শুক্র গ্রহ: সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় উজ্জ্বল গ্রহ

সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ শুক্র বহু শতাব্দী ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্র। আকাশে সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পরে যখন এটি দেখা দেয়, তখন অন্য সব গ্রহের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল বলে সহজেই নজর কাড়ে। এতটাই দীপ্তিমান যে প্রাচীন সভ্যতাগুলো এটিকে কখনও সকালের তারা, কখনও সন্ধ্যার তারা হিসেবে আলাদা নামেও চিনত। ব্যাবিলনীয়রা একে দেবী ইশতারের সঙ্গে মিলিয়েছিল, গ্রিকরা সকালের আকাশে দেখলে এক নাম, সন্ধ্যার আকাশে দেখলে আরেক নাম ব্যবহার করত। পরে রোমান প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভেনাসের নাম থেকেই এর আধুনিক নামের প্রচলন হয়।
শুক্রকে দীর্ঘদিন “পৃথিবীর যমজ” বলা হয়েছে। কারণ আকার, ভর, ঘনত্ব এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সঙ্গে খুবই মিল রাখে। কিন্তু আধুনিক মহাকাশযান, রাডার পর্যবেক্ষণ এবং বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, বাহ্যিক মিল থাকলেও বাস্তবে শুক্র পৃথিবীর সম্পূর্ণ বিপরীত এক জগৎ। এটি অস্বাভাবিক গরম, অত্যন্ত চাপপূর্ণ, শুষ্ক, বিষাক্ত এবং বসবাসের জন্য প্রায় অকল্পনীয় রকম প্রতিকূল।
কেন শুক্রকে এত উজ্জ্বল দেখা যায়
শুক্র পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের কাছে, তাই এটি সবসময় সূর্যের কাছাকাছি আকাশেই অবস্থান করে। এর মানে, গভীর রাতের আকাশে শুক্রকে দেখা যায় না। শুধু ভোরের আগে বা সন্ধ্যার কিছু পর এটি দেখা যায়। কিন্তু সে সময় এটিই হয়ে ওঠে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্রহ। এর কারণ শুধু সূর্যের কাছাকাছি হওয়া নয়, বরং এর ঘন মেঘস্তর সূর্যের আলোয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রতিফলিত করে। ফলে শুক্র দূর থেকে যেন হলুদাভ সাদা এক দীপ্তিমান মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করে।
আকারে পৃথিবীর কাছাকাছি, কিন্তু পরিবেশে ভয়ংকর
শুক্রের গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,০৫১.৮ কিলোমিটার, যা পৃথিবীর প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর ভর পৃথিবীর প্রায় ৮১.৫ শতাংশ। ঘনত্বও পৃথিবীর কাছাকাছি। এ কারণে বহু বিজ্ঞানী মনে করেন, শুক্র ও পৃথিবী সম্ভবত একই ধরনের শিলা ও ধাতব উপাদান থেকে গঠিত হয়েছিল। পৃষ্ঠীয় মহাকর্ষও পৃথিবীর কাছাকাছি, অর্থাৎ কোনো মানুষ যদি শুক্রের মাটিতে দাঁড়াতে পারত, তবে সে পৃথিবীর ওজনের প্রায় ৯০ শতাংশের মতো ওজন অনুভব করত।
কিন্তু এই সাদৃশ্য এখানেই শেষ। শুক্রের বায়ুমণ্ডল মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভরা, যার পরিমাণ ৯৬ শতাংশেরও বেশি। সঙ্গে আছে নাইট্রোজেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, অল্প জলীয়বাষ্প এবং আরও কিছু গ্যাসের চিহ্ন। পৃষ্ঠে বায়ুচাপ পৃথিবীর প্রায় ৯৫ গুণ। অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রের প্রায় ১ কিলোমিটার গভীরে যে চাপ পাওয়া যায়, শুক্রের পৃষ্ঠে সেই ধরনের চাপ স্বাভাবিক।
শুক্রে তাপমাত্রা এত বেশি কেন
শুক্রের গড় পৃষ্ঠতল তাপমাত্রা প্রায় ৭৩৭ কেলভিন, অর্থাৎ প্রায় ৪৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এতটাই বেশি যে সীসা বা দস্তার মতো ধাতুও সেখানে গলে যেতে পারে। মজার বিষয় হলো, শুক্র সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ নয়, তবু সৌরজগতের সবচেয়ে গরম গ্রহ। এর কারণ হলো ভয়াবহ গ্রিনহাউস প্রভাব।
শুক্রের ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল এবং পুরু মেঘস্তর সূর্যের আলোকে ভেতরে ঢুকতে দিলেও তাপকে সহজে বাইরে বের হতে দেয় না। ফলে তাপ আটকে থেকে নিচের বায়ুমণ্ডল ও পৃষ্ঠকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করে। পৃথিবীতে গ্রিনহাউস গ্যাস জলবায়ুকে প্রভাবিত করে, কিন্তু শুক্রে এই প্রক্রিয়া এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্রের অধ্যয়ন পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও বড় শিক্ষা দিতে পারে।
মেঘ আছে, কিন্তু সেগুলো জীবনের নয়, অ্যাসিডের
শুক্রকে টেলিস্কোপে দেখলে মসৃণ, উজ্জ্বল ও প্রায় বৈশিষ্ট্যহীন মনে হয়। কারণ এর পুরো গ্রহটি পুরু মেঘে ঢাকা। এই মেঘ সাধারণ জলকণার নয়, বরং বেশিরভাগই ঘন সালফিউরিক অ্যাসিডের ক্ষুদ্র কণায় গঠিত। মেঘস্তর প্রায় ৪৮ কিলোমিটার থেকে ৬৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও ওপরে ও নিচেও আছে কুয়াশার স্তর।
এই মেঘগুলো স্থির নয়। অতিবেগুনি আলোতে এগুলোতে গাঢ় দাগ, সর্পিল নকশা এবং বিশাল ভি-আকৃতির ব্যান্ড দেখা যায়। শুক্রের মেঘস্তর মাত্র চার দিনে পুরো গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে ফেলে, যদিও গ্রহটির নিজস্ব ঘূর্ণন অত্যন্ত ধীর। এ ঘটনাকে বলা হয় “সুপাররোটেশন”, যা এখনো গ্রহবিজ্ঞানের বড় রহস্যগুলোর একটি।
শুক্রে দিন আর বছর, দুটোই অদ্ভুত
শুক্রের আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘূর্ণন। অধিকাংশ গ্রহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, কিন্তু শুক্র ঘোরে উল্টো দিকে। অর্থাৎ যদি কেউ শুক্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে সূর্য দেখতে পারত, তবে সে সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে উঠতে এবং পূর্ব দিকে অস্ত যেতে দেখত।
আরও অদ্ভুত হলো, শুক্র নিজের অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে সময় নেয় প্রায় ২৪৩ পৃথিবী দিন, কিন্তু সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ২২৪.৭ পৃথিবী দিন। অর্থাৎ শুক্রে একটি নাক্ষত্রিক দিন তার এক বছরের চেয়েও বড়। তবে সৌরদিনের হিসাবে সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় হয় প্রায় ১১৬.৮ পৃথিবী দিন।
বুধের মতো নয়, শুক্রে ঋতুও প্রায় নেই
শুক্রের অক্ষ ঝুঁকে আছে খুব সামান্য, প্রায় ৩ ডিগ্রি। ফলে পৃথিবীর মতো উল্লেখযোগ্য ঋতু পরিবর্তন সেখানে ঘটে না। অর্থাৎ গ্রীষ্ম, শীত, বসন্ত বা শরৎের মতো মৌসুমি রূপান্তর শুক্রে প্রায় অনুপস্থিত।
শুক্রে কোনো চাঁদ নেই
শুক্রের কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই। পৃথিবীর মতো বড় চাঁদও নেই, আবার মঙ্গলের মতো ছোট উপগ্রহও নেই। সৌরজগতের বড় গ্রহগুলোর মধ্যে শুক্র ও বুধই একমাত্র যাদের কোনো পরিচিত চাঁদ নেই।
শুক্রের পৃষ্ঠতল: আগ্নেয়গিরি, সমভূমি ও বিকৃত ভূখণ্ড
শুক্রের পৃষ্ঠ দীর্ঘদিন চোখের আড়ালে ছিল, কারণ ঘন মেঘস্তর দৃশ্যমান আলোকে বাধা দেয়। পরে রাডার মানচিত্রায়ন, বিশেষ করে ম্যাগেলান মহাকাশযানের তথ্য থেকে বোঝা যায়, এর পৃষ্ঠ অনেকাংশে আগ্নেয়গিরির লাভায় গঠিত বিশাল সমতলভূমি দিয়ে ঢাকা। কোথাও কোথাও আছে বিশাল উচ্চভূমি, পর্বতশ্রেণি, রিফট, করোনা, টেসেরা এবং ঢালু আগ্নেয়গিরি।
উত্তর গোলার্ধে ইশতার টেরা এবং নিরক্ষরেখার কাছে আফ্রোদিতি টেরা নামে মহাদেশ-আকৃতির দুই বিশাল উচ্চভূমি রয়েছে। ইশতার টেরার মধ্যে লাক্ষ্মী প্ল্যানাম নামে একটি উচ্চ মালভূমি আছে, যাকে কেউ কেউ পৃথিবীর তিব্বত মালভূমির সঙ্গে তুলনা করেন। এর পূর্ব পাশে রয়েছে ম্যাক্সওয়েল মন্টেস, যা শুক্রের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশ্রেণি।
শুক্রের বহু স্থানে আগ্নেয়গিরির প্রমাণও স্পষ্ট। ঢালু আগ্নেয়গিরি, লাভার দীর্ঘ সর্পিল খাল, ক্যালডেরা, ‘প্যানকেক ডোম’ নামে অদ্ভুত গোলাকার আগ্নেয়গঠন সবই সেখানে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্র অতীতে ব্যাপক আগ্নেয় ক্রিয়ায় সক্রিয় ছিল, এবং সম্ভবত এখনও কোথাও কোথাও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় রয়েছে।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ইঙ্গিতও মিলেছে
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার Venus Express মিশন এবং পরবর্তী গবেষণায় শুক্রে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইডের পরিমাণের হঠাৎ বৃদ্ধি, কিছু অঞ্চলে তাপীয় পরিবর্তন এবং ১৯৯১ সালের রাডার চিত্র তুলনা করে ২০২৩ সালে শনাক্ত কিছু পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে শক্তিশালী করেছে যে, শুক্র এখনও ভূতাত্ত্বিকভাবে পুরোপুরি মৃত নয়।
শুক্রে টেকটোনিক ক্রিয়া আছে, কিন্তু পৃথিবীর মতো প্লেট টেকটোনিক্স নেই
পৃথিবীর ভূত্বকে প্লেট টেকটোনিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুক্রে এখনো সেই ধরনের প্লেট টেকটোনিক্সের স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। সেখানে ভূমির বিকৃতি, রিফট, পর্বতবেল্ট, করোনা এবং টেসেরা থাকলেও সেগুলো প্রধানত উল্লম্বভাবে ম্যান্টলের ওঠানামা, উত্তোলন ও নিমজ্জনের প্রভাব বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্রের উচ্চ তাপমাত্রা তার লিথোস্ফিয়ারকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে, পৃথিবীর মতো সাবডাকশন প্রক্রিয়া সহজে গড়ে ওঠেনি।
তবে শুক্রের পৃষ্ঠে গহ্বরের বণ্টন দেখে অনেকে ধারণা করেন, তুলনামূলক অল্প সময় আগে পুরো গ্রহ জুড়ে বড় ধরনের “resurfacing” বা নতুন করে পৃষ্ঠ গঠন হয়েছে। অর্থাৎ অনেক পুরোনো ভূখণ্ড একসময় লাভা ও ভূতাত্ত্বিক ক্রিয়ায় ঢাকা পড়ে নতুন চেহারা পেয়েছে।
শুক্রে উল্কাপাতের চিহ্নও আছে, কিন্তু ছোট গর্ত নেই কেন
শুক্রের পৃষ্ঠে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি বহু গহ্বর আছে। কিন্তু ছোট আকারের গহ্বর প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ শুক্রের অত্যন্ত ঘন বায়ুমণ্ডল ছোট উল্কাখণ্ডকে পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে ফেলে বা পুড়িয়ে দেয়। ফলে কেবল তুলনামূলক বড় উল্কাপিণ্ডই মাটিতে আঘাত করতে পারে। এ কারণে শুক্রের ছোট ক্রেটারের সংখ্যা খুব কম।
শুক্রে চৌম্বক ক্ষেত্র নেই বললেই চলে
পৃথিবীর মতো শুক্রের নিজস্ব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নেই। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলেন: খুব ধীর ঘূর্ণন, কোরে যথেষ্ট গতিশীল তরল প্রবাহের অনুপস্থিতি, অথবা কোরের ভিন্ন অবস্থা। ফলে সূর্যবায়ুর সঙ্গে শুক্রের বায়ুমণ্ডলের সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বেশি হয়।
এই মিথস্ক্রিয়ার কারণে শুক্র ধীরে ধীরে তার উপরের বায়ুমণ্ডল থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন হারিয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, শুক্রে একসময় বেশি পানি থাকতে পারে, কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি বায়ুমণ্ডল ক্ষয়ের প্রক্রিয়ায় তা হারিয়ে গেছে।
শুক্রে কি একসময় পানি ছিল
শুক্র বর্তমানে শুষ্ক, দহনজ্বলা, জলহীন এক গ্রহ। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সবসময় কি এমনই ছিল? কিছু বৈজ্ঞানিক মডেল ইঙ্গিত দেয় যে, অতীতে শুক্রে তরল পানি থাকতে পারে। যদি তা সত্যি হয়, তবে পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস প্রভাব, বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং সৌরবায়ুর কারণে সেই পানি উবে গিয়ে মহাকাশে হারিয়ে গেছে। এ প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর এখনও মেলেনি, তবে এটাই শুক্র গবেষণার সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।
শুক্র গবেষণায় মহাকাশযানের দীর্ঘ ইতিহাস
শুক্র ছিল অন্য কোনো গ্রহের মধ্যে প্রথম যাকে কাছ থেকে মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ করে। ১৯৬২ সালে Mariner 2 প্রথম সফলভাবে শুক্রের পাশ দিয়ে উড়ে তথ্য পাঠায়। পরে Mariner 5, Mariner 10, Pioneer Venus, সোভিয়েত Venera মিশন, Vega মিশন, Galileo, Magellan, Cassini, Venus Express এবং Akatsuki শুক্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়িয়েছে।
বিশেষভাবে সোভিয়েত Venera মিশনগুলো প্রথম শুক্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে ছবি পাঠায়। ১৯৮২ সালে Venera 13 যে রঙিন ছবি পাঠিয়েছিল, তাতে দেখা যায় পাথুরে, সমতল, হলুদ-কমলা আলোয় ভরা এক ভিন্ন জগৎ। অন্যদিকে Magellan মিশন পুরো গ্রহের প্রায় ৯৮ শতাংশ পৃষ্ঠ উচ্চ রেজোলিউশনে রাডারে মানচিত্রায়ন করে শুক্র গবেষণায় বিপ্লব ঘটায়।
সামনে আসছে নতুন মিশন
শুক্র নিয়ে আগ্রহ আবারও দ্রুত বাড়ছে। আগামী দশকগুলোতে একাধিক নতুন মিশন পরিকল্পিত। ভারতের শুক্রযান, নাসার DAVINCI ও VERITAS, ইউরোপের EnVision মিশন, এমনকি ভবিষ্যতে শুক্রের ওপরের বায়ুমণ্ডলে মানুষের জন্য এয়ারশিপ-ভিত্তিক অনুসন্ধান ধারণাও আলোচনা হচ্ছে। কারণ, প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় শুক্রের বায়ুমণ্ডলে চাপ ও তাপমাত্রা পৃথিবীর কাছাকাছি, যা গবেষণার জন্য আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
কেন শুক্র গবেষণা এত গুরুত্বপূর্ণ
শুক্রকে শুধু একটি গ্রহ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ, জলবায়ু বিপর্যয় এবং গ্রহের বিবর্তন বোঝার এক জীবন্ত ল্যাবরেটরি। একই ধরনের আকার ও উপাদান থেকে গঠিত দুটি গ্রহ কীভাবে এত ভিন্ন পথে গেল, সেই প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের গভীরভাবে ভাবায়। পৃথিবী যদি কখনও অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস প্রভাবের দিকে এগোয়, তবে শুক্র তার ভয়াবহ উদাহরণ।
সব মিলিয়ে শুক্র একদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের তুলনামূলক বড় গ্রহ, অন্যদিকে সবচেয়ে প্রতিকূল এবং রহস্যময় শিলা গ্রহগুলোর একটি। এর উজ্জ্বল মুখচ্ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে আগুনঝরা পৃষ্ঠ, অ্যাসিডের মেঘ, দমবন্ধ করা চাপ, ধীর উল্টো ঘূর্ণন এবং এক হারিয়ে যাওয়া সম্ভাব্য অতীতের গল্প। তাই শুক্রকে যত বেশি জানা যাবে, ততই বোঝা যাবে শুধু আরেকটি গ্রহ নয়, বরং আমাদের নিজের পৃথিবীকেও।
সূত্র: ব্রিটানিকা
সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন, কফি তৈরি কিংবা ককটেল বানানোর মতো সেবামূলক কাজে রোবটের ব্যবহার এখন আর নতুন কোনো দৃশ্য নয়। তবে কাজের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় এসব যন্ত্র এখন গ্রাহকের কাছে ‘টিপস’ বা বকশিশও দাবি করছে। যন্ত্রের এমন আর্থিক দাবি নতুন এক নৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—রোবটকে দেওয়া সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত কার পকেটে যাচ্ছে? বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লাস ভেগাসের একটি স্বয়ংক্রিয় বারে রোবটের তৈরি ১৭ ডলারের ককটেলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ১০ শতাংশ ‘সার্ভিস ফি’ যুক্ত করা হচ্ছে, নিউইয়র্কের রোবট কফি শপে ডিজিটাল টিপ দেওয়ার অপশন রাখা হয়েছে এবং এমনকি নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরের সম্পূর্ণ কর্মীহীন কিয়স্কেও পানীয় কেনার সময় টিপস দেওয়ার প্রস্তাব ভেসে উঠছে স্ক্রিনে।
সাধারণত কোনো মানবকর্মীর ভালো সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে বা তাঁর বাড়তি আয়ের সুবিধার্থে মানুষ স্বেচ্ছায় বকশিশ দিয়ে থাকে। তবে রোবটের ক্ষেত্রে সেই টাকা কার হাতে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে চরম অস্বচ্ছতা। বিশ্লেষকদের মতে, রোবটের জন্য নেওয়া টিপসের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়নি।
ফলে গ্রাহকের দেওয়া এই অর্থ কোথাও প্রতিষ্ঠানের সাধারণ মানবকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে জমা হচ্ছে। লেহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হলোনা ওকস উল্লেখ করেছেন, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান রোবটকে সামনে রেখে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া টিপস নিজেদের তহবিলে রেখে দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে, যদিও বিষয়টি প্রমাণের পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ মানবকর্মীদের মাঝে বণ্টন করার কথা জানিয়েছে এবং গ্রাহকদের অসন্তোষের মুখে কেউ কেউ রোবট থেকে টিপসের অপশন পুরোপুরি সরিয়েও নিয়েছে।
সেবা খাতে রোবটের ব্যবহারকারীরা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, কর্মীসংকটের সময়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে মানবকর্মীরা টেবিল সার্ভিস বা অন্যান্য জটিল কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। তবে সমালোচকদের দাবি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আড়ালে একদিকে যেমন কর্মীদের বিকল্প হিসেবে যন্ত্র বসিয়ে কর্মসংস্থান কমানো হচ্ছে, অন্যদিকে কম মজুরির চাপ তৈরি হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ রোবট বারটেন্ডারকে টিপ দিতে আগ্রহী, তবে সেই অর্থ কোনো মানবকর্মীর কাছে যাবে—এমন নিশ্চয়তা পেলে প্রায় ৪২ শতাংশ গ্রাহক টিপস দিতে রাজি হন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা, সেবার স্বীকৃতি কিংবা সহানুভূতি—যেসব মনস্তাত্ত্বিক কারণে মানুষ সচরাচর বকশিশ দেয়, যন্ত্রের ক্ষেত্রে তার কোনোটিই পুরোপুরি খাটে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে সেবা খাতে এমন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হয়তো আরও বাড়বে, তবে স্ক্রিনে ভেসে ওঠা টিপসের বিকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। ফলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবট অর্থ চাইলেও মূল বিতর্কটি থেকেই যাচ্ছে—এই বাড়তি অর্থের সুফল কার কাছে পৌঁছাচ্ছে, যন্ত্রের পেছনে থাকা কর্মীদের কাছে, নাকি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কাছে?
/আশিক
বহু প্রতীক্ষিত উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হচ্ছে অ্যাপল, রয়েছে বড় চমক
আসন্ন ৯ সেপ্টেম্বর নতুন প্রজন্মের আইফোনসহ একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য উন্মোচনের লক্ষ্যে বিশেষ এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ‘অ্যাপল পার্ক’-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশেষ আয়োজনের মূল ভাব বা ট্যাগলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এবারের আয়োজনটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে নেতৃত্বের পরিবর্তনের কারণে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়, অর্থাৎ ২০১১ সাল থেকে সফলভাবে অ্যাপলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস। ফলে তাঁর নেতৃত্বে প্রধান হিসেবে অ্যাপলের নতুন কোনো প্রযুক্তিপণ্য উন্মোচনের এটিই হবে সর্বপ্রথম বৈশ্বিক মঞ্চ।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে মূলত আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেল দুটি আত্মপ্রকাশ করতে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নতুন এই দুটি সংস্করণে বড় কোনো আকস্মিক পরিবর্তন না এনে পূর্ববর্তী ফিচারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত আইফোন ১৮ মডেলটি এবার নাও দেখা যেতে পারে; বরং আগামী বছরের কোনো এক সময়ে তা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বহুল আলোচিত ফোল্ডেবল আইফোন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান স্যামসাংসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে, যেখানে অ্যাপল এখনো পর্যন্ত প্রথাগত কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে অ্যাপল যদি সত্যিই ভাঁজযোগ্য ফোনের ঘোষণা দেয়, তবে তা হবে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল বিস্ময়।
স্মার্টফোনের পাশাপাশি আয়োজনে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং নতুন সংস্করণের অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা প্রদর্শনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্মার্ট-হোম প্রযুক্তির আওতায় কয়েকটি নতুন গৃহস্থালি গ্যাজেটও উন্মোচিত হতে পারে। এছাড়া আইওএস ২৭, আইপ্যাডওএস ২৭ এবং ম্যাকওএস গোল্ডেন গেট-এর মতো পরবর্তী প্রজন্মের সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেমগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য কবে উন্মুক্ত করা হবে, সেই আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণও একই মঞ্চ থেকে জানানো হতে পারে। নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব, ভাঁজযোগ্য প্রযুক্তি এবং পরবর্তী প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেমের যুগপৎ মেলবন্ধনে ৯ সেপ্টেম্বরের এই ইভেন্টটি অ্যাপলের ইতিহাসে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।
/আশিক
১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
মানুষের শারীরিক গতির সক্ষমতাকে রোবট ছাড়িয়ে যেতে পারে কি না, সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে চীনের তৈরি মানবসদৃশ রোবট ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’। বেইজিংয়ে চলমান ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এর লার্জ-সাইজ ক্যাটাগরির সেমিফাইনালে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ৮.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিস্ময়কর এক নতুন রেকর্ড গড়েছে এটি।
এর মাধ্যমে উদ্বোধনী দিনে নিজের গড়া ৯.৩৯ সেকেন্ডের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি রোবটটি কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের ২০০৯ সালের মানব বিশ্বরেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ডকেও ০.৭২ সেকেন্ডের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।
বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের উদ্ভাবিত তিয়ানগং আল্ট্রার এমন গতি আসরটির প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৬৬৬টি দলের দুই সহস্রাধিক রোবট ফুটবল, নৃত্য এবং শিল্প কারখানার কাজসহ মোট ৫১টি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তবে দ্রুততম মানবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এই ঐতিহাসিক দৌড় শেষেই ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। ফিনিশ লাইন অতিক্রমের পর অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রোবটটি সামনে থাকা একটি পুরু ম্যাটে সজোরে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং এর ভেতরের অংশে আগুন ধরে যায়। এমনকি অন্য একটি সেমিফাইনাল হিটে অংশ নেওয়া আরেকটি রোবট দৌড়ের মাঝপথেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর আগে আসরের উদ্বোধনী দিনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দৌড় উপহার দেয় তিয়ানগং। শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের গতিতে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের রোবট ‘লাইটনিং’কে পরাস্ত করে এটি। ওই হিটে লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ড সময় নেয়, যা বোল্টের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও কম; যদিও এর আগের একটি ট্রায়ালে লাইটনিংয়ের টাইমিং ছিল ৯.৩২ সেকেন্ড।
তিয়ানগংয়ের উন্নতির গ্রাফটি অত্যন্ত লক্ষণীয়, কারণ গত বছর প্রথম আসরে একই ইভেন্টে এটি সময় নিয়েছিল ২১.৫০ সেকেন্ড এবং হিউম্যানয়েড হাফ-ম্যারাথনে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় নিয়ে শীর্ষস্থান পেয়েছিল। এছাড়া ১০০ মিটারের বাইরে ৪০০ মিটারে ৩৮.১৫ সেকেন্ড, ১৫০০ মিটারে ২ মিনিট ২১.৬৪ সেকেন্ড এবং হাইজাম্পে ২.৮৮ মিটারের মতো মানুষের একাধিক বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি রয়েছে এর ঝুলিতে।
চীনের কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল, ক্লাউড জায়ান্ট বাইদু এবং শাওমির রোবটিক্স ইউনিটের যৌথ অংশীদারিত্বে এই উদ্ভাবনী কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটর এবং আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়ে এমন হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করে দেশের উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও সেবা খাতে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই চীনের মূল লক্ষ্য। এই প্রযুক্তি খাতকে বেইজিং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও কৌশলগত শিল্প হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
তথ্য সূত্র : এনবিসি নিউজ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, দাপ্তরিক কাজ, তথ্য অনুসন্ধান কিংবা নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে এটি নিয়মিত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে দৈনন্দিন জীবনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহার নানা ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতাও তৈরি করছে। বিশেষ করে কিছু অতি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অন্ধ নির্ভরতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। এমন অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা প্রয়োজন।
শারীরিক অসুস্থতা বা রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কখনোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গের ভিত্তিতে এআই হয়তো কিছু প্রাথমিক তথ্য দিতে পারে, তবে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সর্বদা পেশাদার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। একইভাবে মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর কোনো সমস্যায় এআইয়ের ওপর নির্ভর করা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে; এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সরাসরি সহায়তা নেওয়া আবশ্যক।
অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো তাৎক্ষণিক জরুরি মুহূর্তে এআইয়ের কাছে সমাধান না খুঁজে স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী সেবা ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ, ঋণ গ্রহণ, আয়কর পরিশোধ কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়ে এআইয়ের হিসাব বা মতামতকে চূড়ান্ত ধরা অনুচিত। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সনদপ্রাপ্ত অর্থনীতি বা অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সুরক্ষার স্বার্থে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, পরিচয়পত্র কিংবা অফিসের অতি গোপনীয় নথি কখনোই এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ঠিক নয়। পাশাপাশি যেকোনো প্রকার বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ছক আঁকা কিংবা বাস্তবায়নে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়, কেননা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শিক্ষা ক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতায় এআইয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করা উত্তর নিজের নামে জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন। অন্যদিকে চলমান তাৎক্ষণিক ঘটনা বা ব্রেকিং নিউজের ক্ষেত্রে এআইয়ের তথ্যের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যাবে না; এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য মূলধারার নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও প্রকৃত উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
অনেকেই জুয়ায় নিশ্চিত জয়ের উপায় জানতে এআইয়ের দ্বারস্থ হন, যা একেবারেই অর্থহীন এবং এর ওপর ভিত্তি করে বাজি ধরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া উইল বা সম্পত্তির বণ্টননামা এবং চুক্তিপত্রের মতো সংবেদনশীল ও আইনগত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরিতে এআইয়ের খসড়া সরাসরি ব্যবহার করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে দেশের প্রচলিত আইনের জটিল ফাঁকফোকর থেকে যেতে পারে। সর্বশেষ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি করা মারাত্মক আইনি অপরাধ ও অনৈতিক কাজ, যা বিশেষ করে পরিচিত মুখ বা তারকাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংবেদনশীল।
সার্বিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে একটি কার্যকরী ও শক্তিশালী সহায়ক মাধ্যম, কিন্তু এটি কখনোই অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আইনজীবী, আর্থিক বিশ্লেষক বা মানুষের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার বিকল্প হতে পারে না। তাই সংবেদনশীল প্রতিটি পদক্ষেপে তথ্য যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
/আশিক
ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে ‘ম্যাডর্যাক্স’ নামে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি দেশের চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের তথ্য তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিডিজবস।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ‘ম্যাডর্যাক্স’ পরিচয়ধারী গোষ্ঠীটি। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, এসব তথ্য বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
হ্যাকার গোষ্ঠীটির পোস্ট অনুযায়ী, এসব সিভির একটি কপির জন্য দাম চাওয়া হয়েছে এক হাজার মার্কিন ডলার। সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে তথ্যগুলো বিক্রি করা হবে বলেও বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে পেটিএম, ওয়াইজ, পেইউ এবং বাইন্যান্সের নাম দেওয়া হয়েছে।
নিজেদের দাবির পক্ষে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। প্রকাশিত এসব সিভি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ নথিই পুরোনো। বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সর্বশেষ হালনাগাদ করা সিভির সংখ্যা বেশি।
প্রকাশিত ১৪৮টি সিভির মধ্যে দুজনের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেছেন। তারা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে তারা বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করেছিলেন।
সম্ভাব্য এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, একজন ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবনের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া গেলে তার বিস্তারিত ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ চালানো সম্ভব। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের এমন সম্ভাব্য ফাঁসকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে ফাঁস হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিডিজবস। তথ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল কারা দেখতে পারবেন এবং কারা পারবেন না, সে বিষয়েও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।
ফাহিম মাশরুর জানান, বিডিজবসে নিবন্ধিত লক্ষাধিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে। তবে এসব তথ্য কেবল নিজেদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে তাদের।
তিনি আরও বলেন, কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করলে এবং বিষয়টি বিডিজবসের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ‘গ্রাউন্ড মাস্টার ৪০০’ (Ground Master 403M) রাডার এবং নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। রবিবার (২৩ আগস্ট) দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রকাশিত বার্তায় উল্লেখ করা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থার ফলে ঢাকা-কেন্দ্রিক প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরীয় আকাশসীমায় সর্বোচ্চ ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়োজাহাজের অবস্থান রিয়েল-টাইমে অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নতুন এই রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের আকাশসীমা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও আধুনিক রূপ পাবে। একই সঙ্গে আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জোরদার হবে।
উন্নত এই প্রযুক্তির সুবাদে আকাশসীমায় চলাচলকারী যেকোনো উড়োজাহাজের গতিবিধি ও অবস্থান মুহূর্তেই সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে বলেও দলটির ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে।
তবে নতুন রাডারটি ঠিক কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পের বিস্তারিত কারিগরি রূপরেখা সম্পর্কে বিএনপির ওই বার্তায় বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
/আশিক
ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য পাবলিক ভিউ গণনার নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন আসছে। প্ল্যাটফর্মটিতে এখন থেকে কোনো ভিডিও চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা একটি ভিউ হিসেবে গণনা করা হবে। আগামী ২৪ আগস্ট থেকে ভিডিও ও সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ ভিডিওর ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে বুধবার অফিশিয়াল ব্লগ পোস্টে নিশ্চিত করেছে ইউটিউব।
পূর্বে কোনো ভিডিওর ক্ষেত্রে ভিউ গণনার জন্য দর্শককে অন্তত ৩০ সেকেন্ড সেটি চালু রাখতে হতো। নতুন নিয়মে ভিডিওর প্রথম ফ্রেম চালু হওয়ামাত্রই ভিউ যুক্ত হবে। এর ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রকাশিত ভিডিওতে সামগ্রিক ভিউ সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়লেও শুধু এই সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভিডিওর প্রকৃত দর্শকপ্রিয়তা বা আকর্ষণ যাচাই করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
ইউটিউবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভিডিওর জন্য ভিউ গণনার আলাদা পদ্ধতি থাকায় নির্মাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল। দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার সব ফরম্যাটকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় এনে বিভ্রান্তি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর শর্টস ভিডিওর ক্ষেত্রেও চালু হওয়ামাত্র ভিউ গণনার এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
তবে ভিডিওর পুরনো পরিমাপ ব্যবস্থা একেবারে বাতিল করা হচ্ছে না। নির্মাতারা তাঁদের ইউটিউব অ্যানালিটিকসে ‘এনগেজড ভিউস’ অপশনের মাধ্যমে ভিডিও চালুর সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে দর্শকরা কতক্ষণ দেখেছেন—এ দুটি তথ্যই আলাদাভাবে দেখতে পাবেন।
নতুন এই নিয়মের কারণে নির্মাতাদের আয় কিংবা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের নীতিমালায় কোনো প্রভাব পড়বে না। ইউটিউব স্পষ্ট করেছে যে পাবলিক ভিউ বেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে কনটেন্ট নির্মাতার আয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শর্টসের আয়ের জন্য ‘এনগেজড শর্টস ভিউস’ এবং সাধারণ ভিডিওর ক্ষেত্রে ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার্স’ আগের মতোই মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, প্ল্যাটফর্মটিতে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়ের যোগ্যতা অর্জনে ওয়াচ আওয়ার ও শর্টস ভিউয়ের শর্ত ২০২৭ সাল থেকে আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউটিউব।
/আশিক
চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ
স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘সাইবারক্যাব’ চালকহীন বাণিজ্যিক পরিষেবায় যুক্ত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদন ও টেসলার রোবোট্যাক্সি বিভাগের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে দুই আসনবিশিষ্ট এই রোবোট্যাক্সির যাত্রা শুরু হতে পারে।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি টেসলার নিজস্ব কর্মীদের ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে এবং পরবর্তীতে তা অস্টিনের মূল রোবোট্যাক্সি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় যাত্রী পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই সাইবারক্যাব প্রচলিত গাড়ির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল বা প্যাডেল নেই এবং পুরো চলাচল ব্যবস্থাটি টেসলার উন্নত ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে ফ্লোরিডার মায়ামি, অরল্যান্ডো ও ট্যাম্পা এবং টেক্সাসের অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনে টেসলা তাদের ‘মডেল ওয়াই’ গাড়ি দিয়ে সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি সেবা পরিচালনা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাইবারক্যাবের সংযোজন স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন খাতে একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বাণিজ্যিকভাবে সাইবারক্যাব চালু করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি অনুমোদন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্টিয়ারিং হুইল ছাড়া গাড়ি দিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রীসেবা পরিচালনার সাধারণ অনুমতি নেই, যার জন্য বিশেষ সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের পরিকল্পনায় থাকা এই বিশেষ যানটির আইনি বাধা দূর করে সফল পরিচালনা টেসলার সার্বিক স্বায়ত্তশাসিত পরিবহন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: ম্যাশেবল
দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য পরিচিত মিশরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর ২০২৭ সালের ২ আগস্ট সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ ও বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, ওই দিন পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হবে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড—যা ২১১৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর আকাশে দেখা যাওয়া দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে স্পেন, জিব্রাল্টার, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে শেষ হবে। প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই পথের মধ্যে কাডিজ, ট্যাঙ্গিয়ার, বেনগাজি এবং জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো থাকলেও নীল নদের তীরে অবস্থিত কিংস ও কুইন্স ভ্যালির কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে লুক্সর।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ছয় মিনিটের দীর্ঘ অন্ধকারের কারণে দুপুরের আকাশে খালি চোখে বিভিন্ন উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আগস্ট মাসে লুক্সরের আকাশ মেঘমুক্ত থাকা পর্যবেক্ষণের জন্য দারুণ সুযোগ হলেও মরুভূমির ধুলা ও ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ক্যামেরা ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
লুক্সরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যাবে। এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের বিপুল চাপ তৈরি হওয়ায় সেখানকার অধিকাংশ হোটেল এরই মধ্যে বুক হয়ে গেছে। এদিকে রাজধানী কায়রোতে সূর্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ ঢাকা পড়বে। এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে মিশরের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকস তাদের কোটামিয়া অবজারভেটরির ৫০ টনের টেলিস্কোপ প্রস্তুত রাখাসহ ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
- নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
- রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
- ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- নতুন মৌসুমে স্থায়ী ঠিকানায় ফিরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা
- দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
- বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে স্থানীয় জুয়েলারি খাতে বড় পরিবর্তন
- বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরো মুসলিম উম্মাহর শত্রু: মোজতবা খামেনি
- ভাষা পরীক্ষা ছাড়াই কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ই-৭-৪ ভিসা পাওয়ার সুযোগ
- নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল ট্রাম্পের মুখের ছাপযুক্ত বিপজ্জনক বড়ি
- ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা
- নেপালে বন্যায় ৬৬৯ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ
- ছয় মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, লোডশেডিং ও বেকারত্ব বাড়ছে: চরমোনাই পীর
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
- মাঠে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
- বহু প্রতীক্ষিত উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হচ্ছে অ্যাপল, রয়েছে বড় চমক
- রয়্যাল রিসোর্টে আমাকে হত্যার নীলনকশা করেছিল আওয়ামী লীগ: মামুনুল হক
- মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের
- রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
- নেপালে ১০ কর্মীকে উদ্ধারের পর নিখোঁজ বাকি ৯ জনের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য চূড়ান্ত হচ্ছে নতুন আর্থিক রূপরেখা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী








