টিউলিপ সিদ্দিকী মামলায় দুদকের নতুন তথ্য প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ১৩:০৬:০৩
টিউলিপ সিদ্দিকী মামলায় দুদকের নতুন তথ্য প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ এমপি ও শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলার বিচার ও সাজা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিকীকে ঘিরে মিডিয়ায় যে ধরনের প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো পরিষ্কার করতে তারা সমস্ত প্রসিকিউশন নথি পুনর্বিবেচনা করেছে। একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে দুদক বলছে, আদালতে পেশ করা প্রমাণসমূহ যথাযথভাবে যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে মামলার উপাদানগুলো আইনের চোখে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে দুদক জানায়, মামলার নথিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় টিউলিপ সিদ্দিকীর খালা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মা শেখ রেহানা এবং তাদের নিকট আত্মীয়দের নামে প্লট বরাদ্দকেন্দ্রিক অভিযোগগুলোকেই তদন্তের ভিত্তি করা হয়েছে। একটি মামলায় এমনও উঠে এসেছে যে, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকার সময় টিউলিপও নিজ নামে অতিরিক্ত এক প্লট বরাদ্দ পান। দুদকের দাবি, মামলার বেশ কয়েকজন অভিযুক্তই দীর্ঘদিন বিচার থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে, যেখানে টিউলিপ সিদ্দিকী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৫ এ চলমান স্পেশাল কেস ১৮/২০২৫–এ অভিযোগ করা হয় যে, তিনি নিজের পরিবারের জন্য ভূমি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে অনৈতিক প্রভাবিত করেছিলেন। এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দুদক বলছে, বেশ কয়েকজন সাক্ষী হলফনামায় জানিয়েছেন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে টিউলিপ বহু বরাদ্দে সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছেন।

তাদের মতে, সাক্ষ্য ও নথি মিলিয়ে যে পরিস্থিতিগত প্রমাণ উঠে এসেছে, তা টিউলিপের সক্রিয় ভূমিকা স্পষ্ট করে। এসব অপরাধ দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ২০১, ২১৭, ২১৬, ৪০৯, ৪২০ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর সেকশন ৫(২) অনুযায়ী দণ্ডনীয়।

দুদক আরও বলছে, টিউলিপ সিদ্দিকী যেই প্লটটি ব্যক্তিগতভাবে পেয়েছিলেন (বর্তমানে গুলশান-২ এর রোড ৭১–এর ১১৫ ও ১১-বি নম্বর প্লট), সেটি রাজধানীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকায় অবস্থিত। এগুলো কোনো কৃষিজমি নয় বরং বহু তলাবিশিষ্ট বাসভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণযোগ্য উচ্চমূল্যের জমি, যা মূলত রাজধানীর আবাসন সংকট কমাতে বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ ঘুরে গেছে রাজনৈতিক পরিবারের হাতে। দুদকের মতে, এতে পরিবারভিত্তিক সম্পদ সঞ্চয়ের অনৈতিক প্রবণতাই স্পষ্ট হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, টিউলিপ সিদ্দিকীর সঙ্গে লন্ডনের কয়েকটি সম্পত্তির যোগসূত্র রয়েছে, যেগুলো অফশোর প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। দুদক প্রশ্ন তোলে সরকারি দায়িত্বে থাকা পরিবার কীভাবে বিশ্বের দুই প্রধান শহরে একাধিক সম্পদ কেনার সামর্থ্য পেল? তাদের দাবি, টিউলিপ বিচার কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি নিজেই অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ‘জবাব দেওয়ার সুযোগ পাননি’ এমন দাবি সঠিক নয়।

সবশেষে দুদক জানায়, সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট টিউলিপ সিদ্দিকী দুর্নীতির সহায়তা, উস্কানি এবং প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে তাকে নির্দোষ দেখানোর কোনো আইনি বা পরিস্থিতিগত ভিত্তি নেই।

-রাফসান


মোবাইল ডাটা আর নষ্ট হবে না! গ্রাহক স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১২:০৯:৫৭
মোবাইল ডাটা আর নষ্ট হবে না! গ্রাহক স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

মোবাইল গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও ভোগান্তির মুখে এবার বড় সুখবর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মোবাইলে কেনা ইন্টারনেটের অব্যবহৃত ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেড করার বিষয়ে সব পক্ষ ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ডাটা বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় এ সমস্যা সমাধানে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ কোটি ৩৫ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের ব্যবহারের ধরন ভিন্ন। অপারেটররা মূলত উচ্চ স্থাপন ও পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ছোট ছোট মেয়াদী প্যাকেজ অফার করে। তবে বিটিআরসির নির্দেশনায় বর্তমানে একই প্যাকেজ অটো-রিনিউ করলে ডাটা ‘ক্যারি ফরওয়ার্ড’ বা পরবর্তী মেয়াদে যোগ হওয়ার সুবিধা রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক অপারেটরের এখন সুদীর্ঘ ১০ বছর মেয়াদী ডাটা প্যাকেজ রয়েছে, যা কার্যত আনলিমিটেড মেয়াদেরই সমান। তবে সাধারণ স্বল্প মেয়াদী প্যাকেজের ডাটা যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে টেকনিক্যাল ও অর্থনৈতিক দিকগুলো বিবেচনা করে একটি স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে সরকার।

/আশিক


তীব্র গরমে হাঁসফাঁস দশা! কতদিন স্থায়ী হবে এই তাপপ্রবাহ?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২১:৫৫:২৮
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস দশা! কতদিন স্থায়ী হবে এই তাপপ্রবাহ?
ছবি : সংগৃহীত

বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেই আগুনের হল্কা ছড়াচ্ছে প্রকৃতি। দেশের ১৪ জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) এক বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলাসহ পুরো রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে এই দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, এই হাঁসফাঁস করা গরম আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হলো, শনিবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, যার ফলে কমতে শুরু করবে দিনের তাপমাত্রা। মজার ব্যাপার হলো, গত তিন বছর শতাব্দীর উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল পার করলেও সেই তুলনায় এ বছরের আবহাওয়া এখনও যথেষ্ট সহনশীল বলে মনে করছে আবহাওয়া অফিস।

তাপমাত্রার পরিমাপ অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু এবং ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। মঙ্গলবার রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মাঝারি তাপপ্রবাহের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাতেও ছিল প্রখর রোদ, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সিলেটে, সেখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সাথে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশ মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে এবং গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে।

/আশিক


জ্বালানির দাম কমান, মানুষ বাঁচান: আখতার হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২১:১৬:৩২
জ্বালানির দাম কমান, মানুষ বাঁচান: আখতার হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের ‘মাত্রাতিরিক্ত’ মূল্যবৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করে সরকারের প্রতি তোপ দেগেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানির এই অস্বাভাবিক দাম জনজীবনে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "সরকার বলেছিল তারা দাম বাড়াবে না, কিন্তু এখন যে হারে দাম বাড়ানো হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, এই মাত্রাতিরিক্ত দাম কমিয়ে দ্রুত জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা উচিত।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও যুদ্ধের পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট থাকা স্বাভাবিক, তবে বাংলাদেশে এই সংকটের পেছনে ‘কৃত্রিম’ কিছু কারণও রয়েছে। তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিশেষ করে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, "হঠাৎ করে এলপিজির দাম বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে উৎপাদনমুখী কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। রান্নার কাজে যারা এলপিজি ব্যবহার করেন, তাদের পক্ষে এই বাড়তি খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।" তিনি অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ মজুতদারি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার জোর দাবি জানান।

/আশিক


সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট! দুর্নীতির রহস্য উম্মোচনে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২০:০৩:৫০
সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট! দুর্নীতির রহস্য উম্মোচনে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্যামেরা, ব্যাগ ও কার্ড রিডারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ ও দুর্নীতির ভয়ংকর অভিযোগ তদন্তে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন স্পিকার। বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে এসব পণ্য কিনে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্পিকারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ শাখা-১ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজাম) এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ঢাকা-১২ আসনের মো. সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম-৭ আসনের হুমাম কাদের চৌধুরী এবং কুমিল্লা-৪ আসনের মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে ক্যামেরা, ব্যাগ ও কার্ড রিডার কেনাকাটায় অস্বাভাবিক খরচ দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই কমিটি কাজ করবে। সংসদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি প্রতিটি কেনাকাটার নথিপত্র এবং বাজারদরের ব্যবধান সরেজমিনে যাচাই করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে, সংসদ সচিবালয়ের জন্য কেনা বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম সাধারণ বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। এই দুর্নীতির খবরটি চাউর হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে সংসদ সচিবালয় এই জরুরি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

/আশিক


পাচার রোধেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৯:৩৬:২২
পাচার রোধেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় তা পাচার হয়ে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কায় পাচার রোধে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়। সেই লক্ষ্যে সরকার এতদিন জ্বালানি তেলের দাম একটি সহনীয় বা 'টলারেবল' মাত্রার মধ্যে আটকে রেখেছিল। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দাম কম হওয়ায় দেশ থেকে জ্বালানি পাচারের একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন কম মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করায় জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, "পাচার রোধ এবং জাতীয় অর্থনীতির সক্ষমতা বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম কিঞ্চিৎ পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।" বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে সংসদে আর আলোচনার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।

/আশিক


বিদেশে কর্মী পাঠাতে ১৮ দেশের সাথে চুক্তি! সংসদে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৯:২৪:২১
বিদেশে কর্মী পাঠাতে ১৮ দেশের সাথে চুক্তি! সংসদে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা নিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, সৌদি আরবের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করতে গত ৮ থেকে ১১ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালয়েশিয়া সফর করেছেন।

সেখানকার সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দ্রুতই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর বিষয়েও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে দক্ষ ড্রাইভার পাঠানোর লক্ষ্যে ১ লাখ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্যে বিশেষায়িত ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে রেকর্ড ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন।

/আশিক


জনগণের দাবিতে বেড়েছে তেলের দাম প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী : রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৭:৫৪:৫২
জনগণের দাবিতে বেড়েছে তেলের দাম প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী : রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গুম হওয়া নেতাদের সন্ধান নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাবেক বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী জানান, মূলত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করতে চাননি প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু যখন তেলের জন্য বিরাট লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈশ্বিক যুদ্ধের আবহাওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে দাম হু হু করে বাড়ছে, তখন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

এ সময় মন্ত্রী ও দায়িত্বশীলদের সতর্ক করে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, তা অনুসরণ করুন। এমন কোনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলবেন না যার সাথে কাজের মিল নেই।” পাশাপাশি গুম হওয়া নেতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, গুমের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা এখনও দেশে আছে, তাদের রিমান্ডে নিলেই ইলিয়াস আলীসহ নিখোঁজ নেতাদের হদিস মিলবে। গুম বিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের ফাঁকফোকরগুলো সংশোধন করে মানবতার পক্ষে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে।

/আশিক


গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঐতিহাসিক সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৭:১২:১০
গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঐতিহাসিক সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজ গ্রাম বগুড়ার বাগবাড়ীতে ৯১১টি পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কার্ড বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে কণ্ঠ মেলান। এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ উপস্থিত হাজারো সমর্থক একযোগে সংগীতে শামিল হন।

নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী গত ১০ মার্চ ঢাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক নিবাসে এই কার্যক্রম শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।

সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ১৪টি উপজেলার ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

পরিবারে মা অথবা নারী প্রধানের নামেই এই কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে একটি সর্বজনীন ‘সোশ্যাল আইডি কার্ডে’ রূপান্তর করা হবে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

/আশিক


আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম! আবাসিক গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি চাপের আশঙ্কা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১২:৫৯:০৫
আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম! আবাসিক গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি চাপের আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জেরে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। ক্রমাগত বাড়তে থাকা ঘাটতি ও বকেয়া বিলের পাহাড় সামলাতে এবার বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা মূল্য সমন্বয়ের চূড়ান্ত সুপারিশ করবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় সাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি মেটাতেই এই উদ্যোগ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, বর্তমানে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে আকাশচুম্বী পার্থক্যের কারণে সরকারের ভর্তুকি দিয়েও কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পিডিবির ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা, অথচ আয় হয়েছে মাত্র ৭০ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।

বিপিডিবির তথ্যমতে, দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পাওনা এখন ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর পাওনা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। দীর্ঘ সাত-আট মাস বিল পরিশোধ না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রতি মাসে সরকারকে কেবল জ্বালানি খাতেই আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই বিশাল ভর্তুকির চাপ কমাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতেই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: