৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, এবার কি পূরণ হবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ২০:২৯:০৪
৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, এবার কি পূরণ হবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন?
ছবি : সংগৃহীত

৪১ বছর বয়সেও ফুটবল মাঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। যখন তার অনেক সমসাময়িক কিংবা বয়সে ছোট ফুটবলার অবসর নিয়ে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন, তখনও পর্তুগিজ তারকা ছুটে চলেছেন একটি অপূর্ণ স্বপ্নের পেছনে। সেই স্বপ্ন হলো বিশ্বকাপ জেতা।

ক্লাব ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রায় সব বড় অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন রোনালদো। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তার হাতে ওঠেনি। এই একটি অপূর্ণতাই যেন তাকে মাঠে টিকে থাকার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

রোনালদো পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। তবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে তার সেরা সাফল্য ২০০৬ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছানো। এরপরের আসরগুলোতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি পর্তুগাল। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন দেখলেও কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলটিকে।

সেই হতাশার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখেছিলেন, পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাই ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তিনি আরও বলেছিলেন, স্বপ্নটি যতদিন বেঁচে ছিল, ততদিন সেটি ছিল অসাধারণ সুন্দর।

কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে হয়তো আর দেখা যাবে না এই কিংবদন্তিকে। মরক্কোর কাছে হারের পর মাঠ ছাড়ার সময় তার আবেগঘন কান্নার দৃশ্যও এমন ধারণাকে আরও জোরালো করেছিল। তবে চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে রোনালদোর পাশে রয়েছে প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া শক্তিশালী একটি পর্তুগাল দল। মিডফিল্ডে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। অভিজ্ঞ বেনার্দো সিলভাও থাকবেন দলের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে। আক্রমণভাগে রোনালদোর সঙ্গে জোয়াও ফেলিক্স ও রাফায়েল লিয়াওরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

এই দলটিকে অনেকেই পর্তুগালের নতুন ‘সোনালি প্রজন্ম’ হিসেবে দেখছেন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলা সাবেক উইঙ্গার আন্তোনিও সিমায়েশও মনে করেন, বর্তমান দলে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান রয়েছে। তার মতে, পর্তুগালের শক্তিশালী রক্ষণভাগ, সৃষ্টিশীল মিডফিল্ড এবং কার্যকর আক্রমণভাগ রয়েছে। তাই দলটি যদি আত্মবিশ্বাস ও ঐক্য ধরে রাখতে পারে, তাহলে ইতিহাস গড়ার সুযোগ তাদের সামনে রয়েছে।

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে রোনালদোর নাম ইতোমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড তার দখলে, ম্যাচ সংখ্যা ২২৬। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলও করেছেন তিনি। পেশাদার ক্যারিয়ারে তার গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ৯৭৩-এ, আর তিনি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক হাজার গোলের মাইলফলকের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন।

এখন রোনালদোর সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য একটাই—বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলা। ব্যক্তিগত সব অর্জনের পরও এই ট্রফিটিই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। ২০২২ সালে তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ জিতে যে স্বপ্ন পূরণ করেছেন, এবার সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পর্তুগালের এই মহাতারকা।

/আশিক


ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কি মুখোমুখি হবে? দেখে নিন দুই দলের বিশ্বকাপ সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৯:২৮:৩৭
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কি মুখোমুখি হবে? দেখে নিন দুই দলের বিশ্বকাপ সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথ ‘সুপারক্লাসিকো’ তথা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তথ্য হলো—আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার চূড়ান্ত ড্র অনুযায়ী, দুই পরাশক্তি এবার সম্পূর্ণ আলাদা দুটি গ্রুপে অবস্থান করছে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলছে গ্রুপ ‘সি’ (Group C)-তে, যেখানে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে গ্রুপ ‘জে’ (Group J)-তে; আলবিসেলেস্তেদের সঙ্গী হিসেবে এই গ্রুপে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

গ্রুপ পর্বে দুই দলের পথ আলাদা হওয়ায় এই ধাপে ফুটবল বিশ্বের বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ দেখা যাচ্ছে না। তবে ল্যাটিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্টই যদি নিজেদের গ্রুপ থেকে দাপটের সাথে নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হতে পারে এবং টুর্নামেন্টের নির্ধারিত পথ (ব্র্যাকেট) ধরে সফলভাবে এগিয়ে যায়, তবেই বিশ্বকাপের পরবর্তী হাই-ভোল্টেজ ধাপে দেখা মিলতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এই ধ্রুপদী লড়াই।

ফুটবলপ্রেমীদের সুবিধার্থে দুই দলের গ্রুপ পর্বের সম্পূর্ণ সময়সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী) দেওয়া হলো

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের ম্যাচ সূচি

১৪ জুন: ব্রাজিল বনাম মরক্কো (ভোর ৪:০০ টা)

২০ জুন: ব্রাজিল বনাম হাইতি (সকাল ৬:৩০ টা)

২৫ জুন: ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড (ভোর ৪:০০ টা)

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচ সূচি

১৭ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া (সকাল ৭:০০ টা)

২২ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া (রাত ১১:০০ টা)

২৮ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান (সকাল ৮:০০ টা)

/আশিক


নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে যে রায় দিল আদালত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৩:০৬:২৮
নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে যে রায় দিল আদালত
ছবি: সংগৃহীত

বহুদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার অবসান ঘটেছে আদালতের রায়ে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘোষিত এ রায়ের মাধ্যমে প্রায় চার বছর ধরে চলা বহুল আলোচিত মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি সামনে এলো।

মামলার সূত্রপাত হয় তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে। তার দাবি ছিল, বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তামিমা নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, পূর্ববর্তী দাম্পত্য সম্পর্কের আইনগত সমাপ্তির পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির হোসেন ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর জের ধরেই একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকায় তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে চলতে থাকে। রিভিশন আবেদন খারিজ হওয়ার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে শাস্তির আবেদন জানালেও আসামিপক্ষ অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে খালাস চায়।

শুনানির একপর্যায়ে তামিমা সুলতানা তাম্মিও আদালতে নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্য, জেরা এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদি বিশ্লেষণের পর আদালত অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি খুঁজে পায়নি। ফলে ফৌজদারি আইনের আলোকে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস প্রদান করেন।

আইনজীবীদের মতে, আলোচিত এই মামলার রায় পারিবারিক ও বৈবাহিক বিরোধসংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জনআলোচনায় থাকা একটি বিতর্কিত অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

রায় ঘোষণার পর মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে। কারণ, জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটারের ব্যক্তিজীবন ঘিরে যে বিতর্ক কয়েক বছর ধরে সংবাদ শিরোনামে ছিল, আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে সেটি একটি আইনি পরিণতির মুখ দেখল। এখন পর্যন্ত মামলার বাদীপক্ষ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

-রাফসান


৪৮ দলের বিশ্বকাপ, জেনে নিন বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পুরো সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৮:৩৮:৪৬
৪৮ দলের বিশ্বকাপ, জেনে নিন বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পুরো সূচি
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে বিশ্বকাপ, যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে এই মেগা টুর্নামেন্ট। তিন দেশের ১৬টি আধুনিক শহর ও স্টেডিয়ামে প্রায় ৪০ দিনব্যাপী চলবে ফুটবলের এই বিশ্বমেলা।

আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে পর্দা উঠবে আসরের। একই স্টেডিয়াম অতীতে দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করেছে। এবারও ঐতিহাসিক এই ভেন্যু বিশ্বকাপের সূচনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। আর ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউজার্সির অত্যাধুনিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মহারণের ফাইনাল।

বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট: কীভাবে হবে প্রতিযোগিতা?

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। আগের ৩২ দলের পরিবর্তে এবার ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে দলগুলোকে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল।

গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে। এছাড়া ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে জায়গা পাবে। ফলে মোট ৩২টি দল নিয়ে শুরু হবে ‘রাউন্ড অব ৩২’।

নতুন এই ফরম্যাটের কারণে বিশ্বকাপের মোট ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে ম্যাচ ছিল ৬৪টি, সেখানে এবার ৪০টি অতিরিক্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

কোন গ্রুপে কারা?

বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী বেশ কয়েকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, শক্তিশালী মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

গ্রুপ ‘আই’-এ রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক।

গ্রুপ ‘জে’-তে আছে আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

গ্রুপ ‘কে’-তে রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো।

গ্রুপ ‘এল’-এ মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা।

স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের গ্রুপও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কারা শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে?

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কয়েকটি দল। সর্বশেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে তারা শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা আবারও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামবে। অনেকের ধারণা, এটি হতে পারে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

একইভাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্যও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। ফলে পর্তুগালকে ঘিরেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ব্রাজিল, স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং উরুগুয়ের মতো দলগুলোও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো

গ্রুপ পর্বেই কয়েকটি ম্যাচ বিশ্বজুড়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।

ব্রাজিল বনাম মরক্কো

আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া

ফ্রান্স বনাম সেনেগাল

ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া

স্পেন বনাম উরুগুয়ে

পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া

বেলজিয়াম বনাম ইরান

এসব ম্যাচই নির্ধারণ করতে পারে কোন দল নকআউট পর্বে সুবিধাজনক অবস্থানে যাবে।

নকআউট পর্ব কখন শুরু?

২৮ জুন শুরু হবে দ্বিতীয় রাউন্ড বা রাউন্ড অব ৩২। এরপর ৪ জুলাই থেকে শুরু হবে শেষ ষোলোর লড়াই।

কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ১২ জুলাই।

১৪ ও ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল।

১৮ জুলাই মায়ামিতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

আর ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল।

বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া-অর্থনৈতিক আয়োজনগুলোর একটি। তিন আয়োজক দেশ বিশ্বকাপ থেকে কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পর্যটন, হোটেল, পরিবহন, সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন, খুচরা ব্যবসা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হবে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে লক্ষাধিক বিদেশি পর্যটক উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রেকর্ড প্রাইজমানি

এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোট প্রাইজমানির পরিমাণ প্রায় ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার।

রানার্সআপ পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার।

চতুর্থ স্থান অধিকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোও কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার পাবে।

বিশ্বকাপ ২০২৬ কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বিনোদনের সবচেয়ে বড় সম্মিলিত আয়োজনগুলোর একটি। তিনটি দেশের যৌথ আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরকে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং সবচেয়ে দর্শকসমৃদ্ধ টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

-রাফসান


বিশ্বকাপ ২০২৬: যা থাকছে উদ্বোধনী আয়োজনে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৮:৩০:৪০
বিশ্বকাপ ২০২৬: যা থাকছে উদ্বোধনী আয়োজনে
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ এবার নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে এই মহাযজ্ঞ, যেখানে অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দল এবং অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১০৪টি ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে ১১ জুন, আর চূড়ান্ত লড়াই অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে।

এবারের বিশ্বকাপকে অন্য সব আসর থেকে আলাদা করেছে উদ্বোধনী আয়োজনের অভিনব পরিকল্পনা। তিন আয়োজক দেশই নিজ নিজ মাটিতে পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম। অলিম্পিক গেমসের বিখ্যাত সৃজনশীল পরিচালক মার্কো বালিচের পরিকল্পনায় তৈরি এই অনুষ্ঠানগুলোতে ফুটবল, সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে। ফুটবল ইতিহাসের বহু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী এই ভেন্যুতে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, লোকজ শিল্প ও আধুনিক বিনোদনের মিশেলে বর্ণাঢ্য আয়োজন সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ থাকছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা। তার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন বার্না বয়, জে বালভিন, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় শিল্পী টাইলা। উদ্বোধনী উৎসব শেষে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ।

পরদিন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও অনুষ্ঠিত হবে পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। টরন্টোতে আয়োজিত কানাডার অনুষ্ঠানে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরা হবে। সেখানে পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ নোরা ফাতেহি। কানাডার ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত এই দিনে স্বাগতিকরা নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচ খেলবে।

অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে থাকছে বিনোদন জগতের তারকাদের বিশাল সমাবেশ। কেটি পেরি, ফিউচার, আনিটা, রেমা এবং কে-পপ সুপারস্টার লিসার পরিবেশনা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পে দেশটির নেতৃত্বকে তুলে ধরতেই এমন শিল্পী তালিকা নির্বাচন করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে তিন দেশেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। মেক্সিকো সিটি কর্তৃপক্ষ উদ্বোধনী ম্যাচের দিন বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। শহরজুড়ে সাজসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ফ্যান ফেস্ট আয়োজনের মাধ্যমে লাখো সমর্থককে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষক ইউনিয়নের কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবুও আয়োজকরা নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদী।

প্রচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এবার থাকছে ব্যাপক আয়োজন। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়ার কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি খেলা উপভোগ করতে পারবেন। বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সম্প্রচার মাধ্যম ইতোমধ্যে সম্প্রচার অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি এই আয়োজনের অংশ হতে পারবেন।

ফিফার প্রত্যাশা, এবারকার বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা, বাণিজ্যিক আয়, স্টেডিয়াম উপস্থিতি এবং ডিজিটাল ভিউয়ারশিপের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়বে। ৪৮ দলের বিস্তৃত প্রতিযোগিতা, তিন দেশের যৌথ আয়োজন এবং নজিরবিহীন উদ্বোধনী উৎসব বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ইতোমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্টে পরিণত করেছে।

এখন অপেক্ষা কেবল উদ্বোধনী বাঁশির। আর সেই মুহূর্তের সঙ্গে শুরু হবে কোটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও ফুটবল উন্মাদনার নতুন এক বিশ্বযাত্রা।

সূত্র: আল জাজিরা


ফুটবলপ্রেমীদের জমজমাট রাত, আজকের খেলার সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৮:১৫:৪৩
ফুটবলপ্রেমীদের জমজমাট রাত, আজকের খেলার সূচি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরু হওয়ার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি পর্বে ব্যস্ত সময় পার করছে ফুটবল বিশ্বের বড় দলগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় আজ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের আগে দলীয় সমন্বয়, কৌশল এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস যাচাইয়ের জন্য ম্যাচ দুটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন পর্তুগাল মুখোমুখি হবে আফ্রিকার শক্তিশালী দল নাইজেরিয়ার। বিশ্বকাপের আগে এটিই পর্তুগালের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের দৃষ্টি থাকবে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের দিকে। বিশেষ করে আক্রমণভাগ, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের সমন্বয় কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা এই ম্যাচে মূল্যায়ন করা হবে।

অন্যদিকে ইউরোপের আরেক পরাশক্তি ইংল্যান্ড খেলবে মধ্য আমেরিকার দল কোস্টারিকার বিপক্ষে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া ইংলিশ দলটি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি আরও নিখুঁত করতে চায়। কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে সম্ভাব্য মূল একাদশ এবং কৌশলগত পরিকল্পনার পরীক্ষাও হতে পারে।

খেলার সূচি অনুযায়ী পর্তুগাল ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি টেন ২। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও কোস্টারিকার লড়াই শুরু হবে রাত ২টায় এবং সেটি দেখা যাবে সনি টেন ১-এ।

ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন। ইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম টুর্নামেন্টের ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। প্রতিযোগিতাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস।

-রফিক


মেসিকে নিয়ে কাল ভোরে নামছে আর্জেন্টিনা: খেলা দেখবেন যেভাবে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৫৭:৫৭
মেসিকে নিয়ে কাল ভোরে নামছে আর্জেন্টিনা: খেলা দেখবেন যেভাবে
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাকর্ষীয় মহারণ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের শেষ ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামীকালের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের পরাশক্তি আইসল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত ‘জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে’ (Jordan-Hare Stadium) ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকা আর্জেন্টিনা এই ম্যাচটিকে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের শেষ বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এটিই হবে স্কোয়াড নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ প্ল্যাটফর্ম। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় এবং স্বস্তির সুখবর হলো—পুরোপুরি চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন মহাতারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ক্লাব দল ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং বা পেশির চোটে পড়েছিলেন তিনি। তবে সেই ধকল সামলে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই মেসি মাঠে নামবেন বলে জোরালো আভাস পাওয়া গেছে।

ম্যাচপূর্ব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা দলের হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসির ফেরার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "মেসি আগামীকাল মাঠে থাকবে, এটা নিশ্চিত। তবে সে ঠিক কত মিনিট খেলবে তা আমি এখনই বলতে পারছি না। আজকের শেষ অনুশীলনে তার সঙ্গে কথা বলে এবং কোনো ধরনের ঝুঁকি না নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী মেসি খেলবে।" স্কালোনি আরও জানান, চোটের শঙ্কায় থাকা নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মন্টিয়েল, উদীয়মান তারকা নিকো পাজ এবং জুলিয়ান আলভারেজ ধীরে ধীরে শতভাগ ফিটনেসে ফিরছেন। তবে দলটির জন্য একমাত্র বড় ধাক্কা হলো—চোটের কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালেরদি। বালেরদির বিকল্প হিসেবে কাকে দলে নেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। স্কালোনি বলেন, "আইসল্যান্ড ম্যাচের পর আমরা রক্ষণভাগের বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারব। বালেরদির জায়গায় একজনকে নেওয়া হবে, তবে দলের বাকি খেলোয়াড়দের শারীরিক কন্ডিশন বিবেচনা করেই চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে।"

অন্যদিকে, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া আইসল্যান্ড নিজেদের ভবিষ্যৎ দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষের এই ম্যাচটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। কোচ আরনার গুন্নলাউগসনের দল মূলত রক্ষণাত্মক কৌশলে (ডিফেন্সিভ ব্লক) খেলে কাউন্টার অ্যাটাক বা দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা করে আর্জেন্টিনাকে আটকানোর ছক কষছে। দুই দলের ফুটবল ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবারই দেখা হয়েছিল; ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল আইসল্যান্ড।

তবে বর্তমান ফর্ম ও শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনাকেই যোজন যোজন এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৫ ম্যাচ জিতে উড়ছে স্কালোনির শিষ্যরা; বিপরীতে আইসল্যান্ডের শেষ ৫ ম্যাচে কোনো জয় নেই (৩টি হার ও ২টি ড্র)। আগামীকাল আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে মেসির পাশাপাশি মূল নজরে থাকবেন লাওতারো মার্টিনেজ। ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড ২০২৪ কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এবং হন্ডুরাসের বিপক্ষেও গোল করে নিজের বিধ্বংসী ফর্মের জানান দিয়েছেন।

আগামীকাল আর্জেন্টিনা প্রথাগত ৪-৩-৩ ছকে মাঠে নামতে পারে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে বিশ্রাম দিয়ে গোলপোস্টে দেখা যেতে পারে জেরোনিমো রুলিকে। রক্ষণে থাকবেন কাপালদো, অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠের হাল ধরবেন রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ। আর আক্রমণভাগে বিশ্ব কাঁপাতে প্রস্তুত লিওনেল মেসি, লাওতারো মার্টিনেজ ও নিকো গঞ্জালেস। বিপরীতে আইসল্যান্ড ৫-৪-১ ফরমেশনে আলবার্ট গুডমুন্ডসনকে একক স্ট্রাইকার হিসেবে সামনে রেখে গোলপোস্টে ভালডিমারসনকে নিয়ে দুর্গ গড়ার চেষ্টা করবে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে ঘরে বসেই ফুটবলপ্রেমীরা এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস চ্যানেল ইএসপিএন (ESPN) ও ইএসপিএন ডিপোর্তেস। এ ছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ওয়াচ ইএসপিএন, ফুবো টিভি (Fubo TV), স্লিং টিভি, ফানাতিজ, ভিক্স (ViX) ও ফ্যানকোড অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং দেখা যাবে।

/আশিক


ইয়াসের-তাবিথের মাস্টারস্ট্রোক: কাটল বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৩৭:২৭
ইয়াসের-তাবিথের মাস্টারস্ট্রোক: কাটল বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাংলাদেশে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাবে কি না—তা নিয়ে দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে যে চরম উদ্বেগ ও ‘ব্ল্যাকআউট’ বা খেলা দেখতে না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে, বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবেই সম্প্রচার করা হবে ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চ। খাদের কিনারা থেকে দেশের কোটি ফুটবল ভক্তের এই আবেগকে আলোর মুখ দেখানোর নেপথ্যে এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ খেলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং নবনির্বাচিত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক চুক্তি সফল হওয়ার ঘোষণা দেন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত কয়েক সপ্তাহ আগে, যখন সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’ ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব কিনেও তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ মুহূর্তে এসে চুক্তিটি সমর্পণ করে। বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, তখন বাংলাদেশে কোনো সম্প্রচারকারী মাধ্যম ছিল না। আকাশচুম্বী দাম, সীমিত বাণিজ্যিক সুযোগ এবং ম্যাচের প্রতিকূল সময়ের কারণে স্থানীয় কোনো বেসরকারি ব্রডকাস্টারই এই স্বত্ব কিনতে সাহস বা আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি সংকট সমাধানের নেতৃত্ব নেয় এবং ফিফার আমন্ত্রণে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সেতু বন্ধন তৈরি করেন। ডিজিটাল ও টেলিকম টাই-ইনের মতো নতুন আয়ের উৎসগুলো চিহ্নিত করে ৩টি জাতীয় টেলিভিশনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এই সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিকে কোনো ধরনের লোকসানের মুখে না ফেলেই তাঁরা এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। তিনি অতীতের দুর্নীতি ও চড়া দামের বাজারকে পাশ কাটিয়ে দেশের টাকা বাঁচানোর বিশদ বিবরণ দিয়ে বলেন, "ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনা একটি মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল, যা ছিল করদাতাদের টাকার ওপর একটি বড় ধাক্কা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমাদের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে জনগণের টাকার অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ফলে সেই অযৌক্তিক প্রস্তাব বাতিল করে আমরা সরাসরি ফিফার সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে মাত্র ৩৮.৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৭ কোটি টাকায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।"

প্রতিমন্ত্রী তীব্র যুক্তি দিয়ে বিগত সরকারের আমলের লোকসানি চুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, "গতবার বিটিভি ৯৬ কোটি টাকায় স্বত্ব কিনেও 'বিগ জিরো' লাভ করেছিল। এবার বিটিভিকে তার নিজের তহবিল থেকে একটি টাকাও দিতে হবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন এবং টেলিকম কোম্পানি, স্যাটেলাইট টিভি ও ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে উপ-স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমেই এই ৪৭ কোটি টাকার পুরো অর্থ উঠে আসবে। ফলে নামমাত্র খরচে, কোনো লোকসান ছাড়াই দেশের মানুষের ড্রয়িংরুম ও ডিজিটাল স্ক্রিনে পৌঁছে যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ।" উদ্দেশ্য যদি সৎ হয় তবে জনগণের আমানত রক্ষা করেই বিশ্বমানের সেবা দেওয়া সম্ভব, এই চুক্তির মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

/আশিক


২১ বছরের খরা কাটল মিরপুরে: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২০:৩৭:৩২
২১ বছরের খরা কাটল মিরপুরে: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম মহাকাব্যিক ও সোনালী অধ্যায়। ক্রিকেট পরাশক্তি ও রেকর্ড ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ২১ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দল। ২০০৫ সালে কার্ডিফের বিখ্যাত জয়ের পর ওয়ানডে সংস্করণে অজিদের বিপক্ষে এটিই টাইগারদের দ্বিতীয় জয়। তবে সবচেয়ে বড় রেকর্ড হলো—নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারানোর গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে অজিদের বৃষ্টি আইনে (DLS Method) ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

ম্যাচের প্রথমার্ধে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের পাহাড়সম লড়াকু পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। টাইগারদের এই বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরা অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর আজই প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রানের এক অপরাজিত ও লড়াকু ইনিংস উপহার দেন সৈকত (তথ্যসূত্রে প্রথমে ৮৪ রান উল্লেখ থাকলেও রানটি মূলত ৮৬)।

এ ছাড়া টপ অর্ডারে ৮৬ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ওপেনিংয়ে নেমে ৪৪ বলে ৫৪ রানের মারকুটে ফিফটি করেন তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন পেসার নাথান এলিস।

২৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। অসি শিবিরে প্রথম ওভারের একেবারে প্রথম বলেই আঘাত হানেন টাইগার স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদ। তাঁর করা গতির বলে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক (০) মেরে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ম্যাথু শর্ট। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে নিজের দ্বিতীয় বলেই ইনফর্ম ওয়ানডাউন ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

এরপর ১০.১ ওভারে দলীয় ৫১ রানে অজি অধিনায়ক জশ ইংলিসকে (১৯) নিজের এক্সপ্রেস গতিতে পরাস্ত করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানাতে বাধ্য করেন তরুন পেসার নাহিদ রানা। মিডল অর্ডারে কুপার কনোলির ৩৫ এবং অ্যালেক্স ক্যারির ৪৭ রান কেবল লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ১২৮ রান থাকা অস্ট্রেলিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে তাদের পরের ৫টি উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে।

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন নিশ্চিত লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে, তখন শেষ ব্যাটসম্যান অ্যাডাম জাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে শেষ চেষ্টা অব্যাহত রাখেন ক্যামেরন গ্রিন। বৃষ্টির আগে শেষ উইকেটে তাঁরা ৩৪ বলে ৩৫ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ক্যামেরন গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় মিরপুরের আকাশে তীব্র বজ্রপাত ও পরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে থমকে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

এরপর বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেলা আর মাঠে না গড়ালে বৃষ্টি আইন বা ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নিশ্চিত ৮৬ রানে জয়ী ঘোষিত হয়। বাংলাদেশ দলের হয়ে বল হাতে আজ রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা; তিনি একাই শিকার করেন সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট। এ ছাড়া অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রত্যেকে নেন ২টি করে উইকেট। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে বাঘেদের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

/আশিক


খেলা আর না হলেও জিতবে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৯:৫৮:৫৫
খেলা আর না হলেও জিতবে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক ওয়ানডে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। অজিদের বধ করতে টাইগারদের প্রয়োজন আর মাত্র ১টি উইকেট। তবে ম্যাচটির রোমাঞ্চকর শেষ অঙ্কে বাগড়া দিয়েছে ঢাকার বৈরী আবহাওয়া। আজ মঙ্গলবার (৯ জুনের শেষ বিকেল ও সন্ধ্যা) খেলা চলাকালে মিরপুরের আকাশে তীব্র বজ্রপাত শুরু হলে আম্পায়াররা ম্যাচটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।

এর কিছুক্ষণ পরই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় সুখবর হলো—বৃষ্টির কারণে যদি এই ম্যাচে আর একটি বলও মাঠে না গড়ায়, তবুও কোনো আফসোস থাকবে না বাংলাদেশের। কারণ, ক্রিকেটীয় নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি ইতিমধ্যেই অফিসিয়াল রূপ পেয়েছে এবং বৃষ্টি আইন তথা ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (DLS) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ এখনই নিশ্চিত ৮৬ রানে এগিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ, খেলা পরিত্যক্ত হলেও জয়ী ঘোষিত হবে বাংলাদেশই।

ম্যাচ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত জয়ের জন্য ২৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১৯১ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের জয়ের জন্য এখনও ৪৬ বলে প্রয়োজন ৯৪ রান, যা কার্যত অসম্ভব। মিরপুরের মন্থর উইকেটে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের লড়াকু ও পাহাড়সম পুঁজি গড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টাইগারদের এই বড় সংগ্রহের নেপথ্য নায়ক ছিলেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের ওয়ানডে জার্সিতে ফেরা অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর আজই প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।

মাত্র ৭০ বলে ৭টি দৃষ্টিনন্দন চার এবং ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রানের এক অপরাজিত ও লড়াকু ইনিংস উপহার দেন সৈকত। এ ছাড়া দলের পক্ষে ৮৬ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ওপেনিংয়ে নেমে ৪৪ বলে ৫৪ রানের মারকুটে ফিফটি করেন তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন পেসার নাথান এলিস।

জবাব দিতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের গতির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অজিদের টপ অর্ডার। ম্যাচের প্রথম ওভারের একেবারে প্রথম বলেই অজি ওপেনার ম্যাথু শর্টকে (০) ক্লিন বোল্ড করে মেলবোর্নের পর মিরপুরেও ইতিহাস গড়েন স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদ। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ইনফর্ম ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই কোমর ভেঙে পড়া অস্ট্রেলিয়া আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

এরপর অধিনায়ক জশ ইংলিসকে (১৯) নিজের গতিতে পরাস্ত করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানাতে বাধ্য করেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। মিডল অর্ডারে কুপার কনোলির ৩৫ এবং অ্যালেক্স ক্যারির ৪৭ রান কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ১২৮ রান থাকা অস্ট্রেলিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে তাদের পরের ৫টি উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে। ১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন নিশ্চিত লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে, তখন শেষ ব্যাটসম্যান অ্যাডাম জাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন। তিনি ৫২ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে খেলা বন্ধ হয়, যা পরে বৃষ্টিতে রূপ নেয় এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়কে কেবল সময়ের ব্যাপারে পরিণত করে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: