অসহায় জনগণের আর্তনাদ: সংবিধানের ‘মালিক’ এখন গ্যাস ও চালের বাজারে জিম্মি

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১১:২৫:০৭
অসহায় জনগণের আর্তনাদ: সংবিধানের ‘মালিক’ এখন গ্যাস ও চালের বাজারে জিম্মি
অসহায় জনগণ /প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনায় বলা হয়েছে, এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ এবং এ দেশের মানুষই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে নাগরিকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমনটিই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের গ্যাস সংকট, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তার অভাব বিশ্লেষণ করলে প্রশ্ন জাগে, এই সাংবিধানিক অধিকার কি কেবল পুস্তকেই সীমাবদ্ধ? জনগণের দুঃখ-বেদনা আর গভীর হতাশার কথা শোনার মতো কান কি বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আছে?

বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আধুনিক শহর ছেড়ে যেন মধ্যযুগের জীবনযাত্রায় ফিরে গেছে। মাটির চুলার ওপর নির্ভর করে কোনোমতে আহারের সংস্থান করতে হচ্ছে অনেককে। অন্যদিকে যারা সিলিন্ডার বা এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বাজারে এলপিজি এখন অনেকটা ‘সোনার হরিণে’র মতো দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ দোকানেই সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও স্থির আয়ের মানুষগুলো এই ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা হলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কেবল একটি দায়সারা বিবৃতি দিয়েই নীরবতা পালন করছে। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, জ্বালানি উপদেষ্টা যিনি সব সময় নানা বিষয়ে সোচ্চার থাকেন, তিনি এই জনদুর্ভোগের সময় যেন মৌনব্রত অবলম্বন করেছেন। দেশের মানুষ যখন গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে, তখন তিনি ব্যস্ত রয়েছেন উত্তরের জনপদে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রচারণায়। জনগণের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সংকট সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণাই যেন তার কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের বাজার এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরণের এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহখানেক পরেই বাজারে নতুন চাল আসার কথা থাকলেও তার আগেই পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দামে এই উল্লম্ফন নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ নাজিরশাইল এখন ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৩-৪ টাকা কম ছিল। আমদানি করা চালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, নতুন চাল বাজারে আসার আগে সাধারণত দাম ১-২ টাকা কমলে বা সামান্য বাড়লেও এবার সেটি ৩-৪ টাকা বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। এই বাজার পরিস্থিতির জন্য খাদ্য উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষ একজন গণমুখী ব্যক্তিত্বের চেয়েও ‘আমলা’ হিসেবেই বেশি দেখছে। তার এবং জনগণের মাঝে যেন চীনের প্রাচীরের মতো এক উঁচু দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে, যা ডিঙিয়ে মানুষের হাহাকার তার কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না।

মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে ওষুধ। সম্প্রতি সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১৩৫টি থেকে বাড়িয়ে ২৯৫টি করলেও এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও ফার্মেসিগুলো তা মানছে না। ওষুধের দামের ক্ষেত্রে এক ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। অথচ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বা তার দপ্তরের কোনো কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর লোকবল সংকটের পুরনো ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত ওষুধের উচ্চমূল্যের জাঁতাকলে বন্দি হয়ে আছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি বর্তমানে দেশে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ‘মব সন্ত্রাস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। পাড়া-মহল্লায় এক ধরণের নীরব চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে, যা থেকে ক্ষুদ্র দোকানি থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতি—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই শুরু হচ্ছে মব সন্ত্রাস অথবা সাজানো মিথ্যা মামলার হুমকি। এমনকি মানুষের নিজ গৃহের ভেতরেও এখন আর নিরাপত্তা নেই। বাসাবাড়িতে ঢুকে হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাময়িক হাঁকডাক শোনা গেলেও কিছুদিন পর সবকিছু আবার থিতিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার যেন এখন সোনার পাথরবাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রার্থীরা বরাবরের মতোই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর সুন্দর আগামীর স্বপ্ন নিয়ে জনগণের দুয়ারে হাজির হবেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি কি সাধারণ মানুষের গ্যাস সংকট বা নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জ্বালা মেটাতে পারবে? সাধারণ মানুষ কবে মনে করবে যে এই দেশটা সত্যিই তাদের এবং তারাই এই রাষ্ট্রের মালিক? এই স্বস্তি আর মালিকানার বোধ ফিরিয়ে আনাই এখন বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


আজ কোন দেশের মুদ্রায় কত লাভ? জেনে নিন ২৮ ফেব্রুয়ারির আপডেট দর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১১:৩৬:২৩
আজ কোন দেশের মুদ্রায় কত লাভ? জেনে নিন ২৮ ফেব্রুয়ারির আপডেট দর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত প্রসারিত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিদেশি মুদ্রার সঠিক বিনিময় হার জানা ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন শক্তিশালী ও জনপ্রিয় মুদ্রার বিনিময় হারে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই ওঠানামা সরাসরি দেশের আমদানি খরচ এবং প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

আজকের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ইউএস ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি ১২২ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ২০ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময় হার ১৬৪ টাকা ৫৫ পয়সা।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনারের মান বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে, যার বর্তমান বিনিময় হার ৩৯৮ টাকা ৪৫ পয়সা। সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৫৭ পয়সা এবং ওমানি রিয়াল ৩১৭ টাকা ৬৬ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ৩৪ পয়সা এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩১ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার কেবল বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতেও সাহায্য করে।

জাপানি ইয়েন বর্তমানে ৭৮ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে এবং চীনা ইউয়ানের মান ১৭ টাকা ৮৫ পয়সা।

উল্লেখ্য যে, এই বিনিময় হারগুলো যে কোনো সময় আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বড় ধরণের লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ বাজার দর যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিচে আজকের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাসমূহের বিনিময় হারের তালিকাটি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হলো যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

(সূত্র: গুগল)


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম: জেনে নিন আজ ভরিপ্রতি লেটেস্ট রেট

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১০:২০:২৩
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম: জেনে নিন আজ ভরিপ্রতি লেটেস্ট রেট
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে গয়না কেনা এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত উভয়ের মধ্যেই অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট ছাড়াও অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমানুপাতিক হারে বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। বাজুস আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ, ভ্যাট ও মজুরি যোগ করলে এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের অলঙ্কার কিনতে ক্রেতাকে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছি গুনতে হবে।

স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারিও স্বর্ণের দাম একদফায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুবার দাম বাড়ার ফলে স্বর্ণ এখন বিনিয়োগের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাতে পরিণত হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৭০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সামান্য হলেও স্বস্তির খবর।

/আশিক


এসএমই তহবিল শিল্পে না গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফায় বিদেশ সফর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:০৯:১৮
এসএমই তহবিল শিল্পে না গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফায় বিদেশ সফর
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পুনরর্থায়ন প্রকল্প নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, শিল্প খাতে অর্থায়ন না করে প্রকল্পের অব্যবহৃত তহবিল সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ দিয়ে কর্মকর্তাদের সুইজারল্যান্ড সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন দেন বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রকল্পটির নাম ‘সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ বা এসএমইডিপি-২। এটি বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত একটি পুনরর্থায়ন কর্মসূচি। লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এসএমই খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল অব্যবহৃত থাকায় তা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে শিল্প খাতে বিতরণ না করে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। এই বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জিত হয়। প্রায় ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রাখা হয়। ওই হিসাবে জমা থাকা অর্থ থেকে বিনিয়োগ কমিটি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং ভিজিট অন এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক বিদেশ সফরের প্রস্তাব দেয়।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে অর্থ বিভাগে সরকারি আদেশ জারির জন্য চিঠি পাঠানো হয়। তবে সুইস দূতাবাসে ভিসার শিডিউল না পাওয়া এবং জিও ইস্যুতে বিলম্বের কারণে সফরটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে জানা গেছে।

সমালোচকদের মতে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্প খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণ। সেই অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করে পরে মুনাফার অংশ বিদেশ সফরে ব্যয় করা প্রকল্পের নীতিগত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি। বিশেষ করে ডলার সংকট ও সরকারি ব্যয়ে সংযমের প্রেক্ষাপটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশ সফর সংক্রান্ত কড়াকড়ি নির্দেশনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক হতে পারে।

অন্যদিকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিনিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত ইনভেস্টমেন্ট পলিসি অনুসারেই নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, অব্যবহৃত তহবিল সুদ ও বিনিময় হার কমে যাওয়ায় মূলধন ক্ষয়ের ঝুঁকিতে ছিল। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের পরামর্শে ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা হয় এবং মুনাফা অর্জিত হয়। সেই মুনাফা থেকেই সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে কোনো অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় জড়িত নয়।

বিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

-রাফসান


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:৪১:০৬
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। সোমবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন দর সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত সারাদেশে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের প্রভাবও স্থানীয় দামে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গয়নার নকশা, কারিগরি মান ও ওজনভেদে মজুরি বাড়তে বা কমতে পারে।

স্বর্ণের বিপরীতে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি ভোক্তা ও গয়না ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিয়ে মৌসুম ও উৎসবের আগে দামের এই ঊর্ধ্বগতি ক্রেতাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ হিসেবেও স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশে অনেকেই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন।

-রাফসান


খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৩৪:৪৯
খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে সচিবালয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই সুখবর জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে, এলপিজির বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে কিছু খুচরা বিক্রেতা বা রিটেলার বাড়তি দাম নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভোক্তা পর্যায়ে এই ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং বা নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে এলপিজির দাম দ্রুতই সরকার নির্ধারিত পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আমদানিকারকরা তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরলে সরকার সেগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বাজারে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

যদিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব স্টোরেজ সক্ষমতা কিছুটা কম, তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আমদানিকারকদের দাবিগুলো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিচার করা হবে, তবে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় কোনোভাবেই এলপিজির দাম বাড়ানো হবে না। সরবরাহ চেইন ঠিক রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের মার্কেট অ্যাবিউজ বা কারসাজি রুখতে মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


কথায় নয়, কাজেই দক্ষতা প্রমাণ করতে চাই: নতুন গভর্নর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১২:৫২:৪১
কথায় নয়, কাজেই দক্ষতা প্রমাণ করতে চাই: নতুন গভর্নর
বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে বর্তমানে তাঁর মূল লক্ষ্য হবে কাজ করা, অহেতুক কথা বলে সময় নষ্ট করা নয়। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বেলা ১১টার দিকে তিনি প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপস্থিত ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের সময় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নতুন গভর্নর বলেন যে তিনি কথায় নয়, বরং কাজের মধ্য দিয়েই নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে যেহেতু তিনি মাত্রই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাই আগে কাজ শুরু করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের আগে মোস্তাকুর রহমান সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এর আগে গত বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

একই প্রজ্ঞাপনে বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং মোস্তাকুর রহমান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। উল্লেখ্য যে, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে বিরোধী দল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন গভর্নর সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে তাঁর প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

/আশিক


আজকের মুদ্রার বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রায় কত টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:৪২:৫৪
আজকের মুদ্রার বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রায় কত টাকা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখতে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার মান পরিবর্তিত হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা ইউএস ডলারের বিনিময় হার ১২১ টাকা ৬৬ পয়সা এবং ইউরোপীয় ইউরোর দাম ১৪৩ টাকা ৮৯ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ১৩ পয়সা এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৬ টাকা ৭৪ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

জাপানি ইয়েনের মান বর্তমানে ৭৮ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলারের বিনিময় হার ৮৯ টাকা ২৭ পয়সা।

সুইডিশ ক্রোনা ১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬ টাকা ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের প্রেক্ষিতে চীনা ইউয়ান রেনমিনবি আজ ১৭ টাকা ৭৮ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপি ১ টাকা ৩৪ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপি ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসেবে লেনদেনের হার পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনারের মান আজ ৩৯৮ টাকা ৩৯ পয়সা যা বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩১ টাকা ৩৯ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

এছাড়া সিঙ্গাপুর ডলারের হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯৬ টাকা ৬৭ পয়সা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ ভেদে এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ধরন অনুযায়ী এই হার কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে এই বিনিময় হার আপডেট করে থাকে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার বা ব্যাংকের মাধ্যমে হালনাগাদ হার যাচাই করে নেওয়া শ্রেয়।

(সূত্র : গুগল)


সোনার বাজারে উত্তাপ: এক ধাক্কায় বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ০৯:৫৫:১৮
সোনার বাজারে উত্তাপ: এক ধাক্কায় বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর রয়েছে। এর আগে গত সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় এবং ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বাজারে আজ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় কেনা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বর্ণের এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা থাকতে পারে। এদিকে স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী হলেও রুপার দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকাতেই স্থির রয়েছে।

/আশিক


আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হলো আহসান এইচ মনসুরকে

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৬:০৬:০৭
আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হলো আহসান এইচ মনসুরকে
মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে থেকে বুধবার দুপুরে বের হয়ে যান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করেছে এবং তিনি তাতে প্রাথমিক সম্মতি প্রদান করেছেন।

এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সম্ভাব্য নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন বলে জানা গেছে। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর পৌনে দুইটার দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্দরমহলে আজ দুপুর থেকেই এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। দুপুর ২টার দিকে ড. আহসান এইচ মনসুরকে তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি এবং তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণও করা হয়নি; তবে গণমাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার খবর দেখে তিনি নিজ উদ্যোগে বাসায় চলে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আহসান এইচ মনসুরকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ তাঁর অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। এমনকি তাঁকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ ও বদলি করায় আজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনরত কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হয়, তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে তারা পূর্ণাঙ্গ কলম-বিরতিতে যাবেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেইন অফ কমান্ড পুনরুদ্ধারে নতুন গভর্নর নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার।

/আশিক

পাঠকের মতামত: