হরমুজে পা রাখলেই ধ্বংস হবে মার্কিন জাহাজ: মোহসেন রেজায়ির হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৯:৪৪:২৫
হরমুজে পা রাখলেই ধ্বংস হবে মার্কিন জাহাজ: মোহসেন রেজায়ির হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) প্রেস টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো ইতিমধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং শত্রুপক্ষ হরমুজে সীমা লঙ্ঘন করলেই চরম আঘাত হানা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রসঙ্গে রেজায়ি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তাঁর মতে, অতীতেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ‘ঐতিহাসিক পরাজয়ের’ মুখে পড়েছিল এবং এবারও তাদের জন্য একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং তাদের কোনো শান্তির পরিকল্পনা নেই। এমনকি ইসফাহানে প্যারাট্রুপার নামিয়ে ইউরেনিয়াম দখলের একটি মার্কিন পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে রেজায়ি স্পষ্ট জানান যে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি বর্তমানে ইরানের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে নয়। একটি টেকসই চুক্তি তখনই সম্ভব হবে যখন ইরানের সব অধিকার নিশ্চিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবিকে দায়ী করেন। রেজায়ির মতে, এখন হোয়াইট হাউসের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা—হয় ইরানের শর্ত মেনে নেওয়া, অথবা যুদ্ধের ময়দানে জয়ী হওয়ার নিষ্ফল চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস


আমেরিকার চোখে ধুলা! রণতরী এড়িয়ে পারস্য উপসাগরে ইরানের সুপার ট্যাংকার

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৮:১৮:৩৭
আমেরিকার চোখে ধুলা! রণতরী এড়িয়ে পারস্য উপসাগরে ইরানের সুপার ট্যাংকার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ এবং আকাশচুম্বী উত্তেজনার মধ্যেই অসাধ্য সাধন করল ইরানের একটি বিশাল সুপার ট্যাংকার। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম ‘আরএইচএন’ নামক একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বুধবার নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।

মার্কিন রণতরীগুলোর কড়া পাহারা এবং অবরোধের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও এই বিশাল জাহাজটি কীভাবে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হলো, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ট্যাংকারটি যখন হরমুজ পাড়ি দিচ্ছিল তখন সেটি খালি অবস্থায় ছিল। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ট্যাংকারটি বর্তমানে ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

যদিও এই জাহাজটির গন্তব্য নিয়ে এখনো শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এর নিরাপদে চলাচল তেহরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ এবং অবরোধের টানটান উত্তেজনার মাঝেই বিশ্ববাজারের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওমান-সংলগ্ন পাশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে কোনো হামলার ঝুঁকি ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব তারা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার আড়ালে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে এই ‘ছাড়’ দেওয়ার কথা ভাবছে তেহরান। যদি দুই পক্ষ কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবেই এই বিশেষ রুটটি খুলে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বর্তমানে সংকটের মুখে রয়েছে।

/আশিক


রকেট বৃষ্টিতে কাঁপছে উত্তর ইসরায়েল!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৯:৩৭:১৭
রকেট বৃষ্টিতে কাঁপছে উত্তর ইসরায়েল!
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে সংঘাত এবার এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গতকাল লেবানন সরকারের সাথে ইসরায়েলের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু রকেট বৃষ্টি শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন সরকার আলোচনায় বসলেও তারা কোনো সমঝোতা মানবে না এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আক্রমণ চলবে।

আজ সকাল আটটা থেকে দুই দফায় কিরিয়াত শমোনা, মেতুলা, নাহারিয়াসহ উত্তর ইসরায়েলের অন্তত ১০টি শহর ও কিবুতজ লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। হিজবুল্লাহর এই হামলার ঠিক আগেই ভোরে দক্ষিণ লেবাননের জাবা ও আনসারিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হন, যার মধ্যে এক পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।

এছাড়া বৈরুত-জিয়েহ মহাসড়কে একটি চলন্ত গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন পর্যন্ত লেবাননের ২ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘ তিন দশক পর লেবানন সরকার ইসরায়েলের সাথে সরাসরি সংলাপে বসলেও হিজবুল্লাহ সেই প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা পাল্টা আঘাত থামাবে না। এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: আনাদুলু এজেন্সি ও মিডল ইস্ট মনিটর


লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি! এবার কি তবে বিশ্ব বাণিজ্যে ধস নামাবে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৯:২৫:১২
লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি! এবার কি তবে বিশ্ব বাণিজ্যে ধস নামাবে ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের জবাবে এবার সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বসলো ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী যদি তাদের পথ আটকানো বন্ধ না করে, তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সমুদ্রপথ—পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বিবৃতিতে আলী আবদুল্লাহি বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এই তিন সাগর দিয়ে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না। তিনি মার্কিন নৌ-অবরোধকে বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নিতে দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, লোহিত সাগর দিয়ে বিশ্বের একটি বিশাল অংশের বাণিজ্য পরিচালিত হয়, যা বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রলয়ংকরী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


হরমুজ প্রণালী দিয়ে দাপটে পার হলো ইরানি সুপার ট্যাংকার

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৭:৫৫:২৫
হরমুজ প্রণালী দিয়ে দাপটে পার হলো ইরানি সুপার ট্যাংকার
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ আর সরাসরি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে দুটি ইরানি জাহাজ। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে তেহরান, যার মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি বিশাল সুপার ট্যাংকার রয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেলের ট্যাংকারটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় জাহাজটি একটি বিশাল বাল্ক ক্যারিয়ার, যা মূলত খাদ্যপণ্য বহন করছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, এই জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বর্তমানে ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে এবং সেন্টকম (CENTCOM) থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, ঠিক তখনই ইরানের এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২১ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তেহরানের এই শক্তি প্রদর্শন মূলত ওয়াশিংটনকে একটি কড়া বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। এই ঘটনার পর মার্কিন নৌবাহিনী বা পেন্টাগন এখন কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেদিকেই নজর রাখছে সারা বিশ্ব।

সূত্র: আল-জাজিরা


যুদ্ধবিরতি শেষে শুরু হতে পারে মহাযুদ্ধ: ইরানের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ২১:২৯:৪০
যুদ্ধবিরতি শেষে শুরু হতে পারে মহাযুদ্ধ: ইরানের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি!
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি যেন নতুন করে যুদ্ধ বাধানোর কারণ না হয়।’ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এই খবর প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

রেজাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে তেহরান আবারও সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হতে দ্বিধা করবে না। তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে ওয়াশিংটন বা তেল আবিব যেন পুনরায় অস্ত্রসজ্জা বা অশান্তি সৃষ্টির ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করে।

অন্যদিকে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান থেকে ‘লোকজন’ সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলতে পারি, অন্য পক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।” তবে এই যোগাযোগের বিস্তারিত বা যুক্তরাষ্ট্র কী জবাব দিয়েছে, তা তিনি খোলসা করেননি।

ইসলামাবাদে গত রোববারের বৈঠক কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আলোচনার টেবিল থেকে উঠেই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের ‘জোরালো প্রতিক্রিয়া’ দেখানো হবে। আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, আর এর মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।

/আশিক


আমেরিকার জন্য অপেক্ষা করছে বড় বিপর্যয়! হরমুজ নিয়ে লড়াকু অবস্থানে তেহরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১১:৪৮:২৫
আমেরিকার জন্য অপেক্ষা করছে বড় বিপর্যয়! হরমুজ নিয়ে লড়াকু অবস্থানে তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে স্রেফ 'কাল্পনিক' বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ও আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, এবারও তাদের কপালে 'ঐতিহাসিক পরাজয়' জুটবে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই সরাসরি প্রত্যাখ্যান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেল।

মোহসেন রেজাই হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালি ও নিজেদের জলসীমা রক্ষা করবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে এমন কিছু ‘অব্যবহৃত সক্ষমতা’ বা গোপন শক্তি রয়েছে যা ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির বিপরীতে রেজাইর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, বরং তারা পালটা আঘাত হানার জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প যখন ইরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে দায়ী করছেন, তখন রেজাইর এই বক্তব্য আলোচনার টেবিলের চেয়ে যুদ্ধের ময়দানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের ‘অবরোধ’ বনাম ইরানের ‘অব্যবহৃত সক্ষমতা’—এই দুই মেরুর লড়াইয়ে হরমুজ প্রণালি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক নৌপথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র : সিএনএন


বাইপাস রুটে সৌদি তেল: হরমুজ সংকটের মাঝেই বিকল্প পথ সচল করল রিয়াদ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৮:১১:২৫
বাইপাস রুটে সৌদি তেল: হরমুজ সংকটের মাঝেই বিকল্প পথ সচল করল রিয়াদ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির খবর দিলো সৌদি আরব। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন’ (East-West Pipeline) সফলভাবে মেরামত সম্পন্ন করেছে দেশটি। রোববার (১২ এপ্রিল) সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বিশেষত্ব হলো, এটি ব্যবহার করে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বা বাইপাস করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল সরবরাহ করা যায়।

যুদ্ধ চলাকালীন যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল, তখন সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমেই তেল সরবরাহ সচল রেখেছিল। তবে ইরানের হামলার পর থেকে এই পাইপলাইনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, এই পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবে দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। তবে এটি পুনরায় সচল হওয়ায় দেশটির তেল পাম্প করার সক্ষমতা দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে।

এছাড়া মানিফা তেলক্ষেত্র থেকেও দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ‘খুরাইস’ তেলক্ষেত্রটি পুরোপুরি সচল করতে এখনো কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালীন সৌদি আরবের একাধিক জ্বালানিক্ষেত্রে ইরান হামলা চালালেও সৌদি আরব সরাসরি কোনো পাল্টা আক্রমণ করেনি। তবে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

বর্তমানে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় সৌদি আরবের এই বিকল্প পাইপলাইন সচল হওয়াকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


এক দিনে ২০০ হামলা! লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডবে থমকে যেতে পারে শান্তি আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ২১:০৯:৪৩
এক দিনে ২০০ হামলা! লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডবে থমকে যেতে পারে শান্তি আলোচনা
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে যখন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনার টেবিল প্রস্তুত, ঠিক তখনই লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে হিজবুল্লাহর ২০০টিরও বেশি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বিমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা অবশ্যই লেবাননের ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে হবে। তবে ইসরায়েলের এই অনড় অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম জটিলতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক মহলে এখন জোর চেষ্টা চলছে যাতে ইসরায়েলের এই হামলা অন্তত দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়।

বর্তমানে ইসলামাবাদের আলোচনার টেবিলে এই লেবানন ইস্যুটিই সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। শান্তি আলোচনার সফলতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর।

যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সংঘাত যেন আরও বড় আকারে ছড়িয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববাসীর নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে—সেখানে কি শেষ পর্যন্ত শান্তির কোনো পথ বের হবে, না কি লেবাননের এই আগুন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে?

সূত্র: আলজাজিরা।


গুরুতর আহত হয়েও ইরান চালাচ্ছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৭:৫৩:৫৬
গুরুতর আহত হয়েও ইরান চালাচ্ছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। তাঁর ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার কমপাউন্ডে বিমান হামলার সময় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার তীব্রতায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং এক বা উভয় পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে বলে জানানো হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী এই নেতা শারীরিকভাবে শয্যাশায়ী হলেও মানসিকভাবে পুরোপুরি সচেতন রয়েছেন বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো। তিনি বর্তমানে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তাঁর এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিমান হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো ছবি বা ভিডিও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তাঁর কোনো সরাসরি অডিও বার্তাও প্রচার না হওয়ায় তাঁর প্রকৃত অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এমন তথ্যের প্রকাশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে শঙ্কা ও জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সূত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: