আলোচনার টেবিলে ভিন্ন দাবি, নির্বাচনের পথে নতুন কোন সংকেত?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছেন অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ৭টি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে রোববার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকার। বৈঠকগুলোতে শীর্ষ রাজনীতিকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সরকার প্রধান।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচনের বিকল্প নিয়ে ভাবে, সেটা হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক। রোববার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করেছেন, নির্বাচন সেই সময়ের মধ্যেই হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা নির্বাচন হবে। বৈঠকগুলোতে জাতীয় পার্টির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, জাতীয় পার্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একেকটি দল একেক ধরনের মতামত দিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা সেটা শুনেছেন।
এসব বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তবে সব বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টারা সবাই উপস্থিত ছিলেন না।
বিএনপি: নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই
সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় প্রবেশ করে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন। বিএনপি আশা রাখে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
জাতীয় পার্টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান মির্জা ফখরুল। লন্ডনে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ প্রমাণ করে সরকার একটি দলের ওপর দুর্বল—জামায়াতের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি একেবারেই অমূলক দাবি। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার বিষয়ে বিএনপি মতামত দিয়েছে এবং মনে করে এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ ও উদ্বেগজনক। এটা ভালোভাবে তদন্ত হওয়া দরকার।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি শক্তি নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের তারিখ হিসেবে যেটা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই তারিখেই নির্বাচন হবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
জামায়াত: সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ। বিকাল সোয়া ৪টায় জামায়াতের প্রতিনিধি দলটি যমুনায় প্রবেশ করে। ১ ঘণ্টার বৈঠক শেষে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অবাধ নির্বাচন হবে বলেছেন। আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছি। কিন্তু কার্যকারিতার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের সময় ঘোষণার ঘটনায় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণা সব দলের সঙ্গে আলোচনায় হয়নি। এতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। নির্বাচনের সময় ঘোষণা মনে হচ্ছে চাপে পড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট বলে আসছি, আমরা চার্টারের পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই এবং এই চার্টারের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। জামায়াত নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসাবে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন তারা। তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি আগে একদল বাসস্ট্যান্ড দখলে নিত, এখন আরেকটি গ্রুপ নিয়েছে। যে সরকার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সেই সরকার কীভাবে নির্বাচন করবে আমরা তা নিয়ে শঙ্কিত।
গণপরিষদ নির্বাচন ও জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ চায় এনসিপি
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় প্রবেশ করে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। ১ ঘণ্টার বৈঠক শেষে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণপরিষদ নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংকট, একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব কিংবা কাঠামো দূর করা সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যেহেতু আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, তাই জাতীয় পার্টির কার্যক্রমও স্থগিত করার বিষয়ে সরকার আরও বেশি কার্যকর হোক, সে বিষয়টি আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে আমলে নেওয়ার জন্য বলেছি।
ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক হিসেবে দেশে বসবাস করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া শুভ জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা নৃগোষ্ঠী—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার ও অনুষ্ঠান পালন করবেন, তবে জাতীয় পরিচয়ে সবাই হবেন শুধুই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধানে সব নাগরিকের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপন ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে বিধান রয়েছে, তা শুধু সংবিধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মের মানুষদের কেবল নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ বানিয়ে রেখেছিল, তবে সেই ভ্রান্ত ধারণা এখন ভেঙে গেছে। তিনি সবাইকে নিজেদের কখনো ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ—তাই ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের আগে প্রত্যেকের মূল পরিচয় হওয়া উচিত একজন স্বাধীন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।
/আশিক
২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
২৪টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবৈধভাবে একক নিয়ন্ত্রণ ও দখলে রাখার অভিযোগে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সব শেয়ার আগামী তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা এই আধিপত্য বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শেয়ার বাজেয়াপ্তে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ‘ইসলামিক ইকনোমিক রিসার্চ ব্যুরো’ (আইইআরবি) জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিল।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারা অনুযায়ী কোনো একক পরিবার বা গ্রুপ কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি বিধান রয়েছে। অথচ এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারের ছদ্মাবরণে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। শুনানি শেষে আদালত ২৪ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই বিপুল শেয়ার তিন মাসের জন্য অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতা নিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
/আশি
সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালগুলো পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কাজ করে। এই চক্রকে নির্মূল করতে ডিজিএফআই, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট একযোগে সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করায় এই উপদ্রব আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বেসরকারি ক্লিনিকে ভুয়া সনদধারী চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেগুলো কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজে এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে সরাসরি অভিযানের তদারকি করছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন এবং সেবার মান, খাবারের মান ও চিকিৎসকদের আচরণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে।
/আশিক
র্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ বিল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে তোলেন। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটি মূল্যায়নে সংসদীয় কমিটিকে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সাইবার ক্রাইম, গুম, মাদক ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলের কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকায় সদর দপ্তর রেখে পুলিশের আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠিত হবে। ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক, যিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, অপারেশনাল ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ আলামত নিজেদের হেফাজতে আটকে না রেখে অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিলে কঠোর গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো দণ্ড দেওয়া যাবে, যার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, ব্যক্তিগত অভিযোগ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনে মানবাধিকারকর্মী ও বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার অনুসন্ধানকালে দেওয়ানি আদালতের মতো এখতিয়ার থাকবে।
/আশিক
‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নির্ধারিত প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম (গাজী নজরুল ইসলাম)। সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে অধিবেশনের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী তাঁর লিখিত প্রশ্নটি বাতিল হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ৪০৮ নম্বর ক্রমিকে তাঁর এই প্রশ্নটি উত্থাপনের কথা ছিল।
লিখিত প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে চেয়েছিলেন, দেশে বর্তমানে শ্রম আদালতের মোট সংখ্যা কত, সেগুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত এবং এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কত। একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।
অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্নটি উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। তবে মাইকে নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখেন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের আসনে উপস্থিত নেই। এ সময় স্পিকার হাস্যরসাত্মক কণ্ঠে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করে ওঠেন, ‘জি এম তো নাই’। স্পিকারের এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে হালকা হাসির রোল পড়ে যায়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। ওই ঘটনার জেরে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও তাঁকে আর আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
/আশিক
সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কিংবা তারা নিজ দায়িত্বে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে ওই প্রতিবেদনগুলোতে কতজন শিশু উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে সেই তথ্য উল্লেখ না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং বাস্তব চিত্র আড়ালে পড়ে। এই অস্পষ্টতা দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি থানার মাধ্যমে সার্বিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
পুলিশের বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম সাত মাসে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এই বয়সসীমার মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেছে এবং এখনো সন্ধান মেলেনি ১ হাজার ৯৭০ জনের। সব মিলিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের ৮৭ শতাংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে বেড়াতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা, নাম-ঠিকানা ঠিকমতো বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় ভুল পথে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে পরিবারের ওপর অভিমান, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক লজ্জার ভয়, লাগামহীন স্বাধীন জীবনের প্রতি আকর্ষণ, পারিবারিক কলহ ও বন্ধুদের কুপ্রভাবের মতো কারণগুলো প্রধান ভূমিকা রেখেছে। পুলিশ সদরদপ্তর আরও জানিয়েছে, অনলাইন জিডি প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হওয়ায় এখন নিখোঁজের তথ্য দ্রুত নথিভুক্ত হচ্ছে। অতীতের চিত্র তুলে ধরে পুলিশ জানায়, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ছিল ২২ হাজার ৫৫০টি।
/আশিক
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের কুমিল্লার বিভিন্ন মৌজা ও দাগে অবস্থিত ১৮টি জমি এবং টয়োটা ব্র্যান্ডের দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ জারি করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. মুজিবুল হক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজ নামে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এই সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতে জমা দেওয়া দুদকের নথিতে আরও বলা হয়, মামলাটির তদন্ত চলাকালে রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে আসামি তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গোপনে বিক্রি, স্থানান্তর বা বেহাত করার তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হলে রাষ্ট্র মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেই যুক্তিতেই আসামির জমি, গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছিল।
/আশিক
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) অন্তর্ভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১২৩টি কারখানা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
পোশাক কারখানাগুলো বন্ধের পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ একাধিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা রপ্তানি খাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ইউরোপের বাজারে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব নজরদারি সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে কাজের ক্রয়াদেশ না দেওয়ার প্রবণতাও এই খাতের জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কারখানার সুনির্দিষ্ট পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার ধরে রাখতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সহায়তার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও শুল্ক বন্ডের বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাতে বিশেষ নগদ প্রণোদনা হিসেবে মিলছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ।
একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলাভিত্তিক বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশজুড়ে কঠোর তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মূল্যতালিকা না টানানোর মতো অপরাধে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও কার্টেল বা যোগসাজশের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। জনস্বার্থে বাজার মনিটরিং ও আইনি অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলে সংসদে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
/আশিক
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে, অন্যদিকে পূর্ববর্তী অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বড় পতনের মুখে পড়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন (৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৩ লাখ) মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ হাজার ২৬০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।
আলোচ্য অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীরা। এর আগের অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছিল ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ কমে ৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, ফলে দেশটি পঞ্চম অবস্থানে নেমে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আরও জানান, এই সময়ে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে মোট ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২৪ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল: এস আলমের শেয়ার অবরুদ্ধ
- মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
- নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
- আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
- সব সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন
- মামলার ৮ দিন পর মাদরাসায় অভিযান, কেন হয়নি কেউ গ্রেপ্তার
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- র্যাব বিলুপ্তির পথে, সংসদে নতুন বিল উত্থাপন
- জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু
- ‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
- সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু: পুলিশ সদরদপ্তর
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের রহস্য উন্মোচনে বড় মাইলফলকের সামনে বিজ্ঞানীরা
- নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে
- সৌদিতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় আর্থিক পরিবর্তনের ঘোষণা বিসিবি সভাপতির
- অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
- বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা
- দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত শীর্ষ নেতা
- প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন
- কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- লঘুচাপের প্রভাব: দেশজুড়ে আবহাওয়ার নতুন বার্তা
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- তদন্ত শুরুর আগেই সত্যতা পাওয়ার দাবিতে মানহানি হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
- ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু: শাহবাজ শরিফ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
- লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
- দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশি ব্যাটার
- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
- জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে স্থানীয় জুয়েলারি খাতে বড় পরিবর্তন
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- ছয় মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, লোডশেডিং ও বেকারত্ব বাড়ছে: চরমোনাই পীর
- রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
- সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ








