শুক্র গ্রহ: সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় উজ্জ্বল গ্রহ

সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ শুক্র বহু শতাব্দী ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্র। আকাশে সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পরে যখন এটি দেখা দেয়, তখন অন্য সব গ্রহের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল বলে সহজেই নজর কাড়ে। এতটাই দীপ্তিমান যে প্রাচীন সভ্যতাগুলো এটিকে কখনও সকালের তারা, কখনও সন্ধ্যার তারা হিসেবে আলাদা নামেও চিনত। ব্যাবিলনীয়রা একে দেবী ইশতারের সঙ্গে মিলিয়েছিল, গ্রিকরা সকালের আকাশে দেখলে এক নাম, সন্ধ্যার আকাশে দেখলে আরেক নাম ব্যবহার করত। পরে রোমান প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভেনাসের নাম থেকেই এর আধুনিক নামের প্রচলন হয়।
শুক্রকে দীর্ঘদিন “পৃথিবীর যমজ” বলা হয়েছে। কারণ আকার, ভর, ঘনত্ব এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সঙ্গে খুবই মিল রাখে। কিন্তু আধুনিক মহাকাশযান, রাডার পর্যবেক্ষণ এবং বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, বাহ্যিক মিল থাকলেও বাস্তবে শুক্র পৃথিবীর সম্পূর্ণ বিপরীত এক জগৎ। এটি অস্বাভাবিক গরম, অত্যন্ত চাপপূর্ণ, শুষ্ক, বিষাক্ত এবং বসবাসের জন্য প্রায় অকল্পনীয় রকম প্রতিকূল।
কেন শুক্রকে এত উজ্জ্বল দেখা যায়
শুক্র পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের কাছে, তাই এটি সবসময় সূর্যের কাছাকাছি আকাশেই অবস্থান করে। এর মানে, গভীর রাতের আকাশে শুক্রকে দেখা যায় না। শুধু ভোরের আগে বা সন্ধ্যার কিছু পর এটি দেখা যায়। কিন্তু সে সময় এটিই হয়ে ওঠে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্রহ। এর কারণ শুধু সূর্যের কাছাকাছি হওয়া নয়, বরং এর ঘন মেঘস্তর সূর্যের আলোয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রতিফলিত করে। ফলে শুক্র দূর থেকে যেন হলুদাভ সাদা এক দীপ্তিমান মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করে।
আকারে পৃথিবীর কাছাকাছি, কিন্তু পরিবেশে ভয়ংকর
শুক্রের গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,০৫১.৮ কিলোমিটার, যা পৃথিবীর প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর ভর পৃথিবীর প্রায় ৮১.৫ শতাংশ। ঘনত্বও পৃথিবীর কাছাকাছি। এ কারণে বহু বিজ্ঞানী মনে করেন, শুক্র ও পৃথিবী সম্ভবত একই ধরনের শিলা ও ধাতব উপাদান থেকে গঠিত হয়েছিল। পৃষ্ঠীয় মহাকর্ষও পৃথিবীর কাছাকাছি, অর্থাৎ কোনো মানুষ যদি শুক্রের মাটিতে দাঁড়াতে পারত, তবে সে পৃথিবীর ওজনের প্রায় ৯০ শতাংশের মতো ওজন অনুভব করত।
কিন্তু এই সাদৃশ্য এখানেই শেষ। শুক্রের বায়ুমণ্ডল মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভরা, যার পরিমাণ ৯৬ শতাংশেরও বেশি। সঙ্গে আছে নাইট্রোজেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, অল্প জলীয়বাষ্প এবং আরও কিছু গ্যাসের চিহ্ন। পৃষ্ঠে বায়ুচাপ পৃথিবীর প্রায় ৯৫ গুণ। অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রের প্রায় ১ কিলোমিটার গভীরে যে চাপ পাওয়া যায়, শুক্রের পৃষ্ঠে সেই ধরনের চাপ স্বাভাবিক।
শুক্রে তাপমাত্রা এত বেশি কেন
শুক্রের গড় পৃষ্ঠতল তাপমাত্রা প্রায় ৭৩৭ কেলভিন, অর্থাৎ প্রায় ৪৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এতটাই বেশি যে সীসা বা দস্তার মতো ধাতুও সেখানে গলে যেতে পারে। মজার বিষয় হলো, শুক্র সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ নয়, তবু সৌরজগতের সবচেয়ে গরম গ্রহ। এর কারণ হলো ভয়াবহ গ্রিনহাউস প্রভাব।
শুক্রের ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল এবং পুরু মেঘস্তর সূর্যের আলোকে ভেতরে ঢুকতে দিলেও তাপকে সহজে বাইরে বের হতে দেয় না। ফলে তাপ আটকে থেকে নিচের বায়ুমণ্ডল ও পৃষ্ঠকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করে। পৃথিবীতে গ্রিনহাউস গ্যাস জলবায়ুকে প্রভাবিত করে, কিন্তু শুক্রে এই প্রক্রিয়া এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্রের অধ্যয়ন পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও বড় শিক্ষা দিতে পারে।
মেঘ আছে, কিন্তু সেগুলো জীবনের নয়, অ্যাসিডের
শুক্রকে টেলিস্কোপে দেখলে মসৃণ, উজ্জ্বল ও প্রায় বৈশিষ্ট্যহীন মনে হয়। কারণ এর পুরো গ্রহটি পুরু মেঘে ঢাকা। এই মেঘ সাধারণ জলকণার নয়, বরং বেশিরভাগই ঘন সালফিউরিক অ্যাসিডের ক্ষুদ্র কণায় গঠিত। মেঘস্তর প্রায় ৪৮ কিলোমিটার থেকে ৬৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরও ওপরে ও নিচেও আছে কুয়াশার স্তর।
এই মেঘগুলো স্থির নয়। অতিবেগুনি আলোতে এগুলোতে গাঢ় দাগ, সর্পিল নকশা এবং বিশাল ভি-আকৃতির ব্যান্ড দেখা যায়। শুক্রের মেঘস্তর মাত্র চার দিনে পুরো গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে ফেলে, যদিও গ্রহটির নিজস্ব ঘূর্ণন অত্যন্ত ধীর। এ ঘটনাকে বলা হয় “সুপাররোটেশন”, যা এখনো গ্রহবিজ্ঞানের বড় রহস্যগুলোর একটি।
শুক্রে দিন আর বছর, দুটোই অদ্ভুত
শুক্রের আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘূর্ণন। অধিকাংশ গ্রহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, কিন্তু শুক্র ঘোরে উল্টো দিকে। অর্থাৎ যদি কেউ শুক্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে সূর্য দেখতে পারত, তবে সে সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে উঠতে এবং পূর্ব দিকে অস্ত যেতে দেখত।
আরও অদ্ভুত হলো, শুক্র নিজের অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে সময় নেয় প্রায় ২৪৩ পৃথিবী দিন, কিন্তু সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ২২৪.৭ পৃথিবী দিন। অর্থাৎ শুক্রে একটি নাক্ষত্রিক দিন তার এক বছরের চেয়েও বড়। তবে সৌরদিনের হিসাবে সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় হয় প্রায় ১১৬.৮ পৃথিবী দিন।
বুধের মতো নয়, শুক্রে ঋতুও প্রায় নেই
শুক্রের অক্ষ ঝুঁকে আছে খুব সামান্য, প্রায় ৩ ডিগ্রি। ফলে পৃথিবীর মতো উল্লেখযোগ্য ঋতু পরিবর্তন সেখানে ঘটে না। অর্থাৎ গ্রীষ্ম, শীত, বসন্ত বা শরৎের মতো মৌসুমি রূপান্তর শুক্রে প্রায় অনুপস্থিত।
শুক্রে কোনো চাঁদ নেই
শুক্রের কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই। পৃথিবীর মতো বড় চাঁদও নেই, আবার মঙ্গলের মতো ছোট উপগ্রহও নেই। সৌরজগতের বড় গ্রহগুলোর মধ্যে শুক্র ও বুধই একমাত্র যাদের কোনো পরিচিত চাঁদ নেই।
শুক্রের পৃষ্ঠতল: আগ্নেয়গিরি, সমভূমি ও বিকৃত ভূখণ্ড
শুক্রের পৃষ্ঠ দীর্ঘদিন চোখের আড়ালে ছিল, কারণ ঘন মেঘস্তর দৃশ্যমান আলোকে বাধা দেয়। পরে রাডার মানচিত্রায়ন, বিশেষ করে ম্যাগেলান মহাকাশযানের তথ্য থেকে বোঝা যায়, এর পৃষ্ঠ অনেকাংশে আগ্নেয়গিরির লাভায় গঠিত বিশাল সমতলভূমি দিয়ে ঢাকা। কোথাও কোথাও আছে বিশাল উচ্চভূমি, পর্বতশ্রেণি, রিফট, করোনা, টেসেরা এবং ঢালু আগ্নেয়গিরি।
উত্তর গোলার্ধে ইশতার টেরা এবং নিরক্ষরেখার কাছে আফ্রোদিতি টেরা নামে মহাদেশ-আকৃতির দুই বিশাল উচ্চভূমি রয়েছে। ইশতার টেরার মধ্যে লাক্ষ্মী প্ল্যানাম নামে একটি উচ্চ মালভূমি আছে, যাকে কেউ কেউ পৃথিবীর তিব্বত মালভূমির সঙ্গে তুলনা করেন। এর পূর্ব পাশে রয়েছে ম্যাক্সওয়েল মন্টেস, যা শুক্রের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশ্রেণি।
শুক্রের বহু স্থানে আগ্নেয়গিরির প্রমাণও স্পষ্ট। ঢালু আগ্নেয়গিরি, লাভার দীর্ঘ সর্পিল খাল, ক্যালডেরা, ‘প্যানকেক ডোম’ নামে অদ্ভুত গোলাকার আগ্নেয়গঠন সবই সেখানে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্র অতীতে ব্যাপক আগ্নেয় ক্রিয়ায় সক্রিয় ছিল, এবং সম্ভবত এখনও কোথাও কোথাও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় রয়েছে।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ইঙ্গিতও মিলেছে
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার Venus Express মিশন এবং পরবর্তী গবেষণায় শুক্রে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইডের পরিমাণের হঠাৎ বৃদ্ধি, কিছু অঞ্চলে তাপীয় পরিবর্তন এবং ১৯৯১ সালের রাডার চিত্র তুলনা করে ২০২৩ সালে শনাক্ত কিছু পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে শক্তিশালী করেছে যে, শুক্র এখনও ভূতাত্ত্বিকভাবে পুরোপুরি মৃত নয়।
শুক্রে টেকটোনিক ক্রিয়া আছে, কিন্তু পৃথিবীর মতো প্লেট টেকটোনিক্স নেই
পৃথিবীর ভূত্বকে প্লেট টেকটোনিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুক্রে এখনো সেই ধরনের প্লেট টেকটোনিক্সের স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। সেখানে ভূমির বিকৃতি, রিফট, পর্বতবেল্ট, করোনা এবং টেসেরা থাকলেও সেগুলো প্রধানত উল্লম্বভাবে ম্যান্টলের ওঠানামা, উত্তোলন ও নিমজ্জনের প্রভাব বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুক্রের উচ্চ তাপমাত্রা তার লিথোস্ফিয়ারকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে, পৃথিবীর মতো সাবডাকশন প্রক্রিয়া সহজে গড়ে ওঠেনি।
তবে শুক্রের পৃষ্ঠে গহ্বরের বণ্টন দেখে অনেকে ধারণা করেন, তুলনামূলক অল্প সময় আগে পুরো গ্রহ জুড়ে বড় ধরনের “resurfacing” বা নতুন করে পৃষ্ঠ গঠন হয়েছে। অর্থাৎ অনেক পুরোনো ভূখণ্ড একসময় লাভা ও ভূতাত্ত্বিক ক্রিয়ায় ঢাকা পড়ে নতুন চেহারা পেয়েছে।
শুক্রে উল্কাপাতের চিহ্নও আছে, কিন্তু ছোট গর্ত নেই কেন
শুক্রের পৃষ্ঠে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি বহু গহ্বর আছে। কিন্তু ছোট আকারের গহ্বর প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ শুক্রের অত্যন্ত ঘন বায়ুমণ্ডল ছোট উল্কাখণ্ডকে পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে ফেলে বা পুড়িয়ে দেয়। ফলে কেবল তুলনামূলক বড় উল্কাপিণ্ডই মাটিতে আঘাত করতে পারে। এ কারণে শুক্রের ছোট ক্রেটারের সংখ্যা খুব কম।
শুক্রে চৌম্বক ক্ষেত্র নেই বললেই চলে
পৃথিবীর মতো শুক্রের নিজস্ব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নেই। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলেন: খুব ধীর ঘূর্ণন, কোরে যথেষ্ট গতিশীল তরল প্রবাহের অনুপস্থিতি, অথবা কোরের ভিন্ন অবস্থা। ফলে সূর্যবায়ুর সঙ্গে শুক্রের বায়ুমণ্ডলের সরাসরি মিথস্ক্রিয়া বেশি হয়।
এই মিথস্ক্রিয়ার কারণে শুক্র ধীরে ধীরে তার উপরের বায়ুমণ্ডল থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন হারিয়েছে। অনেক গবেষক মনে করেন, শুক্রে একসময় বেশি পানি থাকতে পারে, কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি বায়ুমণ্ডল ক্ষয়ের প্রক্রিয়ায় তা হারিয়ে গেছে।
শুক্রে কি একসময় পানি ছিল
শুক্র বর্তমানে শুষ্ক, দহনজ্বলা, জলহীন এক গ্রহ। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সবসময় কি এমনই ছিল? কিছু বৈজ্ঞানিক মডেল ইঙ্গিত দেয় যে, অতীতে শুক্রে তরল পানি থাকতে পারে। যদি তা সত্যি হয়, তবে পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস প্রভাব, বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং সৌরবায়ুর কারণে সেই পানি উবে গিয়ে মহাকাশে হারিয়ে গেছে। এ প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর এখনও মেলেনি, তবে এটাই শুক্র গবেষণার সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।
শুক্র গবেষণায় মহাকাশযানের দীর্ঘ ইতিহাস
শুক্র ছিল অন্য কোনো গ্রহের মধ্যে প্রথম যাকে কাছ থেকে মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ করে। ১৯৬২ সালে Mariner 2 প্রথম সফলভাবে শুক্রের পাশ দিয়ে উড়ে তথ্য পাঠায়। পরে Mariner 5, Mariner 10, Pioneer Venus, সোভিয়েত Venera মিশন, Vega মিশন, Galileo, Magellan, Cassini, Venus Express এবং Akatsuki শুক্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়িয়েছে।
বিশেষভাবে সোভিয়েত Venera মিশনগুলো প্রথম শুক্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে ছবি পাঠায়। ১৯৮২ সালে Venera 13 যে রঙিন ছবি পাঠিয়েছিল, তাতে দেখা যায় পাথুরে, সমতল, হলুদ-কমলা আলোয় ভরা এক ভিন্ন জগৎ। অন্যদিকে Magellan মিশন পুরো গ্রহের প্রায় ৯৮ শতাংশ পৃষ্ঠ উচ্চ রেজোলিউশনে রাডারে মানচিত্রায়ন করে শুক্র গবেষণায় বিপ্লব ঘটায়।
সামনে আসছে নতুন মিশন
শুক্র নিয়ে আগ্রহ আবারও দ্রুত বাড়ছে। আগামী দশকগুলোতে একাধিক নতুন মিশন পরিকল্পিত। ভারতের শুক্রযান, নাসার DAVINCI ও VERITAS, ইউরোপের EnVision মিশন, এমনকি ভবিষ্যতে শুক্রের ওপরের বায়ুমণ্ডলে মানুষের জন্য এয়ারশিপ-ভিত্তিক অনুসন্ধান ধারণাও আলোচনা হচ্ছে। কারণ, প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় শুক্রের বায়ুমণ্ডলে চাপ ও তাপমাত্রা পৃথিবীর কাছাকাছি, যা গবেষণার জন্য আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
কেন শুক্র গবেষণা এত গুরুত্বপূর্ণ
শুক্রকে শুধু একটি গ্রহ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ, জলবায়ু বিপর্যয় এবং গ্রহের বিবর্তন বোঝার এক জীবন্ত ল্যাবরেটরি। একই ধরনের আকার ও উপাদান থেকে গঠিত দুটি গ্রহ কীভাবে এত ভিন্ন পথে গেল, সেই প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের গভীরভাবে ভাবায়। পৃথিবী যদি কখনও অনিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস প্রভাবের দিকে এগোয়, তবে শুক্র তার ভয়াবহ উদাহরণ।
সব মিলিয়ে শুক্র একদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের তুলনামূলক বড় গ্রহ, অন্যদিকে সবচেয়ে প্রতিকূল এবং রহস্যময় শিলা গ্রহগুলোর একটি। এর উজ্জ্বল মুখচ্ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে আগুনঝরা পৃষ্ঠ, অ্যাসিডের মেঘ, দমবন্ধ করা চাপ, ধীর উল্টো ঘূর্ণন এবং এক হারিয়ে যাওয়া সম্ভাব্য অতীতের গল্প। তাই শুক্রকে যত বেশি জানা যাবে, ততই বোঝা যাবে শুধু আরেকটি গ্রহ নয়, বরং আমাদের নিজের পৃথিবীকেও।
সূত্র: ব্রিটানিকা
ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়
ভিডিওর ভয়েসওভার তৈরি, কনটেন্টে কণ্ঠ যোগ করা কিংবা লিখিত বক্তব্যকে অডিওতে রূপান্তর করার পুরো প্রক্রিয়াটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। নিজের গলায় রেকর্ড করার কোনো প্রয়োজন ছাড়াই টেক্সট থেকে নিখুঁত ও স্বাভাবিক শোনার মতো কণ্ঠস্বর তৈরি করা সম্ভব। এই কাজের জন্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ‘ইলেভেনল্যাবস’ (ElevenLabs) অন্যতম। কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করে যেকোনো লিখিত অংশকে খুব সহজেই পছন্দের অডিওতে রূপান্তর করা যায়।
প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ElevenLabs: AI Voice Generator’ অ্যাপটি ইনস্টল করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে। অ্যাপ চালু করার পর মূল ইন্টারফেসে থাকা ‘Text to Speech’ ফিচারটি নির্বাচন করতে হবে, যার সাহায্যে লিখিত অংশ কণ্ঠে রূপান্তরিত হয়। এরপর সেটিংস বা গিয়ার আইকনে ক্লিক করে মডেল অপশন থেকে উপযুক্ত এআই মডেল বা সর্বশেষ সংস্করণ বেছে নিয়ে তা সংরক্ষণ করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে ভয়েস নির্বাচনের অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট কণ্ঠ খুঁজে নিতে হয়। যেমন—সার্চ বারে ‘Bunty’ লিখে খোঁজার পর ‘Bunty Punchy’ পাওয়া গেলে সেটি সিলেক্ট করে কমান্ড নিশ্চিত করতে হয়। এরপর যে লেখাটিকে অডিওতে রূপান্তর করতে চান, তা নির্ধারিত টেক্সট বক্সে লিখে বা পেস্ট করে জেনারেট বাটনে ক্লিক করতে হবে। অল্প কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তৈরি হওয়া অডিওটি শুনে উচ্চারণ ও স্পষ্টতা যাচাই করে নেওয়া যায়। সব ঠিকঠাক থাকলে ডাউনলোড আইকনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় ফরম্যাটে ফাইলটি ডিভাইসে সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা পরবর্তীতে যেকোনো ভিডিও এডিটিং অ্যাপের মাধ্যমে রিলস বা অন্যান্য কনটেন্টে ব্যবহার করা যায়।
তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সংস্করণের কারণে অপশনের নাম এবং বিন্যাসে তারতম্য থাকতে পারে। এ ছাড়া ফ্রি এবং প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারের সময়সীমা, ডাউনলোড সুবিধা এবং মডেলের উপলব্ধতা ভিন্ন হতে পারে। তাই কাজ শুরু করার আগে অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও উপলভ্য মডেলগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।
/আশিক
প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক
প্রথাগত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সীমানার বাইরেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মাধ্যমে দেশের গ্রাহকরা এখন থেকে প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও প্রয়োজনীয় মোবাইল অ্যাপ ও লোকেশনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন। প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে কোনো ধরনের অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এই যুগান্তকারী সেবাটি দিচ্ছে অপারেটরটি, যা পরবর্তীতে দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক প্যাকের আওতায় পাওয়া যাবে।
এই নতুন প্রযুক্তিটি ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারীদের আলাদা কোনো ব্যয়বহুল স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো জটিল যন্ত্র কেনার প্রয়োজন পড়বে না। কেবল একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোরজি (4G) স্মার্টফোন এবং একটি সচল বাংলালিংক সিম থাকলেই এই বিশেষ সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তবে শর্ত হলো ফোনটিকে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট কাভারেজের আওতাধীন এলাকায় অবস্থান করতে হবে। সেবাটি পরিচালনা বা চালুর জন্য আলাদা কোনো বাড়তি অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না, বরং বাংলালিংকের অফিসিয়াল ‘মাইবিএল’ (MyBL) অ্যাপের মাধ্যমেই এর যাবতীয় তথ্য ও শর্ত যাচাই করে নেওয়া যায়।
প্যাকেজ ও খরচের দিক থেকে, চালুর প্রথম মাসে যেকোনো নির্ধারিত ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গেই স্টারলিংক সংযোগ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। এরপর দ্বিতীয় মাস থেকে নির্বাচিত মাসিক প্যাকগুলোর সঙ্গে এই সুবিধা যুক্ত হবে। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি করে এসএমএস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলালিংক। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই স্যাটেলাইট সংযোগটিকে সাধারণ ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না; কারণ এটি উচ্চগতির বা সীমাহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জন্য নয়, বরং দুর্গম এলাকায় জরুরি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।
যখনই কোনো ব্যবহারকারী প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক আওতার বাইরে চলে যাবেন, তখন উপযুক্ত ও সমর্থিত ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সচেষ্ট হবে। তবে এর জন্য খোলা আকাশের নিচে থাকা বাঞ্ছনীয়, কারণ উঁচু পাহাড়ি অঞ্চল, বড় কোনো ভবন বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা স্যাটেলাইট সংযোগের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে দেশের দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, গভীর সমুদ্রে কর্মরত মৎস্যজীবী, ভ্রমণকারী এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন এই প্রযুক্তি জীবনরক্ষাকারী ও অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
/আশিক
বিশ্বজুড়ে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের জরুরি বার্তা
আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে নিজ নিজ ডিভাইসের সফটওয়্যার হালনাগাদ করার তাগিদ দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে মারাত্মক ধরনের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি (জিরো-ডে ভালনারেবিলিটি) শনাক্ত হওয়ার পর এই জরুরি সতর্কবার্তা জারি করল প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপল সূত্রে জানা গেছে, আইফোন ও আইপ্যাডের ছবি ও গ্রাফিক্স প্রদর্শনে ব্যবহৃত ‘কোরগ্রাফিকস’ নামের সফটওয়্যার উপাদানে এই গুরুতর প্রযুক্তিগত দুর্বলতাটি খুঁজে পাওয়া যায়। হ্যাকাররা বিশেষভাবে তৈরি কোনো ক্ষতিকারক ফাইল বা ছবি পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর নির্দেশমালা (মেলিশিয়াস কোড) সক্রিয় করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যে, এই ফাঁককে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট কিছু উচ্চপদস্থ বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ডিভাইসে অত্যন্ত জটিল সাইবার হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে কার ওপর বা কোন মাধ্যমে এই নির্দিষ্ট সাইবার হামলা চালানো হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি অ্যাপল।
কোন কোন ডিভাইসে এবং কীভাবে হালনাগাদ করবেন
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যাপল পুরোনো সফটওয়্যার চালিত আইফোনের জন্য ‘আইওএস ২৬.৭.১’ এবং আইপ্যাডের জন্য ‘আইপ্যাডওএস ২৬.৭.১’ সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছে। আইফোন ১১ ও পরবর্তী সময়ে বাজারে আসা সব মডেলে এই নিরাপত্তা প্যাকেজ ইনস্টল করা যাবে। অন্যদিকে, সদ্য বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলের প্রাথমিক ত্রুটি সংশোধনে পৃথকভাবে ‘আইওএস ২৭.০.১’ সংস্করণের হালনাগাদ আনা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিভাইস হালনাগাদ করার পূর্বে ব্যক্তিগত ডেটার ব্যাকআপ রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ডিভাইসটিকে চার্জারে যুক্ত করে এবং দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সংযোগে রেখে Settings > General > Software Update অপশনে গিয়ে 'Download and Install' বোতামে চাপ দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংস্করণটি হালনাগাদ হয়ে যাবে।
/আশিক
মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
মহাবিশ্বের বিশালতায় মানুষের নিঃসঙ্গতা ভাঙতে এবং ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই মহাশূন্যের গভীর সংকেত পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সৌরজগতের বাইরের একটি এক্সোপ্ল্যানেট বা বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইদো বার্জার পরিষ্কার করেছেন যে, এই বার্তাটি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর পাঠানো সংকেত নয়; বরং এটি উক্ত গ্রহটির অস্বাভাবিক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।
পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘বিটা পিকটোরিস বি’ নামের একটি বিশাল এক্সোপ্ল্যানেট থেকে এই পুনরাবৃত্তিমূলক রেডিও বিস্ফোরণের তরঙ্গ ধরা পড়েছে। বিশালাকার এই গ্যাসীয় গ্রহটির ভর আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির চেয়ে অন্তত ১২ গুণ বেশি এবং এটি সূর্যের চেয়ে প্রায় ১.৭৫ গুণ বড় একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, গ্রহটি যে নক্ষত্রমণ্ডলীতে অবস্থান করছে তার বয়স মাত্র ২.৩ কোটি বছর, যেখানে আমাদের নিজস্ব সৌরজগতের আনুমানিক বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থাপিত ৬৪টি বিশালাকার রেডিও টেলিস্কোপ ডিশের সমন্বয়ে গঠিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘মিরক্যাট’ (MeerKAT) প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষকরা এই তরঙ্গ শনাক্ত করেন। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে সংকেতটিকে কেন্দ্রীয় নক্ষত্র থেকে নির্গত বলে মনে করা হলেও, সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রেডিও তরঙ্গটি মূলত গ্রহটি থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে।
অধ্যাপক বার্জারের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে যেভাবে বায়ুমণ্ডলে মেরুপ্রভা বা ‘অরোরা’ সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি উক্ত গ্রহটিতে চলমান তীব্র চৌম্বকীয় ঝড়ের ফলেই এই শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গের উদ্ভব ঘটছে। বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে দিয়ে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ‘বিটা পিকটোরিস বি’ গ্রহটির চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্রতা আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়েও অন্তত ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
সাধারণত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব গ্রহের প্রতিরক্ষামূলক চৌম্বকীয় আবরণ থাকে না, যা মঙ্গল বা অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে দেখা যায়; যেমন পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ক্ষতিকারক সৌরঝড় থেকে বায়ুমণ্ডলকে সুরক্ষা দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহের নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে এমন রেডিও সংকেতের সৃষ্টি ইতিপূর্বে সৌরজগতের বৃহস্পতি, শনি, এমনকি সূর্য ও বাদামি বামন নক্ষত্রে (ব্রাউন ডোয়ার্ফ) লক্ষ্য করা গেলেও, সৌরজগতের সীমানার বাইরে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট গ্রহ থেকে এটিই প্রথম স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ রেডিও সংকেত।
উৎস উন্মোচনের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কঠোর ‘পিয়ার রিভিউ’ বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞানীদের মতে, গবেষণার ফলাফল চূড়ান্তভাবে সমর্থিত হলে তা বহির্বিশ্বের গ্রহসমূহের অভ্যন্তরীণ গঠন ও তাদের চৌম্বকক্ষেত্রের আচরণ বুঝতে জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এবং বর্তমানে গ্রহটির এই চরমমাত্রার শক্তি উৎপন্ন করার রহস্য উদঘাটন করাই বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
পৃথিবীতে মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য নির্ধারিত ৯টি প্রাকৃতিক ‘প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি’ বা পরিবেশগত সীমানার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে মানবজাতি। এভাবে পরিবেশের ওপর অনিয়ন্ত্রিত চাপ অব্যাহত থাকলে পৃথিবীর এমন স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আর কখনোই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি পটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের ৬০ জনেরও বেশি বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী যৌথভাবে ‘২০২৬ প্ল্যানেটারি হেলথ চেক’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন, সুপেয় পানির চরম সংকট, মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক ও রাসায়নিক দূষণ, সমুদ্রের অতিরিক্ত অম্লতা বৃদ্ধি এবং ভূ-রাসায়নিক প্রবাহ—এই গুরুত্বপূর্ণ ৭টি প্রাকৃতিক সীমানা ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় লঙ্ঘিত হয়েছে। বর্তমানে কেবল ওজোন স্তরের স্থায়িত্ব এবং বায়ুমণ্ডলীয় অ্যারোসলের সীমানা সুরক্ষিত রয়েছে। ২০০৯ সালে চিহ্নিত এই আন্তর্জাতিক পরিবেশগত বৈজ্ঞানিক ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, সীমানা অতিক্রম করার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক ধ্বংস ডেকে না আনলেও তা বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমকে এক মহা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশেষ করে আমাজন বন উজাড় এবং কার্বন শোষণের ক্ষমতার হ্রাসের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সূচকে লাল তালিকাভুক্ত করেছেন। তবে প্রখ্যাত বৈশ্বিক জলবায়ু বিজ্ঞানী জোহান রকস্ট্রোম জানিয়েছেন, এককভাবে না দেখে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস ও প্রকৃতি ধ্বংস অবিলম্বে রূদ্ধ করা গেলে বিশ্বকে আবারও মানবজাতির জন্য নিরাপদ সীমানায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি
অ্যাপ ইনস্টল না করেই সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর উপায় চালু করল ট্রুকলার
স্মার্টফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল শনাক্ত করার পাশাপাশি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা প্রতারণামূলক লিংক, ফোন নম্বর ও বার্তা যাচাইয়ের সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ট্রুকলার। 'স্ক্যাম চেকার' নামের একটি নতুন ওয়েবসাইট ও অ্যান্ড্রয়েড সেবা উন্মুক্ত করেছে সুইডেনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে কোনো ধরনের অ্যাপ ইনস্টল করা কিংবা অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করা ছাড়াই ব্যবহারকারীরা সন্দেহজনক তথ্য পরীক্ষা করার সুবিধা পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই ফিচারটি প্রথম ধাপে ভারতে চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ধাপে ধাপে এটি সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সন্দেহজনক নম্বর, ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা সম্পূর্ণ মেসেজ কপি করে পেস্ট করে সরাসরি পরীক্ষা করতে পারবেন। কোনো লিংক স্ক্যান করার জন্য জমা দেওয়া হলে সার্ভিসটি সেটির মূল ইউআরএল বের করতে প্রয়োজনে ভেতরের রিডাইরেক্টগুলো একের পর এক খুলবে। এরপর ওয়েব ঠিকানাটির বিস্তারিত তথ্য ট্রুকলারের নিজস্ব ঝুঁকি শনাক্তকরণ ডেটাবেস এবং স্ক্যাম সম্পর্কিত সংকেতগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই পদ্ধতিতে কোনো বার্তা বা মেসেজ পরীক্ষা করার সময় সেটিতে থাকা ফোন নম্বর ও লিংক আলাদা করে বিশ্লেষণ করবে ট্রুকলার।
এই পুরো ঝুঁকি শনাক্তকরণ কার্যক্রমে ট্রুকলার ব্যবহারকারীদের প্রদান করা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি 'স্ক্যামফিড' মুখ্য ভূমিকা রাখছে। ভারতে বর্তমানে এই স্ক্যামফিডে ২০ হাজারের বেশি সক্রিয় প্রতারণার তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে নতুন করে আরও অন্তত ১৩০০টি প্রতিবেদন সেখানে যুক্ত হচ্ছে। ট্রুকলারের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১২.৯ বিলিয়ন মেসেজ পরীক্ষা করে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ বার্তাকে ভুয়া ও বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কোনো ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির নির্দিষ্ট নাম দেখতে হলে ব্যবহারকারীকে ট্রুকলারের মূল অ্যাপ বা সার্ভিসে সাইন ইন করতে হবে।
ডিজিটাল জগতে সময়ের সঙ্গে প্রতারণার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন আসায় কেবল ফোনকল শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে শতভাগ সুরক্ষার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রুকলার জানিয়েছে, বর্তমানে কল ছাড়াও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ, এসএসএস ও লিংকের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জিএসএমএ জরিপের তথ্যমতে, ভারতের ৪৬ শতাংশ ভুক্তভোগী মেসেজিং অ্যাপ, ৩৭ শতাংশ এসএমএস এবং ৩২ শতাংশ ভয়েস কলের মাধ্যমে প্রতারকদের শিকার হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বার ওয়েবে সন্দেহজনক লিংক ও ফোন নম্বর যাচাইয়ের কাজ চলে।
ভবিষ্যতে এই স্ক্যাম চেকারে নতুন ধরনের প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি মেসেজের স্ক্রিনশট আপলোড করে তা সরাসরি বিশ্লেষণের সুবিধা যোগ করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে কল আইডেন্টিফিকেশন সেবার পরিধি বাড়িয়ে ভুয়া কল, বার্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে কাজ করছে ট্রুকলার।
/আশিক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যে ৫টি প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হতে পারে
প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ কাজকর্ম সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানান অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও মানুষ এখন ক্রমবর্ধমানভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের নির্ভরতা নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের মতে, কোনো অবস্থাতেই এআই মানুষের বিকল্প কিংবা প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারে না। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সৌন্দর্য, মানুষের আবেগ, বুদ্ধিমত্তা কিংবা অর্থসংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এআইয়ের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রযুক্তির নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকির কারণে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এআইয়ের মুখোমুখি হওয়া বা এর মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রথমেই আসে চেহারা ও সৌন্দর্যের মূল্যায়নের বিষয়টি। পোশাক বা ব্যক্তিগত আকর্ষণ নিয়ে এআই যা বলে, তা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। বেশিরভাগ এআই মডেলকেই ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইতিবাচক ও মনোরম ভঙ্গিতে কথা বলার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়, যা সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের বিকল্প হতে পারে না।
একইভাবে আবেগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় এআইয়ের মতামত চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কেউ আপনাকে ভালোবাসে কি না বা কারো মনে আপনার জন্য কী অনুভূতি রয়েছে—এ ধরনের প্রশ্নে এআই হয়তো সহানুভূতিশীল জবাব দেবে, কিন্তু মানুষের জটিল মানসিক অনুভূতি ও আচরণ অনুধাবন করার ক্ষমতা তার নেই। যেকোনো মানসিক সংকট বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে কৃত্রিম যন্ত্রের বদলে বিশ্বস্ত মানুষ বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
এ ছাড়া নিজের ব্যক্তিগত বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা কিংবা আত্মমর্যাদা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা থাকলেও এআই কোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব, নিজস্ব ক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যবোধ সঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারে না। ফলে এর কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না।
জরুরি অর্থসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এআইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিনিয়োগ, ঋণগ্রহণ বা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এআই যেসব পরামর্শ দেয়, তা যাচাই না করে প্রয়োগ করা মোটেও ঠিক নয়। কারণ ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, স্থানীয় আইনি রূপরেখা এবং পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে কেবল একজন পেশাদার আর্থিক পরামর্শকই সক্ষম।
একই সঙ্গে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সহায়তার বিকল্প কখনো প্রযুক্তি হতে পারে না। কাজের নির্দেশনা বা তথ্য সরবরাহে এআই দক্ষ হলেও বিপদের মুহূর্তে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা মানবিক সহানুভূতি প্রকাশের কাজগুলো এআইয়ের পক্ষে করা অসম্ভব। মূলত উপাত্ত ও অ্যালগরিদমের ওপর ভর করে চলা এআইয়ের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা বা অনুভূতি নেই। তাই একে জীবনের প্রধান ভরসা না বানিয়ে শুধুমাত্র একটি সাধারণ সহায়তামূলক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পন্থা।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় আইনি পদক্ষেপ: আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ইস্যুতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার গুরুতর অভিযোগে বড় ধরনের আইনি চাপে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবং টিকটকের মাদার কোম্পানি বাইটড্যান্স। তথ্য সুরক্ষায় নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি ফেসবুককে ৪৩টি অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অপরদিকে আলাবামায় বিচারিক শুনানির মুখে টিকটক ও বাইটড্যান্স ১০ কোটি ডলারের আর্থিক সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে।
নিউ মেক্সিকো রাজ্যের দায়ের করা মামলাটি মূলত আলোচিত কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি ও তথ্যের সার্বিক সুরক্ষা কেন্দ্রিক। জুরি বোর্ড দেখেছে যে, ফেসবুক তাদের কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করে তৃতীয় পক্ষের একটি পার্সোনালিটি কুইজের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছিল। এসব গোপন তথ্য রাজনৈতিক কনসাল্টিং ফার্ম কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, যা ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়।
আদালত নিশ্চিত করেছেন যে, কেলেঙ্কারি প্রকাশের পরেও ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহকারী থার্ড-পার্টি নিয়ে অনুসন্ধানের বিষয়ে মেটা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেছিল এবং কেবল নিউ মেক্সিকোরই প্রায় ২০ লাখ মানুষের সুরক্ষা ইস্যুতে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। তবে মেটার মুখপাত্র অ্যালেক্স বার্গোস আদালতের এই রায় প্রত্যাখ্যান করে রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অপরদিকে, আলাবামায় অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়ের করা মামলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত ১০ কোটি ডলার দিয়ে আইনি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও বাইটড্যান্স। আলাবামা রাজ্য প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, টিকটকের অ্যালগরিদম অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণ ব্যবহারকারীদের কাছে ক্রমাগত ক্ষতিকর ও সহিংস কনটেন্ট পৌঁছে দিয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে। এছাড়া মার্কিন নাগরিকদের তথ্য চীনা সরকারের হাতে পৌঁছানো এবং অ্যাপ স্টোরে ভুয়া রেটিং ব্যবহারের বিষয়ে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্যের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার সমঝোতার শর্তানুযায়ী, টিকটক রাজ্য প্রশাসনকে চুক্তি অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ আর্থিক অর্থ পরিশোধ করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে পরিবর্তন আনছে। এখন থেকে দৈনিক অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টায় সীমিত করা, ১৫ মিনিট পরপর বিরতির সুযোগ এবং ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের কঠোর অ্যালগরিদম নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে টিকটক। পূর্বেও শিশুদের গোপনীয়তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাথে ৪০ কোটি ডলার পরিশোধ করে আইনি ঝামেলা চুকিয়েছিল ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটি।
/আশিক
ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা
আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে গ্রাহকদের মোট ২৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি শ্রেণিভিত্তিক মামলা বা ‘ক্লাস অ্যাকশন স্যুট’ সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার অংশ হিসেবে এই বিশাল অর্থ পরিশোধ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার মূল অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাপল তাদের বিজ্ঞাপনে নিজস্ব ভার্চুয়াল সহকারী ‘সিরি’র যেসব আকর্ষণীয় এআই সক্ষমতার প্রচার চালিয়েছিল, বাস্তব ক্ষেত্রে তার অনেক ফিচারই সচল বা উপস্থিত ছিল না। ফলে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক আইফোন কিনতে উৎসাহিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী ও নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন ভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নির্দিষ্ট ও যোগ্য গ্রাহকেরা নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের ক্ষতির সপক্ষে দাবি পেশ করার পাশাপাশি ইচ্ছে করলে মামলার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই নিষ্পত্তির আওতায় কেবল তারাই আসবেন, যারা ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৬ সিরিজ, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মডেলের হ্যান্ডসেট কিনেছেন। তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে গ্রাহককে উক্ত আইফোনের প্রথম বা মূল ক্রেতা হতে হবে এবং ডিভাইসটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কেনা হতে হবে।
শর্তপূরণকারী যোগ্য গ্রাহকেরা ফোনপ্রতি সর্বনিম্ন ২৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন। তবে গ্রাহকভেদে প্রাপ্ত অর্থ বাবদ চূড়ান্ত অঙ্ক কত দাঁড়াবে, তা মোট কতজন গ্রাহক সঠিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের তথ্য মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমাদান শেষে সম্পূর্ণ চুক্তিটি আইনিভাবে পরিমিত ও পর্যাপ্ত কি না তা খতিয়ে দেখতে আগামী ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
পাঠকের মতামত:
- সীমান্ত এলাকায় মাদক নিয়ে লেখালেখির জেরে সাংবাদিক খুন
- আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ শিবির নিয়ে বড় আপডেট
- ২১টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এল টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন
- পর্যটকদের জন্য অবশেষে উন্মুক্ত হলো সাজেক ভ্যালি
- বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
- অস্ট্রেলিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সুসংবাদ পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার
- দীর্ঘ কর্মঘণ্টা যেভাবে নিঃশব্দে ক্ষতি করছে আপনার হৃদযন্ত্রের
- আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশে আসছে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘স্ট্রিট ফাইটার’
- দেবিদ্বারে জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজে নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
- দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ
- ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত
- জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি
- শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
- একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী
- সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের
- সিরিয়ার দারা প্রদেশে বাড়ি ও গুদামে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্নিসংযোগ
- সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করল বিমান কর্তৃপক্ষ
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- নানিয়ারচর জোন কর্তৃক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত
- টিকটকের মোহে নতুন জীবনের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল চার স্কুলছাত্রী
- সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- সাভারের হেমায়েতপুরে মাদানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুন
- সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
- আগামীকাল আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
- ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক
- সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ
- জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার
- ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
- অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
- ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
- বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
- জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
- সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- আবহাওয়ার নতুন বার্তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
- দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে
- ‘মোদির পতন দেখার অপেক্ষায় আছি’: মোদির বিদায় নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট
- দিল্লিতে আটক তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে থানায় অনশন-ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
- সাজেক পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- পর্দার পেছনের অভিনব কায়দা নিয়ে এল নতুন প্ল্যাটফর্ম
- পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
- ‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ
- নরেন্দ্র মোদি জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন: অভিজিৎ দীপ
- রোমান সম্রাটের নতিস্বীকারের ইতিহাস টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
- জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক








