ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেথি; গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য সব তথ্য

রন্ধনশালায় সাধারণ একটি মসলা হিসেবে যার পরিচিতি, সেই মেথি বীজই এখন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রতিদিন নিয়ম করে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, যা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। আমাদের পূর্বপুরুষ বা দাদী-নানীদের সেই রাতভর মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়ার যে প্রাচীন অভ্যাস, তা আজ বিজ্ঞানের ভাষায় এক শক্তিশালী ‘প্রাকৃতিক মেটাবলিক সাপোর্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
কেন ভিজিয়ে রাখা জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, শুকনো মেথি বীজের খোসা অত্যন্ত শক্ত থাকে। রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই খোসা নরম হয় এবং এর ভেতরে থাকা ফাইবার, গ্যাল্যাকটোম্যানান, গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের কোষে সহজে শোষিত হওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। এর ফলে বীজটি সাধারণ খাদ্যের স্তর ছাড়িয়ে একটি কার্যকর সম্পূরক হিসেবে কাজ শুরু করে।
ডায়াবেটিস ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ‘এয়ু’ (AYU)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্যানুযায়ী, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যদি নিয়মিত ভেজানো মেথি বীজ গ্রহণ করেন, তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে শর্করার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। গবেষকরা জানান, মেথিতে থাকা গ্যাল্যাকটোম্যানান উপাদান খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেটের শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। যারা প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ পথ্য হতে পারে।
হজম শক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ পাকস্থলী ও হজম ব্যবস্থার ওপর মেথির প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে থাকা সল্যুবল বা দ্রবণীয় ফাইবার মল নরম করতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দূর করে। এছাড়া সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো পানি ও বীজ খেলে পেটের ভারীভাব এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। উচ্চ ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়, যা অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। মেথির প্রভাবে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় হারও সক্রিয় থাকে।
সৌন্দর্য ও হরমোনাল স্বাস্থ্য চুলের ঘনত্ব বাড়ানো এবং গোড়া শক্ত করার ক্ষেত্রে মেথির কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। এতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়াতেও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকর। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেথি বীজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইটোইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মাসিক-পূর্ব অস্বস্তি বা হরমোনজনিত জটিলতা লাঘবে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত সর্বোচ্চ সুফল পেতে এক থেকে দুই চা চামচ মেথি বীজ একটি ছোট কাপ পানিতে রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে খালি পেটে সেই পানি এবং নরম হওয়া বীজগুলো চিবিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে মনে রাখতে হবে, অতিভোজন সবসময়ই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মেথি গ্রহণ করলে হজমে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই পরিমিত মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অভিজ্ঞতার সঙ্গে আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেলবন্ধন মেথি বীজের এই অসীম ক্ষমতাকে নতুন করে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পার্লার ছাড়াই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক: ঘরে বসে রূপচর্চার ৪টি সহজ উপায়
উজ্জ্বল, দাগহীন এবং কোমল ত্বক সুস্থ ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তবে বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণ, তীব্র ধুলাবালি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আমাদের ত্বকে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের কাজের প্রবল চাপ এবং সময়ের অভাবে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত রূপচর্চাকেন্দ্রে বা পার্লারে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং সজীবতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং রূপচর্চা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই সম্ভব ত্বকের গভীর যত্ন নেওয়া।
ঘরোয়া রূপচর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর এবং জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো মধু ও লেবুর ফেসপ্যাক। এক চা চামচ মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক কেবল পরিষ্কারই হয় না, বরং এটি ত্বকের কালো দাগ হালকা করতেও বিশেষ সহায়তা করে। মধুতে থাকা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ত্বককে কোমল রাখে। অন্যদিকে, প্রাচীনকাল থেকেই বেসন ও হলুদের ফেসপ্যাক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দুই চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং প্রয়োজনমতো দুধ বা পানি মিশিয়ে তৈরি পেস্ট সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করলেই ত্বকের উজ্জ্বলতা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায় এবং এটি ব্রণের সমস্যা কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ত্বকের ক্লান্তি ও শুষ্কতা দূর করতে শসা ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত। শসার রস এবং অ্যালোভেরা জেল সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগালে তা ত্বককে তাৎক্ষণিক শীতলতা প্রদান করে। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারে রোদে পোড়া দাগ কমে যায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ ও সজীব। বিশেষ করে গরমের দিনে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর এই প্যাকটি ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া ত্বককে প্রাকৃতিক উপায়ে নরম ও কোমল করতে কলা ও দইয়ের ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে তার সঙ্গে এক চা চামচ দই মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় এবং হারানো মসৃণতা ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ঘরোয়া ফেসপ্যাকগুলো ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো এগুলোতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও অনেক কম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে যেখানে সময়ের অভাবে পার্লারে যাওয়া কঠিন, সেখানে হাতের কাছের এই প্রাকৃতিক সমাধানগুলোই হয়ে উঠতে পারে আপনার ত্বকের স্থায়ী সুরক্ষা কবচ। নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে কেবল ত্বকের উজ্জ্বলতাই বাড়বে না, বরং ত্বক হবে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত।
সালাদে যে সবজিটি যোগ করলে লিভার থাকবে চর্বিমুক্ত
সাধারণত বাঙালির ঘরোয়া খাবারের আয়োজনে সালাদ বলতে পেঁয়াজ, শসা আর টমেটোর আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রুচিভেদে কেউ কেউ এতে সামান্য ধনেপাতা বা লেটুস যোগ করলেও একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়, আর সেটি হলো মুলা। খনিজ ও ভিটামিনে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও কেবল তীব্র গন্ধ বা স্বাদের কারণে অনেকেই এই সবজিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের সালাদ বা তরকারিতে মুলার অন্তর্ভুক্তি আপনার শরীরের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। সম্প্রতি এমস, হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা মুলার বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে নতুন সব তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং এই সবজিটিকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, যারা ডায়েট নিয়ে সচেতন তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে মুলা একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। এটি অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত একটি সবজি হওয়ার কারণে সালাদে এটি যোগ করলে খাবারে যেমন একটি মুচমুচে বা ক্রাঞ্চি ভাব আসে, তেমনি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা সাধারণ সালাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর সসের সঙ্গেও মুলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মুলার স্বাস্থ্যগত দিকগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটিতে শর্করা ও ক্যালোরি অত্যন্ত কম থাকে, যা মূলত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া মুলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই রেটিং অনেক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক একটি সবজি।
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত আছেন, তাদের জন্য মুলা একটি কার্যকর খাদ্য উপাদান। তবে চিকিৎসকরা একটি প্রচলিত ভুল ধারণা সংশোধন করে জানিয়েছেন যে, অনেকে মনে করেন শুধু মুলা খেলেই পেটের চর্বি দ্রুত গলে যাবে—বাস্তবে এমন কোনো জাদুকরী প্রভাব মুলার নেই। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ঠিকই, তবে তা সামগ্রিক সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে। এ ছাড়া মুলা খেলে পেটফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হয় বলে যে সাধারণ অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। বরং কারো কারো ক্ষেত্রে মুলা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পেটফাঁপা ভাব কমিয়ে দিতে পারে। তবে ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও পরিপাকতন্ত্রের সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
মুলার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা। গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, মুলা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও মানুষের ওপর সরাসরি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত প্রমাণ পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন, তবুও প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো বিজ্ঞানীদের আশাবাদী করে তুলেছে। তাই পেঁয়াজ, শসা এবং টমেটোর চিরচেনা সালাদে নিয়মিত সামান্য মুলা যোগ করলে তা কেবল খাবারের স্বাদই পরিবর্তন করবে না, বরং আপনার শরীরের জন্য বাড়তি পুষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, সুস্থ থাকতে এবং লিভার ও রক্তের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় মুলার মতো অবহেলিত সবজিগুলোকে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
প্রতিদিন মাত্র ১টি লবঙ্গ: নিয়মিত খেলে শরীরে ঘটে এই ১১টি চমকপ্রদ উপকার!
প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা থেকে শুরু করে আধুনিক গবেষণাগার—সবখানেই একটি ছোট্ট মশলার জয়জয়কার শত শত বছর ধরে বিদ্যমান। সেটি হলো লবঙ্গ। প্রতিদিনের শুরুটা যদি মাত্র একটি লবঙ্গ চিবিয়ে করার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবে তা আপনার শরীরের জন্য একটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী স্বাস্থ্য-বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করতে পারে। আকারে তুচ্ছ মনে হলেও আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন চিকিৎসায় এর স্থান অনেক উঁচুতে। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন নিশ্চিত করছে যে, লবঙ্গের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম যা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। মূলত এর ভেতরে থাকা ‘ইউজেনল’ নামক একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক যৌগই একে অনন্য করে তুলেছে, যা একই সাথে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখে।
লবঙ্গের বহুমুখী গুণাগুণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এর কোষ সুরক্ষার ক্ষমতা। এটি ফেনলিক যৌগ ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের ফ্রি-র্যাডিক্যাল কমিয়ে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং মানুষের বয়সজনিত শারীরিক অবক্ষয়কে ধীর করে দেয়। এছাড়া শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, যা বড় কোনো রোগের মূল কারণ হতে পারে, তা কমাতেও লবঙ্গ কার্যকর। নিয়মিত লবঙ্গ চিবোনোর ফলে শরীরের ভেতরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যার সরাসরি সুফল পাওয়া যায় জয়েন্টের ব্যথা উপশমে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের সুরক্ষায়। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তনালীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে হার্টের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য এবং পরিপাকতন্ত্রের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। দাঁতের তীব্র ব্যথা, মাড়ির সমস্যা কিংবা দীর্ঘদিনের মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ দ্রুত কাজ করে এবং নিশ্বাসে এক ধরণের সতেজতা নিয়ে আসে। অন্যদিকে, যারা দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য লবঙ্গ একটি প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। এটি হজমকারী এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে গ্যাস ও অম্বল কমে যায় এবং ভারী খাবার খাওয়ার পরও পেট হালকা অনুভূত হয়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও লবঙ্গ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, যদিও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লিভার ও হাড়ের সুরক্ষায়ও লবঙ্গের অবদান অনস্বীকার্য। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে শরীরকে ডিটক্স করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। এছাড়া লবঙ্গে থাকা প্রচুর পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া বা হাড়ের ক্ষয় রোধে অত্যন্ত কার্যকর। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সমাধানেও লবঙ্গ প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি কফ কমাতে, গলা ব্যথা প্রশমিত করতে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে আরাম দিতে প্রাকৃতিক এক্সপেক্টোরেন্ট হিসেবে কাজ করে। এমনকি ত্বকের যত্নেও এর উপকারিতা চোখে পড়ার মতো; ব্রণ ও সংক্রমণ কমিয়ে এটি ত্বক পরিষ্কার রাখে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে এর অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য বিশেষ করে ঠান্ডা-কাশির মৌসুমে শরীরকে ঢাল হিসেবে সুরক্ষা দেয়। পরিশেষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লবঙ্গ আকারে ছোট হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী, তবে সুফল পেতে অবশ্যই এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে।
স্বাদে ও পুষ্টিতে সেরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১১টি খেজুর
খেজুর কেবল একটি সুস্বাদু ফল নয়, বরং এটি ভিটামিন, খনিজ এবং আঁশের এক বিশাল ভাণ্ডার যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। তবে সাধারণ মানের খেজুরের বাইরেও এমন কিছু বিলাসবহুল এবং অতি মূল্যবান প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো তাদের অনন্য স্বাদ, অসাধারণ গুণমান এবং দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই অভিজাত খেজুরগুলো কেবল পুষ্টির জন্য নয়, বরং বিলাসিতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও জনপ্রিয় ১১টি খেজুরের বিচিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
১. আজওয়া (Ajwa): মদিনার পবিত্র উপহার সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে উৎপাদিত আজওয়া খেজুর ধর্মীয় গুরুত্বের দিক থেকে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ। এটি দেখতে গাঢ় বাদামী থেকে প্রায় কালো রঙের হয় এবং আকারে মাঝারি থেকে বড়। স্বাদে এটি ক্যারামেলি ভাবযুক্ত, যেখানে হালকা বাদাম, ভ্যানিলা ও লিকারিশের এক চমৎকার সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। অত্যন্ত নরম ও চিবানো যায় এমন টেক্সচারের এই খেজুরের মিষ্টতা বেশ মৃদু। এর সীমিত উৎপাদন এবং বিশেষ যত্নের কারণে এটি পৃথিবীর অন্যতম দামী খেজুর হিসেবে পরিচিত।
২. মেডজুল (Medjool): খেজুরের রাজা মরক্কোর তাফিলালট অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই খেজুরকে বলা হয় ‘খেজুরের রাজা’। অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদের এই খেজুরটি ক্যারামেল, মধু ও বাটারস্কচের স্বাদ মনে করিয়ে দেয়। মেডজুল বেশ বড়, জুসি এবং দেখতে গাঢ় বাদামী রঙের। এর ত্বক কিছুটা ভাঁজযুক্ত ও নরম। বর্তমানে জর্ডান, ইরান ও সৌদি আরবেও এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে এবং রাজকীয় পরিবেশনার জন্য এটি বিশ্বজুড়ে প্রথম পছন্দ।
৩. ডেগলেট নূর (Deglet Noor): আলোর আঙুল আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার এই প্রজাতিকে ডাকা হয় ‘আলোর আঙুল’ নামে। সোনালী বাদামী রঙের এই খেজুরটি আয়তাকার এবং এর ত্বক প্রায় স্বচ্ছ। স্বাদে এটি হালকা মধুর এবং কিছুটা বাদামের মতো নোট পাওয়া যায়। অন্যান্য খেজুরের তুলনায় এটি কিছুটা শক্ত ও ক্রাঞ্চি টেক্সচারের, যা বেকিং এবং রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য আদর্শ।
৪. সুক্কারি (Sukkari): মধুর মতো মিষ্টতা সৌদি আরবের এই খেজুরটি তার সোনালী বাদামী রঙ এবং চকচকে ত্বকের জন্য পরিচিত। সুক্কারি নামের সার্থকতা পাওয়া যায় এর খুব মিষ্টি স্বাদে, যেখানে ক্যারামেল ও মধুর আমেজ থাকে। এটি অত্যন্ত নরম এবং মুখে দিলে সহজেই মিলিয়ে যায় এমন টেক্সচারের। বাজারে এটি সেমি-শুকনো এবং পুরোপুরি শুকনো—উভয় রূপেই পাওয়া যায়।
৫. খালাস (Khalas): আভিজাত্যের আপ্যায়ন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানের অন্যতম জনপ্রিয় খেজুর হলো খালাস। এর স্বাদ অনেকটা ক্রিমি বাটার ক্যারামেল বা টফির মতো। এটি মোলায়েম ও আঠালো টেক্সচারের এবং দেখতে লালচে বাদামী ও চকচকে। মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহ্যবাহী আরব কফির সাথে অতিথি আপ্যায়নে এই খেজুরটি অপরিহার্য।
৬. বারহি (Barhi): ইরাকের গৌরব ইরাকের বারহি খেজুর অত্যন্ত মিষ্টি এবং এটি পাকার বিভিন্ন পর্যায়ে খাওয়া যায়। সোনালী থেকে বাদামী রঙের এই খেজুরটি দেখতে আয়তাকার। এর স্বাদ সিরাপি, বাটারস্কচ ও মধুর সংমিশ্রণ। শুকনো অবস্থায় এটি অনেকটা টফির মতো লাগে এবং এর টেক্সচার নরম ও চিবানো যায় এমন হয়।
৭. পিয়ারম (Piarom): ইরানের রাজকীয় রত্ন বিশ্বের অন্যতম দামী এই খেজুরটির উৎপত্তি ইরানে। পিয়ারম খেজুরটি আকারে লম্বা এবং কালচে বাদামী থেকে কালো রঙের হয়। আধা-শুকনো টেক্সচারের এই খেজুরে ক্যারামেল ও টফি স্বাদের সাথে সামান্য তিতাভাবের এক বিশেষ সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। এর বিশেষ স্বাদ ও বিরলতার কারণে এটি একটি বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত।
৮. মাজাফাতি (Mazafati): ইরানের ‘বাম খেজুর’ ইরানের ‘বাম খেজুর’ হিসেবে পরিচিত মাজাফাতি অত্যন্ত মিষ্টি এবং মাংসল। মোলাসেসের মতো স্বাদ ও চকোলেটি মিষ্টতা একে অনন্য করে তুলেছে। কালো বাদামী রঙের এই খেজুরটি খুবই জুসি ও নরম টেক্সচারের হয়ে থাকে।
৯. খেনায়িজি (Khenazi): স্বাস্থ্যসচেতনদের পছন্দ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই খেজুরটি গাঢ় কালচে বাদামী এবং কিছুটা ভাঁজযুক্ত। এর স্বাদে ক্যারামেলের মিষ্টতা থাকলেও এটি বেশ মৃদু। নরম ও চিবানো যায় এমন টেক্সচারের এই খেজুরটি যারা কম মিষ্টি পছন্দ করেন বা ডায়েট সচেতন, তাদের কাছে খুবই প্রিয়।
১০. মাবরুম (Mabroom): পুষ্টির ভাণ্ডার সৌদি আরবের মাবরুম খেজুর দেখতে লালচে থেকে কালো বাদামী রঙের। এর মিষ্টতা মৃদু এবং টেক্সচার তন্তুজাতীয় বা চিবানো যায় এমন হয়। এতে ক্যালোরি কম কিন্তু প্রোটিন বেশি থাকায় এটি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য একটি আদর্শ বিকল্প।
১১. সাফাওয়ি (Safawi): সর্বশ্রেষ্ঠের দাবিদার অনেকেই সাফাওয়ি খেজুরকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ খেজুর মনে করেন। সৌদি আরবের এই খেজুরটি কালচে বাদামী ও ভাঁজযুক্ত। এটি অত্যন্ত মিষ্টি, জুসি এবং এর স্বাদে ক্যারামেল, মোলাসেস, টফি ও কফির নোট পাওয়া যায়। নরম ও আঠালো টেক্সচারের এই খেজুরটি স্বাদে ও পুষ্টিগুণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ঝটপট নাশতায় পাউরুটি কি ডেকে আনছে বড় রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
সকালের কর্মব্যস্ততা কিংবা অফিস যাওয়ার তাড়াহুড়োয় হাতের কাছে দ্রুত ও সহজলভ্য নাশতা হিসেবে পাউরুটির জনপ্রিয়তা অপরিসীম। সাধারণ পাউরুটি থেকে শুরু করে এর বিভিন্ন পদ এখন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই জনপ্রিয় খাবারটি নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে মানবদেহে যে দীর্ঘমেয়াদী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'মেডিকেলনিউজ টুডে'-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে, নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে বেশ কিছু জটিল ও ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা প্রতি সকালে নাশতায় পাউরুটির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অভ্যাসটি বড় ধরণের বিপদের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, পাউরুটি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ইস্ট, যা আটা বা ময়দাকে সুন্দরভাবে ফুলিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, খালি পেটে ইস্ট জাতীয় খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হানিকর। পাউরুটির এই উপাদানটি খালি পেটে শরীরে প্রবেশ করলে নানা ধরণের পরিপাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে যারা নিয়মিত পাউরুটি খেয়ে আসছেন, তাদের শরীরে এর উপাদানগুলো বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকরা কঠোরভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পাউরুটি কোনোভাবেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যাবে না এবং যাদের নিয়মিত পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের উচিত দ্রুত তা বর্জন করা।
পাউরুটির নেতিবাচক প্রভাব কেবল পাকস্থলীতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাউরুটিতে থাকা নির্দিষ্ট কিছু যৌগ যদি নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনে। এর পাশাপাশি পাউরুটিতে থাকা উচ্চমাত্রার গ্লুটেন পেটের সমস্যার জন্য দায়ী। বিশেষ করে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় যারা আগে থেকেই ভুগছেন, পাউরুটি খেলে তাদের সেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু পাউরুটি মূলত রিফাইন করা ময়দা থেকে তৈরি হয়, তাই এতে ফাইবারের পরিমাণ নগণ্য এবং ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা প্রকট হয় এবং প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে শরীরে বড় ধরণের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, পাউরুটিতে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত চিনি ও লবণ শরীরকে আরও অসুস্থ করে তোলে। এটি দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাউরুটিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে, যা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য চিকিৎসকরা সকালের নাশতায় পাউরুটির পরিবর্তে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিকল্প যেমন ওটস, তাজা ফলমূল, ডিম বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর সবজি স্যান্ডউইচ গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার স্বার্থে এখনই পাউরুটি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
প্রতিদিন কয়টি ডিম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
দীর্ঘদিন ধরেই পুষ্টিবিজ্ঞানের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিম। একদিকে উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে এটি প্রশংসিত হলেও অন্যদিকে এতে থাকা কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি কাজ করত। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ঐকমত্য এখন নতুন এক ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম যদি সাবধানতার সাথে এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়, তবে এটি স্বাস্থ্যকর সুষম খাদ্যের একটি অত্যন্ত মূল্যবান অংশ হতে পারে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, কতগুলো ডিম খাওয়া একজন মানুষের জন্য নিরাপদ হবে তা মূলত নির্ভর করে ওই ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রম, বয়স এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।
অধিকাংশ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, একটি সুষম খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন এক থেকে দুটি আস্ত ডিম নিরাপদে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তবে যাদের প্রোটিনের চাহিদা সাধারণের তুলনায় বেশি, বিশেষ করে যারা নিয়মিত কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন কিংবা পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাদের জন্য হিসাবটি কিছুটা ভিন্ন। এই ধরণের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শরীরের ওজন এবং দৈনন্দিন ক্যালরির চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, যারা স্বাভাবিক মাত্রার সক্রিয় জীবনযাপন করেন কিন্তু হৃদরোগ বা লিপিড ডিসঅর্ডারের মতো ঝুঁকি নেই, তারা দিনে তিনটি পর্যন্ত ডিম গ্রহণ করতে পারেন যা তাদের পেশি ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়তা করবে।
ডিমের এই বিপুল পুষ্টিগুণের নেপথ্যে রয়েছে এতে থাকা প্রয়োজনীয় সব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এটি মূলত ওমেগা ডিএইচএ (DHA) এবং ইপিএ (EPA), ভিটামিন ডি৩, বি১২, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন এ ও ই দ্বারা সুরক্ষিত একটি খাদ্য। এই পুষ্টি উপাদানগুলো কেবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং মস্তিষ্কের বিকাশ, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ডিমকে একটি ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারণ এতে আয়রন, জিঙ্ক এবং কোলিনের মতো উপাদান থাকে যা মানুষের বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখে এবং লুটেইন ও জেক্সানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কাজ করে।
ডিম খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে যে কোলেস্টেরল ভীতি কাজ করে, সে বিষয়ে নতুন আলোকপাত করেছেন ডায়েটিশিয়ান এবং সার্টিফাইড ডায়াবেটিস এডুকেটর ডা. অর্চনা বাত্রা। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, আধুনিক পুষ্টি গবেষণা ডিমের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল বদলে দিয়েছে। আগের নির্দেশিকাগুলোতে কোলেস্টেরলের দোহাই দিয়ে ডিম খেতে নিরুৎসাহিত করা হলেও বর্তমান প্রমাণ বলছে যে, খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল বেশিরভাগ মানুষের রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর অত্যন্ত সামান্য প্রভাব ফেলে। বরং বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম এইচডিএল (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং এলডিএল (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নেই বললেই চলে। ডা. বাত্রার মতে, হৃদরোগের জন্য ডিমের চেয়েও বড় ঝুঁকি হলো অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি (Saturated Fat) এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করা।
তবে বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিম গ্রহণের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ডা. বাত্রা পরামর্শ দেন যে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চমাত্রার এলডিএল কোলেস্টেরল বা বিদ্যমান হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে ৩ থেকে ৫টি ডিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে কেবল সাদা অংশ গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এর পাশাপাশি ডিম রান্নার পদ্ধতির ওপরও পুষ্টিগুণ অনেকটা নির্ভর করে। মাখনে ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত মাংসের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার চেয়ে সিদ্ধ করা, পোচ করা কিংবা সামান্য তেলে ভাজা ডিম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। পরিমিত পরিমাণে সঠিক পদ্ধতিতে ডিম গ্রহণ করলে এটি সব বয়সের মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম।
সূত্র : নিউজ ১৮
মশা তাড়াতে গিয়ে রোগ ডেকে আনছেন না তো? সতর্ক হোন এখনই
শীতের রাত কিংবা বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া—মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে আমাদের অনেকেরই প্রথম পছন্দ মশার কয়েল কিংবা ইলেকট্রিক লিকুইড রিফিল। বিশেষ করে ঠান্ডার সময় যখন দরজা-জানালা বন্ধ করে এবং ফ্যান বন্ধ রেখে আমরা শান্তির ঘুমের খোঁজ করি, তখন মশা তাড়ানোর এই উপকরণগুলোই যেন হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই শান্তির ঘুমের আড়ালে আপনি আপনার শরীরে কতটা বিষ গ্রহণ করছেন, তা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন বড় ধরণের সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের মতে, বদ্ধ ঘরে মশার কয়েল বা তেলের ধোঁয়া আদতে কোনো শান্তির সমাধান নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক নীরব ঘাতক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মশা নিধনকারী পণ্যে পাইরেথ্রয়েড নামক এক ধরণের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদিও একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ ঘরে এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকা মানবদেহের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়।
মশার কয়েল বা তেলের ধোঁয়া যখন আপনার শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে, তখন তা তাৎক্ষণিকভাবে কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন যে, দীর্ঘদিন এই রাসায়নিক বাষ্পের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসে স্থায়ীভাবে জ্বালা এবং জটিল শ্বাসজনিত রোগ দেখা দিতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেশি, কারণ তাদের ফুসফুস এবং স্নায়ুতন্ত্র বড়দের মতো পুরোপুরি গঠিত হয় না। এর ফলে শিশুদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং চোখ জ্বালাপোড়া করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে গেলে তা ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষকরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন।
পাইরেথ্রয়েড নামক এই রাসায়নিকটি মশাকে নিস্তেজ বা মৃত করতে পারলেও মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। গবেষকদের মতে, রাতের বেলা দীর্ঘক্ষণ এই বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে গেলে তীব্র মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব এবং স্নায়বিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।
এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, একটি বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ মশা নিধনকারী কয়েল জ্বালিয়ে রাখা ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণকে এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে তা সরাসরি ধূমপানের ধোঁয়ার মতোই ক্ষতিকর। নিয়মিতভাবে এই ধোঁয়ার ভেতরে ঘুমানো আপনার শরীরে দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা ত্বকে চুলকানি বা চোখ লাল হওয়ার মতো সমস্যারও অন্যতম প্রধান কারণ।
তাহলে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ কী করবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ কিছু উপায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলছেন, ঘরে মশার কয়েল বা তেল ব্যবহার করার সময় জানালা পুরোপুরি বন্ধ না রেখে অন্তত কিছুটা অংশ খোলা রাখা উচিত যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। শিশু এবং বয়স্কদের ঘরে এ ধরণের রাসায়নিকের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
বিকল্প হিসেবে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা কিংবা জানালায় নেট বা জাল লাগানো সবচেয়ে কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়। গবেষকদের পরামর্শ হলো, যদি কয়েল ব্যবহার করতেই হয় তবে ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে তা জ্বালিয়ে ঘর থেকে মশা তাড়িয়ে দিতে হবে এবং ঘুমানোর সময় কয়েলটি নিভিয়ে দিতে হবে। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাসায়নিক ধোঁয়ার মোহ ত্যাগ করে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসাই এখন সময়ের দাবি।
সূত্র : টিভি৯ বাংলা
দামী ক্রিমের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ফল দেবে ঘরোয়া রূপচর্চা!
বর্তমান বাজারে স্কিনকেয়ার বা রূপচর্চার জন্য অসংখ্য দামী ক্রিম ও সিরাম পাওয়া গেলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ চর্ম বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই এখন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বড় বড় ব্র্যান্ডের ব্যয়বহুল সব পণ্য ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অনেক সময় ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিও হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চর্ম বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, শুধুমাত্র দামী পণ্যের ওপর অন্ধ বিশ্বাস রাখা মোটেই বুদ্ধিমানে কাজ নয়। তাদের মতে, আমাদের হাতের নাগালে থাকা ঘরোয়া সাধারণ উপাদানগুলো ব্যবহার করে অনেক সময় বাজারের কেনা কৃত্রিম রাসায়নিক পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী ও টেকসই ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক মিশ্রিত বাজারি ক্রিমের চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি মাস্ক বা পরিচর্যার রুটিন ত্বকের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বিভিন্ন ফল যেমন কমলালেবু বা লেবুর রস সরাসরি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। এর পাশাপাশি মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং দইয়ের আর্দ্রতা প্রদানকারী গুণ ত্বকের কোমলতা ধরে রাখতে বিশেষ সহায়তা করে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নিয়ম মেনে এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক ভেতর থেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা অনেক দামী ফেসিয়াল বা ক্রিমের পক্ষেও সম্ভব হয় না।
চর্ম বিশেষজ্ঞরা ত্বকের যত্নে একটি ত্রিভুজ সূত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সঠিক পরিচর্যা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং গভীর ঘুম। তাদের মতে, পৃথিবীর কোনো দামী ক্রিমই একজন মানুষের ত্বকের জেল্লা ফেরাতে পারবে না যদি সেই ব্যক্তির শরীরে পানিশূন্যতা থাকে কিংবা তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেন। চিকিৎসকদের দাবি, বাজারে পাওয়া দামী সিরামের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ না করে ঘরে থাকা সহজলভ্য উপাদান দিয়ে নিয়মিত সঠিক নিয়মে ত্বকের যত্ন নিলে কৃত্রিম পণ্যের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতিগুলো কেবল সাশ্রয়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অনন্য।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম রাসায়নিক পণ্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সচেতনতা বাড়তে থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঘরোয়া পদ্ধতির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু মানুষ এখন দামী ব্র্যান্ডের অন্ধ মোহ ত্যাগ করে প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরে যাচ্ছেন এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করছেন। চর্ম বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকের ধরণ অনুযায়ী পরিমিতভাবে ব্যবহার করলে কোনো ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি যেমন নিরাপদ, তেমনি এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য ধরে রাখার জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে।
সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কি রাতের খাবারের সময়েই লুকিয়ে? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা
সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আমরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কী রাখছি তার পাশাপাশি ঠিক কোন সময়ে খাবার গ্রহণ করছি, সেই বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না, বরং খাবার গ্রহণের সঠিক সময় মেনে চলাও সমানভাবে জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিমাণে বা ভারী খাবার গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, রাতের খাবারের সময়ের অনিয়ম মানুষের হজম প্রক্রিয়া, ঘুমের মান এবং শরীরের সামগ্রিক ওজনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে রাতের খাবার সম্পন্ন করলে পরিপাকতন্ত্র পর্যাপ্ত সময় পায় এবং খাবার সহজে হজম হয়। এর ফলে বদহজম, গ্যাস কিংবা এসিডিটির মতো সাধারণ সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। পরিপাক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকার কারণে মানুষের ঘুমের মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়, যা পরদিন শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাতের খাবার গ্রহণ করলে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাকীয় হার স্বাভাবিক থাকে, যা শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে রাতের খাবার গ্রহণ করা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম একটি কার্যকর উপায় হিসেবে স্বীকৃত।
রাতের খাবার ঠিক কেমন হওয়া উচিত এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পুষ্টিবিদরা কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করেছেন। তাদের মতে, ডিনার হওয়া উচিত অপেক্ষাকৃত হালকা এবং যা সহজে হজম করা যায় এমন সব খাবার। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাভুজি কিংবা গুরুপাক খাবার রাতের মেনুতে রাখা একদমই উচিত নয়, কারণ এগুলো রাতের বিশ্রামের সময় শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া রাতের খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে না পড়ে অন্তত এক ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া এবং এরপর কিছুটা সময় হালকা হাঁটাচলা করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই অভ্যাসটি কেবল হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে না, বরং শরীরকে সক্রিয় রেখে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ডিনারের অভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
পাঠকের মতামত:
- ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মেথি; গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য সব তথ্য
- এক বছরে দুই বিপর্যয়; ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় নজিরবিহীন অন্ধকার
- মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান
- বিএনপি নেতাকর্মী ও নারীদের ওপর হামলা উল্টো মামলা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
- নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
- গ্রুপ বদল না ভেন্যু পরিবর্তন? বিশ্বকাপ সংকট কাটাতে বিসিবির নতুন প্রস্তাব
- পার্লার ছাড়াই উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক: ঘরে বসে রূপচর্চার ৪টি সহজ উপায়
- শুধু এক দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস
- ফাহাদের বোলিং তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ভারত; যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভ সূচনা
- রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রার পথে সৌদি আরব: নতুন খনি থেকে মিলল বিশাল স্বর্ণের মজুদ
- জুলাই সনদ লেখা হয়েছে রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে, কালি দিয়ে নয়: আলী রীয়াজ
- নীলনদ ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের নতুন বার্তা; মধ্যস্থতায় ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ভারতীয় কর্মকর্তার ভিসা আটকে দিল বাংলাদেশ, কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশের!
- হাসনাত আব্দুল্লাহর চ্যালেঞ্জে হারলেন মঞ্জুরুল মুন্সী
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ইসলামোফোবিয়া: বাংলাদেশে বাস্তবতার নাম, না রাজনৈতিক ঢাল
- চাকরি নিয়ে অসন্তুষ্টি? ৯০ মিনিটের এই সূত্র বদলে দিতে পারে আপনার জীবন
- ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- নির্বাচনী মিশনে জামায়াত আমির: ঢাকা-১৫ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী সফর
- সালাদে যে সবজিটি যোগ করলে লিভার থাকবে চর্বিমুক্ত
- কুমিল্লার একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানী
- প্রতিদিন মাত্র ১টি লবঙ্গ: নিয়মিত খেলে শরীরে ঘটে এই ১১টি চমকপ্রদ উপকার!
- স্লো পয়জন প্রয়োগ! খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসকের বিস্ফোরক তথ্য
- বাতাসে শুধু ধূলিকণা নয়, ভাসছে মৃত্যুও: আইকিউএয়ারে শীর্ষে ঢাকা
- রণক্ষেত্রে ট্রমা ও নৈতিক আঘাত: ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি
- ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ
- স্বাদে ও পুষ্টিতে সেরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১১টি খেজুর
- আজ ৮ ঘণ্টা যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
- স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ; এক নজরে আজকের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- কুমিল্লা মুরাদনগরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৫ বড় ঝুঁকি: ডব্লিউইএফ ও সিপিডির সতর্কবার্তা
- কুমিল্লার বরুড়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষ, দুইজন নিহত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, কী বললেন তিনি
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ইরান সংকট নিয়ে পুতিন–নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, আলোচনায় যা ছিল
- ইসরা ও মেরাজ: নবীজির অলৌকিক সফরের পূর্ণ ব্যাখ্যা
- রামপাল প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনায় রিজভী
- তারেক রহমান–ট্রাম্প প্রশাসনের ভার্চুয়াল বৈঠক
- হিজাব নিয়ে কোরআনের আয়াত ও ব্যাখ্যা
- প্রথম জুমার খুতবায় রাসুলের (সা.) যে বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক
- পে-স্কেল চূড়ান্তে শেষ ধাপে কমিশন, আসছে বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
- বিপিএল ম্যাচ বাতিল: টিকিট ফেরতের নিয়ম জানুন
- আজকের ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের দাম কত
- বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা, আজকের খেলার সূচি এক নজরে
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, জানুন নতুন দর
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে জরুরি আপডেট
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- ডিএসইতে আজ প্রকাশিত সব মিউচুয়াল ফান্ড এনএভির বিশ্লেষণ








