রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ফাঁস করলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৬:৪৮:১৭
রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ফাঁস করলেন জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুতেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নাটকীয়তার সাক্ষী হলো। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ শুরু করতে গেলে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির তিনটি সুনির্দিষ্ট ‘অপরাধ’ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।

অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে সংসদ ভবনের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “এই সংসদ জুলাই শহীদদের পবিত্র রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা স্পিকারের কাছে আগেই সবিনয় নিবেদন করেছিলাম, এই মহান সংসদে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট বা খুনির দোসর বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ কলুষিত করতে না পারে।”

জামায়াত আমিরের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ও বর্জনের কারণ

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে এবং বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় হওয়া প্রতিটি খুনের নেপথ্যে রাষ্ট্রপতির পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। তিনি নিজেকে এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই পরিচালিত করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র চাপের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালালে রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন তাঁর কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র নেই। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদাহানি করেছেন এবং জাতির সামনে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।

তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছিলেন যেখানে বিধান ছিল—নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তারা একই সাথে ‘সংস্কার সংশোধন পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও বিবেচিত হবেন এবং একই দিনে উভয় পদের শপথ গ্রহণ করবেন। বিরোধী দল এই দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি। এছাড়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছিল অধ্যাদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, যা তিনি করেননি। এর ফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে তিনি সরাসরি অপমান করেছেন বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।

একই সুরে সুর মিলিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল এই সংসদ। এখানে কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসরদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে মহান সংসদকে অপবিত্র করা যাবে না।” বিরোধী দলের এই অনড় অবস্থান এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন ওয়াকআউট ত্রয়োদশ সংসদের শুরুতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক


ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ খুনের হিসাব দিচ্ছে না কেউ: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ২১:৫৭:২০
ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ খুনের হিসাব দিচ্ছে না কেউ: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসানের এক সমালোচনার জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারি দলের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। মূলত শহীদের সংখ্যা এবং তাদের পরিবার পরিদর্শনের তথ্য নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বিতর্কের শুরুতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব হাসান প্রশ্ন তোলেন, সরকারি গেজেটে যেখানে শহীদের সংখ্যা ৮৪৪ জন এবং সর্বোচ্চ ১,৪০০ জনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা কীভাবে ১,২০০ শহীদের বাড়িতে যাওয়ার দাবি করেন। তিনি একে ‘ইতিহাস বিকৃতি’ এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। এর জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি কোনো ভিত্তিহীন কথা বলেননি। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই তিনি পাল্টা যুক্তি দেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলেরই যদি এক হাজারের বেশি শহীদ হয়ে থাকে, তবে ১,২০০ পরিবারের কাছে যাওয়ার হিসাবটি সেখানেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ১,৪৫১ জন। তিনি দাবি করেন, তাদের কাছে প্রতিটি শহীদের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল রয়েছে যা যাচাই-বাছাই করা এবং ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত। ইন্টারনেট বন্ধ রেখে মানুষ হত্যার পর গুম করার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কারণ অনেক পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ সদস্যদের খুঁজছে। পরিশেষে, তিনি সংসদ সদস্যদের আবেগপ্রবণ না হয়ে তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানান।

/আশিক


আমরা শুধু মত নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১৯:৩৩:২১
আমরা শুধু মত নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ‘দ্বিমত’ পোষণের অধিকার চেয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে শুধুমাত্র মত প্রকাশের কারণে নাগরিকদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সেই সময় কেবল ‘সহমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সংসদের কাছে তারা কেবল মত প্রকাশের নয়, বরং নির্ভয়ে ‘দ্বিমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা চান।

তিনি বলেন, “আমরা এই সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা ফেসবুকে নির্ভয়ে লিখতে চাই, আমরা আর কোনো ভয়ের পরিবেশ বা ‘ব্যাক পেজ’ ব্যবহার করতে চাই না।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, সংসদ যেন আবার সেই পুরনো ‘দুষ্টচক্র’ বা ভিশিয়াস সাইকেলে ফিরে না যায় যেখানে বিরোধী মত দমনে মামলার ব্যবহার করা হতো।

শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও গেস্টরুম ও গণরুমের অপসংস্কৃতি এবং বাধ্যতামূলক রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে। তিনি মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের অর্ডিন্যান্স বাতিলেরও সমালোচনা করেন। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, বিভাজনের রাজনীতি করলে জুলাইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তিরাই লাভবান হবে। তাই জনগণের স্বপ্ন ও আশা পূরণে বৈষম্যহীন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


শিক্ষামন্ত্রীকে সারজিস আলমের খোঁচা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:৪২:২৮
শিক্ষামন্ত্রীকে সারজিস আলমের খোঁচা
ছবি : সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর নকল বিরোধী অভিযানকে খোঁচা দিয়ে লেখেন, “নকল আর হবে না! কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া যাবে।”

সারজিস আলম তাঁর পোস্টের কমেন্টে একটি লিংক শেয়ার করে আরও দাবি করেন যে, বর্তমানে টেলিগ্রাম গ্রুপে টাকার বিনিময়ে এসএসসির প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, প্রশ্নফাঁসের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে এনসিপি। সময় টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০ এপ্রিল থেকে অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন বা প্রশ্নফাঁস রোধের চেয়ে পরীক্ষার হলে গিয়ে ‘রিলস’ বানানো এবং সস্তা জনপ্রিয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এনসিপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার হলে তদারকির জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক ও পরিদর্শক রয়েছেন; মন্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যা পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দলটি প্রশ্ন তোলে যে, প্রশ্নফাঁসের সমাধান না করে এভাবে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া কতটা যৌক্তিক।

/আশিক


ফ্যাসিবাদের পথে আ.লীগ হতে পারবে না বিএনপি: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:০৬:৫১
ফ্যাসিবাদের পথে আ.লীগ হতে পারবে না বিএনপি: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও হুঙ্কার ছেড়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বর্তমানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে এবং জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে।

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধীদলকে ব্যঙ্গ করত এবং লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে কর্তৃহাঁটছে। তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “হাজার চেত্ববাদ কায়েম করেছিল, বিএনপিও আজ সেই একই পথে ষ্টাতেও আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন।” তিনি আরও দাবি করেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোর বিরোধিতা করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করছে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থান না হলে দেশে রাজনীতি করার পরিবেশ থাকত না এবং শহীদরা রক্ত না দিলে বিএনপি ক্ষমতায় বসতে পারত না বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন।

সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, যখন শহীদ পরিবারগুলো শোকাহত ছিল, তখন বিএনপি তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তিনি বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, নেত্রকোণায় জামায়াত নেতার ওপর হামলা এবং শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের মারধরের ঘটনা প্রমাণ করে যে, জুলাইযোদ্ধারা যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিল, তেমনটা অর্জিত হয়নি। প্রতিটি পরিবার এবং ব্যক্তির কাছে জুলাইয়ের আন্দোলনের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এই গণসমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিটির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, মাওলানা মামুনুল হক এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগমসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবেগঘন বক্তব্য তুলে ধরেন এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি আহত জুলাইযোদ্ধা এই সমাবেশে অংশ নিয়ে গণভোটের দাবি জানান।

/আশিক


ছাত্রলীগের বদলে এখন হামলা করছে শিবির: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৭:৩৯:২১
ছাত্রলীগের বদলে এখন হামলা করছে শিবির: রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন বর্তমান ছাত্র রাজনীতির পরিস্থিতি নিয়ে এক চরম বিতর্কিত ও সাহসী মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি ছাত্রশিবিরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। রাশেদ খাঁন বলেন, “আগে ছাত্রলীগ হামলা করতো ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে, আর এখন ছাত্রশিবির হামলা শুরু করেছে ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’ বলে।” তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

পাবনার ঈশ্বরদী কলেজে সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের চালানো তাণ্ডব ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই পবিত্র স্লোগান মুখে নিয়ে তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা চূড়ান্ত রকমের অপচেষ্টা। রাশেদ খাঁন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সাধারণত সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ক্ষমতার জোরে আধিপত্য বিস্তার করে, কিন্তু বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রথমবারের মতো কোনো বিরোধী ছাত্র সংগঠন (ছাত্রশিবির) এতটা দাপট দেখাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে শিবির ক্যাম্পাসগুলো দখল করে রেখেছে এবং ছাত্রদলের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা আরও দাবি করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে ভোট চাওয়ার নামে ছাত্রশিবির সবচেয়ে বেশি লেজুড়বৃত্তি করেছে। এমনকি তারা ডাকসুসহ দেশের সকল ছাত্র সংসদকে নিজেদের কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পুরো ক্রেডিট নিজেদের পকেটে নিতে গিয়ে তারা আন্দোলনের অন্যান্য অংশীজনদের বিতর্কিত করছে বলে তিনি মনে করেন। শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াত-শিবিরের সমালোচনা করলেই তারা ‘বটবাহিনী’ লেলিয়ে দেয়। তবে হামলার সময় পবিত্র ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে সেটিকে বিতর্কিত করার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

/আশিক


কোনো ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলবে না: নাছির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:১৪:১৮
কোনো ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলবে না: নাছির
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতে কোনো লুকোচুরি বা গোপন রাজনীতি থাকতে পারবে না; রাজনীতি করতে হলে তা অবশ্যই প্রকাশ্যে করতে হবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলটি নগরের পুরোনো রেলস্টেশন মাঠ থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। নাছির উদ্দীন সমাবেশে বলেন, ছাত্রদল অতীতে ক্যাম্পাসে জুলুমের শিকার হলেও কোনো প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না। তবে সিটি কলেজের মতো হামলার পুনরাবৃত্তি হলে ছাত্রদল দেশের কোনো ক্যাম্পাসে চুপচাপ বসে থাকবে না।

শিবিরের সমালোচনা করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রদল শিবিরের রাজনীতিকে ‘গুপ্ত’ বলার কারণে যদি তারা হামলা চালায়, তবে আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে হাজারবার তাদের ‘গুপ্ত’ বলেই ডাকা হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রাফিতি বা দেয়াল লিখনে মতের ভিন্নতা থাকলে পাল্টা গ্রাফিতি আঁকা যেত, কিন্তু তা না করে সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত নয়।

নাছির উদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, হামলা চালিয়ে উল্টো ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপানো এবং ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলা শিবিরের একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

/আশিক


বিএনপি জোট শরিকদের সাথে প্রতারণা করেছে: সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:৩৭:৪৭
বিএনপি জোট শরিকদের সাথে প্রতারণা করেছে: সারজিস আলম
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি তাদের জোট শরিকদের সঙ্গে চরম 'প্রতারণা' করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কঠোর সমালোচনা করেন।

সারজিস আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থানের আগে এবং নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার 'জাতীয় সরকার' গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি ন্যূনতম উদারতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে জোট শরিকদের একজনকেও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে জায়গা দেওয়া হয়নি। এমনকি সংরক্ষিত ৩৬টি নারী আসনের সবকটিই বিএনপি নিজেদের দখলে রেখেছে, যেখানে শরিকদের জন্য অন্তত কয়েকটি আসন বরাদ্দ রাখার প্রত্যাশা ছিল।

বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করে সারজিস আলম বলেন, "জামায়াত মাত্র ১২টি সংরক্ষিত আসন পেলেও সেখান থেকে এনসিপি, জাগপা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে একটি করে মোট ৩টি আসন ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।" বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানের প্রতিশ্রুতি যখন এত ঠুনকো হয়, তা দেশবাসীকে আশাহত করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক


আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে এখন বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনীত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ২১:২৯:৫৭
আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে এখন বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনীত
মা সৈয়দা নাখলু আক্তার ও সংরক্ষিত আসনে মনোনীত নাদিয়া পাঠান পাপন (ডানে)। ছবি: যুগান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) বিএনপির ঘোষিত ৩৬ জনের তালিকায় ৩২ নম্বরে পাপনের নাম আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তবে তাঁর মা সৈয়দা নাখলু আক্তার বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং দলটির মনোনয়নে জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শে মা ও মেয়ের এই ভিন্নতা নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধাও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি রাজনীতিতে ‘শেষ কথা বলতে কিছু নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বিএনপি দলীয় সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাদিয়া পাঠান ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বিশেষ করে গত জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি রাজপথে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। মেয়ের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে মা সৈয়দা নাখলু আক্তার জানান, তিনি এখন আর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নেই এবং মেয়ের সাফল্যে তিনি আনন্দিত।

অন্যদিকে পাপন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিগত ১৭ বছর মামলা-হামলা সহ্য করার সময় কেউ তাঁর মায়ের পরিচয় তোলেনি। এখন তাঁর মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা।

/আশিক


পরিবারের কোটায় সংরক্ষিত আসন? বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৭:৪৭:২৮
পরিবারের কোটায় সংরক্ষিত আসন? বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঘোষিত এই তালিকায় রাজনীতির মাঠে পরিচিত মুখের পাশাপাশি প্রভাবশালী নেতাদের স্ত্রী ও কন্যাদের প্রাধান্য লক্ষ করা গেছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী, চট্টগ্রামের সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহানা আক্তার রানু এবং সুলতানা আহমেদসহ আরও অনেকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এবার যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতেই প্রার্থী বাছাই করা হবে। তবে নেতাদের স্বজনদের বড় একটি অংশ মনোনীত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলের একটি অংশ মনে করছে, ত্যাগের মূল্যায়নের পাশাপাশি পারিবারিক পরিচিতিও এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবার ৩৬টি আসনের বিপরীতে রেকর্ড সংখ্যক ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৯০০টি জমা পড়ে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা এবং জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রার্থীদের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে এই তালিকা চূড়ান্ত করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: