অসহায় জনগণের আর্তনাদ: সংবিধানের ‘মালিক’ এখন গ্যাস ও চালের বাজারে জিম্মি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১১:২৫:০৭
অসহায় জনগণের আর্তনাদ: সংবিধানের ‘মালিক’ এখন গ্যাস ও চালের বাজারে জিম্মি
অসহায় জনগণ /প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনায় বলা হয়েছে, এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ এবং এ দেশের মানুষই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে নাগরিকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমনটিই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের গ্যাস সংকট, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তার অভাব বিশ্লেষণ করলে প্রশ্ন জাগে, এই সাংবিধানিক অধিকার কি কেবল পুস্তকেই সীমাবদ্ধ? জনগণের দুঃখ-বেদনা আর গভীর হতাশার কথা শোনার মতো কান কি বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আছে?

বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আধুনিক শহর ছেড়ে যেন মধ্যযুগের জীবনযাত্রায় ফিরে গেছে। মাটির চুলার ওপর নির্ভর করে কোনোমতে আহারের সংস্থান করতে হচ্ছে অনেককে। অন্যদিকে যারা সিলিন্ডার বা এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বাজারে এলপিজি এখন অনেকটা ‘সোনার হরিণে’র মতো দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ দোকানেই সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও স্থির আয়ের মানুষগুলো এই ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা হলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কেবল একটি দায়সারা বিবৃতি দিয়েই নীরবতা পালন করছে। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, জ্বালানি উপদেষ্টা যিনি সব সময় নানা বিষয়ে সোচ্চার থাকেন, তিনি এই জনদুর্ভোগের সময় যেন মৌনব্রত অবলম্বন করেছেন। দেশের মানুষ যখন গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে, তখন তিনি ব্যস্ত রয়েছেন উত্তরের জনপদে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রচারণায়। জনগণের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সংকট সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণাই যেন তার কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের বাজার এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরণের এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহখানেক পরেই বাজারে নতুন চাল আসার কথা থাকলেও তার আগেই পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দামে এই উল্লম্ফন নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ নাজিরশাইল এখন ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৩-৪ টাকা কম ছিল। আমদানি করা চালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, নতুন চাল বাজারে আসার আগে সাধারণত দাম ১-২ টাকা কমলে বা সামান্য বাড়লেও এবার সেটি ৩-৪ টাকা বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। এই বাজার পরিস্থিতির জন্য খাদ্য উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষ একজন গণমুখী ব্যক্তিত্বের চেয়েও ‘আমলা’ হিসেবেই বেশি দেখছে। তার এবং জনগণের মাঝে যেন চীনের প্রাচীরের মতো এক উঁচু দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে, যা ডিঙিয়ে মানুষের হাহাকার তার কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না।

মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে ওষুধ। সম্প্রতি সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১৩৫টি থেকে বাড়িয়ে ২৯৫টি করলেও এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও ফার্মেসিগুলো তা মানছে না। ওষুধের দামের ক্ষেত্রে এক ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। অথচ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বা তার দপ্তরের কোনো কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর লোকবল সংকটের পুরনো ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত ওষুধের উচ্চমূল্যের জাঁতাকলে বন্দি হয়ে আছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি বর্তমানে দেশে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ‘মব সন্ত্রাস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। পাড়া-মহল্লায় এক ধরণের নীরব চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে, যা থেকে ক্ষুদ্র দোকানি থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতি—কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই শুরু হচ্ছে মব সন্ত্রাস অথবা সাজানো মিথ্যা মামলার হুমকি। এমনকি মানুষের নিজ গৃহের ভেতরেও এখন আর নিরাপত্তা নেই। বাসাবাড়িতে ঢুকে হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাময়িক হাঁকডাক শোনা গেলেও কিছুদিন পর সবকিছু আবার থিতিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার যেন এখন সোনার পাথরবাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রার্থীরা বরাবরের মতোই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর সুন্দর আগামীর স্বপ্ন নিয়ে জনগণের দুয়ারে হাজির হবেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি কি সাধারণ মানুষের গ্যাস সংকট বা নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জ্বালা মেটাতে পারবে? সাধারণ মানুষ কবে মনে করবে যে এই দেশটা সত্যিই তাদের এবং তারাই এই রাষ্ট্রের মালিক? এই স্বস্তি আর মালিকানার বোধ ফিরিয়ে আনাই এখন বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:০১:৪৩
রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজেল কেনার ঘোষণার সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিগত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি লাগাম টেনে ধরতেই তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

তবে রাশিয়ার থেকে জ্বালানি ক্রয়ের এমন পদক্ষেপ বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মস্কোর জ্বালানি রপ্তানির আয় কমিয়ে আনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অর্থের জোগান সীমিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূরাজনৈতিক নীতি রয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তার উল্টো বার্তা দেয়।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার দুই দলের ছয়জন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের জোর তাগিদ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে সোমবার বাজারের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের ওপর গিয়ে ঠেকেছে।

সূত্র : সিবিএস নিউজ


সিপিআই রিপোর্টের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দামে নতুন অস্থিরতা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৭:৪৪:৩৭
সিপিআই রিপোর্টের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দামে নতুন অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের অতি সতর্ক অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে, যদিও দিনের শুরুতে দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে এসেছে। তবে দিনের প্রাথমিকভাগে ধাতুটির দর গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম এলে তা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কমার পাশাপাশি প্রকৃত সুদের হারের চাপও কমবে। দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক স্বর্ণ ক্রয়, তেলের দরপতন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনা স্বর্ণের জন্য একটি সুসংহত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। অন্যদিকে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বজায় থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারে বেচাকেনা হওয়া স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা দরপতনে ভূমিকা রাখছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা বুধবারের মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা থেকে ফেড-এর পরবর্তী পদক্ষেপের আভাস পাওয়া যাবে।

এদিকে স্বর্ণের বাজারে মন্দাভাব থাকলেও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ ডলার ১৮ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৯ ডলার ৬২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৭:৩২:৪২
ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট
ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) দেশব্যাপী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এর ফলে এই দুই দিন সাধারণ গ্রাহকদের সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি সেলিম খান এই ধর্মঘট ও এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং এর প্রতিবাদেই তাদের এই কঠোর কর্মসূচি।

এদিকে গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেশের বাজারে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করেছিল। সেই নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঠিক এই সময়ে ব্যবসায়ীদের দুই দিনব্যাপী বিক্রি বন্ধের এই ঘোষণায় দেশের এলপিজি বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে এই বন্ধের সময়ে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বা বিকল্প ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

/আশিক


এলপিজি আমদানিতে ফ্রেইট চার্জের নাটকীয়তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিপিসি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:৫১:৪৬
এলপিজি আমদানিতে ফ্রেইট চার্জের নাটকীয়তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিপিসি
ছবি : সংগৃহীত

এলপিজির বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো এবং বাজারে অবাধ প্রতিযোগিতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত সাত মাসে এক কেজি এলপিজিও আমদানি করতে পারেনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটি পাঁচ দফায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও কোনো উপযোগী সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সরকারের এই দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যর্থতার সুযোগে দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোটাই বেসরকারি আমদানিকারকদের দখলে রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দরপত্রে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল ফ্রেইট চার্জ বা অস্বাভাবিক জাহাজ ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টনে জাহাজ ভাড়া ছিল ২০০ ডলারের কম, সেখানে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী দরদাতারা প্রায় ২৭০ ডলার ফ্রেইট চার্জ দাবি করে। পরবর্তীতে সরাসরি ক্রয়নীতির (ডিপিএম) আওতায় স্পিড মার্কেটিং করপোরেশনকে মাত্র ৯৭ ডলারের অস্বাভাবিক কম দরপ্রস্তাবে ৫ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হলেও সংস্থাটি চুক্তির মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কোনো সরবরাহ করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তবসম্মত বাজারদর যাচাই না করে সময়ক্ষেপণ করায় বিপিসির সদিচ্ছা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজির বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে সরকারি খাতের এলপিজি গ্যাস লিমিটেডের অবদান মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাজারের প্রায় ৬৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র চারটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক। বর্তমানে বিইআরসি প্রতি মাসে দর নির্ধারণ করলেও বিপিসির নিজস্ব মজুত ও বাজার সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়ায় ভোক্তারা নিয়মিতই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া মোংলা, এলেঙ্গা ও কাট্টলীতে মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং মাতারবাড়ীতে বড় জাহাজে পণ্য খালাসের প্রকল্পগুলোতে চরম ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিইআরসি ও সাধারণ গ্রাহকরা বলছেন, বিপিসি দ্রুত আমদানি শুরু না করলে এলপিজি খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

/আশিক


জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:০৫:১৬
জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৬৫ টাকা ১৯৬৫ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৬ পয়সা বাড়িয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য লিটারপ্রতি দাম ১.০৭৭০ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ১.১৮৮২ ডলারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিইআরসির এক বার্তায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর গড় প্ল্যাটস রেট এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি স্টেটমেন্টে থাকা ডলারের বিনিময় হার বিশ্লেষণ করে এই দর সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এ দাম ৭ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

জ্বালানি খাতে মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি মূলত কয়েকদিন আগে শুরু হওয়া ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির অংশ। এর আগে গত ৪ অক্টোবর বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৭৯৩ টাকা করা হয়েছিল, যা আগে ছিল ১,৫৪১ টাকা। পাশাপাশি অক্টোবরের জন্য কেজিপ্রতি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করে কমিশন, যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা ৯৮ পয়সা বেশি। জ্বালানি খাতের এই সমন্বয়ের অংশ হিসেবে গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে পুরো পরিবহন ও জ্বালানি খাতেই নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি হলো।

/আশিক


জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অগ্রগতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:৪৮:১৭
জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অগ্রগতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রশাসনিক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোর সরকারি গেজেটের কপি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রশাসনিক শাখা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে আগে প্রকাশিত গেজেটের কপিটি এবার বাস্তবায়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মূলত গত ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত গেজেটটি প্রকাশ করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এখন মাঠপর্যায়ে ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব সারমিন সুলতানার স্বাক্ষর করা এই নির্দেশনাটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিশেষায়িত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। পাশাপাশি দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমির পরিচালকের কাছেও গেজেটের অনুলিপি সংযুক্ত করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে নতুন স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

/আশিক


ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:২০:২৩
ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের দরবৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে পতন ঘটেছে। ফেডের নীতিনির্ধারকদের সুদের হার সংক্রান্ত অবস্থান জানার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববাজারে এই প্রভাব পড়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টা ২৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৩০.৩৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৪,১৫৭ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক ওয়ালবাউম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, স্বর্ণের বাজারে সাময়িক মন্দাভাব দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে দর স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফেডের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর তাদের মুদ্রানীতি ও সুদের হার পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি পরিষ্কার হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দামের পরিবর্তনও ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

একই দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ১.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৫৪ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১,৬৭৯.২০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৫ শতাংশ কমে ১,১৫৪.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম রয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

/আশিক


দেশে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হারের নতুন তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:১০:০১
দেশে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হারের নতুন তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৪ শতাংশে, যা ঠিক তার আগের মাস আগস্টে ছিল ৮.২৬ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের ক্রমাগত দাম বাড়ার কারণেই সেপ্টেম্বরের সূচকে এই উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দর বাড়লেও সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে কমেছে, যার ফলে মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশের ৬৪টি জেলার ১৪৩টি হাট-বাজার থেকে সংগৃহীত ও বিশ্লেষিত তথ্যের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ও মজুরি হার সূচক (ডাব্লিউআরআই) প্রকাশ করে বিবিএস।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭.২২ শতাংশ, যা আগস্টে ৭.০২ শতাংশে ছিল। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৩০ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৯.৩২ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৮.৯৮ শতাংশ। শহর ও গ্রামের পরিসংখ্যান বিবেচনায় দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি ছিল। গ্রামাঞ্চলে সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৮ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮.৩১ শতাংশ। একই সঙ্গে গ্রামীণ খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭.০১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.১৮ শতাংশ। যদিও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯.৫৯ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৯.৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে শহরের ক্ষেত্রেও সার্বিক চিত্রটি প্রায় একই রকম ছিল। সেপ্টেম্বরে শহর এলাকায় গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৮.২০ শতাংশ। শহর এলাকার খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭.০৪ শতাংশের বিপরীতে সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৭.২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে খাদ্যবহির্ভূত খাতে, যেখানে শহর অঞ্চলের মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৮.৯৭ শতাংশ থেকে সামান্য কমে সেপ্টেম্বরে ৮.৯৪ শতাংশ হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির এই উর্ধ্বগতির মাঝে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কমায় আর্থিক চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৯০ শতাংশ, যা ঠিক তার আগের মাস আগস্টে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। বিভিন্ন খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৭.৮৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭.৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৮.০৭ শতাংশে।

/আশিক


গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২০:০৭:৫২
গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা
ছবি : সংগৃহীত

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, জরুরি সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এবং 'কিউ-ক্যাশ' (Q-Cash) নেটওয়ার্কের বড় ধরনের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস (POS), এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের এই সিস্টেম আপগ্রেডেশনের ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের লেনদেনে সাময়িক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সূত্রে জানা গেছে, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের এই মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মূলত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর লেনদেন ব্যবস্থা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকছে। সাময়িক সেবা বন্ধ থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে অগ্রণী, জনতা, রূপালী, কৃষি ব্যাংক, বেসিক, ব্যাংক এশিয়া, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকসহ প্রায় ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এটি কোনো স্থায়ী বৈশ্বিক সংকট নয় এবং অবকাঠামোগত মাইগ্রেশন শেষ হওয়া মাত্রই নিজ নিজ ব্যাংকের সেবা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বার্ষিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো সেবা আধুনিকায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিয়ে এ ধরনের সূচি নির্ধারণ করে। তবে কাকতালীয়ভাবে একই সময়ে একাধিক ব্যাংকের মাইগ্রেশন পেড়াতে বিষয়টি গ্রাহকদের নজরে এসেছে ও একযোগে ভোগান্তি তৈরি করেছে।

ব্যাংকগুলোকে এসএমএস ও নোটিশের মাধ্যমে গ্রাহকদের আগাম সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই বিভ্রাটের সময় জরুরি লেনদেনের সুবিধার্থে অল্টারনেটিভ চ্যানেল, এমএফএস (MFS) বা অন্যান্য ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি সেবা বন্ধের অজুহাতে পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) হাতিয়ে নেওয়া সাইবার প্রতারকদের বিষয়েও কঠোর সতর্ক বার্তা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: