ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১২:৩৯:৪৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে, যেখানে রাশিয়া একদিনে নজিরবিহীন সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়ে সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাশিয়া প্রায় ৯৪৮টি ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যা এই যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিনের বেলাতেও হামলা চালানোর ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কে এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন এবং ভিন্নিৎসিয়া অঞ্চলে আরও একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

এদিকে লভিভ শহরে একটি ড্রোন ঐতিহাসিক স্থাপনার কাছে আঘাত হানার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অঞ্চলটির গভর্নর জানিয়েছেন, ১৭শ শতাব্দীর সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চকে ঘিরে থাকা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও একটি বড় ধাক্কা।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো এই হামলাকে সরাসরি জনবহুল শহরকেন্দ্রে দিনের আলোয় চালানো আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

দিনের হামলার আগে রাতভর ইউক্রেনের অন্তত ১১টি অঞ্চলে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়। এতে মোট পাঁচজন নিহত হন, যার মধ্যে পোলতাভা অঞ্চলে দুইজন এবং জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও খারকিভ অঞ্চলে একজন করে নিহত হন।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শিগগিরই ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাতেও এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চুক্তির কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনকে ভবিষ্যৎ আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার বাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত চার দিনে রাশিয়া অন্তত ৬১৯টি আক্রমণ চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (ISW) বলছে, এসব তৎপরতা রাশিয়ার নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বসন্ত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় রাশিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে থাকে।

তবে এত বড় আকারের হামলা সত্ত্বেও রাশিয়া এখনো বড় শহর দখলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। তাদের অগ্রগতি মূলত গ্রামীণ এলাকা কেন্দ্রিক এবং ধীরগতির বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১২:১৬:৪১
যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও যুদ্ধের গতিপথ এখনো অনিশ্চয়তায় আবৃত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তাদের মতে, আলোচনার এই দাবিগুলো মূলত আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে তেল ও শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল মাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ভিন্ন বয়ান তুলে ধরছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে আলোচনা হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে প্রতিটি পক্ষের কৌশলগত লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করলে কিছুটা বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

ট্রাম্পের “অগ্রগতি হয়েছে” ধরনের মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শুরুতে খুলেছে এবং একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। এই সময়সীমা আবার ট্রেডিং সপ্তাহের শেষের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, যা অনেক বিশ্লেষকের কাছে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

গত দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য ওঠানামা করেছে এবং এক পর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত বাজারকে স্থিতিশীল করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরান এই ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে বিপরীত কৌশল গ্রহণ করছে। তাদের লক্ষ্য হতে পারে বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ইরান মনে করে, এই অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধের বাস্তবতা ও পরিণতি সম্পর্কে পূর্বের তুলনায় বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

এই অবস্থায় ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি বাড়ানো, অন্যদিকে একটি সমঝোতায় পৌঁছে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে ইরানি তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০১৯ সালের পর প্রথম এমন পদক্ষেপ। এটি ইঙ্গিত করে যে, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন কৌশলগত নমনীয়তা দেখাতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের অবস্থানও জটিল। একদিকে তারা উল্লেখযোগ্য মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে সরকারি হিসাবে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, তারা বিশ্বাস করে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ইরানের কৌশলগত হিসাব থাকতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চায়।

তবে ইরানের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী গোষ্ঠী মনে করে, একটি কার্যকর প্রতিরোধ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন আলোচনায় বসার সময় এসেছে। যদি তারা ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা বা হরমুজ প্রণালিতে বেশি প্রভাবের মতো কিছু ছাড় আদায় করতে পারে, তাহলে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সৌদি-পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১২:০৮:১৩
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সৌদি-পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কূটনৈতিক মোড় নিয়েছে, যেখানে একদিকে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনাও ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে ইরানের সামনে ১৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে, যার জবাবে তেহরানও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য পাঁচটি শর্ত তুলে ধরেছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেকে একটি সক্রিয় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন।

বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শরিফ জানান, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের ‘সংযমী’ ভূমিকার প্রশংসা করেন, যা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, সহিংসতা বন্ধ করা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি তিনি মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা এই সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ইতোমধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এসব উদ্যোগ সম্পর্কে সৌদি নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ইসলামাবাদ সংঘাত নিরসনে একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পাকিস্তানের এই শান্তি প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। একই সঙ্গে উভয় নেতা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


আবারও কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:৫৬:৩৩
আবারও কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারও একাধিক দেশে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করেছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অধিকৃত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে ইরান একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা দিতে চাচ্ছে সংঘাত এখন আর কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গালফ অঞ্চলের দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে উত্তেজনার ভৌগোলিক বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে একই সময়ে কূটনৈতিক পর্যায়েও সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরান সাময়িক নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে।

এটি ইঙ্গিত করে যে, সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চাচ্ছে। তবে বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে চলমান হামলা অব্যাহত থাকায় এই দ্বৈত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সাধারণ জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না। তবে বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতির প্রয়োগ হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ আলোচনায় যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর পথ।

-রাফসান


যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:২৫:২৯
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মাসব্যাপী চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে পাঁচটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) হিব্রু সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের এই ‘পাল্টা চাল’ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের উত্থাপিত ৫টি দাবি পূরণ ছাড়া তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে না। ইরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

প্রথমত, কেবল সাময়িক বিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। চতুর্থত, যুদ্ধের ফলে ইরানের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পঞ্চমত, ইরান বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে এবং ইরান বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। তবে ইরানের এই ‘পাঁচ কঠিন শর্ত’ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহারের মতো দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন এই পাঁচ শর্তের টেবিল আর রণক্ষেত্রের বাস্তবতার মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।

/আশিক


সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:১৪:৩৭
সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকাল পর্যন্ত ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সৌদি আরব, কুয়েত, ইসরায়েল এবং বাহরাইন লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, কুয়েতে এক রাতেই সর্বোচ্চ ১৩ বার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজেছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পূর্বাঞ্চলে তারা কয়েক ডজন ড্রোন ও একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত হানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে জর্ডানের রাজধানী আম্মানের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। বাহরাইনেও আকস্মিক হামলার সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও তেল আবিব এলাকাতেও হিজবুল্লাহ ও ইরানের বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। লেবানন সীমান্ত থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে কিরিয়াত শমোনা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একজন নিহত এবং তেল আবিবের নিকটবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : আলজাজিরা


যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:৫৭:৫২
যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর শর্ত উত্থাপন করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন দিক নির্দেশ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আনুষ্ঠানিক দাবিপত্র উপস্থাপন করেছে। এই দাবিগুলো শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যুদ্ধ বন্ধ হলে তা যেন পুনরায় শুরু না হয়, এ বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তেহরান মনে করছে, অতীতের অভিজ্ঞতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের নজির থাকায় এই নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, যেখানে এই কৌশলগত জলপথের ওপর কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো বা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘাঁটিগুলোকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করাও ইরানের শর্তগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দাবির মাধ্যমে তারা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ব্যয় বহনে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত শর্তগুলোর একটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বা ‘প্রচারণামূলক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ইরান চাইছে, এসব ব্যক্তিকে হয় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক অথবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান এই আলোচনায় ‘গুরুত্বসহকারে অংশ নিচ্ছে’। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের আলোচনার ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে, যা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে সংঘাত এখন একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও মিডল ইস্ট আই


আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:০৮:৪৩
আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে 'বিজয়' ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, চলমান শান্তি আলোচনা যদি সফল না হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, কেবল ‘ফেক নিউজ’ মিডিয়াগুলোই এই যুদ্ধকে জিইয়ে রাখতে চাইছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, বর্তমানে ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই যা মার্কিন শক্তিকে রুখতে পারে। তিনি বলেন, "আমাদের বিমানগুলো এখন তেহরানসহ পুরো ইরানের আকাশে অনায়াসেই উড়ছে।

আমি যদি তাদের বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ধ্বংস করতে চাই, তবে সেটি ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের নেই।" যদিও গত ৯ মার্চ তিনি যুদ্ধকে ‘প্রায় সম্পন্ন’ বলেছিলেন এবং গত সপ্তাহান্তেও সোমবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সোমবার সকালে তিনি তাঁর সুর কিছুটা নরম করেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র খাতিরে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘনঘন সুর পরিবর্তন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি আসলে আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করার একটি সুপরিকল্পিত ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ বা কৌশল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা আগামী পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম শেষে স্পষ্ট হবে।

/আশিক


ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:০৫:২৭
ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশলের নতুন ধাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসে গেছে।

কালিবাফ তার বক্তব্যে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, যদি ইসরায়েল তার উচ্চ-সুরক্ষিত অঞ্চলগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল সামরিক দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়; বরং এটি পুরো যুদ্ধের গতিপথে একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচক হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পূর্বপ্রস্তুত পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আরও বড় চাপে ফেলা সম্ভব।

এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব, সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা তারা ‘অঘোষিত ও বিনা উস্কানির যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করছে।

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন, তবুও এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক ধাপে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযানে অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা, পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত এই হামলাগুলো সংঘাতকে আরও বিস্তৃত মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কালিবাফের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত সংকেত, যা ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তারা আরও মনে করছেন, যদি এই সংঘাত আরও তীব্র হয়, তবে এটি কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও পড়বে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র:তাসনিম নিউজ


মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ০৯:১৩:১৪
মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সুর নরম করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। যদিও এই পরিকল্পনার প্রতিটি দফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আনা হয়নি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাকিস্তান নিজেই এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, মার্কিন এই শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

বিনিময়ে ইরানকে দেওয়া বড় ধরনের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই খসড়া প্রস্তাবে। খবরে দাবি করা হয়েছে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ১৫টি শর্ত মেনে নেয়, তবে দেশটির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে আরোপিত সব ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র দেখেনি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই শান্তি প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: