তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা: দুদু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:১৯:৫১
তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা: দুদু
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শামসুজ্জামান দুদু। তাঁর মতে, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দেশের মানুষ আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা দেখছে এবং জনমনে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে বিএনপি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব–এর সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শামসুজ্জামান দুদুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তারেক রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশের মানুষ একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে। এই আস্থা আবেগনির্ভর নয়, বরং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ঐক্যের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব সংহত করা সম্ভব হবে।

বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে দুদু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত সরকারপ্রধান ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজয়ের নজির নেই এবং তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করেই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের সময়ে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তাঁর নেতৃত্বেই কন্যাশিক্ষা বিনা বেতনে বিস্তৃত হয়েছে এবং নারীসমাজ রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান, খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা পরিচালনার জন্য।

কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি প্রথম উদ্যোগ হিসেবে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে দুদু বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বন্দিদশায় থেকেও খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি। কারণ তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দোয়া মাহফিলে আয়োজক কমিটির সভাপতি নূর আফরজ বেগমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


মায়েদের ইজ্জতে টান দিলে আগুন জ্বলবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ২১:০২:০৩
মায়েদের ইজ্জতে টান দিলে আগুন জ্বলবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুরে আদর্শ স্কুলমাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামীর বাংলাদেশের এক মানবিক ও নিরাপদ সামাজিক চিত্র তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, একটি আদর্শ রাষ্ট্রে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা হবে প্রশ্নাতীত। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা যাতে পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং রাস্তাঘাটে চলাফেরায় তাঁদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে তাঁর দল অঙ্গীকারবদ্ধ। নারী ও পুরুষ—উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ব্যক্ত করে তিনি সমাজিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মর্যাদাকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান নারী অবমাননার বিরুদ্ধে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা কিছু বন্ধুদের বলতে চাই, মেহেরবানি করে মায়েদের ইজ্জতে কখনও টান দেবেন না। যদি এমনটি ঘটে, তবে আগুন জ্বলবে।” তিনি অত্যন্ত আবেগী ও কঠোর কণ্ঠে স্পষ্ট করে দেন যে, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো প্রতিকূলতাতেই তিনি মায়েদের সম্মানের প্রশ্নে পিছু হটবেন না। সব ধরণের অবিচার সহ্য করা গেলেও নারীর সম্ভ্রম ও ইজ্জতের বিষয়ে কোনো ধরণের শিথিলতা বা বরদাশত করা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন। তাঁর এই বক্তব্য সমাবেশে উপস্থিত নারীদের মধ্যে এক ধরণের নিরাপত্তার ও আস্থার বাতাবরণ তৈরি করে।

দেশের বিদ্যমান রাজনীতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন যে, বাংলাদেশে আর কোনো ‘ভোট চোর’ বা জনমত লুণ্ঠনকারী শক্তিকে দেখতে চায় না সাধারণ মানুষ। তিনি নেতৃত্বের এক নতুন সংজ্ঞা প্রদান করে বলেন, যারা নিজ দলের অভ্যন্তরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা প্রতিহিংসামূলক হত্যাকাণ্ড থেকে কর্মীদের রক্ষা করতে পারবে, তারাই কেবল জাতিকে একটি সুন্দর ও টেকসই বাংলাদেশ উপহার দিতে সক্ষম হবে। ঘুণে ধরা বর্তমান রাজনীতি এবং এককেন্দ্রীক ক্ষমতা কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে মানুষ বিপুলভাবে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকেই জয়যুক্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনই হবে বাংলাদেশের প্রকৃত মুক্তি ও অগ্রযাত্রার সোপান।

জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আগে একজন ওসমান হাদি ছিল, কিন্তু আজ তাঁর রক্ত থেকে ১৮ কোটি হাদি তৈরি হয়েছে।” শহীদ হাদির স্বপ্নের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, যে স্বপ্ন নিয়ে হাদি লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই সংগ্রামের পথচলা থামবে না। এই নির্বাচনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যা জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির এক জোরালো ইঙ্গিত প্রদান করে। সমাবেশটি মূলত একটি নিরাপদ সমাজ, স্বচ্ছ রাজনীতি এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক সমন্বিত অঙ্গীকারনামায় পরিণত হয়।


ফ্যাসিবাদী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৯:০৪:৫৫
ফ্যাসিবাদী লড়াইয়ের বীর সেনাপতি জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম । ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা আজ পরিণত হয়েছিল ১০ দলীয় জোটের সংহতি প্রকাশের এক অনন্য মঞ্চে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় বক্তব্য প্রদানকালে নাহিদ ইসলাম জামায়াত আমিরকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এক ‘অকুতোভয় বীর সেনাপতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন যে, ডা. শফিকুর রহমান কেবল একটি দলের প্রধান নন, বরং তিনি এই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদের অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেও লড়াই চালিয়ে যাওয়া এক অনন্য নেতা। ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ডা. শফিকুর রহমানের ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনসভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের ‘সমন্বিত প্রতীক’ হস্তান্তর অনুষ্ঠান। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ হাতে নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং এনসিপির প্রতীক ‘শাপলা কলি’র একটি সমন্বিত রূপ তুলে দেন। এই প্রতীক হস্তান্তরের সময় ডা. শফিকুর রহমান এক কৌতূহলোদ্দীপক ও আলঙ্কারিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন যে, আজ থেকে এই জোটের প্রার্থীদের হাতে কেবল দাঁড়িপাল্লা নয়, বরং ‘পাল্লা-কলি’ তুলে দেওয়া হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লার উপরের অংশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে বুঝিয়ে দেন যে, পাল্লার ওই কাঠামোর উপরিভাগকে শাপলার কলি হিসেবে ধরে নিতে হবে। এর মাধ্যমে তিনি মূলত জামায়াতের ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং এনসিপির শাপলা কলিকে একক চেতনায় গেঁথে ফেলার একটি রাজনৈতিক ইঙ্গিত প্রদান করেন।

ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন যে, ইনসাফ ও অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে শাপলা কলি এবং দাঁড়িপাল্লা আজ এক সুতোয় গাঁথা। নাহিদ ইসলামকে এই জোটের সুযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের আসন্ন নির্বাচনে এই সমন্বিত শক্তির পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। মিরপুরের এই জনসভায় দুই দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে, ১০ দলীয় জোট নির্বাচনী ময়দানে একটি সুসংহত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের হাতে এই প্রতীক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার রাজনৈতিক রসায়ন এক নতুন মাত্রা পেল, যা আগামীর নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই জনসভাটি ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের এক স্বীকৃতি এবং আগামীর একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।


রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৮:৫২:০৮
রাজনীতি থেকে কি স্থায়ী অবসরে শেখ হাসিনা? জয়ের বক্তব্যে নতুন রহস্য
আল জাজিরাকে সাক্ষাতকার দিচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: আল জাজিরা

বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি তবে রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায় নিচ্ছেন? এমন এক সময়ে যখন আওয়ামী লীগ তার ৭০ বছরের ইতিহাসে কঠিনতম অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি, তখন দলটির ভবিষ্যৎ এবং চব্বিশের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার মুখোমুখি হয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনকে দেওয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জয় স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা সম্ভবত আর দলের নেতৃত্বে ফিরছেন না। ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ কি না—এমন প্রশ্নে জয়ের ‘সম্ভবত তাই’ উত্তরটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। একদিকে নির্বাসিত নেত্রীর অবসর ভাবনা, অন্যদিকে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থানের দায়ভার নিয়ে জয়ের এই আত্মপক্ষ সমর্থন বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের দ্বার উন্মোচন করেছে।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পরিবর্তনের সুর শোনা যায় জয়ের কণ্ঠে। তিনি জানান, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা এখন রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং তিনি বিদেশের মাটিতে নয়, বরং নিজ দেশেই ফিরে সাধারণ জীবন কাটাতে চান। জয় দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক দল নয়; বরং এটি সত্তর বছরের পুরনো একটি প্রতিষ্ঠান যা শেখ হাসিনাকে ছাড়াও টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে।

দলটির প্রতি এখনো দেশের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিপুল সংখ্যক এই জনসমর্থন রাতারাতি উধাও হয়ে যাওয়া সম্ভব কি না। তবে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেফতার ও আত্মগোপনে থাকা এবং দলটির ওপর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে জয়ের বক্তব্যে এক ধরণের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সুর লক্ষ্য করা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা এবং প্রাণহানির বিষয়টি সাক্ষাৎকারের বড় অংশ জুড়ে ছিল। জয় স্বীকার করেছেন যে, বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষেত্রে তদানীন্তন সরকার ‘মিসহ্যান্ডেল’ বা ভুল ব্যবস্থাপনা করেছিল, তবে তিনি সরাসরি তার মায়ের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তার দাবি, শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের রক্তপাত এড়াতেই ৫ই আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসা ১৪০০ নিহতের পরিসংখ্যানকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে জয় দাবি করেন যে, ৫ই আগস্টের পর নিহতের সংখ্যাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার দায়ভার তার সরকারের নয়। তবে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন যখন শেখ হাসিনার কথিত অডিও ক্লিপ—যেখানে ‘ওপেন অর্ডার’ দেওয়ার কথা শোনা গেছে—প্রসঙ্গটি তোলেন, তখন জয় দাবি করেন যে সেই ক্লিপগুলো খণ্ডিত এবং সেগুলো কেবল ‘সশস্ত্র উগ্রবাদীদের’ দমনে দেওয়া নির্দেশ ছিল।

সাক্ষাৎকারে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব পায়। হাদি হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন যে, এই মুহূর্তে দলের এমন কোনো সক্ষমতা নেই। বিরোধী দলগুলোর ওপর বিগত পনেরো বছরে দমন-পীড়নের অভিযোগের বিপরীতে জয় দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনো কোনো দলকে নিষিদ্ধ করেনি এবং জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আইনি প্রক্রিয়ায়।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে কোণঠাসার মাধ্যমে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ আনেন। সব মিলিয়ে জয়ের এই সাক্ষাৎকারটি একদিকে যেমন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অবসান ঘটার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এক প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তাও বহন করছে।


শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৭:৩৫:৫৩
শহীদ হাদির কবরে শপথ নিয়ে এনসিপির ভোটের লড়াই শুরু
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ বছরের ভোটাধিকার বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নে বিভোর দেশ যখন ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই আগামীর সংস্কার ও সার্বভৌমত্বের বার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ময়দানে নামল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত তিন নেতার মাজার ও জুলাই অভ্যুত্থানের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দলটি তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেছে।

কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র এই ভূমিকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে এনসিপি মূলত দেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলের উত্তরাধিকারকে বর্তমান লড়াইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশবাসীকে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের ধারা অব্যাহত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার এই আনুষ্ঠানিক সূচনালগ্নে তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশে নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এই যাত্রার দার্শনিক পটভূমি। তিনি উল্লেখ করেন যে, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো বরেণ্য নেতাদের স্মরণের মাধ্যমে তাঁরা মূলত গণতন্ত্রের সেই হারানো ভিত্তিকেই পুনরায় স্থাপন করতে চান। শেরেবাংলা যেভাবে জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন, এনসিপিও ঠিক একইভাবে আধুনিক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ঢাকা-৮ আসন থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেই ২০২৪ সালের সেই মহাবিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা আজ পুরো জাতিকে এক নতুন আজাদির আস্বাদ দিচ্ছে। এনসিপি’র এই যাত্রা কেবল ভোটের কাঙালপনা নয়, বরং শহীদদের রক্তের ঋণের প্রতি এক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।

এই প্রচারণার অন্যতম প্রধান ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে জুলাইয়ের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার। শহীদ হাদির কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আধিপত্যবাদ বিরোধী এই লড়াইয়ে যারা অকুতোভয় সৈনিকদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাঁদের বিচার নিশ্চিত করাই এনসিপির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা।

নির্বাচনের আগেই বাংলার মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে এই শপথ বাক্য উচ্চারিত হওয়ার সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই সংস্কারের যাত্রা পূর্ণতা পাবে না।

প্রচারণার উদ্বোধনী ভাষণে নাহিদ ইসলাম দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সংসদে সাধারণ মানুষের কথা, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের জয়গান গাইতে ‘১০ দলীয় ঐক্যজোটকে’ বিজয়ী করা সময়ের দাবি। এনসিপির নিজস্ব ৩০ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ মার্কা নিয়ে দেশজুড়ে লড়াই করছেন, যাঁদেরকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। জিয়ারত ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এনসিপির নেতা-কর্মীরা ঢাকা-৮ নির্বাচনি এলাকায় এক বিশাল ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও গণসংযোগে অংশ নেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁরা ঘরে ঘরে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ১৬ বছরের রুদ্ধ দুয়ার খোলার এই মাহেন্দ্রক্ষণে এনসিপির এই সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে এক গুণগত পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৭:১৯:৩১
জনগণের শক্তিই বিএনপির প্রাণ: মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের জনারণ্যে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, ধানের শীষের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, বরং এ দেশের সাধারণ মানুষ।

আজ বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি ঘোষণা করেছেন এমন কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের কথা, যা বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক চা শ্রমিক থেকে শুরু করে মসজিদের খতিব—সবার জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে যারা প্রতারণার রাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারেক রহমান এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে উন্নয়নের সমান্তরালে সংরক্ষিত হবে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা ও বিশ্বাস। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, লক্ষ-কোটি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থই বিএনপির রাজনীতির প্রধান উৎস এবং এই শক্তিকেই তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান।

মৌলভীবাজারের এই জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার যে নীল নকশা পেশ করেন, তার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষি কার্ড’ প্রকল্প। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা অবহেলিত চা বাগান শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এই ফ্যামিলি কার্ড এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দাবি করেন।

কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বিএনপির এই মহাপরিকল্পনায় গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেচ ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সূচিত সেই ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’ কর্মসূচির আধুনিক রূপ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এটি কৃষকের সেচ সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য স্বতন্ত্র ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।

সমাজের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষায় তারেক রহমান এক অনন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা জনসভায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানজনক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাজনীতির হীন স্বার্থে ব্যবহার করার পরিবর্তে সমাজ সংস্কারের শক্তি হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ‘করবো কাজ, দেশ গড়বো—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত সেই জনসভায় তারেক রহমান সাধারণ মানুষকে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন, কৃষকের অধিকার এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের সম্মান রক্ষার যে সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে, তা মূলত একটি মানবিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার পথে বিএনপির আগামীর চূড়ান্ত রূপরেখাকেই প্রতিফলিত করে।


নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৩:৫৯:৪৬
নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য সমর্থকদের কাছে অনুদান চাইলেন এনসিপি নেতা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন এক বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপরেখা ও নাগরিক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন আখতার হোসেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর সদস্যসচিব এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রকাশিত এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। পোস্টে তিনি জানান, রংপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং স্থানীয় জনগণের ইতিবাচক সাড়া ও সমর্থন তাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।

আখতার হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ও হতাশা কাটিয়ে একটি দায়িত্বশীল ও নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি নির্বাচনে নেমেছেন। তাঁর ভাষায়, কাউনিয়া ও পীরগাছার মানুষ তাকে যে আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে গ্রহণ করেছেন, তা তাকে আশাবাদী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে।

তিনি আরও জানান, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ভার বহনের জন্য শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এতদিন অনানুষ্ঠানিকভাবে যে অনুদান ও সহায়তা পেয়েছেন, আসন্ন প্রচারণা পর্যায়ে সেটির পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপানো, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড নির্মাণ, মিছিল ও উঠান বৈঠকের আয়োজন, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং নতুন নতুন সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণের আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা জরুরি।

তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অনুদানের অঙ্ক বড় না হলেও অংশগ্রহণের মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আহ্বান, কেউ যেন দ্বিধা না করেন ১০ টাকা দিয়েও শুরু করা যেতে পারে, আবার যার সামর্থ্য আছে তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে আসতে পারেন।

কাউনিয়া-পীরগাছার বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের শুভানুধ্যায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও তিনি সহযোগিতার আহ্বান জানান। তার মতে, সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও নাগরিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই এই কঠিন নির্বাচনি লড়াইয়ে সফল হওয়া সম্ভব।

পোস্টের শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের দোয়া, সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে ইনশাআল্লাহ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় রচনা করা সম্ভব হবে।

-রফিক


তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৩:৪৬:৪৫
তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মাঠপর্যায়ের প্রচার কার্যক্রমে নতুন গতি যোগ হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর পৌণে ১২টার দিকে জনসভার মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন বিএনপির মহাসচিব। সংক্ষিপ্ত কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক বাংলাদেশ গড়তে চায় এবং সে লক্ষ্যেই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দলটি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সিলেটবাসীসহ দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে একটি বিশেষ মহল রয়েছে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় বিশ্বাস করে না। এই গোষ্ঠী অতীতেও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং বর্তমানে বিএনপি ও তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ঐক্যই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভা পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। জনসভায় সিলেট ও আশপাশের জেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

-রফিক


সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৩:৩৯:১৫
সিলেটে বিএনপির জনসভা, আজান শুনে বক্তব্য থামালেন তারেক রহমান 
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু করল পবিত্র ভূমি সিলেট থেকে। বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দলটির প্রথম নির্বাচনি জনসভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হন উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী। বক্তব্য চলাকালে যোহরের নামাজের আজান ভেসে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য থামিয়ে দেন তারেক রহমান। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় মাঠজুড়ে নীরবতা নেমে আসে এবং উপস্থিত জনতা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করে।

দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুরু করেন আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে। বক্তব্যের কিছু সময় পর নিকটবর্তী মসজিদের মাইকে আজানের ধ্বনি শোনা গেলে তিনি কথা বন্ধ করে দেন। এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সূচিত হয়।

জনসভাকে ঘিরে সিলেটজুড়ে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ। বুধবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলের একাংশে সামিয়ানা টানিয়ে ত্রিপলের ওপর অবস্থান নেন অনেক নেতাকর্মী। কেউ কেউ সেখানেই রাত যাপন করেন, যাতে সকালে জনসভায় অংশ নিতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিছিলসহ জনসভাস্থলে উপস্থিত হন বিএনপি জোটভুক্ত দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। সে সময় তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মাঠে প্রবেশ করেন, যা সমাবেশের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এই নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। দলীয় নেতারা জানান, সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করার মাধ্যমে তারা একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছেন যে পরিবর্তনের ডাক এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ধারাবাহিক গণসংযোগ ও জনসমাবেশের মাধ্যমে।

-রফিক


তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১০:৩৭:২৫
তারেক রহমানের সিলেট সফর, আজকের কর্মসূচি কী কী
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৫ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সিলেটে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর এবার ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায়, দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে আবারও সিলেটের মাটিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা।

নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান। রাত ৯টা ১৮ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জিয়ারত করেন এবং এরপর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর কবরে শ্রদ্ধা জানান। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহনকারী এসব স্থান থেকে নির্বাচনি সফরের সূচনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুর গ্রামে নিজ শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছান তারেক রহমান। তাঁর শ্বশুর প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান এবং এটি তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক নিবাস। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর স্মরণে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচি শেষে তিনি রাতেই নগরীর গ্র্যান্ড হোটেলে ফিরে যাবেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার থেকে তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। বুধবার রাত থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এই সমাবেশকে ঘিরে সিলেট বিএনপি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত মঞ্চটি প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের, যেখানে প্রায় ৩০০ অতিথি বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীরা শত শত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছেন। আজকের জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থী, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সকালে সিলেট বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সংলাপকে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা বোঝার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে দলটি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর ২টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকে তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে আরেকটি সমাবেশে অংশ নেবেন। ধারাবাহিক এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেট বিভাগজুড়ে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে গতি আসবে বলে আশা করছে দলীয় নেতৃত্ব।

-রফিক

পাঠকের মতামত: