তেলের দামে বড় পতন

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১১:০৫:২১
তেলের দামে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে এমন ইঙ্গিত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এই ইতিবাচক সংকেতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে দৃশ্যমান পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার্স এক শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও নিম্নমুখী হয়ে ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা কমার সম্ভাবনাই এই মূল্যহ্রাসের প্রধান কারণ। বিনিয়োগকারীরা এখন ধরে নিচ্ছেন যে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে, ফলে বাজারে চাপ হ্রাস পেয়েছে।

এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সেই সময় জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছিল।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে নতুন ভারসাম্য ফিরে আসার আভাস মিলছে। এর ফলে তেলের দামে সংশোধন শুরু হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যদিও বর্তমান মূল্য ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, পুরো সপ্তাহজুড়ে তেলের দাম ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করছে। অর্থাৎ বাজার এখনো সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হয়নি, বরং একটি ‘ট্রানজিশনাল ফেজ’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে তেলের দামের গতিপথ নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর। যদি সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে; আর উত্তেজনা বাড়লে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

-রফিক


সোনা-রুপার দামে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশে

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১০:৪০:৩১
সোনা-রুপার দামে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে, যেখানে ভালো মানের সোনার দাম আড়াই লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে রুপার বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

স্বর্ণ ও রুপার দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সর্বশেষ যে দর নির্ধারণ করেছে, তা কার্যকর হয়েছে ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে। নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই মূল্যেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপা লেনদেন চলবে।

নির্ধারিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের সোনার দামও কম নয়—প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা। অপরদিকে, সনাতন পদ্ধতির সোনা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও সেটিও ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকার নিচে নামছে না।

শুধু সোনা নয়, রুপার বাজারেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২২ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও তুলনামূলক কম হলেও তা ৩ হাজার ৭৩২ টাকার নিচে নেই। ফলে স্বর্ণ ও রুপা দুই ধাতুর বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

-রফিক


১৭ এপ্রিল মুদ্রা বাজারে টাকার বিপরীতে মুদ্রা রেট দেখুন

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১০:২৩:৩২
১৭ এপ্রিল মুদ্রা বাজারে টাকার বিপরীতে মুদ্রা রেট দেখুন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়ের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি বাংলাদেশি নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহকে সচল রাখছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আন্তর্জাতিক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যক্তিগত রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এই হার সরাসরি প্রভাব ফেলে।

১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। আজ ডলার ক্রয় ও বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।

ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রেও সামান্য ব্যবধান দেখা গেছে। ইউরো ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১৪৪ টাকা ৭৬ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ১৪৪ টাকা ৭৯ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম তুলনামূলক বেশি, যেখানে ক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা ৪৪ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

এশীয় মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েনের মূল্য অনেক কম, যা ক্রয়ে ০.৭৭ টাকা এবং বিক্রয়ে ০.৭৬৭ টাকা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ৯৫ পয়সায় ক্রয় এবং ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর ডলার ও কানাডিয়ান ডলারের ক্ষেত্রেও স্থিতিশীল প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সিঙ্গাপুর ডলার ক্রয়ে ৯৬ টাকা ৫৩ পয়সা এবং বিক্রয়ে ৯৬ টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। কানাডিয়ান ডলার যথাক্রমে ৮৯ টাকা ২৮ পয়সা ও ৮৯ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মধ্যে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার স্থির রয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সায়। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৌদি রিয়ালের দাম ধরা হয়েছে ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা, যা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, তেলের দাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওঠানামার কারণে মুদ্রা বিনিময় হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রতিদিনের আপডেট জানা ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-রফিক


টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন আজকের লেটেস্ট কারেন্সি রেট

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:৪৪:০৪
টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন আজকের লেটেস্ট কারেন্সি রেট
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ব্যবসা-বাণিজ্যের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সচল রাখতে মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর কড়া নজর রাখতে হয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) গুগল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার আপডেট করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রা ইউএস ডলারের বর্তমান দাম ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।

ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ৭৬ পয়সায় এবং ব্রিটিশ পাউন্ড বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকা ৩৫ পয়সা দরে।

অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ১ রুপি পেতে বাংলাদেশি খরচ করতে হবে ১ টাকা ৩১ পয়সা।

প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের দাম ৩১ টাকা ০৫ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের মান ৯৬ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার আজ ৩২ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের দাম ৩৯৭ টাকা ২৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার আজ ৮৭ টাকা ৯৫ পয়সা। উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক বাজার ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

/আশিক


এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১০:১৮:৫৫
এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

স্বর্ণের বাজারে আবারও বড় লাফ! বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে স্বর্ণের মূল্য। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে, যা বুধবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। সেই হিসেবে আজ বৃহস্পতিবারও (১৬ এপ্রিল) নতুন এই চড়া দামেই বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হবে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৫ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হলো।

নতুন তালিকায় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হলেও সপ্তাহ না পেরোতেই ফের দাম বাড়িয়ে দিল বাজুস। স্বর্ণের এই ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

/আশিক


৫ম বৈশ্বিক মন্দার মুখে পৃথিবী! করোনা মহামারির চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতির আশঙ্কা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১১:৪৮:৩৫
৫ম বৈশ্বিক মন্দার মুখে পৃথিবী! করোনা মহামারির চেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতির আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ১৯৮০ সালের পর পৃথিবী পঞ্চম বারের মতো ভয়াবহ বৈশ্বিক মন্দার কবলে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে চরম নাজুক অবস্থায় ঠেলে দেবে।

আইএমএফের মতে, পণ্য পরিবহনের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। যদি এ বছর তেলের দাম গড়ে ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছায়, তবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থবিরতা অনিবার্য। এর ফলে ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে।

বিশেষ করে কাতার ও ইরানের মতো জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি এ বছর বড় ধরনের সংকোচনের মুখে পড়বে; কাতারের এলএনজি অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ায় তাদের অর্থনীতি ৮.৬ শতাংশ এবং ইরানের অর্থনীতি ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

তবে আশার আলোও দেখিয়েছে সংস্থাটি। যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংকটের সমাধান হয় এবং বছরের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি রপ্তানি স্বাভাবিক হয়, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব।

আইএমএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর টিকে থাকা এখন মূলত তাদের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। যেমন সৌদি আরব তাদের বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের কারণে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, অধিকাংশ তেল রপ্তানিকারক দেশের ভাগ্য এখন ঝুলছে যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর।

সূত্র : বিবিসি


টাকার বিপরীতে ডলার ও রিয়ালের আজকের রেট

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১১:৩৬:৩০
টাকার বিপরীতে ডলার ও রিয়ালের আজকের রেট
ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে সচল রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা। প্রবাসীদের সুবিধার্থে আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) দেশের মুদ্রা বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, আজ মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার কেনার ক্ষেত্রে ১২২ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রেও ১২২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ডলারের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।

ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ১৪৪ টাকা ৭২ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

অন্যান্য প্রধান মুদ্রার মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা ৪৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৬ টাকা ৫০ পয়সা।

সিঙ্গাপুর ডলার আজ কেনা হচ্ছে ৯৬ টাকা ৪৬ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৯৬ টাকা ৫২ পয়সায়। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ক্রয় ও বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই ৩২ টাকা ৭৯ পয়সায় স্থির রয়েছে।

এ ছাড়া এশীয় ও অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে ইন্ডিয়ান রুপির বিনিময় হার আজ ১ টাকা ৩১ পয়সা।

জাপানি ইয়েন কেনা হচ্ছে ০.৭৭ টাকায় এবং বিক্রি হচ্ছে ০.৭৬৭ টাকায়।

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা ৩৯ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৯ টাকা ১৩ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৮৯ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, দেশের মুদ্রা বাজারে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে মুদ্রার এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

/আশিক


স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক দরপতন: আজই কি কেনার সেরা সময়?

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১০:১০:৪৭
স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক দরপতন: আজই কি কেনার সেরা সময়?
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে চার হাজার ৪৩২ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত বৃহস্পতিবার দাম কমার এই সিদ্ধান্ত নিলেও আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে বাজারে নতুন এই দাম কার্যকর রয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।

বাজুসের তথ্যমতে, শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, সব ধরনের স্বর্ণের দামই কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান দাম দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম দুই লাখ দুই হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন এক লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত বুধবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৫২ হাজার ৫০৯ টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামগুলোর একটি ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস।

/আশিক


ট্রাম্পের এক ঘোষণা পাল্টে দিল চিত্র: তেলের বাজারে হঠাৎ বড় পতন!

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ২০:০৬:৪২
ট্রাম্পের এক ঘোষণা পাল্টে দিল চিত্র: তেলের বাজারে হঠাৎ বড় পতন!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই বাজারে এই স্বস্তি ফিরে আসে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৪০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ৯৭.৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই উত্তেজনার জেরে তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

তবে বর্তমানে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার অগ্রগতি হলে তেলের দাম আরও কমতে পারে, তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকায় দাম পুনরায় বাড়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

/আশিক


তেল সংকটে স্তব্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারি! নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে দেশ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৮:১৫:১৩
তেল সংকটে স্তব্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারি! নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে দেশ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের চরম সংকটে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল থেকে রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট 'ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট' (সিডিইউ) বন্ধ করে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে তেলবাহী জাহাজ আসতে না পারায় এই নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে দেশ।

মঙ্গলবার দুপুরে ইআরএলের সহকারী ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. মনজেদ আলী শান্ত মূল প্ল্যান্ট বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কখন থেকে এটি বন্ধ হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তবে প্রতিষ্ঠানের অন্য এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত রোববার থেকেই প্ল্যান্টটি অচল হয়ে আছে। বর্তমানে ইআরএলের হাতে কোনো ক্রুড অয়েল মজুদ নেই, যার ফলে তেলের পরবর্তী চালান না আসা পর্যন্ত উৎপাদন শুরুর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ টন ক্রুড পরিশোধন করা হয়, যার সিংহভাগ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ টন মারবান ক্রুড আসার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশে তেল আসা অনিশ্চিত হয়ে যায়। গত ৫ মার্চ থেকে এক লাখ টন তেল নিয়ে 'নর্ডিক পোলাক্স' নামক একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাসতানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মালিকপক্ষ জাহাজ পাঠাতে রাজি না হওয়ায় 'ওমেরা গ্যালাক্সি' নামক ট্যাংকারের যাত্রাও বাতিল হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে বিপিসি বিকল্প উপায়ে সৌদি আরব থেকে তেল আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। 'এমটি নিনেমিয়া' নামক একটি জাহাজ বর্তমানে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের পথে রয়েছে, যা আগামী ১৯ এপ্রিল বন্দরে পৌঁছানোর কথা।

তবে জাহাজটি দেশে এসে পৌঁছাতে আরও সময়ের প্রয়োজন। ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিপিসিকে এখন চড়া দামে অতিরিক্ত পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: