Banner

রায়ের পর নতুন সমীকরণ: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে ‘হাসিনা ইস্যু’

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২০ ১১:৩১:১৪
রায়ের পর নতুন সমীকরণ: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে ‘হাসিনা ইস্যু’
ছবিঃ সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে দুই দেশেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে যে নতুন সরকার আসবে, তাদের সঙ্গে ‘শেখ হাসিনা ইস্যু’ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, সেদিকেই এখন বিশেষ নজর রাখছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। এমন টানাপোড়েনের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের এই নতুন রায় দুই দেশের সম্পর্কের গতি-প্রকৃতি কোন দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, আর মামুন কারাগারে আছেন। রায় ঘোষণার পরপরই আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে আবারও অনুরোধ জানানো হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি বিবৃতি দিয়ে দণ্ডিত এই দুই ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। যদিও এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ভারতের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কেবল বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে তাকে দেশটিতে ‘সাময়িক’ আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত এ বিষয়ে বিবিসিকে বলেন, প্রত্যর্পণ বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকির বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তাই তার প্রাণনাশের হুমকিটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। তার মতে, এই রায়ের পর ভারত সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে হস্তান্তর না করার জন্য এটিই যথেষ্ট যুক্তি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আপাতত এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে না। তবে দেখার বিষয় হলো, কেবল এই একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের অন্য সব সম্পর্ক আটকে থাকবে কি না।

বর্তমান প্রত্যর্পণ চুক্তিতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর হস্তান্তরের অনুরোধ করার সুযোগ থাকলেও, অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার মতো অনেক শর্তও সেই চুক্তিতে রয়েছে। এর বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির আরও কিছু কারণ দৃশ্যমান। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সীমিত করে রেখেছে; পর্যটন ভিসা বন্ধ এবং মেডিকেল ভিসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দলের ভারতবিরোধী বক্তব্য এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নিয়েও ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, তিনটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ—নতুন সরকার কেমন হবে, ভারত সেই সরকারের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চাইবে এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ কতটা সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করবে। তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা ইস্যুকে পাশে রেখে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা যেতে পারে, আবার এটিকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে। তবে শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, নতুন সরকারও হয়তো প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে, কিন্তু এই ইস্যু আঁকড়ে ধরে থাকলে দুই দেশের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হবে না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২১:৩৪:০১
বদলে যাচ্ছে তথ্য সুরক্ষা: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের নতুন পথচলা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতের তথ্য অবকাঠামোকে নিশ্ছিদ্র করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাপানভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত তথ্য-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইফার কোর লিমিটেডের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন জাপানের প্রখ্যাত তথ্য-নিরাপত্তা বিজ্ঞানী এবং এমআইটি-ভিত্তিক গবেষক প্রফেসর তাকাতোশি নাকামুরা। আলোচনায় গুরুত্ব পায় জাতীয় তথ্য-নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারকরণ এবং সরকারি ডিজিটাল সিস্টেমের সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

বৈঠকের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী’ প্রযুক্তির প্রয়োগ। প্রফেসর নাকামুরা এবং প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান বিশ্বের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ এনক্রিপশনের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কোয়ান্টাম চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এছাড়া কমিউনিটি পর্যায়ে ‘ডিজিটাল ক্যাশ’ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়, যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বৈঠকে চামড়া শিল্পে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও কার্যকর মতবিনিময় হয়। জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এক নতুন ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জাপানের সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোতোইউকি ওদাচি এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফার কোর লিমিটেডের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহী ইসলাম। সাইফার কোর লিমিটেড মূলত তাদের উদ্ভাবনী তথ্য সুরক্ষা প্রযুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের এই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সমন্বয় দেশের সাইবার স্পেসকে যেমন নিরাপদ করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আইটি খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।


৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২১:১৫:৩১
৪ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়েছে সরকার। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর মুনাফা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের আগের উচ্চ মুনাফার হারই পুনরায় কার্যকর হলো। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে সরকারি সিদ্ধান্তের এমন পরিবর্তনকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই নির্দেশনার ফলে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিমে মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা পূর্ণ মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিবার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরাও পঞ্চম বছরে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।

প্রজ্ঞাপনে ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটের হারের বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা তৃতীয় বছরে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রেও একই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার কিছুটা কম হলেও তা আগের সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি। মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা ধরে রাখতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই সরকার আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানো হলে সাধারণ মানুষ ব্যাংকমুখী হওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারতেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। আজ থেকে সকল অনুমোদিত ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যুরো অফিসগুলোতে এই নতুন (পুরানো) হার অনুযায়ী লেনদেন শুরু হবে।


এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:৫৪:৫০
এনইআইআর পদ্ধতি নিয়ে নাটকীয় মোড়: ফোন ব্লক নিয়ে এল নতুন আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে বহুল আলোচিত ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যক্রম আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মোবাইল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আগামী তিন মাস এই পদ্ধতি কার্যকর থাকবে না এবং এই সময়ে কোনো মোবাইল ফোন ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা বন্ধ করা হবে না।

এর আগে আজ সকাল থেকেই এনইআইআর কার্যক্রম বাতিল, ব্যবহৃত (পুরাতন) মোবাইল আমদানির অনুমতি এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শত শত ব্যবসায়ী। অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এনইআইআর কার্যকর হলে খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় বিটিআরসি ভবনে একদল লোক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে ডিসি মাসুদ আলম আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। যদিও এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না, তবে আজকের বৈঠকের পর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিন মাসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ এলো।

এনইআইআর পদ্ধতিটি মূলত অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন শনাক্ত করে দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি কারিগরি প্রক্রিয়া। স্থগিতাদেশের এই তিন মাস সময়কে ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ থাকা পুরোনো হ্যান্ডসেটগুলো বিক্রির ‘গ্রেস পিরিয়ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তিন মাস পর এটি পুনরায় কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও আলোচনার অবকাশ রয়েছে বলে জানা গেছে। আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুপুর থেকে কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৭:২৩:৩১
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপির নতুন নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় সভা–সমাবেশ সংক্রান্ত নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকা, পাশাপাশি বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানীর প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কর্মসূচি আপাতত বন্ধ থাকছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬–এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং এবং মিন্টু রোড ক্রসিং এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রাসহ যেকোনো জনসমাগমমূলক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, এসব এলাকা রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তা সংবেদনশীল। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

-রাফসান


জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:৪৩:০১
জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাছাই শেষে কী জানা যাবে
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আজ রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সারা দেশে কতটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কতটি বাতিল হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিযোগিতামূলক চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থা অথবা প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবেন। আপিল গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

ইসি নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদনের সঙ্গে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের সুস্পষ্ট কারণসম্বলিত বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আপিল আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে। এসব আবেদন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আপিল গ্রহণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বুথে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ের কপি সংগ্রহের জন্য আলাদা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে, যা কেন্দ্রীয় আপিল বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দাখিলকৃত আপিলগুলো আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলকারী বা তার মনোনীত প্রতিনিধি কমিশনের সিদ্ধান্তের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী আচরণ বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দলীয় মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে কাজ করা যে কোনো ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ মেনে চলতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইসি সতর্ক করেছে।

-রাফসান


বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:৩৮:৩৮
বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
ছবি : সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংবাদকর্মীরা যে পরিমাণ ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এক শতাংশও ঘটছে না। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট প্রেস ক্লাবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান যেন তারা মানুষের মনে আশা জাগাতে বিগত সময়ের সেই কঠিন বাস্তবতাগুলো বারবার তুলে ধরেন।

নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি প্রকৃত ও স্বচ্ছ ভোট হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত ও অপশক্তি নানাভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার শুরু থেকেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভোটের সময় কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেহেতু স্বৈরাচারকে হঠানো সম্ভব হয়েছে, তাই ছোটখাটো বাধাগুলো অতিক্রম করে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া কঠিন হবে না।

গণমাধ্যমে ‘মব আক্রমণ’ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমার নিজের বাসার সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু আমি তাতে বিচলিত হয়ে অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে চলাচল শুরু করিনি।” তিনি সাংবাদিকদের ‘ফাইটিং ব্যাক’ বা সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও হামলার পরও দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো কাজ থামিয়ে রাখেনি। অপশক্তিকে শুভশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক শক্তিকে সংগঠিত করতে পারলেই পরাজিত শক্তির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান জানান যে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একটি সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণভোট ও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে গণমাধ্যম ও সরকার একযোগে কাজ করলে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।


৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৩৬:৪৩
৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও রাষ্ট্রীয় শোক ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটির কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে, তবুও কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গ্রেড পুনর্বিন্যাস এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

কমিশন সূত্র জানায়, স্থগিত হওয়া সভাটির বিকল্প তারিখ খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে এবং সেই বৈঠকেই পে স্কেলের কাঠামোগত রূপরেখা চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

নবম পে স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বর্তমানে চালু থাকা ২০টি গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।

প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো যেতে পারে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা প্রশমিত করতে গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো গ্রেড কাঠামোকে আমূল সংস্কার করে ১৪টি গ্রেডে সীমিত করা। কমিশনের একটি বড় অংশের মত, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্য দূর হবে এবং একটি আধুনিক, যুক্তিসংগত ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিচের ধাপের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে একই প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে বৈষম্য ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

-রাফসান


কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব? 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৫৩:০৪
কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব? 
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে শীতের ভয়ংকর রূপের আগাম বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ ‘তীব্র’ আকার ধারণ করতে পারে যেখানে দেশের উত্তর ও নদী অববাহিকার কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ পূর্বাভাস প্রদান করা হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন পারদ ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে যা জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ঘন কুয়াশা বজায় থাকবে যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের অনুভূতি হবে অসহনীয়।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের দাপট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার যশোরে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে নেমেছিল। আবহাওয়া অফিসের দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা এর নিচে নেমে গেলে তা ‘অতি তীব্র’ পর্যায়ে পৌঁছায়।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন যে আজ শনিবার দেশের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে যা শীতের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনবে। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না কারণ আগামীকাল রবিবার থেকেই তাপমাত্রা পুনরায় কমতে শুরু করবে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে পঞ্চগড়ে টানা কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। জানুয়ারির এই হাড়কাঁপানো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি ও বেসরকারিভাবে আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১০:৫৬:৪৬
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার এক বিরল চিত্র ফুটে উঠেছে পটুয়াখালীর আরপিসিএল-নরিনকো ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। নিজস্ব কয়লা মজুত শেষ হয়ে আসায় কেন্দ্রটি সচল রাখতে এখন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লা ধার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আসন্ন রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সব কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশ দিলেও আরপিসিএলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানির বিষয়টি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে।

বর্তমানে আরপিসিএল কেন্দ্রে যে পরিমাণ কয়লা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে চলতি মাস পর্যন্ত একটি ইউনিট চালানো সম্ভব। অথচ এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। এই সংকট কাটাতে আরপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে কিছু কয়লা ধার নেওয়া। মাতারবাড়ীতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি উদ্বৃত্ত কয়লা মজুত রয়েছে, যা আরপিসিএল পরে মূল্য পরিশোধের শর্তে ব্যবহার করতে চায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আরপিসিএল কেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহে চারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রতিবারই অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়াংথাই বারবার সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থরক্ষা না হওয়ায় সরবরাহকারী চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ইয়াংথাই একক বিডার হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই দীর্ঘসূত্রতার মাশুল দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে এখন এক কেন্দ্রের কয়লা দিয়ে অন্য কেন্দ্র চালানোর মতো অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি দ্রুততম সময়ে কয়লা ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হয় বা নতুন সরবরাহকারী চূড়ান্ত না হয়, তবে শীত শেষে গরমের শুরুতে এবং আসন্ন রমজানে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, মাতারবাড়ীর কয়লা ধারের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগ সম্মতি দেয় কি না।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত