বিশেষ প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী: অতীতের ছায়া ছাপিয়ে কি নতুন শুরু সম্ভব?

লাহোর প্রস্তাব, পাকিস্তান আন্দোলন, ভারত ভাগ, তারপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত উপমহাদেশের মুসলিম রাজনীতির এক জটিল অধ্যায়ের নাম জামায়াতে ইসলামী। দলটি কখনো পাকিস্তান রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধী, কখনো সেই পাকিস্তানেরই শরিক, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত। স্বাধীন বাংলাদেশের ভেতরেও নিষেধাজ্ঞা, পুনরুত্থান, জোট রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার, সাম্প্রতিক নিষিদ্ধ ঘোষণা, সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ নেই। আজকের আলোচনায় তাই গোড়া থেকে বর্তমান পর্যন্ত জামায়াতের রাজনৈতিক চিন্তা, কৌশল, অর্জন, ব্যর্থতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান।
লাহোর প্রস্তাব, রাষ্ট্রধারণার জন্ম এবং পাকিস্তান আন্দোলনের ভূমিকা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে রাষ্ট্র গঠনের একটি প্রস্তাব পেশ করলেন। তার সেই প্রস্তাবকে হিন্দু বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত পত্রপত্রিকাগুলো প্রচার করতে লাগল পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে কোথাও পাকিস্তান নামটির উল্লেখ ছিল না। এমনকি মুসলিম লীগের মুখপাত্রদেরও এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না।
হিন্দু মহলের ধারাবাহিক প্রচারণার ফলেই মুসলিম নেতৃবৃন্দের মাঝে রাষ্ট্রধারণার স্পষ্ট বোধ তৈরি হতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪১ সালের ১৫ই এপ্রিল মাদ্রাজ অধিবেশনে তথাকথিত পাকিস্তান প্রস্তাবকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের শাসনতন্ত্রে মূল নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে জোরালো হতে থাকে পাকিস্তান আন্দোলন। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনও প্রবল হয়ে উঠছিল। ইতিহাসের এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে মুসলিম রাজনীতির আরেকটি নতুন ধারার উদ্ভব ঘটে, যেখান থেকে পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী আত্মপ্রকাশ করে।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, মুসলিম লীগ এবং মতাদর্শিক বিভক্তি
যখন পাকিস্তান আন্দোলন জোরালো হচ্ছিল, সেই সময় উপমহাদেশে মুসলিমদের বড় দুটো রাজনৈতিক শিবির ছিল মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। পাকিস্তান প্রশ্নে এই দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট মতানৈক্য দেখা দেয়। মুসলিম লীগ ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে, আর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ছিল ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে।
জমিয়তের চিন্তা ছিল, ইতিপূর্বেই ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের বিস্তৃত ইতিহাস রয়েছে, ভবিষ্যতের অখণ্ড ভারতেও মুসলিমরাই শাসন ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে। তাদের কাছে ভূখণ্ড অখণ্ড রাখা এবং তার ভেতরেই মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ছিল বেশি যৌক্তিক। কিন্তু মুসলিম লীগের চোখে রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল ভিন্ন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ভিত্তিতে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে মুসলিম নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের পথ খুঁজছিল।
তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুখপত্র ছিল ‘আল জমিয়ত’ পত্রিকা, যেই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী। জমিয়তের সাথে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে তিনি ধীরে ধীরে সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে সরে যান এবং পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠা লাভ করে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ।
জামায়াতে ইসলামী হিন্দের জন্ম ও পাকিস্তানবিরোধী অবস্থান
১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ৭৫ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ঘোষণার পর মওদুদী জামাতের আমির হিসেবে মনোনীত হন। সেখান থেকেই শুরু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আদর্শিক যাত্রা।
সে সময় থেকেই তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করতে থাকেন। তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে দাবি করেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করা মুসলিম লীগ, জিন্না, এরা কেউই খাঁটি মুসলিম নন। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও পক্ষে ছিল না। প্রশ্ন জাগে, তাহলে জামাত তথা মওদুদীর উদ্দেশ্য কী ছিল?
মওদুদী সম্পর্কে একটি বিষয় আগে জানা দরকার। যৌবনে ভারতের মার্ক্সবাদী নেতা আব্দুস সাত্তার খায়রীর বিশেষ অনুরাগী ছিলেন তিনি, আবার ছিলেন সিদ্ধহস্ত লেখক। মুসলিম সমাজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে তার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে মাসিক ‘তরজমানুল কোরআন’ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি নিজের মতবাদ প্রচার শুরু করেন। এই পত্রিকার ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় মওদুদী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে লেখেন, পাকিস্তান নামক কোন রাষ্ট্রের জন্ম হলে সেটা আহাম্মুকের বেহেশত এবং মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র হবে।
এই ধরনের লেখালেখি ও প্রচারণার ফলে মুসলিম লীগ সমর্থকরা জামাতকে ব্রিটিশ ও কংগ্রেসের দালাল বলে মনে করতে শুরু করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, এবং পরিহাসের বিষয় হচ্ছে সেই পাকিস্তানেরই মাটিতে গিয়ে ঠাঁই নিতে হয় পাকিস্তানবিরোধী জামায়াতে ইসলামী হিন্দের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীকে।
পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী: গ্রেপ্তার, দাঙ্গা ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর জামায়াতে ইসলামী হিন্দ ও জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় সংগঠনটি। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির হন মওলানা মওদুদী, আর জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমির হন আবুল লাইস ইসলাহী নাদভী।
পাকিস্তানে গিয়ে মওদুদী ইসলামী সংবিধান ও ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো প্রচারণা শুরু করেন। এই কারণে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরে পাকিস্তানি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তান শাখা খোলে। এরই মধ্যে জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতায় সংগঠনটির শক্তি ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ১৯৫০ সালে মওদুদীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করে আইন পাশ করার দাবিতে আবারো আন্দোলন শুরু করে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। মওদুদী পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং পাকিস্তান সরকারকে আহমদীয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সে সময় জামায়াতের কিছু সমর্থক লাহোরে আহমদীদের উপর হামলা চালায়, এর জের ধরে শুরু হয় দাঙ্গা। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে দাঙ্গা দমে গেলেও, এই সহিংসতায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ভারত–পাকিস্তান বিভাজনের পর কোনও একক দাঙ্গায় এত মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা এটি প্রথম।
ঘটনার পর মওলানা মওদুদীকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে। বিচারে তাকে দাঙ্গার মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম দেশের মধ্যস্থতায় তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। ১৯৫৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শাখা ‘ছাত্র সংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এখন ইসলামী ছাত্রশিবির নামে পরিচিত।
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ: স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিরোধিতা ও নিষেধাজ্ঞা
জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্পর্ক এক জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী জামাত ১৯৭১ এ এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধী শক্তিতে পরিণত হয়। অনেকের বিশ্লেষণে ধরা হয়, পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতার যে ঐতিহাসিক ভুল তারা মনে করেছিল, তার কাফফারা দিতেই একাত্তরে জামায়াত শুধু বাংলাদেশের বিরোধিতাই করেনি, বরং স্বাধীনতা আন্দোলন রুখে দিতে শান্তি কমিটি গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সক্রিয় সমর্থন দিয়েছে।
জামায়াতের প্রেসক্রিপশন অনুসারেই তাদের ছাত্র উইং ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়েই রাজাকার, আল বদর ও আলশামস বাহিনী গঠিত হয়। এমনকি স্বাধীনতা-উত্তর সময়েও পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জামায়াত নানা কার্যক্রম পরিচালিত করে, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে গোলাম আজম লন্ডনে গিয়ে পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি গঠন করেন।
কিন্তু পাকিস্তানের বিরোধিতার মতো বাংলাদেশের বিরোধিতাও শেষ পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত হয়। যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় যখন সুনিশ্চিত, তখন জামায়াত নেতারা পালিয়ে যান সেই পাকিস্তানেই, যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা তারা একসময় করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জামাতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের বিরোধিতা ও গণহত্যায় সহায়তার জন্য ১৯৭৩ সালে যে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, তার অন্যতম ছিলেন গোলাম আজম। তবু প্রহসনের মতো কিছুদিন পরই গোলাম আজমকেও মওদুদীর মতো সেই রাষ্ট্রেই ফিরতে হয়, যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিনি এবং তার দল কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতের পুনরুত্থান, জোটরাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধের বিচার
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার। রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করেন, যা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করেছিল। এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে জামাত সমমনোভাবাপন্ন ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে ১৯৭৬ সালের ২৪ আগস্ট ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগ (আইডিএল) নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করে। আইডিএলের ছায়ায় জামাতের নেতা–কর্মীরা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।
জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র নীতি ইসলামী দলগুলোর জন্য, বিশেষ করে জামায়াতের জন্য, সাপে বর হয়ে আসে। ফলস্বরূপ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে ছয়টি আসন জিতে নেয়, যা জামাতের শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির উত্থান ঘটে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জামায়াতও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন লাভ করে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যোগ দিয়ে ১৭টি আসন ও দুটো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পায়। যদিও ১৯৯৬ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে যথাক্রমে মাত্র ৩টি ও ২টি আসন পায় তথাপিবাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত এক বড় ফ্যাক্টরে পরিণত হয়।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে, কিছুদিন পর থেকেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বিচার কতটা প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্য নিয়ে আর কতটা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্যই ওঠে। কারণ সেই বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জামায়াতকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার আওয়ামী লীগের নীলনকশা অনেকটা বাস্তবায়িত হয়ে যায় বলে বিশ্লেষণ রয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ সরাসরি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে দলটিকে নানা উপায়ে ব্যবহার করারও চেষ্টা করেছে বলে এক ধরনের মত প্রচলিত আছে। তবু আসল সত্য এই যে, এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াত কোনোভাবে টিকে আছে, এটাকেই অনেকে তাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে তুলে ধরেন। রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তাদের কমই হয়েছে, প্রশ্ন থাকে কেন?
বাংলাদেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও জামায়াতের সীমাবদ্ধতা
উপমহাদেশের ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী অন্যতম প্রাচীন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। তথাপি রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে দলটির আহামরি কোনও অর্জন নেই। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতের মতন সুসংগঠিত ইসলামী দল কেন একবারের জন্যও এককভাবে ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারেনি, কিংবা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি যেতে পারেনি, তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
প্রথমত, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ভক্তিপ্রবণ হলেও বিশ্বাসের দিক থেকে তুলনামূলক উদার। এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতার পাশাপাশি সুফি ঐতিহ্য মানুষের ধর্মীয় আবেগকে নরম ও আধ্যাত্মিক রেখেছে। ধর্মের র্যাডিকাল ব্যাখ্যা কখনোই এই অঞ্চলের মানুষের মূল চরিত্র গড়ে দিতে পারেনি। যার ফলে জামায়াত কিংবা জামায়াতের মত রেডিক্যাল মতাদর্শের দল কখনোই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত, জামায়াতসহ অনেক ইসলামী দল সেই অর্থে ‘গণমানুষের অংশ’ হয়ে উঠতে পারেনি। এজন্য আমরা দেখি ১৯৪৭ কিংবা ১৯৭১ সালের মতো জনজাগরণের সময়ও গণআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তারা অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের অবস্থান তাদের প্রতি বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর আস্থা গড়ে ওঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয়ত, ইসলামপন্থীদের মধ্যে শতধা বিভক্তিও এই ব্যর্থতার বড় কারণ। সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের মনে ইসলাম ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব আছে, কিন্তু বাস্তবে ইসলামপন্থী রাজনীতি নানা দল এবং উপদলে বিভক্ত। এতে জামায়াতের সম্ভাব্য ভোটব্যাংক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে গেছে।
দেওবন্দী, সুফি, ওয়াহাবি: আকিদাগত দ্বন্দ্ব এবং জামায়াতের অবস্থান
বাংলাদেশ মূলত সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। সুন্নিদের মধ্যে দেওবন্দী, সুফিবাদী ধারা এবং ওয়াহাবি মতাদর্শ একটি ডমিনেন্ট উপগোষ্ঠী হিসেবে বিদ্যমান। জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় আকিদা মধ্যপ্রাচ্যের ওয়াহাবিজম দ্বারা অনেকটাই প্রভাবিত, আর রাজনৈতিক দিক থেকে জামায়াত ইসলাম মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মতাদর্শধারী। তাদের এই মতাদর্শিক কাঠামোর সাথে প্রচলিত সুন্নি ও দেওবন্দী ধারার দ্বন্দ্ব সুস্পষ্ট। অনেক সময় একদল অন্যদলকে কাফের বা ভণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।
এছাড়াও সুফিদের মাধ্যমে ইসলাম আসা এই ভূখণ্ডে সুফিজম বা মিস্টিসিজমের প্রভাবও লক্ষণীয়। যাদেরকে জামাত অনেকটা প্রকাশ্যেই ‘বেদাতি’ হিসেবে গণ্য করে। ফলে ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি সহানুভূতিশীল জনগোষ্ঠীও নানাভাবে দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এই মতবিরোধের ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে। জমিয়ত তথা দেওবন্দী সিলসিলার আলেমগণ, বিশেষ করে হুসাইন আহমদ মাদানীর সাথে সায়েদ আবুল আলা মওদুদীর মতানৈক্য এবং সেখান থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়েই জামায়াতে ইসলামীর জন্ম। মওদুদীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, মুসলমানদের জাতীয়তা বা পরিচয় দেশ বা স্থানের সাথে নয়, বরং বিশ্বাসের সাথে যুক্ত। অপরদিকে ওলামায়ে দেওবন্দের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, জাতীয়তা দেশ এবং ভূখণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত।
তারা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, কওমে আদ এবং কওমে সামুদের মত কওমগুলোর পরিচয়ও স্থান এবং দেশের সাথে জড়িত, আল্লাহ পবিত্র কোরআনেও তাদেরকে কওম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওলামায়ে দেওবন্দের সাথে জামায়াতের আরেকটি মৌলিক মতবিরোধ ছিল সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে সব সাহাবী ঈমান, আমল, আদর্শ – সব ক্ষেত্রে সত্যের মাপকাঠি, কিন্তু মওদুদী তার ‘মিয়ারে হক’ বইতে সাহাবায়ে কেরামকে সেই অর্থে হকের একমাত্র মাপকাঠি নন বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তার ‘খেলাফত ও মলিকিয়াত’ এবং ‘রাসায়েল মাসায়েল’ বইয়ে উটের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আমিরে মুয়াবিয়া সহ কিছু সাহাবীর প্রসঙ্গে তাঁর কিছু সমালোচনামূলক মন্তব্যকে দেওবন্দী আলেমরা সাহাবাবিরোধী মনোভাব হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, যারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনায় লিপ্ত থাকে, তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ভেতর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে না। এই আকিদাগত মতপার্থক্য থেকে রাজনৈতিক মতবিরোধ আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। হোসাইন আহমদ মাদানীর নেতৃত্বে তৎকালীন ওলামায়ে দেওবন্দ মওদুদীকে ‘গোমরাহ’ বলে ফতোয়া দেন বলে প্রচলিত। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কওমী আলেম ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ – দুই ধারার মধ্যেও এই দ্বন্দ্ব এখনো কমবেশি বিদ্যমান।
জামায়াত কি ইসলামী দল, নাকি রাজনৈতিক ব্র্যান্ড?
এই প্রশ্নটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আছে: জামায়াতে ইসলামী কি আসলেই ইসলামী দল, নাকি ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিনয় করছে? অনেক বিশ্লেষকের মতে, ধর্মের কথা বলা হলেও মূলত ভারতের কমিউনিজমবিরোধী শক্তি হিসেবেই একটি সংগঠনের জন্ম হয়েছিল, ব্রিটিশ শাসকরাও তখন তাদের কিছুটা আনুকূল্য দিয়েছিল বলে ধারণা প্রচলিত।
মওলানা মওদুদীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামকে বাংলাদেশের অনেক ইসলামপন্থী দল ইসলামী দল হিসেবে গ্রহণ করে না। অনেক কওমী ঘরানার ও পীরপন্থী দলগুলো জামাতকে ‘গোমরাহ’ মনে করে। অন্যদিকে জামাতের ভেতরের অনুরাগীরা নিজেদেরকে একটি আদর্শ ইসলামী আন্দোলনের বাহক হিসেবে দেখেন।
নিষেধাজ্ঞা, টিকে থাকা এবং সাম্প্রতিক পুনর্নিষেধাজ্ঞা
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত অন্তত চার দফায় জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ ও ১৯৬৪ সালে, আর বাংলাদেশে ১৯৭২ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে মোট দুইবার নিষিদ্ধ হয় দলটি। তারপরও সংগঠনটি আন্ডারগ্রাউন্ড বা বিকল্প প্ল্যাটফর্মে থেকে সাংগঠনিক উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
জামাত দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, নিষেধাজ্ঞা, দমন–পীড়ন সত্ত্বেও টিকে থাকা – এটাই তাদের রাজনৈতিক সফলতা। সমালোচকদের মতে, এটি টিকে থাকা হলেও গণআকাঙ্ক্ষার মূলধারায় প্রবেশ করতে না পারার এক দীর্ঘ ব্যর্থতার ইতিহাসও বটে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: ইসলামী ঐক্যের কথা, জেনারেশন জেড এবং ‘হিন্দু শাখা’ বিতর্ক
বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের মধ্যে জামাতের সাথে মতাদর্শিক বিবাদ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার কিছু প্রচেষ্টা চোখে পড়ছে। কিছুদিন আগে ইসলামী দলগুলোর কিছু নেতা–কর্মীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখান থেকে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তথা চরমোনাই পীরও এক পর্যায়ে জামাতের সঙ্গে ঐক্যের সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত করেছেন, যদিও ইতিহাস বলে, ইসলামপন্থী দলগুলো ইতিপূর্বেও একাধিকবার ঐক্যের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা জেনারেশন জেড বা জেনজি প্রজন্মের বড় অংশের মধ্যে জামায়াতকে নিয়ে বিরূপ বা অন্তত মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যুদ্ধাপরাধের ইস্যু, ৭১-এর ভূমিকা, নারী ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে জামাতের ভাবমূর্তি – সব মিলিয়ে তরুণদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়নি।
তারপরও এখন পর্যন্ত জামাতের নেতৃস্থানীয়রা তুলনামূলক ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। জামাত যদি তাদের ঐতিহাসিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে – এমন সম্ভাবনার কথাও অনেকে বলছেন। তবে জামাত শক্তিশালী হলেই দেশে সরাসরি শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠিত হবে – এমন ধারণা করারও সুযোগ নেই। কারণ ইতিপূর্বে বিএনপির সঙ্গে দুটো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ১৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে সরকারে থেকেও ইসলামের প্রশ্নে তারা কার্যত উল্লেখযোগ্য কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনেনি।
২৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডি টপিক হিসেবে দেখা যায়, রংপুরে জামাতের ‘হিন্দু শাখা’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। জামাত দেশি–বিদেশি পরিমণ্ডলে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে তারা কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠন নয়, বরং ‘মডারেট ইসলাম’-এর ধারক। ঐতিহাসিক এসব দিক পর্যালোচনা করলে অনেকে মনে করছেন, জামাতকে ইসলামী দলের চেয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
ইতিহাসের ভার, বর্তমানের হিসাব, ভবিষ্যতের প্রশ্ন
উপমহাদেশের এক বিরল রাজনৈতিক অর্গানাইজেশন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী একই সঙ্গে পাকিস্তানবিরোধী, পাকিস্তানের শরিক, স্বাধীনতা–বিরোধী এবং আবারও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নিতে চাওয়া এক সংগঠন। লাহোর প্রস্তাব থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ – এই দীর্ঘ পথচলায় তাদের আদর্শ, অবস্থান, কৌশল বহুবার বদলেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনগণের ঐতিহাসিক চরিত্র, ইসলামপন্থীদের ভেতরের বিভক্তি, আকিদাগত দ্বন্দ্ব, এবং যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন – সব কিছু মিলিয়ে জামাত কখনোই এই দেশে মূলধারার সর্বজনগ্রাহ্য শক্তি হতে পারেনি। তবু তারা টিকে আছে, এবং আবারও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রশ্ন রয়ে যায়, আগামী দিনে কি জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অতীতের ছায়া থেকে সত্যিই বেরিয়ে আসতে পারবে? নাকি ইতিহাসের ভারই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্ভাবনাকে বারবার থামিয়ে দেবে? এই উত্তর সময়ই দেবে।
-সালেহিন
সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব
বিগত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়গুলো পুড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এবং ৪ আগস্টের রাজপথের লড়াইয়ে ছাত্রদল ও যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বলে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনের মূল বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্পষ্ট করে বলেন, সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসগুলো মূলত বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারাই পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ৪ আগস্ট ঢাকা শহরের যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পট থেকে ছাত্রলীগকে রাজপথ থেকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা সবচেয়ে সামনের কাতারে থেকে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।
এদিকে উক্ত সম্মেলনে অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির শহীদ আবু সাইদের বড় ভাই আবু হোসেন তাঁর ছোট ভাইয়ের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান। এর পাশাপাশি তিনি গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনর্বাসন করা, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক স্মৃতিসমূহ সংরক্ষণ করা এবং দেশের অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
আবু হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন যে, তাঁর ছোট ভাই আবু সাইদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁকে যেভাবে নির্মমভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেই ভয়াবহ দৃশ্য শুধু দেশের মানুষই নয়, বরং পুরো বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে দেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবু সাইদের সেই ঐতিহাসিক ও অকুতোভয় আত্মত্যাগই মূলত দেশের সাধারণ মানুষকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে আসতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল।
বক্তব্যের শেষাংশে আবু হোসেন বলেন, এ দেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘ আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। তবে এই বিজয় সহজে আসেনি, স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দেশের বহু পরিবার তাদের একমাত্র প্রিয়জনকে চিরতরে হারিয়েছে এবং অসংখ্য তরুণ ও সাধারণ মানুষ নিজেদের অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
/আশিক
বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য কমেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘‘শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।’’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান দেখেছিলাম, সেই চেতনার প্রতিফলন এখনকার রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখছি না। বরং জুলাইয়ের চেতনার নামে এখন নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাটে-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।’’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার চলমান ইস্যু নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া বা দমন করলেই দেশে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে, যার দায়ভার এই সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
দেশের যুবসমাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, তরুণ সমাজ আজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাদের সামনে কর্মসংস্থান ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ না থাকায় তারা মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এককভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় গড়ে ওঠা তরুণদের এই দলটি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তারের কৌশল হিসেবে জোটের বদলে নিজস্ব প্রতীকে ও নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করার পথে এগোচ্ছে। দলটির ওয়েবসাইটেও নিজেদের জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থান-উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বাধীন দল হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এনসিপির অবস্থান হলো এককভাবে নির্বাচন করা। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে জুন মাসেও তিনি বলেন, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রত্যেক স্তরে অংশগ্রহণের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি ও জামায়াত এখন পর্যন্ত আলাদা পথে হাঁটছে। দল দুটি পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা বা সীমিত ঐক্যের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এনসিপি নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় বাস্তব শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ। জাতীয় পর্যায়ের জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি দেখাতে চায় দলটি। তাদের ধারণা, একক নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের ফল যাই হোক, প্রতিটি ইউনিটে কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। পাঁচ সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি সিটিগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভায় শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত পদ্ধতি অনুসরণ করছে দলটি। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন দল থেকে সরে আসা বা বহিষ্কৃত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আসতে পারে।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে এনসিপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের ভেতরে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার আলোচনা আছে। ফলে একই রাজনৈতিক বলয়ের তরুণ দুই মুখকে কেন্দ্র করে ভোটের সমীকরণ জটিল হতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং কুমিল্লা সিটিতে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার কথা দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী তারিকুল ইসলাম স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিটি ইউনিটে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হবে এবং তরুণ নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে দলের ভেতরেও একক বনাম জোটগত নির্বাচন নিয়ে মতভেদ আছে। একাংশ মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে জোট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াই দলীয় পরিচয় স্পষ্ট করবে। অন্য অংশের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একা লড়াই করলে ফল প্রত্যাশিত নাও হতে পারে। আবার কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অস্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।
-রফিক
আপনার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম: মনিকে ট্যাগ করে ছাত্রদল সভাপতি
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিলোফার চৌধুরী মনির একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করার ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি রাকিব লেখেন, ‘‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু গতকাল টকশোতে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।’’
এমপি নিলোফার চৌধুরী মনিকে ভবিষ্যতে এই জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকিবুল ইসলাম তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, ‘‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। সেহেতু জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন, সেই প্রত্যাশা করি।’’
বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের সংবেদনশীল ইতিহাস নিয়ে বিএনপিরই একজন শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রীর মুখে এমন মন্তব্যে ছাত্রদল সভাপতির এই প্রকাশ্য কড়া অবস্থান দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
গণভোটের রায় অমান্য করে সংশোধনের পথে সরকার, রাজপথে নামছে জামায়াত
সংবিধান সংস্কার নিয়ে ঐতিহাসিক গণভোটের রায়কে তোয়াক্কা না করে সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় বিরোধী দল রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। শফিকুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের কথা বলার বা পর্যাপ্ত আলোচনার ন্যূনতম সুযোগ না থাকায় জনগণের মৌলিক দাবিকে সামনে রেখে তারা রাজপথের কঠোর কর্মসূচি বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিষয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শুধু সিপিবি ব্যতীত সংলাপে অংশ নেওয়া অন্য সব দল এই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও বর্তমান সরকার এখন সংবিধানের মৌলিক ‘সংস্কার’ করার পরিবর্তে পুরোনো কায়দায় কেবল ‘সংশোধনের’ দিকে হাঁটছে। আর এই উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই তারা সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের বিতর্কিত প্রস্তাব পাস করেছে।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘সংসদ যেহেতু আমাদের কথা বলার সুযোগ দিল না, তাই এখন আমরা সরাসরি ‘জনগণের পার্লামেন্টে’ চলে যাব।’’ তিনি আরও যোগ করেন, সংসদে কথা বলতে গেলে স্পিকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকে, কিন্তু জনগণের পার্লামেন্টে বা রাজপথে কথা বলতে জনগণের কোনো অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। বিরোধী দল জনদাবি নিয়ে সবসময় জনগণের সাথেই রয়েছে এবং গণভোটে প্রতিফলিত জনগণের রায় বাস্তবায়নে তারা শেষ পর্যন্ত অনড় থাকবে।
সরকার কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটির তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে ‘সংস্কারের’ জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে, কোনো জোড়াতালির ‘সংশোধনের’ জন্য নয়। তাই বিশেষ কমিটির পরিবর্তে পূর্বঘোষিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে বিরোধী দল এখনও অটল। তবে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে টেকসই ও সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা। একই সাথে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যদি এবারও সঠিক ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই দেশ বারবার পথ হারাবে এবং সংকটের মুখে পড়বে।
জামায়াতের সংসদীয় দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
পার পিস ৫০ টাকা: জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে উমামা ফাতেমার রহস্যময় পোস্ট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রহস্যময় ও চরম ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে তিনি ‘জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে উমামা কিছুটা উপহাসের সুরে লেখেন, ‘‘জুলাইয়ের এই এক মাস জুলাই সবার থাকবে, ঠিকাছে?’’
এর পরপরই তিনি চলমান পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে আরও লেখেন, ‘‘১ মাস পর থেকে জুলাই আমার সম্পত্তি। আমি সবাইকে জুলাইযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেব, পার পিস ৫০ টাকা। ভোট করার সময় সার্টিফিকেট প্রাপ্তদের সঙ্গে জোট করব। দারুণ সব টাইটেল হবে, লেটস সে— ‘জুলাইয়ের ফিনিক্স পাখি’, ‘জুলাইয়ের আবাবিল পাখি’, ‘জুলাইয়ের ইমাম’, ‘জুলাইয়ের মাস্টারমাইন্ড’।’’
নিজের এই অভিনব প্রস্তাবের পর অনুসারীদের মতামত জানতে চেয়ে পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘‘কেমন লাগল আইডিয়াটা?’’
ব্যঙ্গাত্মক ও রূপক ভাষায় দেওয়া এই পোস্টে উমামা ফাতেমা ঠিক কাকে বা কোন পক্ষকে উদ্দেশ করে এমন তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন, কিংবা এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কী প্রেক্ষাপট কাজ করছে, সে বিষয়ে তাঁর পোস্টে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
উমামার এই স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারী ও রাজনৈতিক সচেতন মহল থেকে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব নেওয়ার চলমান রাজনৈতিক ইঁদুর-দৌড় এবং ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা উপাধি ধারণের সস্তা প্রতিযোগিতার প্রতি এক চিলতে কড়া বাস্তবসম্মত ব্যঙ্গ (স্যাটায়ার) হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকেই এই পোস্টের অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক বার্তা ও আগামী দিনের জোট গঠনের সমীকরণ নিয়ে নিজস্ব ঢঙে নানা ব্যাখ্যা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ দাঁড় করাচ্ছেন।
/আশিক
আমরা সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করব, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয়: জামায়াত আমির
বিনা ট্যাক্সের গাড়ি না কেনা এবং সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারে কোনো অপরাধ বা প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে বলেছিলাম, সরকারি সুযোগ-সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায়, এখানে কোনো অপরাধ নাই। তবে আমরা সেটা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম, আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে—এমপি হোক, মন্ত্রী হোক, যাই হোক—আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনব না। সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেব না। কিছু বন্ধু ওই গুড়ের সঙ্গে কিছু লবণ না ছিটাইলে আরাম পায় না।’
সরকারি ফ্ল্যাট নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি, অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি। এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নেব না। এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা কি সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওইটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে, তত সময় উনি এটা ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নাই, ছেড়ে দিতে হবে। এটাকে নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়।’
/আশিক
ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে তেহরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধিদল
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আগামী ৩ জুলাই প্রতিনিধিদলটি ঢাকা ত্যাগ করবে এবং ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করবে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে দলটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি’র নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। এই সফরকালে প্রতিনিধিদলটি ইরানের বর্তমান সরকার, নতুন নেতৃত্ব এবং শোকাহত জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা, শোক ও সংহতি প্রকাশ করবে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জামায়াত নেতারা দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই বিশেষ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক রাজনৈতিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হবে। একই সাথে, এমন একটি আন্তর্জাতিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ইরান সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে দলটি।
/আশিক
নাহিদ ইসলাম কোনো ব্যক্তি নয়, একটি ইতিহাস: ড. ইউনূস
সাভারে ইউনূস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ১৬তম ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দুই দিনব্যাপী চলা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে তার আগমন এবং তাকে বিশ্ববাসীর সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক আবেগঘন মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি নিজেই একটি আস্ত ইতিহাস।’
রোববার (২৮ জুন) বর্ণাঢ্য এই সম্মেলনের সমাপনী দিনে নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মঞ্চ আলো করেন। এর আগে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ইউনূস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈশ্বিক এই আয়োজনে বিশ্বের ৩৭টি ভিন্ন দেশ থেকে মোট ২১৯ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও চিন্তাবিদ অংশ নেন, যাদের সামনে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সাহসিকতার গল্প তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলামকে উপস্থিত সুধীজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ড. ইউনূস অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের মাঝে আজ এখানে যোগ দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। সে কোনো সাধারণ ব্যক্তি নয়, সে একটি জীবন্ত ইতিহাস। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করা মাত্র একজন ছাত্র একটি প্রতাপশালী সরকারের পতন ঘটিয়ে ছেড়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সেনাবাহিনী, পুলিশ কিংবা আধাসামরিক বাহিনীর মতো বড় বড় শক্তিও সেই স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। সেই রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আর সেই পুরো গণ-অভ্যুত্থানের সামনে থেকে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই তরুণ নাহিদ ইসলাম।’
আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তরুণ রাজনৈতিক নেতা নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসের বৈশ্বিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের উদ্ভাবিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং সামাজিক ব্যবসার অনন্য ধারণা আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও পরিচিত। তিনি আরও যোগ করেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ যখন এক চরম নেতৃত্বহীনতা ও সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তরুণদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের হাল ধরতে সম্মত হন ড. ইউনূস। তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেশের কোটি তরুণকে সংকটের দিনে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষ অংশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নাহিদ ইসলামের পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের সময় নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারের নীতিগত অবস্থান থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি দেশের মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’ নামক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ড. ইউনূস অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে জানান যে, দেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটি ছয়টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছে এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদে তাদের দলের সংরক্ষিত আসনে দুজন নারী সংসদ সদস্যও প্রতিনিধিত্ব করছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- তিতাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি: মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ
- ৩ বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতিতে পিজিআর সদর দপ্তরে কেক কেটে ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
- ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে
- বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়
- গাজায় দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনের অবসান, নিজেদের শাসন কমিটি বিলুপ্ত করল হামাস
- আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার
- গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ
- প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান
- ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস
- খামেনির জানাজার মাঠে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান, তেহরানে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত লাখো জনতা
- গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
- এক আঘাতেই খতম করার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতা নিয়ে খোঁচা দিল ইরান
- ‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব
- অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা
- ৬ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল
- ‘আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারতের মতো বড় বন্ধু আছে’-ভ্যান্সকে জবাব নেতানিয়াহুর
- বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আজকের ক্রীড়া সূচি, একদিনে তিন বড় লড়াই
- হালান্ডের আঘাতে ভাঙল ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, কান্নাভেজা বিদায় নেইমারের
- অ্যাজটেকার আগুনে ইংল্যান্ডের বেঁচে ফেরা, মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে শেষ আটে টুখেলের দল
- প্রিয় দল হেরেছে? মন ভালো রাখার ৭ কার্যকর উপায়
- কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
- ডেঙ্গুর নতুন হটস্পট ১৪ জেলা, বাড়ছে বড় শঙ্কা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- খামেনির জানাজায় জনস্রোত, তেহরানের বার্তা কী?
- ৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
- ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা
- বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই কুমিল্লার উন্নয়ন হয়: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী
- মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ ঘিরে চরম উত্তেজনা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন
- অত্যন্ত বিপজ্জনক ও রাক্ষুসে রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
- ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা
- নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু
- সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব
- আজ রাতে ইতিহাস বদলানোর মিশনের আগেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
- ওসলো থেকে মার্সেই: নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীন থাকার চার ঐতিহাসিক কারণ
- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত
- জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর
- পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হানা, লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন উত্তেজনা
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান








