ফকিন্নির বাচ্চা, বলে হাসনাত আব্দুল্লাহকে তীব্র আক্রমণ রুমিন ফারহানার

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র কথার লড়াই শুরু হয়েছে। এই দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ও নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
এই কথার লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় যখন হাসনাত আব্দুল্লাহ, রুমিন ফারহানাকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক অন্যতম সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর জবাবে রুমিন ফারহানা সোমবার (২৫ আগস্ট) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন।
ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে রুমিন ফারহানা লিখেছেন, ‘এটা ওই ফকিন্নির বাচ্চাটা (হাসনাত আব্দুল্লাহ) না, যে আমাকে আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক বলেছে?’ এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি হাসনাত আব্দুল্লাহর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিভিন্ন ছবি ও প্রমাণও জুড়ে দেন। দুই নেতার এই ধরনের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার শুরু রবিবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের শুনানির সময়। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, এই হামলা ছিল আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের একটি ‘টেস্ট ম্যাচ’।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপির এমন অনেক ‘আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পাদক’ আছেন, যারা আওয়ামী লীগ থেকেও বেশি আওয়ামী লীগ। তিনি রুমিন ফারহানার সমালোচনা করে বলেন, ‘বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পাদক যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম রুমিন ফারহানা। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী, আওয়ামী লীগের ফ্ল্যাটভোগী এবং যারা গুণ্ডা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঠাণ্ডা করে দিতে চায়, একটি প্রেসক্রিপটিভ ইলেকশনের দিকে আবার যেতে চায়, আমরা বিএনপির এই আওয়ামীবিষয়ক সম্পাদকদের বলব, আপনারা জনগণের পালসকে বুঝুন, ২৪-পরবর্তী জনগণের পালসকে বুঝুন। নতুবা আবার বাংলাদেশ সংকটের দিকে যাবে।’
/আশিক
আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ভারতে ব্লক, সাইবার আক্রমণের অভিযোগ
ভারতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট ভারতে নিষিদ্ধ (জিও-ব্লক) করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভারতীয় রাজনৈতিক দলের বট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রমাণ হিসেবে নিজের পোস্টের সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো নোটিশের একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করে দেন তিনি।
নিজের পোস্টে আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, ভারতে আন্দোলনকারীদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট ভারতীয় সীমানার ভেতর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এক্স প্ল্যাটফর্মে তাকে লক্ষ্য করে একটি নির্দিষ্ট দল সাইবার আক্রমণের পাশাপাশি অশালীন ভাষায় গালাগাল করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, ‘গণতন্ত্র দেশে দেশে!’
তার পোস্টকৃত স্ক্রিনশটের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯(৩)(বি) ধারার আওতায় দেশটির সরকার কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নোটিশের ভিত্তিতে মেটা (ফেসবুক) ওই নির্দিষ্ট পোস্টটির প্রবেশাধিকার ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ বা জিও-ব্লক করে দিয়েছে।
/আশিক
পবিত্র ভূমির সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি ভয়ংকর: মিজানুর রহমান আজহারী
সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনায় হামলা এবং সেখানে অবস্থানরত নিরপরাধ ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। একই সঙ্গে পবিত্র এই দুই নগরীকে সব ধরনের অনিষ্ট ও বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় মিজানুর রহমান আজহারী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ফেসবুক পোস্টে মক্কা ও মদিনার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, “মক্কা ও মদিনা স্রেফ ভৌগোলিক কোনো স্থান নয়—এই দুই নগরী সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন। পবিত্র এই ভূমিতে হামলা এবং নিরপরাধ ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক।”
পবিত্র এই দুই নগরীর মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে এই ইসলামী বক্তা আরও বলেন, “নিশ্চয়ই, আল্লাহর কাছে যে ভূমি বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত, তার পবিত্রতা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ংকর।”
বার্তার শেষাংশে কাবা শরিফের রবের কাছে সার্বিক সুরক্ষা চেয়ে মুনাজাতের সুরে তিনি লেখেন, ‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করো।’
/আশিক
শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিষদ পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। গণঅভ্যুত্থানের পর উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরবর্তী সময়ের নানা সামাজিক ও মানসিক বাস্তবতা এবং প্রত্যক্ষ করা বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার বিবরণ ফুটে উঠেছে তাঁর এই লেখনীতে।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে ড. আসিফ নজরুল জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের পরও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের পুরোনো বাসাতেই অবস্থান করতে চেয়েছিলেন। তবে শপথ নিয়ে বাসায় ফেরার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়; ভবনের নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের চরম আতঙ্ক ও মনমরা অবস্থা এবং বাসায় স্বজন-পরিচিতদের দাবির চাপে প্রথম রাত থেকেই তিনি এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। বিশেষ করে পরদিন সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক জেন-জি তরুণের চরম ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। ওই তরুণ ভবন থেকে পুলিশ অপসারণের আকুল ও কঠোর দাবি জানিয়ে পুলিশি দমনপীড়নের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। আন্দোলনের বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও উক্ত তরুণের জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পুলিশের ওপর তার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ড. আসিফ নজরুলকে গভীরভাবে আলোড়িত ও বাকরুদ্ধ করে।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল লিখেছেন, এই ঘটনার পর তিনি অনুধাবন করেন যে গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করলে ফুলার রোডের আবাসিক এলাকায় অবস্থান করা আর সম্ভব নয়। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পরিবারের সম্মতি অর্জনের পর অবশেষে তিনি ফুলার রোডের মায়া ত্যাগ করে মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
/আশিক
মেটার নতুন এআই অ্যাপে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন সুবিধা
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অডিয়েন্স বৃদ্ধি এবং ফলোয়ারদের সাথে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করতে ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন স্বতন্ত্র অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে ফেসবুক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত এই প্ল্যাটফর্মটি প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্ব শেষ করে আপাতত আইওএস (অ্যাপল) ব্যবহারকারীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিযোগী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে এবং কনটেন্ট আইডিয়া বা পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির মতো বাইরের এআই টুলের ওপর ক্রিয়েটরদের নির্ভরশীলতা দূর করতেই মেটা এই সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।
নতুন এই অ্যাপটিতে ফেসবুক যুক্ত করেছে নিজস্ব ‘এআই ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’। এই সুবিধাটি প্রতিটি ক্রিয়েটরের কাজের ধরণ, কনটেন্টের গতিপ্রকৃতি, লক্ষ্য ও দর্শকদের পছন্দ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। কখন পোস্ট দিলে বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব, দর্শকরা মন্তব্যে কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন কিংবা কোন ভিডিওটি ভালো পারফর্ম করছে—এসব বিষয়ে সরাসরি এআইয়ের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর চালানো যাবে।
পাশাপাশি কমেন্ট ব্যবস্থাপনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় সুবিধা। এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলোকে বাছাই করে দেবে এবং ক্রিয়েটরের নিজস্ব লেখার স্টাইল অনুযায়ী খসড়া উত্তর তৈরি করে রাখবে। তবে মন্তব্যটি প্রকাশের আগে তা যাচাই, সম্পাদনা কিংবা বাতিল করার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্রিয়েটরের হাতেই থাকবে।
প্রতিদিন অ্যাপটিতে প্রবেশের পর ক্রিয়েটররা তাদের করণীয় জরুরি কাজের একটি তালিকা বা টু-ডু লিস্ট দেখতে পাবেন; যেখানে বিগত পোস্টের এনগেজমেন্ট, নির্ধারিত লক্ষ্যের অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের তালিকা ক্রমানুসারে সাজানো থাকবে। প্রাথমিক ধাপে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রিয়েটররা অ্যাপটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।
সম্প্রতি মেটা কেবল এই অ্যাপই নয়, আরও বেশ কিছু স্বতন্ত্র অ্যাপ উন্মোচন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক গ্রুপের জন্য রেডিট আদলের অ্যাপ ‘ফোরাম’, বন্ধুদের মাঝে ছবি আদান-প্রদানের জন্য ‘ইনস্ট্যান্টস’, গেমিংভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘পকেট’ এবং শিশুদের জন্য এআই দিয়ে গল্প বানানোর অ্যাপ ‘স্টোরিকিট’।
সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ
ডিজিটাল সেবা সত্ত্বেও কেন দালাল ধরে লাইসেন্স পেতে হয়, প্রশ্ন জাইমা রহমানের
বিআরটিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ডিজিটাল প্রক্রিয়া সত্ত্বেও কেন সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং সাধারণ মানুষ কেন দালালের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হন—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে শৈশবের খেলনা গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে থাকা একটি ছবি যুক্ত করে এই পোস্ট দেন জাইমা রহমান। এতে তিনি জানান, দশ বছর আগে লন্ডনে প্রথম ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা পদ্ধতির পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল লাইসেন্স পাওয়া নয়, বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক পরিবেশ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে।
দেশের তরুণ ও সাধারণ চালকদের মৌলিক ক্ষোভের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে জাইমা রহমান লিখেন, নাগরিক হিসেবে সবাই নিয়ম মেনে চলতে চাইলেও সড়কব্যবস্থা নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য নয়। পর্যাপ্ত পারাপারের সুবিধা ছাড়া দ্রুতগতির পথ পার হওয়া, হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়া ফুটপাত কিংবা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চলা বাস-রিকশা-মোটরসাইকেলের মাঝেই চালক ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। বাস বা গাড়ির ফিটনেস এবং চালকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আছে কি না, তা নিয়ে যাত্রী বা সাধারণ চালকদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
বিআরটিএর ডিজিটাল সেবা উদ্যোগের প্রশংসা করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রক্রিয়া তখনই সার্থক হয়, যখন তা মানুষের ভোগান্তি কমায়। কিন্তু সেবা অনলাইনে শুরু হলেও সমাধানের জন্য যদি শেষ পর্যন্ত অফিসে যেতে হয়, তবে তা লেনদেন বা ঘুষের নতুন সুযোগ তৈরি করে। এ ছাড়া, জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দুর্নীতির পথ বেছে নিতে বাধ্য হন, যা বর্তমানে কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা না হয়ে একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সড়কে আইন প্রয়োগের বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম ভঙ্গ করা গাড়ি বা বেপরোয়া চালনা দেখে নতুন চালকরা হতাশ হন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেন। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ইতিহাস টেনে জাইমা রহমান বলেন, প্রায় আট বছর পার হয়ে গেলেও আন্দোলনকারীদের তুলে ধরা উদ্বেগগুলো এখনও সমাধান হয়নি।
সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু লাইসেন্স, ফিটনেস বা শাস্তির ফ্রেমে না দেখে সাধারণ মানুষ—যেমন শিক্ষার্থী, নারী, ডেলিভারি রাইডার বা বাসচালকের দৈনন্দিন চাহিদার আলোকে দেখার আহ্বান জানান তিনি। জাইমা রহমান জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগকে ন্যায্য করা, হয়রানি ছাড়া অভিযোগ জানানোর পরিবেশ তৈরি করা এবং সংযোগ বা প্রভাব না থাকলেও সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সর্বোপরি, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পুরো ভাবনার কাঠামোটিকেই নতুন করে সাজাতে হবে।
/আশিক
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন পদ্ধতি
সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান সময়ে নিজের আসল অস্তিত্ব প্রমাণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক মার্কেটপ্লেস বা বিভিন্ন গ্রুপে এখন এমন অনেক অ্যাকাউন্ট দেখা যায়, যেগুলোর ছবি অস্বাভাবিক নিখুঁত এবং বিক্রেতার আচরণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটবটের মতো। এই ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও অনলাইনের প্রতারণা ঠেকাতে এবার নতুন ভিডিও সেলফি ভেরিফিকেশন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে মেটা।
মেটার এই বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ফেসবুক ব্যবহারকারী সত্যি কোনো প্রকৃত মানুষ কি না, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা। এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন জীবিত মানুষ আছেন কি না এবং তিনি কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে স্ক্যাম করছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই স্বয়ংক্রিয় পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি রেকর্ড করতে হয়। এরপর মেটার উন্নত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ভিডিওর মুখের অবয়ব প্রোফাইলের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে কোনো প্রতারণা বা জালিয়াতির রেকর্ড আছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
মেটা কর্তৃপক্ষের তৈরি এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিং এবং বিভিন্ন গ্রুপে স্ক্যাম বা প্রতারণা কমানোর লক্ষ্যেই বিশেষভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। আপাতত ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাইয়ে এই সুবিধা বা নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
অনলাইন প্রতারণা কমাতে এই উদ্যোগ সহায়ক হলেও অনেকের মনে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাদের সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে দিতে হচ্ছে। যদিও মেটা দাবি করেছে, যাচাইকরণ শেষে এসব ডেটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সুরক্ষিত রাখা বা মুছে ফেলা হয়।
পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ধাপে রোলআউট করা হচ্ছে। মেটার মতে, এটি প্রযুক্তি বাজারের নিরাপত্তার মানদণ্ড বাড়াতে সাহায্য করবে, যার ফলে ভবিষ্যতে ফেসিয়াল ভেরিফিকেশনহীন বা ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সহজেই শনাক্তযোগ্য ও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
/আশিক
এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া অন্তরঙ্গ ভিডিও এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও সমালোচনা করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী। একই সঙ্গে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও দুটি বিয়ে করার প্রকাশ্য পরামর্শ দিয়েছেন।
গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব এক ভিডিও বার্তায় এসব চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন এই ধর্মীয় বক্তা।
ভিডিও বার্তায় মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, "উচিত হচ্ছে আমার গাজী নজরুল ইসলাম ভাইয়ের আরও দুইটা বিয়ে করা। এটা হালাল জিনিস, এতে লজ্জার বা শরমের কিছু নেই। কিন্তু যারা স্বামী-স্ত্রীর এ ধরনের ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করছেন, তাদের একদিন হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।"
বক্তব্যে ইসলামের সাহাবিদের বৈবাহিক জীবনের নানা ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইসলামের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও পবিত্র শিক্ষা। বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একদমই ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপন ভিডিও অন্যায়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা বিব্রত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা নীতিসম্মত কাজ হতে পারে না বলে তিনি জোর দাবি করেন।
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করে মাওলানা আফসারী আরও বলেন, "গাজী নজরুল ইসলাম ভাই, সাতক্ষীরা শহরের সম্মানিত এমপি, একামতে দ্বিনের অতন্দ্র প্রহরী এবং কোটি কোটি তৌহিদী মুসলমানের কলিজার টুকরা। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ভেতরের ভিডিও ভাইরাল করে আপনারা ঠিক কী ধরনের শান্তি পেলেন?"
একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি বিরাট কোনো অপরাধ। যারা এসব চরিত্রহননের অপকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের আল্লাহর দরবারে কঠোর শান্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম
দুর্নীতি ও গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারপোল তাকে সফলভাবে শনাক্ত করার পর এই পদক্ষেপ নেয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ‘শাপলার কসাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরেজিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘দ্য বুচার অব শাপলা ইজ ডান!! নেক্সট ইন লাইন...!!’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ!! এবার পরবর্তী জনের পালা...!’
বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। সেই আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন থাকা গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল কমান্ডিং দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় শাপলা চত্বরের ঘটনার জেরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সর্বমোট ৫৮টি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান হুকুমদাতা ও অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বেনজীর আহমেদ।
এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের এবং পরিবারের নামে গড়ে তোলা তাঁর বিশাল অবৈধ সম্পদ ও নজিরবিহীন দুর্নীতির তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কর্তৃক ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচারের পথ এখন আরও বেশি সুগম হলো বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও নিহতের পরিবারগুলো।
/আশিক
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার
সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা তাদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসের জগতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। মূলত ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিওভিত্তিক কনটেন্টগুলোকে আরও বেশি গোছানো, সুসংগঠিত এবং দীর্ঘমেয়াদি দর্শকসম্পৃক্ততার আওতায় আনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি এবার চালু করতে যাচ্ছে ‘সিরিজ’ নামের সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষ সুবিধা। এই আকর্ষণীয় ফিচারের মাধ্যমে ভিডিও নির্মাতারা বা ক্রিয়েটররা তাঁদের একই বিষয়ভিত্তিক অথবা ধারাবাহিক গল্পের রিলসগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সিরিজের অধীনে পর্ব বা পার্ট অনুযায়ী সাজিয়ে রাখার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট কিছু সীমিতসংখ্যক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর এই ফিচারের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রবল ধারণা, এই ফিচারটি যখন সাধারণ ব্যবহারকারী ও সব নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তখন যাঁরা বিশেষ করে ধারাবাহিক বা পর্বভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের ভিউ, রিচ ও ফলোয়ারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মেটার নতুন এই ফিচারটি মূলত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও স্মার্ট উপায়ে কাজ করবে। যেমন—নির্মাতারা চাইলে তাঁদের একদম নতুন তৈরি করা রিলসের পাশাপাশি প্রোফাইলে থাকা পুরোনো ভিডিওগুলোকেও যেকোনো সময় একটি নির্দিষ্ট সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে সাজাতে পারবেন। এছাড়া ক্রিয়েটরদের প্রোফাইলে এই সিরিজগুলোর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বা একটি ডেডিকেটেড বিভাগ যুক্ত থাকবে, যা দর্শকদের পছন্দের কনটেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। দর্শকদের জন্য এটি একটি স্মার্ট ওয়াচিং অভিজ্ঞতা দেবে; কারণ কোনো একজন দর্শক একটি পর্ব বা পার্ট যেখানে দেখা শেষ করবেন, পরবর্তীতে তিনি ঠিক সেখান থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পরের পর্বটি দেখা শুরু করার সুযোগ পাবেন।
এতদিন পর্যন্ত রিলস ভিডিও দেখার মূল অভিজ্ঞতাই ছিল স্ক্রল করে দ্রুত এক ভিডিও থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অন্য ভিডিওতে চলে যাওয়া। কিন্তু এই নতুন ‘সিরিজ’ ফিচারের মাধ্যমে মেটা মূলত ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী ও কৌশলগত বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি পর্ব দেখার পর ব্যবহারকারীর মনে পরবর্তী পর্ব দেখার যে স্বাভাবিক কৌতুহল তৈরি হবে, তা দর্শকদের বারবার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করবে।
পাশাপাশি মেটা আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই নতুন সিরিজ ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের নতুন ও বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে। তবে রিলস সিরিজের মাধ্যমে মনিটাইজেশন বা আয়ের এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিক কেমন হবে এবং কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করে খোলসা করেনি মেটা কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক কনটেন্ট গুছিয়ে সাজানোর চেষ্টা মেটার জন্য এটাই প্রথম নয়; এর আগে ২০২০ সালেও ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে ইনস্টাগ্রামে ‘গাইডস’ নামের একটি ফিচার চালু করেছিল তারা। তবে বর্তমান সময়ে রিলসের ব্যাপক জনপ্রিয়তার যুগে এই ‘সিরিজ’ ফিচারটি ক্রিয়েটর ইকোনমি বা কনটেন্ট নির্মাতাদের উপার্জনের ক্ষেত্রে নতুন ও ইতিবাচক হাওয়া দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
পাঠকের মতামত:
- মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
- বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীর নতুন জীবনের পাশে স্পাইডার-ম্যান
- মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
- ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
- রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
- কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
- সর্বকালের সেরা কে? নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করলেন রোনালদো
- ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?
- চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- সিপিআই রিপোর্টের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দামে নতুন অস্থিরতা
- ৪৭৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তারা করতে নেমে চাপে আফগানিস্তান
- ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট
- চাঁদাবাজ ও দখলদারদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই: তারেক রহমানের কড়া হুশিয়ারি
- রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক
- রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
- পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নোয়াবে না ভারত: জাতিসংঘে কড়া বার্তা
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে খরচের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ভারতে ব্লক, সাইবার আক্রমণের অভিযোগ
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ
- সাজেক পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের
- আবুধাবি টেস্টে শান্ত ও মুশফিকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ
- পবিত্র ভূমির সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি ভয়ংকর: মিজানুর রহমান আজহারী
- কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী
- এএফএ সভাপতি ও রিভার প্লেট প্রধানের দ্বন্দ্বে উত্তাল আর্জেন্টিনার ফুটবল
- বহুল আলোচিত আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আইনি কার্যক্রমে নতুন মোড়
- আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের
- ফ্যাসিস্ট আমলের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
- গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ
- দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি: মোদি-শাহকে নিয়ে যা বলল সিজেপি
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো শুরু হলো পারমাণবিক বিক্রিয়া
- বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর
- বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর
- জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক
- দিল্লিতে আটক তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে থানায় অনশন-ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
- জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- ‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ
- ‘মোদির পতন দেখার অপেক্ষায় আছি’: মোদির বিদায় নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট
- রোমান সম্রাটের নতিস্বীকারের ইতিহাস টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- পর্দার পেছনের অভিনব কায়দা নিয়ে এল নতুন প্ল্যাটফর্ম
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
- বিশ্বমানের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেও নোবেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
- ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা
- ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে, সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা
- যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছাবে সরকার: এক বছরব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
- বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
- ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম
- উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি: কাজের ভিসার সাথেই মিলবে সৌদি পরিবারের এন্ট্রি ভিসা
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে গভীর শোকের ছায়া: হঠাৎ থমকে গেল এক রূপালী পথচলা








