১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে স্মার্টফোন এখন কেবল বড়দের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ নয়, বরং তা ছোটদের হাতেও অনায়াসেই পৌঁছে গেছে। পড়াশোনা, পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা স্রেফ বিনোদনের দোহাই দিয়ে অনেক শিশুই অত্যন্ত অল্প বয়সে তাদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই প্রবণতা নিয়ে এক গভীর উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের মতে, ১৩ বছর বয়সের আগেই যদি কোনো শিশুর হাতে ব্যক্তিগত ফোন তুলে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই ঝুঁকির তালিকায় মূলত ঘুমের তীব্র সমস্যা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতার মতো ভয়াবহ বিষয়গুলো যুক্ত রয়েছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্ট গবেষক র্যান বারজিলে এবং তাঁর একটি বিশেষ গবেষক দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি ভিন্ন অঞ্চলের প্রায় সাড়ে দশ হাজার শিশুর জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যগত তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন যে, যেসকল শিশু মাত্র ১২ বছর বয়সে ফোন হাতে পেয়েছে, তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা হওয়ার হার অন্য শিশুদের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, এই শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে, যেসকল শিশু ১৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বয়ঃসন্ধির ঠিক শুরুর পর্যায়ে স্মার্টফোনের এই অবারিত ব্যবহার সরাসরি বিষণ্নতা, স্থূলতা এবং অনিদ্রার মতো সমস্যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির হাত থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে তাঁরা দেশে দেশে কঠোর নীতিমালা বা সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জোর সুপারিশ করেছেন। বিশ্বজুড়ে এই উদ্বেগের প্রতিফলন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যেমন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামসহ সব ধরণের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা আরোপের পথে হাঁটছে। ঠিক এই সময়ের মধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন কিছু পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক সম্প্রতি তাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো কোম্পানিটির কার্যক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত রাখা এবং আইনি জটিলতা নিরসন করা। বৈশ্বিক এই প্রেক্ষাপট এবং স্বাস্থ্য গবেষণার এই নতুন তথ্যগুলো এখন সম্মিলিতভাবে শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক বয়স এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে পুনরায় জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভালুকায় শিক্ষা বিপ্লব: রানার উদ্যোগে ঝরে পড়া শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ই-লার্নিং একাডেমি

ইমন সরকার
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ভোরের আলো ফোটার আগেই ভালুকার শিল্পাঞ্চলে ভেসে আসে কারখানার সাইরেন। সেই শব্দে ঘুম ভাঙে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের যাদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে আছে দায়িত্ব, ক্লান্তি আর সময়ের সঙ্গে প্রতিদিনের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই। এই লড়াইয়ের মাঝেই অনেকের জীবনে থেমে গেছে পড়াশোনার পথ। সংসারের দায়, পারিবারিক সংকট কিংবা বাস্তবতার চাপে কেউ দশ-পনেরো বছর আগেই স্কুল ছেড়েছিলেন। কিন্তু সেই থেমে যাওয়া জীবনগুলোকে আবার শিক্ষার মূল স্রোতে ফেরাতে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নীরবে কাজ করে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ’।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন তরুণ শিক্ষাউদ্যোক্তা এম এম রানা। তাঁর গড়ে তোলা এই একাডেমি কোনো প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক এক বাস্তবভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষাপ্ল্যাটফর্ম, যেখানে কর্মজীবী ও ঝরে পড়া মানুষরা বয়স, সময় কিংবা দীর্ঘ স্টাডি গ্যাপের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরছেন।
ভালুকা একটি শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষ বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত। এদের বড় একটি অংশ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। বাস্তবতা হলো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেবল শিক্ষাগত সনদের অভাবে অনেকেই বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকেন। এই সামাজিক বাস্তবতাই এম এম রানাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
রানা বলেন, নিজের চারপাশে তিনি দেখেছেন এমন অসংখ্য মানুষ, যারা কাজে পারদর্শী হলেও এসএসসি বা এইচএসসি সনদ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি কিংবা দায়িত্ব পাচ্ছেন না। বহু বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ায় তাদের পক্ষে আর নিয়মিত কোনো স্কুল বা কলেজে যাওয়া সম্ভব নয়। এই দীর্ঘ স্টাডি গ্যাপে আটকে থাকা মানুষগুলোর হতাশাই তাঁকে বিকল্প এক শিক্ষামডেল গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।
ই-লার্নিং একাডেমির শিক্ষাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে পুরোপুরি চাকরিজীবীদের বাস্তবতা মাথায় রেখে। দিনের কাজ শেষে রাতে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হন শিক্ষার্থীরা। কেউ সরাসরি উপস্থিত থাকেন, কেউ আবার জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে যুক্ত হন। পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রয়েছে রেকর্ডেড ক্লাসের সুবিধা, যাতে কাজের চাপে কেউ পিছিয়ে না পড়েন। পাঠদানের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়িয়ে সহজ ভাষা ও বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করা হয় যাতে দীর্ঘদিন পড়াশোনার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।
বর্তমানে এই একাডেমিতে ত্রিশ কিংবা চল্লিশ পেরোনো বহু শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অষ্টম শ্রেণি পাস ছাড়াই এসএসসি (ভোকেশনাল), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ ও বিএসএস, পাশাপাশি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত ‘এক বছরে এইচএসসি’ প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি ধারার বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির গাইডলাইন ও একাডেমিক সহায়তাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এমনকি প্রবাসীরাও ঘরে বসে তাদের অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ভীতি ও সংশয় কাজ করে, সেই জায়গা থেকে ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ কাজ করছে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আস্থার সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে পরিচালিত। তাদের রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিটিসিএল কর্তৃক ভেরিফায়েড সরকারি ডোমেইন (www.elearningacademy.org.bd), হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন সনদ।
শিক্ষার্থীদের কাছে এম এম রানা পরিচিত ‘রানা স্যার’ নামে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস সুপারভাইজার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ধারণা ছিল এই বয়সে পড়াশোনা আর সম্ভব নয়। কিন্তু রানার দিকনির্দেশনা ও নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে সেই ভয় কেটে গেছে। এখন তিনি এইচএসসি শেষ করে ডিগ্রিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, দিনের বেলায় কারখানার কাজ আর রাতে পড়াশোনা এই দুইয়ের ভারসাম্য তাঁর জীবনে নতুন আত্মবিশ্বাস এনেছে। আগে যেখানে নিজেকে সীমাবদ্ধ মনে হতো, এখন সেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও দর্শন সম্পর্কে এম এম রানা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার গণতান্ত্রিকায়ন। সার্টিফিকেটের অভাবে যেন কারো ক্যারিয়ার আটকে না থাকে। একজন মানুষ তার সুবিধামতো সময়ে পড়াশোনা করবে এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের যাত্রা। আমরা শুধু ভর্তি করাই না, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। আমাদের স্লোগান ‘যেখানে থেমেছে পথ, সেখান থেকেই হোক নতুন শুরু।’”
ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ির এই ছোট্ট অনলাইন ক্লাসরুম আজ প্রমাণ করছে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনের সম্ভাবনাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই সম্ভাবনার দরজাই খুলে দিচ্ছেন এম এম রানা ও তাঁর ই-লার্নিং একাডেমি বাংলাদেশ।
যোগাযোগ:
মোবাইল: ০১৭৮৫-৫৫৭৫৮৭
ওয়েবসাইট: www.elearningacademy.org.bd
ফেসবুক পেজ: E Learning Academy Bangladesh
অফিস: স্কয়ার মাস্টারবাড়ি, বিকাশ অফিসের বিপরীতে, ভালুকা, ময়মনসিংহ
স্মৃতিশক্তি থাকবে অটুট; মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞদের ৬ পরামর্শ
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন আসা একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনযাপন ও পরিকল্পিত অভ্যাসের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার এই গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করা সম্ভব। এমনকি আলঝেইমার বা অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতেও সুনির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে। মস্তিষ্ককে দীর্ঘকাল সচল ও কর্মক্ষম রাখতে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ৬টি বিশেষ বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মস্তিষ্ককে সচল রাখার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক কম। ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যকার সংযোগকে আরও মজবুত করে। বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন—হাঁটা, সাঁতার কাটা বা হালকা দৌড়ের পরামর্শ দেন।
ব্যায়ামের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত ও টানা ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিনের অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলো কোষ থেকে দূর করে এবং স্মৃতিগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে গুছিয়ে রাখে। এতে নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে। সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রতিদিন রাতে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। যারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ অসম্পূর্ণ ঘুম মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। উদ্ভিদজাত খাবার, যেমন—শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য এবং সামুদ্রিক মাছ মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অলিভ অয়েল ও ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। গবেষকরা দেখেছেন, যারা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করেন, তাদের মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
মস্তিষ্ক অনেকটা শরীরের পেশির মতো; একে ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা দ্রুত হ্রাস পায়। তাই মস্তিষ্ককে সর্বদা চ্যালেঞ্জের মুখে রাখা বা সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত বই পড়া, শব্দছক বা সুডোকু মেলানো, তাস খেলা কিংবা কোনো জটিল ধাঁধার সমাধান করা মস্তিষ্ককে সচল রাখার চমৎকার উপায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে, তাই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানুষ মূলত সামাজিক জীব, আর এই সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। যারা একাকী জীবনযাপন করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
পরিশেষে, মস্তিষ্কের সুস্থতা সরাসরি আমাদের রক্তনালি ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল মস্তিষ্কের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং লবণের পরিমাণ কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। ধূমপান পুরোপুরি পরিহার করা এবং অ্যালকোহল সীমিত রাখা মস্তিষ্কের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো আজ থেকে শুরু করলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।
সূত্র : Mayo Clinic
তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ
করলার রস—নামটি শুনলেই অনেকের চোখেমুখে অনীহা ফুটে ওঠে। এর তীব্র তেতো স্বাদের কারণে সাধারণ পানীয় হিসেবে এটি তেমন আকর্ষণীয় নয়। তবে যুগ যুগ ধরে ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চায় করলার রস একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্য বা মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ভেষজ চিকিৎসায় এটি অন্যতম প্রধান দাওয়াই। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক জীবনযাপনের জটিলতায় সুস্থ থাকতে মানুষের মধ্যে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এর ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত জাদুকরী কোনো পরিবর্তনের মতো তাৎক্ষণিক নয়, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে এটি গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
করলার রসের সবচেয়ে শক্তিশালী গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর বিশেষ সক্ষমতা। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, করলার রসে 'চ্যারান্টিন' ও 'পলিপেপটাইড-পি' নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে। এর ফলে শরীর রক্তে থাকা শর্করাকে অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। শুধু তাই নয়, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ানোর ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
নিয়মিত করলার রস পান করলে আমাদের পাচনতন্ত্র বা হজম ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর তেতো স্বাদ শরীরের প্রাকৃতিক হজম এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, যা খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এটি পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খালি পেটে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণে করলার রস পান করলে সংবেদনশীল পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য করলার রস একটি আদর্শ সহযোগী হতে পারে। এটি অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত এবং উচ্চ ফাইবারসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার বা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে করলার রসকে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত। পাশাপাশি, করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও ধীরে ধীরে শক্তিশালী করে তোলে।
প্রতিদিন করলার রস পান করা হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। এটি রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রেখে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে। এর পাশাপাশি করলার রস শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, যারা বর্তমানে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে করলার রস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে না যায়।
সামগ্রিকভাবে, করলার রস কোনো জাদুকরী পানীয় নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক পরিপূরক। সঠিক পরিমাণে ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এটি আমাদের হজম, রক্তে শর্করা, ওজন এবং হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেথি; গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য সব তথ্য
রন্ধনশালায় সাধারণ একটি মসলা হিসেবে যার পরিচিতি, সেই মেথি বীজই এখন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রতিদিন নিয়ম করে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, যা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। আমাদের পূর্বপুরুষ বা দাদী-নানীদের সেই রাতভর মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়ার যে প্রাচীন অভ্যাস, তা আজ বিজ্ঞানের ভাষায় এক শক্তিশালী ‘প্রাকৃতিক মেটাবলিক সাপোর্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
কেন ভিজিয়ে রাখা জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, শুকনো মেথি বীজের খোসা অত্যন্ত শক্ত থাকে। রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই খোসা নরম হয় এবং এর ভেতরে থাকা ফাইবার, গ্যাল্যাকটোম্যানান, গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের কোষে সহজে শোষিত হওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। এর ফলে বীজটি সাধারণ খাদ্যের স্তর ছাড়িয়ে একটি কার্যকর সম্পূরক হিসেবে কাজ শুরু করে।
ডায়াবেটিস ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ‘এয়ু’ (AYU)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্যানুযায়ী, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যদি নিয়মিত ভেজানো মেথি বীজ গ্রহণ করেন, তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে শর্করার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। গবেষকরা জানান, মেথিতে থাকা গ্যাল্যাকটোম্যানান উপাদান খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেটের শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। যারা প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ পথ্য হতে পারে।
হজম শক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ পাকস্থলী ও হজম ব্যবস্থার ওপর মেথির প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে থাকা সল্যুবল বা দ্রবণীয় ফাইবার মল নরম করতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দূর করে। এছাড়া সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো পানি ও বীজ খেলে পেটের ভারীভাব এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। উচ্চ ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়, যা অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। মেথির প্রভাবে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় হারও সক্রিয় থাকে।
সৌন্দর্য ও হরমোনাল স্বাস্থ্য চুলের ঘনত্ব বাড়ানো এবং গোড়া শক্ত করার ক্ষেত্রে মেথির কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। এতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়াতেও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকর। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেথি বীজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইটোইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মাসিক-পূর্ব অস্বস্তি বা হরমোনজনিত জটিলতা লাঘবে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত সর্বোচ্চ সুফল পেতে এক থেকে দুই চা চামচ মেথি বীজ একটি ছোট কাপ পানিতে রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে খালি পেটে সেই পানি এবং নরম হওয়া বীজগুলো চিবিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে মনে রাখতে হবে, অতিভোজন সবসময়ই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মেথি গ্রহণ করলে হজমে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই পরিমিত মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অভিজ্ঞতার সঙ্গে আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেলবন্ধন মেথি বীজের এই অসীম ক্ষমতাকে নতুন করে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পার্লার ছাড়াই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক: ঘরে বসে রূপচর্চার ৪টি সহজ উপায়
উজ্জ্বল, দাগহীন এবং কোমল ত্বক সুস্থ ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তবে বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ, তীব্র ধুলাবালি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আমাদের ত্বকে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের কাজের প্রবল চাপ এবং সময়ের অভাবে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত রূপচর্চাকেন্দ্রে বা পার্লারে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং সজীবতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং রূপচর্চা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই সম্ভব ত্বকের গভীর যত্ন নেওয়া।
ঘরোয়া রূপচর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর এবং জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো মধু ও লেবুর ফেসপ্যাক। এক চা চামচ মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক কেবল পরিষ্কারই হয় না, বরং এটি ত্বকের কালো দাগ হালকা করতেও বিশেষ সহায়তা করে। মধুতে থাকা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ত্বককে কোমল রাখে। অন্যদিকে, প্রাচীনকাল থেকেই বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দুই চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং প্রয়োজনমতো দুধ বা পানি মিশিয়ে তৈরি পেস্ট সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করলেই ত্বকের উজ্জ্বলতা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায় এবং এটি ব্রণের সমস্যা কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ত্বকের ক্লান্তি ও শুষ্কতা দূর করতে শসা ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত। শসার রস এবং অ্যালোভেরা জেল সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগালে তা ত্বককে তাৎক্ষণিক শীতলতা প্রদান করে। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পোড়া দাগ কমে যায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ ও সজীব। বিশেষ করে গরমের দিনে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর এই প্যাকটি ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া ত্বককে প্রাকৃতিক উপায়ে নরম ও কোমল করতে কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে তার সঙ্গে এক চা চামচ দই মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং হারানো মসৃণতা ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ঘরোয়া ফেসপ্যাকগুলো ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো এগুলোতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও অনেক কম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে যেখানে সময়ের অভাবে পার্লারে যাওয়া কঠিন, সেখানে হাতের কাছের এই প্রাকৃতিক সমাধানগুলোই হয়ে উঠতে পারে আপনার ত্বকের স্থায়ী সুরক্ষা কবচ। নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে কেবল ত্বকের উজ্জ্বলতাই বাড়বে না, বরং ত্বক হবে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত।
সালাদে যে সবজিটি যোগ করলে লিভার থাকবে চর্বিমুক্ত
সাধারণত বাঙালির ঘরোয়া খাবারের আয়োজনে সালাদ বলতে পেঁয়াজ, শসা আর টমেটোর আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রুচিভেদে কেউ কেউ এতে সামান্য ধনেপাতা বা লেটুস যোগ করলেও একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়, আর সেটি হলো মুলা। খনিজ ও ভিটামিনে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও কেবল তীব্র গন্ধ বা স্বাদের কারণে অনেকেই এই সবজিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের সালাদ বা তরকারিতে মুলার অন্তর্ভুক্তি আপনার শরীরের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। সম্প্রতি এমস, হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা মুলার বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে নতুন সব তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং এই সবজিটিকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, যারা ডায়েট নিয়ে সচেতন তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে মুলা একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। এটি অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত একটি সবজি হওয়ার কারণে সালাদে এটি যোগ করলে খাবারে যেমন একটি মুচমুচে বা ক্রাঞ্চি ভাব আসে, তেমনি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা সাধারণ সালাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর সসের সঙ্গেও মুলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মুলার স্বাস্থ্যগত দিকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটিতে শর্করা ও ক্যালোরি অত্যন্ত কম থাকে, যা মূলত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই রেটিং অনেক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক একটি সবজি।
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত আছেন, তাদের জন্য মুলা একটি কার্যকর খাদ্য উপাদান। তবে চিকিৎসকরা একটি প্রচলিত ভুল ধারণা সংশোধন করে জানিয়েছেন যে, অনেকে মনে করেন শুধু মুলা খেলেই পেটের চর্বি দ্রুত গলে যাবে—বাস্তবে এমন কোনো জাদুকরী প্রভাব মুলার নেই। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ঠিকই, তবে তা সামগ্রিক সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে। এ ছাড়া মুলা খেলে পেটফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হয় বলে যে সাধারণ অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। বরং কারো কারো ক্ষেত্রে মুলা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পেটফাঁপা ভাব কমিয়ে দিতে পারে। তবে ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও পরিপাকতন্ত্রের সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
মুলার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা। গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, মুলা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও মানুষের ওপর সরাসরি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত প্রমাণ পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন, তবুও প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো বিজ্ঞানীদের আশাবাদী করে তুলেছে। তাই পেঁয়াজ, শসা এবং টমেটোর চিরচেনা সালাদে নিয়মিত সামান্য মুলা যোগ করলে তা কেবল খাবারের স্বাদই পরিবর্তন করবে না, বরং আপনার শরীরের জন্য বাড়তি পুষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, সুস্থ থাকতে এবং লিভার ও রক্তের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় মুলার মতো অবহেলিত সবজিগুলোকে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
প্রতিদিন মাত্র ১টি লবঙ্গ: নিয়মিত খেলে শরীরে ঘটে এই ১১টি চমকপ্রদ উপকার!
প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা থেকে শুরু করে আধুনিক গবেষণাগার—সবখানেই একটি ছোট্ট মশলার জয়জয়কার শত শত বছর ধরে বিদ্যমান। সেটি হলো লবঙ্গ। প্রতিদিনের শুরুটা যদি মাত্র একটি লবঙ্গ চিবিয়ে করার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবে তা আপনার শরীরের জন্য একটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী স্বাস্থ্য-বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করতে পারে। আকারে তুচ্ছ মনে হলেও আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন চিকিৎসায় এর স্থান অনেক উঁচুতে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন নিশ্চিত করছে যে, লবঙ্গের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম যা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। মূলত এর ভেতরে থাকা ‘ইউজেনল’ নামক একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক যৌগই একে অনন্য করে তুলেছে, যা একই সাথে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখে।
লবঙ্গের বহুমুখী গুণাগুণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এর কোষ সুরক্ষার ক্ষমতা। এটি ফেনলিক যৌগ ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের ফ্রি-র্যাডিক্যাল কমিয়ে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং মানুষের বয়সজনিত শারীরিক অবক্ষয়কে ধীর করে দেয়। এছাড়া শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, যা বড় কোনো রোগের মূল কারণ হতে পারে, তা কমাতেও লবঙ্গ কার্যকর। নিয়মিত লবঙ্গ চিবোনোর ফলে শরীরের ভেতরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যার সরাসরি সুফল পাওয়া যায় জয়েন্টের ব্যথা উপশমে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের সুরক্ষায়। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তনালীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে হার্টের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য এবং পরিপাকতন্ত্রের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। দাঁতের তীব্র ব্যথা, মাড়ির সমস্যা কিংবা দীর্ঘদিনের মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ দ্রুত কাজ করে এবং নিশ্বাসে এক ধরণের সতেজতা নিয়ে আসে। অন্যদিকে, যারা দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য লবঙ্গ একটি প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। এটি হজমকারী এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে গ্যাস ও অম্বল কমে যায় এবং ভারী খাবার খাওয়ার পরও পেট হালকা অনুভূত হয়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও লবঙ্গ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যদিও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লিভার ও হাড়ের সুরক্ষায়ও লবঙ্গের অবদান অনস্বীকার্য। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে শরীরকে ডিটক্স করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। এছাড়া লবঙ্গে থাকা প্রচুর পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া বা হাড়ের ক্ষয় রোধে অত্যন্ত কার্যকর। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সমাধানেও লবঙ্গ প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি কফ কমাতে, গলা ব্যথা প্রশমিত করতে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে আরাম দিতে প্রাকৃতিক এক্সপেক্টোরেন্ট হিসেবে কাজ করে। এমনকি ত্বকের যত্নেও এর উপকারিতা চোখে পড়ার মতো; ব্রণ ও সংক্রমণ কমিয়ে এটি ত্বক পরিষ্কার রাখে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে এর অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য বিশেষ করে ঠান্ডা-কাশির মৌসুমে শরীরকে ঢাল হিসেবে সুরক্ষা দেয়। পরিশেষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবঙ্গ আকারে ছোট হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী, তবে সুফল পেতে অবশ্যই এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে।
স্বাদে ও পুষ্টিতে সেরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১১টি খেজুর
খেজুর কেবল একটি সুস্বাদু ফল নয়, বরং এটি ভিটামিন, খনিজ এবং আঁশের এক বিশাল ভাণ্ডার যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। তবে সাধারণ মানের খেজুরের বাইরেও এমন কিছু বিলাসবহুল এবং অতি মূল্যবান প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো তাদের অনন্য স্বাদ, অসাধারণ গুণমান এবং দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই অভিজাত খেজুরগুলো কেবল পুষ্টির জন্য নয়, বরং বিলাসিতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও জনপ্রিয় ১১টি খেজুরের বিচিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
১. আজওয়া (Ajwa): মদিনার পবিত্র উপহার সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে উৎপাদিত আজওয়া খেজুর ধর্মীয় গুরুত্বের দিক থেকে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ। এটি দেখতে গাঢ় বাদামী থেকে প্রায় কালো রঙের হয় এবং আকারে মাঝারি থেকে বড়। স্বাদে এটি ক্যারামেলি ভাবযুক্ত, যেখানে হালকা বাদাম, ভ্যানিলা ও লিকারিশের এক চমৎকার সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। অত্যন্ত নরম ও চিবানো যায় এমন টেক্সচারের এই খেজুরের মিষ্টতা বেশ মৃদু। এর সীমিত উৎপাদন এবং বিশেষ যত্নের কারণে এটি পৃথিবীর অন্যতম দামী খেজুর হিসেবে পরিচিত।
২. মেডজুল (Medjool): খেজুরের রাজা মরক্কোর তাফিলালট অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই খেজুরকে বলা হয় ‘খেজুরের রাজা’। অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদের এই খেজুরটি ক্যারামেল, মধু ও বাটারস্কচের স্বাদ মনে করিয়ে দেয়। মেডজুল বেশ বড়, জুসি এবং দেখতে গাঢ় বাদামী রঙের। এর ত্বক কিছুটা ভাঁজযুক্ত ও নরম। বর্তমানে জর্ডান, ইরান ও সৌদি আরবেও এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে এবং রাজকীয় পরিবেশনার জন্য এটি বিশ্বজুড়ে প্রথম পছন্দ।
৩. ডেগলেট নূর (Deglet Noor): আলোর আঙুল আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার এই প্রজাতিকে ডাকা হয় ‘আলোর আঙুল’ নামে। সোনালী বাদামী রঙের এই খেজুরটি আয়তাকার এবং এর ত্বক প্রায় স্বচ্ছ। স্বাদে এটি হালকা মধুর এবং কিছুটা বাদামের মতো নোট পাওয়া যায়। অন্যান্য খেজুরের তুলনায় এটি কিছুটা শক্ত ও ক্রাঞ্চি টেক্সচারের, যা বেকিং এবং রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য আদর্শ।
৪. সুক্কারি (Sukkari): মধুর মতো মিষ্টতা সৌদি আরবের এই খেজুরটি তার সোনালী বাদামী রঙ এবং চকচকে ত্বকের জন্য পরিচিত। সুক্কারি নামের সার্থকতা পাওয়া যায় এর খুব মিষ্টি স্বাদে, যেখানে ক্যারামেল ও মধুর আমেজ থাকে। এটি অত্যন্ত নরম এবং মুখে দিলে সহজেই মিলিয়ে যায় এমন টেক্সচারের। বাজারে এটি সেমি-শুকনো এবং পুরোপুরি শুকনো—উভয় রূপেই পাওয়া যায়।
৫. খালাস (Khalas): আভিজাত্যের আপ্যায়ন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানের অন্যতম জনপ্রিয় খেজুর হলো খালাস। এর স্বাদ অনেকটা ক্রিমি বাটার ক্যারামেল বা টফির মতো। এটি মোলায়েম ও আঠালো টেক্সচারের এবং দেখতে লালচে বাদামী ও চকচকে। মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহ্যবাহী আরব কফির সাথে অতিথি আপ্যায়নে এই খেজুরটি অপরিহার্য।
৬. বারহি (Barhi): ইরাকের গৌরব ইরাকের বারহি খেজুর অত্যন্ত মিষ্টি এবং এটি পাকার বিভিন্ন পর্যায়ে খাওয়া যায়। সোনালী থেকে বাদামী রঙের এই খেজুরটি দেখতে আয়তাকার। এর স্বাদ সিরাপি, বাটারস্কচ ও মধুর সংমিশ্রণ। শুকনো অবস্থায় এটি অনেকটা টফির মতো লাগে এবং এর টেক্সচার নরম ও চিবানো যায় এমন হয়।
৭. পিয়ারম (Piarom): ইরানের রাজকীয় রত্ন বিশ্বের অন্যতম দামী এই খেজুরটির উৎপত্তি ইরানে। পিয়ারম খেজুরটি আকারে লম্বা এবং কালচে বাদামী থেকে কালো রঙের হয়। আধা-শুকনো টেক্সচারের এই খেজুরে ক্যারামেল ও টফি স্বাদের সাথে সামান্য তিতাভাবের এক বিশেষ সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। এর বিশেষ স্বাদ ও বিরলতার কারণে এটি একটি বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত।
৮. মাজাফাতি (Mazafati): ইরানের ‘বাম খেজুর’ ইরানের ‘বাম খেজুর’ হিসেবে পরিচিত মাজাফাতি অত্যন্ত মিষ্টি এবং মাংসল। মোলাসেসের মতো স্বাদ ও চকোলেটি মিষ্টতা একে অনন্য করে তুলেছে। কালো বাদামী রঙের এই খেজুরটি খুবই জুসি ও নরম টেক্সচারের হয়ে থাকে।
৯. খেনায়িজি (Khenazi): স্বাস্থ্যসচেতনদের পছন্দ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই খেজুরটি গাঢ় কালচে বাদামী এবং কিছুটা ভাঁজযুক্ত। এর স্বাদে ক্যারামেলের মিষ্টতা থাকলেও এটি বেশ মৃদু। নরম ও চিবানো যায় এমন টেক্সচারের এই খেজুরটি যারা কম মিষ্টি পছন্দ করেন বা ডায়েট সচেতন, তাদের কাছে খুবই প্রিয়।
১০. মাবরুম (Mabroom): পুষ্টির ভাণ্ডার সৌদি আরবের মাবরুম খেজুর দেখতে লালচে থেকে কালো বাদামী রঙের। এর মিষ্টতা মৃদু এবং টেক্সচার তন্তুজাতীয় বা চিবানো যায় এমন হয়। এতে ক্যালোরি কম কিন্তু প্রোটিন বেশি থাকায় এটি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য একটি আদর্শ বিকল্প।
১১. সাফাওয়ি (Safawi): সর্বশ্রেষ্ঠের দাবিদার অনেকেই সাফাওয়ি খেজুরকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ খেজুর মনে করেন। সৌদি আরবের এই খেজুরটি কালচে বাদামী ও ভাঁজযুক্ত। এটি অত্যন্ত মিষ্টি, জুসি এবং এর স্বাদে ক্যারামেল, মোলাসেস, টফি ও কফির নোট পাওয়া যায়। নরম ও আঠালো টেক্সচারের এই খেজুরটি স্বাদে ও পুষ্টিগুণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
সকালের কর্মব্যস্ততা কিংবা অফিস যাওয়ার তাড়াহুড়োয় হাতের কাছে দ্রুত ও সহজলভ্য নাশতা হিসেবে পাউরুটির জনপ্রিয়তা অপরিসীম। সাধারণ পাউরুটি থেকে শুরু করে এর বিভিন্ন পদ এখন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই জনপ্রিয় খাবারটি নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে মানবদেহে যে দীর্ঘমেয়াদী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'মেডিকেলনিউজ টুডে'-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে, নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে বেশ কিছু জটিল ও ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা প্রতি সকালে নাশতায় পাউরুটির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অভ্যাসটি বড় ধরণের বিপদের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পাউরুটি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ইস্ট, যা আটা বা ময়দাকে সুন্দরভাবে ফুলিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, খালি পেটে ইস্ট জাতীয় খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হানিকর। পাউরুটির এই উপাদানটি খালি পেটে শরীরে প্রবেশ করলে নানা ধরণের পরিপাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে যারা নিয়মিত পাউরুটি খেয়ে আসছেন, তাদের শরীরে এর উপাদানগুলো বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকরা কঠোরভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পাউরুটি কোনোভাবেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যাবে না এবং যাদের নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের উচিত দ্রুত তা বর্জন করা।
পাউরুটির নেতিবাচক প্রভাব কেবল পাকস্থলীতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাউরুটিতে থাকা নির্দিষ্ট কিছু যৌগ যদি নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনে। এর পাশাপাশি পাউরুটিতে থাকা উচ্চমাত্রার গ্লুটেন পেটের সমস্যার জন্য দায়ী। বিশেষ করে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় যারা আগে থেকেই ভুগছেন, পাউরুটি খেলে তাদের সেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু পাউরুটি মূলত রিফাইন করা ময়দা থেকে তৈরি হয়, তাই এতে ফাইবারের পরিমাণ নগণ্য এবং ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা প্রকট হয় এবং প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে শরীরে বড় ধরণের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, পাউরুটিতে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত চিনি ও লবণ শরীরকে আরও অসুস্থ করে তোলে। এটি দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাউরুটিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে, যা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য চিকিৎসকরা সকালের নাশতায় পাউরুটির পরিবর্তে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিকল্প যেমন ওটস, তাজা ফলমূল, ডিম বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর সবজি স্যান্ডউইচ গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার স্বার্থে এখনই পাউরুটি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
পাঠকের মতামত:
- ১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি
- ক্যামেরা তাক করলেই অনুবাদ; গুগল ট্রান্সলেটের নতুন চমক
- ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের প্রচারণার পরিকল্পনা
- বিপিএলে সিলেটের বড় চমক: প্লে-অফের আগে আরও শক্তিশালী টাইটান্স বাহিনী
- পিঠের ব্যথা কি সাধারণ নাকি কিডনি স্টোনের সংকেত? চিনে নিন লক্ষণগুলো
- নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ নিয়ে মির্জা ফখরুল
- বিশ্ব শান্তি ঝুঁকিতে: গ্রিনল্যান্ড পেতে ইউরোপকে ট্রাম্পের নজিরবিহীন আল্টিমেটাম
- মোড় নিল বিশ্বকাপ বিতর্ক: বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের নতুন সমীকরণ
- কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজের অভিযোগ
- পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
- জামায়াত-জোটের এনসিপি: ৩০ আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ
- ডিএসইতে একদিনে লেনদেন প্রায় ৪৭৪১ কোটি টাকা
- ১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৮ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির শেয়ার তালিকা
- চীনের সম্মতি পেলেই শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা
- জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ গড়বে বিএনপি: তারেক রহমান
- ভালুকায় শিক্ষা বিপ্লব: রানার উদ্যোগে ঝরে পড়া শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ই-লার্নিং একাডেমি
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ১৮ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- স্মৃতিশক্তি থাকবে অটুট; মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞদের ৬ পরামর্শ
- তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ
- সাড়ে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করল জামায়াত
- বিশ্বকাপ জট খুলতে আইসিসিকে এবার নতুন এক ফর্মুলা দিল বাংলাদেশ
- বোর্ড অব পিস-এ এরদোয়ান ও সিসিকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের; গাজায় নতুন মোড়
- ফেসবুকের শীর্ষ ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরে তারেক রহমান, ছাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও
- ইপিএস ও ক্যাশ ফ্লোতে বড় উন্নতি লাভেলোর
- টেলিভিশন পর্দায় আজ যে সব গুরুত্বপূর্ণ খেলা দেখা যাবে
- একাধিক ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড সভা ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- ডিএসই পরিদর্শনে বন্ধ পাওয়া গেল কয়েকটি কারখানা
- প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ ফরচুন শুজের
- নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- চরভদ্রাসনে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান; ফেঁসে গেলেন দুই সাংবাদিক
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- অস্থিতিশীল ইরান ও ভূ-রাজনীতি: খামেনির বক্তব্যে নতুন মোড়
- ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেথি; গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য সব তথ্য
- এক বছরে দুই বিপর্যয়; ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় নজিরবিহীন অন্ধকার
- মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান
- বিএনপি নেতাকর্মী ও নারীদের ওপর হামলা উল্টো মামলা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
- নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
- গ্রুপ বদল না ভেন্যু পরিবর্তন? বিশ্বকাপ সংকট কাটাতে বিসিবির নতুন প্রস্তাব
- পার্লার ছাড়াই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক: ঘরে বসে রূপচর্চার ৪টি সহজ উপায়
- শুধু এক দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস
- ফাহাদের বোলিং তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভারত; যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভ সূচনা
- রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রার পথে সৌদি আরব: নতুন খনি থেকে মিলল বিশাল স্বর্ণের মজুদ
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু








