খাগড়াছড়িতে সহিংসতা: সেনা পাহারায় সাজেক থেকে ফিরলেন পর্যটকরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২৮ ১১:০৯:৪৭
খাগড়াছড়িতে সহিংসতা: সেনা পাহারায় সাজেক থেকে ফিরলেন পর্যটকরা
ছবিঃ সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির সাজেক উপত্যকায় হঠাৎ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেনা পাহারায় নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে আসা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রথমে পর্যটকদের দীঘিনালা সেনানিবাসে নিয়ে যান এবং পরে শহরের শাপলা স্কোয়ারে পৌঁছে দেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শনিবার দুপুরে পর্যটকদের সাজেক থেকে ফেরার কথা থাকলেও দুপুর ১২টার পর থেকে খাগড়াছড়ি জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তারা আটকে পড়েন। ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ নামে একটি সংগঠন এক মারমা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় খাগড়াছড়ি সদরের বিভিন্ন এলাকায় এবং গুইমারা উপজেলায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ হয়।

সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুপুরেই ১৪৪ ধারা জারি করে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। ৩২ ব্যাটালিয়নের বিজিবি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কামরান কবির উদ্দিন জানান, সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্যকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামানো হয় এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হয়। বিকেল চারটার দিকে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ, দুইজন বিস্ফোরকদগ্ধ এবং বাকিরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল আঘাতে জখম হন।

গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক মারমা স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনজন অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে পুলিশ ১৯ বছর বয়সী শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে এবং তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পাহাড়ি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংসতা সংঘটিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

-নাজমুল হাসান


প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১২:২৭:২২
প্রতিটি শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিটি শিশুকে তার প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে সরকার। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেবা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকার আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র সিএসএফ সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বিশেষ মানুষকে অন্য সব নাগরিকের মতো সমঅধিকার ও রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বাজেট কর্মসূচি, নীতি প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ড. এম এ মুহিত জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেলে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, চলাচল, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি—সব ক্ষেত্রেই বিশেষ মানুষের জন্য সুযোগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রতিটি জেলায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা পরিবার বা সমাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকার বদলে নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

কড়াইল বস্তিতে উদ্বোধন হওয়া নতুন সিএসএফ সেন্টারকে বিশেষ শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, পুনর্বাসন সহায়তা এবং প্রয়োজনভিত্তিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা মনোযোগ, প্রশিক্ষিত সেবাদাতা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা নয়, কমিউনিটি পর্যায়ের সেবা জোরদার করাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবারগুলো অনেক সময় আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। তাই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যাতায়াত সুবিধা এবং পুনর্বাসন—এই চারটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার চায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যেন সমাজের মূলধারায় যুক্ত হতে পারে। তাদের জন্য চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হলে তারা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হতে পারবে।

কড়াইলের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের এলাকায় এমন পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু হওয়াকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিয়মিত থেরাপি বা বিশেষায়িত চিকিৎসা নিতে অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়ে, তাদের জন্য এই ধরনের কেন্দ্র বড় সহায়তা হতে পারে।

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত ফিজিওথেরাপি, ভাষা ও যোগাযোগ সহায়তা, পুষ্টি পরামর্শ এবং দৈনন্দিন চলাচলের প্রশিক্ষণ দরকার হতে পারে। তাই পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো শুধু চিকিৎসা নয়, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশেষ মানুষদের কল্যাণে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতিবন্ধিতা কোনো অক্ষমতা নয়; বরং সঠিক সেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে প্রতিটি শিশুই তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সরকারি নীতি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কড়াইলের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্য এলাকাতেও বিশেষ শিশুদের জন্য একই ধরনের সেবা মডেল সম্প্রসারণের পথ তৈরি হতে পারে।

-রফিক


চীন সফরে ১৭ এমওইউ, কী পেল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৯:৩৮:৫৯
চীন সফরে ১৭ এমওইউ, কী পেল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। শুক্রবার বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের অন্যতম বড় অর্জন হলো সরকার, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক দলীয় পর্যায়ে একসঙ্গে সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হওয়া।

মোট ১৭টি এমওইউর মধ্যে ১৩টি সই হয়েছে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে। এসব সমঝোতা স্মারক দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা খাত এতে অন্তর্ভুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

এর বাইরে আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও অংশীজনদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিনটি এমওইউ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্পায়ন, উৎপাদন খাত এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরেকটি এমওইউ হয়েছে রাজনৈতিক দলীয় পর্যায়ে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং চীনের ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। এটিকে দুই দেশের দলীয় যোগাযোগ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সম্পর্ক সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শুরু হয় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে। সোমবার রাতে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। এরপর বুধবার রাতে তিনি দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে পৌঁছান।

বেইজিং সফরপর্বে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হয়। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, এসব সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। তাঁর মতে, সফরটি শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সহযোগী। ফলে এই সফরে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকগুলো ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, চীনা বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির প্রশ্নে এই সফরের ফলাফল নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুর ইসলাম রনি। সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক, সই হওয়া সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৭টি এমওইউর কাঠামোই দেখাচ্ছে, সফরটি একাধিক স্তরে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা, বিনিয়োগ-ভিত্তিক অংশীদারত্ব এবং রাজনৈতিক দলীয় যোগাযোগ এই তিন ধারায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার ইঙ্গিত রয়েছে এতে।

-রফিক


তিস্তার ঢেউয়ে কূটনীতির নতুন গল্প: ঢাকার পাশে বেইজিং

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৮:৪৩:০৩
তিস্তার ঢেউয়ে কূটনীতির নতুন গল্প: ঢাকার পাশে বেইজিং

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দুই দেশ। সফর শেষে প্রকাশিত ১৫ দফা যৌথ ঘোষণায় তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে সম্ভাব্য ‘২+২ সংলাপ’ চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। ঘোষণায় বলা হয়, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীন ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক আস্থা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। এবার সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভা, যা সামার দাভোস নামে পরিচিত, সেখানে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ ঘোষণার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তার বিষয়টি। ঘোষণায় বলা হয়েছে, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াবে। চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহায়তা দেবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করবেন।

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি সেচ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে এ প্রকল্প সরাসরি জড়িত। যৌথ ঘোষণায় প্রকল্পটির উল্লেখ থাকায় ঢাকার পানি কূটনীতি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেইজিংয়ের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘২+২ সংলাপ’ চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এ ধরনের সংলাপ সাধারণত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির সমন্বিত আলোচনার একটি কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিষয়টি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নিরাপত্তা ও কৌশলগত মাত্রাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উভয় দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার জানিয়ে তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতাও যৌথ ঘোষণার বড় অংশজুড়ে রয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে চীনা সহায়তার সমন্বয়, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নমূলক ছোট প্রকল্পে সহায়তার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দুই দেশ।

বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প, সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা দেওয়ার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

সংযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌর প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে বলে যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সম্পর্ক আরও বিস্তারের ইঙ্গিত রয়েছে। সফর, প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। পাশাপাশি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

বহুপাক্ষিক কূটনীতিতেও দুই দেশ পারস্পরিক সমর্থনের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশ ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গঠনের ধারণা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত বৈশ্বিক উদ্যোগসমূহের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার বাংলাদেশের আবেদনকে সমর্থন করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটও যৌথ ঘোষণায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে। চীনও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য চীন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। চীন সফরের আগে ২১ জুন তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান। এরপর ২২ জুন চীন সফর শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্প, ২+২ সংলাপের সম্ভাবনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন, সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা ইস্যু ও আঞ্চলিক সংযোগের প্রশ্নে এই যৌথ ঘোষণা আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।


শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৩:৪৪:৪৫
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সম্প্রসারণকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এটিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বৈঠকের আগে জানান, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় স্থান পাবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ার প্রত্যাশা ছিল।

বৈঠকের আগে একই স্থানে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে দুই দেশের সংসদীয় সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

এর আগে সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোজ’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সামরিক বিউগলে সম্মানসূচক সুর বাজানো হয়। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এই সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে আগের দিন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এগুলোর মধ্যে অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একই দিনে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যেও প্রথমবারের মতো একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। দলীয় পর্যায়ের এই যোগাযোগকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও নীতিগত সংলাপের নতুন ভিত্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, নদী খনন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের শিল্প, অবকাঠামো, উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং রপ্তানিমুখী খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

চীন সফরের পুরো সময়জুড়ে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে শিল্প বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া সফর দিয়ে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের ধারাবাহিকতায় চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের সুস্পষ্ট বার্তা মিলেছে এই সফর থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চার দিনের সরকারি সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের বিভিন্ন সমঝোতা ও বৈঠকের বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

-রফিক


৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় কী ঘটতে পারে, জানুন বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১০:০৮:২৯
৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় কী ঘটতে পারে, জানুন বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, তবে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বিবেচনায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মা টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণেই দেশের আশপাশে কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইনে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজধানী ঢাকা বা এর আশপাশে যদি ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এসব সংখ্যা সম্ভাব্য ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে করা বিভিন্ন গবেষণার পূর্বাভাস; প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করবে ভূমিকম্পের কেন্দ্র, গভীরতা, সময় এবং ভবনগুলোর নির্মাণমানের ওপর।

প্রকৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বলে আসছেন— "ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে হত্যা করে।" অর্থাৎ ভূমিকম্পের চেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এছাড়া বৈশ্বিক ভূমিকম্প তথ্যভান্ডার কমপ্রিহেনসিভ আর্থকোয়েক ক্যাটালগ (ComCat) অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ১৫ থেকে ২০টি ৭ বা তার বেশি মাত্রার বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ফলে ভূমিকম্প পৃথিবীর স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও ব্যাখ্যা করেন, ভূমিকম্পের ম্যাগনিটিউড (মাত্রা) এবং ইনটেনসিটি (তীব্রতা) এক বিষয় নয়। ম্যাগনিটিউড দিয়ে ভূমিকম্পে নির্গত শক্তি বোঝানো হয়, আর ইনটেনসিটি বোঝায় নির্দিষ্ট স্থানে কম্পনের প্রভাব কতটা ছিল। কোনো ভূমিকম্পের মাত্রা বেশি হলেও কেন্দ্র থেকে দূরে ক্ষতি কম হতে পারে, আবার অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার ভূমিকম্পও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ১৭৬২ সালের আরাকান ভূমিকম্প এবং ১৮৯৭ সালের ডাউকি ফল্টের প্রায় ৮.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প এ অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষকরা মনে করেন, ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি দীর্ঘ পুনরাবৃত্তি চক্র (Return Period) রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর দেখা যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট সময়েই ভূমিকম্প ঘটবে; বরং এমন ঘটনা কখন ঘটবে, তা এখনো নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আশপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। এর মধ্যে ডাউকি ফল্ট, আরাকান প্লেট বাউন্ডারি, নোয়াখালী-সিলেট ফল্ট জোন এবং সিলেট-কাছাড় অঞ্চলের প্লেট সীমান্ত বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ১৮৬৯ সালের কাছাড়, ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল আর্থকোয়েক, ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল এবং ১৯৩০ সালের ধুবড়ি ভূমিকম্পের ইতিহাস বিবেচনায় নিলে ৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এটি কবে ঘটবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) এবং বাংলাদেশের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (CDMP) যৌথ গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়তে পারে। তবে কোন কোন ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়নি।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টিনশেড, ছোট ভবন বা বস্তিঘর, যেগুলো ধসে পড়লেও তুলনামূলক কম উচ্চতার কারণে ক্ষয়ক্ষতির ধরন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু উদ্বেগের বড় কারণ হলো প্রায় ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবন, যেগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা ও নির্মাণমান নিশ্চিত করে তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব বহুতল ভবনের প্রায় ৪০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ভূমিকম্পের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি। ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন, নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

-রফিক


বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মোড়: শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ০৯:২৫:২৭
বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মোড়: শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক
বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশ ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন এবং ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। নতুন সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে এক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের ঐতিহাসিক চীন সফরের শেষ দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার ‘কৌশলগত সমবায় অংশীদারিত্ব’ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোস’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। এরপর তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (NPC) স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই ব্যস্ত কর্মসূচির পরই প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতা

বৈঠকে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো রূপান্তর এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে চীনের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV), মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সংস্কার এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো উদীয়মান ও পরিবেশবান্ধব উচ্চ-মূল্যের খাতগুলোতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি চীনের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী বন্ধু রাষ্ট্র। চীন বাংলাদেশের সঙ্গে তার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) প্রকল্পের আওতায় উচ্চ-মানের সহযোগিতা বজায় রাখতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বহুমাত্রিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (GDI)-এ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল্যায়ন:

"কৌশলগত সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে এই সফর একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই আলোচনা দুই দেশের অংশীদারিত্বকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেছে।"

বাণিজ্য, তিস্তা প্রকল্প ও সমঝোতা স্মারকের বহর

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।

এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের উত্তরের জীবনরেখা খ্যাত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। তিস্তা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীখনন এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় অর্থনৈতিক জোন ও আধুনিক টাউনশিপ গড়ে তোলার জন্য চীনের দেওয়া ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (TRCMRP)-এর কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ দ্রুত চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে প্রায় ১০০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।

একটি সফল বিদেশ সফরের সমাপ্তি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেছিলেন গত ২১ জুন মালয়েশিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে। এরপর ২২ জুন রাতে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) বিখ্যাত ‘সামার ডাভোস’ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সেখানে দুই দিনব্যাপী বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ে আসেন এবং তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন একটি উচ্চপর্যায়ের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধি দলটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৫ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে তা একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিল।


ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ২০:৪৫:১৬
ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে কোনো ধরনের হানাহানি, সামাজিক বৈরিতা, বিভেদ কিংবা বিদ্বেষের বিন্দুমাত্র স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আশুরার মহান ও শাশ্বত শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সহনশীলতা আরও সুদৃঢ় করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে আরও বেশি নিবেদিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। বাণীতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পবিত্র আশুরা আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় যে ইসলামের মূল শিক্ষা সর্বদা শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে থাকে। ইসলামের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনন্য একটি দিন। এই দিনটি শুধু শোক প্রকাশ কিংবা স্মরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ এবং নৈতিক দৃঢ়তার এক চিরন্তন বার্তা ও শিক্ষা ধারণ করে। কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনাকে মানব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঘটনা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে অবিরাম অনুপ্রাণিত করে আসছে।

মানবিক মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার এবং সুমহান আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে অমূল্য শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় এবং স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। অন্যায়কারীদের সামনে মাথা নত না করার এই অনন্য আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী এবং শাশ্বত প্রতীকে পরিণত করেছে।

পবিত্র আশুরার এই বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে কারবালার নির্মম ও ঐতিহাসিক ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এই শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও নিজের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

/আশিক


২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:২৩:৪৩
২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি নির্ধারিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে (আইভ্যাক) সাধারণ পর্যটকরা তাদের ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারতীয় হাইকমিশনার স্পষ্ট জানান, আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা পর্যটন ভিসার জন্য নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রধান পাঁচটি কেন্দ্র—ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং চট্টগ্রাম থেকে এই পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে চিকিৎসা বা মেডিকেল ভিসার কার্যক্রম সফলভাবে চলমান রয়েছে এবং আগামী দিনে এর পরিধি ও সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা হবে। এর আগে আজ সকালেই বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিজের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

কূটনৈতিক এই শীর্ষ কর্মকর্তা গত শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে এসে পৌঁছালে শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে গত ৫ জুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে নিজের নিয়োগপত্র বা ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণ করেন তিনি।

ভারতের জাতীয় রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা মূলত কলকাতায়। ফলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের একটি নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করার পর ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনি একাধিকবার দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা এবং নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নয়াদিল্লি। তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে লুণ্ঠিত এবং অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে অবস্থিত ভারতের পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারও (আইভ্যাক) অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার মুখে পড়ে। উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত তীব্র হুমকি এবং হাইকমিশনের নিজস্ব স্থাপনা ভাঙচুরের কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন সাময়িকভাবে তাদের নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় ভিসার আবেদনকারীদের একটি বড় অংশই সাধারণত গুরুতর রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। সেই সব সংকটাপন্ন রোগীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর ভিসা কেন্দ্রগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ভিসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল। ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে দেড় হাজারেরও বেশি ভিসা ইস্যু করে চলেছে।

/আশিক


অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:১৬:৫১
অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র আশুরার শাশ্বত শিক্ষা মানুষকে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ নির্দেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় রাষ্ট্রপ্রধান ইসলামের সুমহান আদর্শ রক্ষায় কারবালা প্রান্তরে আত্মত্যাগকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালার ঐতিহাসিক প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র আশুরা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আশুরা বহু গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হলেও, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের মহান আত্মত্যাগ এই দিনটিকে একটি অনন্য মর্যাদা এবং গভীর মানবিক আবেদনে রূপ দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের প্রকৃত সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই অনন্য আত্মদান মানবজাতির ইতিহাসে চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পবিত্র আশুরার এই মহান ও শাশ্বত শিক্ষা যেন সবার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে আলোকিত করে, বাণীতে তিনি সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন।

ইসলামের মূল মর্মবাণী তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলাম সর্বদা মানুষকে সত্য, ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানায়। এটি সমাজ থেকে সব ধরনের হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে সর্বস্তরের মানুষকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হতে শেখায়। বাণীতে তিনি পবিত্র আশুরার পবিত্রতা ও চেতনাকে ধারণ করে একটি সাম্যবাদী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি এবং অব্যাহত সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: