জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৩ ১২:০৭:১৬
জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি
হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক দুটি রিটের ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিট আবেদনগুলো দায়ের করেছিলেন, যেখানে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিলসহ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথকে অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল এবং এটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে এই সনদের সামঞ্জস্যতা নিয়ে আইনি বিতর্ক এখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছাল।

আদালতের এই রুল জারির ফলে জুলাই সনদ ও গণভোট সংক্রান্ত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। রিটকারী আইনজীবীদের দাবি, এই সনদ ও অধ্যাদেশগুলো বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশের পর এখন বিবাদী পক্ষগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গঠিত বিভিন্ন কমিশন ও পরিষদের বৈধতা নিয়ে চলমান এই আইনি বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

/আশিক


জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২১:৩৭:৫২
জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনের দীর্ঘ ৪৫ বছরের অন্তরালের জীবনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্বরোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর মোজাফফর তাঁর দীর্ঘ আত্মগোপন জীবনের সিংহভাগ সময়ই প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে কাটিয়েছেন।

একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াতও করতেন। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলার পর অবশেষে বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম ঐতিহাসিক এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জানান, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে আইনের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ডিএমপির বিশেষ সূত্র মারফত জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সামরিক আইন অনুযায়ী কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার উদ্দেশ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তার গুলিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নৃশংসভাবে শাহাদাতবরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সেনা বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং কিলিং স্কোয়াডের সামনের সারির সদস্য ছিলেন এই মেজর মোজাফফর। এমনকি সার্কিট হাউসের অন্ধকার কক্ষে তিনিই প্রথম জিয়াউর রহমানকে সরাসরি শনাক্ত করেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজন জড়িত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহ ও হত্যার দায়ে গঠিত সামরিক আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং অন্য অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে ওই সময় মোজাফফর হোসেন সুকৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান, যার ফলে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিবির জালে ধরা পড়লেন ইতিহাসের এই পলাতক খুনি।

/আশিক


জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:২৫:৩৫
জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ও কৌশলে পলাতক ছিলেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী সামরিক কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার জন্য মোজাফফরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান নৃশংসভাবে নিহত হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে এসেছিলেন মূলত দলের স্থানীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে।

অভিযোগ রয়েছে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি কিলিং স্কোয়াডে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই মোজাফফর হোসেন। এমনকি সার্কিট হাউসের অন্ধকার ঘরে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি ব্রাশফায়ার করেন।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর ত্বরিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি পরবর্তীতে নিহত হন। এই সেনা বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে গঠিত সামরিক আদালতের বিচারে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোজাফফর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সে সময় তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন এবং একপর্যায়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ যাতায়াতও করতেন। অবশেষে গোয়েন্দা নজরদারির জালে আটকা পড়ে ডিওএইচএস এলাকা থেকে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেন এই মোস্তফা কামালের মতো দীর্ঘমেয়াদী পলাতক খুনি।

/আশিক


বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:১৮:২৩
বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং ভারতে আটক শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া আশা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং ভারত থেকে হাদী হত্যা মামলার তিন সন্দেহভাজনকে প্রত্যর্পণের (Extradition) জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, উভয় দেশের সরকারের কাছ থেকে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ও চূড়ান্ত সাড়া পাব।’

ব্রিফিংয়ে সাবেক আইজিপির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ইউএই কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুততা দেখিয়েছে। প্রত্যর্পণের নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশ মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব আইনি ও দাপ্তরিক নথি ইউএই প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে।

অন্যদিকে, শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথি পাঠানো হয়েছে। ওই তিন সন্দেহভাজন বর্তমানে ভারতে স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থাতেও বিশেষ বিবেচনায় তাদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার সুযোগ রয়েছে। সরকার সেই আইনি পথেই এগোচ্ছে।

/আশিক


দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২১:৪৫:০৪
দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশ স্বাধীনের পর প্রকৃত শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা তা সঠিকভাবে না করে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে ‘রাজনীতিকরণ’ করেছেন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই ঐতিহাসিক ও নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করেন। এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়, যার প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী ৩টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও তৎসংশ্লিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

সংসদে ১৯৭১ সালের শহীদ পরিবার ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না—ময়মনসিংহ-৮ আসনের (প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কুড়িগ্রাম ও পিরোজপুরের প্রশ্নকর্তাদের জবাবে) সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বস্তুনিষ্ঠ তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিরপেক্ষভাবে তা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছেন।

এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দেশের খ্যাতনামা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা অন্যতম।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার হওয়া সব শহীদের একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরবর্তীতে দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যিনি সরাসরি মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয়, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’

সরকারপ্রধান দৃঢ়তার সাথে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের দ্বারা গঠিত দল হিসেবে বিএনপি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের একটি পবিত্র রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে যে নানাবিধ সমস্যা ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা দূর করতে বদ্ধপরিকর। দেশবরেণ্য ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল ও নিখুঁত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে সরকার বর্তমানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

/আশিক


দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৪৮:৩৮
দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কোনো কারণে যেসব পরীক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ পুনর্বিবেচনায় আবারও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সাথে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরেও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও নানাবিধ অনিবার্য কারণে নির্দিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এইচএসসি পরীক্ষা যেহেতু একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, তাই সাধারণ পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ বিবেচনায় তাদের এই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিতর্কিত ওই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের সাথে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তিনি পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে প্রায়োগিক ভুল ছিল, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে ওই দুটি প্রশ্নের নির্ধারিত পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

/আশিক


শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৩৭:০১
শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: কালবেলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্থায়ী অবসান এবং অপরাধীদের আইনানুগ বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে। আর তাঁর ক্ষেত্রে কোনো আপিলের আইনি সুযোগ অবশিষ্ট আছে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে দেশের আইন ও আদালত নির্ধারণ করবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানে বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের যে কথা বলছেন, সরকারও তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন চায়। তবে তা হবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এবং দেশে ফেরামাত্রই আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার ও শাস্তি কার্যকর করা হবে।

বিদেশে পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যারা বিদেশে রাজনৈতিক বা অবৈধ আশ্রয় নিয়েছেন, সেই সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) মাধ্যমে রেড নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বিদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং খুব শিগগিরই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কোনো প্রকার নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়। বরং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সামগ্রিক দায়-দায়িত্ব ও শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি সংসদকে ও জনগণকে অবহিত করেন যে, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি অপরাধীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার করার পূর্ণ আইনি সুযোগ রয়েছে। যেহেতু শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে বিগত সরকার পরিচালিত হয়েছে, তাই সেই সরকারের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার সাংগঠনিক দায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বহন করতে হবে।

তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরাসরি এই নৃশংস গণহত্যায় জড়িত ছিলেন এবং দল হিসেবে তারা এই জঘন্য ঘটনার জন্য এখনো পর্যন্ত ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা প্রকাশ বা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। উল্টো তারা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া বীর ছাত্র-জনতা ও সাধারণ ব্যক্তিদেরই অপরাধী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাই এটি অবশ্যই স্বচ্ছ বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে, যাতে দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির চিরতরে অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির পুরো ইতিহাস মূলত গণতন্ত্র ধ্বংস করা, একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম, বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাস। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সেজন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাস সবসময়ই গৌরব ও ত্যাগের। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘মাফিয়া ছাত্রসংগঠন’ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে সেই সোনালী ইতিহাসকে মারাত্মকভাবে কলঙ্কিত করেছে। সরকার ছাত্রসমাজকে সেই কলঙ্কের হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ ধারার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে বলেন, জুলাইয়ের এই মহান বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা একক কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পদ বা অর্জিত সম্পত্তি নয়। এটি দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের এক যৌথ প্রতীক। তাই এই পবিত্র চেতনাকে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবসার হাতিয়ার বানানো কারও উচিত নয়। জুলাইয়ের মূল শক্তি ও চেতনাকে বুকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার জনগণের ওপর চড়াও হওয়ার বা ফ্যাসিবাদী আচরণ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।

/আশিক


পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:২৫:৩৮
পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নিশ্চিত করতে এই অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিএনসিসির আওতায় বর্তমানে মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি স্থাপনা ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন, যার মধ্যে রয়েছে ২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ। সাধারণ মানুষের বিনোদন ও শিশুদের খেলাধুলার এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান—যা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে—সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

একই সাথে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিএসসিসি এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ফুটপাত এবং শিশুদের খেলার মাঠ থেকে যেকোনো ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সেখানে বর্তমানে উন্মুক্ত মাঠের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও, নতুন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী গাজীপুরের ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর বাইরে ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান ও পরিবেশের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১২:২২:২৭
নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। বৈঠকে নতুন বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সচিবালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠক শেষে সুপারিশমালা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরাই নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের পে-স্কেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেবল গ্রেডভিত্তিক নয়, বরং মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ক্ষমতা বিবেচনায় বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা। অর্থাৎ পূর্বের মতো সবার জন্য প্রায় একই হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে প্রয়োজন ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে ভিন্ন হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীরা গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এই হার বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, আইনি যাচাই, প্রজ্ঞাপন জারি এবং সফটওয়্যার হালনাগাদের মতো আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বর্ধিত বেতন এবং সম্ভাব্য বকেয়া একসঙ্গে হাতে পেতে পারেন।

জানা গেছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে কার্যকর করার সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার একটি বড় পরিসরের মতামত জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে অংশ নেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। বিপরীতে প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের ভিত্তি করার সুপারিশ করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫-এর তথ্যও নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। শহরাঞ্চলে এই ব্যয় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। এসব তথ্যই নতুন বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত বর্তমান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৫ করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

শুধু মূল বেতন নয়, যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য ভাতাও পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব কর্মচারী এসব ভাতার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

-রফিক


রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:৩৫:৫১
রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!
ছবি : সংগৃহীত

রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব, থুতু ফেলা কিংবা পানের পিক ছড়িয়ে জনপরিসর নোংরা করার প্রবণতা রোধে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের তিনসুকিয়া পৌরসভা। প্রচলিত জরিমানা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রশাসনিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক জবাবদিহিতার পথ বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নতুন এই ব্যবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত সড়ক ও জনসমাগমস্থলে বড় আকারের ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থানে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় কেউ প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা অনুরূপ অস্বাস্থ্যকর আচরণ করতে ধরা পড়লে তার ছবি বা ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

পৌর কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের নাম দিয়েছে ‘হল অব শেম’ (Hall of Shame)। প্রশাসনের ভাষ্য, শুধু আর্থিক জরিমানা নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসম্মুখে লজ্জাবোধ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তাদের বিশ্বাস, এমন ব্যবস্থা মানুষকে জনসমক্ষে অসচেতন আচরণ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জরিমানার ব্যবস্থা চালু থাকলেও অনেক মানুষ এখনো প্রকাশ্যে প্রস্রাব ও থুতু ফেলার অভ্যাস পরিবর্তন করেননি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় প্রযুক্তির সহায়তায় আচরণগত পরিবর্তন আনতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্যোগটি চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে জনস্বার্থে সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, জনপরিসরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, সামাজিক জবাবদিহিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে সমালোচনাও কম নয়। নাগরিক অধিকারকর্মী ও গোপনীয়তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষাও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে স্থানীয় আইন, তথ্য সুরক্ষা নীতি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এখন সবার নজর তিনসুকিয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলাফলের দিকে। প্রযুক্তি, সামাজিক চাপ এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে ‘হল অব শেম’ প্রকল্পটি সত্যিই রাস্তার ধারে প্রস্রাব ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কমাতে পারে কি না, সেটিই আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: