সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২২ বারের মতো পিছোল

ঢাকার একটি আদালত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এটি মামলার তদন্ত সংস্থার ১২২তম বার প্রতিবেদন দাখিলের সময় নেওয়ার ঘটনা। রোববার ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল কিন্তু তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নতুন এই দিন ধার্য করেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপর মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক যুগেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়নি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬ মাসের সময় নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত শেষে হাইকোর্টের দেওয়া সেই ছয় মাসের সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে যে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এতে অগ্রগতি আছে। এ কারণে তারা তদন্ত শেষ করতে আদালতের কাছে আরও ৯ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
লুণ্ঠিত অস্ত্রের মুখে কি থমকে যাবে ত্রয়োদশ নির্বাচন? হাইকোর্টে নাটকীয় রিট
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়েছে। এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় এবং তা বর্তমানে বিভিন্ন পক্ষের হাতে থাকায় জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি বড় আয়োজনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।
রিটকারীর দাবি অনুযায়ী, এসব অস্ত্র উদ্ধার করে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে রিটে জানানো হয়েছে।
এই রিট আবেদনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৬ জন কর্মকর্তা ও সংস্থাকে বিবাদী করা হয়েছে।
তারা হলেন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব
স্বরাষ্ট্র সচিব
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রত্যাশা
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই তিনি এই জনস্বার্থমূলক রিটটি করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সেই অস্থিতিশীল সময়ে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে জনগণের মনে স্বস্তি ফেরানোই এখন বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
রিট আবেদনটি এখন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের গতি প্রকৃতি।
বহুবিবাহ আইনে রিট খারিজ, আইনি বিধান কার্যকর
কোনো ব্যক্তির একটি বিয়ে কার্যকর থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না—এমন বিধানকে বহাল রেখেছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর, যখন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করা হয়। রিটে দাবি করা হয়, প্রচলিত আইন নারীর সাংবিধানিক অধিকার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, পারিবারিক জীবনের বৃহত্তর স্বার্থে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনে কেন সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে না এবং স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত না করে বহু বিবাহের অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে নারীর সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না। তিনি যুক্তি দেন, ইসলামি আইনে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সব স্ত্রীর প্রতি সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কেবল বিয়ের অনুমতির অংশ গ্রহণ করে ন্যায়বিচারের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ নীতির শামিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তার বিদ্যমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো বিবাহ করতে পারবেন না। অনুমতির জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফিসসহ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয় এবং সেখানে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতির বিষয় উল্লেখ করতে হয়।
আইনে আরও বলা হয়েছে, সালিশি কাউন্সিল আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হবে এবং প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত মনে হলে তবেই অনুমতি দেওয়া যাবে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেনমোহরের সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে এবং একই সঙ্গে পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও নারীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে আদালতের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
-রাফসান
দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
হাইকোর্টের ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে যে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পুরুষকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তবে এই কর্তৃপক্ষ প্রথম স্ত্রী নন, বরং সেটি হলো স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ আরবিট্রেশন কাউন্সিল বা সালিশি পরিষদ। আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, স্ত্রী অনুমতি না দিলেই দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কাউন্সিল মূলত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবে এবং স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিয়ের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে মুসলিম আইনে পুরুষদের জন্য জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। তবে আইনি ক্ষেত্রে আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কঠোরতা এবং ১৯৬১-এর অধ্যাদেশের মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এর আগে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যা হাইকোর্ট বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিথিল করেছেন।
এই রায়ের ফলে দেশে বহুবিবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং নারীদের সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটকারীরা। তাঁরা মনে করেন, স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়ার শর্তটি বাতিল হওয়ায় পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। রিটকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে ১৯৬১ সালের আইনের প্রকৃত আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, যা বিবাহ সংক্রান্ত অনেক অমীমাংসিত মামলার জট খুলতে সাহায্য করবে।
হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডিবি প্রধান বলেন, অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, কেউ ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৩০২ (হত্যা) ধারায় রূপান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটির দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
রিমান্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন: সুরভীকে নিয়ে নাটকীয় মোড়
সকাল থেকে চলা টানটান উত্তেজনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামিন পেলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লড়াকু মুখ তাহমিনা জান্নাত সুরভী। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশের তোলা অভিযোগ ও রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুরভীর কারামুক্তির পথ সুগম হলো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল পেজে লেখা হয়েছে, “আলহামদুলিল্লাহ, তাহমিনা সুরভীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে।” আজ সকালে গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় সুরভী চিৎকার করে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সন্ধ্যার পর তাঁর জামিনের এই আদেশ এল।
উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে সুরভীর পরিবার ও আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি ভুয়া মামলা এবং পুলিশ মূলত ঘুষ না পেয়েই এই হয়রানি চালিয়েছে।
সুরভীর জামিন মঞ্জুরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত তাঁর সহযোদ্ধা ও স্বজনদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। সুরভীর আইনজীবী জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শীঘ্রই সুরভী কারাগার থেকে বাড়িতে ফিরবেন। একজন জুলাইযোদ্ধাকে এভাবে সাজানো মামলায় হয়রানি করার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মা... ওই ফারুক আছে না? টাকা দিই নাই বলে রিমান্ডে নিচ্ছে: সুরভী
“মা... ওই ফারুক আছে না? ফারুক রিমান্ডে চাইছে, ওকে টাকা দিই নাই এ জন্য।” আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) গাজীপুরের আদালত চত্বরে প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় নিজের মাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে এভাবেই আর্তনাদ করেন জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা তাহমিনা জান্নাত সুরভী। এসআই ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ দাবি এবং বয়স জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আজ সুরভী যে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, তা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ।
গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আজ সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সুরভীর আইনজীবীদের অভিযোগ, সুরভীর প্রকৃত বয়স মাত্র ১৭ বছর হওয়া সত্ত্বেও মামলার নথিতে তাঁকে ২১ বছর দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। প্রিজন ভ্যান থেকে সুরভী আরও দাবি করেন যে, কোনো প্রকার তদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং এই মামলার চারজন আসামির মধ্যে কেবল তাকেই টার্গেট করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. ওমর ফারুক, যিনি কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। সুরভীর তোলা ঘুষের অভিযোগটি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে সুরভীর পরিবারের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যা মামলায় নাম দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে সাজানো এই মামলায় সুরভীকে ফাঁসানো হয়েছে।
সুরভীর আইনজীবী এই মামলাকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, তারা আগামীকালই আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করবেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গীর গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে করা এই মামলায় সুরভীকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার ভোটযুদ্ধ শেষ: আদালত দিল বড় রায়
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনী স্বপ্নে বড় ধাক্কা লেগেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তাঁর করা রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান এবং বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্না আর অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে যে মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড' বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বকেয়া ঋণে জর্জরিত। গত ৩ ডিসেম্বর ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে একটি 'কল ব্যাক নোটিশ' জারি করা হয়। উক্ত নোটিশে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে মুনাফা এবং মূল অর্থ পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দায় মাথায় নিয়েই মান্না আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিন্তু আইনগতভাবে তিনি কোনো সুরাহা পাননি।
আদালতে মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করার আদেশ দিলে মান্নার নির্বাচনী অংশগ্রহণের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়। তবে তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানিয়েছেন যে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। ২০১০ সালে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন পাওয়ার পর বর্তমান সুদে-আসলে সেই ঋণের পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে মাহমুদুর রহমান মান্নার ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। বাকি অংশীদারিত্ব রয়েছে তাঁর ব্যবসায়ী পার্টনার এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর অযোগ্য ঘোষণা হওয়া নাগরিক ঐক্যের জন্য বড় একটি রাজনৈতিক বিপর্যয়। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী খেলাপি ঋণের দায়মুক্ত না হলে কোনো নাগরিকের সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই যার কোপে পড়লেন এই প্রবীণ নেতা।
ঋণের নামে লুটপাট: এস আলমের সাম্রাজ্যে দুদকের হানা
জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
মামলা দুটিতে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ মোট ৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩২ জনকে এবং অপরটিতে ৩৬ জনকে। ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই আইনি ব্যবস্থা নিল দুদক।
দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথম মামলাটি করা হয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ২ হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৮ টাকা ৪০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে।
এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সাইফুল আলম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার সঙ্গে আসামি হয়েছেন পরিচালক আব্দুল্লাহ হাসান, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল আলমসহ এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ।
এছাড়া ঋণ জালিয়াতিতে সহায়তার অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও এই মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত কোভিড প্রণোদনা এবং এলটিআর লোনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ঋণ নিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ১৫২ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার ১০৭ টাকা ৫২ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাহানা ফেরদৌস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসকাত আহমেদ এবং জনতা ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
উভয় মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী অর্থ পাচারের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
আমি হালুয়া-রুটি খাওয়া সাংবাদিক নই: রিমান্ড শুনানিতে আনিসের হুঙ্কার
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে কোনো রাজনৈতিক বাধার মুখে তিনি নতি স্বীকার করবেন না এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবেন না। সোমবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে এই কলমযোদ্ধা তার বক্তব্যে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে তিনি গত দুই যুগ ধরে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারকে যেমন প্রশ্নবানে বিদ্ধ করেছেন ঠিক তেমনি বর্তমান ইউনূস সরকার বা ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পিছপা হবেন না। নিজেকে হালুয়া রুটি খাওয়া সুবিধাবাদী সাংবাদিকের কাতারে ফেলতে নারাজ আনিস আলমগীর বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন যে তালেবানদের হাতে আটক হওয়ার সময়েই তার মন থেকে মৃত্যুভয় চিরতরে দূর হয়ে গেছে এবং সত্য বলার ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন।
শুনানির এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগের সুরে বলেন যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চাইলে গোটা দেশকে কারাগার বা দোজখে পরিণত করতে পারেন কিন্তু প্যারিস ও নিউইয়র্কে বসে থাকা দুইজন ব্যক্তি নির্বাচন বানচালের যে নীল নকশা আঁকছে তার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে এবং তাকে ফেসবুকে লেখালেখি ও টেলিভিশন টকশোতে কথা বলা থেকে বিরত রাখার গভীর চক্রান্ত চলছে। নিজের পেশাগত সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে কারো কাছে নতজানু হওয়া তার কাজ নয় এবং যারা তাকে নির্দিষ্ট কোনো দলের গোলাম বানাতে চায় তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং এর আগে রোববার সন্ধ্যায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
পাঠকের মতামত:
- গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
- বাথরুমে একা থাকলেও কি সতর ঢাকা জরুরি? যা বলছে ইসলাম
- যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে: ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল একাধিক দেশ
- মাগুরার মানুষের জন্য সাকিবের নতুন বার্তা, ফিরতে চান পুরনো অবস্থানে
- বিগ ব্যাশে অভিষেক আসরেই রিশাদের রেকর্ড শিকার
- গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড ভাঙা উত্থান: সর্বোচ্চ উচ্চতায় সোনা ও রুপা
- জমি রেজিস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন: মুক্তি মিলছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে
- সিলেট উইমেন্স মেডিকেলে ঠোঁট ও তালু কাটা রোগীদের বিনামূল্যে প্লাস্টিক সার্জারি শুরু
- লুণ্ঠিত অস্ত্রের মুখে কি থমকে যাবে ত্রয়োদশ নির্বাচন? হাইকোর্টে নাটকীয় রিট
- ডিএসই প্রধান বোর্ডে আজকের লেনদেনের বিস্তারিত চিত্র
- ১৪ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৪ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ জানুয়ারি ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- কেন এনসিপি ছাড়লেন, ব্যাখ্যায় ডা. তাসনিম জারা
- ৩১ দফা ও ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ইশতেহারে যুক্ত করছে বিএনপি
- ময়মনসিংহে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই
- প্রথম বিয়ে জেফারের, দ্বিতীয়বার সংসার রাফসানের
- এক দিনে ৫ কোম্পানি, ডিএসই কারখানা পরিদর্শনে কড়া বার্তা
- কোন ফান্ডে কত টাকা ন্যাভ: এক নজরে সম্পূর্ণ চিত্র
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর দিল ফরচুন শুজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- কোহিনূর কেমিক্যালসের বোনাস ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!
- মন্নো অ্যাগ্রোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- প্রবাসী'র পক্ষে ব্যারিস্টার নাজির ও মীর্জা আসহাব এর বিমান ও পর্যটন সচিব ও উপদেষ্টার সাথে বৈঠক
- আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল
- কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা
- মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে
- হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- স্মার্টফোন এখন আরও হাতের নাগালে: ৪০ হাজার টাকার ফোনে ছাড় ৮ হাজার
- বিসিবি-আইসিসি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়,কী ঘটেছিল সেদিন
- স্বর্ণের বাজারে অগ্নিমূল্য: রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় দাম, দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
- টিভিতে আজকের খেলা: বিগ ব্যাশ থেকে বুন্দেসলিগা, চোখ থাকবে যেখানে
- তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- সংকুচিত হয়েছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: ২০২৪-এর সৌর ঝড় নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ
- শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি
- আবারও দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম
- ১৫ মেগাসিটির সফর শেষে ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের স্বর্ণালি ট্রফি
- ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সেরা ৪টি তেল
- ৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি
- মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা
- বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








