এককভাবে ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারেনি, কিংবা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যেতে পারেনি, তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
প্রথমত, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ভক্তিপ্রবণ হলেও বিশ্বাসের দিক থেকে তুলনামূলক উদার। এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতার পাশাপাশি সুফি ঐতিহ্য মানুষের ধর্মীয় আবেগকে নরম ও আধ্যাত্মিক রেখেছে। ধর্মের র্যাডিকাল ব্যাখ্যা কখনোই এই অঞ্চলের মানুষের মূল চরিত্র গড়ে দিতে পারেনি। যার ফলে জামায়াত কিংবা জামায়াতের মত রেডিক্যাল মতাদর্শের দল কখনোই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত, জামায়াতসহ অনেক ইসলামী দল সেই অর্থে ‘গণমানুষের অংশ’ হয়ে উঠতে পারেনি। এজন্য আমরা দেখি ১৯৪৭ কিংবা ১৯৭১ সালের মতো জনজাগরণের সময়ও গণআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তারা অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের অবস্থান তাদের প্রতি বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর আস্থা গড়ে ওঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয়ত, ইসলামপন্থীদের মধ্যে শতধা বিভক্তিও এই ব্যর্থতার বড় কারণ। সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের মনে ইসলাম ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব আছে, কিন্তু বাস্তবে ইসলামপন্থী রাজনীতি নানা দল এবং উপদলে বিভক্ত। এতে জামায়াতের সম্ভাব্য ভোটব্যাংক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে গেছে।
দেওবন্দী, সুফি, ওয়াহাবি: আকিদাগত দ্বন্দ্ব এবং জামায়াতের অবস্থান
বাংলাদেশ মূলত সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। সুন্নিদের মধ্যে দেওবন্দী, সুফিবাদী ধারা এবং ওয়াহাবি মতাদর্শ একটি ডমিনেন্ট উপগোষ্ঠী হিসেবে বিদ্যমান। জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় আকিদা মধ্যপ্রাচ্যের ওয়াহাবিজম দ্বারা অনেকটাই প্রভাবিত, আর রাজনৈতিক দিক থেকে জামায়াত ইসলাম মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মতাদর্শধারী। তাদের এই মতাদর্শিক কাঠামোর সাথে প্রচলিত সুন্নি ও দেওবন্দী ধারার দ্বন্দ্ব সুস্পষ্ট। অনেক সময় একদল অন্যদলকে কাফের বা ভণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।
এছাড়াও সুফিদের মাধ্যমে ইসলাম আসা এই ভূখণ্ডে সুফিজম বা মিস্টিসিজমের প্রভাবও লক্ষণীয়। যাদেরকে জামাত অনেকটা প্রকাশ্যেই ‘বেদাতি’ হিসেবে গণ্য করে। ফলে ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি সহানুভূতিশীল জনগোষ্ঠীও নানাভাবে দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এই মতবিরোধের ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে। জমিয়ত তথা দেওবন্দী সিলসিলার আলেমগণ, বিশেষ করে হুসাইন আহমদ মাদানীর সাথে সায়েদ আবুল আলা মওদুদীর মতানৈক্য এবং সেখান থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়েই জামায়াতে ইসলামীর জন্ম। মওদুদীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, মুসলমানদের জাতীয়তা বা পরিচয় দেশ বা স্থানের সাথে নয়, বরং বিশ্বাসের সাথে যুক্ত। অপরদিকে ওলামায়ে দেওবন্দের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, জাতীয়তা দেশ এবং ভূখণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত।
তারা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, কওমে আদ এবং কওমে সামুদের মত কওমগুলোর পরিচয়ও স্থান এবং দেশের সাথে জড়িত, আল্লাহ পবিত্র কোরআনেও তাদেরকে কওম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওলামায়ে দেওবন্দের সাথে জামায়াতের আরেকটি মৌলিক মতবিরোধ ছিল সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে সব সাহাবী ঈমান, আমল, আদর্শ – সব ক্ষেত্রে সত্যের মাপকাঠি, কিন্তু মওদুদী তার ‘মিয়ারে হক’ বইতে সাহাবায়ে কেরামকে সেই অর্থে হকের একমাত্র মাপকাঠি নন বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তার ‘খেলাফত ও মলিকিয়াত’ এবং ‘রাসায়েল মাসায়েল’ বইয়ে উটের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আমিরে মুয়াবিয়া সহ কিছু সাহাবীর প্রসঙ্গে তাঁর কিছু সমালোচনামূলক মন্তব্যকে দেওবন্দী আলেমরা সাহাবাবিরোধী মনোভাব হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, যারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনায় লিপ্ত থাকে, তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ভেতর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে না। এই আকিদাগত মতপার্থক্য থেকে রাজনৈতিক মতবিরোধ আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। হোসাইন আহমদ মাদানীর নেতৃত্বে তৎকালীন ওলামায়ে দেওবন্দ মওদুদীকে ‘গোমরাহ’ বলে ফতোয়া দেন বলে প্রচলিত। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কওমী আলেম ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ – দুই ধারার মধ্যেও এই দ্বন্দ্ব এখনো কমবেশি বিদ্যমান।
জামায়াত কি ইসলামী দল, নাকি রাজনৈতিক ব্র্যান্ড?
এই প্রশ্নটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আছে: জামায়াতে ইসলামী কি আসলেই ইসলামী দল, নাকি ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিনয় করছে? অনেক বিশ্লেষকের মতে, ধর্মের কথা বলা হলেও মূলত ভারতের কমিউনিজমবিরোধী শক্তি হিসেবেই একটি সংগঠনের জন্ম হয়েছিল, ব্রিটিশ শাসকরাও তখন তাদের কিছুটা আনুকূল্য দিয়েছিল বলে ধারণা প্রচলিত।
মওলানা মওদুদীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামকে বাংলাদেশের অনেক ইসলামপন্থী দল ইসলামী দল হিসেবে গ্রহণ করে না। অনেক কওমী ঘরানার ও পীরপন্থী দলগুলো জামাতকে ‘গোমরাহ’ মনে করে। অন্যদিকে জামাতের ভেতরের অনুরাগীরা নিজেদেরকে একটি আদর্শ ইসলামী আন্দোলনের বাহক হিসেবে দেখেন।
নিষেধাজ্ঞা, টিকে থাকা এবং সাম্প্রতিক পুনর্নিষেধাজ্ঞা
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত অন্তত চার দফায় জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ ও ১৯৬৪ সালে, আর বাংলাদেশে ১৯৭২ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে মোট দুইবার নিষিদ্ধ হয় দলটি। তারপরও সংগঠনটি আন্ডারগ্রাউন্ড বা বিকল্প প্ল্যাটফর্মে থেকে সাংগঠনিক উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
জামাত দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, নিষেধাজ্ঞা, দমন–পীড়ন সত্ত্বেও টিকে থাকা – এটাই তাদের রাজনৈতিক সফলতা। সমালোচকদের মতে, এটি টিকে থাকা হলেও গণআকাঙ্ক্ষার মূলধারায় প্রবেশ করতে না পারার এক দীর্ঘ ব্যর্থতার ইতিহাসও বটে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: ইসলামী ঐক্যের কথা, জেনারেশন জেড এবং ‘হিন্দু শাখা’ বিতর্ক
বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের মধ্যে জামাতের সাথে মতাদর্শিক বিবাদ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার কিছু প্রচেষ্টা চোখে পড়ছে। কিছুদিন আগে ইসলামী দলগুলোর কিছু নেতা–কর্মীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখান থেকে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তথা চরমোনাই পীরও এক পর্যায়ে জামাতের সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত করেছেন, যদিও ইতিহাস বলে, ইসলামপন্থী দলগুলো ইতিপূর্বেও একাধিকবার ঐক্যের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা জেনারেশন জেড বা জেনজি প্রজন্মের বড় অংশের মধ্যে জামায়াতকে নিয়ে বিরূপ বা অন্তত মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যুদ্ধাপরাধের ইস্যু, ৭১-এর ভূমিকা, নারী ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে জামাতের ভাবমূর্তি – সব মিলিয়ে তরুণদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়নি।
তারপরও এখন পর্যন্ত জামাতের নেতৃস্থানীয়রা তুলনামূলক ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। জামাত যদি তাদের ঐতিহাসিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে – এমন সম্ভাবনার কথাও অনেকে বলছেন। তবে জামাত শক্তিশালী হলেই দেশে সরাসরি শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠিত হবে – এমন ধারণা করারও সুযোগ নেই। কারণ ইতিপূর্বে বিএনপির সঙ্গে দুটো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ১৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে সরকারে থেকেও ইসলামের প্রশ্নে তারা কার্যত উল্লেখযোগ্য কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনেনি।
২৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডি টপিক হিসেবে দেখা যায়, রংপুরে জামাতের ‘হিন্দু শাখা’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। জামাত দেশি–বিদেশি পরিমণ্ডলে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে তারা কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠন নয়, বরং ‘মডারেট ইসলাম’-এর ধারক। ঐতিহাসিক এসব দিক পর্যালোচনা করলে অনেকে মনে করছেন, জামাতকে ইসলামী দলের চেয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
ইতিহাসের ভার, বর্তমানের হিসাব, ভবিষ্যতের প্রশ্ন
উপমহাদেশের এক বিরল রাজনৈতিক অর্গানাইজেশন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী একই সঙ্গে পাকিস্তানবিরোধী, পাকিস্তানের শরিক, স্বাধীনতা–বিরোধী এবং আবারও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নিতে চাওয়া এক সংগঠন। লাহোর প্রস্তাব থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ – এই দীর্ঘ পথচলায় তাদের আদর্শ, অবস্থান, কৌশল বহুবার বদলেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনগণের ঐতিহাসিক চরিত্র, ইসলামপন্থীদের ভেতরের বিভক্তি, আকিদাগত দ্বন্দ্ব, এবং যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন – সব কিছু মিলিয়ে জামাত কখনোই এই দেশে মূলধারার সর্বজনগ্রাহ্য শক্তি হতে পারেনি। তবু তারা টিকে আছে, এবং আবারও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রশ্ন রয়ে যায়, আগামী দিনে কি জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অতীতের ছায়া থেকে সত্যিই বেরিয়ে আসতে পারবে? নাকি ইতিহাসের ভারই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্ভাবনাকে বারবার থামিয়ে দেবে? এই উত্তর সময়ই দেবে।
-সালেহিন
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাস্টিস কার্ড চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কার্ড দেওয়া হলেও এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।বুধবার (২০ মে) রাতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ গেট এলাকায় এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই দাবি জানানএ সময় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পথযাত্রায় সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসার প্রসঙ্গ টেনে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলন জাতি এজন্য করেনি যে, আজ সাত বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের শিকার হতে হবে। বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় যদি একটি শিশুর পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তা পুরো রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ সেই অসহায় শিশুর বাবা বুঝে গেছেন যে, তিনি বিচার পাবেন না। সাধারণ মানুষ আজ সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি, মানুষ অপরাধের অবসান ও সঠিক ন্যায়বিচার চায়।
সরকারের বিভিন্ন কার্ড ব্যবস্থার সমালোচনা করে এই এনসিপি নেতা বলেন, সরকার জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেট্রোল কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দিয়েছে। কিন্তু এখন জনগণের সবচেয়ে বড় দাবি হলো 'জাস্টিস কার্ড'। এমন একটি বিচারিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিশ্চিত ন্যায়বিচার পাবে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা কেবল চাঁদাবাজের পরিবর্তন চাইনি, আমরা চেয়েছি চাঁদাবাজি যেন পুরোপুরি বন্ধ হয়। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এভাবে দেশে যদি বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকে, তবে দেশের সাধারণ জনগণ একদিন সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দেবে।
মাছ-কার্ড বাদ দিয়ে তারেক রহমানেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানো উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
দেশে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি, লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমান্তের নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি সরাসরি দাবি তুলে বলেন, “দেশের নেতৃত্বে থাকা রাঘববোয়ালরাই এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে ফ্যামিলি কার্ড বা মাছের পোনা ছাড়ার মতো প্রান্তিক কর্মসূচিতে সময় নষ্ট না করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত নিজেই অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।”
আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত ‘জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। জাতীয় ওলামা অ্যালায়েন্সের ব্যনারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দেশ চালাতে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর আট বছরের অবুঝ শিশুকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করা হলো, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে কারা মব জাস্টিস (Mob Justice) বা তাণ্ডব চালাল—সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই প্রশ্নগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান বা কঠোর অ্যাকশন আমরা দেখিনি। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেহেতু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাই আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর নিজেরই এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি ‘ডিল’ করা জরুরি।”
আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে আমাদের দেশের নিরীহ নাগরিকরা প্রতিনিয়ত গুলি খেয়ে নিহত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশি দেশের কাছে একটি কার্যকর ও কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাতে পর্যন্ত নজিরবিহীনভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
এনসিপির এই প্রভাবশালী নেতা আরও অভিযোগ তোলেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ গবাদিপশু ও ডেইরি শিল্প বর্তমানে চরম লোকসানের মুখোমুখি হলেও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশুর অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর কঠোর উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক প্রচারণাকে টার্গেট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—দেশের মূল নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা ও খনন না করে, চারদিকে কৃত্রিমভাবে লোকদেখানো খাল খনন কর্মসূচির যৌক্তিকতা আসলে কতটুকু?
এদিকে একই অনুষ্ঠানে দেশের চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কাঁচা চামড়ার সিন্ডিকেট ভাঙা, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া রপ্তানি সম্প্রসারণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন জাতীয় ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ মাহাদি। আলোচনা সভায় রাজধানীর বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী ও ওলামা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
জামায়াতকে এ দেশের মানুষ কখনো ক্ষমতায় বসাবে না: মির্জা ফখরুল
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কলঙ্কজনক ও নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই তীব্র আক্রমণাত্মক ও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন নবনির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির কঠোর সমালোচনা করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “ভোটের আগে তারা খুব ঢাকঢোল পিটিয়েছিল যে তারা নাকি ক্ষমতায় এসে গেছে। কিন্তু এদেশের সচেতন মানুষ জামায়াতকে কোনোদিন ক্ষমতায় আনবে না।
কারণ এই জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধী ছিল, পাকিস্তানি দোসর হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মাটি ও মানুষ কোনোদিন তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবে না।” আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক বোমা ফাটান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কার নীতি ও সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা অবান্তর কথা বলেন যে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার করতে চায় না, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলেন। বাংলাদেশে আধুনিক সংস্কারের রূপরেখা আমরাই প্রথম শুরু করেছিলাম। আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালেই প্রথম ‘ভিশন ২০৩০’ (Vision 2030) দিয়ে সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন।
আমরা দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্তাক্ত লড়াই করেছি এবং টেকসই রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৩১ দফা রূপরেখা আমরাই দেশবাসীকে দিয়েছি। সুতরাং, বিএনপি সংস্কার করবে না বলে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা মিথ্যাচার বন্ধ করুন; জনগণ আপনাদের এই প্রোপাগান্ডা কোনোদিন ক্ষমা করবে না।”
অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের তরুণ ও জনপ্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে যেসব যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন—‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে); আর নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের মাথায় সেই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি কার্ড ও দেশব্যাপী খাল খননসহ সকল উৎপাদনমুখী উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে। একই পরিদর্শনে বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ঠাকুরগাঁওবাসীর উদ্দেশ্যে বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের নিয়ত সম্পূর্ণ পরিষ্কার। আমরা সততার সাথে কাজ করতে চাই।
আমাদের নেতা যেহেতু ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে আর কোনো প্রশ্নই আসে না; অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে।” জেলা বিএনপির এই মেগা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
রাজনীতিতে অলিখিতভাবে আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে: মাহফুজ আলম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, দেশের রাজনীতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ আবার ‘ফিরে এসেছে’।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আত্মলিপিসম পোস্টে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াত এবং আন্দোলনের সুফলভোগী আমলাতান্ত্রিক চক্রের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘লীগ’ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি বিশেষ ‘ধর্মতত্ত্ব’। আর সেই ধর্মতত্ত্বে এক শ্রেণির মানুষের বিশ্বাস বা ইমান ফিরে আসার মধ্য দিয়েই দলটির অলিখিত প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।
পোস্টে মাহফুজ আলম প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে, দেখো নাই?’ এরপর তিনি দলটির ফিরে আসার নেপথ্যে এক ডজনেরও বেশি সুনির্দিষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রেক্ষাপট ও ব্লিন্ড স্পট তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যেদিন থেকে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেদিনই লীগের প্রথম ব্যাক করার রাস্তা তৈরি হয়।
গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতিত বা মজলুম জনতা যখন আইনের শাসনের তোয়াক্কা না করে ‘মবের শাসনে’ (Mob Justice) আনন্দ পাওয়া শুরু করল, মাজার ভাঙচুর ও ভিন্নমতাবলম্বীদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া উগ্রবাদীদের ‘সেফ স্পেস’ বা নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হলো এবং হিন্দুদের ওপর নিপীড়নে সবাই চুপ থাকল—তখনই মূলত আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, দেশের সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে ‘ডানপন্থার’ উগ্র উত্থান দেখে ভয় পেয়ে গেল, তখনই লীগের রাজনৈতিক দর্শন আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান আমলাতান্ত্রিক চরিত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর ‘বাঁটোয়ারা’ সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে জুলাই আন্দোলনের এই মাস্টারমাইন্ড লেখেন, “পুরো শাসনব্যবস্থা বিলোপের বদলে যখন ‘ন্যূনতম সংস্কার’ ও ‘ঐকমত্য কমিশন’ নাম দিয়ে জনগণকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও হতাশ করা হলো, তখনই লীগ ব্যাক করেছে।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যখন থেকে ‘পলিটিক্যাল’ চরিত্র হারিয়ে আমলানির্ভর ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ দ্বারা পরিচালিত হওয়া শুরু করল, যার অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত, বিএনপি কিংবা লীগের ছুপা দালাল; যারা জুলাইকে স্রেফ নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, তখনই মূল সর্বনাশটি হয়েছে।
এছাড়াও ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্রের জয়, বাম-শাহবাগীদের পেটালে এক শ্রেণির মানুষের আনন্দ পাওয়া, জুলাই ঘোষণাপত্র বা সনদ আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া এবং কাওয়ালি বা ইনকিলাবি সংস্কৃতির মতো ‘রিগ্রেসিভ’ কালচার দিয়ে জোর করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহড়া শুরু করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
মাহফুজ আলমের মতে, নির্বাচনি বাঁটোয়ারার স্বার্থে যখন জুলাইয়ের বিচার ও সংস্কারকে কম্প্রোমাইজ (আপস) করে বিএনপি-জামায়াতের ‘বার্গেইনিং টুল’ বা দরকষাকষির হাতিয়ার বানানো হলো এবং জুলাইয়ে মাঠে থাকা বুদ্ধিজীবীদের বাদ দিয়ে ‘জিরো কন্ট্রিবিউশন’ সম্পন্ন গুপ্তদের ক্ষমতারোহণের সুযোগ দেওয়া হলো, তখনই লীগের ফেরার বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়। পোস্টের শেষে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, “লীগ ফেরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।”
/আশিক
হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি দিলেই বন্ধ হবে সীমান্ত হত্যা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাভাবে বাংলাদেশের মানুষকে উত্যক্ত ও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন এবং তাঁকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারলেই সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা চিরতরে বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক খাদেমুলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কড়া কথা বলেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় দাঁড়িয়ে ওপার বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও কট্টরপন্থী আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা বাংলাদেশিদের অত্যন্ত নীচু জাতি হিসেবে বিবেচনা করে এবং সেখানে মুসলমানদের ওপর সুনির্দিষ্টভাবে অত্যাচার চালাতে চায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশের আপামর মানুষের ওপর ও সীমান্তের নিরীহ নাগরিকদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন চালিয়ে আসছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ভারত আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করে দেওয়া এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং এখন ক্ষমতার জোরে এটি আরও বড় আকারে চালাতে চাইবে, যা রুখতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এখনই শক্ত অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশের যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে ভারতের একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রজেক্ট’ বা পরিকল্পনা রয়েছে দাবি করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা যখন রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তখন ভারত সরকার একটি বিশেষ নীল নকশা হাতে নিয়েছে।
তারা ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো মারাত্মক সব মাদক এ দেশে পাচার করে আমাদের যুবসমাজকে সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করতে চায়, যাতে সহজেই বাংলাদেশকে কবজা করা যায়; এবং তারা প্রতিনিয়ত এই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মতের ঊর্ধ্বে ওঠার তাগিদ দিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, “আপনারা যে যার মতো রাজনীতি করেন, তাতে সমস্যা নেই। বিএনপি, এনসিপি কিংবা জামায়াত—যার যার দল করুন, কিন্তু যখন প্রশ্ন আসবে সীমান্তের মানুষের নিরাপত্তার, তখন আমাদের একটাই দল, আর তা হলো ‘বাংলাদেশ’। সরকার যদি নিজেকে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দাবি করে, তবে দিল্লির সামনে তাদের মেরুদণ্ড সোজা করতে হবে।”
তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বলেন, বর্ডার ক্রাইসিস ও চোরাচালানের সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু পক্ষ জড়িত রয়েছে; এই চক্রগুলো যদি নিজেদের শুধরে নেয়, তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কোনোভাবেই আমাদের ওপর গুলি চালানোর সাহস পাবে না। ঐতিহাসিক কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি সীমান্তে বিএসএফকে বিজিবির (তৎকালীন বিডিআর) দাঁতভাঙা জবাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন, ভারতীয় বাহিনী চীনের সঙ্গে শক্তিতে পারে না, আর আমাদের সীমান্ত পাহারা যদি ঠিক থাকে তবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গেও কোনোদিন পেরে উঠবে না।
ঐতিহাসিক উক্তি ও দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক দর্শনের তুলনা টেনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিতে বলেছিলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন—‘ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা’। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে যিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন, তাঁর হাতে অদৃশ্য এক গোলামির জিঞ্জির পড়ে গেছে। আমাদের দায়িত্ব হলো আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে সেই গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্ত করে দেশের স্বাধীনতার আসল পতাকা তাঁর হাতে তুলে দেওয়া।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে নাসিরুদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল দুটি বড় গুণ ছিল—একটি তীব্র জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং অপরটি ধর্মীয় ও ইসলামী মূল্যবোধ। এই দুটোর সফল সংমিশ্রণ ঘটিয়েই তিনি এ দেশে স্বৈরাচারবিরোধী সফল গণতন্ত্রের ডাক দিয়েছিলেন। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির কড়া সমালোচনা করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদী শক্তি বলে দাবি করছে, আমরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাঝে জাতীয়তাবাদী চেতনা কিংবা মৌলিক ইসলামী মূল্যবোধের কোনোটিই দেখতে পাচ্ছি না; এরা কার্যত এক প্রকার গণতন্ত্রকে এরই মধ্যে হত্যা করেছে।
ভবিষ্যতে এনসিপি ক্ষমতায় গেলে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে একটি চরম শক্তিশালী ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন। এই সীমান্ত সফরে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক রাসেল আহমেদ, দলীয় নেতা রকিসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দীর্ঘ রাজনৈতিক নীরবতা ভেঙে আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত দ্রুত এবং ‘মাথা উঁচু করে’ বাংলাদেশে ফিরবেন। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’কে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে নিজের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক টিকে থাকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “অতীতে বহুবার আমাকে সশরীরে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগকে দমন করা যায়নি।” তাঁর দাবি, সৃষ্টিকর্তা তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বলেই তিনি আবারও দেশে ফিরে জনগণের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
আওয়ামী লীগের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক নিপীড়ন প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরও দলকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ ফিনিক্স পাখির মতো আরও শক্তিশালী হয়ে রাজনীতিতে ফিরে এসেছিল।
তিনি দাবি করেন, দেশে এখনো দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও নেতাকর্মী অক্ষত রয়েছেন এবং তাঁরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের মতো করে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে দল আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়ে রাজপথে ফিরে আসবে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় হোমওয়ার্ক ও প্রস্তুতি বর্তমানে নীরবে চলছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় বা আনন্দের আতিশয্যে দেশ ছাড়েননি; বরং জীবন বাঁচানোর তাগিদে এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে অসংখ্য নেতাকর্মী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হচ্ছেন।
বর্তমানে বিদেশে থাকা দলের শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতারা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের এই অস্থিতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরছেন বলেও দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিনের সংবেদনশীল ইস্যু ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ‘ভারতপন্থি’ হওয়ার অন্ধ অভিযোগ তুললেও, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তির একটি প্রমাণও আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি।”
এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর সরকারের আমলে সম্পাদিত ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তি, আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং স্থলসীমান্ত (ছিটমহল) চুক্তির মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় এবং প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় দরকষাকষিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
/আশিক
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল ইসলামী আন্দোলন
আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীরসাহেব চরমোনাই)।
প্রার্থীদের নাম ঘোষণাকালে দলের আমির স্পষ্ট করে জানান, “সারাদেশে যেকোনো স্থানীয় নির্বাচনে আমরা এককভাবেই অংশগ্রহণ করব। আমরা কোনো রাজনৈতিক জোটে যাব না।” নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (DNCC) দলটির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (DSCC) মেয়র পদে লাঙল চিহ্নের বিরুদ্ধে লড়বেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা শেখ ফজলুল করিম মারুফ। দুই সিটিতে একক প্রার্থী দেওয়ার এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজপথের পর এবার নির্বাচনী মাঠেও নিজেদের একক শক্তির জানান দিল চরমোনাই পীরের দল।
/আশিক
ফ্যামিলি কার্ড গ্রামীণ নারীদের জন্য সেফগার্ড: নুরুল হক নুর
গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পারিবারিক নির্যাতন থেকে সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি ঢাল বা সেফগার্ড হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বুধবারিয়া বাজারে এক ভার্চুয়াল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাগুলো মূলত পরিবারের মা-বোনদের দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের গ্রামাঞ্চলে নারী সদস্যদের ওপর পুরুষ সদস্যরা নানানভাবে অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতন করে থাকেন, জিম্মি করে থাকেন।
যৌতুকের জন্য কিংবা শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নানা অজুহাত দেন। ফ্যামিলি কার্ড আমাদের নারীদের জন্য সেফগার্ড।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিশ্রমী নারীরা এই কার্ডের আড়াই হাজার টাকা জমিয়ে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবেন।
রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে মো. নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনের সময় অনেকেই ডিস্টার্ব করলেও সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি। সামাজিক সুরক্ষা, কৃষক বা প্রবাসী কার্ড—যোগ্য সবাই পাবেন।
চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল উদ্বোধনের সাথে একযোগে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নদীবেষ্টিত চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নে এই দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম চালু করা হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গলাচিপা-দশমিনা এলাকায় বেশ কয়েকটি খাল খনন প্রকল্পসহ রাস্তাঘাট ও ব্রিজের ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অতীত সরকারের দুর্নীতি ও নামমাত্র কাজের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “বিগত দিনে অনেকেই অল্প কাজ করে সব সাবার করে দিয়েছেন।
এবার খাল খননের সাথে যারা জড়িত থাকবেন, তারা শতভাগ কাজ করবেন। সরকারি টাকায় কাজগুলো মানসম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদেরই দেখতে হবে।”
গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক এবং স্থানীয় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
আওয়ামী লীগের মতোই মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি: সারজিস আলম
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিরুদ্ধে দেশের গণমাধ্যম বা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি দাবি করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই একই কায়দায় কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সারজিস আলম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে মূলত বেগম খালেদা জিয়া ও মেজর জিয়াকে সামনে রেখে। তারেক রহমান তাঁর যোগ্য পিতা-মাতার উত্তরসূরী হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন, তবে তিনি এই সুযোগ কাজে লাগাবেন কি না তা তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে মিডিয়া দখল করা হতো, এখন একই কায়দায় মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়; তখন আমরা আগের যে বাংলাদেশ ছিল—সেই বাংলাদেশের লক্ষণ আমরা আবারও দেখতে পাই।"
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, অভ্যুত্থানের আগেও দেশে চাঁদাবাজি হতো এবং এখনও হচ্ছে। যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেই একই কাজ যদি বিএনপির নেতাকর্মীরাও করতে থাকে, তবে আগামীর রাজনীতিতে কেউ আর টিকে থাকতে পারবে না। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই যারা এমন কর্মকাণ্ড শুরু করেছে, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় নির্বাচনের হিসাব টেনে এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক বলেন, নির্বাচনে বিএনপিকে ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিলেও বাকি অর্ধেক মানুষ কিন্তু তাদের ভোট দেয়নি। আর যারা ভোট দিয়েছে, তারাও ক্ষমতার মাত্র তিন মাস যেতে না যেতেই বিএনপির ওপর চরম হতাশ হয়ে পড়েছে এবং মনে করছে দল নিশ্চিতভাবে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তিনি জনগণকে এই প্রতারণার কথা মনে রেখে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আতিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- দূষণে আবারও বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ঢাকা
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- আজ মিলবে যে দিনের ঈদ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
- শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ
- এবার ফেসবুক পেজে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মেগাস্টার শাকিব খান
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- আগামীকাল টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাস্টিস কার্ড চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
- চরভদ্রাসনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬ পালিত
- ফেসবুকের ট্রেন্ড এবার ফিফার পাতায়: নেইমারের ছবিতে বাংলা ডায়ালগ নিয়ে তোলপাড়
- ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ: শিশু হত্যার প্রতিবাদে এককাট্টা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা
- ঈদের ছুটিতে মেট্রোর ট্রিপ বিন্যাস ও সময়সূচি বদল
- এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
- এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
- ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি
- রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
- আমি কন্যাসন্তানের বাবা, খবরটি হৃদয়বিদারক: পল্লবী ট্র্যাজেডিতে স্তব্ধ তারকা ক্রিকেটার
- সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস
- ২১ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২১ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
- ডলার থেকে ইউরো, জেনে নিন আজকের কারেন্সি রেটের লেটেস্ট আপডেট
- পশ্চিমবঙ্গের সব মাদরাসায় এবার বাধ্যতামূলক হলো বন্দে মাতরম গান
- ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল
- পল্লবীর লোমহর্ষক শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা
- আজ বৃহস্পতিবার: ঘরের বাইরে বের হওয়ার আগে জেনে নিন ঢাকার বন্ধ মার্কেটের তালিকা
- আবহাওয়া অফিসের ১২০ ঘণ্টার বিশেষ বার্তা
- চলতি বছরেই ৬৭ বার দামের খেলা! দেশের বাজারে বাজুসের স্বর্ণের মূল্যে নতুন রেকর্ড
- আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র
- মাছ-কার্ড বাদ দিয়ে তারেক রহমানেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানো উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- রাজশাহীতে মেগা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানি এক টাকাও নিজের জন্য নেননি ফুটবল জাদুকর মেসি
- তৃতীয় বছরে মিলবে নতুন বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা: নবম পে-স্কেলের ভেতরের খবর
- কালিগঞ্জে মাত্র ৫৪০ টাকায় চাল-ডাল-তেল-চিনির মেগা প্যাকেজ দিল টিসিবি
- চরভদ্রাসন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা
- ঈদুল আজহার পশুর হাটে মূল আকর্ষণ মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের ৭৬ কেজি ওজনের দানব ছাগল
- ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি
- এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন
- মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান: সিলেট টেস্টের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় দিন
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- লিভার ফেইলিউরের সাথে লড়ে হেরে গেলেন অভিনেত্রী কারিনা কায়সার
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








