বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১০:৩২:১৯
বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত তিন দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের বহু মানুষ হতাহত হলেও ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহাণির সংখ্যা ইরানেই সবচেয়ে বেশি বলে জানা যাচ্ছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির প্রায় চার ডজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, এই অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নয়জন নাগরিক নিহতের খবর জানানো হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বর্তমান নেতারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনোভাবেই কোনো সমঝোতা করবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সামনের দিনগুলোতে তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে, যার ফলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন এই যুদ্ধ সহসাই থামছে না।

এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র মেরুকরণ ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চীন ও রাশিয়া এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির হত্যাকাণ্ডকে 'মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সকল নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড' বলে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। চীনও এই অভিযানকে ইরানের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও জার্মানির অবস্থান ভিন্ন। ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র মুদ বোজো খামেনির মৃত্যুকে একজন 'নিপীড়ক একনায়কের পতন' হিসেবে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ফ্রান্স যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। জার্মানি সতর্ক করে বলেছে, ইরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোতে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও তাদের সাইপ্রাসস্থ আরএএফ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয় হিসেবে সতর্ক করলেও পরাশক্তিগুলোর বিপরীতমুখী রণকৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

/আশিক


হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২১:৪১:৩০
হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সামরিক হামলা চালায়, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়ে সরাসরি অবগত কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই গোপন সামরিক চালটি বিশ্ববাজারের সামগ্রিক পণ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের চেইনে নতুন এবং অত্যন্ত মারাত্মক একটি হুমকি তৈরি করতে পারে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের শীর্ষস্থানীয় দুটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে সম্ভাব্য এই নৌ অবরোধের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং তেহরানের সেই চূড়ান্ত বার্তাটি হুতি কমান্ডের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর রণকৌশলের বার্তাটি ঠিক কোন মাধ্যমে বা কীভাবে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে, সূত্রগুলো সেটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তারা শুধু এটুকু নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের এই বিশেষ অনুরোধ বা নির্দেশের বিষয়ে হুতিরা সম্প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পেরেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের একজন শীর্ষ মুখপাত্রের সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক সাড়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং এডেন উপসাগরের নিকটবর্তী একটি কৌশলগত পার্বত্য অঞ্চলে ইতিমধ্যে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এই সমরাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চলাচলকারী যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানোর যাবতীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গোষ্ঠীটি। হুতি যোদ্ধারা এখন শুধু তেহরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে ইরান নিজেই তাদের সীমানায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা যদি বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের মাধ্যমে আরও প্রসারিত হয়, তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মুহূর্তের মধ্যে দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে। হুতিদের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই মূলত বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সার্বিক অপারেশনাল প্রক্রিয়াটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবেন।

/আশিক


মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২০:০৯:৫৮
মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ধরনের হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত স্ট্র্যাটেজিক নৌপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়টির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলে নীতিগত আলোচনা হয়েছে এবং হুতি কমান্ডের কাছে ইতিমধ্যে তেহরানের এই চূড়ান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিদের লোহিত সাগরে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর বার্তাটি কোন মাধ্যমে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুতে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার আগে নাকি পরে এটি পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি। এই চাঞ্চল্যকর খবরের বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ একটি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, সংগঠনটি ইতিমধ্যে এডেন উপসাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানগুলোতে তাদের দূরপাল্লার ভারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন বহর মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হোদেইদা উপকূলীয় এলাকা এবং এডেন উপসাগরসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য বাঙ্কারগুলোতে এসব ঘাতক অস্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে তেহরান থেকে চূড়ান্ত সংকেত বা সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে একযোগে হামলা শুরু করতে পারে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ থাকায় যদি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও একইভাবে অচল করে দেওয়া হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি সমুদ্র বাণিজ্য পথ একযোগে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এর ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক চেইনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা ডেকে আনতে পারে।

হুতিদের ভেতরের সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে হুতিদের সামরিক কমান্ড সেন্টারে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করেছে, জ্বালানি সরবরাহ রুখে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমেই মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা ইরানের প্রধান যুদ্ধকৌশল।

ওই আঞ্চলিক সূত্রটি আরও দাবি করে যে, সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বা ব্যাহত করতে খুব বেশি অত্যাধুনিক বা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। তাদের ভাষায়, প্রণালিটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একটি সাধারণ রাইফেলধারী সশস্ত্র দলও চাইলে এই জলপথে বড় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ইরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তাদের মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী বিস্তৃত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে। এই ইরানপন্থী আঞ্চলিক জোটে লেবাননের শক্তিশালী হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র শিয়া মিলিশিয়া গ্রুপও রয়েছে, যারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তবে হুতিরা এখন পর্যন্ত এই চলমান দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে সরাসরি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে অংশ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানই মূলত হুতিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, বড় অংকের অর্থায়ন এবং হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞ কমান্ডারদের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই পশ্চিমাদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করে আসছে।

/আশিক


হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২২:০৪:১৬
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো অপচেষ্টা চালায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সরাসরি ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক কড়া বিবৃতিতে আইআরজিসি অভিযোগ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের জ্বালানি প্রবাহ অবৈধভাবে সীমিত করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনপূর্বক সম্পূর্ণ “জলদস্যুদের মতো” জলদস্যুতামূলক আচরণ করছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর ব্যবহৃত অন্যান্য বিকল্প শুল্ক ও রপ্তানি পথও একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি এই সামরিক সংস্থাটি।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় ঘোষণা করে, “আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য, নতুবা কারও জন্য নয়।” অর্থাৎ ইরানকে যদি তেল বিক্রি করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে অন্য কোনো দেশকেও এই জলপথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের এই বিধ্বংসী হুঁশিয়ারি এমন এক মোক্ষম সময়ে সামনে এল, যার কিছুক্ষণ আগেই আইআরজিসি দাবি করেছে যে বাহরাইনে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা সফলভাবে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, বাহরাইনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম বহরের (5th Fleet) প্রধান সদর দপ্তর অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এটি ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল কৌশলগত নৌঘাঁটি।

আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক দাবি অনুযায়ী, তাদের বিশেষ ‘অপারেশন নসর-২’-এর পঞ্চম ধাপে চালানো এই আকস্মিক হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করা হয়েছে—মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (NSA) একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, একটি আধুনিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, মার্কিন সামরিক যন্ত্রাংশ ও যুদ্ধ সরঞ্জাম রাখার বড় আকারের প্রধান গুদাম এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক।

বাহিনীটির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ভোরের আলো ফোটার আগে চালানো ওই নিখুঁত হামলায় মার্কিন ঘাঁটির উল্লিখিত এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত” হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বড় দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী হুঁশিয়ারির ঠিক আগেই তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের “অবৈধ” ও একপাক্ষিক সামরিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ না করা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও বন্ধ থাকবে।

বিপরীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং নৌ চলাচলের বৈশ্বিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই মূলত ইরানি সীমানায় নতুন করে বিমান ও নৌ হামলা চালানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন এই জলপথের সম্পূর্ণ “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এর একমাত্র “রক্ষক” হিসেবে কাজ করবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে তাঁদের শর্ত মেনে আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে দেশটির প্রধান প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ বড় বড় জাতীয় স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলা আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানি ভূখণ্ডে স্থল অভিযান (Ground Invasion) চালানোর বিষয়টিও সরাসরি নাকচ করেননি। ট্রাম্প চতুরতার সাথে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে না করলেও “অন্যরা” (ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ইসরায়েল বা আঞ্চলিক মিত্ররা) এ ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আবারও ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপের’ (Kharg Island) কথা উল্লেখ করে হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, ইরানের পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপ থেকেই দেশটির উৎপাদিত অধিকাংশ অপরিশোধিত খনিজ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। এমনকি চলতি বছরের শুরুর দিকে এক সমাবেশে তিনি হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র “তেল নেওয়ার জন্য” ও ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে এই দ্বীপটি সামাজিকভাবে দখল করতে পারে।

সূত্র: আরটি


পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২১:৫২:৪৮
পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এখন এক নতুন ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ (Pickaxe Mountain) নামে পরিচিত অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে পাহাড়ের গভীরে সুনিপুণভাবে লুকানো এই স্থাপনাটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য সামরিক-পারমাণবিক কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচনা করে পশ্চিমা বিশ্ব। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত মিটার গভীরে অত্যন্ত কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মাটির অনেক নিচে দুটি বিশাল ও সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে, যা পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার (Bunker-buster) বোমা দিয়েও সহজে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান এই দুর্ভেদ্য পাহাড়ের নিচে অত্যন্ত গোপনে তাদের উন্নত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জোরালো সন্দেহ করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কৌশলবিদদের মতে, এই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারটি তেহরানের সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘কৌশলগত ব্যাকআপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা যেকোনো বহিরাগত বিমান হামলা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে ইরান সরকার ২০২০ সালে এই বিশেষ স্থাপনাটির নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকেই পশ্চিমা দাবিগুলো নাকচ করে আসছে। তেহরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্থাপনাটি শুধুমাত্র তাদের বেসামরিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও নিরাপদ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো গোপন পরিকল্পনা তাদের নেই।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে (The Hugh Hewitt Show) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব। ইরানিদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলুন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের নজরদারির কথা উল্লেখ করে আরও যোগ করেন, আমরা ওই নির্দিষ্ট পাহাড়ি এলাকাটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে তেমন কোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম এখন আমাদের চোখে পড়ছে না এবং তাদের পারমাণবিক অবস্থানও কৌশলগতভাবে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। তিনি মার্কিন সামরিক গোয়েন্দাদের সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, যখনই আমরা সেখানে বা অন্য কোথাও কোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য পাই, আমরা সাথে সাথে তা ধ্বংস করার ছক কাটি। তাই তারা (ইরানিরা) এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে খুব একটা কথা বলতে চায় না। তবে আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, খুব শিগগিরই আমরা ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে সরাসরি হামলা চালাতে পারি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সরাসরি হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে আরও মেঘাচ্ছন্ন করে তুলেছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

/আশিক


নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২০:২৯:১১
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের চুক্তি ভঙ্গ করলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের মতোই স্বাভাবিক ও অব্যাহত রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।

বুধবার (১৫ জুলাই) তেহরানে এক রাষ্ট্রীয় বক্তব্যে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় অস্থায়ীভাবে তেল-নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পরও ইরান অসতর্ক থাকেনি। বরং বহু বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে গড়ে তোলা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির নিজস্ব বিশেষ ও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো তেহরান পুরোপুরি সচল রেখেছিল।

পাকনেজাদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বের স্বভাবসুলভ আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এই চুক্তির শর্তগুলো সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সুবর্ণ সুযোগটি ইরান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছে। ওই সীমিত সময়ের মধ্যেই তেহরান তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মার্কিন অবরোধসীমার বাইরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

ইরানের তেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বর্তমানে তেহরান এমন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যার মাধ্যমে মার্কিন চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আগের মতোই নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রি ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন খড়্গ সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রম পূর্ববর্তী সফল কাঠামোর মধ্য দিয়েই সক্রিয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির জন্য দেওয়া বিশেষ ছাড় বা অনুমোদন হুট করেই বাতিল করে দেয়। তেহরান ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অন্যতম নগ্ন উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, অপর পক্ষ যদি বিশ্বস্ততার সাথে চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবেই কেবল তেহরান সমঝোতা বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায় পারস্পরিক স্বার্থ ও সমানুপাতিক জবাবের ভিত্তিতেই ইরান আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের পরবর্তী কঠোর অবস্থান নির্ধারণ করবে।

/আশিক


আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৫৩:০৩
আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো অবস্থাতেই ইরান নিজে থেকে কোনো আলোচনার টেবিলে বসবে না এবং বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ তেহরান সম্পূর্ণ নিজের হাতে রাখতে চায় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি (IRIB)-কে দেওয়া এক বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশটির এই কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির তীব্র সমালোচনা করে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাবাদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা চাঙ্গা রেখে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি নিয়ে কথা বলা এক ধরনের বড় প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বিশ্বজুড়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও চুক্তি অনায়াসে লঙ্ঘন করে, তাই তারা অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রকে আইনি উপদেশ দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই আমাদের আন্তর্জাতিক আইন শেখাতে পারে না।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গে এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ওমানের সঙ্গে এই প্রণালির কিছু অংশের যৌথ মালিকানা বা অংশীদারিত্ব থাকলেও, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিটি সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন। তাই এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো হরমুজ প্রণালির একক ও নিচ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ তেহরানের নিজের হাতে রাখা অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যিক।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও বৃহত্তম জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নজিরবিহীনভাবে তুঙ্গে উঠেছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ ও কার্গো জাহাজে শুল্ক আরোপের হুমকির বিপরীতে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এক ভয়াবহ ও সর্বাত্মক সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:৩১:১৬
যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লেখক ও সাংবাদিক ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফেডারেল জুরির দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সব ধরনের আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এসক্রো অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত অর্থ গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফেডারেল আদালতের হালনাগাদ নথিতে দেখা যায়, সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে পূর্বের রায় বহাল থাকে এবং মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ক্ষতিপূরণের অর্থ অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। আদালতের অনলাইন ডকেটেও অর্থ পরিশোধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলাটির সূত্রপাত হয় ই. জিন ক্যারলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তার দাবি ছিল, ১৯৯০-এর দশকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেন, তা মানহানিকর বলে অভিযোগ তোলেন ক্যারল।

২০২৩ সালে ফেডারেল আদালতের জুরি বোর্ড অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়ী এবং পরবর্তী মন্তব্যের মাধ্যমে ক্যারলের মানহানি করেছেন বলে রায় দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।

ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ তার মক্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে পেয়েছেন। তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়াকে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিস বিষয়টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তবে ট্রাম্পের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যারন হারিসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর ফলে নিম্ন আদালতের রায় কার্যকর হয় এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তরের আইনি বাধা দূর হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দেওয়ানি মামলাগুলোর একটি। শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ব্যক্তিগত অভিযোগ, মানহানি এবং রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে মামলাটি দেশটির বিচারব্যবস্থা ও জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য, দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:১৫:৪৩
বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য, দাবি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলতে থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত থামবে না। ওয়াশিংটনের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইরানের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের কয়েকটি দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং স্বাধীনভাবে দাবিটির সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।

সংঘাতের নতুন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করবে না। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা হলে ইসরায়েলকেও তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। এর আগে ওই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, সেখান থেকে আপাতত সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল মনে করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত প্রশমনের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।


হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২২:১৫:১৮
হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে এই সংবেদনশীল নৌপথে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বের সামগ্রিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। সমুদ্রপথে পরিবাহিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ঠিক একইভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিটিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াতের জন্য এটি অন্যতম প্রধান ও লাইফলাইন রুট হিসেবে বিবেচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি মার্কিন সমর্থনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে তাদের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই জলপথ অবরুদ্ধ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রখ্যাত বিশ্লেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, এই হুমকির মাধ্যমে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, প্রয়োজন হলে তারা হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব—উভয় কৌশলগত নৌপথেই একযোগে চাপ সৃষ্টি করার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা রাখে। মাঠপর্যায়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এই আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয়ে পরিণত হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সর্বাত্মক কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি না হলেও, ধাপে ধাপে এই প্রক্সি বা পরোক্ষ সংঘাতের পরিধি ও ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো পক্ষই সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখছে, যা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই চরম উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোনো একটি সাধারণ বিন্দুতে এসে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। হুতিদের এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে লোহিত সাগরের রুট পরিহার করে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যার ফলে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটিতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায় এবং ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামরিক জোট গঠন করে।

কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবও বর্তমান ভূরাজনীতিতে ইরানের জন্য একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত অস্ত্র ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যম। তবে তিনি মনে করেন, তেহরান এখনই এই পথ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে না; বরং যখন একটি সর্বাত্মক ও অনিবার্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে, কেবল তখনই তারা হুতিদের এই ধরনের বিধ্বংসী পদক্ষেপে চূড়ান্ত সম্মতি দেবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এখন এই ধারণা প্রবল হচ্ছে যে ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। তবে তাঁর মতে, তেহরানের প্রত্যক্ষ ইশারা ও সবুজ সংকেত ছাড়া হুতি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বড় কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে না। আর যদি তারা সত্যি সত্যি আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে হুতিদের আরও কঠোর ও সরাসরি সামরিক জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: