আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:০৮:৪৩
আমরা এই যুদ্ধে জিতে গেছি; ওভাল অফিসে ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে 'বিজয়' ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, চলমান শান্তি আলোচনা যদি সফল না হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, কেবল ‘ফেক নিউজ’ মিডিয়াগুলোই এই যুদ্ধকে জিইয়ে রাখতে চাইছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, বর্তমানে ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই যা মার্কিন শক্তিকে রুখতে পারে। তিনি বলেন, "আমাদের বিমানগুলো এখন তেহরানসহ পুরো ইরানের আকাশে অনায়াসেই উড়ছে।

আমি যদি তাদের বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ধ্বংস করতে চাই, তবে সেটি ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের নেই।" যদিও গত ৯ মার্চ তিনি যুদ্ধকে ‘প্রায় সম্পন্ন’ বলেছিলেন এবং গত সপ্তাহান্তেও সোমবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সোমবার সকালে তিনি তাঁর সুর কিছুটা নরম করেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র খাতিরে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘনঘন সুর পরিবর্তন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি আসলে আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করার একটি সুপরিকল্পিত ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ বা কৌশল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা আগামী পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম শেষে স্পষ্ট হবে।

/আশিক


ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১০:০৫:২৭
ইসরায়েলের আকাশ অরক্ষিত, এখনই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশলের নতুন ধাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসে গেছে।

কালিবাফ তার বক্তব্যে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, যদি ইসরায়েল তার উচ্চ-সুরক্ষিত অঞ্চলগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল সামরিক দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়; বরং এটি পুরো যুদ্ধের গতিপথে একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচক হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পূর্বপ্রস্তুত পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আরও বড় চাপে ফেলা সম্ভব।

এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব, সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা তারা ‘অঘোষিত ও বিনা উস্কানির যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করছে।

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন, তবুও এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক ধাপে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযানে অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা, পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত এই হামলাগুলো সংঘাতকে আরও বিস্তৃত মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কালিবাফের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত সংকেত, যা ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তারা আরও মনে করছেন, যদি এই সংঘাত আরও তীব্র হয়, তবে এটি কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও পড়বে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র:তাসনিম নিউজ


মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ০৯:১৩:১৪
মধ্যপ্রাচ্যে হার মানছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের কাছে ১৫ দফার গোপন শান্তি প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সুর নরম করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কার্যত পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি গোপন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। যদিও এই পরিকল্পনার প্রতিটি দফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আনা হয়নি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাকিস্তান নিজেই এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, মার্কিন এই শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

বিনিময়ে ইরানকে দেওয়া বড় ধরনের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই খসড়া প্রস্তাবে। খবরে দাবি করা হয়েছে, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ১৫টি শর্ত মেনে নেয়, তবে দেশটির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে আরোপিত সব ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র দেখেনি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই শান্তি প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ২১:২৮:৩৬
ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও কৌশলগত রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফা এলাকার প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

বিশেষ করে তেহরান দাবি করেছে যে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অভিযান ব্যাহত করা যায়।

ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, কেবল বেসামরিক বিমানবন্দর নয়, তারা বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সামরিক ও মহাকাশ শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বন্দর নগরী হাইফাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া। বেন গুরিয়নের মতো স্পর্শকাতর স্থানে ড্রোন হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দিলেও বিমানবন্দরের চারপাশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত ড্রোন হামলা ইসরায়েলের ‘আয়রণ ডোম’ ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

হাইফা ও তেল আবিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একের পর এক হামলার ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

/আশিক


ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প আনছে রাশিয়া: ৯০০ স্যাটেলাইটের মেগা প্রজেক্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৯:০২:১১
ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প আনছে রাশিয়া: ৯০০ স্যাটেলাইটের মেগা প্রজেক্ট
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান 'স্টারলিংক'-এর একাধিপত্য ভাঙতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) রাশিয়ার বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি ‘ব্যুরো-১৪৪০’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা মহাকাশে নতুন করে ১৬টি নিম্ন-কক্ষপথের (Low-Earth Orbit) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইটগুলোকে সফলভাবে রেফারেন্স কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। মূলত ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী রুশ বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ১৬টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে তারা পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক যোগাযোগ সেবা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে গেছে। রাশিয়ার লক্ষ্য হলো পৃথিবীর যেকোনো দুর্গম প্রান্ত থেকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা। ‘রাশসভেত’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন কক্ষপথে রাশিয়ার ২৫০টির বেশি স্যাটেলাইট অবস্থান করবে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই স্যাটেলাইটের সংখ্যা ৯০০-তে পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে ‘ব্যুরো-১৪৪০’-এর ছয়টি পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট কক্ষপথে সক্রিয় রয়েছে। নতুন ১৬টি স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার ফলে রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনবোর্ড সিস্টেম চালু করার পর এগুলো নির্ধারিত কক্ষপথে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করবে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝেও রাশিয়ার এই মহাকাশ সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের নজর কেড়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার আভাস দিচ্ছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৮:৪৯:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই একটু ও পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, 'পূর্ণাঙ্গ বিজয়' অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সামরিক বাহিনীর 'খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স'-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জেনারেল আলিয়াবাদি তার বক্তব্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত এবং অবিচল। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই পথচলা থামবে না।" যদিও তিনি 'পূর্ণ বিজয়' বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা আলোচনায় ইরানের সামরিক বাহিনী যে সহজে নতি স্বীকার করবে না, এটি তারই একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশেষ করে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের এই অনড় মনোভাবের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই নতুন ঘোষণায় স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


১০ ঘণ্টায় ইরানের ৭ দফা হামলা: তেল আবিব ও ডিমোনায় মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৮:১০:০৯
১০ ঘণ্টায় ইরানের ৭ দফা হামলা: তেল আবিব ও ডিমোনায় মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত আল-জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মধ্যরাত থেকে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ইসরায়েলের ওপর অন্তত ৭ দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এবারের হামলায় ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব ছাড়াও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ডিমোনায় হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠলে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন।

তেল আবিবে হওয়া হামলার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। তবে ইরান কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং গুচ্ছ বোমা (ক্লাস্টার ওয়ারহেড) সমৃদ্ধ উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল ব্যবহার করছে বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলও ইরানে তাদের বিমান হামলা জোরদার করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, গত এক রাতেই তারা ইরানের অভ্যন্তরে ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ৩ হাজারের বেশি সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক কাঠামো এবং তারা কোনো বেসামরিক এলাকায় হামলা করছে না। মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশের এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে।

/আশিক


শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৭:৩৭:০২
শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের একটি অভিজাত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) তেল আবিবের মেয়র রন হুলদাই নিশ্চিত করেছেন যে, একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ‘সরাসরি আঘাতে’ শহরের একটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা ও বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি পুরনো তিনতলা ভবন এই হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি পুলিশ ও আর্মি রেডিওর ধারণা, কোনো রকেট লঞ্চার থেকে ছোড়া প্রায় ১০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক সমৃদ্ধ ৩-৪টি ওয়ারহেড এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ এই ধ্বংসলীলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এবং ভবনের ধসে পড়া অংশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেয়র রন হুলদাই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। মূলত উত্তর তেল আবিবের অভিজাত আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করেই এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের এই সরাসরি আঘাত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হাইফা এবং জেরুজালেমের পর তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে এই ধরনের বিধ্বংসী বিস্ফোরণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ওয়ারহেডগুলোর প্রকৃতি পরীক্ষা করে দেখছেন। শহরজুড়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৫:৩৪:০১
লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের ওপর ‘ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ’ চালাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক অভিযান নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষ করে লেবানন ও গাজা উপত্যকার বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে তারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি বেসামরিক জনগণের ওপর এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে ইরান আর সংযম প্রদর্শন করবে না। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং গাজা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অবস্থানরত সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে।

আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এই প্রতিক্রিয়া হবে ‘নির্বিচার ও সীমাহীন’, যা সংঘাতকে আরও তীব্র পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এই ধরনের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে একটি নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিবৃতি কেবল সামরিক হুমকি নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তা, যার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখতে চাইছে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করতে চাইছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সংঘাতটি কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

-রাফসান


ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১৫:২২:২৪
ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এক গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণহানি ও আহতের দীর্ঘ তালিকা। যুদ্ধের মাত্র ২৫ দিনের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, যা এই সংঘাতের তীব্রতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে অন্তত ১,৫০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫৫১ জনেরও বেশি। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে দেশটির অভ্যন্তরে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক এবং গভীর।

লেবাননেও পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে অন্তত ১,০০১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২,৫৮৩ জন। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরাকেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সেখানে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে ইসরায়েলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৪,৬৯৭ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন, যা যুদ্ধের বহুমাত্রিকতা ও ঝুঁকির মাত্রা নির্দেশ করে।

প্যালেস্টাইন ও সিরিয়ায় তুলনামূলক কম হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রতিটি দেশে অন্তত চারজন করে নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করে।

কুয়েতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বাহরাইনে অন্তত দুইজন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত আটজন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। ওমানে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবে অন্তত দুইজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জর্ডান ও কাতারেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে, যদিও সেখানে প্রাণহানি না হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। জর্ডানে অন্তত ২৮ জন এবং কাতারে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যেখানে কেবল সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া দেশগুলোই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এর প্রভাবের মধ্যে পড়ে গেছে। বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, যা মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: