জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৪:০৪:০৬
জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে বিশ্বের প্রধান উন্নত অর্থনীতির জোট জি৭। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার উপায় হিসেবে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ জি৭ জোটের অন্তত তিনটি দেশ এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সমন্বয়ে সোমবার জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল-ও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সূত্রের মতে, এক বিরল টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন জি৭ অর্থমন্ত্রীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ব্যয়ের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইইএ’র তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি মজুদ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। এই পরিমাণ আইইএ’র মোট কৌশলগত মজুদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের সমান। বর্তমানে সংস্থাটির অধীনে জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল সংরক্ষিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি মজুদ থেকে তেল বাজারে ছাড়া হলে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমানো এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

সূত্র:ফিন্যান্সিয়াল টাইমস,রয়টার্স,ওয়েল প্রাইস,আল-জাজিরা


শত্রুপক্ষের সহযোগীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৩:১৩:৫৭
শত্রুপক্ষের সহযোগীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে অবস্থানরত ইরানিদের মধ্যে যারা দেশের শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবে বা তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেবে, তাদের সম্পদ আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশে বসবাসকারী কোনো ইরানি নাগরিক যদি ইরানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনাকারী শত্রু শক্তির সঙ্গে সমন্বয়, সহযোগিতা বা সমর্থন করে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের আইন অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই ঘোষণা মূলত চলতি বছরের অক্টোবর মাসে অনুমোদিত একটি আইনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। আইনটির শিরোনাম হচ্ছে গুপ্তচরবৃত্তি এবং জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) ও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার শাস্তি বাড়ানোর আইন।

উক্ত আইনের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের বিরুদ্ধে শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সরবরাহ বা সহযোগিতা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোয়েন্দা তৎপরতার প্রেক্ষাপটে তেহরান সরকার জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে।

তারা মনে করেন, এই আইন মূলত বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিকদের মধ্যে যারা শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বা রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যেই সতর্কবার্তা হিসেবে জারি করা হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই আইন প্রয়োগ করা হবে এবং যে কেউ শত্রু রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা


ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৩৮:২১
ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সরাসরি নির্দেশনায় ইসরায়েল অভিমুখে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরের দিকে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আইআরইবি। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এটি তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন এক ধাপের সামরিক পদক্ষেপ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাঈদ মোজতবা খামেনির নির্দেশে সোমবার ভোরে 'জায়নবাদী শক্তি' বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত প্রথম সামরিক অভিযান। প্রচারের সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিও প্রদর্শন করা হয়, যার গায়ে লেখা ছিল ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়, সাঈদ মোজতবা’। এই হামলার মাধ্যমে মোজতবা খামেনি তাঁর নেতৃত্বের শুরুতেই সামরিক সক্ষমতার কঠোর বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঠিক ৯ দিনের মাথায় প্রভাবশালী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ইরানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার পদটি সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং তিনি একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সামরিক, গোয়েন্দা, অর্থনীতি ও রাজনীতিসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে ন্যস্ত। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে এই প্রথম হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

/আশিক


ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:১১:৫০
ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ
ছবি : সংগৃহীত

সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে, যখন পারস্য উপসাগরীয় তিন দেশ কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন এক তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। এই সুসংগঠিত ও নজিরবিহীন আক্রমণে বাহরাইনে অন্তত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বৃষ্টির ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এক চরম আতঙ্ক ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের মোবাইলে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই দোহাবাসী আকাশের ওপর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, যা ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক মিসাইলের পাল্টা আঘাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্তত ১২ থেকে ১৩টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে কাতার অভিমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

আক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে বাহরাইনে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মানামার দক্ষিণের সিতরা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে এসব হুমকি মোকাবিলা করছে। তবে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত দেশগুলোর আকাশসীমা ও সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৪২:০৪
যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আরব অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরান যদি নির্বিচারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে, তবে চলমান যুদ্ধে দেশটির ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ ঘটতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়। মূলত গত শনিবার সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র ‘শায়েবাহ অয়েল ফিল্ড’-এ ইরানি ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার পরদিনই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই ইরান আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তিহীন ও নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বিস্তর ‘অমিল’ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রিয়াদ স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানের এমন উস্কানিমূলক আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের এই আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তন না করে এবং নির্বিচার হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে চলমান সংঘাত দেশটির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি এই পরিস্থিতির ফলে রিয়াদ ও তেহরানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের ওপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইরানকে সরাসরি এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করল সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতদিন পর্যন্ত সৌদি আরব এই সংঘাত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও নিজেদের তেলক্ষেত্রে হামলার পর তারা সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। এই সতর্কবার্তার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই হুমকির পর ইরান তাদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না অথবা পাল্টাহুমকি দেয় কি না।

সূত্র: অ্যান্ডারসন হেরাল্ড


ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:১০:২৪
ইরানে হামলা: মসাদের সক্ষমতা নাকি মার্কিন গোয়েন্দা ছাতার ওপর নির্ভরতা
২০১১ সালের জানুয়ারিতে ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানী মাসুদ আলি-মোহাম্মদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত ইরানি এজেন্টদের কাছ থেকে জব্দ করা গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম আদালতে প্রদর্শিত হচ্ছে। [আবেদি

ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলা এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক প্রচারণা যেভাবে এসব অভিযানের কৃতিত্ব মসাদের গোয়েন্দা দক্ষতার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে বাস্তব চিত্রটি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তাদের মতে, এসব অভিযানের পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা এবং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর ওপর হামলাও বিশ্লেষকদের মতে একই ধরনের গোয়েন্দা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফল।

ওয়াশিংটনের প্রযুক্তিগত ছায়া

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মসাদের অভিযানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS)-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে সিআইএর সংগৃহীত লক্ষ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য এবং রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল।

এই অভিযানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির উপস্থিতিও ছিল স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের MQ-9 Reaper ড্রোন তেহরান ও শিরাজের আকাশে নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। অন্যদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং B-52 বোমারু বিমান।

একই ধরনের কৌশল দেখা যায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার ঘটনাতেও। সে সময় ইসরাইলি বিমানবাহিনী ৯০৭ কেজি ওজনের মার্কিন নির্মিত বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, খামেনির গতিবিধি নিয়ে কয়েক মাস ধরে সিআইএ নজরদারি চালায়। তেহরানের নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে তিনি কখন উপস্থিত থাকবেন সেই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই হামলার সময় রাত থেকে দিনের দিকে পরিবর্তন করা হয়।

ইসরাইলি বিষয়ক বিশ্লেষক মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব অভিযান কেবল ইসরাইলের একক সাফল্য নয়; বরং এতে সিআইএ এবং যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা MI6-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা ছিল।

তার মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে টেনে আনতে তিনি সফল হয়েছেন।

তেহরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা

বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ফল নয়; বরং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহ তেহরানের একটি আইআরজিসি অতিথিশালায় নিহত হওয়ার ঘটনা এই দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ। তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরকটি তার কক্ষে আগেই স্থাপন করা হয়েছিল, যা স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, ইসরাইলি গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনির নিরাপত্তা বাহিনীর দৈনন্দিন চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করেছিল। হামলার ঠিক আগে স্থানীয় মোবাইল টাওয়ারগুলো জ্যাম করে দেওয়া হয়, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো সতর্কবার্তা না পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মসাদ অনেক সময় সরাসরি নিজস্ব এজেন্ট ব্যবহার না করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বিদেশি নাগরিক বা স্থানীয় বিরোধী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে থাকে। এতে সন্দেহ কম সৃষ্টি হয় এবং গোপন অনুপ্রবেশ সহজ হয়।

সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার আরেকটি কৌশল হলো বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনুপ্রবেশ। ২০২৪ সালে লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউরোপভিত্তিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে সরঞ্জাম সরবরাহে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া ইসরাইলি গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০ স্মার্টফোন হ্যাকিং নিয়ে গুজব ছড়িয়ে হিজবুল্লাহকে পেজার ব্যবহারে বাধ্য করে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরে সেই পেজারগুলোতেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।

ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইল নিজেও নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৩০ জনের বেশি নাগরিককে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্যরা টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ পেত এবং পেপ্যালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করত। তারা নেভাতিম বিমানঘাঁটি, হাইফা বন্দর এবং গ্লিলট সামরিক গোয়েন্দা সদর দপ্তরের মতো সংবেদনশীল স্থানের ভিডিও ধারণ করেছিল।

পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে ধারণা করা হয়।

মানবিক ও পরিবেশগত সংকট

সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে ইরানে পরিবেশগত ও মানবিক সংকটও তৈরি হয়েছে। তেহরানের তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড স্বল্পমেয়াদে কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।

তাদের মতে, অতীতে ১৯৭৩ সালের লিলেহামার হত্যাকাণ্ড, ১৯৯৭ সালে জর্ডানে খালেদ মেশালকে বিষ প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টা এবং ২০১০ সালে দুবাইয়ে মসাদ এজেন্টদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার মতো ঘটনাগুলোও দেখিয়েছে যে গোয়েন্দা অভিযান সবসময় কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করে না।

মামুন আবু আমেরের মতে, গোয়েন্দা হত্যাকাণ্ড সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারে না। বরং এসব অভিযান কখনও কখনও এমন সংঘাত সৃষ্টি করে যা কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র: আল জাজিরা


মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:৫০:১৮
মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগ প্রসঙ্গে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও রহস্যময় উত্তর দিয়ে বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়।’ ইরানের এই শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা থাকলেও ট্রাম্পের এমন নীরবতা কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তেহরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রতি ওয়াশিংটন এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে আগ্রহী নয়।

একই সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্তটি একক কোনো বিষয় হবে না, বরং এটি হবে একটি ‘পারস্পরিক’ সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানান। ট্রাম্পের মতে, দুই দেশের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সঠিক সময়ে সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অবস্থান ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসার আগে তিনি তাঁর প্রধান মিত্র ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণ এবং ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কোন দিকে মোড় নেবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


নিরাপত্তার জন্য সামান্য মূল্য: তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:২৯:৪৪
নিরাপত্তার জন্য সামান্য মূল্য: তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, বর্তমানে তেলের দাম বাড়লেও এটি অত্যন্ত সাময়িক একটি বিষয়। ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার দ্রুত গতিতে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে তেলের দাম সামান্য বাড়াটা খুব বড় কোনো সমস্যা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য এটিকে একটি ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে গণ্য করা উচিত।

এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিকভাবে অনেকটা বেড়ে গেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১১১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ক্রুড তেলের বাজারমূল্যও ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ তেল পরিবাহিত হয়, যা এখন সরাসরি হুমকির মুখে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্ব অর্থনীতি জ্বালানি সংকটের কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তাঁর প্রশাসন ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তেলের বাজার আবারও স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর থেকে এই বাড়তি খরচের বোঝা নেমে যাবে।

/আশিক


খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা: ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:২৮:৫৬
খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা: ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর আগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ইসরায়েলের সামরিক বা কৌশলগত নীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনবে না।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের যুক্তি হলো, তাদের দৃষ্টিতে সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়; বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বর্তমান নীতি অব্যাহত রাখবে।

তবে একই সঙ্গে ইসরায়েল সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে—এই পরিবর্তন ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি নতুন ফাটলের সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে যদি ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে একই পরিবারের ভেতরেই থেকে যায়, তবে তা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

দোহা থেকে আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বর্তমান পরিস্থিতি প্রায় এক ধরনের ডি-ফ্যাক্টো যুদ্ধের মতো। কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এসব অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা।

তার মতে, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের ঘটনায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন থাকবে। একই সঙ্গে তারা এটাও পর্যবেক্ষণ করবে যে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে এসে কোনো নতুন কৌশল বা নীতিগত পরিবর্তন আনেন কি না। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সামরিক বাহিনী এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতোমধ্যেই নতুন সুপ্রিম লিডারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী মোজতবা খামেনিকে “ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানী ও সক্ষম নেতা” হিসেবে অভিহিত করেছে।

IRGC-ও তাদের বিবৃতিতে জানায়, তারা নতুন সুপ্রিম লিডারের প্রতি “আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য” ঘোষণা করছে এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ইসলামী বিপ্লব কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও আদর্শিক ব্যবস্থা।

বিশ্লেষকদের মতামত

স্টিমসন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন মনে করেন, খামেনির ছেলেকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।

তার ভাষায়, “একজন কঠোরপন্থী নেতাকে হত্যা করে যদি তার জায়গায় আরও কঠোর একজন নেতা আসে, তাহলে পুরো যুদ্ধের যুক্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।”

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তার মতে, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলে, কিন্তু সেই ব্যবস্থাই এখন আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

তেহরান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির ভেতরে তথ্যপ্রবাহ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ধারণা করেছিলেন, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগবে। তাই দ্রুত এই ঘোষণা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংস্কারপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত সেই আন্দোলনগুলো অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

যুদ্ধের বিস্তার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিও তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো ইরানি নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।

এর জবাবে ইরানের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় রাজধানীর আকাশে ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে ছয় মাস পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।


ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:১৫:৫১
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি- আল-জাজিরা।

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে তার ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের সময় নেতৃত্ব দেবেন। ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), সামরিক বাহিনী এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন নেতার চারপাশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সুপ্রিম লিডারের আনুগত্য করা “ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব”।

মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং বিশেষ করে IRGC-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অনেক বছর ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তার নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম বলেন, মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরে “তার বাবার গেটকিপার” হিসেবে দেখা হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিষয়ে তার অবস্থানও বাবার মতোই কঠোর। তাই তার নেতৃত্বে আরও সংঘাতমুখী নীতি দেখা যেতে পারে, অন্তত যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে।

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জননীতি বিশেষজ্ঞ রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত “ধারাবাহিকতার সংকেত” এবং একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষায়, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এখন যে নেতা এসেছে তিনি আগের চেয়েও কঠোর।”

এরই মধ্যে ইসরায়েল আগেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার “দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না”।

তবে ইরানি নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করার অধিকার শুধু ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “ইরানের ভাগ্য কোনো বিদেশি শক্তি নয়, ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে।”

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার ঘন স্তর দেখা গেছে, কারণ ইসরায়েল রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে কমপক্ষে ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যদিও তিনি দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় জিতেই গেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত, এবং যুদ্ধ আরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

পাঠকের মতামত: