মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:৪৯:৩৯
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার (Fort McNair)-এ বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘাঁটির ওপর দিয়ে রহস্যময় এবং অজ্ঞাতনামা ড্রোন চক্কর দিতে দেখা গেছে, যা মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কারণ হলো, ফোর্ট ম্যাকনেয়ার ঘাঁটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সপরিবারে বসবাস করছেন। এছাড়া এখানে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি অবস্থিত এবং পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয় অনেক সামরিক কর্মকর্তা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা (যেমন বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম) এই ঘাঁটিতেই স্থানান্তরিত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস এবং ক্যাপিটল হিল থেকে মাত্র ২ মাইল (৩.২ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে এভাবে ড্রোন শনাক্ত হওয়া মানে সরাসরি মার্কিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চ্যালেঞ্জ জানানো।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ দিনের মধ্যে এক রাতেই ওই ঘাঁটির আকাশে একাধিকবার ড্রোন দেখা গিয়েছে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে, এটি নিয়ে আলোচনা করতে হোয়াইট হাউসে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং পেন্টাগন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই মন্ত্রী এখনও তাদের বাসভবন ছাড়েননি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ড্রোনগুলো ঠিক কোথা থেকে এসেছিল বা কারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই ড্রোন অনুপ্রবেশকে 'ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি' হিসেবে দেখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, রাজধানীর অন্য সামরিক ঘাঁটিগুলোর তুলনায় ফোর্ট ম্যাকনেয়ারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই, যার সুযোগ দুষ্কৃতিকারীরা নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে এবং আকাশপথ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

/আশিক


‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:১৬:৫২
‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে আস্থার সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ। সাম্প্রতিক ইরানি হামলাগুলোকে তিনি একটি ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক সম্পর্কের ভিত্তিকে গভীরভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সংঘাতের শুরু থেকে ইরানের ধারাবাহিক আক্রমণ কেবল নিরাপত্তা ঝুঁকিই বাড়ায়নি, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, আস্থার এই ঘাটতি এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এবং এটি দ্রুত পুনর্গঠন করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

একইসঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কাতার ইরানের জনগণের সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, দোহা একদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:০৬:০২
ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার ধারণ করায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আবুধাবিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের বহুমাত্রিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৈঠকে দুই নেতা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর। তারা একমত হয়েছেন যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তাকেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করতে পারে। ফলে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত বলে তারা মত দেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম (WAM)-এর বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উভয় পক্ষ সামরিক সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এ সময় প্রেসিডেন্ট সিসি ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান, বিশেষ করে আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণের প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া ৩৩৪টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্তত ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের তীব্রতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা শুধু সামরিক ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাজারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, আবুধাবির এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই আহ্বান কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৯:১১:১৪
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত এবং জ্বালানি খাতের ওপর একের পর এক বিধ্বংসী হামলার প্রেক্ষাপটে এবার নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। গত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বৃহত্তম 'সাউথ পার্স' গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় তেহরানের পাল্টা আঘাতের পর বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরুর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই সংঘাতকে ‘বেপরোয়া উত্তেজনা’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর নিন্দা জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘমেয়াদী, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। ম্যাক্রোঁ সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান। একই সুরে সুর মিলিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস বলেন, কাতারের মতো শান্তিকামী দেশে ইরানের হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের সরাসরি সুবিধাভোগী হচ্ছে রাশিয়া, যা ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস এক ইতিবাচক সংকেত দিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত বন্ধে আগ্রহী এবং শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ নিতে পারে। অন্যদিকে, ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো 'হরমুজ প্রণালি'-র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে। ইউরোপীয় নেতাদের এই সম্মিলিত চাপ এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা কি পারবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন নেভাতে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

/আশিক


কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৮:৫৪:০১
কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
ছবি : সংগৃহীত

কাতারের জ্বালানি খাতের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত রাস লাফান (Ras Laffan) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক মহাবিপর্যয়ের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। গত বুধবার (১৮ মার্চ) এবং আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মিলিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর বৃহস্পতিবারের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার ফলে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিনির্ভর দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত—এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার (Kpler)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ তাদের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সরাসরি কাতারের এই রাস লাফান কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল (S&P Global)-এর তথ্য বলছে, ভারতের মোট এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে। যেহেতু কাতারের প্রায় সব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই রাস লাফান থেকেই প্রক্রিয়াজাত ও জাহাজে তোলা হয়, তাই এই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার চাকা স্থবির হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শুধু জ্বালানি তেল বা গ্যাস নয়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বৈশ্বিক কৃষি ও প্রযুক্তি খাতের জন্যও অপরিহার্য। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সার (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া) উৎপাদনকারী কেন্দ্র। এছাড়া, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও মাইক্রোচিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য উপাদান হিলিয়াম-এর বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে এই একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে।

কাতার এনার্জি (QatarEnergy) জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল, কিন্তু এই সরাসরি মিসাইল হামলায় অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর ফলে সারাবিশ্বে সার, জ্বালানি এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে।

/আশিক


আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৭:২৪:১৮
আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে নতুন করে মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে, যখন দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান যুক্তিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে এমন দাবি এখনও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বুধবার, ১৮ মার্চ সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ উভয়েই এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে, ইরান আগামী ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারবে।

গ্যাবার্ড তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তেহরান যদি তাদের বিদ্যমান মহাকাশ প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়, তবে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম তৈরির প্রক্রিয়া ২০৩৫ সালের আগে শুরু হতে পারে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেন যে, এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন তাৎক্ষণিক কোনো বিষয় নয় এবং এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন।

সিনেটর জন অসফ যখন ইরানের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন জানতে চান, তখন গ্যাবার্ড সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, কোন হুমকি আসন্ন এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদি—এই ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থার নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

একই সুরে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ থেকে বিরত থাকেন। তিনি বরং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর সম্ভাব্য হুমকির দিকেই গুরুত্বারোপ করেন।

গ্যাবার্ড আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর কাছে এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। কিন্তু ইরান এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান খুব শিগগিরই এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে যা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই সর্বশেষ মূল্যায়ন সেই দাবির সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছে।

র‍্যাটক্লিফ বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ থাকলেও তা এখনও আন্তঃমহাদেশীয় পর্যায়ে পরিপক্ক নয়। তবে যদি ইরান ৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার মধ্যবর্তী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে তা ইউরোপীয় অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও জানান, ইরানের এই সম্ভাব্য সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, এই সাক্ষ্য প্রমাণ করে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বক্তব্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৭:২২:০১
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি যুদ্ধের আগুন এবার কুয়েতে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়েতের দুটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ (Mina Abdullah) এবং মিনা আল-আহমাদি (Mina Al-Ahmadi) শোধনাগারের অপারেশনাল ইউনিটগুলোতে পর্যায়ক্রমে ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই দ্বৈত হামলায় শোধনাগার দুটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।

কুয়েত নিউজ এজেন্সির (KUNA) তথ্যমতে, প্রথমে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হামলা হয় এবং এর কিছু সময় পরেই মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারে ড্রোনটি আঘাত হানে। ৬টি অগ্নিনির্বাপক দল এবং জরুরি রেসপন্স টিমের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কেপিসি জানিয়েছে, হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হলেও কোনো কর্মী হতাহত হননি।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছিল। কুয়েতের এই দুটি শোধনাগারই দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং মিনা আল-আহমাদি প্রতিদিন ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করার ক্ষমতা রাখে।

/আশিক


জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৭:১২:৩১
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের এক মুখপাত্র এই বিষয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

আইএসএনএ বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া এখনও চলমান এবং এটি শেষ হয়ে যায়নি। তার ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ পুনরায় সংঘটিত হলে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ একটি ‘বড় ভুল’ করেছে, যার কৌশলগত পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে যেকোনো আঘাতকে তারা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে ইরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না; বরং প্রতিপক্ষ এবং তাদের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও পাল্টা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই পাল্টা আঘাত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষের সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি নতুন মাত্রার ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ, জ্বালানি খাত শুধু আঞ্চলিক অর্থনীতির নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে এ ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে সংঘাতের পরিধি শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বরং জ্বালানি অবকাঠামোকেও ঘিরে বিস্তৃত হতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

-রফিক


ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৫:০৯:৪৩
ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আলি লারিজানির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় চীন তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ কখনো টেকসই নয় এবং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক উচ্চপদস্থ নেতা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলি লারিজানির মৃত্যু বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীন এ পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের পথে ফিরে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, চলমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন অতীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিসংবলিত দেশগুলোর ওপর তেহরানের হামলারও সমালোচনা করেছে। অর্থাৎ, বেইজিং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাচ্ছে।

এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসে চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন বেসামরিক জনগণ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে মানবিক সংকট মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মঙ্গলবার বেইজিং ইরান, লেবানন, জর্ডান ও ইরাকের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেয়, যা সংকট প্রশমনে তাদের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন।

-রাফসান


আর হামলা চান না ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ১৪:২৬:৩৬
আর হামলা চান না ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আপাতত অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

বুধবার, ১৮ মার্চ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টার জবাবে তেহরানকে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই ইসরায়েলি হামলাকে নীরব সমর্থন দিয়েছিল। মূলত এটি ছিল একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন মনে করছে যে এই বার্তা আংশিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি স্থায়ী নীতি নয় বরং পরিস্থিতিভিত্তিক সাময়িক কৌশলগত বিরতি।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদি ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে পারে। অর্থাৎ, সামরিক বিকল্প সম্পূর্ণভাবে টেবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট, যেখানে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় অংশ সম্পন্ন হয়। এই রুটে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্ক অবস্থান মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কৌশলগত চাপ ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করছে ইরানের আচরণ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান

পাঠকের মতামত: