নতুন মাইলফলক, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপিতে নতুন রেকর্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২০:২২:৪১
নতুন মাইলফলক, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপিতে নতুন রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবারের মতো ৩ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা।

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৫০১ বিলিয়ন ডলার।

আগের অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। ডলারপ্রতি ১২২ টাকা ১৪ পয়সা বিনিময় হার ধরে এ বছরের জিডিপির হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফলে প্রবৃদ্ধির হারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ মার্কিন ডলার।

তবে ইতিবাচক এই অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু উদ্বেগের বিষয়ও তুলে ধরেছে বিবিএস। সংস্থাটির সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকা এবং জিডিপির তুলনায় জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কিছুটা কমে যাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

/আশিক


আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৫৭:০৩
আগের অবস্থান থেকে সরেনি বিচার বিভাগ: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে দেশের বিচার বিভাগ এখনো সরে আসতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে মোমবাতি জ্বেলে রাজনৈতিক বিচার সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের বদলির প্রস্তাব পাঠালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ৭০ শতাংশই অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা 'অধিকার' আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পরামর্শ সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধিকারের প্রেসিডেন্ট তাসনিম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সমন্বয়ক কোরবান আলী।

বক্তব্যকালে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বর্তমানে চূড়ান্ত পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাত জেগে সাজা দেওয়া বিচারকদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বিচার বিভাগের সচিবালয়কে ফ্যাসিস্টদের আখড়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে আক্রমণের ঘটনায় যেমন একজন নাগরিক হিসেবে ব্যথিত হতে হয়, তেমনি কেন এই আক্রমণ হলো সেই পেছনের কারণগুলোও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

তিনি জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিম্ন আদালতের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন বিচারককে রুটিন বদলি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে যারা অতীতে বিতর্কিত রায় দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন, তাদের বদলির প্রশাসনিক উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আটকে যাচ্ছে বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কেবল কাগজে-কলমে স্বাধীন হলে চলবে না। যখন দলীয় লোকদের বসিয়ে দেওয়া হয় এবং বিচারক মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না, তখনই পুরো ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। একমাত্র স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব। গত ১৬-১৭ বছরে সুপ্রিম কোর্ট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ধর্ষণ মামলা কোনোভাবেই প্রত্যাহার হবে না এবং মাদকের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

পরশেষে বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন, দেশের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আধিপত্যবাদী শক্তি। বর্তমান সরকারকে একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

/আশিক


মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:০২:৪১
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার সামলাবেন।

প্রজ্ঞাপনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করার পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বীর শহীদদের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি শেরেবাংলা নগরে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করবেন।

/আশিক


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:১৭:২৭
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যেসব অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোট ও প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সরকারের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাঁর দল সবসময় গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করে এবং জনগণের মতামতকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারের কর্মকাণ্ডেও জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এর আগে সরকারকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শুধু রাজনৈতিক সংস্কার নয়, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরা বৃহত্তর কর্মসূচিগুলোও বাস্তবায়ন করতে চায়। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রস্তাবিত ৩১ দফা কর্মসূচির বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, সেটিও সংসদ ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাত অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বলয়ের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর আগেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন মির্জা ফখরুল।

সরকারের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনৈতিক বক্তব্যেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানের মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ওই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুলও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১০:৫৩:১৩
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন বলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির একজন মুখপাত্রের বক্তব্যও উদ্ধৃত হয়েছে। সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে আলোচনার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরছেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপুরের দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। ফলে স্পিকারের দেশে ফেরার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তাঁকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র দিতে হবে।

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বঙ্গভবনে সম্ভাব্য পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি এখনও গুঞ্জনের পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবে এমন কিছু ঘটলে সরকার সে অনুযায়ী অবস্থান নেবে।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, শুক্রবারই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি রাষ্ট্রপতির মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে একই তথ্য জানায়। ফলে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক গুঞ্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সম্ভাব্য আসন্ন সাংবিধানিক পরিবর্তন হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ নিয়েও বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কিছু প্রতিবেদনে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, এমন কোনো ফোনালাপের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। ফলে যাচাই না হওয়া এই দাবিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রতিষ্ঠিত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে অবশ্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি বলছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতির ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। সাহাবুদ্দিনকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একসময়ের রাজনৈতিক মিত্র হিসেবেও উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

-রাফসান


বঙ্গভবনে তোড়জোড়: স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২১:২৫:৪১
বঙ্গভবনে তোড়জোড়: স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, আগামীকাল দুপুর নাগাদ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট তিনি তার পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।

অন্য একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শারীরিক স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে পদত্যাগের এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নকে 'বিব্রতকর' আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেখতে পাবেন..."।

সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সুস্থ মস্তিস্কের কোনো মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারে না।"

নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি সে সময় অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলাম। ফলে এই গুঞ্জন পুরোপুরি বানোয়াট ও কল্পিত ছাড়া আর কিছুই নয়।"

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরের মধ্যেই সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই (রোববার) তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও জরুরি ভিত্তিতে শুক্রবারই তিনি ফিরে আসছেন।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সূচি বদলে শুক্রবারই ঢাকায় পৌঁছাবেন স্পিকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারকে সম্বোধন করে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্র প্রদানের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

তবে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলালেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ খালি হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের ভেতর জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌপ্রধানের হাত থেকে র‍্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন নৌপ্রধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:৩১:১৪
প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌপ্রধানের হাত থেকে র‍্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন নৌপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

প্রদত্ত সংবাদটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধানের নামে তথ্যগত গরমিল রয়েছে। বর্তমানে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তবে আপনার দেওয়া সংবাদের সম্পূর্ণ তথ্য ও গঠন ঠিক রেখে নিচে পেশাদার বাংলা সংবাদ হিসেবে পুনর্লিখন করা হলো:

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি বিদায়ী নৌপ্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস এডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

ব্যাজ পরানো শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় নৌপ্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে বিকেলে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডের দায়িত্ব বুঝে নেন। হস্তান্তরের সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সুদীর্ঘ প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশন্স) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) পদসহ বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ ও ঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও প্রবাসী বাঙালিদের কল্যাণে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ একাধিক পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকেই নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে নৌবাহিনীকে একটি বিশ্বস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শক্তিতে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর।

/আশিক


কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৯:৩২:১২
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বলবৎ থাকা ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধগুলো পুনর্বিবেচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের ওপর ভিত্তি করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বিদ্যমান আইনি ও নীতিগত সীমাবদ্ধতাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের আইনি বিধিনিষেধ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কতটা বাধা সৃষ্টি করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যেখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে, সেখানে পর্যাপ্ত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের উপস্থিতিও প্রয়োজনীয়। তবে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত রেখেই উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত করতে হবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিবেশ রক্ষা করা হলেও এমন কোনো কঠোর নিয়ম থাকা ঠিক নয় যা এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরিতে আন্তর্জাতিক মডেল অনুসরণ করার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশের সীমিত ভৌগোলিক আয়তনের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ণের কোনো বিকল্প নেই। শিল্পাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাধার বাঁচিয়ে রাখতে বহুতল বা ভার্টিক্যাল ভবন নির্মাণকে উৎসাহিত করতে হবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন নগরীগুলোও বহুতল ভবন ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে।

কক্সবাজার কেন্দ্রিক সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, রেল সংযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এসব অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে একটি ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপ দেওয়া হবে। আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে কক্সবাজার একটি মূল প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। অঞ্চলটির সার্বিক ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে, যা কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন এবং বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় বিধিনিষেধ সংস্কারের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশন ও পানি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি পুরোদমে চালু হলে অঞ্চলটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

/আশিক


শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের খেসারত? পদত্যাগের চাপে রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৮:১৭:১৩
শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের খেসারত? পদত্যাগের চাপে রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা না-থাকা নিয়ে রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার তাঁর কাছেই শপথ গ্রহণ করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তীতে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাঁর অপসারণ দাবি করলেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপি শুরু থেকেই তাঁকে পদে রাখার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল।

তবে এবার বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতেই বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা বা মৌখিক অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। বঙ্গভবনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, শুক্রবার দুপুর নাগাদ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে তা স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছু দিন ধরেই গুরুতর স্নায়ুবিষয়ক (Neurological) জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) করানো সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্টে বেশ কিছু জটিলতা দেখা গেছে। পদত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া শেষেই উন্নত চিকিৎসার তাগিদে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তাঁর সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

তবে এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি এক গোপন ফোনালাপের গুঞ্জনও প্রভাব ফেলেছে বলে দেশের একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। খবরে বলা হয়, চলতি বছরের ৯ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির লন্ডন সফরকালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সাথে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত ধরে এই ফোনালাপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই মূলত সরকার থেকে তাঁকে সরে দাঁড়ানোর কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারের উদ্দেশ্যে লিখিত স্বহস্তে স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ৯০ দিন) জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

/আশিক


দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণে চিঠি পাঠালেন নরেন্দ্র মোদি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৮:০৭:২৩
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণে চিঠি পাঠালেন নরেন্দ্র মোদি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, ভারতের পক্ষ থেকে আসা চিঠিটি প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কূটনৈতিক বার্তাটি তুলে ধরেন।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে আন্তর্জাতিক জোট ‘ব্রিকস’-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাধারণত ১১ সদস্য রাষ্ট্রের এই বিশেষ বৈশ্বিক জোটে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত তাদের পছন্দের বিভিন্ন মিত্র রাষ্ট্রপ্রধানদের বিশেষ অতিথি (Special Guest) হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই মেগা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেন নরেন্দ্র মোদি।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছেছে। আমরা তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।”

অন্যদিকে, উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের মধ্যে গোপন ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন ও চটুল খবরের বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ স্পষ্টভাবে বলেন, “এই তথাকথিত ফোনালাপের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক খবর পৌঁছায়নি। তবে গুঞ্জনটি যদি কোনোভাবে সত্যি হয়ে থাকে, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের উর্ধ্বতন দপ্তর অবশ্যই তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালাবে।”

একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের আসন্ন ঢাকা সফর নিয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সাথে বাংলাদেশের বহু পাক্ষিক ও কৌশলগত বাণিজ্য সম্পর্কের জায়গা রয়েছে। মার্কিন দূতের এই সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক, ট্রেড ডিপ্লোমেসি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন এক মাত্রা লাভ করবে এবং বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পাবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: