ইরান থেকে ফিরছেন বাংলাদেশিরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১২:৩০:১৫
ইরান থেকে ফিরছেন বাংলাদেশিরা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) থেকেই এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের সড়কপথে ইরান সীমান্ত পার করে আজারবাইজানে নেওয়া হবে। এরপর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের সরাসরি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এই পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক আজারবাইজান যাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন কাজে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও সমন্বয় করতে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার রাতেই বাকুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বাকুর ট্রানজিট পয়েন্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফ্লাইটের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

/আশিক


ঘরে ঘরে যাবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাস্টারপ্ল্যান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১৭:০৮:১৬
ঘরে ঘরে যাবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাস্টারপ্ল্যান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। প্রধানমন্ত্রীর মতে, গ্রামীণ নারীদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা হবে অপরিসীম; তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়ে কাজ করবেন যাতে ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। সুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং যারা প্রকৃত অসুস্থ তাঁরা আরও উন্নত সেবা পাবেন—এই লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে জোর দিচ্ছে।

সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি নদীগুলোর তলদেশে প্লাস্টিক ও পলিথিনের পুরু স্তর জমা হওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি সিলেটের সুরমা নদী এবং ঢাকার বুড়িগঙ্গার উদাহরণ টেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া রোধ করতে দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি’র গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করার মাধ্যমেই কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব। একই দিনে তিনি সুরমা নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যাপ্রতিরোধী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে সিলেটের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী রেলওয়ে সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগলেও সড়কপথে ঢাকা পৌঁছাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। এই সমস্যা সমাধানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তিনি রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডাবল লাইনে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দেন যে, কেবল রাস্তা বাড়ালে ফসলি জমি নষ্ট হবে এবং যানজট বাড়বে; তাই জনবহুল এই দেশে রেল যোগাযোগই সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান। এছাড়াও তিনি সিলেটের আইটি পার্ক পুনরায় সচল করা, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং বন্ধ কলকারখানাগুলো বেসরকারি খাতের সহায়তায় চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে সরকার গঠনের আড়াই মাসের মাথায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আড়াই মাস বয়সের শিশু যেমন হাঁটতে পারে না, তেমনি সরকারের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবুও সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। শিশুদের মধ্য থেকে আগামীর তারকা খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধনকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধির একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। মাজারে জিয়ারত, উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দলীয় সভায় যোগদানের মাধ্যমে তাঁর এই ব্যস্ততম সিলেট সফরটি মূলত সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।


উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১৬:২৪:২০
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি।

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতি এবং একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল দশম শ্রেণির একটি পদার্থবিজ্ঞান ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর অশোভন আচরণ এবং তার প্রেক্ষিতে শিক্ষকের চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক, যিনি একজন উচ্চপদস্থ বিচারপতি, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই শিক্ষককে নিজ বাসভবনে ডেকে নিয়ে চরমভাবে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে রাজপথের বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ পর্যন্ত গড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, যেখানে অনেকেই একজন বিচারপতির এমন ব্যক্তিগত আচরণকে পদের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

শনিবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সাংবাদিকরা যখন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চান, তখন মন্ত্রী সরাসরি জানান যে এই বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি সদাচারণ বহির্ভূত বা 'মিসকন্ডাক্ট'-এর অভিযোগ আসে, তবে সেটি তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব কেবল 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল'-এর। দেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার বা নির্বাহী বিভাগ এ ধরনের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আইনমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অভিযুক্ত বিচারপতির বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কাঠামোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এই ঘটনাটি কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় পদের নৈতিক সীমা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার এক বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসরুমের একটি সাধারণ শৃঙ্খলাজনিত বিষয়কে যেভাবে বিচারপতির বাসভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেছেন যে, ১৮ এপ্রিল তাকে সমঝোতার কথা বলে ডেকে নিয়ে চরম মানসিক চাপের মুখে ফেলা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে যাতে বিচারিক পদের মর্যাদা ব্যবহার করে কেউ সাধারণ নাগরিক বা শিক্ষকদের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আইনমন্ত্রীর স্বচ্ছ বক্তব্যের পর এখন জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোনো দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত শুরু করবে কি না।

উল্লেখ্য যে, ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে মূলত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি বিচার ব্যবস্থার সংষ্কার ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোকপাত করে। তবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন বিচারিক প্রক্রিয়ার উৎকর্ষ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখনই উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের এই চাঞ্চল্যকর ইস্যুটি সামনে চলে আসে। বর্তমানে বিষয়টি দেশের সচেতন মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আত্মসম্মান ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সমান্তরালভাবে আলোচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে।


মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১৩:০০:৪০
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই শাহজালালের দরগায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টিও দমাতে পারেনি সাধারণ মানুষের আবেগ আর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। মাজারে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিমানবন্দর থেকে দরগাগেট এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তারেক রহমানও হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।

মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নগরের চাঁদনী ঘাটে যান। সেখানে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক গৃহীত শহরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি একটি সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি সিলেটের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী খাল খনন কার্যক্রম এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি এই সিলেট থেকেই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। সব কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক


পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১২:৩২:১৭
পাম্পে গাড়ির লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে: জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন যে, সম্প্রতি দেশে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল তা মূলত ‘কৃত্রিম’। আজ রাজধানীতে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের পেছনে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতি ছিল প্রধান কারণ। জ্বালানি সচিবের দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেই এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, পাম্পের এই দীর্ঘ লাইনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর দপ্তরের লোকজনও সব ক্ষেত্রে ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি; অন্যথায় এই সংকট এতোটা প্রকট হতো না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং কোথাও কোনো দীর্ঘ লাইন নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭৫ দিন তিনি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। আজই প্রথম তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়ের খনিজ সম্পদ বিভাগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বাজেট ও গবেষণা খাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছর ধরে দেশে মেগা বাজেট হলেও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যে দেশ গবেষণায় পিছিয়ে থাকে, তারা সারাজীবনই অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হয়।” দেশকে স্বনির্ভর করতে হলে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১১:৩৬:১৮
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে তারেক রহমান: বিমানবন্দরে রাজকীয় সংবর্ধনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আজ সকালে সিলেটে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর এবং শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান এবং এরপর খাদিম নগরে হযরত শাহ পরাণ (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। আধ্যাত্মিক এই মাজার জিয়ারত শেষে সকাল ১১টায় তিনি শহরের চাঁদনী ঘাটে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একটি সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন।

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ‘বাইশা নদী পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ ও বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে বিএনপির এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে আজ।

সফরের শেষ ভাগে বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এই সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন তারেক রহমান, আর আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই পুণ্যভূমিতে তাঁর প্রথম পদচারণা রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক


বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৮:১১:৫৮
বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিক, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার বন্ধ হয়ে থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ধাপে ধাপে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল করা হবে, যাতে শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ ও আয় নিশ্চিত করতে পারেন।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রও এগিয়ে যাবে। তার ভাষায়, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ, তাই তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা শ্রমিকদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতেই সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।

সমাবেশে তিনি আরও ঘোষণা দেন, শ্রমিক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। তার মতে, কৃষি ও শ্রম খাতকে শক্তিশালী না করলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেচব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও সময়মতো পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এ কারণে সরকার বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও জলাধার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা উন্নত হয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

তারেক রহমান বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারলে পুরো বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পখাত পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

-রফিক


সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০১ ১৫:০৮:৫৭
সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে বক্তব্য রাখছেন।

জাতীয় সংসদের নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে একটি দীর্ঘ, আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র, শহীদদের আত্মত্যাগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি সংকট, নারী উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা, অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাঠকদের সুবিধার্থে বক্তব্যটি ভাষাগতভাবে পরিমার্জিত করে সাজিয়ে হুবহু উপস্থাপন করা হলো।

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

প্রথমেই আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আজ আমাদেরকে এই তৌফিক দিয়েছেন যে, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই জাতীয় সংসদে বসতে পেরেছি।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে প্রায় এক মাস ২৫ দিন ধরে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়জুড়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

মাননীয় স্পিকার,

বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আমি স্মরণ করতে চাই ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নির্মমভাবে নিহত মানুষদের। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল মানুষকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই সেই সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের, যারা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও আহত হয়েছেন।

মাননীয় স্পিকার,

আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারাও এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এই সংসদের প্রায় প্রতিটি সদস্য তাদের বক্তব্যের শুরুতে বিভিন্ন সময়ের শহীদদের স্মরণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের স্মরণ করব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধুই কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? অবশ্যই নয়। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান করে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা যথার্থভাবেই কৃষকের কথা বলেছেন। আমরাও দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে গিয়েছি, কৃষাণীর কাছে গিয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষকদের বাস্তব অবস্থা কী। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে “কৃষক কার্ড”-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুপালকসহ সব ধরনের কৃষকের কাছে আমরা ধীরে ধীরে পৌঁছাতে চাই।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমিও চাই না, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা এভাবেই থাকুক। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আমাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ব্রিটেনে থাকাকালে আমি সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা সুন্দর পোশাক পরে, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে স্কুলে যাচ্ছে। তখন আমার মনে হতো, আহা, আমার দেশের স্কুলগুলোও যদি এমন হতো! আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা হাঁটছি। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক।

মাননীয় স্পিকার,

আমি নিজেও এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছি। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেও পড়েছিলাম। তাই আমি চাই, আমাদের সন্তানরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।

মাননীয় স্পিকার,

বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও এসেছে। দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত যে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব। সেই কারণেই আমরা যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু শিক্ষাই নয়, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আমরা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ দেওয়া হবে, সেটিকে আমরা ব্যয় নয়; বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। কারণ, এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

মাননীয় স্পিকার,

বিরোধীদলীয় নেতা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়গুলো দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটার পরও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কারণ, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার।

মাননীয় স্পিকার,

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য। আমাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচি আমরা আবারও শুরু করেছি। এই কর্মসূচি শুধু সেচের জন্য নয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা কাজ শুরু করি, এর সুফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আমরা শিক্ষা খাতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের গন্তব্য একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

মাননীয় স্পিকার,

গণতান্ত্রিক সংসদে মতভেদ থাকবে। “এগ্রি টু ডিসএগ্রি” গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ আছে, আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে বসব, আলোচনা করব এবং দেশের স্বার্থে সমাধান বের করব। আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধী দলকে দেওয়া আমাদের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। আমরা চাই, এই সংসদ সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হোক।

মাননীয় স্পিকার,

বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান বেশি চায়। একজন বেকার যুবক চাকরি চায়। একজন মা তার অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ চায়। একজন কৃষক তার ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ চায়। শুধু ঐতিহাসিক বিতর্ক দিয়ে তাদের কষ্ট দূর হবে না।

মাননীয় স্পিকার,

এই চেয়ারে বসে আমি প্রতিনিয়ত অনুভব করি, এটি আরামের চেয়ার নয়। এটি দায়িত্বের চেয়ার। এই চেয়ার আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়:

“You have to take the right decision, not the popular decision.”

আমাদের পপুলার সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মাননীয় স্পিকার,

আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করতে চাই, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করা যায়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ। আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। আর আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। আমরা কেউই ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর।

মাননীয় স্পিকার,

আমি আবারও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, চিকিৎসক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর তারা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সবশেষে আমি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি:

আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি।দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার সর্বোচ্চ সম্মান করি।কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি।

সবচেয়ে আগে বাংলাদেশ।সবচেয়ে আগে দেশের জনগণ।সবচেয়ে আগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

আসসালামু আলাইকুম।"


৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ২১:৪৫:২০
৫ আগস্টের শহীদদের স্বপ্ন পূরণই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শিক্ষা, নারী উন্নয়ন এবং জাতীয় সংকট নিরসনে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি যেমন তাঁর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের আবেগঘন স্মৃতি তুলে ধরেছেন, তেমনি জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপহারের ঘোষণা দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটাতে হয়েছে।

ব্রিটেনে থাকাকালীন ওখানকার স্কুলগুলোর উন্নত পরিবেশ দেখে তিনি সবসময় ভাবতেন, কবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এমন সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অবস্থা চাই না, আমূল পরিবর্তন চাই।"

দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে প্রধানমন্ত্রী এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি এর আগে মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল, আর এবার তাঁর সরকার স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে ভালো ফলের ভিত্তিতে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে যাতে মেধাবী ছাত্রীরা উৎসাহ পায়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ মুক্তভাবে কথা বলবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাবে; তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণ করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করার কথা জানান এবং এ লক্ষ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক সরকার। জনগণের দেখাশোনা করাই এই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ৩০ ২০:১৭:২১
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন না থাকলে দেশ অরাজকতায় পড়ত: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যদি দায়িত্বে না থাকতেন, তবে দেশ এক চরম অরাজকতার মুখে পড়ত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সংবিধানকে জাতীয় অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, তাই সংবিধান নিয়ে আমাদের কথা বলতেই হবে।”

একই অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ যখন রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাচ্ছেন, তখন মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য সরকারের ভেতরে কৌশলগত অবস্থানের ভিন্নতা স্পষ্ট করে তুলেছে। এছাড়া তিনি তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মধ্যকার লন্ডন বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ওই ঐতিহাসিক বৈঠকের কারণেই আজ দেশের রাজনীতি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া যেভাবে সার্বভৌমত্বের পতাকা তুলে নিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তা পুরো এশিয়ায় বিরল।

তাঁর মতে, খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বারবার সংকট থেকে রক্ষা করেছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রজন্মের নেতা তারেক রহমানের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমান দেশ গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন, যা তাঁর রক্তে মিশে আছে। সারা দেশের মানুষ এখন তারেক রহমানের সেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: