বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ

সৌরজগতের সবচেয়ে ভেতরের গ্রহ বুধকে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা এক রহস্যময় জগত হিসেবে দেখেছেন। সূর্যের এত কাছাকাছি অবস্থান, আকারে তুলনামূলক ছোট হওয়া এবং আকাশে খুব অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান থাকার কারণে এই গ্রহকে খালি চোখে দেখা সবসময়ই কঠিন ছিল। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে বা সূর্যাস্তের পর স্বল্প সময়ের জন্য এটি দেখা গেলেও পূর্ণ অন্ধকার আকাশে বুধ কখনও স্পষ্টভাবে ধরা দেয় না। এ কারণেই হাজার হাজার বছর ধরে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও বুধ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান দীর্ঘকাল অসম্পূর্ণ ছিল।
ইতিহাস বলছে, সুমেরীয় সভ্যতার সময়েও বুধকে মানুষ চিনত। প্রাচীন গ্রিকরা ভোরের আকাশে দেখা গেলে একে ‘অ্যাপোলো’ আর সন্ধ্যায় দেখা গেলে ‘হার্মিস’ বলত। পরে রোমানদের দেবদূত ‘মারকারি’-এর নামেই এর আধুনিক নাম হয় ‘Mercury’। আকাশে অন্য গ্রহগুলোর তুলনায় দ্রুত সরে যেতে দেখা যেত বলেই সম্ভবত এই নামকরণ। এমনকি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথিকৃৎ নিকোলাস কোপার্নিকাসও জীবদ্দশায় বুধকে নিজের চোখে দেখতে না পারার আফসোস করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে।
আকারে ছোট, কিন্তু বৈশিষ্ট্যে চরম
বুধের গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ২,৪৩৯.৭ কিলোমিটার। এটি সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম প্রধান গ্রহ, এমনকি বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের কিছু উপগ্রহের চেয়েও ছোট। কিন্তু ছোট হলেও বুধের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। এর বিশাল লৌহসমৃদ্ধ কেন্দ্র বা কোর গ্রহটির মোট আয়তনের বড় অংশ দখল করে আছে। এই কোরই বুধকে অস্বাভাবিকভাবে ঘন করেছে। পৃথিবীর চেয়েও কম ভর নিয়ে এত বেশি ঘনত্বের গ্রহ হওয়া বুধকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
বুধের মোট ভরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রয়েছে এর ধাতব কোরে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর বাইরের পাথুরে আবরণ তুলনামূলকভাবে খুব পাতলা। ফলে বুধকে প্রায় একটি বিশাল লোহার গোলক বললেও ভুল হবে না, যার ওপর কেবল অল্প একটি পাথুরে স্তর রয়েছে।
সূর্যের খুব কাছে বলেই সবচেয়ে অদ্ভুত
বুধের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে লাগে মাত্র ৮৭.৯৭ পৃথিবী দিন। অর্থাৎ সৌরজগতের সব গ্রহের মধ্যে এর বছর সবচেয়ে ছোট। কিন্তু মজার বিষয় হলো, নিজের অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে বুধের লাগে প্রায় ৫৮.৬ পৃথিবী দিন। এর মানে, বুধে একটি দিন এবং একটি বছরের সম্পর্ক পৃথিবীর মতো নয়। বুধের একটি সৌরদিন প্রায় ১৭৫.৯ পৃথিবী দিনের সমান। সহজভাবে বললে, বুধে সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় পৃথিবীর প্রায় ছয় মাসের সমান।
এর কক্ষপথও অত্যন্ত উপবৃত্তাকার বা দীর্ঘবৃত্তাকার। ফলে কখনও এটি সূর্যের খুব কাছে চলে আসে, আবার কখনও তুলনামূলক দূরে সরে যায়। সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকলে বুধের আকাশে সূর্য অনেক বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। কিছু অবস্থানে এমনও দেখা যায় যে, বুধের আকাশে সূর্য যেন সাময়িকভাবে দিক পাল্টে ফিরে যাচ্ছে। এই বিরল দৃশ্য সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে এভাবে দেখা যায় না।
বুধের তাপমাত্রা: দিনে অগ্নিকুণ্ড, রাতে বরফশীতল
বুধের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি হলো এর চরম তাপমাত্রা পার্থক্য। দিনের বেলায় সূর্যের তীব্র তাপে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৭০০ কেলভিন বা ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আবার দীর্ঘ রাতের শেষে তা নেমে যেতে পারে প্রায় ৯০ কেলভিন বা মাইনাস ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। অর্থাৎ একই গ্রহে এমন তাপমাত্রা ওঠানামা হয়, যা সৌরজগতের ভেতরের শিলা গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চরম।
এই বিশাল তাপমাত্রা পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো, বুধের কোনো ঘন বায়ুমণ্ডল নেই যা তাপ ধরে রাখতে পারে। ফলে দিনের তাপ দ্রুত মহাশূন্যে হারিয়ে যায় এবং রাত হয়ে ওঠে ভয়ংকর ঠান্ডা।
বায়ুমণ্ডল নেই, তবু একেবারেই শূন্য নয়
বুধের ঘন বায়ুমণ্ডল নেই, তবে একেবারে কিছুই নেই এমন নয়। এর চারপাশে অত্যন্ত পাতলা একধরনের গ্যাসীয় আবরণ রয়েছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘এক্সোস্ফিয়ার’ বলেন। এতে হিলিয়াম, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ কিছু পরমাণু পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশিরভাগই আসে সৌর বায়ুর প্রভাব, উল্কাপিণ্ডের আঘাত অথবা পৃষ্ঠ থেকে কণিকা ছিটকে উঠে যাওয়ার ফলে।
বিশেষভাবে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি কাড়ে, কারণ এগুলো দূরবীন থেকেও ধরা যায়। এই পাতলা গ্যাসস্তর বুধের চারপাশে অনেকটা ধূমকেতুর লেজের মতো আচরণ করে।
সূর্যের এত কাছে, তবু বুধে আছে বরফ
শোনার পর অবিশ্বাস্য মনে হলেও বুধের মেরু অঞ্চলের কিছু গভীর গহ্বরে জলীয় বরফের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেসব গহ্বরের তলদেশে কখনও সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে কোটি কোটি বছর ধরে বরফ জমে থাকতে পারে। মহাকাশযান Messenger নিশ্চিত করেছে যে, এসব অন্ধকার গহ্বরে বরফের স্তর আছে এবং তার ওপর কালচে জৈব পদার্থের মতো একটি আবরণও রয়েছে। এই আবরণ বরফকে দ্রুত উবে যাওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা করে।
এই আবিষ্কার বুধ সম্পর্কে মানুষের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে। একসময় ভাবা হতো সূর্যের এত কাছে কোনো গ্রহে বরফ থাকা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সঠিক ভূপ্রকৃতি থাকলে চরম উষ্ণ জগতেও স্থায়ী ছায়া বরফকে ধরে রাখতে পারে।
বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র: ছোট গ্রহ, বড় বিস্ময়
বুধের আরেকটি বড় বিস্ময় হলো এর নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র। এই চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীর তুলনায় অনেক দুর্বল হলেও এটি বাস্তব এবং সক্রিয়। এত ছোট ও ধীরগতিতে ঘূর্ণনশীল একটি গ্রহে এমন চৌম্বক ক্ষেত্র থাকবে, বিজ্ঞানীরা আগে তা খুব বেশি আশা করেননি। ধারণা করা হয়, বুধের তরল বাইরের কোরে বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থের চলাচলের কারণেই এই ক্ষেত্র তৈরি হয়।
Messenger মহাকাশযানের তথ্য দেখিয়েছে, বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র মোটামুটি দ্বিমেরু প্রকৃতির, অর্থাৎ পৃথিবীর ক্ষেত্রের মতোই একটি উত্তর ও দক্ষিণ মেরু ধরনের গঠন আছে। এর ফলে সূর্য থেকে আসা চার্জিত কণার সঙ্গে বুধের এক ধরনের ক্ষুদ্র ম্যাগনেটোস্ফিয়ার তৈরি হয়।
পৃষ্ঠতল দেখতে চাঁদের মতো, কিন্তু ভেতরে আলাদা গল্প
প্রথম দেখায় বুধের পৃষ্ঠতল অনেকটা চাঁদের মতো মনে হয়। অসংখ্য গহ্বর, আঘাতের চিহ্ন, ফাটল আর সমতল অঞ্চল নিয়ে এর চেহারা রুক্ষ ও ক্ষতবিক্ষত। কিন্তু গভীরে গেলে বোঝা যায়, এটি কেবল চাঁদের অনুকরণ নয়। বুধের পৃষ্ঠে বিশাল ভাঁজ, খাড়া ঢালু দাগ এবং লম্বা ‘lobate scarps’ রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে গ্রহটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংকুচিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভেতরের অংশ ঠান্ডা হয়ে ছোট হতে থাকায় বাইরের ভূত্বকে ভাঁজ পড়ে এই দাগগুলো তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় বুধের ব্যাস কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কমে গেছে। অর্থাৎ বুধ এখনও ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হচ্ছে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
Caloris Basin: বুধের দানবীয় আঘাতচিহ্ন
বুধের সবচেয়ে বিখ্যাত ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হলো Caloris Basin, যা একটি বিশাল আঘাতজনিত অববাহিকা। এর ব্যাস প্রায় ১,৫৫০ কিলোমিটার। একে ঘিরে আছে পাহাড়ি বলয়, ভাঙা-চোরা ভূমি, রেডিয়াল ফাটল এবং তুলনামূলক মসৃণ সমভূমি। ধারণা করা হয়, সৌরজগতের প্রাচীন ইতিহাসে এক বিশাল উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এই অববাহিকা তৈরি হয়েছিল।
এর বিপরীত পাশে পাওয়া গেছে অদ্ভুত বিকৃত ভূভাগ, যা সম্ভবত ওই বিশাল আঘাতের ভূকম্পীয় তরঙ্গ গ্রহের অন্য পাশে গিয়ে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ফলে তৈরি হয়েছিল। এটি দেখায়, বুধ কেবল আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়নি, সেই আঘাত তার পুরো ভূতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দিয়েছে।
বুধকে জানা কেন এত কঠিন ছিল
সূর্যের এত কাছাকাছি থাকায় পৃথিবী থেকে বুধকে দেখা সবসময়ই কঠিন। এটি কখনও সূর্য থেকে খুব বেশি কৌণিক দূরত্বে সরে যায় না। ফলে দিগন্তের কাছে, ঘন বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে, গোধূলি বা প্রভাতের অল্প সময়েই বুধকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এমনকি হাবল টেলিস্কোপের মতো মহাকাশ দূরবীনও সূর্যের খুব কাছে তাকানোর সীমাবদ্ধতার কারণে সহজে বুধ পর্যবেক্ষণ করতে পারে না।
মহাকাশযান পাঠানোও সহজ ছিল না। সূর্যের তীব্র মহাকর্ষের কারণে কোনো মহাকাশযানকে বুধের কক্ষপথে ঢোকাতে বিপুল জ্বালানি ও জটিল গতিপথ পরিকল্পনা দরকার হয়। এ কারণেই বুধে অভিযান ইতিহাসে তুলনামূলক কম।
Mariner 10 থেকে Messenger: বুধ গবেষণায় বড় অগ্রগতি
বুধে প্রথম পৌঁছানো মহাকাশযান ছিল Mariner 10, যা ১৯৭৪-৭৫ সালে গ্রহটির তিনটি ফ্লাইবাই করে। এটি বুধের প্রায় ৪৫ শতাংশ পৃষ্ঠের ছবি তুলেছিল এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্তিত্বের মতো চমকপ্রদ তথ্য দেয়।
এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে Messenger মিশনে। ২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর এটি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ফ্লাইবাই করে এবং ২০১১ সালে বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করে। পুরো পৃষ্ঠ মানচিত্রায়ন, রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ, মেরু অঞ্চলের বরফ শনাক্তকরণ এবং অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে Messenger বুধ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বিপুলভাবে বাড়িয়ে দেয়। ২০১৫ সালে জ্বালানি শেষ হয়ে এটি বুধের পৃষ্ঠে আঘাত করে মিশন শেষ করে।
BepiColombo: নতুন যুগের অপেক্ষা
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং জাপানের মহাকাশ সংস্থার যৌথ মিশন BepiColombo বুধ গবেষণার নতুন অধ্যায়। ২০১৮ সালে উৎক্ষেপিত এই মহাকাশযান ২০২৫ সালে বুধে পৌঁছে কক্ষপথে কাজ শুরু করার কথা। এতে দুটি অরবিটার রয়েছে, একটি গ্রহের পৃষ্ঠ ও গঠন নিয়ে কাজ করবে, অন্যটি বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ করবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশন বুধের উৎপত্তি, কোরের প্রকৃতি, ভূতত্ত্ব এবং সৌর বায়ুর সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য দেবে।
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ প্রমাণে বুধের ভূমিকা
বুধের গুরুত্ব শুধু গ্রহ হিসেবে নয়, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসেও বিশাল। এর কক্ষপথে সূক্ষ্ম এক অস্বাভাবিক অগ্রগতি বা precession বহুদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছিল। নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব দিয়ে এর বেশিরভাগ ব্যাখ্যা করা গেলেও সামান্য অংশ ব্যাখ্যাতীত ছিল। ১৯১৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন দেখান যে, সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এই অসামঞ্জস্য পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে। এভাবেই বুধের কক্ষপথ আইনস্টাইনের তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভবিষ্যতের প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে
Messenger অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেও বুধকে ঘিরে এখনো বহু রহস্য অমীমাংসিত। গ্রহটি ঠিক কীভাবে এত বিশাল ধাতব কোর পেল, কেন এর পৃষ্ঠে এত বেশি সালফার, কীভাবে এর ভেতর এখনো আংশিক গলিত থাকতে পারে, আর কতদিন ধরে এর সংকোচন চলছে এসব প্রশ্ন এখনও গবেষণার বিষয়।
সব মিলিয়ে, বুধ শুধু সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ নয়, এটি সৌরজগতের সবচেয়ে চরম, জটিল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ জগতগুলোর একটি। আগুনের কাছাকাছি থেকেও বরফ ধারণ করা, ছোট হয়েও চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা, আর প্রাচীন ক্ষত বয়ে নিয়েও আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে যাওয়া এসব কারণেই বুধকে বলা যায় রহস্যে মোড়া এক অবিশ্বাস্য গ্রহ।
সূত্র: ব্রিটানিকা
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ‘বিশৃঙ্খলার দেবতা’! মহাকাশে টানটান উত্তেজনা
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ‘গড অব ক্যাওস’ বা বিশৃঙ্খলার দেবতা নামে পরিচিত বিশাল এক গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে আমাদের গ্রহের অত্যন্ত কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রাচীন মিসরীয় দেবতার নামানুসারে ‘অ্যাপোফিস’ রাখা এই গ্রহাণুটি নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নাসা নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল অ্যাপোফিস পৃথিবীর মাত্র ২০ হাজার মাইল দূর দিয়ে চলে যাবে, যা মহাকাশে থাকা অনেক কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের দূরত্বের চেয়েও কম।
সাধারণত অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে প্রায় ২২ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে, সেখানে অ্যাপোফিসের ২০ হাজার মাইল দূরত্বে চলে আসা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বিরল পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
যদিও অ্যাপোফিসকে ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তবে নাসা আশ্বস্ত করেছে যে ২০২৯ সালের এই যাত্রায় পৃথিবীর সাথে এর সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি নেই। দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পর নাসা জানিয়েছে, অন্তত আগামী ১০০ বছরেও এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি নজিরবিহীন সুযোগ যার মাধ্যমে গ্রহাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন, গতিপথ এবং মহাজাগতিক বস্তুর আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের জন্য সবথেকে বড় সুখবর হলো, ২০২৯ সালের সেই রাতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পূর্ব গোলার্ধের মানুষ কোনো টেলিস্কোপ ছাড়াই খালি চোখে এই গ্রহাণুটি দেখতে পাবেন। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এই ঘটনাটি কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরল ও শিহরণ জাগানিয়া অভিজ্ঞতা হিসেবেও গণ্য হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
এক হাজার বছর আগের বিস্ফোরণ আজও কাঁপিয়ে দিচ্ছে মহাশূন্য
মহাকাশ যে আসলে স্থির কোনো ক্যানভাস নয়, বরং নিরন্তর পরিবর্তনশীল এক রণক্ষেত্র—নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ তা আবারও প্রমাণ করল। প্রায় এক হাজার বছর আগে ঘটা এক প্রলয়ংকরী নক্ষত্র বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ ‘ক্র্যাব নীহারিকা’ আজও মহাশূন্যে অবিশ্বাস্য গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। হাবলের গত ২৫ বছরের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই নীহারিকাটি কেবল বড়ই হচ্ছে না, বরং প্রতিনিয়ত বদলে ফেলছে নিজের অবয়ব।
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির তথ্যমতে, ১০৫৪ সালে একটি বিশাল তারার মৃত্যুর মাধ্যমে এই নীহারিকাটির জন্ম হয়। সেই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে টানা কয়েক সপ্তাহ এটি দিনের বেলাতেও খালি চোখে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নীহারিকাটির ভেতরের গ্যাস ও ধূলিকণা ঘণ্টায় প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন মাইল বেগে বাইরের দিকে ছুটে চলছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নীহারিকার কেন্দ্রে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত ঘূর্ণায়মান ‘পালসার’ থেকে আসা প্রচণ্ড শক্তিই চারপাশের গ্যাসকে এভাবে ঠেলে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
গবেষক উইলিয়াম ব্লেয়ারের মতে, আকাশের স্থির রূপটি আসলে একটি বিভ্রম; হাবলের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে মহাকাশ প্রতি মুহূর্তে নড়ছে এবং বাড়ছে। এই গবেষণাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একটি নক্ষত্রের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া নীহারিকা কীভাবে সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়, তা এখন মানুষের ক্ষুদ্র জীবনকালেই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই অবিরাম বিস্তার আমাদের মহাবিশ্বের গতিশীল প্রকৃতির এক জীবন্ত দলিল।
/আশিক
নাসায় একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু: কেউ বারান্দায় খুন, কেউ নিখোঁজ!
নাসা এবং পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যময় মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির (JPL) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মাইকেল হিকসের মৃত্যু এই রহস্যের তালিকায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
হিকস নাসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিশন যেমন—ডার্ট এবং নিয়ার আর্থ অ্যাস্টেরয়েড ট্র্যাকিং-এর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তাঁর মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করাটা জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।
রহস্যের জাল আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখা যায় তাঁর সহকর্মী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ডও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মারা যান। এখানেই শেষ নয়, লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে ফিউশন শক্তি গবেষক এবং ক্যানসার গবেষকদের নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো কোনো একটি অদৃশ্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমনকি জেপিএলের সাবেক পরিচালক মোনিকা রেজার নিখোঁজ হওয়া এবং জ্যোতিঃপদার্থবিদ কার্ল গ্রিলমেয়ারের নিজ বাড়ির বারান্দায় খুন হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও ভাবিয়ে তুলছে।
এফবিআইয়ের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ক্রিস সুয়েকার এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেহেতু এই বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি এবং মহাকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে কাজ করছিলেন, তাই বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতজন মেধাবী বিজ্ঞানীর প্রস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই সিইওর বাসায় হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে মলোটভ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ঘটা এই হামলায় অল্টম্যানের বাড়ির গেটে আগুন ধরে যায়। এর মাত্র এক ঘণ্টা পর হামলাকারী যুবক ওপেনএআই-এর সদর দপ্তরে গিয়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০ বছর বয়সী ওই যুবক কেন এই হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও অল্টম্যান ও তাঁর কোম্পানির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্যাম অল্টম্যান এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, তাঁর কোম্পানিকে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ এবং সমালোচনামূলক নিবন্ধের কয়েক দিনের মাথায় এই হামলা চালানো হলো। ধারণা করা হচ্ছে, ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’-এর একটি প্রতিবেদন যেখানে ওপেনএআই-এর পেন্টাগন চুক্তি এবং নিরাপত্তা ঘাটতির সমালোচনা করা হয়েছিল, সেটিই হামলাকারীকে উসকে দিয়ে থাকতে পারে।
অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে তিনি আগে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি, কিন্তু এখন নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবছেন। তিনি এআই নিয়ে মানুষের যৌক্তিক আশঙ্কার কথা স্বীকার করে সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ প্রযুক্তির আহ্বান জানান।
বর্তমানে ওপেনএআই একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগনের সঙ্গে ৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কারণে কোম্পানিটি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে যে তাদের প্রযুক্তি গোপন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে।
এছাড়া ইলন মাস্কও অল্টম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন, যেখানে তিনি অল্টম্যানকে পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন।
এর আগে পেন্টাগন চুক্তির প্রতিবাদে ওপেনএআই অফিসের সামনে কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং ‘স্টপ এআই’ নামক সংগঠন অফিসের গেট অবরোধ করেছিল। সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোম্পানিটি এখন ত্রিমুখী চাপের মুখে।
সূত্র: আরটি
সাবধান! ফোনের এই অ্যাপগুলো এখনই মুছে ফেলুন, না হলে সব শেষ
স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও অসাবধানতাবশত ভুল অ্যাপ ইনস্টল করা ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে থাকা সব অ্যাপই যে নিরাপদ, এমন ধারণা ভুল। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপের মধ্যে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি পেয়েছেন, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে। হ্যাকাররা অনেক সময় আসল অ্যাপের আদলে নকল বা ক্লোন অ্যাপ তৈরি করে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে চেনা কঠিন।
বিপজ্জনক অ্যাপগুলোর তালিকায় শুরুতেই রয়েছে বেশ কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং টিকটক ক্লোন অ্যাপ। যেমন, একটি নির্দিষ্ট ক্রিপ্টো অ্যাপ ইতিমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে, যা আসলে ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য তৈরি। এছাড়া টিকটকের নকল সংস্করণগুলো আপনার অনলাইন লেনদেন ও ব্যাংকিং তথ্য হ্যাক করার ক্ষমতা রাখে।
তালিকায় আরও আছে হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার, আর্ট ফিল্টার এবং জিপিএস লোকেশন ফাইন্ডার। এই অ্যাপগুলো আপনার ফোনের গ্যালারি, লোকেশন এবং কন্টাক্ট লিস্টের ওপর নজরদারি চালিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করে দেয়। এমনকি 'আর্ট গার্লস ওয়ালপেপার এইচডি' এবং 'স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটর'-এর মতো সাধারণ মনে হওয়া অ্যাপগুলোও এখন ম্যালওয়্যার ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম।
বিপদ এড়াতে নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে অবশ্যই সেটির ডেভেলপারের নাম, ইউজার রিভিউ এবং ডাউনলোডের সংখ্যা দেখে নেওয়া উচিত। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় যদি সেটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোনের অডিও, ভিডিও, ক্যামেরা বা লোকেশনের পারমিশন চায়, তবে সতর্ক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই তালিকার কোনো অ্যাপ যদি আপনার ফোনে থাকে, তবে দেরি না করে সেগুলো এখনই আনইনস্টল করুন এবং ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ভালো মানের অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করুন।
/আশিক
চাঁদের ওপারে নতুন বিশ্ব রেকর্ড: ৪ লাখ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ফিরছে আর্টেমিস-২
নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষ করে সফলভাবে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। নাসা জানিয়েছে, এই চার নভোচারী পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যা এর আগে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বিস্ময়কর এই রেকর্ড গড়ার মুহূর্তটিতে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চাঁদের সবচেয়ে দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবীর সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট কোনো সংকেত না পাওয়ার পর পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হলে স্বস্তি ফিরে আসে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পর অভিযাত্রী ক্রিস্টিনা কচ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, "পৃথিবীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করতে পেরে দারুণ লাগছে।"
এই যাত্রাপথে নভোচারীরা আরও এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হন। মহাকাশযানটি যখন চাঁদের পৃষ্ঠের কয়েক হাজার মাইলের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন তাঁরা সরাসরি একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। উল্লেখ্য, গ্রিনিচ মান সময় সোমবার বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে আর্টেমিস-২ মহাকাশযানটি চাঁদের পেছন দিকের সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে পৌঁছায়, যা মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এর আগে ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো-১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার (প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করলেন বর্তমানের এই চার সাহসী অভিযাত্রী।
সূত্র: বিবিসি
চাঁদের ‘অন্ধকার অংশ’ দেখতে যাচ্ছে মানুষ: ৫০ বছর পর প্রথম রোমাঞ্চকর যাত্রা
চাঁদে মানুষের পদার্পণের অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কেন এখনো সেখানে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল দীর্ঘদিনের। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে নীল আর্মস্ট্রংয়ের সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর থেকে প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ঘটলেও, ২০২৬ সালে এসেও আমরা কেবল 'আর্টেমিস' মিশনের প্রস্তুতির স্তরে রয়েছি।
পদার্থবিজ্ঞানী মিচিও কাকুর মতে, বর্তমান স্মার্টফোনের কম্পিউটিং ক্ষমতা অ্যাপোলো মিশনের পুরো নাসা দলের চেয়েও বেশি। তবুও ২০২৮ সালের আগে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের পা রাখার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই বিলম্বের নেপথ্যে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং রাজনীতি, অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার এক জটিল সমীকরণ কাজ করছে।
স্মরণীয় সেই চন্দ্রবিজয় মূলত ছিল স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। তৎকালীন মার্কিন সরকার নাসার জন্য ফেডারেল বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছিল, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৩৫ শতাংশে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল রিচের মতে, বৈজ্ঞানিক কারণের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই তখন প্রাধান্য পেয়েছিল।
১৯৭২ সালের পর যখন খরচের বোঝা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, তখন নাসার মনোযোগ চাঁদের চেয়ে সাশ্রয়ী 'পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ' বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে সরে আসে। দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং তহবিলের অভাবে পরবর্তী দশকগুলোতে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন স্তিমিত হয়ে পড়ে।
নাসার বর্তমান 'আর্টেমিস' কর্মসূচি সেই পুরনো স্বপ্নকে নতুনভাবে এবং আরও টেকসই পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ৯৩ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ল্যান্ডার তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
তবে এবারের লক্ষ্য কেবল চাঁদে নামা নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি এবং কক্ষপথে চন্দ্র মহাকাশ স্টেশন তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানববাহী অভিযানের সোপান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৮ সালের লক্ষ্যমাত্রাটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, কারণ ল্যান্ডার ও উন্নত স্পেসস্যুট প্রস্তুতে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও বিলম্ব রয়ে গেছে।
চাঁদে নতুন করে এই আগ্রহের পেছনে আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রয়েছে চীন, যারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে দুর্লভ খনিজ সম্পদ এবং জলের অস্তিত্ব থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই সেখানে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।
যদিও জাতিসংঘের মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী চাঁদের মালিকানা কোনো দেশের নয়, তবে সেখানে অবস্থান ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। ব্রিটিশ নভোচারী হেলেন শারম্যানের মতে, মালিকানা না থাকলেও সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করার অধিকার দেশগুলোর রয়েছে।
আর্টেমিস-২ মিশনটি চাঁদে অবতরণ না করলেও এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর রিড ওয়াইজম্যান ও ক্রিস্টিনা কচের মতো চার নভোচারী সশরীরে চাঁদের সেই রহস্যময় 'অন্ধকার অংশ' বা দূরবর্তী গোলার্ধ দেখার সুযোগ পাবেন। চীন ও ভারত ইতিমধ্যে মানবরহিত যানের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি অন্বেষণ করলেও, মানুষের চোখে এটি দেখার অভিজ্ঞতা হবে অনন্য।
প্রাচীন লাভা প্রবাহ আর বিশাল গর্তে ঘেরা এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের তৈরি কম্পিউটিং ক্ষমতা যতই বাড়ুক, নভোচারী ক্রিস্টিনা কচের ভাষায়— 'মানুষের চোখই হলো অন্যতম সেরা বৈজ্ঞানিক যন্ত্র', যার মাধ্যমে মানবজাতি আবারও মহাকাশ জয়ের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
হৃৎস্পন্দনই এখন আপনার পাসওয়ার্ড! ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব
অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগ-ইন করার ঝামেলার দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলল। পাসওয়ার্ড মনে রাখা বা বারবার ফেস স্ক্যান করার পরিবর্তে এখন আপনার হৃৎস্পন্দন আর শ্বাস-প্রশ্বাসের কম্পনই হবে আপনার ডিজিটাল চাবিকাঠি। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়েছে ‘ভাইটাল-আইডি’ (Vital-ID) নামের এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি।
এই সিস্টেমটি মূলত ব্যবহারকারীর অজান্তেই তার মাথার খুলির ভেতর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম কম্পনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, যা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপের মতোই অনন্য। ২০২৫ সালের এসিএম কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সিকিউরিটিতে প্রথম পরিচিতি পাওয়া এই প্রযুক্তিটি বিশেষ করে ‘এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি’ (XR) বা ভার্চ্যুয়াল জগতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, ভাইটাল-আইডি প্রযুক্তিটি মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনের ফলে উৎপন্ন কম্পন ব্যবহার করে, যা ঘাড়ের মধ্য দিয়ে মাথার খুলিতে পৌঁছায়। যেহেতু প্রত্যেকের হাড়ের গঠন এবং টিস্যু আলাদা, তাই এই কম্পনের ধরনও ভিন্ন হয়।
রুটগার্স ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশলী ইয়িনইয়িং চেন জানিয়েছেন, এই সিস্টেমটি চালানোর জন্য বাড়তি কোনো হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই; আধুনিক হেডসেটগুলোতে থাকা মোশন সেন্সর এবং বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেই এটি কাজ করতে সক্ষম।
এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা ‘এক্সআর’ (ভার্চ্যুয়াল, অগমেন্টেড ও মিক্সড রিয়েলিটির সমন্বয়) প্রযুক্তি যখন স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জায়গা করে নিচ্ছে, তখন পাসওয়ার্ড টাইপ করার ঝামেলাহীন এই নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে গবেষকরা ১০ মাস ধরে ৫২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, সিস্টেমটি ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছে এবং অননুমোদিত ব্যবহারকারী ঠেকানোর ক্ষেত্রে এর সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশের বেশি।
গবেষক দলটি এমন একটি ফিল্টারিং সিস্টেম তৈরি করেছেন যা মাথা নাড়ানো বা শরীরের বড় নড়াচড়া থেকে তৈরি হওয়া বাধা দূর করে কেবল হৃদস্পন্দন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সূক্ষ্ম কম্পনগুলোকেই গ্রহণ করে।
কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে দেখা গেছে, একজনের মাথার খুলির কম্পন অন্য কারো পক্ষে নকল করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে এই প্রযুক্তিটির সাময়িক স্বত্বাধিকার বা পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে এবং এটি লাইসেন্স প্রদান ও গবেষণা সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবে এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এপ্রিলের আকাশে গ্রহদের মেলা! জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য দারুণ সময়
বসন্তের বিদায় আর কালবৈশাখীর এই সময়ে বাংলাদেশের আকাশ মাঝেসাঝে মেঘলা থাকলেও, আকাশ পরিষ্কার থাকলে এপ্রিলের প্রথম পক্ষকাল জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ সুযোগ নিয়ে আসছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে গ্রহদের মিলনমেলা, চাঁদের অবস্থান পরিবর্তন এবং উল্কাপাত দেখার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রিলের শুরুতেই সন্ধ্যার আকাশে শুক্র গ্রহকে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখা যাবে, যা ধীরে ধীরে তার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
পাশাপাশি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশে মঙ্গল গ্রহের লালচে আভা খালি চোখেই দেখা যাবে, বিশেষ করে বৃষ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি এর অবস্থান লক্ষ্য করা যাবে। যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা পূর্ব আকাশে শনি ও বৃহস্পতি গ্রহকে পাশাপাশি উদিত হতে দেখবেন; ১০ এপ্রিলের পর শনি গ্রহ দিগন্তের অনেকটা ওপরে উঠে আসায় টেলিস্কোপ দিয়ে এটি দেখার উপযুক্ত সময় হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষ ঘটনা 'কনজাংশন' বা গ্রহ-চাঁদের মিতালি দেখা যাবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল রাতে, যখন চাঁদকে মঙ্গল গ্রহের খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। বাইনোকুলার ব্যবহার করলে একই ফ্রেমে চাঁদ ও মঙ্গলের এই যুগলবন্দী দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থানেও পরিবর্তন আসছে; মাথার ঠিক ওপরে পূর্ব-দক্ষিণ আকাশে এখন সিংহ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের রাজত্ব দেখা যাবে, যার নীলচে-সাদা উজ্জ্বল নক্ষত্র 'রেগুলাস' স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি নক্ষত্র অনেক উঁচুতে অবস্থান করায় এই সময়ে ধ্রুবতারা খুঁজে পাওয়াও অনেক সহজ হবে। আকাশপ্রেমীদের জন্য এপ্রিলের এই ১৫ দিন মহাজাগতিক সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য সময় হতে যাচ্ছে।
সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ
পাঠকের মতামত:
- বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ
- যে ৬ শর্তে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল
- যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা
- তেলের দামে বড় পতন
- বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই
- লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল
- শনিবার যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
- ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে উত্থান-পতনের লড়াই
- সোনা-রুপার দামে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশে
- আজকের লাইভ খেলা: কোথায় কিভাবে দেখবেন সব ম্যাচ
- আজ ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে? জেনে নিন
- আজ ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না, জানুন এলাকা
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ১৭ এপ্রিল মুদ্রা বাজারে টাকার বিপরীতে মুদ্রা রেট দেখুন
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ, বের হওয়ার আগে জানুন
- শুক্রবারের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- বিদায় বেলায় অশ্রুসিক্ত শিক্ষার্থীরা: মরিচা ছায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল
- চরভদ্রাসন উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিক্ষাকার্যক্রম
- অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করায়, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
- খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে কুমিল্লার আলোচনা
- সতর্কবার্তা: শুক্রবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়!
- বিরতির সময় গান? ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর বিশাল চমক
- জুলাই সনদ ও ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- হরমুজে পা রাখলেই ধ্বংস হবে মার্কিন জাহাজ: মোহসেন রেজায়ির হুঁশিয়ারি
- পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ‘বিশৃঙ্খলার দেবতা’! মহাকাশে টানটান উত্তেজনা
- বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ
- আমেরিকার চোখে ধুলা! রণতরী এড়িয়ে পারস্য উপসাগরে ইরানের সুপার ট্যাংকার
- যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর
- ইতিহাসের সাক্ষী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন: জাইমার হাতে দাদির স্বর্ণপদক
- ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ ট্রাম্পকে ইরানের বার্তা
- বৈশাখের তাণ্ডব শুরু? শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা
- হাসিন আমলের হয়রানিমূলক মামলার দিন শেষ! শুরু হচ্ছে গণপ্রত্যহার
- টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন আজকের লেটেস্ট কারেন্সি রেট
- নিজেকে ‘যিশু’ দাবি করলেন ট্রাম্প! পোপকে আক্রমণে উত্তাল আমেরিকা
- জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’ হত্যা মামলা: আজ কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জন
- শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি
- এসএসসিতে ভয়ংকর সাইলেন্ট এক্সপেল: বুঝতেই পারবে না খাতা বাতিল!
- ইংল্যান্ডের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে টাইগাররা! ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তনের হাতছানি
- মহাকাশ থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের থাবা! নেপথ্যে চীনের গোপন স্যাটেলাইট
- ডায়াবেটিস কি তবে শেষ? ছোলার পানির জাদুকরী ক্ষমতা!
- ৩৪ বছর পর মুখোমুখি! ট্রাম্পের জাদুতে সংলাপে ইসরায়েল-লেবানন
- যুদ্ধ না কি শান্তি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের ৪টি ভয়ংকর দৃশ্যপট
- আমেরিকাকে চরম চাপে ফেলল ইরান! হরমুজ নিয়ে নতুন প্রস্তাব
- সর্বোচ্চ সম্মাননায় খালেদা জিয়া: আজ পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী
- এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
- হরমুজে নতুন শর্ত, ইরানের প্রস্তাবে চমক
- ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে ৩৯ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
- ঢাকার আজকের আবহাওয়া আপডেট
- এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- আদালতের আদেশ অমান্য! কালিগঞ্জে মসজিদের জমি দখলে নিতেই তুলকালাম
- ১৪ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসই আপডেট, লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত
- আজকের লাইভ খেলা, কখন কোথায় দেখবেন
- ইসরাইলে ১৩ লক্ষ্যবস্তুতে হিজবুল্লাহর হামলা
- শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ, জানুন এলাকা
- আজকের মুদ্রার রেট: জেনে নিন কোন দেশের কত টাকা
- তেলের দামে বড় পতন
- ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ! কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ছাড়ছে আমেরিকা
- মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর
- ক্রেতাদের জন্য সুখবর, কমলো স্বর্ণের দর
- "ইরানের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকা"








