জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক দুটি রিটের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিট আবেদনগুলো দায়ের করেছিলেন, যেখানে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিলসহ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথকে অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়েছেন।
অন্যদিকে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল এবং এটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে এই সনদের সামঞ্জস্যতা নিয়ে আইনি বিতর্ক এখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছাল।
আদালতের এই রুল জারির ফলে জুলাই সনদ ও গণভোট সংক্রান্ত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। রিটকারী আইনজীবীদের দাবি, এই সনদ ও অধ্যাদেশগুলো বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশের পর এখন বিবাদী পক্ষগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গঠিত বিভিন্ন কমিশন ও পরিষদের বৈধতা নিয়ে চলমান এই আইনি বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
/আশিক
রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—কোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই রাস্তার আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, বাইরের অহেতুক চাপ বা রাস্তার আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের কঠোর বিধান অনুসারেই সব সিদ্ধান্ত নেবে।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো ইস্যুতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও নিজস্ব মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত হবে আইন অনুযায়ী।’
ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরিফ হোসেন খান বলেন, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো চিহ্নিত ঋণখেলাপি ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই ব্যাংকের পরিচালক পদে আসীন হতে পারেন না। সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে একজন বিশেষ ব্যক্তির নামে প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিশেষ পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও কোনো ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভাটি সশরীরে না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম তথা জুম (Zoom) অ্যাপের মাধ্যমে আয়োজনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের আমানতের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মুখপাত্র আরও যোগ করেন, বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর—কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা দেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা মাস্তানি বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক বা অদৃশ্য চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে; এমন পরিস্থিতিতে গভর্নর নিজেই বিষয়টি শক্ত হাতে মোকাবিলা করবেন।
কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা মোটেও সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো ব্যাংকই দেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না এবং এই ধরনের কুৎসিত রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ‘লাল সংকেত’।
/আশিক
আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নতুন এবং রহস্যময় মোড় এসেছে। মামলার চার্জগঠন শুনানির জন্য আজ সোমবার (১ জুন) সকালে আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এই খুনের পেছনে ‘ডলার’ নামের মিরপুরের এক প্রভাবশালী অর্থশালী ব্যক্তি জড়িত এবং সেই তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিল।
আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মূল আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর সকাল ১১টার পর তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে এক হট্টগোল ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আদালতে ওঠার সময় প্রিজন ভ্যান ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকে,
"আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। সব দোষ ডলারের! আমি ধর্ষণ করছি সত্য, কিন্তু রামিসাকে মারছে ডলার। এই কাজের জন্য ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিছে।"
এ সময় সে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করে, তার কোনো ডিএনএ (DNA) টেস্ট না নিয়েই চার্জশিটে অটোমেটিক মনগড়া তথ্য লেখা হয়েছে। মামলার এজাহার বা চার্জশিটে না থাকা এই নতুন চরিত্র ‘ডলার’-এর পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা জানায়, "ডলার হলো মিরপুর ১১ নম্বর লাইনের অনেক বড় টাকাওয়ালা লোক।" তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা রাষ্ট্রপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ এনে ১৮ জনকে সাক্ষী করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, "মামলাটি যেন দ্রুততম সময়ে শেষ হয়, সে বিষয়ে আমি আইনগত দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবেন।" প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও মূলত উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জটলায় রায় কার্যকর থমকে যায়। কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে তবেই এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি দ্রুত সম্ভব।
মামলার লোমহর্ষক বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
/আশিক
পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার (১ জুন) অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মেগা মামলার আনুষ্ঠানিক ও আইনি বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রটি (চার্জশিট) আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়ে আজ ১ জুন শুনানির জন্য সুনির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করেছিলেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে আজই বিচার শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন আদালত।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া দীর্ঘ তদন্ত শেষে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে যৌথভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ (DNA) টেস্টের ফরেনসিক প্রতিবেদন, শিশুটির ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নানামুখী অকাট্য আলামতের ভিত্তিতেই এই নিখুঁত অভিযোগপত্রটি প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের আলামত গোপন ও সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরদিন ২০ মে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর থেকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ও খুনি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে ঘাতক সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
/আশিক
শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত দেশপ্রেম ও কালজয়ী আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেলে শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন এক মহান নেতা, যার সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিদেশের মানুষ এক নামে বাংলাদেশকে চিনতো। প্রবাদ আছে, যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে; শহীদ জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তবে তিনি যেভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, আমরা এখন ঠিক সেভাবেই দেশের শাসনভার ও রাষ্ট্রীয় খাতগুলো পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’
টুইন টাওয়ার বা বহুতল ভবনের রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন, সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ক্রান্তিকালে দলের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে; অন্যথায় দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান মনে করিয়ে দেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট ইশতেহার ছিল। নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর এখন সেই ইশতেহারে প্রতিফলিত দেশের ৫২ শতাংশ মানুষের পবিত্র রায় ও আকাঙ্ক্ষা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি, সর্বজনীন শিক্ষা এবং শিল্প বিপ্লবের মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো আমাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেই কাজগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি খাতকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান যে দূরদর্শী পথনির্দেশিকা রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। তবে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহীত সঠিক ও কল্যাণমুখী কাজগুলোতে সাধারণ মানুষ এবং নেতা-কর্মীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেই কেবল এই সরকার সফল হবে।
শুধু আমরা ওপর থেকে কাজ করলেই হবে না; বরং কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সব নেতাকর্মীকে সরকারের লক্ষ্যগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের চোখে একটি শতভাগ সফল, জবাবদিহিমূলক ও আদর্শ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
/আশিক
রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে বা যারাই দেখাক না কেন, তাদের আস্তানা পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। আজ রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে বিকেলে নগরের সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, অবৈধ দখল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম ‘হাই-লেভেল মিটিং’ বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মেগা সমন্বয় সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেন এবং বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা যেকোনো মূল্যে নির্মূল করতে হবে। সন্ত্রাসীরা অতীতে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করবো। তাদের আশ্রয়স্থল যেখানেই হোক এবং পর্দার আড়াল থেকে যারাই তাদের প্রশ্রয় বা রাজনৈতিক ইন্ধন দিক না কেন, সবকিছু নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সাধারণ ও সাধারণ খাস জমিতে থাকা বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আশঙ্কার বিষয়ে আবারও আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ বা নিরীহ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না। যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সেখানে বিভিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে ওই অঞ্চলের আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একাডেমি গড়ে তোলার জন্য ম্যাপ (মানচিত্র) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের কাজ পুরোদমে চলছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারের জন্য প্রস্তাবিত খাস জায়গাটি আজই উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে সরজমিনে ভিজিট করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর ও আইজি প্রিজন খুব দ্রুত জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজেদের আইনি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে পরবর্তী আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
পাহাড়ে চলমান যৌথ অভিযানের সক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন আর শুধু প্রথাগত বা সাধারণ পুলিশিং ব্যবস্থা নয়; বরং পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৪ হাজার চৌকস সদস্যের একটি বিশাল যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তায় অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল অভিযান পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সব বাহিনী এক হয়ে কাজ করছে।
জঙ্গল সলিমপুর ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকা যেমন—রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীর মতো উপজেলাগুলোতেও সন্ত্রাস দমনে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলার এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যম ও চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে, আজ রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চট্টগ্রামের লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
/আশিক
রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
মিরপুরে শিশু রামিসাকে বর্বরোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এই স্পর্শকাতর মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ বিচার তথা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, মূল তথ্যের সূত্র অনুযায়ী আজকের তারিখটি ৩১ মে হলেও আইনমন্ত্রীর ঝিনাইদহ সফরের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থার নানা দিক উঠে এসেছে।
বক্তব্যকালে দেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বর্তমানে যতটা স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এমন দৃষ্টান্ত ও স্বাধীনতা বিশ্বের অন্য অনেক দেশেই সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের সম্মানিত বিচারকদের বদলি, পদায়ন বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়ে সরকারের এখন সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে এই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও দেশবাসী অতীতে দেখেছে, যেখানে বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নানামুখী অভিযোগ উঠেছিল।
আদালতগুলোতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও জট প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। দেশের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় বিজ্ঞ বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে মামলার এই বিশাল জট তৈরি হয়েছে। তবে মামলার এই দীর্ঘ জটের মধ্যেও শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য ও সংবেদনশীল মামলার ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।
/আশিক
জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে একটি নতুন ও আধুনিক কারাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে কোনোভাবেই আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও রাজনীতির চরম দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের সমান্তরাল ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার অপচেষ্টা হয়েছিল, যার একটি বাস্তব ও প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে কিছু নামী ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটার পর সরকার পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ফলশ্রুতিতে অপরাধীদের পুরোপুরি অবদমন করতে গত ৯ই মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা গত ৯ই মার্চের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কোনো কোনো ক্ষেত্র থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস এই অঞ্চলের সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে ওতপ্রোতভাবে থাকা বড় ভূমিদস্যু ও মূল রাজনৈতিক ইন্ধনদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তবে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ ও নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণকে সর্বোচ্চ স্বস্তি ও নাগরিক নিরাপত্তা দেওয়া এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও অর্থনৈতিক কারণে যারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। এখানকার প্রকৃত ভূমিহীন বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ও মানবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
জঙ্গল সলিমপুরকে মূল শহরের সাথে যুক্ত করতে একটি শক্তিশালী রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক উন্নত রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র যৌথভাবে পর্যালোচনা করে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন যৌথ বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং একটি সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ ছাড়া বায়েজিদ লিংকের আশপাশের খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের অন্য দুই অপরাধপ্রবণ এলাকা বেতুয়া ও চা বাগান থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ পুনপ্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জঙ্গল সলিমপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
/আশিক
সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের দীর্ঘ সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রবিবার (৩১ মে)। উৎসবের আমেজ ও অবকাশ কাটিয়ে আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে দেশজুড়ে পুনরায় খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজার। ফলে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সব পরিমণ্ডলে আবারও নিয়মিত কাজের চিরাচরিত ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করবে।
চলতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ২৫শে মে থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টানা সাত দিনের একটি বিশাল অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়েছেন। এই দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে লাখো চাকুরিজীবী সশরীরে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করছেন।
ঈদের এই লম্বা ছুটির মধ্যেও দেশের জনসাধারণের জরুরি আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কিছু ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হয়েছিল। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সব ব্যাংকে সাধারণ ও প্রথাগত নিয়মে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-ও নিয়মিত লেনদেনের সময়সূচি অনুযায়ী সচল হতে যাচ্ছে।
প্রতি বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সাধারণত অফিস ও ব্যাংকপাড়ায় মূল কাজের চাপ কিছুটা কম থাকে। প্রথম দিন মূলত সহকর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলি, ঈদের কুশল এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই কেটে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ ছুটির কারণে জমে থাকা দাপ্তরিক ও বাণিজ্যিক ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কাজের ব্যস্ততা ও চাপ দুটোই বেশ জমে উঠবে।
এদিকে দীর্ঘ ছুটি শেষে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার ও আজ রবিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ফলে উৎসবের দিনগুলোতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর মূল সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে দূরপাল্লার যানবাহন ও সাধারণ পরিবহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আবারও চেনা ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি একা দেশের কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই কেবল একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কাজীর দেউড়ি মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) চট্টগ্রামের উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তাঁর স্বপ্নের আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার আহ্বান জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতা নয়, জনগণের কল্যাণে সার্বক্ষণিক নিবেদিত থেকে তাদের সুখ-দুঃখের প্রকৃত অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি আসল শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।"
বক্তব্যকালে পাশে থাকা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ঐতিহাসিক স্মৃতি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, "আমরা আজ এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই দেশবিরোধী এক নির্মম ষড়যন্ত্রে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ঘাতকরা তাকে সশরীরে হত্যা করতে পারলেও এ দেশের মানুষের হৃদয় থেকে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে কখনো মুছে ফেলতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।
উপস্থিত বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "জনগণই যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মূল চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ, নাগরিক চাহিদা ও প্রত্যাশাকে দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মেহনতি মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সেই সব প্রত্যাশা পূরণে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।"
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
- বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে: জামায়াত আমির
- হয় শক্তিতে এগোব, নয়তো শহীদ হব: পেজেশকিয়ান
- রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
- জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- এক নজরে সোমবারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের শীর্ষ লেনদেনের তালিকা
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইউটিউবে আসছে বড় পরিবর্তন: এআই ভিডিও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে অ্যালগরিদম
- আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
- আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় আন্নাই দায়ী: তামিল অভিনেত্রী জুলি
- আইআরজিসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ, সত্য নাকি গুজব?
- উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান
- ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ: পুলিশের অ্যাকশনে রণক্ষেত্র মতিঝিল
- ড্রোনের বদলে ড্রোন আস্তানায় বোমাবর্ষণ: ইরানে আবারও মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা
- মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় হাটে বিপুল পশু উদ্বৃত্ত, লোকসানের মুখে খামারিরা
- সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলা
- ১ জুনের মুদ্রা বাজার: জেনে নিন ডলার, রিয়াল ও রুপির আজকের সর্বশেষ রেট
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১ জুনের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ
- কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত বসতভিটা দখলের চেষ্টা থানায় লিখিত অভিযোগ
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- কালশী বস্তির আগুনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নাশকতার শঙ্কা: আসিফ মাহমুদ
- উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা
- জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য নাম: মির্জা ফখরুল
- পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
- আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস: চলতি সপ্তাহে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ
- গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
- শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ
- আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান
- নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?
- ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
- আগামীতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে: ডা. আবদুল্লাহ তাহের
- দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড
- প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক
- পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার
- ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
- রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
- জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
- ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
- মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
- ৩ উপকূলীয় জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- বড় ধরনের মোড়ে বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে নাকি বাড়বে?
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- পদ্মায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ২৩টি কোরবানির গরুসহ ব্যবসায়ী নিখোঁজ








