ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করেছে এবং এর জন্য দেশটিকে এখন চড়া ‘মূল্য চুকাতে হবে’। নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করেন।
তিনি সরাসরি দাবি করেন, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের পুরো সামরিক বাহিনী এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কার্যত আর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর পোস্টের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের আঞ্চলিক শক্তির দম্ভকে নাকচ করে দিয়ে আরও বলেন, তারা (ইরান) কৌশলগতভাবে বর্তমানে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। ইরান আসলে শুধু বন্ধ দরজার পেছনে বড় বড় কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না; যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করা শক্তির আজ চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটেছে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, হোয়াইট হাউজ বা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ইরান অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক বেশি সময়ক্ষেপণ করেছে, অথচ এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা খোদ ইরানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই খুবই ভালো ও লাভজনক হতে পারত।
যেহেতু তারা সুযোগ হাতছাড়া করেছে, তাই এখন তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে। তবে নিজের পোস্টে ‘মূল্য চুকাতে হবে’ বলতে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন—তা সামরিক কোনো পদক্ষেপ নাকি নতুন করে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
/আশিক
উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান
দেশটির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ইরান। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় পাঁচটি নতুন স্থানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে তেহরান। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের আলোকে এসব প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংসদের জ্বালানি ও নির্মাণবিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামি বলেন, ২০২২ সালে অনুমোদিত পারমাণবিক শিল্পের সমন্বিত কৌশলগত নথি অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অধীনে পারস্য উপসাগর ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক জ্বালানির অবদান বাড়ানো এখন ইরানের অন্যতম অগ্রাধিকার। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
ইসলামি আরও জানান, বর্তমানে চালু থাকা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তার দাবি, এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিংবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে ইরানের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক কেন্দ্র। তবে তেহরান এটিকে আর একক প্রকল্প হিসেবে রাখতে চায় না। বরং আগামী দশকে একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্রের মাধ্যমে একটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
ইরানের পারমাণবিক সংস্থার প্রধান জানান, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বুশেহর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে। তিনি এসব প্রকল্পকে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, নতুন ইউনিটগুলো চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে এবং শিল্প খাত আরও স্থিতিশীল জ্বালানি সুবিধা পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইরান পারমাণবিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটি মনে করছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ালে মূল্যবান তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়ক হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনাকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা কেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
-রাফসান
মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিস্ফোরক রূপ নিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
বুধবার ভোরে বাহরাইনের আকাশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বার্তায় জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। একই সময়ে বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এরপর আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই নৌবহর দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে হামলার ফলে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক অবকাঠামো বা সেনা সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বাহরাইন সরকার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
একই সময়ে কুয়েতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও প্রতিহত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার প্রকৃতি, উৎস কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর দূরপাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল এবং হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের জবাব। তবে জর্ডান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার সাইরেন বাজার ঘটনা নিশ্চিত করেনি। ফলে ইরানের এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সূচনা হয়েছিল, তা এখন দ্রুত বহুমাত্রিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিশ্চিত নিরাপত্তা বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ায় যেকোনো সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে মাঠের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আরও জটিল ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
সূত্র: সিএনএন
হরমুজে বিস্ফোরণ, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ অভিযানে মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে একটি অ্যাপাচি যুদ্ধ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সামরিক প্রতিক্রিয়া আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরানি বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছিল। যদিও ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই পাইলট সমুদ্রে পড়ে গেলেও পরবর্তীতে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। আধুনিক সামুদ্রিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতের সামরিক কৌশলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
এদিকে মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস, কিশম ও সিরিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলাকে ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও তেহরান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া দিতে দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।
আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে তেহরান এ ধরনের কৌশলে নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন উপস্থিতিকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
-রাফসান
রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল
ইরান যুদ্ধের জের ধরে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের ফুসফুসখ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে জলপথটি বন্ধ থাকায় ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে বিশ্ব। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, এই মহাকটূক্তির মাঝেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম এবং তুলনামূলক শান্ত রয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।
বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের (JPMorgan) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই রুটে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এলেও বাজার কেন এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, তার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত এই কঠোর সামরিক ও নৌ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে মূলত একটি ‘গোপন প্রবাহ’ (Clandestine Flow)। কিছু তেলবাহী জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বা ট্রান্সপন্ডার (Transponder) সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে, আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে ‘ভূতের মতো’ অন্ধকারে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে অলৌকিকভাবে পরিবহন হয়েছে।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথে ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো; সেই তুলনায় এই গোপন প্রবাহ কম হলেও বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “কঠোর নৌ অবরোধ সত্ত্বেও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে পার হচ্ছে।”
অন্যদিকে পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন মোট ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে বের হয়েছে, যার মধ্যে ৯ লাখ ব্যারেল ছিল সম্পূর্ণ ‘ভূতুড়ে’ বা অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ এবং বাকি ২১ লাখ ব্যারেল ইরানি সংস্থাকে ফি দিয়ে পার হয়েছে। র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকন্যালিও স্বীকার করেছেন যে, এই গোপন প্রবাহের কারণে হরমুজ দিয়ে তেল চলাচল আমরা যতটা শূন্যের কোঠায় ভেবেছিলাম, বাস্তবে তার চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে।
গোপন প্রবাহের পাশাপাশি তেলের বাজার শান্ত থাকার পেছনে আরও কয়েকটি বড় কৌশলগত কারণ কাজ করছে। পাইপার স্যান্ডলারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের মূল রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে বের করা হচ্ছে, যার বড় অংশ যাচ্ছে ‘সৌদি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের’ মাধ্যমে—যা সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রগুলোকে সরাসরি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের বিশাল কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের তীব্র চাপ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। আর এসব কারণেই আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (Brent Crude) সম্প্রতি সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারে ওঠার পর গত শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের আগের ৭০ ডলারের চেয়ে বেশি হলেও বর্তমান যুদ্ধাবস্থার তুলনায় বেশ কম।
তবে এই আপেক্ষিক শান্তি সাময়িক এবং সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্ববাজার বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকিটি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুত (SPR) ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। জান স্টুয়ার্ট অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।” তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, আগামী জুলাই ও আগস্টের তীব্র গরমে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি একলাফে ১৩০ ডলারে উঠে যেতে পারে।
আর এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন বর্তমানের ৪.২০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। স্টুয়ার্টের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারের অপচয় কমাতে এবং মানুষকে ব্যবহারে বাধ্য করতে তেলের দাম দ্রুত বাড়া প্রয়োজন। ফলে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান ‘গোপন বাণিজ্য’ সাময়িকভাবে বাজার ধরে রাখলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যেকোনো মুহূর্তে এক প্রলয়ংকরী সুনামি আছড়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান: চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনে প্রাণ বাঁচল ২ মার্কিন পাইলটের
কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী 'এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি' (AH-64 Apache) যুদ্ধবিমান সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার চেয়েও বিশ্বজুড়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এর উদ্ধার অভিযানটি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানবহীন চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনের (Unmanned Surface Vessel) সফল ব্যবহারের মাধ্যমে সাগরে ভাসমান দুই মার্কিন পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সোমবারের এই রোমাঞ্চকর উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপকূলে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সাগরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর দুই মার্কিন পাইলটকে মার্কিন যৌথ বাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে। তবে কীভাবে এবং কোন প্রযুক্তিতে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে সেন্টকমের মূল বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং শুরুতে চালকবিহীন বিশেষ নৌযান ব্যবহারের বিষয়টিও তারা গোপন রেখেছিল।
সেন্টকম জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উদ্ধার অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুই সেনাসদস্যকে লাইফ জ্যাকেটসহ সমুদ্রের বুক থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে দুই পাইলটই মার্কিন সামরিক হাসপাতালে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের সামরিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তবে সেন্টকম বিস্তারিত না জানালেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে (CBS News) জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক উদ্ধারকাজে মূলত ব্যবহার করা হয়েছিল একটি সর্বাধুনিক চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোন। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (US Fifth Fleet) অধীনে পরিচালিত অত্যন্ত গোপনীয় ও বিশেষ প্রযুক্তিগত ইউনিট ‘টাস্ক ফোর্স ৫৯’ (Task Force 59) এই উদ্ধারকারী ড্রোনটি সফলভাবে চালনা করে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে সাগরে ক্র্যাশ করা পাইলটদের জলপথ উদ্ধার অভিযানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রিমোট-কন্ট্রোলড ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর ২০২৩ সালের একটি সামরিক নথিতে বিভিন্ন ধরনের আত্মঘাতী ও গোয়েন্দা নৌ ড্রোনের উল্লেখ ছিল, তবে সোমবারের এই উদ্ধার অভিযানে ঠিক কোন মডেলের স্পিডবোট ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে, তা কৌশলগত কারণে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বংসের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্পর্কে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্বস্তির সাথে বলেন, "আমাদের সাহসী পাইলটরা এখন সম্পূর্ণ ভালো আছে। সবচেয়ে বড় কথা, অলৌকিকভাবে কেউ গুরুতর আহত হননি।" উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান পরমাণু চুক্তির উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে এই মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি নিয়ে চিরবৈরী ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তবে তারা বিদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করা ছাড়া নতুন কোনো নিজস্ব বা সামরিক তথ্য দিতে পারেনি। হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও ড্রোনের মাধ্যমে পাইলট উদ্ধারের এই এক্সক্লুসিভ খবরটি বিশ্বে প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'নিউইয়র্ক টাইমস'।
/আশিক
ইরান ও ইসরায়েল বড় যুদ্ধ থামিয়ে বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে এক ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অত্যন্ত কঠোর ও নিটোল চুক্তির একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে; যা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
এর আগে গতকাল সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর আজ নতুন করে এক বড় তথ্য দিলেন ট্রাম্প। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েল এবং ইরান অন্তত আগামী এক সপ্তাহের জন্য একে অপরের ওপর নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে। গত রোববারের রক্তক্ষয়ী মিসাইল ও বিমান হামলার রেশ টেনে ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, "তিনি (নেতানিয়াহু) প্রথমে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এর জবাবে তিনি পাল্টা আঘাত করেছেন; আর নিজের দেশের সুরক্ষায় নেওয়া এই পদক্ষেপের জন্য আমি তাকে কোনোভাবেই দোষ দিতে পারি না।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে শান্ত দাবি করে আরও বলেন, "নেতানিয়াহু আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা আঘাত করেছেন এবং এখন তারা (ইরান ও ইসরায়েল) বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং, তারা অন্তত আরও এক সপ্তাহ বা এই রকম কিছু সময়ের জন্য একে অপরকে আর কোনোভাবে ঘাঁটাবে না বা আক্রমণ করবে না।" হোয়াইট হাউজের এই সর্বোচ্চ আশ্বাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেমন স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বস্তির হাওয়া বইছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এই বহুপ্রতীকিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সই হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।
সূত্র: আলজাজিরা
হরমুজের আকাশে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কী ঘটেছে?
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি গানশিপ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তবে দুর্ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হলেও এর পাইলট ও ক্রুরা নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং কেউ আহত হননি। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা আপাতত দূর হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন। হেলিকপ্টারটি কোনো বৈরী হামলার শিকার হয়েছিল, নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নেভিগেশনজনিত সমস্যা অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং দ্রুত প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সামরিক সূত্রগুলো বলছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটি নিয়মিত টহল, নজরদারি অথবা অপারেশনাল মিশনে অংশ নিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার যেকোনো ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার খবর সামনে এলো। যদিও এখনো কোনো পক্ষ সরাসরি শত্রুপক্ষের হামলাকে দায়ী করেনি।
অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা মার্কিন বাহিনীর একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের সময় অন্তত ৩০টি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো প্রধানত উপকূলীয় টহল, সুরক্ষা এবং সীমিত আক্রমণাত্মক মিশনে ব্যবহৃত হতো। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী এগুলোকে আরও গভীর সমুদ্রাঞ্চল ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহার করছে।
ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকিও আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার যুগে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
ড্রোন ধ্বংসের দাবি সেন্টকমের
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এলাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুটি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।
এ কারণে হরমুজ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত, নৌ অবরোধ কিংবা বিমান দুর্ঘটনার মতো যেকোনো ঘটনা বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপাচি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটিও শুধু একটি সামরিক দুর্ঘটনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে নাকি কোনো ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিল। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
-রফিক
ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে তেহরান। ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক বা নৌ অবরোধ মেনে নেবে না ইরান। প্রয়োজনে এমন অবরোধ শক্তি প্রয়োগ করে ভেঙে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইরান বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে তার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের বৈধ অধিকার খর্ব করার যেকোনো প্রচেষ্টা সরাসরি প্রতিরোধ করা হবে। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত কোনো অবরোধ ইরানের সার্বভৌম অধিকারের বিরুদ্ধে যাবে এবং সে ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে দৃঢ়ভাবে।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতি এবং আত্মরক্ষা একে অপরের পরিপূরক। তেহরান আলোচনায় আন্তরিক হলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আরও বেশি দৃঢ়। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই তার বৈধ অধিকার বা কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
রেজায়ির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরান নিজেকে শুধু আলোচনার টেবিলে নয়, প্রয়োজন হলে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রস্তুত রাখতে চায়। তার মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র একই সঙ্গে কূটনৈতিক সাফল্য, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন। রেজায়ির দাবি, সাম্প্রতিক সংকটগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ওয়াশিংটনের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করেছে এবং মানবাধিকারের প্রশ্নেও দ্বৈত নীতি অনুসরণ করেছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রসঙ্গে রেজায়ি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের বৈধ অধিকার এবং এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য নয়, বরং কৃষি, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তার মতে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় থেকে ইরান যেভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই সিদ্ধান্তও একমাত্র তেহরানই নেবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রেজায়ি। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি তখনই সম্ভব যখন ইরানি জনগণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে পূর্ণ সম্মান পাবে। তবে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় একটি স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।
রেজায়ির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দেন এবং ইসরায়েলের রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারেন না। তার ভাষায়, মার্কিন নেতৃত্বের এই অস্থির অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্যতম বড় বাধা।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে, তবে কোনো বৈরী সামরিক উপস্থিতি বা অবরোধের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটন ইরান ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী এই সিনেটর দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং সেই প্রচারণা মঞ্চ থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বক্তৃতায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার ভাষ্যমতে, ইরান এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হতে প্রস্তুত, যেখানে দেশটি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতিও দিতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তারা এই সংঘাতে এগিয়ে আছে। ট্রাম্পের মতে, খুব শিগগিরই এমন একটি পর্যায় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দেবে এবং সেটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ সফলতা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যদি প্রত্যাশিত অগ্রগতি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা কমে গেলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চাপ কমবে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত নিম্নমুখী হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে বড় অগ্রগতি’ বা ‘চূড়ান্ত সমাধান’ ধরনের সময়সীমাভিত্তিক আশাবাদী বক্তব্য ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। বিশেষ করে গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়ও তিনি অনুরূপ সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। সূত্র: সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- ইরান আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন মূল্য চুকাতে হবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইশতেহার বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
- দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ক্ষত দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- ১০ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে যে রায় দিল আদালত
- শান্তিরক্ষীদের সাফল্য বাংলাদেশের গর্ব: প্রধানমন্ত্রী
- যুদ্ধ উত্তেজনায় স্বর্ণের বাজারে ধস
- পুরান ঢাকার পুনর্জাগরণে সরকারের মেগা পরিকল্পনা
- উপকূলে ৫ নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ছে ইরান
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, সতর্ক ১২ জেলা
- মার্কিন হামলার জবাবে একযোগে পাল্টা আঘাত ইরানের
- ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, জেনে নিন বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পুরো সূচি
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- বিশ্বকাপ ২০২৬: যা থাকছে উদ্বোধনী আয়োজনে
- একজন নারী কি একসঙ্গে দুই স্বামী রাখতে পারেন? জানুন ইসলামের নির্দেশনা
- ফুটবলপ্রেমীদের জমজমাট রাত, আজকের খেলার সূচি
- বুধবারের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- হরমুজে বিস্ফোরণ, ইরানে ফের মার্কিন হামলা
- মেসিকে নিয়ে কাল ভোরে নামছে আর্জেন্টিনা: খেলা দেখবেন যেভাবে
- রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল
- ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: শফিকুর রহমান
- ইয়াসের-তাবিথের মাস্টারস্ট্রোক: কাটল বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা
- রাত ১০টার মধ্যে বরিশালসহ ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান: চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনে প্রাণ বাঁচল ২ মার্কিন পাইলটের
- ২১ বছরের খরা কাটল মিরপুরে: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস
- আওয়ামী লীগের নির্বাচন নিয়ে সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত ও ধোঁয়াশা রয়েছে: আসিফ মাহমুদ
- খেলা আর না হলেও জিতবে বাংলাদেশ
- ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে হট্টগোল: জামায়াতের তোপের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ নিয়ে মমতার বাড়ির দপ্তরে হানা দিল সিআইডি
- ইরান ও ইসরায়েল বড় যুদ্ধ থামিয়ে বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইতিহাস গড়ে মেলবোর্নে তাসকিনের রাজকীয় শুরু
- উচ্চশিক্ষায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা; গণমাধ্যমের খবরের কড়া জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
- কম্পিউটার ও স্বর্ণালঙ্কারে সুখবর: বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের
- ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প ছায়া বাজেট দিল জামায়াত
- প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রেখে নতুন বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- ভারতের পরমাণু নীতিতে ঐতিহাসিক বদল: প্রথমবারের মতো ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন
- ৯ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মাত্র ২০ মিনিটে তৈরি করুন সুস্বাদু আমের মালাই পুডিং
- ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকব’, বললেন শেখ হাসিনা
- বৃষ্টি নামলেই কেন দোয়া করবেন? জানুন হাদিসের নির্দেশনা
- হরমুজের আকাশে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কী ঘটেছে?
- গ্রীষ্মের কালো রত্ন জাম, জানুন অবিশ্বাস্য উপকারিতা
- বাংলা ও দর্শন বিভাগ তুলে দেওয়ার খবর কি সত্য? যা জানাল মন্ত্রণালয়
- ডায়াবেটিস থাকলে কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- অর্থনীতিতে নতুন গতি? একনেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৭ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








