তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা: দুদু

বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শামসুজ্জামান দুদু। তাঁর মতে, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দেশের মানুষ আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা দেখছে এবং জনমনে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে বিএনপি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব–এর সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
শামসুজ্জামান দুদুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তারেক রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশের মানুষ একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে। এই আস্থা আবেগনির্ভর নয়, বরং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ঐক্যের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব সংহত করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে দুদু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত সরকারপ্রধান ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনো নির্বাচনে পরাজয়ের নজির নেই এবং তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করেই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের সময়ে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তাঁর নেতৃত্বেই কন্যাশিক্ষা বিনা বেতনে বিস্তৃত হয়েছে এবং নারীসমাজ রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান, খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা পরিচালনার জন্য।
কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি প্রথম উদ্যোগ হিসেবে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে দুদু বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বন্দিদশায় থেকেও খালেদা জিয়া মাথা নত করেননি। কারণ তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দোয়া মাহফিলে আয়োজক কমিটির সভাপতি নূর আফরজ বেগমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
-রফিক
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবার আমাদের ভোট: হাসনাত আবদুল্লাহ
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শক্তিকে জয়ী করতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বিরাল্লা এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী পদযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, বরং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, লুটেরা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার নির্বাচন।”
নির্বাচনী প্রচারণাকালে ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা দুর্নীতি করে, টেন্ডারবাজি ও মামলাবাজি করে সমাজকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করার সময় এসেছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পেশিশক্তি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও জনমতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এনসিপি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
পথসভায় তিনি ভোটারদের প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইনসাফ কায়েম এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে ভোটারদের সচেতন থাকতে হবে। এ সময় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় এনসিপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, যা ওই এলাকার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে বিরাল্লার পদযাত্রাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে আধিপত্যবাদ বিরোধী স্লোগানে মুখরিত ছিল রাজপথ।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ছক: বেরিয়ে এলো হাদি খুনের রোমহর্ষক তথ্য
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কণ্ঠস্বর এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার বিকেলে মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ও নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ডিবি পুলিশ হাদি হত্যা মামলায় বাপ্পি ও প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘ সময় ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, যা দলটির নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীকে পালিয়ে যেতে সার্বিক সহায়তা করেছিলেন সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আসামিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর বক্স-কালভার্ট রোডে নির্বাচনী প্রচারণার সময় রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে ১২ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন এবং বাপ্পি ও ফয়সালসহ ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। ডিবি জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দুদকের নজরদারিতে সারজিস আলম
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ (সদর–তেঁতুলিয়া–আটোয়ারী) আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামায় দেওয়া আয়ের তথ্যে বড় ধরণের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া তথ্যে তাঁর বার্ষিক আয় যা দেখানো হয়েছে, আয়কর রিটার্নে তা প্রায় তিন গুণ বেশি বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান, সারজিস আলমের হলফনামায় সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ২৭ বছর বয়সী এনসিপি নেতা সারজিস আলম হলফনামায় নিজের পেশা ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তাঁর আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়ের পাশাপাশি সম্পদের হিসাবেও বড় অসংগতি পাওয়া গেছে। আয়কর রিটার্নে তিনি মোট সম্পদ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দেখালেও হলফনামার সম্পদ বিবরণীতে এর পরিমাণ অনেক কম। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬.৫ শতাংশ কৃষিজমি এবং অস্থাবর সম্পদ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণে সারজিস আলম জানিয়েছেন, তিনি চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার আশা করছেন এবং জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেবেন। এছাড়া শ্বশুর-শাশুড়ি ও মামা-চাচাদের কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা নথির কিছু অংশ অস্পষ্ট থাকায় সঠিক অঙ্ক নিয়ে সংশয় রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা সম্পদ গোপনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তা নির্বাচনী আচরণবিধি ও দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় আসবে। এই ঘটনায় পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব: আসিফ
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বজায় রেখে দেশে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর এনসিপি সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের একটি বড় অংশ বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্যে পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “জনরায় প্রতিষ্ঠার আগেই সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আবারও যদি পর্দার আড়ালে কোনো পুরোনো ‘সেটেলমেন্ট’ বা আপসের পথে হাঁটা হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে তা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন যে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসাররা নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে কাজ করছেন বলে এনসিপির কাছে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ইসি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সারজিস আলমের দুই নথিতে দুই রকম আয়, হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামা ও আয়কর নথি পর্যালোচনায় আয় ও সম্পদের তথ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২৭ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা হলফনামায় নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং বার্ষিক আয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৯ লাখ টাকা। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দাখিল করা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় ঘোষিত আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দুটি সরকারি নথিতে ভিন্ন ভিন্ন আয়ের তথ্য উপস্থাপন করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আয়ের পাশাপাশি সম্পদের ঘোষণাতেও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা হলেও হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে করে তার প্রকৃত সম্পদের চিত্র নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত ১ লাখ টাকার তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং সমপরিমাণ মূল্যের আসবাবপত্র। হলফনামায় কোনো স্বর্ণালংকারের উল্লেখ নেই।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে বলা হয়েছে, দানসূত্রে প্রাপ্ত সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমি তার মালিকানায় রয়েছে। জমিটির অর্জনকালীন মূল্য মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।
-রাফসান
রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে: হাসনাত
জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো পরিকল্পিতভাবে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। সোমবার দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্র বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করছে। এনসিপি মনোনীত এই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিপ্লবীদের কণ্ঠরোধ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী ও তাহরিমা সুরভীর ওপর ঘটা সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে তিনি বিপ্লবীদের কোণঠাসা করার রাষ্ট্রীয় নীল নকশার অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কমিশন সবার জন্য সমান আইন প্রয়োগ না করে ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন আচরণ করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
লাইভে তিনি সরকারের ডিজিটাল নীতি ও গণমাধ্যমের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন। সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক আইডি গায়েব হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট আইডিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও সরকার বিরোধী বা সংস্কারপন্থীদের দমনে রাষ্ট্র অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে অতীতে ‘হাসিনার সেবাদাস’ হিসেবে কাজ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটেও নিরপেক্ষতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপি সংস্কারের পক্ষে এবং যেকোনো ধরণের বৈদেশিক আগ্রাসন ও দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অটল রয়েছে। তিনি দেশবাসীকে আসন্ন নির্বাচনে সংস্কারকামী শক্তিকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক পথকে আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেন। বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় দেশবাসীকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে তিনি তাঁর লাইভ শেষ করেন।
২৫ ঘণ্টায় ব্যারিস্টার ফুয়াদের তহবিলে লাখ লাখ টাকা, জানুন কত
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। **এবি পার্টি**র সাধারণ সম্পাদক ও এই আসনের প্রার্থী হিসেবে মাত্র ২৫ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ টাকা নির্বাচনি তহবিলে সংগ্রহ করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক লাইভ বার্তায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ তহবিল সংগ্রহের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে মোট ১১ লাখ ২০ হাজার ৯৬৯ টাকা, একটি নগদ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৭ টাকা জমা হয়েছে। এ ছাড়া তার নির্বাচনি কার্যালয়ে উপস্থিত এক সাংবাদিক অনলাইনের বাইরে ২ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। সব মিলিয়ে মোট সংগ্রহের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫ টাকা।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ এই অর্থায়নকে জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তা প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবসহ প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, যাতে অর্থ ব্যবহারে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
তবে এই অনলাইন সহায়তার ঢলের মধ্যেই প্রতারণার ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, তার ফেসবুক লাইভ ভিডিও কপি করে কিছু অসাধু ব্যক্তি ভুয়া পেজ খুলে বিকাশ ও নগদের নম্বর পরিবর্তন করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে তিনি অনুরোধ জানান, অনুদান দিতে ইচ্ছুকরা যেন শুধুমাত্র তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নম্বর ও তথ্য ব্যবহার করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনি তহবিলে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়ে এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
-রাফসান
একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না: তারেক রহমান
মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব মত ও পথের মানুষকে নিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা প্রথমে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন সিপিবির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজসহ শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান বলেন, “একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের এগোতে হবে। আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই থাকবে। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”
বৈঠক শেষে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, তারা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন। তবে আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। বাম নেতাদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন সংক্রান্ত বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বাইরে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ে কথা হয়নি।”
একই দিনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। তারেক রহমান বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর কাছ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাম ও ডানপন্থী দলগুলোর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির
বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তা এখনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেড় হাজার শহীদের আত্মত্যাগ এবং ৩০ হাজারের অধিক পঙ্গুত্ববরণকারী মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা চক্রান্তের হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না ঘটিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে তা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে না। কোনো বিশেষ দলের দিকে ঝুঁকে না পড়ে দেশপ্রেমের সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাহী পরিষদের এই বৈঠকে জামায়াত নেতারা শপথ নেন যে, কোনো ধরনের চক্রান্ত বা বিদেশি আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশকে নতজানু হতে দেওয়া হবে না। একই সাথে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মতামত:
- ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবার আমাদের ভোট: হাসনাত আবদুল্লাহ
- নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ছক: বেরিয়ে এলো হাদি খুনের রোমহর্ষক তথ্য
- সোনা ও প্লাটিনামের পাহাড় কি আকাশেই ভাসছে? গ্রহাণু নিয়ে গবেষকদের অবাক দাবি
- দুদকের নজরদারিতে সারজিস আলম
- নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় ছড়াচ্ছেন তারা কড়া নজরদারিতে: শফিকুল আলম
- প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
- শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী না ক্ষতিকর জানুন বিশেষজ্ঞ মত
- আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ
- সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত
- আখেরি যামানার ভয়াবহ বার্তা: দাব্বাতুল আরদের আগমন
- হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপবে দেশ: ৬ ডিগ্রিতে নামবে ৫ বিভাগের তাপমাত্রা
- জিরা-মেথি-আজওয়াইন-সওফ এর পানি খাওয়ার যাদুকরী উপকার
- মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ
- চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব: আসিফ
- ০৬ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ৬ জানুয়ারির ডিএসই লেনদেনে টপ টেন গেইনার তালিকা প্রকাশ
- এইচএসসি ফরম পূরণের তারিখ ফের পরিবর্তন, জানুন নতুন সময়সূচি
- হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল
- সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা নিয়ে ইসির শঙ্কা প্রকাশ
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা
- ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কারা এগিয়ে
- ডিএসই–৩০: যেসব খাতে বিনিয়োগকারীদের নজর
- সারজিস আলমের দুই নথিতে দুই রকম আয়, হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন
- পাঠ্যবইয়ে এমন কী বদলালো, যা নিয়ে শুরু আলোচনা
- ভারতের দ্বিচারিতা ফাঁস করলেন পাক কিংবদন্তি, বাংলাদেশের পক্ষে বড় সমর্থন
- রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে: হাসনাত
- ২৫ ঘণ্টায় ব্যারিস্টার ফুয়াদের তহবিলে লাখ লাখ টাকা, জানুন কত
- কোন শেয়ারে মিলবে মার্জিন সুবিধা, জানাল ডিএসই
- সব সময় শীত লাগছে? জানুন যে ভিটামিনের অভাবে শরীরে বেশি শীত অনুভূত হয়
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- জমি রেজিস্ট্রিতে ১১৫ বছরের প্রথা ভাঙল: দলিল সরবরাহ নিয়ে নতুন নিয়ম জানুন
- ০৬ জানুয়ারি বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- জিকিউ বল পেনের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- ছুটির দিনেও ছুটি গণনা? প্রাথমিকের আজব তালিকা নিয়ে তোলপাড় ফেসবুক
- এসকিউ ব্রোকারেজের ট্রেক বাতিল করল ডিএসই
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
- শীতে নাক বন্ধ? অস্বস্তি থেকে মুক্তির ৮ উপায়
- ভিপি পদে লড়াই করছেন ১২ জন: জকসু নির্বাচনে কার গলায় উঠবে জয়ের মালা?
- একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না: তারেক রহমান
- অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি: জামায়াত আমির
- তাপমাত্রা নামছে হু হু করে: শীতের এই তান্ডব চলবে কতদিন?
- আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ ০৬ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীতে আজ কোথায় কী কর্মসূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- তিন দশকের নারী শাসনের ইতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খরা
- স্বর্ণের বাজারে আগুন: মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- মোস্তাফিজ ইস্যু এখন রাজনৈতিক: তারেক-ফুয়াদ বৈঠকের পর বড় বার্তা
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ জানুন
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- ৩১ ডিসেম্বরের হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে








