ট্রাম্প বেশি কথা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির মুখে বিস্ফোরক ইরান!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২০:১০:৫৪
ট্রাম্প বেশি কথা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির মুখে বিস্ফোরক ইরান!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি ও বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) তুরস্কের আন্তালিয়ায় আয়োজিত এক কূটনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্প ‘বেশি কথা বলেন’। খাতিবজাদে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অনেক টুইট করেন এবং অনেক কথা বলেন। তার বক্তব্যগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মার্কিন জনগণের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

আগামী বুধবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও বোমা হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে খাতিবজাদে বলেন, ট্রাম্প একই বক্তব্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধী কথা বলেন এবং তিনি আসলে কী বোঝাতে চান তা নিশ্চিত নয়। এদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের মার্কিন প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বর্তমানে জারি থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধকে ‘স্থায়ীভাবে অকার্যকর’ বলে ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে হলে আগে উভয় পক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতার কাঠামোতে পৌঁছাতে হবে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, যদি আবারও যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরান নিজেদের রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। তার ভাষায়, “যুদ্ধ শুরু হলে ইরান শেষ গুলি ও শেষ সৈনিক পর্যন্ত লড়াই করবে।” গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। যদিও ট্রাম্প এই সপ্তাহে আবারও সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভেন্যু নিয়ে জটিলতার কারণে এখনই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

/আশিক


গুলিবর্ষণের শিকার দুটি জাহাজ: হরমুজ রুটে কেন আবার মারমুখী আইআরজিসি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২০:০৪:২৭
গুলিবর্ষণের শিকার দুটি জাহাজ: হরমুজ রুটে কেন আবার মারমুখী আইআরজিসি?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। গতকালই হরমুজ প্রণালি ‘উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা দিলেও, ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে পুনরায় এই কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

শুধু নিয়ন্ত্রণই নয়, প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসি-র গানবোট থেকে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও-র বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে আইআরজিসি-র দুটি গানবোট থেকে একটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজ ও এর ক্রু সদস্যরা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। হামলার ফলে জাহাজের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরান নতুন করে কিছু কঠোর শর্ত আরোপের পরপরই এমন হামলার ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকালের দেওয়া ঘোষণা থেকে সরে এসে হঠাৎ কেন ইরান আবার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিল এবং শর্ত আরোপ করল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

/আশিক


দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও দাফন হয়নি খামেনির! কোথায় হবে সমাধি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৯:৪৬:২৩
দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও দাফন হয়নি খামেনির! কোথায় হবে সমাধি?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর দাফন নিয়ে রহস্য ও অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান 'আস্তান কুদস রাজাভি' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার এলাকায় তাঁকে কোথায় সমাহিত করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির নিহতের খবর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার কারণে দাফনের স্থান ও সময় নির্ধারণে তেহরান চরম গোপনীয়তা রক্ষা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাশহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাফনের প্রস্তুতি চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল বেড়েই চলেছে।

/আশিক


দিনের আলোয় দেখা মিলল ঈদের চাঁদের! শুরু হলো কোরবানির ক্ষণগণনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৯:১৯:১৯
দিনের আলোয় দেখা মিলল ঈদের চাঁদের! শুরু হলো কোরবানির ক্ষণগণনা
ছবি : সংগৃহীত

আকাশে যখন দিনের আলো ফুটেছে, ঠিক তখনই দেখা মিলল হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলকদ মাসের নতুন বাঁকা চাঁদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই বিরল দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজের মাস জিলহজ ও পবিত্র ঈদুল আজহার ক্ষণগণনা। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের (আইএসি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জিলকদ মাসের এই চাঁদ দেখা যায়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশেষ মুহূর্ত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আওদার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই চাঁদ পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণের সময় চাঁদের বয়স ছিল মাত্র ১৬.৫ ঘণ্টা। এই চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার একটি সম্ভাব্য সময়সূচিও প্রকাশ করেছেন। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৭ মে (বুধবার) মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। সেই হিসেবে হজের প্রধান দিন বা আরাফাত দিবস হতে পারে ২৬ মে (মঙ্গলবার)।

ভৌগোলিক নিয়ম অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরাবরের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারা টানা ৯ দিনের এক দীর্ঘ ছুটির অপেক্ষায় রয়েছেন, যা সেখানে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই ওঠে না: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৩:০৩:৩৭
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই ওঠে না: ইরান
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে ইরান। নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করে দেশটি বলেছে, এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি তারা কখনোই দেয়নি।

শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দেশের ইউরেনিয়াম মজুদ কোনোভাবেই অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। তার এই বক্তব্য সরাসরি খণ্ডন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সেই দাবি, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান নাকি তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। বাঘাইয়ের ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক সম্পদ জাতীয় নিরাপত্তার অংশ এবং এটি নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী আরও এক ধাপ এগিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা কিংবা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার যেকোনো প্রস্তাব তেহরান স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তার মতে, এই ইস্যুটি ইরানের জন্য একটি “কৌশলগত রেড লাইন”, যা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটি অনুসরণ করে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতায় পারমাণবিক কর্মসূচি ইরানের জন্য কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর নির্ধারিত মানদণ্ডে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। এই পরিসংখ্যানই বৈশ্বিক শক্তিগুলোর উদ্বেগের অন্যতম কারণ, যদিও ইরান বারবার দাবি করে আসছে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

-রফিক


আমেরিকায় রহস্যের পাহাড়! একের পর এক পরমাণু বিজ্ঞানী নিখোঁজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১২:৪৮:২৮
আমেরিকায় রহস্যের পাহাড়! একের পর এক পরমাণু বিজ্ঞানী নিখোঁজ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক নিখোঁজ এবং মৃত্যুর একের পর এক ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে হোয়াইট হাউস। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে পেন্টাগনের গোপন প্রজেক্টে যুক্ত থাকা অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর এমন অস্বাভাবিক পরিণতি এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই প্যাটার্নটি অত্যন্ত গুরুত্বর এবং প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এর তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক মনিকা জাসিন্তো রেজার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি গত বছরের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করতে গিয়ে হদিসহীন হয়ে যান।

এছাড়াও লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির অ্যান্থনি চাভেজ এবং এয়ারফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ডের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারাও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু নিখোঁজ হওয়াই নয়, নাসার বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড এবং মাইকেল ডেভিড হিকসের মতো গবেষকদের মৃত্যুর কারণ গোপন রাখায় ডালপালা মেলছে গভীর ষড়যন্ত্রের সন্দেহ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বিজ্ঞানীরা এমন সব প্রজেক্টে যুক্ত ছিলেন যেখানে পারমাণবিক মহাকাশ চুল্লি বা 'নিউক্লিয়ার স্পেস রিঅ্যাক্টর' তৈরির গোপন কাজ চলছিল। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এফবিআই-কে এই তদন্তে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসম্যান এরিক বার্লিসন একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোপন তথ্যে প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিদের এভাবে হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হতে পারে না।

খবর- বিবিসি।


সম্পর্ক এখন খুবই ভালো: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের গলায় নতুন সুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১২:২০:০৭
সম্পর্ক এখন খুবই ভালো: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের গলায় নতুন সুর
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের মাঝে নতুন এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বর্তমান সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’ অবস্থায় রয়েছে এবং দুই দেশ একটি বড় চুক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হতে পারে এবং পারমাণবিক স্থাপনার অবশিষ্টাংশ বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ধাপে ধাপে সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই।

মূলত গত বছরের ভয়াবহ বোমা হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোকে ঘিরেই ট্রাম্পের এই নতুন প্রস্তাব। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য; যদিও ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেছেন যে, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে বজায় থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত আলোচনার জন্য তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন।

তবে ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ইরানকে বিপুল অর্থ প্রদানের খবরটি সরাসরি অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কোনো অর্থ লেনদেন হচ্ছে না।” অর্থাৎ, অর্থ নয় বরং ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই জটিল সংকটের সমাধান খুঁজছে হোয়াইট হাউস।

/আশিক


আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে: ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১১:৩৩:৫৩
আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে: ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি চলাকালে লেবাননে আর কোনো প্রকার বোমাবর্ষণ করা যাবে না।

গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্প লিখেছেন, “আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে!” নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে এই খবরটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা ‘ড্রাইভিং সিট’-এ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরানের সাথে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর তথ্যমতে, ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলের কাছে হস্তান্তর করে, তবে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দকৃত ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই সরাসরি নগদ অর্থের লেনদেন হবে না।

লেবানন ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প আরও লিখেছেন যে, এই শান্তি চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সাথে কাজ করবে যাতে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যায়।

একাধারে ইসরায়েলকে সংযত হওয়ার নির্দেশ এবং ইরানকে বিশাল অঙ্কের সম্পদের টোপ দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


বুধবারের পরই কি মহাযুদ্ধ? ইরানকে ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটাম!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১১:২৬:০৬
বুধবারের পরই কি মহাযুদ্ধ? ইরানকে ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটাম!
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হতে না হতেই চরম আল্টিমেটাম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে যদি তেহরানের সঙ্গে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। পরিবর্তে ইরানের ওপর আবারও ভয়াবহ বিমান ও বোমাবর্ষণ শুরু করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমি সম্ভবত এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমাদের নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে জারি থাকবে।

যদি বুধবারের মধ্যে কোনো সম্মানজনক সমাধান না আসে, তবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, ওয়াশিংটন এখন ‘চুক্তি অথবা ধ্বংস’—এই নীতিতে এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কার্যকর থাকা ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে দুই দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক হলেও তা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন। তবে বুধবারের মধ্যে সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স।


হরমুজ খুলে দিল তেহরান: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শক্ত বার্তা

আলিফ ইফতেখার হোসেন
আলিফ ইফতেখার হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৯:৪৫:৫০
হরমুজ খুলে দিল তেহরান: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শক্ত বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি শুধু লেবানন সীমান্তেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, লেবাননে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

এই ঘোষণা শুধু একটি কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, যেখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। ফলে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এই জলপথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, লেবানন-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর আজ শুক্রবার ভোর থেকে তা কার্যকর হয়। এর আগে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তাতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করে আসছিল তেহরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। যদিও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব শুরুতে তা অস্বীকার করেছিল এবং ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে।

এই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের পর হঠাৎ করেই লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা অনেক বিশ্লেষকের কাছে কূটনৈতিক চাপের ফল হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করা হয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরান সংঘাত নয়, বরং মর্যাদা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে শান্তি চায়। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথে নেই এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই তাদের লক্ষ্য।

তবে একই সময়ে ইরানের অবস্থানে একটি স্পষ্ট কৌশলগত দৃঢ়তাও দেখা যাচ্ছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, ইরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “সংঘাতের অবসান হতে হবে স্থায়ীভাবে, লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সব ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করেই।” এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে ইরান একটি বৃহত্তর কৌশলগত সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছে, সাময়িক বিরতি হিসেবে নয়।

সব মিলিয়ে, লেবাননের যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে ইরানের এই ধারাবাহিক অবস্থান একদিকে কূটনৈতিক নমনীয়তা, অন্যদিকে কৌশলগত কঠোরতার এক সমন্বিত চিত্র তুলে ধরছে। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা যেমন বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ইরানের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পাঠকের মতামত: