বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৮:২৫:৪৩
বুধ গ্রহ: ছোট হলেও বিস্ময়ে ভরা এক জগৎ
ছবি: সংগৃহীত

সৌরজগতের সবচেয়ে ভেতরের গ্রহ বুধকে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা এক রহস্যময় জগত হিসেবে দেখেছেন। সূর্যের এত কাছাকাছি অবস্থান, আকারে তুলনামূলক ছোট হওয়া এবং আকাশে খুব অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান থাকার কারণে এই গ্রহকে খালি চোখে দেখা সবসময়ই কঠিন ছিল। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে বা সূর্যাস্তের পর স্বল্প সময়ের জন্য এটি দেখা গেলেও পূর্ণ অন্ধকার আকাশে বুধ কখনও স্পষ্টভাবে ধরা দেয় না। এ কারণেই হাজার হাজার বছর ধরে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও বুধ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান দীর্ঘকাল অসম্পূর্ণ ছিল।

ইতিহাস বলছে, সুমেরীয় সভ্যতার সময়েও বুধকে মানুষ চিনত। প্রাচীন গ্রিকরা ভোরের আকাশে দেখা গেলে একে ‘অ্যাপোলো’ আর সন্ধ্যায় দেখা গেলে ‘হার্মিস’ বলত। পরে রোমানদের দেবদূত ‘মারকারি’-এর নামেই এর আধুনিক নাম হয় ‘Mercury’। আকাশে অন্য গ্রহগুলোর তুলনায় দ্রুত সরে যেতে দেখা যেত বলেই সম্ভবত এই নামকরণ। এমনকি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথিকৃৎ নিকোলাস কোপার্নিকাসও জীবদ্দশায় বুধকে নিজের চোখে দেখতে না পারার আফসোস করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে।

আকারে ছোট, কিন্তু বৈশিষ্ট্যে চরম

বুধের গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ২,৪৩৯.৭ কিলোমিটার। এটি সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম প্রধান গ্রহ, এমনকি বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের কিছু উপগ্রহের চেয়েও ছোট। কিন্তু ছোট হলেও বুধের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। এর বিশাল লৌহসমৃদ্ধ কেন্দ্র বা কোর গ্রহটির মোট আয়তনের বড় অংশ দখল করে আছে। এই কোরই বুধকে অস্বাভাবিকভাবে ঘন করেছে। পৃথিবীর চেয়েও কম ভর নিয়ে এত বেশি ঘনত্বের গ্রহ হওয়া বুধকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

বুধের মোট ভরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রয়েছে এর ধাতব কোরে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর বাইরের পাথুরে আবরণ তুলনামূলকভাবে খুব পাতলা। ফলে বুধকে প্রায় একটি বিশাল লোহার গোলক বললেও ভুল হবে না, যার ওপর কেবল অল্প একটি পাথুরে স্তর রয়েছে।

সূর্যের খুব কাছে বলেই সবচেয়ে অদ্ভুত

বুধের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে লাগে মাত্র ৮৭.৯৭ পৃথিবী দিন। অর্থাৎ সৌরজগতের সব গ্রহের মধ্যে এর বছর সবচেয়ে ছোট। কিন্তু মজার বিষয় হলো, নিজের অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে বুধের লাগে প্রায় ৫৮.৬ পৃথিবী দিন। এর মানে, বুধে একটি দিন এবং একটি বছরের সম্পর্ক পৃথিবীর মতো নয়। বুধের একটি সৌরদিন প্রায় ১৭৫.৯ পৃথিবী দিনের সমান। সহজভাবে বললে, বুধে সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় পৃথিবীর প্রায় ছয় মাসের সমান।

এর কক্ষপথও অত্যন্ত উপবৃত্তাকার বা দীর্ঘবৃত্তাকার। ফলে কখনও এটি সূর্যের খুব কাছে চলে আসে, আবার কখনও তুলনামূলক দূরে সরে যায়। সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকলে বুধের আকাশে সূর্য অনেক বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। কিছু অবস্থানে এমনও দেখা যায় যে, বুধের আকাশে সূর্য যেন সাময়িকভাবে দিক পাল্টে ফিরে যাচ্ছে। এই বিরল দৃশ্য সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে এভাবে দেখা যায় না।

বুধের তাপমাত্রা: দিনে অগ্নিকুণ্ড, রাতে বরফশীতল

বুধের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি হলো এর চরম তাপমাত্রা পার্থক্য। দিনের বেলায় সূর্যের তীব্র তাপে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৭০০ কেলভিন বা ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আবার দীর্ঘ রাতের শেষে তা নেমে যেতে পারে প্রায় ৯০ কেলভিন বা মাইনাস ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। অর্থাৎ একই গ্রহে এমন তাপমাত্রা ওঠানামা হয়, যা সৌরজগতের ভেতরের শিলা গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চরম।

এই বিশাল তাপমাত্রা পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো, বুধের কোনো ঘন বায়ুমণ্ডল নেই যা তাপ ধরে রাখতে পারে। ফলে দিনের তাপ দ্রুত মহাশূন্যে হারিয়ে যায় এবং রাত হয়ে ওঠে ভয়ংকর ঠান্ডা।

বায়ুমণ্ডল নেই, তবু একেবারেই শূন্য নয়

বুধের ঘন বায়ুমণ্ডল নেই, তবে একেবারে কিছুই নেই এমন নয়। এর চারপাশে অত্যন্ত পাতলা একধরনের গ্যাসীয় আবরণ রয়েছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘এক্সোস্ফিয়ার’ বলেন। এতে হিলিয়াম, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ কিছু পরমাণু পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশিরভাগই আসে সৌর বায়ুর প্রভাব, উল্কাপিণ্ডের আঘাত অথবা পৃষ্ঠ থেকে কণিকা ছিটকে উঠে যাওয়ার ফলে।

বিশেষভাবে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি কাড়ে, কারণ এগুলো দূরবীন থেকেও ধরা যায়। এই পাতলা গ্যাসস্তর বুধের চারপাশে অনেকটা ধূমকেতুর লেজের মতো আচরণ করে।

সূর্যের এত কাছে, তবু বুধে আছে বরফ

শোনার পর অবিশ্বাস্য মনে হলেও বুধের মেরু অঞ্চলের কিছু গভীর গহ্বরে জলীয় বরফের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেসব গহ্বরের তলদেশে কখনও সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে কোটি কোটি বছর ধরে বরফ জমে থাকতে পারে। মহাকাশযান Messenger নিশ্চিত করেছে যে, এসব অন্ধকার গহ্বরে বরফের স্তর আছে এবং তার ওপর কালচে জৈব পদার্থের মতো একটি আবরণও রয়েছে। এই আবরণ বরফকে দ্রুত উবে যাওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা করে।

এই আবিষ্কার বুধ সম্পর্কে মানুষের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে। একসময় ভাবা হতো সূর্যের এত কাছে কোনো গ্রহে বরফ থাকা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, সঠিক ভূপ্রকৃতি থাকলে চরম উষ্ণ জগতেও স্থায়ী ছায়া বরফকে ধরে রাখতে পারে।

বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র: ছোট গ্রহ, বড় বিস্ময়

বুধের আরেকটি বড় বিস্ময় হলো এর নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র। এই চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীর তুলনায় অনেক দুর্বল হলেও এটি বাস্তব এবং সক্রিয়। এত ছোট ও ধীরগতিতে ঘূর্ণনশীল একটি গ্রহে এমন চৌম্বক ক্ষেত্র থাকবে, বিজ্ঞানীরা আগে তা খুব বেশি আশা করেননি। ধারণা করা হয়, বুধের তরল বাইরের কোরে বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থের চলাচলের কারণেই এই ক্ষেত্র তৈরি হয়।

Messenger মহাকাশযানের তথ্য দেখিয়েছে, বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র মোটামুটি দ্বিমেরু প্রকৃতির, অর্থাৎ পৃথিবীর ক্ষেত্রের মতোই একটি উত্তর ও দক্ষিণ মেরু ধরনের গঠন আছে। এর ফলে সূর্য থেকে আসা চার্জিত কণার সঙ্গে বুধের এক ধরনের ক্ষুদ্র ম্যাগনেটোস্ফিয়ার তৈরি হয়।

পৃষ্ঠতল দেখতে চাঁদের মতো, কিন্তু ভেতরে আলাদা গল্প

প্রথম দেখায় বুধের পৃষ্ঠতল অনেকটা চাঁদের মতো মনে হয়। অসংখ্য গহ্বর, আঘাতের চিহ্ন, ফাটল আর সমতল অঞ্চল নিয়ে এর চেহারা রুক্ষ ও ক্ষতবিক্ষত। কিন্তু গভীরে গেলে বোঝা যায়, এটি কেবল চাঁদের অনুকরণ নয়। বুধের পৃষ্ঠে বিশাল ভাঁজ, খাড়া ঢালু দাগ এবং লম্বা ‘lobate scarps’ রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে গ্রহটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংকুচিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভেতরের অংশ ঠান্ডা হয়ে ছোট হতে থাকায় বাইরের ভূত্বকে ভাঁজ পড়ে এই দাগগুলো তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় বুধের ব্যাস কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কমে গেছে। অর্থাৎ বুধ এখনও ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হচ্ছে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Caloris Basin: বুধের দানবীয় আঘাতচিহ্ন

বুধের সবচেয়ে বিখ্যাত ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হলো Caloris Basin, যা একটি বিশাল আঘাতজনিত অববাহিকা। এর ব্যাস প্রায় ১,৫৫০ কিলোমিটার। একে ঘিরে আছে পাহাড়ি বলয়, ভাঙা-চোরা ভূমি, রেডিয়াল ফাটল এবং তুলনামূলক মসৃণ সমভূমি। ধারণা করা হয়, সৌরজগতের প্রাচীন ইতিহাসে এক বিশাল উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এই অববাহিকা তৈরি হয়েছিল।

এর বিপরীত পাশে পাওয়া গেছে অদ্ভুত বিকৃত ভূভাগ, যা সম্ভবত ওই বিশাল আঘাতের ভূকম্পীয় তরঙ্গ গ্রহের অন্য পাশে গিয়ে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ফলে তৈরি হয়েছিল। এটি দেখায়, বুধ কেবল আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়নি, সেই আঘাত তার পুরো ভূতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে দিয়েছে।

বুধকে জানা কেন এত কঠিন ছিল

সূর্যের এত কাছাকাছি থাকায় পৃথিবী থেকে বুধকে দেখা সবসময়ই কঠিন। এটি কখনও সূর্য থেকে খুব বেশি কৌণিক দূরত্বে সরে যায় না। ফলে দিগন্তের কাছে, ঘন বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে, গোধূলি বা প্রভাতের অল্প সময়েই বুধকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এমনকি হাবল টেলিস্কোপের মতো মহাকাশ দূরবীনও সূর্যের খুব কাছে তাকানোর সীমাবদ্ধতার কারণে সহজে বুধ পর্যবেক্ষণ করতে পারে না।

মহাকাশযান পাঠানোও সহজ ছিল না। সূর্যের তীব্র মহাকর্ষের কারণে কোনো মহাকাশযানকে বুধের কক্ষপথে ঢোকাতে বিপুল জ্বালানি ও জটিল গতিপথ পরিকল্পনা দরকার হয়। এ কারণেই বুধে অভিযান ইতিহাসে তুলনামূলক কম।

Mariner 10 থেকে Messenger: বুধ গবেষণায় বড় অগ্রগতি

বুধে প্রথম পৌঁছানো মহাকাশযান ছিল Mariner 10, যা ১৯৭৪-৭৫ সালে গ্রহটির তিনটি ফ্লাইবাই করে। এটি বুধের প্রায় ৪৫ শতাংশ পৃষ্ঠের ছবি তুলেছিল এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্তিত্বের মতো চমকপ্রদ তথ্য দেয়।

এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে Messenger মিশনে। ২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর এটি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ফ্লাইবাই করে এবং ২০১১ সালে বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করে। পুরো পৃষ্ঠ মানচিত্রায়ন, রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ, মেরু অঞ্চলের বরফ শনাক্তকরণ এবং অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে Messenger বুধ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বিপুলভাবে বাড়িয়ে দেয়। ২০১৫ সালে জ্বালানি শেষ হয়ে এটি বুধের পৃষ্ঠে আঘাত করে মিশন শেষ করে।

BepiColombo: নতুন যুগের অপেক্ষা

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং জাপানের মহাকাশ সংস্থার যৌথ মিশন BepiColombo বুধ গবেষণার নতুন অধ্যায়। ২০১৮ সালে উৎক্ষেপিত এই মহাকাশযান ২০২৫ সালে বুধে পৌঁছে কক্ষপথে কাজ শুরু করার কথা। এতে দুটি অরবিটার রয়েছে, একটি গ্রহের পৃষ্ঠ ও গঠন নিয়ে কাজ করবে, অন্যটি বুধের চৌম্বক ক্ষেত্র ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ করবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশন বুধের উৎপত্তি, কোরের প্রকৃতি, ভূতত্ত্ব এবং সৌর বায়ুর সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য দেবে।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ প্রমাণে বুধের ভূমিকা

বুধের গুরুত্ব শুধু গ্রহ হিসেবে নয়, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসেও বিশাল। এর কক্ষপথে সূক্ষ্ম এক অস্বাভাবিক অগ্রগতি বা precession বহুদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছিল। নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব দিয়ে এর বেশিরভাগ ব্যাখ্যা করা গেলেও সামান্য অংশ ব্যাখ্যাতীত ছিল। ১৯১৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন দেখান যে, সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এই অসামঞ্জস্য পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে। এভাবেই বুধের কক্ষপথ আইনস্টাইনের তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ভবিষ্যতের প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

Messenger অনেক প্রশ্নের উত্তর দিলেও বুধকে ঘিরে এখনো বহু রহস্য অমীমাংসিত। গ্রহটি ঠিক কীভাবে এত বিশাল ধাতব কোর পেল, কেন এর পৃষ্ঠে এত বেশি সালফার, কীভাবে এর ভেতর এখনো আংশিক গলিত থাকতে পারে, আর কতদিন ধরে এর সংকোচন চলছে এসব প্রশ্ন এখনও গবেষণার বিষয়।

সব মিলিয়ে, বুধ শুধু সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ নয়, এটি সৌরজগতের সবচেয়ে চরম, জটিল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ জগতগুলোর একটি। আগুনের কাছাকাছি থেকেও বরফ ধারণ করা, ছোট হয়েও চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা, আর প্রাচীন ক্ষত বয়ে নিয়েও আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে যাওয়া এসব কারণেই বুধকে বলা যায় রহস্যে মোড়া এক অবিশ্বাস্য গ্রহ।

সূত্র: ব্রিটানিকা


সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:৪০:৩৮
সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন, কফি তৈরি কিংবা ককটেল বানানোর মতো সেবামূলক কাজে রোবটের ব্যবহার এখন আর নতুন কোনো দৃশ্য নয়। তবে কাজের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় এসব যন্ত্র এখন গ্রাহকের কাছে ‘টিপস’ বা বকশিশও দাবি করছে। যন্ত্রের এমন আর্থিক দাবি নতুন এক নৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—রোবটকে দেওয়া সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত কার পকেটে যাচ্ছে? বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

লাস ভেগাসের একটি স্বয়ংক্রিয় বারে রোবটের তৈরি ১৭ ডলারের ককটেলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ১০ শতাংশ ‘সার্ভিস ফি’ যুক্ত করা হচ্ছে, নিউইয়র্কের রোবট কফি শপে ডিজিটাল টিপ দেওয়ার অপশন রাখা হয়েছে এবং এমনকি নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরের সম্পূর্ণ কর্মীহীন কিয়স্কেও পানীয় কেনার সময় টিপস দেওয়ার প্রস্তাব ভেসে উঠছে স্ক্রিনে।

সাধারণত কোনো মানবকর্মীর ভালো সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে বা তাঁর বাড়তি আয়ের সুবিধার্থে মানুষ স্বেচ্ছায় বকশিশ দিয়ে থাকে। তবে রোবটের ক্ষেত্রে সেই টাকা কার হাতে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে চরম অস্বচ্ছতা। বিশ্লেষকদের মতে, রোবটের জন্য নেওয়া টিপসের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়নি।

ফলে গ্রাহকের দেওয়া এই অর্থ কোথাও প্রতিষ্ঠানের সাধারণ মানবকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে জমা হচ্ছে। লেহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হলোনা ওকস উল্লেখ করেছেন, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান রোবটকে সামনে রেখে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া টিপস নিজেদের তহবিলে রেখে দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে, যদিও বিষয়টি প্রমাণের পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ মানবকর্মীদের মাঝে বণ্টন করার কথা জানিয়েছে এবং গ্রাহকদের অসন্তোষের মুখে কেউ কেউ রোবট থেকে টিপসের অপশন পুরোপুরি সরিয়েও নিয়েছে।

সেবা খাতে রোবটের ব্যবহারকারীরা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, কর্মীসংকটের সময়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে মানবকর্মীরা টেবিল সার্ভিস বা অন্যান্য জটিল কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। তবে সমালোচকদের দাবি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আড়ালে একদিকে যেমন কর্মীদের বিকল্প হিসেবে যন্ত্র বসিয়ে কর্মসংস্থান কমানো হচ্ছে, অন্যদিকে কম মজুরির চাপ তৈরি হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ রোবট বারটেন্ডারকে টিপ দিতে আগ্রহী, তবে সেই অর্থ কোনো মানবকর্মীর কাছে যাবে—এমন নিশ্চয়তা পেলে প্রায় ৪২ শতাংশ গ্রাহক টিপস দিতে রাজি হন।

সামাজিক দায়বদ্ধতা, সেবার স্বীকৃতি কিংবা সহানুভূতি—যেসব মনস্তাত্ত্বিক কারণে মানুষ সচরাচর বকশিশ দেয়, যন্ত্রের ক্ষেত্রে তার কোনোটিই পুরোপুরি খাটে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে সেবা খাতে এমন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হয়তো আরও বাড়বে, তবে স্ক্রিনে ভেসে ওঠা টিপসের বিকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। ফলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবট অর্থ চাইলেও মূল বিতর্কটি থেকেই যাচ্ছে—এই বাড়তি অর্থের সুফল কার কাছে পৌঁছাচ্ছে, যন্ত্রের পেছনে থাকা কর্মীদের কাছে, নাকি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কাছে?

/আশিক


বহু প্রতীক্ষিত উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হচ্ছে অ্যাপল, রয়েছে বড় চমক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২০:১৭:১১
বহু প্রতীক্ষিত উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হচ্ছে অ্যাপল, রয়েছে বড় চমক
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ৯ সেপ্টেম্বর নতুন প্রজন্মের আইফোনসহ একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য উন্মোচনের লক্ষ্যে বিশেষ এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ‘অ্যাপল পার্ক’-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশেষ আয়োজনের মূল ভাব বা ট্যাগলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’।

প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এবারের আয়োজনটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে নেতৃত্বের পরিবর্তনের কারণে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়, অর্থাৎ ২০১১ সাল থেকে সফলভাবে অ্যাপলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস। ফলে তাঁর নেতৃত্বে প্রধান হিসেবে অ্যাপলের নতুন কোনো প্রযুক্তিপণ্য উন্মোচনের এটিই হবে সর্বপ্রথম বৈশ্বিক মঞ্চ।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে মূলত আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেল দুটি আত্মপ্রকাশ করতে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নতুন এই দুটি সংস্করণে বড় কোনো আকস্মিক পরিবর্তন না এনে পূর্ববর্তী ফিচারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত আইফোন ১৮ মডেলটি এবার নাও দেখা যেতে পারে; বরং আগামী বছরের কোনো এক সময়ে তা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বহুল আলোচিত ফোল্ডেবল আইফোন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান স্যামসাংসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে, যেখানে অ্যাপল এখনো পর্যন্ত প্রথাগত কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে অ্যাপল যদি সত্যিই ভাঁজযোগ্য ফোনের ঘোষণা দেয়, তবে তা হবে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল বিস্ময়।

স্মার্টফোনের পাশাপাশি আয়োজনে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং নতুন সংস্করণের অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা প্রদর্শনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্মার্ট-হোম প্রযুক্তির আওতায় কয়েকটি নতুন গৃহস্থালি গ্যাজেটও উন্মোচিত হতে পারে। এছাড়া আইওএস ২৭, আইপ্যাডওএস ২৭ এবং ম্যাকওএস গোল্ডেন গেট-এর মতো পরবর্তী প্রজন্মের সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেমগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য কবে উন্মুক্ত করা হবে, সেই আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণও একই মঞ্চ থেকে জানানো হতে পারে। নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব, ভাঁজযোগ্য প্রযুক্তি এবং পরবর্তী প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেমের যুগপৎ মেলবন্ধনে ৯ সেপ্টেম্বরের এই ইভেন্টটি অ্যাপলের ইতিহাসে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।

/আশিক


১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ২১:২৯:৪৪
১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের শারীরিক গতির সক্ষমতাকে রোবট ছাড়িয়ে যেতে পারে কি না, সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে চীনের তৈরি মানবসদৃশ রোবট ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’। বেইজিংয়ে চলমান ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এর লার্জ-সাইজ ক্যাটাগরির সেমিফাইনালে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ৮.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিস্ময়কর এক নতুন রেকর্ড গড়েছে এটি।

এর মাধ্যমে উদ্বোধনী দিনে নিজের গড়া ৯.৩৯ সেকেন্ডের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি রোবটটি কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের ২০০৯ সালের মানব বিশ্বরেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ডকেও ০.৭২ সেকেন্ডের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।

বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের উদ্ভাবিত তিয়ানগং আল্ট্রার এমন গতি আসরটির প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৬৬৬টি দলের দুই সহস্রাধিক রোবট ফুটবল, নৃত্য এবং শিল্প কারখানার কাজসহ মোট ৫১টি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তবে দ্রুততম মানবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এই ঐতিহাসিক দৌড় শেষেই ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। ফিনিশ লাইন অতিক্রমের পর অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রোবটটি সামনে থাকা একটি পুরু ম্যাটে সজোরে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং এর ভেতরের অংশে আগুন ধরে যায়। এমনকি অন্য একটি সেমিফাইনাল হিটে অংশ নেওয়া আরেকটি রোবট দৌড়ের মাঝপথেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে আসরের উদ্বোধনী দিনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দৌড় উপহার দেয় তিয়ানগং। শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের গতিতে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের রোবট ‘লাইটনিং’কে পরাস্ত করে এটি। ওই হিটে লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ড সময় নেয়, যা বোল্টের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও কম; যদিও এর আগের একটি ট্রায়ালে লাইটনিংয়ের টাইমিং ছিল ৯.৩২ সেকেন্ড।

তিয়ানগংয়ের উন্নতির গ্রাফটি অত্যন্ত লক্ষণীয়, কারণ গত বছর প্রথম আসরে একই ইভেন্টে এটি সময় নিয়েছিল ২১.৫০ সেকেন্ড এবং হিউম্যানয়েড হাফ-ম্যারাথনে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় নিয়ে শীর্ষস্থান পেয়েছিল। এছাড়া ১০০ মিটারের বাইরে ৪০০ মিটারে ৩৮.১৫ সেকেন্ড, ১৫০০ মিটারে ২ মিনিট ২১.৬৪ সেকেন্ড এবং হাইজাম্পে ২.৮৮ মিটারের মতো মানুষের একাধিক বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি রয়েছে এর ঝুলিতে।

চীনের কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল, ক্লাউড জায়ান্ট বাইদু এবং শাওমির রোবটিক্স ইউনিটের যৌথ অংশীদারিত্বে এই উদ্ভাবনী কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটর এবং আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়ে এমন হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করে দেশের উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও সেবা খাতে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই চীনের মূল লক্ষ্য। এই প্রযুক্তি খাতকে বেইজিং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও কৌশলগত শিল্প হিসেবে মূল্যায়ন করছে।

তথ্য সূত্র : এনবিসি নিউজ।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৯:৪২:৫২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, দাপ্তরিক কাজ, তথ্য অনুসন্ধান কিংবা নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে এটি নিয়মিত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে দৈনন্দিন জীবনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহার নানা ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতাও তৈরি করছে। বিশেষ করে কিছু অতি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অন্ধ নির্ভরতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। এমন অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা প্রয়োজন।

শারীরিক অসুস্থতা বা রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কখনোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গের ভিত্তিতে এআই হয়তো কিছু প্রাথমিক তথ্য দিতে পারে, তবে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সর্বদা পেশাদার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। একইভাবে মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর কোনো সমস্যায় এআইয়ের ওপর নির্ভর করা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে; এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সরাসরি সহায়তা নেওয়া আবশ্যক।

অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো তাৎক্ষণিক জরুরি মুহূর্তে এআইয়ের কাছে সমাধান না খুঁজে স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী সেবা ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ, ঋণ গ্রহণ, আয়কর পরিশোধ কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়ে এআইয়ের হিসাব বা মতামতকে চূড়ান্ত ধরা অনুচিত। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সনদপ্রাপ্ত অর্থনীতি বা অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সুরক্ষার স্বার্থে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, পরিচয়পত্র কিংবা অফিসের অতি গোপনীয় নথি কখনোই এআই প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ঠিক নয়। পাশাপাশি যেকোনো প্রকার বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ছক আঁকা কিংবা বাস্তবায়নে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়, কেননা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হলেও আইন লঙ্ঘনের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতায় এআইয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করা উত্তর নিজের নামে জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন। অন্যদিকে চলমান তাৎক্ষণিক ঘটনা বা ব্রেকিং নিউজের ক্ষেত্রে এআইয়ের তথ্যের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যাবে না; এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য মূলধারার নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও প্রকৃত উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

অনেকেই জুয়ায় নিশ্চিত জয়ের উপায় জানতে এআইয়ের দ্বারস্থ হন, যা একেবারেই অর্থহীন এবং এর ওপর ভিত্তি করে বাজি ধরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া উইল বা সম্পত্তির বণ্টননামা এবং চুক্তিপত্রের মতো সংবেদনশীল ও আইনগত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরিতে এআইয়ের খসড়া সরাসরি ব্যবহার করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে দেশের প্রচলিত আইনের জটিল ফাঁকফোকর থেকে যেতে পারে। সর্বশেষ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি করা মারাত্মক আইনি অপরাধ ও অনৈতিক কাজ, যা বিশেষ করে পরিচিত মুখ বা তারকাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংবেদনশীল।

সার্বিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে একটি কার্যকরী ও শক্তিশালী সহায়ক মাধ্যম, কিন্তু এটি কখনোই অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আইনজীবী, আর্থিক বিশ্লেষক বা মানুষের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার বিকল্প হতে পারে না। তাই সংবেদনশীল প্রতিটি পদক্ষেপে তথ্য যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

/আশিক


ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:৪০:২২
ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
ছবি : সংগৃহীত

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে ‘ম্যাডর‍্যাক্স’ নামে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি দেশের চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের তথ্য তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিডিজবস।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ‘ম্যাডর‍্যাক্স’ পরিচয়ধারী গোষ্ঠীটি। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, এসব তথ্য বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

হ্যাকার গোষ্ঠীটির পোস্ট অনুযায়ী, এসব সিভির একটি কপির জন্য দাম চাওয়া হয়েছে এক হাজার মার্কিন ডলার। সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে তথ্যগুলো বিক্রি করা হবে বলেও বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে পেটিএম, ওয়াইজ, পেইউ এবং বাইন্যান্সের নাম দেওয়া হয়েছে।

নিজেদের দাবির পক্ষে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। প্রকাশিত এসব সিভি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ নথিই পুরোনো। বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সর্বশেষ হালনাগাদ করা সিভির সংখ্যা বেশি।

প্রকাশিত ১৪৮টি সিভির মধ্যে দুজনের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেছেন। তারা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে তারা বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করেছিলেন।

সম্ভাব্য এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, একজন ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবনের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া গেলে তার বিস্তারিত ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ চালানো সম্ভব। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের এমন সম্ভাব্য ফাঁসকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন তিনি।

তবে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে ফাঁস হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিডিজবস। তথ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল কারা দেখতে পারবেন এবং কারা পারবেন না, সে বিষয়েও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

ফাহিম মাশরুর জানান, বিডিজবসে নিবন্ধিত লক্ষাধিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে। তবে এসব তথ্য কেবল নিজেদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে তাদের।

তিনি আরও বলেন, কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করলে এবং বিষয়টি বিডিজবসের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো


আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:৩১:৫৫
আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন প্রযুক্তি: সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য জানাল বিএনপি
ছবি : সংগৃহীত

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ‘গ্রাউন্ড মাস্টার ৪০০’ (Ground Master 403M) রাডার এবং নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। রবিবার (২৩ আগস্ট) দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রকাশিত বার্তায় উল্লেখ করা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থার ফলে ঢাকা-কেন্দ্রিক প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরীয় আকাশসীমায় সর্বোচ্চ ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়োজাহাজের অবস্থান রিয়েল-টাইমে অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নতুন এই রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের আকাশসীমা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও আধুনিক রূপ পাবে। একই সঙ্গে আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জোরদার হবে।

উন্নত এই প্রযুক্তির সুবাদে আকাশসীমায় চলাচলকারী যেকোনো উড়োজাহাজের গতিবিধি ও অবস্থান মুহূর্তেই সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে বলেও দলটির ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে।

তবে নতুন রাডারটি ঠিক কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পের বিস্তারিত কারিগরি রূপরেখা সম্পর্কে বিএনপির ওই বার্তায় বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

/আশিক


ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:২২:২০
ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য পাবলিক ভিউ গণনার নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন আসছে। প্ল্যাটফর্মটিতে এখন থেকে কোনো ভিডিও চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা একটি ভিউ হিসেবে গণনা করা হবে। আগামী ২৪ আগস্ট থেকে ভিডিও ও সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ ভিডিওর ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে বুধবার অফিশিয়াল ব্লগ পোস্টে নিশ্চিত করেছে ইউটিউব।

পূর্বে কোনো ভিডিওর ক্ষেত্রে ভিউ গণনার জন্য দর্শককে অন্তত ৩০ সেকেন্ড সেটি চালু রাখতে হতো। নতুন নিয়মে ভিডিওর প্রথম ফ্রেম চালু হওয়ামাত্রই ভিউ যুক্ত হবে। এর ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রকাশিত ভিডিওতে সামগ্রিক ভিউ সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়লেও শুধু এই সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভিডিওর প্রকৃত দর্শকপ্রিয়তা বা আকর্ষণ যাচাই করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

ইউটিউবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভিডিওর জন্য ভিউ গণনার আলাদা পদ্ধতি থাকায় নির্মাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল। দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার সব ফরম্যাটকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় এনে বিভ্রান্তি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর শর্টস ভিডিওর ক্ষেত্রেও চালু হওয়ামাত্র ভিউ গণনার এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল।

তবে ভিডিওর পুরনো পরিমাপ ব্যবস্থা একেবারে বাতিল করা হচ্ছে না। নির্মাতারা তাঁদের ইউটিউব অ্যানালিটিকসে ‘এনগেজড ভিউস’ অপশনের মাধ্যমে ভিডিও চালুর সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে দর্শকরা কতক্ষণ দেখেছেন—এ দুটি তথ্যই আলাদাভাবে দেখতে পাবেন।

নতুন এই নিয়মের কারণে নির্মাতাদের আয় কিংবা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের নীতিমালায় কোনো প্রভাব পড়বে না। ইউটিউব স্পষ্ট করেছে যে পাবলিক ভিউ বেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে কনটেন্ট নির্মাতার আয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শর্টসের আয়ের জন্য ‘এনগেজড শর্টস ভিউস’ এবং সাধারণ ভিডিওর ক্ষেত্রে ‘এনগেজড ওয়াচ আওয়ার্স’ আগের মতোই মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, প্ল্যাটফর্মটিতে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়ের যোগ্যতা অর্জনে ওয়াচ আওয়ার ও শর্টস ভিউয়ের শর্ত ২০২৭ সাল থেকে আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউটিউব।

/আশিক


চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৯:৪০:০৯
চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘সাইবারক্যাব’ চালকহীন বাণিজ্যিক পরিষেবায় যুক্ত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদন ও টেসলার রোবোট্যাক্সি বিভাগের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে দুই আসনবিশিষ্ট এই রোবোট্যাক্সির যাত্রা শুরু হতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি টেসলার নিজস্ব কর্মীদের ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে এবং পরবর্তীতে তা অস্টিনের মূল রোবোট্যাক্সি নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় যাত্রী পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই সাইবারক্যাব প্রচলিত গাড়ির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল বা প্যাডেল নেই এবং পুরো চলাচল ব্যবস্থাটি টেসলার উন্নত ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে ফ্লোরিডার মায়ামি, অরল্যান্ডো ও ট্যাম্পা এবং টেক্সাসের অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনে টেসলা তাদের ‘মডেল ওয়াই’ গাড়ি দিয়ে সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি সেবা পরিচালনা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাইবারক্যাবের সংযোজন স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন খাতে একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বাণিজ্যিকভাবে সাইবারক্যাব চালু করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি অনুমোদন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্টিয়ারিং হুইল ছাড়া গাড়ি দিয়ে বাণিজ্যিক যাত্রীসেবা পরিচালনার সাধারণ অনুমতি নেই, যার জন্য বিশেষ সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে ব্যাপক উৎপাদনের পরিকল্পনায় থাকা এই বিশেষ যানটির আইনি বাধা দূর করে সফল পরিচালনা টেসলার সার্বিক স্বায়ত্তশাসিত পরিবহন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: ম্যাশেবল


দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৪৭:০৯
দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
ছবি : সংগৃহীত

প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য পরিচিত মিশরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর ২০২৭ সালের ২ আগস্ট সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ ও বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, ওই দিন পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হবে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড—যা ২১১৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর আকাশে দেখা যাওয়া দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে স্পেন, জিব্রাল্টার, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরে গিয়ে শেষ হবে। প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই পথের মধ্যে কাডিজ, ট্যাঙ্গিয়ার, বেনগাজি এবং জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো থাকলেও নীল নদের তীরে অবস্থিত কিংস ও কুইন্স ভ্যালির কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে লুক্সর।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ছয় মিনিটের দীর্ঘ অন্ধকারের কারণে দুপুরের আকাশে খালি চোখে বিভিন্ন উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আগস্ট মাসে লুক্সরের আকাশ মেঘমুক্ত থাকা পর্যবেক্ষণের জন্য দারুণ সুযোগ হলেও মরুভূমির ধুলা ও ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ক্যামেরা ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

লুক্সরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে পূর্ণগ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যাবে। এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের বিপুল চাপ তৈরি হওয়ায় সেখানকার অধিকাংশ হোটেল এরই মধ্যে বুক হয়ে গেছে। এদিকে রাজধানী কায়রোতে সূর্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ ঢাকা পড়বে। এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে মিশরের ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকস তাদের কোটামিয়া অবজারভেটরির ৫০ টনের টেলিস্কোপ প্রস্তুত রাখাসহ ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনা নিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

পাঠকের মতামত: