পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৮:০৯:৩৯
পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভ্রমণ ও পর্যটন সেবা সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পবিত্র মাসে মক্কা ও মদিনায় মুসল্লিদের নজিরবিহীন ভিড়ের কারণে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ বর্তমানের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিড়ম্বনা এড়াতে এবং বাড়তি ব্যয় থেকে বাঁচতে ইচ্ছুকদের দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। এর ফলে সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থা এবং হোটেল আবাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওমরাহ প্যাকেজের মূল্যের ওপর।

পরিবহন ও প্যাকেজ মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ওমরাহ অপারেটরদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে যারা বাসে ওমরাহ করতে চান তাদের জন্য প্যাকেজ মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ দিরহাম। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই প্যাকেজের মূল্য বেড়ে ২ হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে।

অন্যদিকে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির হার আরও আশঙ্কাজনক। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম হলেও রমজান শুরু হওয়ার পর তা ৫ হাজার ২০০ দিরহাম থেকে শুরু হয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে যখন মুসল্লিদের ভিড় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে, তখন খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।

কেন বাড়ছে এই ব্যয়? পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মূলত হোটেল ভাড়াই এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর চাহিদা রমজানে চরমে থাকে। ফলে এই হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানের শুরুতে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অনেক ওমরাহ যাত্রী শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় অপেক্ষা করেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় তারা উল্টো বেশি দাম গুণতে বাধ্য হন।

ভিসা ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে নতুন নির্দেশনা হজের প্রস্তুতির সুবিধার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওমরাহ ভিসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ মার্চের পর নতুন করে ওমরাহ ভিসার আবেদন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ওমরাহ পালনের জন্য ২ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ওমরাহ পালনকারীদের দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাই পরামর্শ দিয়েছেন যে, ধর্মীয় ও আর্থিক—উভয় দিক বিবেচনা করে এখন থেকেই পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় শেষ মুহূর্তের বুকিং যাত্রীদের ওপর বিশাল এক আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।


মার্কিন গর্বের পতন: মধ্যপ্রাচ্যে ৭টি যুদ্ধঘাঁটি এখন ইরানি গোলার কবলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ২১:৫০:২১
মার্কিন গর্বের পতন: মধ্যপ্রাচ্যে ৭টি যুদ্ধঘাঁটি এখন ইরানি গোলার কবলে
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করে ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমান। গত সোমবার। ছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরুর মাত্র চার দিনেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এই স্বল্প সময়ে তেহরানের বিধ্বংসী পাল্টাহামলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল অংকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে, যেখানে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘এএন/এফপিএস-১৩২’ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থাটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। কাতার সরকার ইতোমধ্যেই এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের খবর নিশ্চিত করেছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কুয়েতের আকাশসীমাতেও মার্কিন বাহিনী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত রবিবার নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ভুলে তিনটি ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যদিও ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেছেন, তবে এই তিনটি বিমান প্রতিস্থাপনেই পেন্টাগনকে গুনতে হবে প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে শনিবারের প্রথম দফার হামলায় দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।

ইরান দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্পনগরে মোতায়েন করা মার্কিন ‘থাড’ (THAAD) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডারটি ধ্বংস করেছে। উন্মুক্ত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছবিতেও সেখানে বিধ্বংসী আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। উল্লেখ্য, এই একটি রাডার ব্যবস্থা তৈরি করতেই খরচ হয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদের ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে তেহরান।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরান সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের নৌ সদরদপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি এবং দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর অন্যতম। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানি হামলায় ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সোমবার ভোর পর্যন্ত ভয়াবহ আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সেখানে অন্তত চারটি বড় স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রেহাই পায়নি। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়; ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, কমপাউন্ডের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে নৃশংস ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের দপ্তরেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন দাপটের এমন শোচনীয় পতন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

/আশিক


শেষ মুহূর্তে স্থগিত হলো খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৯:৪৭:৫৩
শেষ মুহূর্তে স্থগিত হলো খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বার্তাসংস্থা এএফপি এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত জনসমাগমের ব্যাপকতা এবং প্রস্তুতির কিছু জটিলতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানের ইমাম খোমেনী মোসাল্লায় স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা থেকে এই বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের অংশগ্রহণের আগ্রহ এবং নজিরবিহীন ভিড়ের আশঙ্কায় বর্তমান অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে তা স্থগিত করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদায় অনুষ্ঠানের নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী, দাফনের আগে তেহরানে এই বড় ধরণের বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান এবং ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে তাঁর বাবা শায়িত আছেন, সেখানেই হয়তো তাঁর শেষ শয্যা হবে। তবে দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনভার বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে রয়েছে। যতক্ষণ না বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) নতুন কোনো সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করছে, ততক্ষণ এই পরিষদই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম তদারকি করবে।

/আশিক


লঙ্কান সাগরে রহস্যময় সাবমেরিন হামলা: ইরানি জাহাজডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৯:১০:২৯
লঙ্কান সাগরে রহস্যময় সাবমেরিন হামলা: ইরানি জাহাজডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কা উপকূলের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে একটি ইরানি জাহাজে ভয়াবহ সাবমেরিন হামলার ঘটনা ঘটেছে। লঙ্কান নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আকস্মিক এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলার পর জাহাজটি সাগরে তলিয়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত ১০১ জন আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি দ্রুত ডুবতে শুরু করলে লঙ্কান নৌবাহিনী বুধবার সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। উদ্ধারকৃত আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক দল নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা আরোহীদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে দেশটির সামরিক বাহিনী জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই সাবমেরিন হামলাটি ঠিক কারা চালিয়েছে বা হামলাকারী সাবমেরিনটি কোন দেশের, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জাহাজটি ডুবতে শুরু করার আগে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার গলে উপকূল অভিমুখে জরুরি বিপদসংকেত (Distress Signal) পাঠায়। এই সংকেত পাওয়ার পরপরই লঙ্কান কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকারী জাহাজ ও হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযানে নামে। মাঝ সমুদ্রে এমন রহস্যময় সাবমেরিন হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-সীমায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র : রয়টার্স


ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আইআরজিসি-র সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:৪৭:১৭
ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আইআরজিসি-র সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার) লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র নৌ শাখা। বুধবার ভোরে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে আইআরজিসি এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গভীরে ভারত মহাসাগরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি অবস্থান করছিল। ওই সময় একটি মার্কিন ট্যাঙ্কার জাহাজ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক ‘কদর-৩৬০’ এবং ‘তালাইয়েহ’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরানি বাহিনী দাবি করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড আঘাতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কার—উভয় জাহাজেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সমুদ্রের আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি সামরিক বাহিনী এই অভিযানকে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ইরানবিরোধী মার্কিন ও জায়নবাদী শক্তির অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি একটি চূড়ান্ত ও দাঁতভাঙা জবাব। ভারত মহাসাগরে সরাসরি মার্কিন রণতরীতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনায় একটি নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ


ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:২৯:০৬
ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী: কানাডার প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বুধবার (৪ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। কার্নি উল্লেখ করেন যে, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই চালানো হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বা কোনো মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আগাম আলোচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সংঘাত কমিয়ে আনার আহ্বান জানান মার্ক কার্নি।

অন্যদিকে, ইরানে এই হামলার স্বপক্ষে বাইডেন প্রশাসনের কোনো জোরালো যুক্তি নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পাল। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আয়োজিত এক ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি তৈরি করছিল—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আইনপ্রণেতাদের দেওয়া হয়নি। ফলে এই হামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এদিকে, এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি' (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দিন দিন এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

/আশিক


ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় প্রস্তাবের উদ্যোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১২:৩৩:২৭
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় প্রস্তাবের উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার একতরফা ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে এ সপ্তাহেই এক দ্বিদলীয় প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক অধিকার সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে এই প্রচেষ্টা সফল করা অত্যন্ত দুরূহ ও চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে।

সংবাদমাধ্যম এনপিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপিটল হিলের এই উদ্যোগে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের বড় অংশের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রতিনিধিও সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েলে পরিচালিত হামলার প্রেক্ষাপটেই এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনারা হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই বিলটি যদি কংগ্রেসে পাস হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার আগে আইনসভার অনুমোদন নিতে বাধ্য থাকবেন। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে কংগ্রেসের হারানো ভূমিকা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনগত পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা হ্রাস করার যেকোনো প্রচেষ্টা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

/আশিক


নিশানায় সিআইএ? সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা স্টেশনে বড় ধরণের হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১১:৪১:০৪
নিশানায় সিআইএ? সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা স্টেশনে বড় ধরণের হামলা
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে সিআইএর স্টেশনে ড্রোন হামলা।/ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে গত সোমবার এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র (CIA) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অবস্থিত। বুধবার (৪ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, এই ড্রোনটি সম্ভবত ইরান থেকেই ছোড়া হয়েছিল। যদিও সিআইএ স্টেশনটিই এই হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না তা এখনও নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে সিআইএ কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত শনিবার থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রিয়াদের এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলার ফলে মার্কিন দূতাবাসের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। সিআইএ স্টেশনটি সরাসরি আক্রান্ত না হলেও দূতাবাসের ভেতরে এর অবস্থান হওয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং হামলার উৎস ও প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় এই ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমানে কোনো স্থানই হামলার আওতামুক্ত নয়। ইরান ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব জায়গাতেই আঘাত হানবে, যার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের এত কাছে হামলা চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী, জটিল এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স


 বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:০৩:১৪
 বন্ধ হলো বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি হরমুজ প্রণালি: উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ‘এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না’।

কেপলারের তথ্যমতে, প্রতিদিন সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এরই মধ্যে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ৭২ শতাংশই আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা মূলত এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি এলএনজি ঘাটতি রয়েছে এবং সীমিত মজুতের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। ভারতও তাদের এলএনজি আমদানির ৫৩ শতাংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। কাতার সোমবার তাদের প্রধান দুটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ড্রোন হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হওয়ায় তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যদিও চীনের কাছে ৭.৬ মিলিয়ন টন এলএনজি মজুত রয়েছে, তবে সংকট দীর্ঘ হলে তাদের আটলান্টিক কার্গোর জন্য ইউরোপের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

অন্যদিকে, জাপানের মোট তেল আমদানির ৭৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই দুই দেশের কাছে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের এলএনজি মজুত থাকলেও জ্বালানির দাম বাড়ার উচ্চঝুঁকি রয়েছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো দেশগুলো উচ্চ আমদানিনির্ভর হওয়ায় সেখানে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নোমুরা।

/আশিক


পিতার যোগ্য উত্তরসূরি? যুদ্ধের আবহে ইরানের দায়িত্ব নিলেন মুজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ০৯:১১:২৫
পিতার যোগ্য উত্তরসূরি? যুদ্ধের আবহে ইরানের দায়িত্ব নিলেন মুজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরই মেজ ছেলে মুজতবা খামেনি। বুধবার (৩ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর ব্যাপক চাপে দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মুজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন পরবর্তী নেতা, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে জল্পনা চলছিল, মুজতবার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত বিদায়ী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স। খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান এবং শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। মাশহাদের বিখ্যাত ‘ইমাম রেজা মাজার’ প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই একই মাজারে খামেনির বাবাও সমাহিত রয়েছেন। মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

মুজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। আইআরজিসি-র সঙ্গে তাঁর গভীর সুসম্পর্কের কারণেই বিশেষজ্ঞ পরিষদ এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান যখন এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নতুন নেতার এই অভিষেক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তেহরানে মুজতবা খামেনির নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: