জুলকারনাইনের প্রতিবাদ: তারেক-খালেদার 'রাজকীয় চেয়ার' খবরে নতুন বিতর্ক

সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য ‘রাজকীয় চেয়ার’ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জয়নাল আবেদীন এই চেয়ারগুলো নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করছেন।
তবে এই সংবাদে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার নীতিগত প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিতর্ক। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “প্রথম আলোর এই সংবাদটি মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নেতিবাচক রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির একটি চক্রান্ত।”
জুলকারনাইন আরও উল্লেখ করেন, ‘রাজকীয় চেয়ার’ শব্দগুচ্ছকে কোটেশন মার্কসহিত তুলে ধরা হলেও, এর মাধ্যমে পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সংবাদটি ক্লিকবেইটের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। তার মতে, আসলে এটি একটি স্থানীয় নেতার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি আসবাবপত্র, যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনও সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। তথাপি সংবাদটি উপস্থাপনায় দলে একটি কেন্দ্রিয় উদ্যোগের ছাপ দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূরণের জন্য ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।
তিনি এই ধরনের সাংবাদিকতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথাও উল্লেখ করেন, যা সাধারণ পাঠকদের কাছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে। জুলকারনাইনের মতে, এ ধরনের সংবাদ ‘সাংবাদিকতার আড়ালে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ’ হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। তবে এই বিতর্কিত প্রতিবেদন ও এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সংবাদ মাধ্যমে ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে সংবাদ প্রকাশনার পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি বাড়ছে। রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ও জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এ ধরনের তথ্য-প্রচার, যা গণমাধ্যমের বিশ্বস্ততা ও স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ঘটনা দেশের মিডিয়া এবং রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতা, তথ্য উপস্থাপন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণের জটিল দিকগুলো সামনে এনে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ইস্যু নিয়ে আরও সুদূরপ্রসারী আলোচনা ও কর্মশালা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
-শরিফুল, নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তির দাবি ঠিক, কিন্তু অনলাইন আক্রমণ কে থামাবে?

ড. বাতেন মোহাম্মদ
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জনাব ডা: শফিকুর রহমান একজন জামায়াত কর্মীর গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন। সওদা বেগম নামে এই কর্মী যে জামায়াতের ছিলো, সেটা আমিরে জামায়াতের পোষ্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে নিন্দা আমিও জানিয়েছি। শুধু আমি না, জামায়াতের রাজনীতি করে না এমন হাজার হাজার মানুষ নিন্দা জানিয়েছে। সওদা বেগমের মুক্তি দাবী করেছে। ফেয়ার এনাফ- আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় যেকোন নিপীড়নের বিপক্ষে। কিন্ত সওদা বেগমের অনলাইন প্রোফাইল ঘুরে আসলে আমাদের সামনে যে চিত্র ভেসে আসে সেটা একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মীর না। বিকৃত রুচীর ফটোকার্ড শেয়ার, মিথ্যা তথ্য প্রচার সহ নানা এক্টিভিটি দেখা যায়।
অনলাইনে জামায়াতের বট আর্মির আক্রমন, গালাগালি, ব্যক্তি আক্রমন, চরিত্র হরণ, অনলাইন স্পেস কে টক্সিক বানানোর অভিযোগ নতুন না।।কিন্ত জামায়াত দলীয় ভাবে কখনো সেটা স্বীকার করে নি। এইসব বট আইডি যে ভিন্নমতকে দমনের ও সোশ্যালি ভিলিফাই করার একটা ঘৃণ্য অস্ত্র ছিলো সেটা আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশকে কি পরিমান নষ্ট করেছে সেটা সচেতন মহল মাত্রই ওয়াকিবহাল।আমরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দমন পীড়ন যেমন চাই না, তেমনি অনলাইনে চরিত্র হরণ, প্রোপাগান্ডাও চাই না। সেটাও কম দমন পীড়ন নয়। যে এই আক্রমনের শিকার হয় সেই জানে- এটার অসহনীয় যন্ত্রনা কি? জামায়াতের আমীরের উনার কর্মীর গ্রেফতার নিয়ে যে অবস্থান, সেই একই অবস্থান দেখতে চাই উনাদের কর্মীদের অনলাইনে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন এবং অর্গানাইজড হেইট ক্রাইম কন্ট্রোলে।
ফ্যাসিবাদ শুধু একটা রাষ্ট্রীয় প্রকল্প না। ফ্যাসিবাদ একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক টুল ও। জামায়াতের বট আর্মিকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে নিরাপদ সাইবার স্পেস গড়ার যে প্রচেষ্টা -সেটা বাধা গ্রস্ত হবে।এই অনলাইন আক্রমন হয়তো সব দলই করে তবে জামায়াতের এই স্ট্রাটেজি সবচেয়ে অর্গানাইজড ও ভয়াবহ সেটা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। আর সওদা বেগমকে জামায়াত কর্মী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে আমীর সাহেব ও স্বীকার করে নিলেন অনলাইনে এইসব ফটোকার্ড যারা বানায় এবং শেয়ার করে তাদের বড় একটা অংশ ( সবচেয়ে সবচেয়ে অর্গানাইজড) জামায়াত কর্মী কিংবা সমর্থক।সওদা বেগমের শেয়ার করা অনেক পোষ্টই রুচিহীন ও মানহানিকর। এইগুলো জামায়াত প্রকাশ্যে -যে সৎ লোক ও মেধাবী বলে সামাজিক অবস্থান নেয়- সেটার সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন না। এর অর্থ তাদের রাজনীতি ডাবল ফেসড। যে কর্মী প্রকাশ্যে সালাম দিয়ে হৃদ্যতা দেখায়, সেই অনলাইনে পরিচয় গোপন করে দলীয় স্বার্থে গালাগালি করে, ঘৃণা ছড়ায়। এই ডাবল স্টান্ডার্ড থেকে বেরিয়ে আসার এই সুযোগ জামায়াত দলীয় ভাবে নেয়া উচিত।
দেশটা আমাদের। সমাজটাও আমাদের। সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার, তেমনি আমাদের ও দায়িত্ব মত প্রকাশের নামে মিথ্যা ও ঘৃণা না ছড়ানো। আমি সওদা বেগমের মুক্তি চাই। একই সাথে জামায়াতের ( অন্যান্য দলের ও কম বেশি আছে) এই বট বাহিনীর যে নোংরা স্ট্রাটেজি দিনের পর দিন সমাজকে ঘৃণার বোমায় পরিণত করতে কাজ করছে সেখান থেকে সরে আসার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক- এমন প্রত্যাশা করি।
আমীরে জামায়াত নিজে উদ্যোগ নিয়ে উনার কর্মী সমর্থকদের এইসব মিস ইফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে সাবধান করবেন বলে আশা করি। যেহেতু অন্যদল গুলো থেকে জামায়াত অনেক বেশি অর্গানাইজড ও দলীয় সিদ্ধান্তেই সবকিছু হয় বলে সাধারণে একটা ধারণা প্রবল- তাই অনলাইনে বট আর্মির প্রাদুর্ভাব কমলে ভেবে নেব জামায়াত ভালো রাজনীতি করছে আর বাড়লে ভাববো দলটা মোনাফেকি আরো বেশি করছে।
মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা: নীরবতার বদলে জবাবদিহি দরকার

আসিফ বিন আলী
শিক্ষক ও স্বাধীন সাংবাদিক
বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই আলোচনার উদ্দেশ্য কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি করা নয়। উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা তৈরি করা, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে প্রকাশ্য আলোচনায় আনা, এবং সমস্যাটিকে তথ্যের ভিত্তিতে দেখা। আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার রাখা দরকার। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, নিয়মিত, সরকারি জাতীয় তথ্যভান্ডার সহজলভ্য নয়। ফলে যেটুকু দৃশ্যমান, তার বড় অংশই আসে বড় জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন, পুলিশি মামলা, এবং আদালত-সংক্রান্ত সংবাদ থেকে। তাই ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে যে প্রতিবেদনগুলো আমি দেখেছি এবং গ্রহণযোগ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া গেছে, এই লেখাটি সেই ভিত্তিতেই লেখা।
ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পর্যালোচনা বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুধু শারীরিক শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে যৌন নির্যাতন, ভয়, লজ্জা, ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতাও রয়েছে। আইন ও সালিস কেন্দ্রও তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, বাংলাদেশে শিশু ও কিশোরদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বড় সমস্যা হলেও সামাজিক কলঙ্কের কারণে বহু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। অর্থাৎ, যে ঘটনাগুলো পত্রিকায় আমরা দেখি, সেগুলোই পুরো বাস্তবতা নয়। অনেক সময় দৃশ্যমান অংশটি অদৃশ্য অংশের চেয়ে ছোট।
২০২৩ সালের প্রতিবেদনগুলোই এই সমস্যার গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ প্রথম আলো রাজশাহীতে এক আবাসিক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আবাসিক শিক্ষক গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে। ২ এপ্রিল ২০২৩ প্রথম আলো গৌরনদীতে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় শিক্ষক গ্রেপ্তারের কথা জানায়। ১৯ জুন ২০২৩ প্রথম আলো সাতকানিয়ায় ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর সংবাদ প্রকাশ করে। ১০ আগস্ট ২০২৩ ঢাকা ট্রিবিউন চট্টগ্রামে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের খবর দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ প্রথম আলো নাসিরনগরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশ করে। এই কয়েকটি ঘটনা পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। ভুক্তভোগী শুধু মেয়ে শিশু নয়, ছেলে শিশুও। এবং আবাসিক বা ধর্মীয় কর্তৃত্বপূর্ণ পরিবেশে অভিযোগ তোলা অনেক সময় আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালেও এই প্রবণতা থামেনি। ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ ঢাকা ট্রিবিউন নোয়াখালীর চাটখিলে চার কিশোর ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে জেলে পাঠানোর খবর দেয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রথম আলো গোপালগঞ্জে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর ধর্ষণের অভিযোগভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, আর ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ঢাকা ট্রিবিউন একই ঘটনায় পাঁচ মাদ্রাসাশিক্ষককে জেলে পাঠানোর সংবাদ ছাপে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রথম আলো এবং ঢাকা ট্রিবিউন, দুই পত্রিকাই চট্টগ্রামে চার শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশ করে। ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ঢাকা ট্রিবিউন নওগাঁয় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় এক শিক্ষকের ১০ বছরের কারাদণ্ডের কথা জানায়। ৫ জুলাই ২০২৪ প্রথম আলো ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের খবর ছাপে। ২৯ আগস্ট ২০২৪ প্রথম আলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই মাদ্রাসাছাত্রীর ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দুই শিক্ষককে আসামি করে মামলার খবর প্রকাশ করে। ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ঢাকা ট্রিবিউন রংপুরে এক ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে বলে জানায়, এবং সেখানে এক শিক্ষক ও এক ছাত্রকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে। অর্থাৎ ২০২৪ সালে অভিযোগ, গ্রেপ্তার, বিচার, দণ্ড, একক ভুক্তভোগী, এবং একাধিক ভুক্তভোগী, সব ধরনের চিত্রই সামনে আসে।
২০২৫ সালের প্রতিবেদনগুলো দেখায়, সমস্যাটি কেবল টিকে নেই, বরং ধারাবাহিকভাবে দেখা দিচ্ছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দ্য ডেইলি স্টার লালমনিরহাটে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের খবর দেয়। ৯ মার্চ ২০২৫ ঢাকা ট্রিবিউন গাজীপুরের শ্রীপুরে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশ করে। ২৮ এপ্রিল ২০২৫ প্রথম আলো ফটিকছড়ির একটি আবাসিক মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন শিক্ষক গ্রেপ্তারের কথা জানায়। ২৮ জুলাই ২০২৫ প্রথম আলো চট্টগ্রামে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদ ছাপে। ২৭ আগস্ট ২০২৫ দ্য ডেইলি স্টার চট্টগ্রামে ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রকে ধর্ষণের মামলায় সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের খবর দেয়। ২৯ আগস্ট ২০২৫ প্রথম আলো কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ১১ বছর বয়সী দুই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর কথা জানায়। ১৩ অক্টোবর ২০২৫ প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ চট্টগ্রামে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই বছরের ঘটনাগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কিছু মামলা আদালতে গিয়েছে এবং রায়ও হয়েছে। তার মানে, অভিযোগ উঠলে আইনগত প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও বোঝা যায় যে, সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পরিবার, ভুক্তভোগী, চিকিৎসা, পুলিশ, এবং বিচারব্যবস্থা, সবকিছুরই সক্রিয় ভূমিকা লাগে।
২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেও একই উদ্বেগজনক ধারা দেখা যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দ্য ডেইলি স্টার নোয়াখালীতে ৫ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তারের কথা জানায়। ১৬ মার্চ ২০২৬ প্রথম আলো কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী এক আবাসিক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়ার খবর দেয়। ১৭ মার্চ ২০২৬ দ্য ডেইলি স্টার একই ঘটনার প্রতিবেদনে জানায়, শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ প্রথম আলোর পরবর্তী প্রতিবেদনে পরিবারের ওপর আপসের চাপের অভিযোগ সামনে আসে। ২২ মার্চ ২০২৬ প্রথম আলো জানায়, সেই শিশুর ঈদ কেটেছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। ৩ এপ্রিল ২০২৬ প্রথম আলো নোয়াখালী শহরের একটি মাদ্রাসায় এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের সংবাদ দেয়, এবং একই দিন দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ওই শিক্ষককে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে। এই কয়েকটি প্রতিবেদন একত্রে পড়লে দেখা যায়, আবাসিক পরিবেশ, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাত, এবং অভিযোগকে স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলার চাপ, এই তিনটি বিষয় বারবার ফিরে আসছে।
এই দৃশ্যমান ঘটনাগুলো কয়েকটি সুস্পষ্ট প্যাটার্ন নির্দেশ করে। প্রথমত, আবাসিক বা আংশিক আবাসিক মাদ্রাসায় ঝুঁকি বেশি। শিশু পরিবার থেকে দূরে থাকে, তদারকি সীমিত থাকে, এবং অভিযোগ গোপন রাখা তুলনামূলক সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, পরিচালক, বা ধর্মীয় শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা অনেক সময় শিশুর বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়। শিশু যা বলছে, পরিবার বা সমাজ তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করতে চায় না। তৃতীয়ত, ছেলে শিশুদের ভুক্তভোগী হিসেবে আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি, অথচ জনআলোচনায় এই অংশটি অনেক সময় আড়ালে থাকে। ঢাকা ট্রিবিউনের আগের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনগুলোও দেখিয়েছিল যে, মাদ্রাসায় ছেলে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা বাস্তব, কিন্তু তা প্রায়ই নীরবতার আড়ালে চাপা পড়ে যায়। চতুর্থত, কিছু ঘটনায় একাধিক ভুক্তভোগীর কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ, এটি কেবল এককালীন বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রশ্ন নয়, কোথাও কোথাও ধারাবাহিক নির্যাতনের ইঙ্গিতও দেয়। পঞ্চমত, অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক, স্থানীয়, বা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ একটি বড় বাস্তবতা। কুষ্টিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনও বলেছে, মাদ্রাসায় শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা সাধারণত তখনই সামনে আসে যখন আঘাত গুরুতর হয়, অথবা ঘটনা আর চাপা রাখা যায় না।
তাহলে প্রশ্ন হলো, এত কম ঘটনা কেন দৃশ্যমান হয়? এর উত্তর জটিল হলেও অস্পষ্ট নয়। আইন ও সালিস কেন্দ্র বলেছে, সামাজিক কলঙ্কের কারণে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এই সমস্যার সঙ্গে আরও কিছু বিষয় যোগ হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে অনেক পরিবার ভয় পায়। ছেলে শিশু ভুক্তভোগী হলে লজ্জা, ভয়, এবং সামাজিক ধারণা আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক শিশু নিজেই বুঝতে পারে না যে, তার সঙ্গে যা ঘটছে তা অপরাধ। অনেক পরিবার ভাবে, অভিযোগ উঠলে সন্তানের ভবিষ্যৎ, সম্মান, বা বিয়ের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল আপসের পথে যেতে চাপ দেয়। ফলে পত্রিকায় যে সংখ্যাটি দেখা যায়, বাস্তবে তার চেয়ে বড় একটি অদৃশ্য অংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আমি এই লেখায় কোনো ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাচ্ছি না। সমস্যাটি ইসলাম, মাদ্রাসাশিক্ষা, বা ধর্মবিশ্বাসের অন্তর্নিহিত সমস্যা নয়। সমস্যাটি হলো প্রতিষ্ঠান, প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব, এবং দুর্বল জবাবদিহি। এই বাস্তবতা শুধু বাংলাদেশে বা শুধু মাদ্রাসায় নেই। পাকিস্তান নিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতনকে দীর্ঘদিনের এবং বিস্তৃত সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। একইভাবে ক্যাথলিক চার্চকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বহু বছরের যৌন নির্যাতন ও ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত বাস্তবতা। রয়টার্সও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগত নীরবতা এবং নৈতিক কর্তৃত্বের আড়ালে নির্যাতন লুকিয়ে থাকার ঝুঁকি কত বড়। এই তুলনার উদ্দেশ্য এক ধর্মকে আরেক ধর্মের সঙ্গে মেলানো নয়। উদ্দেশ্য হলো একটি সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক সত্য বোঝা: যেখানে কর্তৃত্ব আছে কিন্তু স্বাধীন নজরদারি দুর্বল, সেখানে নির্যাতন চাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
এখন প্রশ্ন দায়ের। প্রথম দায় মাদ্রাসার নিজের। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রথম কাজ তার সুনাম বাঁচানো নয়, তার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। লিখিত শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক ও কর্মীদের পূর্বপরিচিতি যাচাই, আবাসিক অংশে স্বাধীন তদারকি, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, এবং অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও পুলিশকে জানানো, এগুলো ন্যূনতম ব্যবস্থা হওয়া উচিত। দরজা বন্ধ করে একা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমানো, আবাসিক অংশে নিয়মিত তদারকি রাখা, এবং “স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলা” মানসিকতা পরিহার করা জরুরি। কারণ এই সংস্কৃতি অপরাধীকে বাঁচায়, প্রতিষ্ঠানকে স্বস্তি দেয়, কিন্তু শিশুদের নিরাপদ করে না।
দ্বিতীয় দায় সরকারের। আলিয়া, কওমি, বেসরকারি, আবাসিক, অনাবাসিক, সব ধরনের মাদ্রাসার জন্য একক শিশু সুরক্ষা মানদণ্ড প্রয়োজন। নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযোগের বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি, অভিযোগের তথ্যভান্ডার, শিশুবান্ধব চিকিৎসা ও মানসিক-সামাজিক সহায়তা, দ্রুত তদন্ত, এবং ভুক্তভোগী ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া কেবল গ্রেপ্তারের খবর দিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বেশি, কোথায় নির্যাতনের-এর অভিযোগ, কোথায় ছেলে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে, কোথায় মেয়ে শিশুরা, কোথায় আপসের চাপ বেশি, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া কার্যকর নীতি সম্ভব নয়।
তৃতীয় দায় পরিবারের। পরিবারকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না, কারণ অনেকে ধর্মীয় শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, বা আবাসিক সুবিধার কারণে সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠান। কিন্তু সতর্ক থাকা জরুরি। শিশু হঠাৎ মাদ্রাসায় যেতে না চাইলে, নির্দিষ্ট শিক্ষককে ভয় পেলে, আচরণ বদলে গেলে, শারীরিক অসুস্থতার কথা বললে, অথবা অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ হয়ে গেলে, তা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বিশেষ করে ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে “এ ধরনের কথা বলা যায় না” ধরনের মানসিকতা ভাঙতে হবে। আর অভিযোগ উঠলে আপসের নামে চুপ করে যাওয়া মানে অনেক সময় পরের শিশুর জন্যও ঝুঁকি রেখে দেওয়া।
সব মাদ্রাসা এক নয়, সব শিক্ষকও অপরাধী নন। এই কথাটি সত্য। কিন্তু এই সত্য বলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বড় পত্রিকায় প্রকাশিত দৃশ্যমান প্রতিবেদনগুলোই বলছে, এখানে একটি বাস্তব, পুনরাবৃত্ত, এবং গভীর নিরাপত্তা সংকট আছে। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা মানে সমস্যাটিকে ছোট করা। এখন প্রয়োজন অস্বীকার নয়, বরং নীরবতা ভেঙে শিশুকেন্দ্রিক সুরক্ষা, জবাবদিহি, এবং সংস্কারকে সামনে আনা। শিশু আগে শিশু, পরে ছাত্র। এই সহজ সত্যটি নীতির কেন্দ্রে না আনলে প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে, কিন্তু শিশু নিরাপদ হবে না।
এ দেশে দাম বাড়ে সবকিছুর, কমে শুধু মানুষের: মিজানুর রহমান আজহারি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের এক স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। এ দেশে দাম বাড়ে সবকিছুর, কমে শুধু মানুষের।”
আজহারি তাঁর স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, “ঈদের আগে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের পিষ্ট হওয়ার নির্মম দৃশ্য ও কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে প্রাণহানির দৃশ্য এখনো স্মৃতিতে ভাসছে। তার মধ্যে বুধবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে সংঘটিত দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন অনেক যাত্রী।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই দৃশ্যগুলো এখন আর দেখা সম্ভব নয় এবং দেশে জীবনের যেন কোনো মূল্যই অবশিষ্ট নেই।
যোগাযোগ ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি প্রতিটি জেলায় নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি লেখেন, “দেশের প্রতিটি জেলায় নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে। সব অব্যবস্থাপনা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
/আশিক
মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়া চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শুভকামনা জানান।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘মির্জা আব্বাসের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’ তাঁর এই সহমর্মিতামূলক বার্তাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও অসুস্থতার এই সময়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন সৌজন্যবোধ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে মির্জা আব্বাস এভারকেয়ার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাঁর পারিবারিক সূত্র থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। সংসদীয় ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় দলের নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
/আশিক
প্রশাসনে জামায়াত-এনসিপির দুর্গ চুরমার করে দিচ্ছে বিএনপি: রনি
বিএনপির বর্তমান সরকার ক্ষমতা লাভের পর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাদের দৃশ্যত তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
রনি বলেন যে গত ১৭ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন কিংবা দীর্ঘ সময়ের আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রণালয়ের যে স্থবিরতা ছিল, বর্তমান মন্ত্রীরা তা কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত তৎপর। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত কয়েকদিনে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একের পর এক চমক সৃষ্টি করে চলেছেন যা রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গোলাম মাওলা রনি আরও দাবি করেন যে গত ১৭ মাস ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে শক্তিশালী দুর্গগুলো তৈরি করেছিল, বর্তমান সরকার সেই দুর্গগুলো তছনছ করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেখানেই জামায়াত-এনসিপির লোক ছিল, তাদের টার্গেট করে একটি বিরাট অংশকে ইতিমধ্যে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে আবার পরিস্থিতি বুঝে নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে গেছেন।
তিনি মনে করেন যে গত মাত্র দুই দিনের মধ্যেই বিএনপি সরকার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মোটামুটি একটা ‘দফারফা’ করে দিয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী এবং সিটি করপোরেশনের মতো জায়গাগুলোতে জামায়াত ও এনসিপির যে একক আধিপত্য তৈরি হয়েছিল, সেই আধিপত্য বর্তমানে পুরোপুরি চুরমার করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন। সরকারের এই হার্ডলাইন অবস্থান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিএনপির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন।
/আশিক
‘সেলফি’ ভবিষ্যদ্বাণী মিলল বাস্তবের সঙ্গে
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে জুলকারনাইন সায়ের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস, যেখানে তিনি অতীতের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্ত স্মরণ করেছেন।
নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, শেষবার যখন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখন মজা করে একটি সেলফি তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কারণ পরবর্তী সময়ে তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অতিক্রম করে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ছবি তোলা কঠিন হয়ে যাবে। সময়ের ব্যবধানে সেই কথাই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তারেক রহমান মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা ও প্রটোকলের বলয় স্বাভাবিকভাবেই কঠোর হয়ে ওঠে। ফলে ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
-রাফসান
দেড় বছরের সাধনা ও অধ্যবসায়ের ফল নিয়ে হাজির শায়খ আহমাদুল্লাহ
দীর্ঘ দেড় বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও গভীর অধ্যবসায়ের পর নতুন একটি বই প্রকাশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন জনপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’ শিরোনামের এই গ্রন্থে কোরআন ও হাদিসের আলোকে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি তাঁর ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, একসময় বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর নিমগ্নতা দেখে এক শিক্ষক তাঁকে মজা করে ‘জিন’ বলে ডাকতেন। নতুন এই বইটি রচনার সময় তিনি আবারও সেই পুরনো ‘বইপাগল’ ছাত্র হিসেবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন। গত কয়েক মাস প্রায় গৃহবন্দি হয়ে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বইটির কাজ শেষ করেছেন। শুরুতে সামগ্রিক ইসলামকে এক মলাটে আনার পরিকল্পনা থাকলেও, বিষয়ের গভীরতা ও ব্যাপ্তির কারণে তিনি শুধু ঈমান নিয়ে এই আলাদা গ্রন্থটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন।
বইটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর নাম চূড়ান্ত করার আগে শায়খ আহমাদুল্লাহ পাঠকদের মতামত চেয়েছিলেন, যেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’ নামটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বইটিতে সমকালীন বিভিন্ন কুফর, নিফাকের লক্ষণ এবং বিশ্বাসগত সংকট থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ঈমান বিষয়ক এই বইয়ের পর পর্যায়ক্রমে ইবাদত, আখলাক ও লেনদেন নিয়ে পৃথক গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
/আশিক
২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার নিয়ে প্রস্তুত শায়খ আহমাদুল্লাহ: এবার যুক্ত হচ্ছে বিশেষ উপহার
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে এক বিশাল উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’ এবারের রমজানে ৩৩ হাজার ৩০০ দরিদ্র পরিবারের জন্য ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করছে। শনিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান যে, নির্বাচনের ছুটির মাঝেও আস-সুন্নাহ স্কিলের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দিনরাত এই ইফতার সামগ্রী প্যাকেজিংয়ের কাজ করে যাচ্ছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মোট ৬২৭টি নির্দিষ্ট স্পটে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ইফতার প্যাকেজে থাকছে ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি উন্নত মানের খেজুর এবং ১ কেজি মুড়ি। এটি গত কয়েক বছরের তুলনায় বড় একটি আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এবারের আয়োজনে বড় চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়টি। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বরং রমজানের আমলকে সমৃদ্ধ করতে এবারই প্রথম প্রতিটি ইফতার প্যাকেজের সঙ্গে 'মাহে রমজানের ২৭ আমল' নামক একটি বই উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এই মানবিক ও ধর্মীয় উদ্যোগের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এবং বহু মানুষ এই সেবামূলক কাজের সাথে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
/আশিক
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শায়খ আহমাদুল্লাহ: দিলেন বিশেষ বার্তা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে নিজের সুষ্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে যেকোনো ইতিবাচক সংস্কারে তাঁর সমর্থন রয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে তাঁরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। তবে এই সংস্কার কার্যক্রম অবশ্যই দেশের ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ কেবল পরিবর্তন নয়, বরং মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে একটি সুন্দর আগামীর অঙ্গীকার করা।
রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের বিচ্যুতি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে চূড়ান্ত সংস্কার কার্যক্রমে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের সম্পৃক্ত করারও দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলেমদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ধর্মীয় মূল্যবোধের সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে এবং জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি হবে।
পাঠকের মতামত:
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- হাম হলে কী করবেন? জরুরি নির্দেশনা জানুন
- শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
- যুদ্ধবিরতির পর প্রথম ইরান-সৌদি কূটনৈতিক যোগাযোগ
- গণবিরোধী বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে সেরা ১০ গেইনার শেয়ার তালিকা
- শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সময়সূচি ঘোষণা
- ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো যত
- যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
- ৯ এপ্রিলের নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- রাতে ইউরোপ মাতাবে হাইভোল্টেজ ফুটবল, জানুন আজকের খেলাধুলা সূচি
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- ইরানকে অস্ত্র দিলে ৫০% শুল্ক, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- ডলারে নয়, ইউয়ানে টোল! হরমুজ প্রণালিতে ইরান-চীনের বড় চাল
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
- রাতভর ৮ বিভাগে কালবৈশাখীর তাণ্ডবের শঙ্কা: ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা
- যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানি তেল শোধনাগারে হামলা: জ্বলছে লাভান দ্বীপ
- তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়
- আগামীকাল ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- লেবাননজুড়ে ইতিহাসের বড় হামলা চালাল ইসরায়েল
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে ঢাকা বোর্ডের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
- দেশে হামের মহামারি আতঙ্ক: আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়াল, বাড়ছে লাশের মিছিল
- যুদ্ধবিরতির মাঝেই কুয়েতে ইরানের ড্রোন বৃষ্টি
- হরমুজ প্রণালি মুক্ত হতেই বিশ্ব শেয়ারবাজারে উৎসব: সূচকের বিশাল উল্লম্ফন
- ১৮০ দিনে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ধামাকা
- ইরানকে রাজি করাল চীন? ট্রাম্পের ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে নতুন তোলপাড়
- হাসনাত আবদুল্লাহর কটাক্ষের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তোপ
- সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস: আইনি সুরক্ষা ও পূর্ণ দায়মুক্তি পেলেন জুলাই যোদ্ধারা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৮ এপ্রিল: দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আনচেলত্তির আল্টিমেটাম ও সান্তোসের পরিকল্পনা: নেইমার কি ফিরবেন ব্রাজিলের জার্সিতে?
- হাম নাকি সাধারণ র্যাশ? চেনার উপায় ও চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ
- ইরান যুদ্ধে বিরতির জাদুকরী প্রভাব: শেয়ারবাজারে সূচকের বিশাল উল্লম্ফন
- ট্রাম্প ও খামেনি উভয়েরই ‘বিজয়’ দাবি: কার কৌশলে এল এই ঐতিহাসিক সমঝোতা?
- শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মেগা পরিকল্পনার ঘোষণা
- হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের
- মোজতবা খামেনির সবুজ সংকেত ও ট্রাম্পের শর্ত: ইরান-মার্কিন চুক্তির নেপথ্য কাহিনী
- হঠাৎ বদলে গেল আবহাওয়া: ৩ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের দাপট
- আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নাটকীয়তা: যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে ইসরায়েলের হামলা
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- আবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি ছাড়ালো যত
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- আজকের খেলার সূচি, কোথায় কোন ম্যাচ
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক মার্কিন বিমান ধ্বংস
- আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
- আজকের শেয়ারবাজারে বেশি লোকসানে যেসব কোম্পানি
- বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সাবেক গভর্নরের দুর্নীতি







