রেড ক্রিসেন্টের ভয়াবহ তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানে লাশের মিছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০২ ১৬:০৫:৪৮
রেড ক্রিসেন্টের ভয়াবহ তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানে লাশের মিছিল
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়েছে। ছবি: সিবিসি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশেই কেবল ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আকাশপথের আক্রমণে ইরানের একের পর এক জনপদ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ইরান রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির অন্তত ১৩১টি শহর এই বিধ্বংসী হামলার শিকার হয়েছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে আক্রান্ত শহরগুলোতে রেড ক্রিসেন্টের মানবিক মিশনের নেতৃত্বে উদ্ধার তৎপরতা বিরতিহীনভাবে চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এবং জরুরি সাড়াদানকারী দল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে। এছাড়া প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর একটি বিশাল নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা ও মানসিক সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

আক্রান্ত ফার্স প্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত ও মৃতদেহ উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেহর নিউজ জানিয়েছে, অনেক এলাকায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ায় জরুরি রক্ত ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তারা পূর্ণ শক্তিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং গৃহহীন হয়ে পড়া নাগরিকদের আশ্রয় ও খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

ইরানের সামরিক কমান্ড এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা কেবল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালাচ্ছে। তবে রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক শহর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আকাশপথে আরও হামলার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রমকেই ইরান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২১:৫৩:৫৪
উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা
ছবি : সংগৃহীত

লাওসের দুর্গম লং তিয়াং গ্রামের কাছে প্লাবিত গুহার ঘুটঘুটে অন্ধকারে টানা ১১ দিন ক্ষুধার্ত ও দুর্বল শরীরে এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন পাঁচ খনি শ্রমিক। চারদিকে থই থই পানি আর তীব্র শীতের মধ্যে বাঁচার আশা যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই অলৌকিকভাবে গুহার ভেতরের পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। আর তা দেখেই ভেতরে আটকে থাকা চার শ্রমিক নিজেদের অবশিষ্ট শক্তিটুকু এক করে মেতে ওঠেন এক অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধে।

কোনো উদ্ধারকারীর প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজেদের সাহসে ভর করে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পেরিয়ে শনিবার (৩০ মে) যখন তারা হুট করে গুহার মুখে এসে হাজির হন, তখন বাইরে অপেক্ষমাণ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বেঁচে ফেরা যুবকরা জানিয়েছেন, চরম মৃত্যুকালীন ভয় থেকেই মূলত এই অদম্য সাহসের জন্ম হয়েছিল।

যে অন্ধকার চেম্বারে তারা বন্দি ছিলেন, সেখান থেকে গুহার মুখ পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ২৬০ মিটার, যা একটি ৭৮ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। এই পথটুকু মোটেও সহজ ছিল না। কোথাও ছিল বুক সমান বরফশীতল পানি, কোথাও আবার সুড়ঙ্গ এতটাই সরু ছিল যে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এর আগের দিন অবশ্য এই দলের প্রথম সদস্যকে আন্তর্জাতিক ডুবুরি দল অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাইরে নিয়ে আসে। কিন্তু বাকি চারজনকে নিরাপদ সময়ের জন্য ভেতরে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।

লং তিয়াং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৩ বছর বয়সী মী সিংফামালাই সেই ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "ভেতরে আমরা চার-পাঁচজন কোনো কম্বল ছাড়াই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকতাম, যা আমাদের শরীর গরম রাখতে সাহায্য করেছিল। ভেতরে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল এবং পানি যখন কিছুটা কমে আসে, তখন একা থাকার ভয়ে আমরা নিজেরাই হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। অনেক জায়গায় আমাদের ডুব দিতে হয়েছে, আবার কোথাও আক্ষরিক অর্থেই মানুষের শরীরের মাপে তৈরি সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি করে টেনেহিঁচড়ে এগোতে হয়েছে।"

মূলত দারিদ্র্যের তাড়নাতেই ওই খনি প্রকল্পের পাহাড়ের গুহায় সোনার খোঁজে প্রথমবার ঢুকেছিলেন মী এবং তাঁর বন্ধুরা। লাওসের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবনধারণের স্থায়ী উপায় না থাকায় অনেকেই এভাবে পাহাড়ি গুহায় ভাগ্য অন্বেষণে যান। কিন্তু তারা ভেতরে ঢোকার পরপরই গ্রীষ্মকালীন ভারী বর্ষণে জঙ্গল ও গুহা পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে যায়। দীর্ঘ ১১ দিন শুধু পানি খেয়ে বেঁচে থাকা মী জানান, মা ও বোনদের মুখ দেখার তীব্র আকুতিই তাঁকে এই নরককুণ্ডে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছে।

বাইরে এসে যখন তিনি মানুষের উল্লাস দেখেন, তাঁর মনে হয়েছিল তিনি এক নতুন জীবন পেয়েছেন। ল্যাম নামের আরেক জীবনজয়ী শ্রমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "দারিদ্র্য বড় ভয়ানক জিনিস। আর সেই কারণেই টিকে থাকার জন্য এবং বেঁচে থাকার জন্য আমরা এতটা কঠিন লড়াই করেছি।"

গুহা থেকে বেরিয়ে মীর মুখে প্রথম জুটেছিল গরম জাউ ভাত। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি কেবল নরম খাবারই খেতে পারছেন। অন্য দুই শ্রমিক কিছুটা আঘাত পেলেও ওষুধের মাধ্যমে এখন তারা সুস্থতার পথে।

এই চারজন নিজেদের চেষ্টায় অলৌকিকভাবে ফিরে এলেও খনি এলাকায় উদ্ধার অভিযান কিন্তু এখনই শেষ হচ্ছে না। কারণ, এই পাঁচজন ভেতরে ঢোকার আগেই আরও দুজন গ্রামবাসী অন্য একটি পথ দিয়ে ওই গুহাব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন, যারা গত ১১ দিন ধরে নিখোঁজ। তাদের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা গুহার বাইরে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ডুবুরি জশ রিচার্ডস জানিয়েছেন, বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের দেওয়া মানচিত্র অনুযায়ী গুহার আরও ১০০ মিটার গভীরে একটি বড় ‘এয়ার পকেট’ বা বায়ুস্তর রয়েছে।

সুড়ঙ্গের সেই অংশটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক। যদি নিখোঁজ দুজন বেঁচে থাকেন, তবে কেবল সেখানেই তাদের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত রাতে নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় গুহার পানির স্তর আবারও বেড়ে গেছে, যা উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আবার কখনো এই গুহায় ঢুকবেন কি না, জানতে চাইলে মী সিংফামালাই শিউরে উঠে বলেন, "কখনো না। আমাকে যদি কেউ জোর করে আবার ওখানে পাঠাতে চায়, তবে তা আমাকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতোই হবে।"

সূত্র: সিএনএন


গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২১:৩৯:৩৪
গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ির ঘোষণা দিয়েও তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান থেকে আংশিক সরে এসেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। গত সপ্তাহে এক বিতর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বিশেষ কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারী সমস্ত অভিবাসীকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন এখন স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো ঢালাও নিয়ম নয় এবং সব অভিবাসীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পূর্বের নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এখতিয়ার আগে থেকেই ছিল, নতুন নির্দেশনায় কেবল সেই বিষয়টিই কর্মকর্তাদের পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকরা বেশি মাত্রায় মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রশাসনের এমন আকস্মিক পিছুটানকে একটি ‘আংশিক ইউ-টার্ন’ হিসেবে দেখছেন ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই নতুন ব্যাখ্যার পরও সাধারণ অভিবাসী এবং তাদের আইনি আইনজীবীদের মধ্যকার বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। কার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে আর কে ছাড় পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়নি।

এমনকি নীতিটি প্রথম জনসমক্ষে আসার সময় খোদ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভেতরেও এর পরিধি ও প্রয়োগ নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি সাধারণ প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই বেশ কিছু গ্রিনকার্ড ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছে যে—কেন তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করছেন না এবং এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি না। থার্ড ওয়ে নামের একটি সামাজিক নীতি নির্ধারণী সংস্থার প্রধান ও ইউএসসিআইএস-এর সাবেক কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্স বলেন, জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মার্কিন প্রশাসন এখন তাদের তৈরি করা জটলা সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের মতো বড় বড় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এই নতুন প্রক্রিয়াটি মার্কিন অর্থনীতিকে অত্যন্ত বিঘ্নিত করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদনই মঞ্জুর করা হয়েছে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুযোগ দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়াকড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারত পারিবারিক স্পনসরশিপের আওতায় থাকা অভিবাসী এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতে কর্মরত এইচ-১বি ভিসা ধারী দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের এই আংশিক পিছুটান এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা অভিবাসী মহলে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি দিলেও, আইনি অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।


নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৮:৩৩:৫৭
নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবিলম্বে পদত্যাগ এবং দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক। গতকাল শনিবার (৩০শে মে) রাতে আয়োজিত এই বিশাল গণ-বিক্ষোভে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী জনস্রোত দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী জোট এবং নাগরিক সামাজিক সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধ নীতি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে স্লোগান দেন এবং অতি দ্রুত নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।

মিছিলটি তেল আবিবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র কাপলান স্ট্রিটসহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী থিয়েটার স্কয়ার এবং হাবিমা স্কয়ারে সমবেত হয়ে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ তেল আবিবের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ধমনী ‘আয়ালন মহাসড়ক’ অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। রাজপথ থেকে দাঙ্গাকারীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুমুল ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করা এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একটি বড় অংশের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত এবং পরবর্তী সময়ে সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের চরম ব্যর্থতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। তারা নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন।

এদিকে, তেল আবিবের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল হোম ফ্রন্ট কমান্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি স্থল বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৭:৫৪:৫৩
ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভালো কোনো বিকল্প বা রাস্তা খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পকে এখন হয় ‘খারাপ’ অথবা ‘আরও খারাপ’—এই দুটি প্রতিকূল পথের যেকোনো একটিকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হবে। গতকাল শনিবার (৩০ মে) তেহরানে দেওয়া এক নীতিগত বক্তব্যে জাভানি এই মন্তব্য করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাভানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরিচালিত দীর্ঘ সংঘাতের ফলাফল এখন বিশ্ববাসীর সামনে পরিষ্কার। মার্কিন প্রশাসনকে হয় এখন ইরানি জাতির বৈধ অধিকার ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে, নয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আত্মঘাতী আগ্রাসনের পথেই এগোতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত এক বিশাল কৌশলগত ভুল করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে উৎখাত করা। তবে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরোধের মুখে সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আইআরজিসি’র এই শীর্ষ কমান্ডার।

জাভানি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের পক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে। জলপথের দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর ইরান এখন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানে রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে ইরান ইতোমধ্যে নিজেদের যৌক্তিক শর্তাবলি বিশ্বমঞ্চে ঘোষণা করেছে এবং এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক দায়িত্ব ও বল সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।

ইরানের ভেতরের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আইআরজিসির এই নীতি নির্ধারক বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে ইরানি জনগণের জাতীয় অধিকার নিশ্চিত করতে হবে; তা আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলেই হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে চূড়ান্ত সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি আবারও কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবার আরও বহুগুণ শক্তিশালী, নিখুঁত ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র : প্রেস টিভি


ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১১:২৫:২১
ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা নিরসন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক হস্তক্ষেপে তা নতুন পেন্ডুলামে ঝুলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন দূতদের তৈরি করা সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির খসড়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

গত শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি প্রশাসনিক বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর আলোচক দলকে এই কঠোর নির্দেশনা দেন বলে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সমঝোতা স্মারকের (MoU) খসড়ায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন একটি সাধারণ অঙ্গীকার বা রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা রয়েছে। তবে এর বাইরে তেহরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচি বা মজুত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ছাড় কিংবা শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্প এই শিথিল ধারায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন এবং চুক্তির বয়ানে আরও কঠোর ও নির্দিষ্ট আইনি ভাষা যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, "বিষয়টি মূলত আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে ইরান এ যাবৎ যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, তা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে বা নিষ্পত্তি করা হবে এবং সেই পুরো প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি (Timeline) কী হবে—তা চুক্তিতে পরিষ্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।"

অন্য একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পারমাণবিক বিষয়ের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ধারাগুলোর শব্দচয়ন ও ভাষাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই নতুন সংশোধিত প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ মহলের জবাব বা প্রতিক্রিয়া পেতে অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, "ইরানের উত্তরের জন্য আমরা তাড়াহুড়ো করছি না, কারণ প্রেসিডেন্ট যা চেয়েছেন তা নিশ্চিত করেই আমরা চুক্তি করতে চাই। তবে সপ্তাহের শুরুতেই (চলতি সপ্তাহের প্রথমার্ধে) আমরা এই আলোচনার ইতিবাচক কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়ার আশা করছি।"

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই পক্ষ একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১১:২০:১৫
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জলসীমা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে (IRIB) প্রচারিত এক জরুরি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত করা ড্রোনটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত আধুনিক ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) মডেলের একটি মানববিহীন আকাশযান। ড্রোনটি ইরানের কৌশলগত জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে একটি গোপন ‘শত্রুতামূলক ও গোয়েন্দা অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।

প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনটি ইরানের আকাশ ও জলসীমার প্রতিরক্ষা বলয়ের রাডারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর আইআরজিসির নিজস্ব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Missile Defense System) মাধ্যমে সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে আকাশেই ধ্বংস ও ভূপাতিত করা হয়। ঘটনা পর আইআরজিসি বিশ্ববাসীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, “ইরানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন বা অনুপ্রবেশের জবাব সবসময় এমন দৃঢ়, অনমনীয় ও সিদ্ধান্তমূলকভাবেই দেওয়া হবে।”

তবে স্পর্শকাতর এই ড্রোনটি ঠিক কোন সমুদ্রসীমায় বা ভৌগোলিক অবস্থানে ভূপাতিত করা হয়েছে, ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে কিংবা এর ধ্বংসাবশেষ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বড় ধরণের সামরিক দাবি করা হলেও, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও বেশি জটিল ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশ ও সমুদ্রপথে মার্কিন এবং ইরানি বাহিনীর নজরদারি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই এমন মুখোমুখি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছিল। এর আগেও একাধিকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার নজির রয়েছে তেহরানের, যারা বরাবরই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:৩৪:০০
ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক ঝড়ের পূর্বাভাস মিলেছে। ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর—এমনটাই দাবি করেছেন ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দণ্ডিত সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আংকারাকে ‘নতুন ইরান’ এবং ভবিষ্যৎ প্রধান শত্রু হিসেবে দেখানোর যে নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, পোলার্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত তারই স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একটি বিশেষ পডকাস্টে জনাথন পোলার্ড সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পর ইসরায়েলকে সামনে আরো বড় ও বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানিদের সঙ্গে ইসরায়েলের যতটা সহজ সময় কেটেছে, তুর্কিদের সঙ্গে ততটা সহজ হবে না। তাদের পরবর্তী যুদ্ধ সম্ভবত হবে তুরস্ক ও মিসরের বিরুদ্ধে এবং খুব শীঘ্রই অঞ্চলে একটি বড় ঝড় ধেয়ে আসছে।

পোলার্ড তাঁর বক্তব্যে সিরিয়ায় তুরস্ক-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা দখলকৃত দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেখান, এই ধরনের পদক্ষেপ তুর্কি বাহিনীকে সরাসরি ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক ভূমিকা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পোলার্ডের এই বক্তব্য তুরস্ককে একটি বড় সামরিক হুমকি হিসেবে নতুন করে তুলে ধরার বৃহত্তর ইসরায়েলি প্রচেষ্টারই অংশ। এর আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট কাতারের সমর্থনে তুরস্ককে ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ইরানের স্থলাভিষিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। একই সাথে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলও সিরিয়ায় আংকারার সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সরকার-নিযুক্ত একটি বিশেষ কমিটি সিরিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়, যা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের সামরিক threat বা হুমকি মূল্যায়নে এখন ইরানের পাশাপাশি মিসরের নামও বেশ ঘন ঘন উঠে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ইসরায়েলি নীতি-বিশ্লেষণে উদীয়মান তুর্কি-মিসরীয় নতুন জোটের বিষয়ে তেল আবিবকে সতর্ক করা হয়। ওই সতর্কতায় বলা হয়, ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী ‘সুন্নি বলয়’ তৈরি হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে কায়রো ও আংকারা ইসরায়েলের সাথে একসময় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করায় এই দুই মুসলিম রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তেল আবিবের জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গগত, মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ডকে ১৯৮৭ সালে মিত্র দেশ ইসরায়েলের কাছে আমেরিকার অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক ও কৌশলগত তথ্য পাচারের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল দুই বন্ধু দেশের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ক্ষতিকর গুপ্তচরবৃত্তির মামলা। দীর্ঘ ৩০ বছর সাজা খাটার পর ২০১৫ সালে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান এবং ২০২০ সালে প্যারোলের শর্ত শেষ হলে তিনি ইসরায়েলে পৌঁছান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বয়ং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং তার হাতে ইসরায়েলি নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র তুলে দেন।

ইসরায়েলে স্থায়ী হওয়ার পর থেকেই পোলার্ড দেশটির উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন এবং গাজা দখল ও সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেন। এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসরত ইহুদিদের নিজ দেশের চেয়ে ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে আমেরিকার মতো দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার আহ্বান জানিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন এই বিতর্কিত সাবেক গোয়েন্দা।

/আশিক


যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:২৭:৩০
যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান কর্তৃক নতুন করে নৌ-মাইন পেতে রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে এই সামুদ্রিক এলাকায় চরম সতর্কতা (Emergency Alert) জারি করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এই জরুরি বার্তায় বিশ্ববাজারের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের মালিক, অপারেটর ও আন্তর্জাতিক নাবিকদের হরমুজ প্রণালিতে চলমান বিপজ্জনক সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই সতর্কবার্তায় পারস্য উপসাগরীয় এই আন্তর্জাতিক জলপথের বর্তমান আঞ্চলিক হুমকির মাত্রাকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন পক্ষের সরাসরি অভিযোগ—ইরান এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথে সম্পূর্ণ বিপজ্জনক ও অবৈধ উপায়ে মাইন পেতে নিজেদের একক সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নিয়োজিত নেভিগেশনাল জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের জীবনের জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর সুরক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনী কয়েকটি জরুরি পরামর্শ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে

হরমুজ প্রণালির প্রথাগত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম (টিএসএস) সম্পূর্ণ পরিহার করে বিকল্প ও নিরাপদ পথ দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করতে হবে।

ওই জলপথ দিয়ে যেকোনো যাত্রার আগে আবশ্যিকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করতে হবে।

প্রণালি পার হওয়ার সময় জাহাজের সার্বক্ষণিক রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর রাখতে হবে।

যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া সমস্ত সামরিক নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া মার্কিন কমান্ডের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো জাহাজকে যদি মাইন পাতার কাজে লিপ্ত থাকতে দেখা যায় কিংবা ইরানকে এই কার্যক্রমে কোনোভাবে সহায়তা করতে চিহ্নিত করা হয়, তবে মার্কিন বাহিনী নিজেদের ও আন্তর্জাতিক জলপথের আত্মরক্ষার স্বার্থে (Right to Self-Defense) ওই জাহাজটিকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা ধ্বংস করতে দ্বিধা করবে না।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১০:৫৬:৪৪
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সম্প্রসারণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘সিচুয়েশন রুম’-এ অনুষ্ঠিতব্য এই বিশেষ বৈঠকেই তিনি ইরান-সংক্রান্ত নতুন খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হলেও, বৈঠক শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় সিদ্ধান্ত বা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে এতখানি আত্মবিশ্বাসী থাকা সত্ত্বেও কেন শেষ মুহূর্তে আলোচনাটি ভেস্তে গেল বা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো—সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইরানের সামনে যে কঠোর শর্তগুলো ছুড়ে দিয়েছিলেন, তা এই অচলাবস্থার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প স্পষ্ট দাবি করেন, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে যদি দীর্ঘায়িত বা স্থায়ী করতে হয়, তবে ইরানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এর পাশাপাশি ইরানকে ভবিষ্যতে ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার’ আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তাদের কাছে বর্তমানে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের কাজে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে তদারকি ও অনুমতি দিতে হবে। তবে তেহরানের নীতিনির্ধারকরা শুরু থেকেই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান শর্তগুলোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।

মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সাথে চলমান আলোচনাটি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর হচ্ছে এবং এই আলোচনার এজেন্ডায় কোনোভাবেই ইরানের ‘পারমাণবিক ইস্যু’ অন্তর্ভুক্ত নেই। কূটনৈতিক পর্যায়ে এই টানাপোড়েনের মাঝেই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আর এই হামলার জের ধরে ট্রাম্পও একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা সফল না হলে যেকোনো মুহূর্তে আবারও পূর্ণমাত্রার বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

অবশ্য ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে কিছুটা নরম সুরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্মানজনক সমঝোতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে যে কঠোর ‘নৌ অবরোধ’ আরোপ করে রেখেছে, তা ধাপে ধাপে তুলে নিতে পারে। আর এমনটি হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও আগের মতো স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওহাইও বা ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো—আপাতত যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া, যাতে করে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত আলোচনার একটি কূটনৈতিক পথ তৈরি করা যায়। আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গোপন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় তারা পরিচয় গোপন রেখেই এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

পাঠকের মতামত:

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা... বিস্তারিত