প্রধানমন্ত্রী হোক বা সাধারণ নাগরিক, বিচার হবে সমান: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ০৯:৫৮:৩৬
প্রধানমন্ত্রী হোক বা সাধারণ নাগরিক, বিচার হবে সমান: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীতে আয়োজিত পৃথক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার কায়েম করা হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "আমরা এমন এক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে শিশু থেকে আবালবৃদ্ধ—সবার জন্য আইন হবে সমান। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক, অপরাধ করলে কাউকেই দায়মুক্তি দেওয়া হবে না।" তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন হবে অর্থনৈতিক মুক্তি, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এক নতুন ইতিহাস।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, "আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব দিলে পাচার হওয়া প্রতিটি টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।" বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা অতীতে চোরাই ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা এখন নিজেদের অপকর্মের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

নারী নিরাপত্তার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি যেমন ক্ষমা করেনি, আজও যারা মেয়েদের ওপর হাত তুলছেন তারা নিজেদের কবর নিজেরাই রচনা করছেন।" জনসভা শেষে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।

এর আগে গতকাল দুপুরে নোয়াখালীর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকতেই অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের হাতে জনগণ কখনোই নিরাপদ নয়। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের বীর যুবসমাজ একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সঠিক পক্ষকেই বেছে নেবে।

লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশগুলোতে ১১-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।


শিল্প, কৃষি ও আইটি হাব গড়ার ঘোষণা তারেক রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৩:১৬:২০
শিল্প, কৃষি ও আইটি হাব গড়ার ঘোষণা তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে দেশ দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলার এবং হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও প্রকৃত অর্থে প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে, যা দেশ পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরি করবে।

তারেক রহমান জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি, যার মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এতে স্বল্পসুদে ঋণ, সার ও উন্নত বীজ পাওয়া সহজ হবে।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয়ী হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। তাঁর মতে, কৃষি শক্তিশালী না হলে জাতীয় অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না।

আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের এলাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলসহ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইটি হাব গড়ে তোলা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সরকার গঠনের পর যত দ্রুত সম্ভব এই অঞ্চলের বিমানবন্দর চালুর আশ্বাস দেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্রদর্শনে ধর্ম নয়, যোগ্যতা ও মেধাই হবে বিচার্যের প্রধান মানদণ্ড। সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করবে, এটাই দলের অঙ্গীকার।

সমাবেশে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধারে দেশবাসী আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর মতে, এই সংকটময় সময়ে দলীয় ও জাতীয় স্বার্থে তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়া জরুরি।

-রাফসান


আজকের বাংলাদেশ দেখলে শহীদ ভাইরা মুক্তিযুদ্ধে যেত না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১২:৫৬:৩৭
আজকের বাংলাদেশ দেখলে শহীদ ভাইরা মুক্তিযুদ্ধে যেত না: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের যে স্বপ্ন ছিল, স্বাধীনতার এত বছর পরও তার বাস্তব প্রতিফলন জাতি দেখতে পায়নি। তিনি জানান, নিজেও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে গভীর বেদনা নিয়ে বলতে চান আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা যদি তাঁর শহীদ ভাই দেখতেন, তাহলে হয়তো সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলতেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছেন, জাতি তাদের কাছে চিরঋণী। কিন্তু প্রশ্ন হলো রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নেতৃত্ব কি সেই ঋণের যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছে। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ, যেখানে অর্থনৈতিক মুক্তি থাকবে, সন্তানরা পাবে মানসম্মত শিক্ষা। বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। এর দায় সাধারণ মানুষের নয়; দায় রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা নেতৃত্বের।

তিনি বলেন, বারবার যারা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, ভালো কাজ করলে সেটিও তাদের কৃতিত্ব, আবার ব্যর্থতা ও অপকর্মের দায়ও তাদেরই নিতে হবে। অথচ যে দেশের মানুষের শ্রমে বিদেশে সমৃদ্ধি আসে, সেই দেশের মানুষ নিজ দেশে নিরাপত্তা ও স্বস্তি পায় না এটি নেতৃত্বের নৈতিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে দাঁড়াতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভিয়েতনামের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা ও গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে দেশটি আজ আঞ্চলিক উন্নয়নের মডেল। অথচ বাংলাদেশে এখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে অস্থির করে রেখেছে। নারী নিরাপত্তাহীন, পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে অনৈতিকতা ছড়িয়ে পড়েছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়েরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সবাই ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

-রাফসান


রাজনীতি যারা পেশা বানিয়েছে, তারাই আজ দেশ লুট করছে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৫৮:২৭
রাজনীতি যারা পেশা বানিয়েছে, তারাই আজ দেশ লুট করছে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে পেশা নয়, বরং পবিত্র কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারাই মূলত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠনের সাথে জড়িত।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নৈতিক নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দলের কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) সরকারি বিনা ট্যাক্সের গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না। বিলাসবহুল গাড়ির বদলে প্রয়োজনে রিকশায় চড়ে জনগণের সেবা করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়া সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত স্বল্পমূল্যের ফ্ল্যাট সুবিধাও দলের কেউ গ্রহণ করবেন না। যার নিজস্ব সামর্থ্য আছে, তিনি পূর্ণ বাজারমূল্যে গাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করবেন, কিন্তু জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোনো বিশেষ সুবিধা নেওয়া হবে না।

দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। কেউ যদি জনগণের আমানত বা সম্পদে হাত দেয়, তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশ বর্তমানে ছেয়ে গেছে এবং এর দায়ভার বিগত শাসনকর্তাদের নিতে হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে ভোটের সময় বড় বড় কথা বললেও পরে ভুলে যান, কিন্তু জামায়াত কর্মমুখী ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, কেউ চাঁদা নিতে আসলে তার হাত ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে।


পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ লীগমুক্ত করতে হবে: সাদিক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৫২:২৬
পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ লীগমুক্ত করতে হবে: সাদিক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ‘লীগমুক্ত’ করার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী মাজার মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে পুলিশের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনো প্রশাসনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে বারবার সংসদ সদস্য পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শোষণমুক্ত দেশ ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে আবু সাদিক কায়েম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হওয়া মানেই প্রকৃত আজাদী বা স্বাধীনতা।" এছাড়া তিনি বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষে সমর্থন চেয়ে বলেন, রাহাদ নির্বাচিত হলে তিনি শাসক নন, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইউনুস শেখের সঞ্চালনায় সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:০৫:০৬
নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার নয়
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনৈতিক কৌশল ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি মনে করেন, বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে সরকার গঠন করলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াত যদি নির্বাচনে হেরে বিরোধী দলে বসে, তবে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পুরনো সমীকরণ আর কার্যকর নয় বলে তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

তারেক রহমান নির্বাচনে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতে, দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হতে পারে। উল্লেখ্য, বিএনপি ২৯২টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকিগুলোতে জোট শরিকরা লড়ছে। জনমত জরিপগুলোতে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী ও তরুণদের দল এনসিপি-র সমন্বয়ে গঠিত জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জকেও তিনি হিসেবে রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির কথা বলেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট বলয় বা দেশের দিকে ঝুঁকবে না। বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।” বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং দলটির শীর্ষ নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।


বেকার ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড: সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ৫১ দফা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১০:০২:২০
বেকার ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড: সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ৫১ দফা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ছয় দিন আগে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও ৫১ দফা সংবলিত এই ইশতেহার পেশ করেন। তিনি একে কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইশতেহারের শুরুতেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানতম হলো—সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন যে, দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল করা সম্ভব নয়।

বিএনপির ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের (দুই মেয়াদ) বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এছাড়া উপরাষ্ট্রপতি পদ ও জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিও ইশতেহারে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ, বিচার বিভাগ পৃথক্করণ এবং এর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও সততাকেই একমাত্র মাপকাঠি ধরার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনীতিকীকরণের ঊর্ধ্বে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলেছে। স্কুল, কলেজ ও লাইব্রেরিতে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা এবং কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত এক বছর মেয়াদি ‘বেকার ভাতা’ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য থাকবে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২০ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুলেট ট্রেন সংযোগ এবং নদী ও সমুদ্র বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে।

তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক মর্যাদা বজায় রেখে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ ৩৮টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই প্রথম তারেক রহমান দলের নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করলেন।


আজ ৩ জেলায় জামায়াত আমিরের জনসভা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:৩৪:২০
আজ ৩ জেলায় জামায়াত আমিরের জনসভা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সিলেট বিভাগের ৩টি জেলায় নির্বাচনী সফরে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জামায়াত আমির।

সিলেট মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের এই নির্বাচনী জনসভাটি বিকেল ৩টায় শুরু হবে এবং সাড়ে ৪টার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সমাবেশ থেকে ডা. শফিকুর রহমান সিলেট জেলার ৬টি এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৪টি আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

সিলেটের মূল জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে জামায়াত আমির আজ দিনের শুরুতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সুনামগঞ্জ জেলার জনসভাটি বাতিল করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডা. শফিকুর রহমানের এই সফরকে সিলেটে দলটির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের মাঝে ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও জোটের প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


জয়ের দৌড়ে বিএনপি ফেভারিট জানাল দ্য ইকোনমিস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:২০:০৭
জয়ের দৌড়ে বিএনপি ফেভারিট জানাল দ্য ইকোনমিস্ট
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের এক বিশেষ বিশ্লেষণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সম্ভাব্য বিজয়ী বা ‘ফেভারিট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত ‘দ্য নিউ বাংলাদেশ ইজ অনলি হাফ বিল্ট’ (The New Bangladesh is only half-built) শীর্ষক নিবন্ধে সাময়িকীটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি নির্মোহ চিত্র তুলে ধরেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই প্রভাবশালী গণমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে যে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে একটি প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি ও অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি জয়ের পথে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মূলত দুটি প্রতিষ্ঠিত দলের মধ্যেই মূল লড়াই হবে, যাদের উভয় দলই বিগত সরকারের আমলে চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ইকোনমিস্ট জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দলটিকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় ও মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী দল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, অনেক পর্যবেক্ষক নির্বাচনের আগে সহিংসতার আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে ইকোনমিস্ট সতর্ক করে বলেছে, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সামনে বিশাল পাহাড়সম কাজ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করলেও, দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য অনেক সংস্কার প্রয়োজন। এ বছরই বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ (LDC) থেকে উত্তরণ ঘটাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ দুই-ই তৈরি করবে।

ইকোনমিস্টের মতে, বাংলাদেশের জিডিপি’র তুলনায় সরকারি রাজস্ব বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশ, যা এশিয়াজুড়ে গড়ে ২০ শতাংশ। তাই রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা (লাল ফিতার দৌরাত্ম্য) দূর করা নতুন সরকারের জন্য প্রধান কাজ হবে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও নিবন্ধে গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঢাকাকে ‘হিন্দু বিরোধী’ হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা বাংলাদেশিদের ক্ষুব্ধ করে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে গণমাধ্যমটি। পরিশেষে বলা হয়েছে, নির্বাচন কেবল একটি মাইলফলকের সূচনা মাত্র; ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রকৃত কঠিন কাজ কেবল শুরু হতে যাচ্ছে।


ইনসাফ কায়েম হলে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:১৩:৪৭
ইনসাফ কায়েম হলে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি ও নড়াইলে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের একগুচ্ছ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ।

পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে, ইনসাফ কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না। তিনি আবরার, আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিগত শাসনামলে পাচার হওয়া প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে ব্যয়ের অঙ্গীকারও করেন তিনি। জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের ভোট ডাকাতি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সহ্য করা হবে না এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ‘আজাদির বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক সভায় তিনি হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাটের মতো বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে সেতুর মাধ্যমে উন্নয়নের মূলধারায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। জুলাই বিপ্লবের পর একটি বড় দলের নেতাকর্মীদের ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ‘দখলবাজির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে তা ভেবে দেখা উচিত। ঝালকাঠির জনসভায় তিনি পেশিশক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করেন এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নড়াইলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাজনীতিকে ব্যবসার পণ্য বানানোর সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পাঠকের মতামত: